কারিগর

অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

রহিম খুব ভালো পুতুল তৈরি করে। আগে কাগজে ও সে পুতুলের একটা ছবি এঁকে নেয়। ঠিক করে নেয় ঠিক কীরকম দেখতে হবে সে পুতুলকে। সে পুতুল ঠিক কীরকম পোশাক পরবে। স্কারট, না শাড়ি না কী জিন্স। ঠিক কীরকম চুলের স্টাইল হবে। নাক, চোখ, মুখ,ঠোঁট— ঠিক কীরকম হবে। কীরকম উচ্চতা হবে। তারপরে ঠিক সেরকম ভাবে পুতুলের জন্য পোশাক তৈরি করে।

মাটি দিয়ে সে পুতুল বানায়। সারা হাতে মাটি মেখে বারবার পুতুলের গায়ে হাত বোলায়। নিখুঁতভাবে তৈরি করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন কেটে যায়। সিল্কের সুতো দিয়ে চুল তৈরি করে। নানান জিনিস দিয়ে চোখ, চোখের মণি তৈরি করে। ক্যালিপার, আলুমিনিয়ামের তার, স্টিলের তার, কাঠের ছুরি, নানানরকম কাঠের, বাঁশের যন্ত্র দিয়ে নিখুঁত আঁচড়ে পুতুলের শরীর, নাক, চোখ, মুখ ঠিক করে।

এক একটা পুতুল তৈরি করতে দু-তিন মাস লেগে যায়। এগুলো ও বিক্রি করে না। এগুলো শুধু ওরই জন্য।

বাড়ির মধ্যে পরপর বন্ধ কাচের ঘরে পুতুলগুলোকে পোশাক পরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখে। পুতুলগুলো নানান সাইজের হলেও কাচের ঘরগুলো একই সাইজের হয়। এর জন্য অবশ্য ওর বাড়িতে অনেকটা জায়গা লাগে। তবে তাতে ওর অসুবিধে নেই। ওদের খুব বড় পারিবারিক ব্যবসা। তা ছাড়া বংশানুক্রমে প্রচুর অর্থ সম্পত্তি পেয়েছে। পায়ের উপরে পা তুলে বসে থাকলেও তিন প্রজন্ম কাটিয়ে দিতে পারে অনায়াসে।

মাঝেমধ্যে ওর বাড়িতে যখন বন্ধুবান্ধব- ইয়ারদোস্তরা আসে, তখন তাদের ও এই ঘরে নিয়ে আসে। সবাই মুগ্ধ দৃষ্টিতে বাইরে থেকে তাকিয়ে থাকে। কেউ কেউ অবিশ্বাসী চোখে বলে ওঠে —কী বলছ এগুলো শুধুই পুতুল! এত ঠিক মানুষের মতোই দেখতে? মনে হয় যেন এখনই কথা বলে উঠবে!

—হ্যাঁ, হঠাৎ করে নড়ে উঠলে অবাক হব না— পাশ থেকে আরেকজন বলে ওঠে।

—ওরেবাবা, হঠাৎ করে নড়ে উঠলে হার্টফেল করব। তবে যাই বলিস, তোর পুতুলগুলো সবাই খুব সুন্দরী। একটু অন্যরকম সুন্দরী। পারলে আমার বউকে এখানে রেখে এদের নিয়ে যাব।— ওর আরেক বন্ধু বলে ওঠে।

রহিম হেসেছিল। এদের একটু অন্যরকম দেখতে কেন, রহিম তা জানে। রহিম ওদের সবাইকে তৈরি করেছে, ঠিক ওর পছন্দ মতো। তাই ওদের চোখ সবার খয়েরি রঙের, সবার ঠোঁট একটু অন্যরকমের— হার্টশেপের।

আরেকটা কারণেও হেসে ছিল। তবে সেটা ও অন্য কাউকে জানাতে পারবে না কখনও।

রোজ বেশ কিছুটা সময় রহিম পুতুলগুলোর সঙ্গে কাটাতো। তখন এক এক করে সব পুতুলের ঘরে যেত রহিম। জড়িয়ে ধরত। সে আশ্লেষ ও উপভোগ করত। এত সহজে পুতুলগুলো ওর কাছে আত্মসমর্পণ করত যে ও এক বিশেষ শ্লাঘা, উত্তেজনা অনুভব করত। পুতুলগুলো ছিল ওর সম্ভোগের যন্ত্র, ওর বিকৃত কামুক ইচ্ছে চরিতার্থ করার উপায়। পুতুলগুলোর মধ্যে এমন সব যন্ত্র লাগিয়ে ছিল যে তারা হাত পা সামান্য নাড়তে পারত। সামান্য কথা বলতে পারত। একটু একটু করে হাঁটতে পারত। সেভাবেই ওদের তৈরি করেছিল ও।

ওর কাছে ওই পুতুলগুলো ছিল জীবন্ত। ও জানত ওর মতো পুতুল আর কেউ তৈরি করতে পারবে না। ও হল সেরা কারিগর।

ওই মেয়ে পুতুলগুলো ঠিক কী কী কথা বলবে, তা ওই ঠিক করে দিত। তাদের ব্যাকরণে ঠিক কী শব্দ থাকবে, সেটা ও বলে দিত। তারা ঠিক কীভাবে হাসতে পারে, কখন হাসতে পারে সেটা ও ঠিক করে দিত। ওর ইচ্ছেমতো কিছু না হলেই ও পুতুলগুলোকে শাস্তি দিত। হাতের আঙুল ভেঙে দিত। শরীর ছুরি দিয়ে চিরে দিত। ও নিজে এই অকারণ অত্যাচার করে আনন্দ পেত।

কিন্তু ও জানত ঠিক ওর মতো করেই শুধুই ওর জন্যেই এসব পুতুল তৈরি। ও চেয়েছিল এই পুতুলগুলোর জগতের সম্রাট হয়ে থাকতে। তাদের ওর রাজত্বে বন্দি করে রাখতে। ও চেয়েছিল ওদের জন্ম-মৃত্যু সবকিছু যেন আবর্তিত হয় ওকেই কেন্দ্র করে। ওর কামুকতা চরিতার্থ করার জন্য।

সেদিন একটা পুতুলের ঘরে ঢুকেই ও বুঝল পুতুলটা ঘরের মধ্যে নিয়ম ভেঙে হেঁটেছে। শুধু তাই নয়, কাচের ঘরের থেকে বেরোনোর চেষ্টা করেছে। সেটা দেখে ও পুতুলটাকে ঘরের বাইরে নিয়ে এল। চুল ধরে টেনে মেঝেতে আছড়ে ফেলল। হাত ভেঙে দিল, কান-নাক ভেঙে দিল। তার পর পুতুলটার পোশাক খুলে নিয়ে তার শরীর নিয়ে উপভোগের আনন্দে মেতে উঠল ঘণ্টাখানেক।

ও চেয়েছিল বাকি সব পুতুলগুলোকে দেখাতে, কেউ পালাতে চাইলে তাদের কী হতে পারে। শেষে যখন থামল, তখন ওই পুতুলটার শরীরের মাটির টুকরো শুধু এদিক ওদিক মেঝেতে পড়ে আছে।

এরপর বাকি পুতুলগুলোও খুব ভয় পেত রহিমকে। তারা ঠিক সেটাই করত, সেটাই বলত, যা রহিম চাইত। তারা আগে থেকে ভয়ে সন্ত্রস্ত হয়ে থাকত রহিম কখন আসবে। তখন তাকে খুশি করতে পারবে কিনা।

রহিমের এক কাজের লোক ছিল। নাম তার রূপম। রূপমের উপরে দায়িত্ব ছিল ওই কাচের ঘরগুলো পরিষ্কার করার। রূপম জানত না যে এই পুতুলগুলোর প্রাণ আছে। রহিমের পুতুলগুলোর উপরে কড়া আদেশ ছিল যে ওর সামনে ছাড়া অন্য কারও সামনে যেন পুতুলগুলো না নড়ে-চড়ে, কথা না বলে। সেরকম করলেই সেই পুতুলকে ভেঙে ফেলা হবে। কখনও তাই পুতুলগুলো নড়ত না, কথা বলত না রূপমের সামনে। রূপম ভাবত এগুলো সবই শুধুই মাটির পুতুল।

ও যখন কাচের ঘর পরিষ্কার করত, অবাক হয়ে দেখত এদের। কী নিখুঁত দেখতে এদের। কী সুন্দর। কিন্তু সে দৃষ্টিতে যেন ভয় মিশে আছে। ও অবাক হয়ে দেখত, আর ভাবত এত সুন্দর পুতুলগুলোর চোখে-মুখে-দৃষ্টিতে কেন এত বেদনা মিশে আছে। কেন ওরা সবাই শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে আছে! যেন সব ফুল ফোটার আগেই সে গাছে পোকা ধরে গেছে।

এসব সত্ত্বেও বিশেষ করে একটা পুতুল ওর খুব পছন্দের ছিল। ও রোজ তার কাচের ঘরের সামনে এসে নিষ্পলক তাকিয়ে থাকত।

তার কালো বড় দীঘল মায়াবী চোখের দিকে তাকিয়ে ও যেন কোথায় হারিয়ে যেত। যেন সে পুতুল ওকে কিছু বলতে চায়। সেই পুতুলের সামনে এলে সময় যে কীভাবে কেটে যেত বুঝতে পারত না। মনে হত ও যেন আস্তে আস্তে ওই পুতুলকে বুঝতে পারছে। বুঝতে পারছে তার বেদনার কথা, তার বন্দিদশার যন্ত্রণার কথা। ওর যদিও ওই কাচের ঘরের মধ্যে যাওয়ার নিয়ম ছিল না। তাই দরজার বাইরে থেকেই তাকিয়ে থাকত বিভোর হয়ে। ওকে মুগ্ধ করত সে পুতুলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা নারীসত্তা, রহস্যময়তা আর চোখের মনির আড়ালে লুকিয়ে থাকা দিঘির জলের মতো গভীর দৃষ্টি।

একদিন পরিষ্কার করতে গিয়ে ও খুব অবাক হল। সেই পুতুলটার চোখে যেন জল। চোখের নীচে কালি। গালে একটা কাটা দাগ। হেলে একদিকের কাচের উপরে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ও তাড়াতাড়ি করে কাচের দরজা খুলে পুতুলটাকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিল। তখন পুতুলটার হাতে হাত পড়তেই যেন ওর সারা শরীরে শিহরণ খেলে গেল। এ যেন এক মহিলার নরম হাত। ও সেই পুতুলের হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকল কিছুক্ষণ। ওর যেন মনে হল খুব আপন কারও হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে।

তারপর আবার তাড়াহুড়ো করে কাচের ঘর থেকে বেরিয়ে এল। ও জানে রহিম জানতে পারলে ওকে তখনই মেরে ফেলবে।

কিন্তু এরপর থেকে রোজ যখন আসত, একবার করে ওই পুতুলের হাত একবার করে ধরত। মনে হত যেন নিজের খুব আপন কারও হাত ধরেছে। একটা জিনিস ওর অবাক লাগত, যখন দেখত পুতুলটার চোখের নীচের কালি আর নেই। মুখ উজ্বল, ঠোঁটের কোণে হাসি এলগে আছে।

এ কী ওর চোখের ভুল?

একদিন যখন ও পুতুলটার হাত ধরেছে, ও স্পষ্ট শুনল কে যেন মিহি গলায় বলে উঠেছে— আমাকে তুমি নিয়ে যাবে?

ও আশেপাশে একবার মুখ ঘুরিয়ে দেখল। কে, কে বলল কথাটা! কিন্তু কাছাকাছি আর কেউ নেই। তাহলে! কে বলতে পারে এরকম ভাবছে, এরকম সময়ে পুতুলটার ঠোঁট আবার নড়ে উঠল—আমাকে তুমি এখান থেকে বার করে নিয়ে যাবে?

পুতুলটা ফের বলে উঠল,— আমি তোমার সঙ্গে পালিয়ে যেতে চাই। এখানে আর থাকতে চাই না।

ভয়ে কেঁপে উঠল রূপম। ও কী পাগল হয়ে গেছে!

কী করে একটা পুতুল ওর সঙ্গে কথা বলতে পারে। হঠাৎ ও খেয়াল করল পুতুলের হাতের আঙুলগুলো জড়িয়ে ধরেছে ওর হাতের আঙুলগুলো।

ফের শুনতে পেল ওই পুতুল ওর কাছে সরে এসে ঠোঁটের কাছে ঠোঁট এনে বলছে,— তুমি আমাকে নিয়ে যাবে? আমার এখানে থাকতে ভালোলাগে না। আমি তোমার সঙ্গে যেতে চাই। তোমার দিকে তাকালেই যেন আমি আমার প্রাণ ফিরে পাই। সত্যিকারের প্রাণ।

ও থতমত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল খানিকক্ষণ। কিছুক্ষণ পরে সম্বিৎ ফিরে পেয়ে বলে উঠল—

—কিন্তু রহিম তোমায় তৈরি করেছে। ও তোমাদের সবার স্রষ্টা।

—না, রহিম নয়, তুমিই আমাদের প্রাণ দিয়েছ। তুমি যেভাবে আমাকে স্পর্শ করো, যেভাবে আমার দিকে তাকাও, তার থেকেই আমি প্রাণ পেয়েছি। রহিম যখন আসে, তখন আমি চোখ খুলেও বন্ধ করে রাখি। আর তুমি যখন আসো, তখন মনে হয় শুধু তোমাকেই দু-চোখ দিয়ে দেখি। আমাদের দেখে বাকিরাও বুঝতে পেরেছে ভালোবাসা কী। আমরা সবাই আগে মৃতই ছিলাম। আমরা সবাই তোমার জন্যেই এখন প্রাণ পেয়েছি।

কিন্তু রূপম জানত ওর পক্ষে পুতুলটাকে নিয়ে পালানোর উপায় নেই। রহিম ও রহিমের বাড়ির অজস্র পাহারাদারেরা ওদের ঠিক ধরে ফেলবে। জানতে পারলেই মেরে ফেলবে। তবু এর পরে মাঝেমধ্যে ও এসে পুতুলটার কাচের বাক্সের দরজা খুলে কাছে গিয়ে মনের কথা বলত। আর সেই সামান্য সময়টুকু যেন সেই পুতুলটার মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠত। যেন রূপমকে দেখলেই দূরে চলে যেত পুতুলটার অনুক্ষণের নীরবতা, অবহেলা, শৈত্য। সব অনুচ্চারিত ভালোবাসার শব্দ যেন আপনা থেকে ওরমুখ থেকে বেরিয়ে আসত।

পুতুলটা টের পেত তার শারীরিক সব সংকেত যেন উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে রূপম কাছে এলেই। শুকনো পাতার স্তপের কাছে আগুন আনলে যেরকম হয়। যেন সব বিবর্ণতা মুহূর্তে দূরে সরে যেত। ও বার বার হাত বাড়িয়ে ছুঁতে চাইত রূপমকে।

একদিন এরকমই এক সময়ে পিছন থেকে রহিমের ডাকে চমকে উঠল ও। পিছনে রহিম এসে দাঁড়িয়েছে।

রাগে উত্তেজনায় রহিম চিৎকার করে উঠল—কী করছিস তুই ওখানে! আমার পুতুলের কাছে গিয়ে। কী করে এত সাহস হল ওই কাচের পুতুলঘরে ঢোকার!

কিছু বলার সুযোগ দিল না রহিম। চুল ধরে টানতে টানতে বার করে আনল রূপমকে। রহিমের বেল্টে একটা রিভলভার থাকে। সেটা বার করে গুলি করল রূপমকে। রূপম মাটিতে পড়ে গেল। তবু থামল না রহিম। পরপর বেশ কয়েকটা গুলি চালালো যতক্ষণ না রূপমের মৃত্যু সম্বন্ধে ও নিশ্চিত হয়।

তারপরে ইচ্ছে করে পুতুলগুলোর সামনেই ফেলে রাখল রূপমের মৃতদেহ।

আবার করে রহিম বলে উঠল সব পুতুলদের— দেখো, নিয়ম ভাঙলে কী হয়, দেখো। এখানে সবকিছু ঠিক সেভাবেই চলবে, আমি যেরকম চাইব। যে এই নিয়ম ভাঙবে, তার ঠিক ওই দশাই হবে। কেউ যদি এই কাচের ঘর থেকে বেরোনোর চেষ্টা করে, তার তখনই মৃত্যু। আমি যা বলব ঠিক তাই অক্ষরে অক্ষরে শুনতে হবে তোমাদের। না হলেই মৃত্যু।

রহিম সেদিনও সব পুতুলগুলোকে নিয়ে মেতে উঠল ওর সম্ভোগের খেলায়। সেদিন যদিও ওর মনে হল পুতুলগুলো যেন আরও বেশি শীতল হয়ে গেছে। সব যন্ত্রগুলো হয়তো খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

সেদিন রাতে রহিমের ঘুম হঠাৎ সামান্য শব্দে ভেঙে গেল। কে যেন এসে ঢুকেছে ওর ঘরে। ও চমকে উঠে বসল। দেখল সেই পুতুলটা, যেটা রূপমের হাত ধরেছিল। কিন্তু সে কী করছে এখানে!

আলো জ্বালতে দেখল পুতুলটার দুর্বল কাঁপা ডানহাতে একটা রান্নার ছুরি চকচক করছে।

এত বড় সাহস ওকে মারতে এখানে এসে গেছে।

ও উঠে রেগে গিয়ে ধাক্কা দিল পুতুলটাকে। পুতুলটা ছিটকে ঘরের এক কোণে গিয়ে পড়ল। ছুরিটা দূরে গিয়ে পড়ল। একটা হাত ভেঙে গেল। কিন্তু আবার আস্তে আস্তে পুতুলটা উঠে দাঁড়াল। একটু একটু করে আবার এগিয়ে আসল রহিমের দিকে। রহিম পুতুলটাকে লাথি মেরে উত্তেজনায় আবার দূরে ছুড়ে ফেলতে যাচ্ছিল। কিন্তু ঠিক তখনই ওর মনে হল ওর পিঠে কে যেন ছুরি বসিয়েছে। পিঠে সেই ছুরিটা গেঁথে আছে। যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠে ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখল, পিছনে আরেকটা পুতুল দাঁড়িয়ে আছে। শুধু একা নয়। আরও চারটে পুতুল। তাদের হাতেও ছুরি। কিছু বোঝার আগেই আবার ওর পেটের মধ্যে ছুরি ঢুকিয়ে দিল আরেকটা পুতুল। পুতুলগুলোর মুখ আক্রোশে রাগে থমথমে হয়ে উঠেছে। মেঝেতে পড়ে গেল রহিম।

সবাই মিলে রহিমের উপরে বারবার ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকল, যতক্ষণ না ওর দেহটা সম্পূর্ণ প্রাণহীন হয়ে গেল।

পরের দিন যখন পুলিশ দেখতে এসেছিল, তখন তারা দেখেছিল একটা মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, রূপম, বাড়ির কাজের লোক। তাকে বেশ কয়েকটা গুলি করা হয়েছে। বাড়ির কর্তা রহিমের মৃতদেহ তার থেকে কিছু দূরে মাটিতে পড়ে আছে। ওদের বুঝতে অসুবিধে হয়নি, কী হয়েছে। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া, মারপিট হয়েছে নিশ্চয়ই।

তবে কাচের ঘরগুলোতে সেদিন শুধু একটা হাতভাঙা পুতুল দাঁড়িয়েছিল। তার ডানহাত কনুই এর পরে আর নেই। মাথা যেন আঘাত লেগে বেঁকে গেছে। অন্য বাঁ-হাত সে বাড়িয়ে রেখেছিল। বাকি অন্য কোনও কাচের ঘরে কোনও পুতুল ছিল না।

পুলিশ না বুঝলেও, আসলে সেই হাতভাঙা পুতুলটা অপেক্ষায় ছিল রূপমের জেগে ওঠার। ঠিক যেমন ও একদিন জেগে উঠেছিল রূপমের হাতের স্পর্শে। ও তাই হাত বাড়িয়ে রেখেছিল, যদি সে আঙুলের স্পর্শে আবার প্রাণ ফিরে পায় রূপম।

ও জানত না রূপম পুতুল নয়।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%