একই গল্প তিনজনের

অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

বীরেনবাবুকে চেনে না এমন মানুষ খুব কম আছে। বিশেষ করে যারা অঙ্কে ভয় পায়, তারা তো চেনেই।

বীরেনবাবু অঙ্ক পড়ান কলকাতার এক বিখ্যাত স্কুলে। অঙ্কের নামকরা শিক্ষক। চিন্তাভাবনায় অত্যন্ত সাম্যবাদী। তাই প্রায় সব ছাত্রই স্কুলে ওঁর ক্লাস টেস্টে ফেল করে। দু-একজন যারা ভাগ্যক্রমে পাশ করে, তারাও নিজেদের কীর্তিতে লজ্জা পায়। যারা প্রতিবছর মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকে অঙ্কে সবথেকে বেশি পায়, তাদের মধ্যে ওঁর কিছু ছাত্র থাকবেই।

উনি সেরা কিছু ছাত্রকে বিনা খরচে স্কুলের বাইরে পড়ান। তবে সেই সুযোগ পাওয়া সহজ নয়। এজন্য উনি নিজে বেছে নেন। বলেই দেন যে ভালো ছাত্র না হলে সে ওঁর কাছে অঙ্ক শিখতে পারবে না। খুব ভালো অ্যাথলিট না হলে অলিম্পিকের প্রস্তুতি নিয়ে কী লাভ! সেরকম ব্যাপার।

একই সঙ্গে ওঁর মতো রাশভারী রাগী শিক্ষক খুব কমই হয়। ক্লাসে যখন পড়াতে ঢোকেন, ঢোকামাত্র পিনড্রপ সাইলেন্স। শোনা যায় নকশাল আমলেও যেসব নকশালরা ওঁর ক্লাস ফাঁকি দিত, তাদের পরে ধরতে পারলেই নীলডাউন দিয়ে বারান্দায় বসিয়ে রাখতেন আর শক্ত শক্ত অঙ্ক দিতেন।

বীরেনবাবুর বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। চেহারা কীরকম বলব! ভালো লোকেরা বলবে স্বাস্থ্যবান, তেমন ভালো লোক না হলে বলবে মোটাসোটা, এমন কী মাথাভরা টাকের কথাও হয়তো তারা উল্লেখ করবে। সেরকম নিন্দুক লোকের তো অভাব নেই আজকাল।

বীরেনবাবু চিরকুমার। বিয়ে করেননি। কেন করেননি, সেটা অনেকে জানে না। আসল কারণটা হল বীরেনবাবু নারীজাতিকে খুব ভয় পান। যতটা সম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করেন। বিশ্বাস করেন মেয়েদের মধ্যে অঙ্ক বোঝার চেষ্টা করে এমন নারীর সংখ্যা খুব কম। এই তো সেদিন হাতিবাগান মার্কেটে পাঞ্জাবি কিনতে গিয়ে এরকমই অঙ্কের দুর্বলতাসূচক কিছু কথা ওঁর কানে এসেছিল।

এক মহিলা সুরেলা গলায় পাশের এক দোকানির সঙ্গে দরাদরি করছিল। এক ব্যাগের ব্যাপারে। দোকানিকে স্পষ্ট ব্যাগটার দাম সাতশো টাকা বলতে শুনেছেন। কিন্তু তারপরে মহিলা ব্যাগটা হস্তগত করে সেই ব্যাগের নানান নিন্দা ও প্রশংসা একই সঙ্গে করে নব্বই টাকা দিতে চাইল।

এই যে সাতশো থেকে নব্বই টাকায় হঠাৎ করে নেমে আসা এটা অঙ্ক না জানা কোনও মানুষের পক্ষেই সম্ভব। দশ শতাংশ ডিস্কাউন্ট, বা কুড়ি শতাংশ ডিস্কাউন্ট বলা স্বাভাবিক। তা না করে হঠাৎ করে নব্বই। তাও সত্তর দাম বললেও একটা কথা ছিল, তা না হঠাৎ নব্বই। মনে মনে হিসেব করে দেখলেন ৮৮% ডিস্কাউন্ট চায় মহিলা।

সেখানেই শেষ নয়। তারপরে যে অ-গণতান্ত্রিক দরাদরি শুরু করল, তাতে উনি নিজে পাঞ্জাবির বদলে ভুল করে এক ডজন মোজা কিনে ফেললেন। শেষে সেই মেয়েটা একশোটাকায় ওই সাতশো টাকার ব্যাগ নিয়ে চলে গেল। নারীজাতির অঙ্ক বিমুখতার উপরে ওঁর যে বিশ্বাস ছিল, সেটাই আবার করে সত্যি প্রমাণিত হল। দেখলেন পাশের দোকানি তখনও মহিলার উপরে রেগে কীসব কথা বিড়বিড় করে বলে যাচ্ছে।

এ সেই বীরেনবাবুর গল্প।

এবার আসল গল্পে আসি।

বীরেনবাবুর চোখে

সেদিন স্কুলের পরে কয়েকজনকে পড়াতে যাচ্ছিলেন। উনি সবসময় হেঁটে যাওয়াই পছন্দ করেন। আসলে সব সময় উনি ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় চলার চেষ্টা করেন। কখনও সামান্যতম দেরিও ওঁর বরদাস্ত নয়। বাসে, ট্রামে গেলে কে বলতে পারে ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়বে না! কে বলতে পারে অ্যাক্সিডেন্ট হবে না।

এতে দেরি হয়ে যেতে পারে। সেজন্য উনি হেঁটে যাতায়াত পছন্দ করেন। কখনও সামান্যতম দেরি করেন না। দু মিনিট আগে পৌঁছেও উনি অনেক সময় অপেক্ষা করেন যাতে ঠিক মিনিট-সেকেন্ড মিলিয়ে পড়াতে শুরু করা যায়। সময়জ্ঞান না থাকলে, তারা অঙ্ক কী করে বুঝবে?

এভাবেই হিসেব করে এগোচ্ছিলেন উনি। সামনে যে পথ, তা অতিক্রম করতে ঠিক সাত মিনিট লাগবে। ছটা বাজতে ঠিক আট মিনিট দেরি। অর্থাৎ এক মিনিট অতিরিক্ত সময় হাতে আছে। সেটা রাখা ভালো। হয়তো হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন। বা কেউ এসে ধাক্কা মারল। বা কোনও পাখি আকাশপথে যাওয়ার সময় ওঁর সাদা পাঞ্জাবিতে বর্জ্য ত্যাগ করল। হাতে তাই এই একস্ট্রা একটা মিনিট রাখা ভালো।

এসব ভেবে রাস্তা অতিক্রম করতে গিয়ে থমকে দাঁড়ালেন। কিছু দূরে একটি মেয়ে সেও রাস্তা পারের জন্য অপেক্ষা করছে। চোখাচোখি হতেই সে মেয়েটা ওঁর দিকে তাকিয়ে হাসল বলে মনে হল। এ কী সত্যি। নাকি চোখের ভুল? একটু সামলে নিয়ে আবার সলজ্জভাবে তাকালেন মেয়েটার দিকে। মেয়েটা আবার হাসল। ওঁর দিকে তাকিয়েই।

বীরেনবাবুর দিকে তাকিয়ে হাসার সাহস কেউ পায় না। মেয়েরা তো নয়ই!

শীতের সময়। একটু ঠান্ডা ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে। তবু ঘামতে শুরু করলেন। এক সময়ে ওঁকে দেখতে ভালো ছিল অবশ্যই, কিন্তু এখন এই বয়সে! টাকের উপরে বিন্দু বিন্দু ঘাম জড়ো হচ্ছিল। পাঞ্জাবির পকেট থেকে ভাঁজ করা রুমাল বার করে একবার মুখ আর টাক মুছে নিলেন। তারপরে মেয়েটা যাতে পিছু না নিতে পারে সেজন্য হঠাৎ করে কিছু বাস আর গাড়ির মাঝখান দিয়ে একদৌড়ে রাস্তা পার হয়ে গেলেন।

উলটোদিকের ফুটপাথে পৌঁছে পিছনে ফিরে সঙ্গে সঙ্গে তাকালেন না। খানিকবাদে যখনই ফিরে তাকালেন, তখনই বুকের ভিতরটা ধড়াস করে উঠল। ওঁর পিছন পিছন ওঁকে ফলো করে মেয়েটা আসছে। চোখাচোখি হতে আবার হাসল। এরকম অর্থবহ হাসি উনি বহুদিন আগে দেখেননি। গতি বাড়ালেন। ক্যালকুলাসের জটিল অঙ্ক যেভাবে চটপট সমাধান করে ফেলেন, সেরকম কোনও সমাধান সূত্র আছে কিনা ভাবলেন। পেলেন না।

একটাই উপায়। এই বাকি পথে ওঁর আর ছাত্রের বাড়ির মধ্যে উত্তর কলকাতার অজস্র অলিগলি আছে। খুব ভালো ধাঁধা শলভ করে এমন লোকও এ পথে প্রথম বার এলে হারিয়ে যাবে। মেয়েটা যাতে ফলো না করতে পারে সেজন্য অন্য পথে যাওয়া দরকার।

উনি সেটাই করলেন। কিছু লোক রাস্তায় একটা কচুরির দোকানে সামনে ভিড় করে দাঁড়িয়ে খাচ্ছিল। ভিড়ের মধ্যে মিশে গিয়ে ডানদিকের একটা ছোট রাস্তায় ঢুকে পড়লেন। রাস্তাটা এঁকেবেঁকে এদিক ওদিক গিয়ে আবার একটা অপেক্ষাকৃত বড় রাস্তায় গিয়ে মিশেছে। সেই রাস্তায় উঠে কিছুটা গিয়ে ফিরে তাকালেন। কেউ নেই। নিশ্চিন্ত।

এ রাস্তার দুধারে দোকান নেই। পুরনো দিনের হতশ্রী বাড়ি পরপর সারি দিয়ে ঝিমোচ্ছে। বেশ শুনশান রাস্তা। দু-তিনটে কুকুর এলজ পাকিয়ে শুয়ে আছে এদিক ওদিক। ওঁর মতো অচেনা লোকের প্রতি তাদের দৃষ্টি খুব একটা সুবিধের নয়। আড়চোখে দেখছে। কুকুর জিনিসটাকে পছন্দ করেন না উনি। কিন্তু এরকম বড় বিপদের কাছে সামনে কুকুর থেকে বিপদের কথা ওঁর মাথায় এল না। পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় আবার পিছন ফিরে দেখলান। দেখার সঙ্গে সঙ্গে আবার ভয়ে চমকে উঠলেন।

মেয়েটা কুড়ি হাত মতো দূরে পিছন পিছন আসছে। আবার চোখাচোখি হতেই রহস্যজনকভাবে হেসেছে। সে চোখের দৃষ্টিকে কোনও জ্যামিতিক শেপের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে পারলেন না।

একই সঙ্গে বুঝতে পারলেন যে একে আগে কখনও দেখেননি। বছর কুড়ি-বাইশ হবে। রোগা। রঙ সামান্য চাপা, বেশ আকর্ষণীয় দেখতে। কিন্তু হঠাৎ ওঁর পিছু নেওয়ার কী কারণ থাকতে পারে? ভালোলাগা? নাকি কোনও গভীর ষড়যন্ত্র? মাতাহারির মতো কোনও মহিলা গুপ্তচর নয় তো?

এই যে বছরের পর বছর ওঁর ছাত্ররা, ওঁর স্কুলের ছাত্ররা এত সাফল্য পাচ্ছে, এই রহস্য জানতে অন্য স্কুলের কেউ গুপ্তচর পাঠায়নি তো? বা কোনওরকম ভাবে কেউ ওঁর বদনাম রটানোর চেষ্টা করছে না তো?

এসব ভাবতে ভাবতে সামনের বাঁদিকের একটা সরু গলিতে হঠাৎ করে ঢুকে পড়লেন বীরেনবাবু। সরু গলির দু পাশ দিয়ে কিছু বাড়ি। দুটো লোক বড়জোর পাশাপাশি যেতে পারে। তারমধ্যে পিছনের দিকে তাকাতে তাকাতে ছুটতে গিয়ে একটা উঁচু হয়ে থাকা পাথরে পা মচকে রাস্তায় একটা জোর আছাড় খেলেন। তবু সে যন্ত্রণা অগ্রাহ্য করে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন। খোঁড়াতে খোঁড়াতে ছুটতে থাকলেন। আরও কিছু অলি গলি হয়ে যখন ছাত্রের বাড়ির গলিতে এসে ঢুকলেন, তখন উনি নিশ্চিন্ত যে মেয়েটা শেষ অবধি পিছু নিতে পারেনি। চারদিক একবার দেখে নিশ্চিন্ত হলেন, মেয়েটা নেই। এখনও এত জোরে ছুটতে পারেন ভেবে একটু আত্মতুষ্টির হাসিও হাসলেন।

সামনেই ছাত্রের বাড়ি। একবার ঢুকে যেতে পারলেই নিশ্চিন্তি। রাস্তা থেকে বাড়ির দালানের সিঁড়ি উঠে গেছে। সিঁড়িতে পা ফেলে সেই বাড়িতে ঢোকার মুহূর্তে বীরেনবাবু খেয়াল করলেন গলির মাথায় সেই মেয়েটাকে দেখা যাচ্ছে। এদিকেই এগোচ্ছে।

ছাত্রের চোখে

আজ কী ব্যাপার হল বুঝলাম না। আমরা সবাই মিলে তখন বীরেন স্যারের আসার অপেক্ষা করছি। শেষ কিছু মুহূর্তের উত্তেজনায় আমরা চুপ করে বসে আছি, বড় ঝড় আসার আগে গাছগুলো যেমন থমকে দাঁড়িয়ে থাকে, ঠিক তেমন। হঠাৎ দেখলাম আমাদের বাড়ির উঠোনের উলটো দিকের বারান্দা দিয়ে উনি প্রায় ছুটতে ছুটতে আসছেন। পিছনে কুকুর তাড়া করেছে নাকি?

ঘরে ঢুকে উনি চেয়ারে বসেই ঘষঘষে গলায় বলে উঠলেন— জল, জল হবে?

দেখলাম সাদা পাঞ্জাবি পুরো ঘেমেভিজে গেছে। পাঞ্জাবির কিছু জায়গা নোংরা হয়ে গেছে।

আমরা ব্যস্ত হয়ে সামনে রাখা জলের জাগ থেকে জল গ্লাসে ঢেলে এগিয়ে দিলাম। উনি পুরো একগ্লাস জল প্রায় একটানা শেষ করছিলেন। কিন্তু আবার কী যেন দেখে চমকে উঠলেন। ছলকে জল ওঁর পাঞ্জাবিতে পড়ল। কোনওরকমে গ্লাস নামিয়ে রাখলেন। কিন্তু মিনিট দুয়েক কোনও কথা বললেন না। ওঁর চোখে এই ভয়ের দৃষ্টি আমরা কখনও দেখিনি। এর উলটোটাই হয়।

খানিকবাদে নীরবতা ভেঙে বলে উঠলেন—

—বাড়িতে, ডেটল আছে? আমার পাটা একটু ছড়ে গেছে।

আমরা শতব্যস্ত হয়ে উঠলাম। আমাদেরই খেয়াল করা উচিত ছিল। প্যান্টের হাঁটুর জায়গাটা ছিড়ে গেছে। রক্ত গড়াচ্ছে। বীরেনবাবু নাকি রাস্তায় পড়ে গেছেন। আমি ছুটলাম ডেটল আনতে।

গতবার অর্থাৎ ঠিক তিনদিন আগে প্রায় দুশোর মতো অঙ্ক দিয়েছিলেন। প্রত্যেকের আলাদা করে করার কথা হলেও আমরা নিয়ম ভেঙে নিজেদের মধ্যে সবরকম সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত থাকি। কিন্তু সেসব করেও সবাই মিলে দুশোটা করে উঠতে পারিনি। ডেটল ইত্যাদি দিয়ে যদি স্যারকে খানিকক্ষণ ব্যস্ত রাখা যায়, তাহলে বিপদ কমবে। সেটা একদিক থেকে বেশ ভালো।

লক্ষ্য করলাম আজ বীরেন স্যার কেমন যেন স্তিমিত। মাঝেমধ্যেই অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছেন। অঙ্ক না করা নিয়ে তেমন তর্জন গর্জনও করলেন না। বারবার শুধু জল খাচ্ছেন। আর জানলার দিকে তাকাচ্ছেন।

মেয়েটার চোখে

আজ ট্রাম থেকে নেমেই দেখলাম বীরেনবাবুকে। আমাদের বাড়িতে পড়াতে আসেন। ভাইকে পড়ান। ভদ্রলোক খুব রাগী ও রাশভারী বলে শুনেছি। সবাই ভয়ে কাঁপে। অঙ্কের স্যার হিসেবে খুব নাম আছে। আমি আবার অঙ্কতে চিরকালই কাঁচা। ট্রাম থেকে নেমে রাস্তা পার হতে গিয়ে দেখি উনি হাতছ'য়েক দূরে দাঁড়িয়ে আছেন। চোখাচোখি হতেই ভদ্রতা দেখিয়ে হাসলাম। আমাকে নিশ্চয়ই বাড়িতে দেখেছেন। যেখানে পড়ান, সে ঘরের উলটোদিকের বারান্দায় আমার হাঁটাচলা লেগেই থাকে। তাছাড়া দোতলার বারান্দায় যখন যাতায়াত করি, তখনও ওই ঘর থেকে দেখা যায়। হাসা স্বাভাবিক।

ভদ্রলোক চিনতে পারলেন বলে মনে হল না। তারপরে একটা ছুটে আসা বাসের সামনে প্রায় ঝাপিয়ে পড়ে ছুটে রাস্তা পার হয়ে গেলেন। একটু ভয়ই পেয়েছিলাম। কিন্তু নাহ, দেখলাম, সুস্থভাবেই রাস্তার অন্য দিকে পৌঁছেছেন। আমি রাস্তার উলটো দিকের ফুটপাথে গিয়ে কিছুটা হাঁটার পরে আবার ওঁকে দেখতে পেলাম। দেখলাম, উনি আবার পিছন ফিরে তাকালেন। মনে হয় আমাকে চিনতে পেরেছেন। কিন্তু না দাঁড়ালেন না। হাসলেনও না। বরঞ্চ আরও জোরে হাঁটতে শুরু করলেন।

উত্তর কলকাতার রাস্তার একটা বৈশিষ্ট্য হল অলিগলি যেমন অজস্র, যে পথই নেওয়া হোক না কেন গন্তব্য এক হলে শেষে পথেই দেখা হবে। উনি একটা সরু গলি ধরে ভেবেছিলেন বোধহয় শর্টকাট করছেন। কিন্তু বিশেষ লাভ হয়নি। আমিও প্রায় একই সঙ্গে পরের রাস্তায় অন্য দিক দিয়ে উঠলাম। আবার দেখা হল। কেন জানি না এবারে উনি যেন ছুটতে শুরু করেছেন। হয়তো দেরি হয়ে গেছে।

সবথেকে অবাক লাগল বাড়িতে যখন ঢুকলাম, বীরেন স্যার ওই ভাবে আমাকে দেখে ভয় পেলেন কেন। যাই হোক, একটাই বাঁচোয়া এরকম রাগী স্যারের কাছে আমাকে পড়তে যেতে হয়নি।

পরের দিন দেখা হলে অবশ্য কথা বলব।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%