শিবরাম চক্রবর্তী
চোর-চক্রবর্তী বলে একটা কথা আছে না? তার মানে এ নয় যে চক্রবর্তীরা সব চোর। চক্রবর্তীরা চোর হয় এমন কথা আমি বলতে পারি না— স্বয়ং চকরবরতি হয়ে। ওর মানে— ওর মানে হচ্ছে— মানে, রাজচক্রবর্তী বলেও একটা কথা আছে তো? ওর মানে রয়েছে তার মধ্যে। রাজচক্রবর্তী মানে কি চক্রবর্তীরা সবাই রাজা? তা নয় নিশ্চয়। আমি তো কোনো চক্রবর্তীকে কখনো রাজা হতে দেখিনি, এমনকী নিজেকেও না।
রাজাদের মধ্যে যে শ্রেষ্ঠ সেই হচ্ছে রাজচক্রবর্তী তেমনি চোরেদের ভেতরে যে সেরা, সেই হল গে চোর-চক্রবর্তী।
তেমনিধারা এক চোর-চক্রবর্তীর পাল্লায় পড়েছিল এই গরিব চকরবরতি।
এটা তারই গল্প। আসলে এটা হচ্ছে চোর-চকরবরতি-সংবাদ। বিসংবাদও বলা যায়, চোর আর চকরবরতির দ্বন্দ্ব-সমাসের কাহিনি।
গ্রীষ্মের ছুটিতে আম খাবার লোভ সামলাতে না পেরে বনগাঁয় কাকাদের বাড়ি বেড়াতে গেলাম। সন্ধের একটু পরেই গিয়ে পৌঁছেচি, দেখি যে আমিও হাজির আর কাকিমারাও বেরুচ্ছেন। কোন গাঁয়ে নাকি রাসযাত্রা হচ্ছে, তাই শুনতে তাঁরা যাচ্ছেন। সারারাতের ধাক্কা।
'সেকী! আমিও এলাম আর তোমরাও বেরুলে! আমার যে এখানে আমযাত্রা গো! আমের জন্যে যাত্রা! আম খেতে আসা আমার।'
'তা— খা না, যত খুশি আম। আম তো এনতার। খাটের তলায় ঢেরি করা রয়েছে। বেশ তো, আম খেয়েই আজকের রাতটা কাটিয়ে দে না।'
'খালি আম খেয়ে?'
'তা ছাড়া আর তো খাবার কিছু নেই ঘরে। আমরা তো খেয়ে-দেয়ে সব যাত্রা শুনতে চললুম, রাঁধছে কে এখন? তুই তো কখনো খবর দিয়ে আসবিনে, হুপ করে এসে পড়বি! আমরা টের পাবো কী করে? আম আছে, আর দাঁড়া', বলে কাকিমা যেন আরেকটা আমোদিত হবার খবর দিলেন— 'বাতাসা আছে। বাতাসা খাবি?'

'বাতাসা কী একটা খাবার জিনিস?' আমি বলি— 'ও তো বাতাস খাওয়ার মতোই কিচ্ছু না। তবে বাতাসের চেয়ে বাতাসা খেতে একটু মিষ্টি অবিশ্যি, কিন্তু তাই বলে কী বাতাসা খেয়ে পেট ভরানো যায়?'
'আম খেয়ে তো যায়।' কাকিমার আমন্ত্রণ শুনি 'যত পারিস খা না। গোপালভোগ, বৃন্দাবনী, ক্ষীরসাপাতি সব রকমের আছে। ফজলিও আছে গোটাকয়েক, তবে তেমন পাকেনি বোধ হয়। দ্যাখ যদি তার দু-একটা পেকে থাকে— দুটো ফজলি খেলেই তোর পেট ভরে যাবে।'
'কাঁচা পাকা কিচ্ছু বাদ দেব না তুমি দেখে নিও। কাল সকালে এসে আর আম পাচ্ছ না, খালি আমাকে পাবে।'
'এসেছিস ভালোই হয়েছে। বাড়িটা ফাঁকা পড়ে থাকত। ঠিক সময়েই এসেছিস। এখানে ভারি চোরের উপদ্রব হয়েছে আজকাল। শোবার আগে জানালা দরজায় খিল এঁটে শুবি, বুঝলি? নইলে তোর যা ঘুম— চোরে তোকেই না টেনে নিয়ে যায়। ভালো করে খিল আঁটিস, বুঝেছিস?'

'সে আর বলতে হবে না। চোরের চেয়ে আমার শেয়ালকে বেশি ভয়। চোরের টান শুধু জিনিসের ওপর, মানুষের ওপর তার কোনো টান নেই। কিন্তু তোমাদের শেয়ালরা আস্ত মানুষকেই টেনে নিয়ে যায়। তোমাদের বনগাঁয় আবার শেয়াল রাজা।'
আমার কাকাত এক ভাই বলল— 'হ্যাঁ শিবুদা, আমাদের শেয়াল রাজরা যদি টের পায় যে বনগাঁয় একজন খেয়ালরাজ এসেছেন—'
আমি বাধা দিয়ে বলি— 'টের পেতে দিলে তো। দরজা বন্ধ করার খেয়াল আমার থাকবে।'
'বিছানার ওপরে জরির গুলতি পড়ে আছে। খুলিস নে যেন। তাকের ওপরে তুলে রাখিস।' যাবার আগে কাকিমা আরেকটা জরুরি কথা মনে করিয়ে দিয়ে গেলেন।
ঘরে ঢুকে খাটের ওপর জরির তাল পেলাম আর খাটের তলায় দেখলাম ঢালাও আম। আম দরবার যাকে বলে।
রেশমি শাড়ির ওপর জরির কাজ তোলা কাকিমার অনেক দিনের বাতিক। একটা শাড়ির এক ধারে একটু জরির কাজও দেখা গেল। আমি জরির তাল সমেত জরোয়া শাড়িটাকে সযত্নে তাকের উপর তুলে রেখে খাটের তলায় তাকালাম। এইবার আমার আমের খাটনি শুরু করা যাক!
আম নিয়ে খাটবার পর খাট নিয়ে পড়েছি। দরজায় খিল আঁটব কি মশারি খাটাতে ভুলে গেছি পর্যন্ত। আম খেলে এমন ঘুম পায়! আর আমার মতো যারা আমুদে, অর্থাৎ আম খেতে ওস্তাদ, তার ওপর ঘুমকাতুরে, ভরপেট আম খেলে তাদের যে কী দশা হয়—
কী দশা হয় তা টের পাওয়া গেল খুট করে একটা আওয়াজে আমার ঘুম ভেঙে যেতেই। দেখি, ষণ্ডামার্কা চেহারার একটা লোক প্রকাণ্ড এক ছোঁরা বাগিয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে।
দরজায় খিল আঁটতে যেমন ভুলেছি তেমনি ভুলে গেছি হারিকেনের লন্ঠন নেভাতে। উজ্জ্বল আলোয় দুশমন চেহারাটা স্পষ্টই দেখতে পেলাম। তার বেয়াড়া ছায়াটা লম্বাটে হয়ে খোলা দরজার ভেতর দিয়ে বেরিয়ে বাইরের অন্ধকারে গিয়ে মিশেছে।
দেখেই আমার হয়ে গেছে!
কিন্তু চোররা চকরবরতিদের কাছে কিছুই না। চাতুরীতে তারা আমাদের সঙ্গে পারে না।
তাকে দেখেই না আমি বিছানায় উঠে বসেছি। হাত জোড় করে একটি নমস্কারে সাদর অভ্যর্থনা জানিয়েছি— 'আসুন প্রভু আসুন! আস্তাজ্ঞে হোক—'
'চালাকি রাখো, সিন্দুকের চাবিটা দাও তো।' চোর বললে, 'নইলে দেখেচ এই আমার হাতে? এটা আর আমার হাতে দেখবে না, তোমার ভুঁড়িতে দেখতে পাবে।' বলে ছোরাটা সে একটু নাড়ল।
নিজের অগোচরে ভুঁড়িতে আমি একটু হাত বুলিয়ে নিলাম। তারপর বললাম 'আজ্ঞে বসুন আগে। এসেছেন যখন কৃপা করে, ওই আরামচেয়ারটায় বসে একটু আরাম করুন। পাতঃপেন্নাম!'
'রাতদুপুরে পাতঃপেন্নাম?' চোরটার হাড়পিত্তি জ্বলে যায়, 'ইয়ার্কির আর জায়গা পাওনি?'
'প্রভু যখন দয়া করে দর্শন দিয়েছেন', সুমধুর সুরে আমি শুরু করি 'তখন একটু পায়ের ধুলো না নিয়ে ছাড়ছি নে। কৃপা করে আপনার শ্রীপাদপদ্ম দুটি আমার হাতের কাছে নিয়ে আসুন।'
'আর তুমি ঠ্যাং ধরে আমায় উলটে দাও। তাই না? তোমার ফন্দিটা আমি বুঝতে পেরেছি। যতটা ঠাউরেছ ততটা বোকা আমি নই।'
'প্রভু, কেন অমন করে অধম ভক্তের সঙ্গে ছলনা করছেন?' আমি বললাম— 'এইমাত্র যে স্বপ্নে আপনার দর্শন পেলাম। দেখা দিয়ে আপনি বললেন— আমিই তোর ইষ্টদেব। এই রূপে অচিরেই তোকে দেখা দেব। তোর যথাসর্বস্ব তুই আমায় দিবি। এই একটু আগেই তো আপনাকে আমি দেখেছি আমার স্বপ্নে। ঠিক এই মুখ এই চোখ এই ছিরি! আমার কি ভুল হতে পারে? প্রভুর কথা কি মিথ্যে হতে পারে কখনো?'
'এই মুখ এই ছিরি তুমি একটু আগে দেখেছ?' সে বেশ অবাক হয়।
'একটু আগেই তো দেখলাম। আমার স্বপ্নে আপনি দেখা দিয়েছেন। দেখা দিয়ে বলছেন— আবার তোকে আমি দেখা দেব। তাই তো আপনি আবার আমাকে দেখা দিতে এলেন!'
চোরটা কেমন হতভম্ব হয়ে যায়, কী বলবে ভেবে পায় না। শুধু একটু পরে তার মুখ দিয়ে বেরয়— 'আশ্চর্য!'
'প্রভু, আপনি কী চান বলুন! আমার যা আছে সব আপনাকে আমি ঢেলে দিচ্ছি। আমার সবই তো আপনার। আপনার দেওয়া, আপনারই আবার ফিরে নেওয়া। আমার কী! বলুন আপনার কী চাই?'
'তোমার টাকাকড়ি সোনাদানা যা আছে সব আমায় দাও।'
'দেবই তো। সবই আপনার শ্রীহস্তে তুলে দেব। কিন্তু তার আগে আমাকে আপনার পুজো করতে দিন। আপনি আমার ইষ্টদেবতা— আপনার আগে পুজো করি— তার পর যা কিছু আমার আছে মায় এই ঝর্ণা কলমটি অবদি আপনার শ্রীপাদপদ্মে নিবেদন করব। কতদিন কত জন্ম পরে আপনার দেখা পেলাম। এ জীবন আমার ধন্য হল!'
'পুজো করবে তুমি? আমাকে?' বিস্মিত হয় সে।
'করব না? ইষ্টদেবতার দর্শন পেয়েছি— পুজো না করেই অমনি অমনি তাঁকে ছেড়ে দেব? বলেন কী আপনি?'
'বেশ বেশ। পুজো আচ্চা যা করবার তাড়তাড়ি সেরে নাও তাহলে সকাল হয়ে আসছে, দেখছ না।'
'তা তো দেখছি। কিন্তু আমার পুজোর আগে আপনি যেন অন্তর্হিত হবেন না। কথা দিন আগে আমায়।'
'পুজো-টুজো আরতি-ফারতি যা করবে চটপট সার। তবে ঘণ্টা ফণ্টা বাজিয়ে কাজ নেই। বাজনা টাজনা আমি তেমন পছন্দ করি না।'

'ঘণ্টা, না হলেও শাঁখ তো বাজাতে হবে?'
'শাঁখ? এই সেরেছে! ওই শাঁখ ফাঁখ যদি বাজও তো আমি তোমার পুজো নেব না, তা কিন্তু আমি বলে দিচ্ছি। শাঁখের আওয়াজ ভারি বিচ্ছিরি। অনেক দূর অবদি যায়।'
'তবে থাক। শুধু মন্তর পড়েই তাহলে পুজো সারব না হয়।'
'যা করবে তাড়তাড়ি সারো। রাত আর বেশি নেই। আমাকে আরও সব ভক্তদের দেখা দিতে হবে তো। তাদের বাড়িও তো যেতে হবে। এ গাঁয়ে কী আমার আর কোনো ভক্ত নেই তুমি বলতে চাও?'
'আছে বই কী।' সায় দিয়ে বললাম— 'তাহলে দাঁড়ান একটু দয়া করে। তাড়াতাড়িই আমি সেরে নিচ্ছি।'
চিত্রবিচিত্রকরা একটা পিঁড়ি ছিল, সেটা একটা থামের নীচে নিয়ে রাখালাম। 'দাঁড়ান প্রভু এর ওপরে। ত্রিভঙ্গ হয়ে দাঁড়ান। ত্রিভঙ্গমুরারি হয়ে।'
ত্রিভঙ্গ ঠামে দাঁড়িয়ে সে বললে— 'বাঁশিও বাজাতে হবে নাকি? বাঁশি আমি বাজাতে পারি কিন্তু বাঁশি তো এখন আমার সঙ্গে নেই।'
কাকিমার পুজোর ঘর থেকে কোষাকুষি পঞ্চপ্রদীপ চালকলা নৈবেদ্য সব এনে হাজির করা গেল। 'নমো নমঃ' বলে তার পায়ে এক কুষি জল দিতেই যে খুশি হয়ে উঠল— 'কী! চন্নামেত্ত দিতে হবে নাকি? তাও খাবে নাকি একটু?'
'খাব বই কী? চন্নামেত্ত খাব না? কিন্তু তার আগে আমার প্রদক্ষিণটা সেরে নিই প্রথম। ষোড়শোপচারে পুজোর আগে দেবতাকে এক-শো-আট বার প্রদক্ষিণ করা আমাদের নিয়ম। সুতো জড়িয়ে ঘুরতে হয়, কিন্তু অত সুতো এখন আমি পাই কোথায়?'
'সুতো? সুতো না হলে বুঝি হবে না?' এই নতুন সূত্রপাতে তাকে বিচলিত দেখা যায়।— 'ভারি ফ্যাসাদ বাধালে তো দেখছি। এত রাত্রে এখন সুতো কোথায় পাবে?'
'দেখি, খুঁজে পেতে দেখি।' বলে আমি খুঁজতে লাগি।
খুঁজতে খুঁজতে জরির গুলতিটা পাই— 'এতেই হবে। এই সোনালি সুতোতেই হয়ে যাবে। ভালোই হবে আরও। দেব-অঙ্গে সোনাই ভালো মানাবে।'
'নিন, আপনি জরির এই খুঁটটা ধরুন— বেশ শক্ত করে ধরে থাকুন। আমি ঘুরে ঘুরে মন্ত্র পড়ি আর আপনাকে এক-শো-আট বার প্রদক্ষিণ করি। এক দুই করে আপনি গুনে যাবেন— এক-শো-আট পর্যন্ত। বুঝেছেন?'
'তুমি গুনতে পারবে না?' নিজের গুণপনা দেখাতে সে নারাজ।
'আমি যে মন্তর আওড়াব। গুণব কী করে?'
'বেশ, আমিই গুনছি তাহলে। শুরু করো চটপট।'
গুলতির খুলতির দিকের খুঁটটা সে ধরে থাকল আর গুনতে লাগল। আর আমি জরির গুলতিটা নিয়ে খুঁটির সঙ্গে জড়িত তাকে প্রদক্ষিণ করতে শুরু করলাম। —আর আমার মন্ত্রপাঠ ও পুজোর সমস্ত খুঁটিনাটি বজায় রেখে চলল তার সাথেসাথে 'মাসমেকং নরং যাতি, দ্বৌ মাসৌ মৃগশূকরৌ...পশ্য সিংহ মদোন্মত্ত শশকেন নিপাতিত...নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমোনমঃ!'
আর চোরটা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গুনে যেতে লাগল— 'এক দুই তিন চার...সাতাশ আটাশ...বাহান্ন তিপান্ন...পঁচাত্তর ছিয়াত্তর...এক-শো-সাত...এক-শো-আট।' ব্যাস, ঢিপ করে ঠাকুরকে একটা প্রণাম ঠুকে আমি উঠলাম।— 'প্রভু! আমার পুজো খতম। এইবার আপনি দয়া করে আমার সঙ্গে চলুন। আসুন আমাদের মালখানায়। আপনার কী চাই, নিজে এসে দেখুন। পছন্দ করে বেছে নিন। আমার সিন্দুক খুলে সব আপনাকে উজাড় করে দিচ্ছি।'
মন্ত্রমুগ্ধ একটা সুখতন্দ্রা যেন চট করে ভেঙে গেল চোরটার। আমার সঙ্গে আসার চেষ্টা করতে গিয়ে তার চটকা ভাঙল আরেকবার। চেষ্টার গোড়াতেই তাকে থামতে হল। থামটাই তাকে থামিয়ে দিলে। দেখল যে জরির বাঁধনে সে থামের সঙ্গে জড়িত। আষ্টে-পৃষ্ঠে জর্জরিত।
এমনিতে জরির সুতো পলকা, কাচের মতোই কাঁচা। ক্ষণভঙ্গুর। কিন্তু এক-শো-আট বারের পাকে পাকা সোনার জায়গা গয়নার মতোই তার গায়ে গেঁথে বসে ছিল। একটা খড় যেমন কিছুই না, একটানেই ছেঁড়া যায়, কিন্তু অনেক খড়ের আঁটি এক করলে তা এতই প্রখর হয় যে তখন সে হাতিকে বাঁধতে পারে।
চোরটাকে স্তম্ভের গায়ে ঠেস দিয়ে স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। বেচারার হাত-পা বাঁধা— কাটান ছাড়ানের উপায় নেই। জরির সঙ্গে জড়িয়ে নড়ন চড়ন নাস্তি! বিজড়িতভাবে তাকে এমন অদ্ভুত দেখাচ্ছিল। বোকা বোকা চেহারায় ভূতের মতন দাঁড়িয়ে।
জড়ীভূত হয়ে সে চিৎকার করতে থাকে— 'এসব তোমার কী কাণ্ড বলো তো, একী হয়েছে? প্রদক্ষিণ না গুষ্টির পিণ্ডি! নাও, পুজো তো সেরেছ, এখন আমায় খুলে দাও। ভোর হয়ে এল দেখছ না? বলেছি না, এই রাত্রেই আমাকে আরও সব ভক্তদের দেখা দিতে হবে। না কি, তোমার একটা পুজো নিলেই আমার হয়ে যাবে? সাত পুরুষ উদ্ধার হবে আমার?'
'প্রভু আরেকটু। আরেকটুখানি দাঁড়ান। নয়নভরে আপনাকে দেখি। দেখে আমার দু-চোখ সার্থক করি। সোনালি জরি আপনার শ্রীঅঙ্গে কী সুন্দর মানিয়েছে! জরি আপনাকে বেশ মানায়।'
কিন্তু চোরটা সে-কথা মানতে চায় না। চেঁচাতে থাকে। আর এক মিনিটও সে জরির সঙ্গে জড়াজড়ি করে থাকতে রাজি নয়। সমস্তটাই তার কাছে তখন জরিমানার মতোই লাগে।
'আচ্ছা ফ্যাসাদ বাধালে তো বাপু। এই কী তোমার হাঁ করে ঠাকুর দেখবার সময়? ভোর হয়ে এল এদিকে। কাক ডাকতে শুরু করেছে, দেখছ না?'
দেখছিলাম বই কী! কাক-ডাকা ভোর খোলা দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছিল। দেখতে দেখতে কাকা ডাকলেন, কাকিমা ডাক দিলেন। কাকাতুত ভাইদের হাঁকডাক শোনা যেতে লাগল।
যাত্রা দেখে ফিরলেন সবাই!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন