হর্ষবর্ধন আর গোবর্ধন

শিবরাম চক্রবর্তী

ভাঁড়টা তাকের ওপর রেখে হর্ষবর্ধন ভাইয়ের দিকে তাকান— 'এদিকে যেন নজর দিসনি, বুঝলি?'

দিলও না গোবরা। তার নজর ছিল এক বইয়ে তখন। দু-চোখ দিয়ে বইটাকে যেন সে গিলছিল।

'সাড়া দিচ্ছিস না যে? এই বড়ো ভাঁড়টায় বাগবাজারের রসগোল্লা রইল—'

'বয়েই গেল আমার!' সাড়া মিলল গোবর্ধনের 'তোমার ভাঁড়ে বাগবাজারই থাক আর মা ভবানীই থাকুন— আমার কী!'

'পেটে পুরিস নে যেন ভুল করে।' হর্ষবর্ধন বাতলান 'আমার বিকেলের জলযোগ। আমি খাবার পর তুই অবিশ্যি একটু পেসাদ পাবি।'

'তোমার পেসাদ আমার মাথায় থাক। চাইনে খেতে।'

'তা বটে! তা বটে!'

শুনে দাদা ভারি প্রীত হন—

'পেসাদ তো মাথায় করেই রাখতে হয় রে! তা না হয় রাখলি, কিন্তু তাই বলে একটুও চাখবিনে? তা কী হয়? একটু-আধটু চাখবি বইকী!'

'কী আমার মহাপেসাদ!' গোবরা বই এর পাতার সঙ্গে নিজের ঠোঁট ওলটায়!

'কী বই পড়া হচ্ছে শুনি? অমন করে মন দিয়ে।'

'একখানা বই।'

'একখানা বই যে তা তো দেখতেই পাচ্ছি। একখানা কেন, দু-খানাই তো দেখছি! বালিশের তলায় ওটা কী? কী বই ওটা? কার লেখা? লেখক কে? নাম কী বইয়ের?'

'নিখরচায় জলযোগ। লেখক হচ্ছে গে—'

'কী বললি? নিখরচায় জলযোগ? দ্যাখো বাপু, ওই সব বাজে বই পড়ে নিজের মাথাটি খেয়ে তার পরে যেন আমার জলযোগের ভাঁড়ে তোমার হাত বাড়িয়ো না। ওই সব নিখরচার জলযোগ আমি বরদাস্ত করব না, তা কিন্তু আমি বলে দিচ্ছি। আর যে বইটা তোর হাতে আছে, সেটা?'

'আরেকটা গল্পের বই! 'কথা বলার বিপদ!' ওটা যার লেখা, এটাও তার। শিব্রাম চকরবরতির।'

'এই মরেছে! ওই সববোনেশে লোকের বই তুই পড়ছিস?'

'পড়ছিই তো। কেন, কী হয় পড়লে?'

'আমার পিণ্ডি হয়। কথাবার্তা গুলিয়ে ফেলবি যে সব! কথায় আর মানেতে তালগোল পাকাবি। এককথা বললে বুঝবি অন্য কথা, এককথায় অন্য মানে বের করবি। কথাদের মানমর্যাদা কিছুই আর থাকবে না। কথায় কথায় কত কথা টেনে আনবি, মাথামুণ্ডু কিছু যদি তার থাকে! কিছু যদি তার বোঝা যায়!'

'তোমাকে বলেছে!'

'দেখি বইটা।' হর্ষবর্ধন বইখানা হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দ্যাখেন— 'কেন, এইতো বলেই দিয়েছে এইখেনে। ''শিব্রাম চকরবরতির মতো কথা বলার বিপদ।'' গোটা গোটা অক্ষরে মোটা মোটা লাইনে পরিষ্কার করে বলেই দিয়েছে লোকটা। নিজেই বলে দিয়েছে। নাঃ, বিপদ বাধালে সত্যি!'

'আমার বিপদ আমি বুঝব। তুমি বই দাও তো! তোমার রসগোল্লা খাও না বাপু!'

'পড়বি তো পড়, পড়ে মরবি তো মরগে। টের পাবি শেষটায়। যখন নিজের কথার মানে নিজেই বুঝতে পারবি নে, বুঝবি তখন। আমার কী! আমি বলে খালাস। হ্যাঁ, ভালো কথা, গৌহাটির আমাদের কাঠগুদাম থেকে আজ একটা ট্রাঙ্ক কল আসবে— কলটা এলেই আমায় বলিস। বুঝছিস?'

'আচ্ছা-আচ্ছা।' গোবরা আবার বই নিয়ে পড়ে। কিন্তু কথাটায় ওর টনক নড়ে। চকিতের মতোই মনে হয়, ট্রাঙ্ক কল... সে আবার কী? কাঠের গুদাম থেকে আসবে বলছে। গাছের গুঁড়িকে তো ট্রাঙ্ক বলে জানি। আবার হাতির শুঁড়কেও বলে থাকে। আবার বাক্স-প্যাঁটরাকেও বলা হয়। তাহলে এ কীসের ট্রাঙ্ক? ভাবতে ভাবতে বই-এর মধ্যে তার ভাবনার খেই হারায়।

হর্ষবর্ধন গায়ের কোট খুলে বিছানায় গিয়ে লম্বা হন। কম্বলটা টেনে নেন গায়ের ওপর। কিন্তু কম্বলে কি মানায়? শীতের কনকনে হাওয়া খোলা দরজার পথে সেঁধিয়ে হাড় অবধি কাঁপিয়ে দেয়।

'এই দরজাটা ভেজা তো!' কাঁপতে কাঁপতে হাঁক পাড়েন শ্রীহর্ষ।

বইয়ে মশগুল, সেই-হর্ষধ্বনি কানে যায় না গোবরার।

'কানে যাচ্ছে না বুঝি কথাটা?' দাদাকে গলা চড়াতে হয়— 'বলছি না দরজাটা ভেজাতে?'

বাধ্য হয়ে গোবরাকে বই ফেলে উঠতে হয় এবার। এক বালতি জল এনে ছিটিয়ে ছিটিয়ে দরজা ভেজাতে লেগে যায় সে।

'এই মরেছে! কী করছে দ্যাখো! রোগে ধরেছে এর মধ্যেই! বল্লুম কী, আর বুঝলো কী! আরে মুখ্যু, আমি কি তোকে জল দিয়ে দরজা ভেজাতে বললুম? দরজাটাকে লাগাতেই তো বলেছি।'

'তাই বলো! সে-কথা বললেই হয়!' কোণের থেকে দাদার সেগুন কাঠের দামি লাঠিটা নিয়ে এসে এমন লাগান লাগায় সে, যে দরজা আর দাদা একসঙ্গে আর্তনাদ করে! লাঠিটা তিন তিনটা টুকরো হয়ে যায় দেখতে-না-দেখতে!

সেগুনের ধ্বংসলীলার পর গোবর্ধন চন্দনকাঠের লাঠিটার দিকে হাত বাড়াচ্ছে দেখে দাদা হাঁ-হাঁ করে ওঠেন— 'থাক থাক। আর দরজা লাগিয়ে কাজ নেই। খুব হয়েছে। যা হবার তা হয়েছে। দরজা আর তুই কোনোদিন লাগাতে পারবি না। দরজা ভেজানো, দরজা লাগানো— কাকে বলে, তা তুই আর বুঝতেই পারবি না। এ-জন্মে আর নয়। যাক, যা হবার হয়ে গেছে। যেটি আশঙ্কা করেছিলাম সেই সর্বনাশের কিছু আর বাকি নেই।' হর্ষবর্ধনের দীর্ঘনিশ্বাস পড়ে।

'কী বলছ তুমি, স্পষ্ট করে বলো না?' গোবরা জিজ্ঞেস করে— 'লাগাতে বলছ না, ভেজাতে বলছ? একসঙ্গে দুটো কাজ হয় না।'

'যা বলছি সে আর তোর মাথায় ঢুকলে তো! বলব এক, বুঝবি ঠিক তার উলটোটি।' বলতে গিয়ে হঠাৎ তাঁর মনে হয়, 'আচ্ছা, যদি উলটো করে বলা যায় তাহলে হয়তো এই উলটো-বুঝলি-রামের মাথায় গিয়ে সোজা হয়ে সেটা ঢুকতে পারে। 'বলছিলাম কী, দরজাটা আরও ভালো করে খুলে দে। দরাজ করে একেবারে।'

'খুলে দেব দরজাটা? তাই বলছ? কিন্তু স্ক্রু-ড্রাইভার কই? জবাব আসে গোবরার 'তাহলে তো এখন আমায় মিস্তিরি ডাকতে হয়।'

এ-কথায় হর্ষবর্ধনকে যেন একেবারে বসিয়ে দেয়। শুয়েছিলেন, উঠে বসেন। গালে হাত দিয়ে বসে থাকেন। কী যে বলবেন ভেবে পান না। দরজাকে কী ভাষায় ব্যক্ত করলে সেটা তাঁর ভায়ের মগজে গিয়ে খুলবে তা তিনি বুঝতে পারেন না। কী করা যায় দরজাকে, কত রকমে করা যায়, দরজার প্রতি আমাদের কী কী কর্তব্য, আর কীভাবে করলে তা ঠিক ঠিক পালিত হয়, কেমন করে বললে দরজা আর গোবরাকে একসঙ্গে কায়দায় আনা যায়, তার হাড়হদ্দের কিছুই তিনি হদিশ পান না।

'আমি যদি বলি, দরজাটা দে, তাহলে তুই কি খুলে এনে ওটা আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিবি নাকি?' তবু এক বার শেষ চেষ্টা হয় তাঁর। দরজার মতো আকাঠ, আর ওই দরজার মতোই ফাঁকা— তাঁর ভায়ের মাথায় যদি এক বার ঢোকে।

'বয়েই গেছে। আমি কেন দিতে যাব? নিজেই গিয়ে নাও না! দরজা তো আর পালিয়ে যাচ্ছে না! দেনদার নয় কিছু যে পালিয়েপালিয়ে বেড়াচ্ছে! দাঁড়িয়েই রয়েছে তোমার সামনে। এগিয়ে গিয়ে নিজের হাতে নিলেই হয়।'

'হয়েছে, বুঝতে পেরেছি।' হতাশভাবে ঘাড় নাড়েন হর্ষবর্ধন 'দরজাকে আর ঘাঁটিয়ে কাজ নেই। থার্মোফ্লাস্ক থেকে ঢেলে একটু গরম চা দিতে পারবি— এক পেয়ালা? ঠান্ডায় জমে কুলপি বরফ হয়ে গেলাম!'

'এই তো বেশ কথা! একেবারে স্পষ্ট। এর মধ্যে কোনো ছুতো নেই। ছুতোর মিস্তিরিও আসে না।' গোবরা ফ্লাস্ক থেকে গরম চা ঢালতে থাকে। সহাস্যে দাদাকে পেয়ালাটা এগিয়ে দেয়।

'আঃ! বাঁচলাম! আরেক পেয়ালা দে।'

গোবরা আরেকটা পেয়ালা এনে দাদার কাছে রাখে। খালি পেয়ালা।

'আমি কি খালি পেয়ালা চেয়েছি?' চায়ের মতোই গরম হয়ে ওঠেন হর্ষবর্ধন— 'চা চাইলাম না?'

তাঁর ইচ্ছে করে যে, পেয়ালাটি দিয়ে এমন এক-ঘা লাগান যে গোবরার মাথার গোবর দু-ফাঁক হয়ে যায়। আর সেখানে, ঘিলুর জায়গায়, এখন নরম আছে, না, বিলকুল ঘুঁটে হয়ে গেছে, সেটা লক্ষ করেন।

'চা চাচ্ছ তো চেঁচাচ্ছ কেন?' গোবর্ধন আধ ডজন পেয়ালা plus ফ্লাস্ক, সেইসঙ্গে গোটা তিনেক গ্লাস এনে দাদার সামনে ধরে দেয়।— 'এই নাও, ঢাল আর খাও। যত তোমার প্রাণ চায়। খাও আর ঢাল! কে মানা করছে?'

দাদার হয়ে ঢালাঢালি করা— অত ঢলাঢলিতে তার কাজ নেইকো আর।

বলে এককথা, বোঝাতে চায় আরেক, এমন দাদার মর্ম বোঝা তার কর্ম নয়। দেদার লোক সে দেখেছে, কিন্তু দাদার মতন একটিও না। দাদ আর দাদা, দেখা গেল, এ-জীবনে দুই-ই দুর্বিষহ।

'যাঃ, দূর হয়ে যা আমার সুমুখ থেকে। চোখের সামনে থাকিসনে আর!'

বলে দাদা ফ্লাস্ক খালি করতে লাগলেন— 'যাচ্ছিস যে? কোথায় যাচ্ছিস?'

'নীচে গিয়ে নির্ঝঞ্ঝাটে পড়ি গে। তোমার আপিস ঘরে তো তুমি আর আসছ না এখন?'

'প্রাণ থাকতে না। মানে, তুই থাকতে নয়।'

'আমি মরে গেলেই তুমি বাঁচ বুঝি? খুশি হও খুব?' গোবরার মুখ গোমরা হয়। —আমি তোমার ভাই না? এক মায়ের পেটের ভাই নই?'

'তাই কি আমি বলেছি? বললাম তো প্রাণ থাকতে নয়! তুই সেখানে থাকতে আমি নামছিনে, এই কথাই তো বললাম! তার মানে, তুই-ই আমার প্রাণ! প্রাণের ভাই যাকে বলে!'

'কিন্তু তুমি অনায়াসে নিজের প্রাণহানি করতে পার, নিজের প্রাণের প্রতি কিচ্ছু তোমার দরদ নেই। তোমাকে আমার বিশ্বেস হয় না। তোমার থেকে দূরে থাকাই আমার ভালো।'

'থাকগে তাই! তোর ওই বই নিয়ে যত দূরে দূরে থাকিস ততই ভালো।'

দাদা হাঁপ ছাড়েন 'আমার কী! তোর ভালোর জন্যই বলছিলাম। ওই লোকটার বই পড়লে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড গুলিয়ে যায়, কাণ্ডজ্ঞান-টান সব লোপ পায়। তোর মঙ্গলের জন্যই বলছিলাম তাই! যাক, তুই যখন শুনবিনে তখন...ভালো কথা, আপিস ঘরে বসে বসেই পড়ছিস তো? আমার একটা জরুরি ট্রাঙ্ক কল আসবে, খেয়াল থাকে যেন। টেলিফোনের দিকেও কানটা রাখিস, সব মনটা বইয়ে দিয়ে বসে থাকিসনে যেন।'

আপিস ঘরের আলো জ্বেলে টেবিলের ওপর পা তুলে বই নিয়ে বসল গোবরা। কিন্তু কান একদিকে, মন একদিকে রেখে বই পড়া যায় না। গল্প যদি বা উৎকর্ণ হয়ে শোনা যায়, সেইভাবে পড়া যায় কি? ট্রাঙ্ক কলের হাঙ্গামাটা আগে ভাগেই চুকিয়ে ফেললে হয় না? গোবরা ভাবে।

একটু পরেই ওপরে গিয়ে সে খবর দেয়— 'তোমার ট্রাঙ্ক কল এসে গেছে দাদা!'

'সে কী রে! এত তাড়াতাড়ি? এমন চটপট মিলে গেল কনেকশন?'

'আমিই কনেকশন করে দিলুম। টেলিফোন করে সটান।'

'তাই নাকি? তা বেশ করেছিস। তুই এখন ওপরেই থাক— এখানে বসে-বসেই পড় না হয়। ততক্ষণে আমি কলটা সেরে আসি। কেমন? কাজের কথার মাঝে তোর মাথা গলাবার দরকার নেই।'

'দায় পড়েছে গলাতে! গলার ওপর একটি তো মোটে মাথা আমার!' গোবর্ধন জানায়। 'তাকে আমি গলতে দিতে চাইনে। আমার মাথা কিছু মাখম নয়!'

গলার ওপরে বটে, কিন্তু মাথা কিনা সে-বিষয়ে ঘোরতর সংশয় থাকলেও হর্ষবর্ধন দ্বিরুক্তি করার জন্য দাঁড়ান না। ট্রাঙ্ক কল ধরতে দৌড়ান।

'হ্যালো! আমিই ট্রাঙ্ক কল চেয়েছিলাম—' তিনি হাঁকেন— 'হ্যালো...হ্যালো...'

'ও আপনি? বলুন তো কীরকম ট্রাঙ্ক চাই আপনার?'

'কীরকম ট্রাঙ্ক? তার মানে! তিনি একটু অবাক হন— 'আমি তো গৌহাটির চেয়েছি। তবে দিল্লির থেকেও একটা ট্রাঙ্ক আসার কথা আছে বটে। এটা কি তবে দিল্লির ট্রাঙ্ক?'

'স্টিল ট্রাঙ্ক? হ্যাঁ, তাও আছে আমাদের কাছে। কত বড়ো, কী সাইজের চাই আপনার বলুন দেখি?'

'ইসটিল ট্রাঙ্ক? সে আবার কী?' হর্ষবর্ধনের মগজে ঠিক ঢোকে না।

'আজ্ঞে, স্টিল ট্রাঙ্ক যেরকম হয়। তবে ক-ফুট লম্বা কত ইঞ্চি চওড়া— কী রঙের— কীরকম কেমনটি চাই, দয়া করে যদি জানান—'

'ভারী যে লম্বা-চওড়া কথা শোনাচ্ছেন মশাই? কে আপনারা তা জানতে পারি?'

'বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটে আমাদের স্টিল ট্রাঙ্কের আড়ত, তা কি আপনি জানেন না? কোলকাতার সবচেয়ে নামজাদা স্টিল ট্রাঙ্কওয়ালা আমরাই তো।'

'ট্রাঙ্ক জাহান্নাম! ইসটিল ট্রাঙ্কের নিকুচি করেছে!' টেলিফোনের লাইনের অপর প্রান্তে গিয়ে বাজের আওয়াজের মতোই তিনি ফেটে পড়েন 'কে চেয়েছে আপনাদের ইসটিল ট্রাঙ্ক?'

'কেন আপনিই তো? একটু আগেই তো আমাদের টেলিফোনে ডাকলেন? একবারটি আমাদের ট্রাঙ্ক নিয়ে পরীক্ষা করে দেখুন না! পছন্দ না হয়, ফেরত দেবেন। আমাদের মতন এমন মজবুত ট্রাঙ্ক আর কেউ বানাতে পারবে না মশাই। সে-বিষয়ে আমরা গ্যারান্টি দিয়ে থাকি। দয়া করে আমাদের দোকানে পায়ের ধুলো দিয়ে দেখে যাবেন, একবারটি? যে ধরনের ট্রাঙ্ক আপনি চান—'

'দেখতে চাই নে আপনাদের ট্রাঙ্ক! আপনারা জাহান্নামে যান।' বলে রিসিভার ফেলে সরাসরি তিনি উঠে আসেন ওপরে। নিজের ঘরে গোবরার ঘাড়ে গিয়ে পড়েন।

'তুই— তুই— তুই—' ভাই-এর দিকে তাকিয়ে রাগে তাঁর কথা বেরোয় না— 'তুই একটা যাসসেতাই।'

'কেন কী হল? ওদের ট্রাঙ্ক বুঝি পছন্দ হল না তোমার? ফোন গাইডে কিন্তু ট্রাঙ্কওয়ালাদের তালিকায় ওদের নামটাই সবার উপরে দেখলাম।'

'তুই— তুই— তুই দূর হয়ে যা আমার সামনে থেকে। এক্ষুনি— এই দণ্ডে। নইলে— নইলে আমি তোকে খুন করব। মারমূর্তি দেখা যায় দাদার 'ভাগো হিঁয়াসে...এক নম্বরের গাধা! চলে যাও...যেখানে তোমার খুশি। যেদিকে দু-চোখ যায়। ইসটুপিট— বিচ্ছিরি— উজবুক কাঁহাকা। গোল্লায় যা তুই।'

আর বলতে হয় না। বলতে-না-বলতেই গোবরা লাফিয়ে ওঠে 'বললে তো তুমি? তুমিই বললে! তবে আর আমার দোষ নেই! আমাকে কোনো দোষ দিতে পাবে না।'

বলেই না সে এক লাফে তাকের দিকে এগোয়। ভাঁড়ের রসগোল্লার ভাঁড়ারে হাত বাড়ায়। রসগোল্লাদের ওপর তার দাঁত বসায় বত্রিশ পাটি।

'গোল্লায় যেতে বললে তো? কিন্তু যা-ই বলো, গোল্লার মধ্যে তো আর যাওয়া যায় না। তাই গোল্লাই আমার মধ্যে যাক।' বলে দাদার গোল গোল চোখের সুমুখে দাদার চোখের মতোই গোলাকার, রসে টইটম্বুর, পৃথিবীর সব চেয়ে মিষ্টি গোলমালকে সে গিলতে থাকে টপাটপ!

যেমন গোলোযোগ, তেমনি আবার নিখর্চার জলযোগও তাকে বলা যায়।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%