পঞ্চাননের অশ্বমেধ

শিবরাম চক্রবর্তী

ভালো আপদ হয়েছে ঘোড়াটাকে নিয়ে। পঞ্চানন কী যে করবে কিছুই স্থির করতে পারে না। কলিযুগ হয়ে অবধি আজকাল অশ্বমেধের রেওয়াজ নেই, তা না হলে সে হয়তো একটা অশ্বমেধ যজ্ঞই করে বসত। কথা নেই, বার্তা নেই, একটা কৃষ্ণের জীবকে তো অধর্ম করে অমনি মেরে ফেলা যায় না। তাই পঞ্চানন ভেবে রেখেছে সুবিধা পেলেই একবার ভট্টপল্লীর দিকে যাবে— মা কালীর কাছে অশ্ববলি দেওয়া যায় কি না, তার ব্যবস্থাটা জিজ্ঞাসা করবে।

সে মনে মনে আলোচনা করেছে, কেনই-বা না দেওয়া যাবে? পাঁঠা যখন দেওয়া যায়— অশ্ব তো পশুর মধ্যেই গণ্য? পাঁঠাও একটা পশু ছাড়া আর কী? পাঁঠার চারটে পা, ঘোড়ারও— সবদিকেই প্রায় মিল আছে, যা-কিছু তফাত তা কেবল লেজের ও আওয়াজের। তা শাস্ত্রেই যখন রয়েছে মধ্বাভাবে গুড়ং দদ্যাৎ, তখন পাঁঠাভাবে ঘোড়াং দদ্যাতের বিধান কি আর শাস্ত্রে নেই? নিশ্চয়ই আছে।

এককালে অবশ্য ঘোড়াটা খুবই কাজ দিয়েছিল, কিন্তু বুড়ো হয়ে অবধি আজকাল কোনো কাজেই লাগা দূরে থাক, তার পেছনে লেগে থাকা একটা কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুড়ো বয়সে ভারি পেটুক হয়েছে ঘোড়াটা। জামার হাতা, খবরের কাগজ, ছেলেদের পুঁথিপত্র, দরকারি চিঠি, কখন কী খায় স্থির নেই। সেদিন তো কাশ্মীরি শালের আধখানাই প্রায় সাবাড় করে বসল। তা ছাড়া রান্নাঘরের দিকেও বেশ নজর আছে।

এদিকে পঞ্চাননের সঙ্গে তার দস্তুর মতো প্রতিযোগিতা। রান্নাঘর থেকে ছ্যাঁক-ছোঁক আওয়াজ কিংবা বেগুন ভাজার গন্ধ এলে কার সাধ্য তাকে থামায়? পাড়াগাঁয়ে মেটে বাড়ি পঞ্চাননদের; ধানের গোলাগুলো ঘুরে উঠোন পেরিয়ে গেলেই রান্নাঘর। মুহূর্তের মধ্যে অশ্ববরকে সেখানে উপস্থিত দেখা যাবে। পঞ্চাননের গিন্নির কী পরিত্রাণ আছে ওকে বেগুন ভাজা না দিয়ে? বেগুন ভাজার প্রতি পঞ্চাননের দারুণ লোভ, অথচ এই ঘোড়াটার জন্যই সে পেট ভরে বেগুন ভাজা খেতে পায় না।

সেদিন পঞ্চানন-গিন্নি বেগুন না ভেজে, বোধ হয় ঘোড়াটাকে ঠকাবার মতলবেই, বেসন দিয়ে বেগুনি ভাজছিলেন। গন্ধ পাবামাত্র ঘোড়াটা সেখানে হাজির! দু-একবার সে গিন্নির মনোযোগ আকর্ষণ করেছে— চিঁহি চিঁহি!

সংস্কৃত ভাষায় যার মানে হচ্ছে— দেহি দেহি।

কিন্তু গিন্নি কর্ণপাত না করায় সে নাসিকার সাহায্যে গিন্নিকে ঠেলে ফেলে সেই ঝুড়িভরা সমস্ত বেগুনি আত্মসাৎ করে পরম পরিতৃপ্তির সঙ্গে খেতে শুরু করে দিয়েছে। সেদিন থেকে ঘোড়াটার প্রতি আর পঞ্চাননের চিত্ত নেই। দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছে ভাটপাড়া সে যাবেই।

গিন্নিকে সে স্পষ্টই বলে দিয়েছে, ফের যদি তুমি ঘোড়াটাকে আশকারা দাও, তাহলে ওরই একদিন কী আমারই একদিন। সত্যি বলছি, একটা খুনোখুনি হয়ে যাবে। ঘোড়াটা কিন্তু গ্রাহ্যও করে না পঞ্চাননকে।

তার পরের দিনই সে কলকাতা থেকে সদ্য আনানো পঞ্চাননের টর্চলাইটটা মুখের মধ্যে পুরেছিল, কিন্তু ভালো করে চিবিয়ে যখন বুঝল যে ওটা ঠিক বেগুনি নয়, তখন বিরক্ত হয়ে ফেলে দিল।

টর্চলাইটটার অবস্থা দেখে পঞ্চানন তো অগ্নিশর্মা। সে ছুটে গিয়ে ঘোড়াটার কান ধরে গালে এক চড় বসিয়ে দিল— 'হতভাগা, তোর কি একটুও আক্কেলবুদ্ধি নেই? তুই যে একটা গাধারও অধম হলি?'

ঘোড়া মুখ সরিয়ে নিয়ে জবাব দিয়েছে 'চিঁহিঁহি!' অর্থাৎ— যা বল তাই বল!

পঞ্চানন যখন মাথা ঘামাচ্ছে, এই হঠকারিতার জন্য কী শাস্তি ওকে দেওয়া যায়, তখন ওর ছোটো ছেলে বটকৃষ্ট এসে পরামর্শ দিল— 'বাবা, ওর লেজ কেটে দাও, তাহলে আর মশা তাড়াতে পারবে না।'

পঞ্চানন ভেবে দেখল, একথা বেশ। ওর শাস্তির ভারটা মশার উপরে ছেড়ে দেওয়াটা মন্দ না।

কিন্তু কাঁচি নিয়ে উদ্যোগ-আয়োজনের মুখেই ন-মেয়ে রাধারানি বলল, 'বাবা করছ কী! মশার কামড়ে তাহলে ও আমাদের মশারির মধ্যে এসে ঢুকবে যে!'

বাধ্য হয়ে পঞ্চানন কাঁচি থামিয়েছে, একটা ভাবনা কথা বই-কী! ঘোড়াটার যেরকম বুদ্ধি-শুদ্ধির অভাব, তাতে সবই ওর পক্ষে সম্ভব। মশারির মধ্যে ঢোকা কিছু কঠিন না ওর পক্ষে।

এমনই সমস্যার মুহূর্তে জ্যোতিষ বোস এসে উপস্থিত।— 'কিহে পঞ্চানন, কী হচ্ছে?'

'এই ভাই, ট্রেন করছি ঘোড়াকে।'

'তুমি হর্স ট্রেনার হলে আবার কবে থেকে?'

পঞ্চানন মাথা নেড়ে বলে, 'আর ভাই, শিক্ষা না দিলে নিজের ছেলেই গাধা হয়ে যায়, তা ঘোড়া তো পরের ছেলে।'

'তা বেশ। কিন্তু তোমার দেনার কথাটা একেবারে ভুলে গেছ! আমাদের পাড়াই মাড়াও না দু-বছর থেকে— ব্যাপার কী?'

পঞ্চানন আকাশ থেকে পড়ল, 'কীসের দেনা!'

'সেই যে একদিন বাজারে নিলে। বছর দুই আগে।'

'হ্যাঁ, হ্যাঁ, মনে পড়েছে, চার আনা পয়সা। পদ্মার ইলিশ এসেছিল হাটে, পয়সা কম পড়ল, তোমার কাছে নিলাম বটে। মনে ছিল না ভাই।'

জ্যোতিষ বোস ছেলেবেলা থেকেই হিসেবি, একথা পঞ্চানন জানত। কিন্তু বুড়োবয়সে সে যে এত বেশি হিসেবি হয়ে উঠবে যে, চার আনা পয়সার কথা দু-বছর ধরে মনে করে রেখে ভিন গাঁ থেকে তিন মাইল হেঁটে চাইতে আসবে, পঞ্চানন তা ধারণা করতে পারেনি। বাপ পাঁচ-শো টাকা রেখে গেছল, সুদে খাটিয়ে তেজারতি কারবারে সেই টাকা পঞ্চাশ হাজারে সে দাঁড় করিয়েছে; কিন্তু সামান্য চার আনার মায়া সে ছাড়তে পারেনি ভেবে পঞ্চানন অবাক হল।

'তা ভাই পঞ্চানন, প্রায় আড়াই বছর হল তোমার ধার নেওয়া। আমার খাতায় সমস্ত হিসাব লেখা আছে; নিজে গিয়ে দেখতে পারো একদিন। এইবার একটু গা করে দিয়ে দাও।'

'কী যে বলো তুমি? সামান্য চার আনা পয়সার জন্য আমি অস্বীকার করব? তা তুমি কষ্ট করে এত দূর থেকে আমাকে লজ্জা দিলে। রাধু, তোর মার কাছ থেকে চার আনা নিয়ে আয় তো। আর বলগে তোর জ্যোতিষ কাকার জন্যে বেগুনি ভাজতে। বেগুনি দিয়ে তেল মেখে মুড়ি খেতে বেশ লাগে হে! তার সঙ্গে কাঁচালঙ্কা—'

জ্যোতিষ বোস বাধা দিয়ে বলল, 'তা হবেখন! খাওয়া তো আর পালাচ্ছে না। কিন্তু একটা ভুল করছ তুমি, আড়াই বছর পরে পয়সাটা তো আর চার আনা নেই ভাই।'

কিছু বুঝতে না পেরে পঞ্চানন বলল, 'চার আনা নেই কীরকম?'

'আহা, বুঝতে পারছ না! সুদে-আসলে তা পাঁচ টাকা এগারো আনা পৌনে তিন পাইয়ে দাঁড়িয়েছে। পৌনে তিন পাই দেওয়া একটু শক্ত হবে তোমার পক্ষে, তা তুমি পাঁচ টাকা এগারো আনাই দাও আমায়।'

'য়্যাঁ?' পঞ্চাননের মুখ দিয়ে আর কথা বেরুল না। পাঁচ টাকা এগারো আনা পৌনে তিন পাই! পৌনে তিন পাই দেওয়া তার পক্ষে শক্ত নিশ্চয়ই এই বাজারে ওই পাই পয়সা কে পাইয়ে দেয়! কিন্তু পাঁচ টাকা এগারো আনাটা দেওয়াই যে তার পক্ষে এমন কী সহজ, তা সে ভেবে পেল না।

পঞ্চানন ভেবে কিনারা পায় না। হ্যাঁ, জ্যোতিষটা ছেলেবেলা থেকেই খুব হিসেবি, একথা তার অজানা নয়, কিন্তু তার হিসেবিতা যে বয়সের সঙ্গে এতটা মারাত্মক হয়ে উঠেছে, তা কে জানত? নাঃ, জব্দ করতে হবে ওকে।

কাষ্ঠ-হাসি হেসে পঞ্চানন জবাব দেয়, 'তা নেবেই না হয় পাঁচ টাকা এগারো আনা। তোমাকে দিলে তো জলে পড়বে না। বসো, জিরোও, গল্প করো— অনেক দিন পরে দেখা।'

'হ্যাঁ, বসব বই-কী! বেগুনিও খাব! কাঁচালঙ্কা দিয়ে মুড়ি খেতে মন্দ না— কিন্তু কচি শশা আছে তো?'

পঞ্চানন মনে মনে মতলব এঁটে বলে, 'এতটা রোদে তিন কোশ দূর থেকে হেঁটে এসেছ, এই বয়সে এমন পরিশ্রম করা কি ভালো তোমার পক্ষে? একটা ঘোড়া রাখো না কেন? ঘোড়ায় চড়ে বেড়ালে হাঁটার পরিশ্রম হয় না, তা ছাড়া রাইডিং একটা ভালো ব্যায়ামও। দেখছ না, আমিও একটা ঘোড়া রেখেছি।'

জ্যোতিষ পঞ্চাননের ঘোড়ার দিকে দৃকপাত করে জবাব দেয়, 'বেশ ঘোড়াটি তোমার! দেখে লোভ হয়। আমিও অনেক দিন থেকে ভাবছি কথাটা। সত্যিই, এ বয়সে আর হাঁটাচলা পোষায় না। কিন্তু মনের মতো ঘোড়া পাই কোথায়?'

'কী-রকম মনের মতো শুনি?'

'এই ধরো খুব তেজী হবে না, আস্তে আস্তে হাঁটবে। এই বুড়ো বয়সে যদি ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে যাই, তাহলে কি হাড়গোড় আর আস্ত থাকবে? এবং হাড় ভাঙলে কি আর তা জোড়া লাগবে এই বয়েসে?'

'তা সেরকম ঘোড়া কি আর পাওয়া যায়? কিনে শিখিয়ে পড়িয়ে নিতে হয়। এই আমার ঘোড়াটা কী কম তেজী ছিল, অনেক কষ্টে ওকে শিক্ষিত করেছি। এখন যদি ওর পিঠে তুমি চাপো, তাহলে ও হাঁটছে বলে তোমার মনেই হবে না। এমন শান্ত, এত বিনয়ী, এরকম নম্র স্বভাব— মানে সুশিক্ষার যা-কিছু সদগুণ, সব আছে এই ঘোড়ার।'

'তা ভাই, তোমার এই ঘোড়াটির মতো শিক্ষিত ঘোড়া পাই কোথায়? আমি তো আর তোমার মতো ট্রেনার নই। তা তোমার ঘোড়াটি কত দিয়ে কিনেছিলে?'

'দাঁওয়ে পেয়েছিলাম ভাই, মোটে পনেরো টাকায়।'

'তা তুমি এক কাজ করো না, পঞ্চানন। পনেরো টাকা এগারো আনা পৌনে তিন পাইয়ে ঘোড়াটা আমাকে দাও-না কেন? তোমার তো এগারো আনা পৌনে তিন পাই লাভ থাকল, তা ছাড়া এতদিন চড়েও নিয়েছ। এই নাও দশ টাকার নোট— ধরো!'

'না ভাই, ঘোড়াটা শিক্ষিত যে।'

'আবার নতুন ঘোড়া সস্তায় কিনে শিখিয়ে নিতে পারবে— তোমার যখন ট্রেন করার ক্যাপাসিটি আছে! ছেলেবেলার বন্ধুর কাছে বেশি লাভ নাই-বা করলে। এই নোটখানা নাও, তোমার বাকি ধারও শোধ হয়ে গেল— তা নইলে ভেবে দেখ, পৌনে তিন পাই জোগাড় করা তোমার পক্ষে খুব শক্ত হত না কি?'

পঞ্চানন হাসি চেপে আমতা আমতা করে বলে, 'তা তুমি যখন এত করে বলছ। ছেলেবেলার বন্ধুর একটা কথা রাখলাম না হয়। বেশ, নাও তুমি ঘোড়াটা।'

'ভালোই হল। ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের তাঁবু পড়েছে থানায়, যাচ্ছিলাম তাঁরই সঙ্গে দেখা করতে। মনে করলাম পথে তো তোমার বাড়ি পড়বে, দেখা করে টাকাটা নিয়ে যাই। ভালোই করেছি। ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের কাছে হেঁটে গেলে কি ভালো দেখাত? ইজ্জত থাকত না।'

জ্যোতিষ বোস ঘোড়ায় চেপে থানার দিকে রওনা হলেন। সত্যি, এমন শিক্ষিত ও শান্ত ঘোড়া প্রায় দেখা যায় না। পঞ্চানন যা বলেছিল, হাঁটছে বলে মনেই হয় না; অনেক তাড়াহুড়ো দিলে এক পা হাঁটে।

এদিকে পঞ্চাননও খুশি। নিশ্বাস ফেলে বলে, 'বাঁচা গেল এতদিনে! আপদ বিদায়, সঙ্গে সঙ্গে নগদ টাকা লাভ! অশ্বমেধ করতে যাচ্ছিলাম, তা জ্যোতিষ বোসকে দেওয়াও যা, অশ্বমেধ করাও তা। পৌনে তিন পাই দেওয়া বেজায় শক্ত হত।'

কেবল গিন্নি একটু দুঃখিত। তিনি মত প্রকাশ করেছেন, 'খেতে পেত না বেচারা, তাই ওরকম ছোঁ-ছোঁ করত! ঘোড়ায় দানা খায়, ছোলা খায়, কত কী খায়— সেসব ও কখনো চোখেও দেখেনি। টর্চ খাবে, বেগুনি খেতে চাইবে, তা ওর দোষ কী! কথায় বলে পেটের জ্বালা—'

পঞ্চানন বলল, 'তাহলে ঘোড়াটার ভাগ্য বলতে হবে। জ্যোতিষরা বড়োলোক, সুখে থাকবে ওদের বাড়ি। আমরা গরিব মানুষ; নিজেদের দানা পাই না, কোথায় পাব ঘোড়ার খানা!'

হেঁটে গেলে যতক্ষণে থানায় পৌঁছানো যেত, তার তিন গুণ সময় লাগল জ্যোতিষ বোসের ঘোড়ায় চেপে যেতে। কিন্তু জ্যোতিষ ভারি খুশি। এতখানি রাস্তা তিনি অশ্বারোহণে এসেছেন, কিন্তু একবারও পড়ে যাননি, কেবল ওঠার আর নামার সময় যা একটু কষ্ট হয়েছে। ওঠার সময় তিনি টুলে দাঁড়িয়ে চেপেছিলেন। কিন্তু নামবার সময় তিনি অনেক চেষ্টা করলেন, যাতে ঘোড়াটা হামাগুড়ি দিয়ে বসে পড়ে আর তাঁর পক্ষে নামাটা সহজ হয়, কিন্তু ঘোড়াটা ঠায় দাঁড়িয়ে রইল, একটু কাত হল না পর্যন্ত। তাঁর আশা ছিল শিক্ষিত ঘোড়া তাঁর অনুরোধ রক্ষা করবে, কিন্তু ঘোড়াটা না বুঝল তাঁর ইঙ্গিত, না কান দিল তাঁর সাধ্যসাধনায়। বাধ্য হয়ে তাঁকে অনেকটা প্রাণের মায়া ছেড়েই, লাফিয়ে নামতে হল, কিন্তু সুখের বিষয় তাঁর হাড়গোড় ভাঙেনি কিংবা তিনি একটুও জখম হননি।

ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের সঙ্গে জ্যোতিষ বোসের আগে থেকেই আলাপ ছিল। জ্যোতিষ সেলাম ঠুকতেই তিনি 'হ্যালো মিস্টার বোস' বলে তাঁকে অভ্যর্থনা করে ভেতরে নিয়ে গেলেন। ঘোড়াটাকে আস্তাবলে নিয়ে গিয়ে দানা দেবার হুকুম হল আরদালীর উপর।

ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব ও জ্যোতিষ বোস আলাপ করছেন এমন সময়ে আস্তাবল থেকে এক বিরাট আওয়াজ এল— চ্যাঁ হ্যাঁঃ হ্যাঁঃ হ্যাঁঃ হ্যাঁঃ!

কী ব্যাপার? ম্যাজিস্ট্রেট এবং জ্যোতিষ দুজনেই চমকে উঠলেন। ঘোড়ার আওয়াজ বটে, কিন্তু এরকম আওয়াজ তাঁরা জীবনে কখনো শোনেননি। এমনকী, যে ঘোড়া ডার্বি জিতেছে, সেও এরকম উচ্চধ্বনি করে না। দুজনেই আস্তাবলের দিকে ছুটলেন। সেখানে তখন অনেক লোক জড়ো হয়েছে। আর ঘোড়াটা কেবল করছে— চ্যাঁ হ্যাঁঃ হ্যাঁঃ!

ঘোড়ার সামনে দু-বালতি ভরে ছোলা আর দানা সাজানো রয়েছে, কিন্তু ঘোড়াটা সেসব স্পর্শও করেনি। সে বোধ হয় তার এতখানি সৌভাগ্য বিশ্বাস করতে পারছে না। সে একবার করে বালতির দিকে তাকাচ্ছে আর তার ভিতর থেকে অট্টহাস্য ঠেলে ঠেলে উঠছে— চ্যাঁ হ্যাঁঃ হ্যাঁঃ হ্যাঁঃ হ্যাঁঃ!

কী করে ওর অট্টহাস্য থামানো যাবে সবাই দারুণ ভাবনায় পড়ল। ঘোড়ার হাসি থামানো কি সহজ ব্যাপার? কিন্তু বেশিক্ষণ মাথা ঘামাতে হল না কাউকে। চিঁ হিঁ হি হি হি হি হি!

হাসতে হাসতেই মারা গেল ঘোড়াটা।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%