জাগলার

সুব্রত গুহ

বলগুলো জাগলারের আকাশে। কোথায় যে পড়েছিলাম। কিন্তু কোথায় মনে করতে পারছি না। খুব বেশি পড়ার জন্য, অনেক সময় মনে হয় ওটা আমার নিজের। মনে হয় যেন নিজের স্মৃতিতে রয়েছে, তারই একটা অংশ। আর যখন কল্পনাও করা যায় না যে তার কাজে আসবে, অনুমান করতে পারি যে এটাকেই ব্যাগেজ বলা হয়।

আমার অবস্থা ওই জাগলারের মত, যে অনেকগুলো বল আকাশে ছুঁড়ে দিয়ে,দক্ষতার সঙ্গে এমনভাবে ঘোরাবে যে একটাও মাটিতে পড়বে না। এটা খুবই জটিল বিষয়। সবাই যে বুঝতে পারে তা কিন্তু নয়।

সব সময়েই যে পাঁচটা বল থাকবে তা নয়। থাকে না। কখনও কখনও দুটো বা তিনটে বলও থাকে। যখন আমি খুবই বেপরোয়া বা মরিয়া তখন চার বা পাঁচ। আর তুমি মিষ্টি ছেলে, তুমি হচ্ছ বল নম্বর পাঁচ। কিভাবে ব্যাখ্যা করব?

লোকেদের পক্ষে, কোন বেশ্যাকে কোনরকম ছাপ মেরে দেওয়া খুবই সহজ।কিন্তু যদি তারা দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আসে তা হলে এটা এত সহজ হত না।

আমার বয়স প্রায় একতিরিশ। বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকের, আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে একটা ম্যানুয়াল অব ইরোটিসিসম অথবা যৌন অভ্যাসের আখ্যান করতে হবে। আর বেশি কিছু বলার দরকার আছে? ঠিক এই রকম অবস্থায় আমার যৌনতা, স্যাঁকরার শিল্পের মত। হৃদয়ের সঙ্গে কোন সম্পর্ক না রাখলেও চলে। এই উপসংহারে পৌঁছতে আমি অনেক কষ্ট করেছি। যা আমাকে দেখতে করে তুলেছে শীতল এবং অত্যন্ত হিসেবী। কিন্তু এর সব চাইতে আকর্ষনীয় ব্যাপার হচ্ছে, এটা পুরুষদের জন্য দারুণ এবং চ্যালেঞ্জ পূর্ণ।

এই জীবনে যদি কিছু শিখে থাকি তা হল পুরুষরা খুবই সহজ। অবশ্যই আজ পর্যন্ত আমার শেখার প্রতিবাদ করেনি। এমনকি তুমিও না। আকাশে বাতাসে ভোগবাদ। সবাই সুখ চায়। যা সহজ, আর কেউ উপহার দিয়ে যাবে।

কেউ কেউ দাম দিতে চায় আর তখনই হয়, যত জটিলতার সৃষ্টি। আচ্ছা, এই ভোগবাদ কি সাতটা মারাত্মক পাপের মত হবে? আমি জানি না। আমি যা জানি আমার প্রতিটি আনন্দের অনুভূতির ইন্দ্রিয়কে কিভাবে সম্পৃক্ত করা যায়। আমি জানি কিভাবে নিজেকে ত্যাগ করা যায়। ঝিকমিক করা এই জলের হ্রদে পাড়ি দিতে হয়।

না প্রিয়, তুমি শুধুই একজন কবি নও।

আশেপাশের একজন বয়স্কা মহিলা বলেছিলেন, যখন আমি প্রায় কিশোর, যে, কুমারীত্ব বজায় রাখা, হাজার কারণের মধ্যে একটা কারণ। যে তুমি মিখিতা ভালবাসতে পার।তারপর সবাইকে ভালবাসবে,তুমি আর থামতে পারবে না।

হাঃ হাঃ হাঃ। কে যৌনতা ভালবাসে না। সত্যি কথাটা হল, হয় তারা স্বীকার করে না হলে ও ব্যাপারে কথা বলে না। ফলে যখন কোন একজনকে প্রাপ্তবয়স্ক বলে ধরা হয় আর সে ওই সম্পর্কে কথা বলার চেষ্টা করে তখন সে সব ধরণের অপমানের শিকার হয়। ঠিক আমার মত।

সৌভাগ্যবশতঃ ওই সময়টা যা আমাকে প্রভাবিত করেছিল, সেটি ইতি মধ্যেই ঘটে গেছে। কারণ আমি জানি যে মূলত যারা আমার সমালোচনা করেছিল, তারা সেই একই পাগলামি করবে যা আমি করেছি।

মিঠাই আমার,তোমাকে যা বলতে চাই তা হল আমার কোন অনুশোচনা নেই। এটা অন্য কোন কিছু নয়। এটাই আমার মেজাজ। আমি বেঁচে আছি। শুধু বেঁচে আছি।

অবশ্যই আমি একজন মানুষকে খুঁজে পেতে চাই যে আমাকে বুঝবে। আর আমার সব আশা পূর্ণ করবে। চেষ্টা করবে যাকে বলে একদারনিষ্ঠ। একনিষ্ঠ হবে শিশু আর ঘরের ওপর।কিন্তু এইরকম কোন মানুষ বাস্তবে নেই। এজন্যই এখানে যা দেখি তা একজন অভিজ্ঞ নারী যে তার নিজের বল খুঁজে নেয়, নির্দিষ্ট সময় অন্তর, তার জাগলিং করার জন্য।

ছিল তো সবকিছুই, আমার। জীবনের সব জীবিকার মানুষ, সামাজিক স্তর, সকল ধর্মীয় বিশ্বাস এবং রাজনৈতিক প্রবণতা। সব কিছুই। আমি প্রায় বলার সময় পেলাম ‘আমার একটা টাই চাই’। সেখানে আমি শিকারে গিয়ে ছিলাম। আর ততক্ষণ শান্তই হতে পারিনি,যতক্ষণ না আমার ঘরের কার্পেটের ওপর টাইটা না পেলাম।

এভাবেই চলছিল, যখন তোমার সঙ্গে পরিচয় হল। তখন বিরক্তিকর ভাবে চলছিলাম। যেন সব বলগুলো আকাশে,একজন উকিল,একজন ডাক্তারি ছাত্র, ইন্সিওরেন্স সেলসম্যান, আর একজন সাংবাদিক।

সবাই একসঙ্গে হয়ে ভাল কিছুই হয়নি। এটা আরেকটা বড় ঝামেলা। অধিকাংশ মানুষই, যারা আমাদের চারপাশে আছে, যখন অনুভব করবে, এর কোন সংস্কার নেই, কোন সীমা নেই তখনই কোন সম্মান দেবে না। আমার মনে হয় সাইকো অ্যানালিসিসের জন্য এর দরকার। কারণ তারা যখন আমাকে দেখে ‘খারাপ মেয়ে’ বলে। তাঁদের মায়েরা সাবধান করে দেয় আর তারা কোন সম্মানই দেয় না।

একজন অবশ্যই সঙ্গিনী অথবা বউয়ের থেকে আলাদা। তেমন আলাদা একজন পতিতার থেকে, যে বিছানায় যাবার জন্য মাশুল নেবে। আর সেই জন্যেই পুরুষরা জানেই না, এইরকম পরিস্থিতি কিভাবে সামলাবে। কারণ একজন পুরোপুরি মাঝখানে: এই মহিলার প্রতি তার কোন দায়বদ্ধতা নেই। তোমার যা মনে হবে তাই-ই করতে পার।

তোমার দামও দিতে হবে না। ভাল লাগলে আলাদা কথা। বেশ। তা হলে তারা জানে না কি করতে হবে। বিভ্রান্ত বোধ করে। কিন্তু কে পরোয়া করে।

কোন এক বিকেল বেলায়, রেষ্টুরেন্টে বসে,একা একা খাচ্ছিলাম। তখন জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম, পার্কিং এর জায়গায় একটা গাড়ি ঢুকল আর একটি লোক, যে ধরণের পুরুষ, আমি, সেই সময় পছন্দ করতাম, সেইরকম একজন গাড়ি থেকে নামল। একজন উকিল। তার ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল আর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সম্ভাব্য স্থিতিশীল অংশীদার হিসাবে। খুব সুন্দর সেজে এসেছে আর তার হাতে একটা গোলাপের ঝাড়।

আমায় স্বীকার করতেই হবে, যে এক মুহূর্তের জন্যও ভেবেছিলাম যে ওনার পেছনে যাই। আর মনে হয়েছিল ফুলগুলো আমারই জন্য। আমাকে খুশী করার জন্য। সেইজন্যই সে সময় আমি আমার মেক আপ, আমার চুল এইসব নিয়েই চিন্তা করছিলাম।

কিন্তু আমি খেয়ালই করিনি যে আমার টেবিল থেকে খুব দূরে নয়, একটি ছোট্ট মেয়ে একা বসে আছে। যেন কারও জন্য অপেক্ষা করছে। মেয়েটি অল্পবয়সী। বাইশ বছরের বেশী হবেই না। সুন্দরী, তরতাজা, অপাপ বিদ্ধা।

অনুমানটা ঠিকই। ফুলের ঝাড়টা তার নতুন সঙ্গীর জন্য। কয়েক মিনিট পরে, ততক্ষণে আমি সবকটা সিগারেটই শেষ করেছি। যে কটা কাছে ছিল। সে কিন্তু ঠিক নজর করেছে যে আমি আছি।শূন্য মনে হচ্ছে। কি করব বুঝতে পারছি না। আমার মনে হয়, শুক্রবারের জাগতিক সঙ্গ, ঠিকঠাক রাখার জন্য কিছু কথা বলা দরকার। কিন্তু তার মানে আমাকে তার বান্ধবীর সঙ্গে পরিচয় করতে হবে।

সেই জন্য বিলটা দিয়ে দিলাম। বেরিয়ে পড়লাম। কান্না? না। ওসব পেছন ফেলে এসেছি। এই মুহূর্তে যা চলছে, বলগুলো আকাশে। আর এটাই জাগলিং এর গোপন রহস্য। কোন একটার ওপর নজর রাখতে পারবে না, তা হলে বাকীগুলো পড়ে যাবে।

অফিসে ফিরে এসে তিনজন লোককে ডাকলাম। কারুকেই পেলাম না। এটা খুব বাজে ব্যাপার, তার মানে রেসিপি কাজ করেনি। হঠাৎই আমার মনে পড়ে গেল সেই দিনের সেই ডাক্তারির ছাত্রের কথা। ওকে তো ফ্যাসানেবল কাফেতে পাওয়া যাবে। সুতরাং আর কি। আমি বেরিয়ে পড়লাম, মাথায় রাগ নিয়ে। সমস্ত নিষ্পাপ মেয়েদের বিরুদ্ধে, যারা হাতে গোলাপ ফুল নিয়ে আছে।

পাতোখো, ওখানে নেই, তবে ওখানে প্রচুর লোক ছিল। প্রচুর উদ্দীপনা চারপাশে কারণ ওই সন্ধ্যায় কোন এক লেখকের, কবিতার বইয়ের উদ্বোধন হবে। ওই সন্ধ্যা কত সুন্দর ছিল মনে পড়ছে। এইভাবেই তো আমাদের পরিচয় হয়েছিল। কারণ তুমি ওই ডাক্তারি ছাত্রের বন্ধুদের একজন। আমরা একই টেবিলে বসেছিলাম। তোমাকে আমি বলতে পারি যে এটা অন্য কোন মাত্রায় বা ডাইমেনশনে প্রবেশের মত।

তুমি জান যে আমি কোনকালেই না,এখনও না,আগে কবিতার ব্যাপারে ছিলাম না। অথবা যা কিছু পরিবেশ নিয়ে ব্যাপার। কিন্তু তুমি একেবারে হলে মাছটির মত। তুমি আদর্শ কবি। লম্বা চুল, দাড়ি, জাতিগত জামাকাপড়।

আমার মনে হয়েছিল, তুমি কোমল মুখ বিশিষ্ট আকর্ষনীয় ব্যক্তি। তার মধ্যে খারাপটা ছিল তোমার বয়স। আমি এমনকি কল্পনাও করেছিলাম। যে একটি নিষ্পাপ ছোট্ট মেয়ে হাতে গোলাপ, তোমার কনে হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছে।

এখন ঠাণ্ডা মাথায় এটার সম্পর্কে চিন্তা করে, মনে করি যে এটা এক রকমের প্রেরণা ছিল। তোমাকে বুঝতে হবে,যতবার আমি কোন পুরুষকে জয় করতে যাব, ততবারই একটা কারণ থাকবে। অনেকটা নিজেকে সন্তুষ্ট করার মেজাজ। ক্ষেপে যেও না। এটাই সত্য।

ওইদিন ভাবছিলাম, সমস্ত, হাতে গোলাপ রাখা, নিষ্পাপ মেয়েদের প্রত্যেকের সঙ্গে সঙ্গম করব। এবং তোমাকে জয় করার জন্য লাফিয়ে উঠে ছিলাম। ব্যাপারটা অত সোজা ছিল না। তোমার অনাগ্রহ আমাকে উত্তেজিত করেছিল। যেমন গানটাতে বলা হয় ‘যত তুমি বাঁধা দেবে,মেয়ে তত হয়ে যাই উন্মুখ’।

অবাক কাণ্ড। তোমার বয়সে তুমিই প্রথম পরিপক্ক মানুষ ছিলে। আর যার সঙ্গে প্রথম মোলাকাত হয়েছিল। খুব সাবধানী আর গম্ভীর ছিলে। আর আমাকে বিশ্বাসও করনি।

সৌভাগ্যক্রমে এই গল্পটা থেকে, ভাল জিনিস হল, আমার আক্রমণের ফলে আমি বিভিন্ন, গভীর এবং আন্তরিক বন্ধুদের একটি গ্রুপ খুঁজে পেয়ে ছিলাম। যাদের সঙ্গে অনেক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত কাটিয়েছি।

এত ভাল সময় কাটিয়েছি, যে মনেই নেই তোমাকে জয় করার জন্য ওখানে ছিলাম। তোমার বন্ধুরা এত বিস্তৃত আর আধুনিক, যে তারা মনেই করে না যে বয়সের পার্থক্য,কোন সম্পর্কের মধ্যে,সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, সুতরাং তারা খুশী মনেই, তোমার আমার সম্পর্ককে মেনে নিয়েছিল। আর আশা করেছিল সমাপ্ত হবে সুখে।

যাই হোক তুমি তো সিদ্ধান্তই নিতে পারনি। আমি যেমন আমার শ্রেষ্ঠ কৌশলগুলি ব্যবহার করেছিলাম।তুমি তেমনি নিজের জগতে মগ্ন ছিলে। তাই আমি জানতাম যে বোকা লোকেদের জন্য ওইসব সস্তা কৌশল, তোমার কাছে কোন দামই পাবে না।

তাই এই প্রথমবার, আমি আমার অনুভূতি দিয়ে পরিচালিত হলাম এবং তোমার জগতে ঢুকে পড়লাম। তুমি তো আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে, তোমার অনেক কিছু আমার সঙ্গে ভাগ করে নিলে। সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ আমাকে যথার্থ মূল্য দেওয়া হয়েছে। এইসব সত্ত্বেও অ্যাঞ্জেল, আমি তোমাকে জয় করেছিলাম। তুমি জান এটাই চলতি।

আমার মনে হয় তোমার জানার দরকারই নেই, যে আমি আরও চারজনের সঙ্গে জড়িত। এমনকি, নিষ্পাপ মেয়েটি যার হাতে গোলাপফুল, তার ওই আইনজীবীর সাথেও। তাকে ক্ষমা করার জন্য, সবকিছু করেছিল। এটাও একটা প্রধান খেলা।

মুখেই বলেছিলাম তাকে ক্ষমা করেছি। ভেতরে ভেতরে তাকে ঘৃণা করেছি আর বিদ্রূপ করেছি। মজা করেছি। আমি অন্য লোকের কথা চিন্তা করছিলাম, যখন বিছানায় গেলাম তখন তোমার কথা ভাবছিলাম।

তোমাকে নিয়ে অনেক অলীক কল্পনাও করেছি। তোমার পাতলা সুগঠিত শরীরের কথা চিন্তা করি। অনুভব করি তোমার নরম বাহু, পেট ও শরীরের অন্যান্য অংশ। আর থাকতে পারছি না। তোমাকে নিয়ে, আমার কল্পনাকে বাস্তব করতে হবে। আর কিছু না।

তুমি তোমার সময় নিয়ে চলেছ। কিন্তু, তুমি তো আমাকেই চাও। আমার জন্য অপেক্ষা করছ। আমার পাগলামিতে আমি বুঝতেই পারিনি এ সবের মানে কি।

তারপর তোমার বন্ধুদের একজন, ওই ডাক্তারির ছাত্রের একজন বন্ধু, আমাকে এক সাংবাদিকের বাহুলগ্না হয়ে দেখেছিল কোন এক ককটেল পার্টিতে। সে আমার সঙ্গে এমন ব্যবহার করল যেন আমি তার সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছি। এইসব সময়ে আমি মুখটা অন্যরকম করে রাখি। একটু হেসে তার দিকে যেতে চেষ্টা করলাম কিন্তু সে আমার দিকে পিছন ফিরে চলে গেল।

পরে আমাকে খুঁজে বার করে, জানতে চাইল, এটা কি খেলা। আমার কিন্তু বেশ ভাল লাগল যে অন্ততঃ একজন ভাল বন্ধু আছে। খুব শান্তভাবে বোঝালাম, যে তোমার সঙ্গে কিছুই হয়নি। এমনি আমরা চুম্বন পর্যন্ত করিনি। কিছুই না। এমন কি ভেবেছিলাম এই সম্পর্কে কোন আগ্রহই নেই। তোমার বন্ধুর কি রাগ। চিৎকার করে বলল তুমি কি বোঝ না ‘এম’ তোমাকে ভালবাসে। শুধু তোমার জন্যই বেঁচে থাকে। সে আর কিছু চায় না, একটা গুরুতর সম্পর্ক চায়।ও বলল, উফ্‌, আমার মত লোকের সঙ্গে গুরুতর সম্পর্ক মানে, সেটা দূরবর্তী এবং শীতল প্রতিধ্বনি।

তোমার বন্ধু বারবার ব্যাখ্যা করেছিল, যে তোমার ছোট্ট জীবনে এখনও পর্যন্ত কোন প্রাপ্ত বয়স্ক বান্ধবী ছিল না।আর সেই শক্তখোলা ভেদ করে তুমিই সবার ওপরে। বুঝতেই পারিনি যে কোথায় পৌঁছেছি। মনে হয়েছে ‘এমনিই পড়েছে’। আমাকে এমনও বলল যে যদি কোন উদ্দেশ্য না থাকে তাহলে আমার থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা করতে।

আমার আকাঙ্ক্ষাকে যা চাইছিলাম, তার জন্য খুবই উত্তেজক চেহারা হয়েছিল। তুমি তো জোন এ এক একটা পচা অ্যাপার্টমেন্ট থাক। যতসব নোংরা, পুরনো বাতিল আবর্জনা, একগাদা বই, চারদিকে ছড়ান। একটা ছাদ আছে, সেটাতে কাপড় শুকোতে দেওয়া হয়। ঐতিহাসিক কেন্দ্রের জন্য সুন্দর দৃশ্য।

‘একটা নিখুঁত দৃশ্যকল্প’। অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণভাবে ভাবলাম। বিশেষতঃ যখন আমাকে জায়গা সম্বন্ধে বুঝিয়েছ। কিছু তুমি ব্যবহারটা করেছ অদ্ভুত। আমার মুখের দিকে তাকালে না পর্যন্ত। হঠাৎ যেন ঠিক করে, আমাকে সূর্যাস্ত দেখতে ডাকলে, ছাদের ওপর থেকে।

তখন তো ডিসেম্বর মাস। ঠাণ্ডা, সুন্দর হাওয়া চলছে। গলায় একটা স্কার্ফ জড়িয়ে নিয়েছি(কারও একটা দেওয়া)। আলোটা মরে আসছে। শুকনো পাতার মত হাল্কা স্কার্ফটা। হঠাৎই ওটা গলা থেকে খুলে পাখীর মত উড়ে গেল। এটা ছিল অসাধারণ। মনে হল আমার নৈরাশ্যবাদ আমাকে ছেড়ে চলে গেল।

আমি ভুলেও ভাবিনি যে ওটা কত দামী ছিল। তুমি যেমন বুঝতে পেরেছিলে যে আমার ঠাণ্ডা লাগছে, তাই পেছন থেকে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল। তোমার হাতে ছিল একটা কোঁচকানো কাগজ। আমার কানে কানে তুমি,আমার জন্য লেখা,তোমার কবিতা শোনাচ্ছিল। মনে হয়েছিল, ওটা তুমি পড়ছ।না,যখন তোমার মুখটা ছুঁয়েছিলাম, দেখেছিলাম যে তোমার চোখ বন্ধ।

আজ পর্যন্ত আমার জন্য কেউ কবিতা লেখেনি। চেয়েছিলাম যে ওই কোঁচকানো কাগজটা নিয়ে রেখে দিতে। কিন্তু বাতাস নিয়ে নিল ওটাকেও। কয়েক মুহূর্তে দেখলাম ওটা কেমন দূরে সরে গেল। তখনও তুমি আমাকে জড়িয়ে, চোখ বন্ধ করে। জানতাম যে এই সময়টা অপেক্ষার।

আস্তে ঘুরে গেলাম। আর জড়িয়ে ধরলাম তোমার গলা। শেষ পর্যন্ত চোখ খুললে আর আমার চোখের দিকে নতুন চোখে তাকালে। তোমার অভিব্যক্তি এতই সুন্দর ছিল যে ভয় লাগছিল।

তখন সেই বিকেলে আর কয়েকটা মুহূর্ত যা বাকী ছিল। আমি তোমাকে চুমু খাইনি কারণ ওটাই আমার আদত। কিন্তু আমরা চুমু খেয়েছিলাম এমন ভাবে, তা ভুলেই গেছি। ধীরে, নরমভাবে, বিশ্বস্ত ভাবে। ক্ষুধার্ত পশুর মত একেবারেই নয়।

অবশ্যই আমার জাগলিং এর অন্যতম বল তুমি নও। সেটা বুঝেছিলাম ওই চুমু আর তোমার শরীরের কাঁপুনিতে। ওখানে আমি অবশ্যই তোমাকে প্ররোচিত করতে পারতাম। কিন্তু না ওটা তোমার সঙ্গে নয়।তা হলে নোংরামি হয়ে যেত। আমার সাহস হয়নি। তাছাড়া আমি তোমাকে চুম্বন করতে চাইনি। কারণ আমার ভয় হচ্ছিল,যে তাহলে তোমার মধ্যে কিছু একটা ভেঙ্গে পড়বে। তুমি তো কাঁপছিলে গাছের মত।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%