সুব্রত গুহ
বিদেশী/অচেনা এনে দাও বিপদ
তোমার পাশে থাকি সহজেই
বিদেশী অচেনা তুমি দাও হে বিপদ
তোমার রোগ করি অনুভব
নেই কিছু স্বপ্নে আমার
শুধু কুৎসিত স্মৃতি কিছু
দাও আমাকে সাগর বাতাসের চুম্বন
ইগ্গি পপ
ওই সময় আমরা তুকানাজোতে। ওখানে বিয়ার বিক্রি হয় প্রায় বালতির হিসাবে। প্রথম দুটো পুরিয়া কেনার পর আমি ওয়েটারকে ডাকলাম, যাতে সে আরও দুটো প্লাস্টিকে মোড়া পুরিয়া নিয়ে আসে। অল্প কথায় বলা যায় যে খুবই ভাল জায়গা।
আমার সঙ্গীদের মধ্যে দু’জন দুটি মেয়েকে নিয়ে ঘুরছে। ওইসব মেয়েদের ও রকম জায়গায় প্রচুর দেখা যায়। তাছাড়া ওখানে বেশ কিছু মোটা মোটা বুড়িরা ছিল যারা ছেলেদের মত সাজ পোষাক পড়ে থাকে। অবশ্য তাদের মধ্যে কেউ কেউ খুবই আকর্ষনীয়। যেমন ওই সোনালী চুলের মহিলা, যিনি আমাদের সঙ্গে বসে আছেন। তিনি আমাদের তার অসাধারণ সিলিকা ইমপ্ল্যান্ট দেখিয়েছিলেন। তার সঙ্গে আমরা খুনসুটি করছিলাম, যাতে তিনি আমাদের বিয়ারে আমন্ত্রণ করেন।
সকাল পাঁচটায় মিউজিক বন্ধ হল, তারপর তারা শুরু করল দোকান বন্ধ করতে। চারপাশে অন্য যেসব ক্লায়েন্ট, যারা ছিল, তারা রাগের সঙ্গে ফিসফাস শুরু করে দিয়েছিল। অভিশাপ দেওয়া শুরু করেছিল, ভগবানকে কেন পরদিন সূর্য উঠল। তার মাঝখান দিয়েই আমরা বেরিয়ে এলাম।
দু একটা বোতল ভাঙার শব্দ শুনতে পেলাম। তাছাড়া হঠাৎই কিছু লোকের মধ্যে মারপিট শুরু হল বেরোনর মুখটাতে। ইতিমধ্যে আমরা ছ’জন রাস্তায়, কারণ সঙ্গে ওই দুটি মেয়েও আছে। ট্যাক্সিতে উঠে পরলাম।
আমরা অন্য একটি নাইট ক্লাবের দিকে রওনা হলাম, যেটা তখনও খোলা থাকে। কয়েকটা মোড় পেরিয়ে যাবার পর, আমরা একটা জায়গার সামনে থামলাম। নিয়ন লাইটের আলোতে জায়গাটা উজ্জ্বল। জায়গাটার যে কি নাম, তা আর এখন আমার মনে নেই। কারণ তখন আমি একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম।
সাধারণত এই রকম অনুভূতি ভোরের দিকেই হয়। সূর্য ওঠার সময়ে বা একটু আগে। সব চাইতে বড় কারণ, অত্যাধিক মদ খাওয়া আর মাতাল হয়ে যাওয়ার জন্য। এমনই এক অবস্থার সৃষ্টি হয়, যার ফলে জায়গার নাম, বা বিষয়গুলোর নাম কিছুই খেয়াল থাকে না। আসলে তখন এগুলো কোন ব্যাপারই না। একটা ব্যাপারই আকর্ষনীয় তা হল একটা অমর জায়গা খুঁজে পাওয়া ... যার আলো বন্ধ হয়না, ড্রাগ শেষ হয় না।
আমরা একটা লম্বা ঘেরা জায়গায় ঢুকে পড়লাম। অন্ধকার শ্বাসনালীর মত তলাটা। ওখানে অনেকগুলো টিভিতে একই পর্নোছবি দেখাচ্ছিল। ওগুলো আশেপাশের টেবিল আর নাচের জায়গাটা ভরে দিয়েছিল আলোতে।
ওখানে বেশ কিছু মহিলা ছিল। কয়েকটা বিয়ারের পর এক শ্যামাঙ্গী সুন্দরীর সঙ্গে যৌনদৃশ্য আমাদের টেবিলের সামনে, পর্দায় চলছিল। তখন আমি একটি খুবই অল্প বয়সী মেয়ে, রোগা পাতলা শরীর, তার দিকে নজর দিলাম। অন্যভাবে বলা যায় যে তার দিকে আমার নজর পড়ল। সেই সঙ্গে আমি এও বুঝতে পারলাম যে এইভাবে দিনটা সহজে শেষ হবে না। যদিও পল অ্যান্ডারসন,ম্যাগনোলিয়াতে সাবধান করেছিল – শিশুদের সঙ্গে দেবদূত দের গুলিয়ে ফেলো না। গুলিয়ে ফেলা বিপদজনক।
ও উঠল, একজন লোকের সঙ্গে নাচতে। সেই সময় ট্র্যাকে, আর কেউ ছিল না। সে ছাড়া, তার মধ্যে একধরণের তাচ্ছিল্য, অনীহা যা তাকে অন্য ধরণের ঔজ্জ্বল্য এবং শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিল আশেপাশের অন্যদের থেকে। তার শরীরের আন্দোলন, তার চেতনা সৃষ্টি করার জন্য, এমনভাবে চিত্রিত ছিল, যে একমাত্র সঙ্গীতের মাধ্যমেই রয়েছে তার অস্তিত্ব। নাচের ওই মঞ্চ থেকে পুরো জায়গাটা পর্নোমুভিতে আলোকিত।তা ছড়িয়ে গেছে আমার ওপর দর্শক হিসাবে।
একজন ওয়েটারকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম, মেয়েদের সঙ্গে শোওয়ার, আলাদা কোন জায়গা আছে কিনা। সে জানাল, না। কিন্তু কিছু মেয়ে আছে যারা ক্লায়েন্টদের সঙ্গে বাইরে যায়। একজন পুরুষবেশী সুন্দরীকে ডেকে দিতে বললাম। কিছুপরে সে একজনকে নিয়ে এল। তার নাম সিনতিয়া।
জিজ্ঞাসা করলাম কত লাগবে। মেয়েটি বাইরে যেতে রাজী নয়। সে বাইরে যায় না। তখন সে আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলল, যারা বাইরে যায়।কিন্তু বোধহয় সুবিধা হল না। বেশ কয়েকটি বিয়ারের পর,তাকে বারবার অনুরোধ করলাম, যাতে সে শুধু সঙ্গে থাকে, সঙ্গী হয়ে। সে মেনে নিল, প্রস্তাবটা।
সে আমাকে বোঝাল, এই মুহূর্তে এখান থেকে বেরিয়ে গেলে আড়াই শো খরচা হবে, আর যদি বন্ধ হওয়া অপেক্ষা করি, তা হলে ওই টাকাটা বাঁচানো যাবে। আর দুজনেই একসঙ্গে বেরোতে পারব। এরপর মেয়েটি চলে গেল। কটা বাজে তার কোন হিসাব মনে নেই।
কিন্তু টেলিভিশনে নতুন ছবি শুরু হতেই ‘আবার সেই বড় বেশ্যা’ আমার সঙ্গীর মনে হয়েছে বাইরে সকাল হয়ে গেছে।
ওখানে তখন আমি একাই। বিয়ারের তলানিটুকু গিলে নিতে নিতে, সিনতিয়া এসে পড়েছে। তার প্রশ্ন – আমার কোন বদ অভ্যাস আছে কিনা। প্রশ্নটায় আমি একটু অবাকই হলাম। কারণ এই ধরনের প্রশ্ন কেউ করে না। একমাত্র পুলিশ যদি ধরে, বিশেষত যখন তারা প্রান্তিক ঘরে হঠাৎ করে রেইড করে।
ঠিকঠাক উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। আমি দশ বছরের হারানো মাদকাসক্ত। হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম, রিহ্যাব সেন্টারে ছিলাম, এমনকি কারাগারেও। আর যখন আমি ঘোরে থাকি,তখন শিশু যীশুরও কুমারীত্ব, আধখানা হাসিসের জন্য বেচে দিতে পারি।
অবশ্যই ওকে যা উত্তর দিয়েছি তা এটা নয়। তারপর হেসে বলেছি যদি কোনও ড্রাগ না পাওয়া যায় তা হলে, একটু কোকেন হলেই চলে যাবে। সে তখন বলল তার কাছে একটা পুরিয়া আছে। দেখছি যদি আরেকটা পাওয়া যায়। আমার দিকে থেকে তাকে জানালাম, দেখি যোগাযোগ করতে পারি কিনা।আমার কাছে দুটো আছে। যেমন বলা হয়ে থাকে কিছু না থাকার চাইতে যা আছে তাই ভাল। ড্রাগ হচ্ছে পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র জিনিস, যার কখনই কোন অবশিষ্ট থাকে না।
একটু পরেই সে দুটো পুরিয়া নিয়ে এল। আমাকে একটু অপেক্ষা করতে বলল,কারণ জায়গাটা বন্ধ হতে যাচ্ছে।আমরা চুপচাপ বেরিয়ে এলাম। সিনতিয়া কোন একটা ঘরে চলে গেল, যেগুলোর অবস্থান নিচে।
এক মুহূর্তের জন্য মনের মধ্যে ভাবনা এল: কি করছি? এমন একটা জায়গা যেটা চিনি না। এমন একটা দেশ যেটা আমার নয়। প্যান্টের পকেটে দুটো ঝিঁ ঝিঁ পোকা (পুরিয়াকে আমরা এই নামেই ডাকি)। আশেপাশে কোনো বন্ধু নেই।
সন্দেহ নেই, প্যারানয়েড পথগুলো গভীর এবং দুর্বোধ্য। বেশ, নিজেই নিজেকে বললাম, এই মেয়ের জন্য ঝুঁকি নেওয়াই যায়। প্রবাদেও তো বলে একদিন রঙিন ভাবে বাঁচা, শত বিবর্ণ বছরের বাঁচার চাইতে অনেক ভালো আর আকর্ষনীয়। সামনের চেয়ারের ওপর পা টা তুলে দিলাম।এবার আরাম।
বেশ ভালো... বেশ ভালো সময় পরে সিনতিয়া এল জ্যাকেট আর পার্স নিয়ে। বাইরে সূর্যের চোখ ধাঁধানো আলো। ট্যাক্সি নিয়ে একটা অটো হোটেলের কাছে চলে এলাম। ওটা সিনতিয়ার জানা। আর খুব দূরেও নয়।
ঘরে ঢুকে পুরিয়া চারটে বিছানায় রাখলাম। তারপর তাকিলা আর সোডার অর্ডার দিলাম। প্রথম পুরিয়াটা শেষ করার পর সিনতিয়া বলল যে ওর অনেক বেশি ভালো লাগে এটা দিয়ে ধূমপান করতে।
এর কথা শুনে বুঝলাম যে পৃথিবীটা খুবই ছোট। অথবা জগতে যত খ্রীষ্টান আছে, তার চাইতে অনেক বেশি কোকেনসেবী আছে। একটা সিগারেট নিলাম কিছুটা তামাক বার করে ফেলে দিলাম। ফিল্টারটা ছিঁড়ে, সিনতিয়া যে লাইনটা তৈরি করেছিল তা টেনে নিলাম।
এইভাবে বেশ কিছুক্ষণ ধরে ধূমপান করতে থাকি। তারপর একে অন্যের জামাকাপড় খুলতে থাকি। ওর শরীরটা অসাধারণ। শৈল্পিক পা, কিশোরীদের মত স্তন। তার কমনীয় হাত, কোমল আঙুল, যা ধরে আছে কোকেন ভরা সিগারেট। বাচ্চা মেয়েদের মত নরম ঠোঁট। ওর মধ্যে রয়েছে একটা বন্য প্রেমিক ভাব। একটা শিশুর মিষ্টত্বের মিশ্রণ, যা দেখলে নবোকভ বা অ্যালান বলের জিভ দিয়ে জল গড়াত... একাধিক জায়গায়।
চারটে পুরিয়া শেষ হয়ে গেলে ও আমায় জিজ্ঞাসা করল যে আমি কিছু হাসিস নিতে চাই কিনা। স্বাভাবিক ভাবেই আমি হ্যাঁ বললাম। ও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই, ওর ব্যাগের মধ্যে একটা ঠিকানা লেখা বই খুঁজতে শুরু করে দিল। বাতিরি নামে একটা বারের নম্বর বার করে শুরু করল ডায়াল করা।
পাঁচ মিনিট পরেই কারমেন নামে এক মহিলা তিনটে টুকরো নিয়ে এসে হাজির। এরা যে কোন ফাস্ট ফুডের দোকানের হোম ডেলিভারির সঙ্গে টক্কর দিতে পারে। আমি কল্পনা করছিলাম যে এরা টেলিফোনে কি উত্তর দিতে পারে: শুভ সন্ধ্যা, অর্ডার পেয়েছি। পাঁচ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবে। না হলে, ওগুলি আপনাকে ফ্রি’তে উপহার দেওয়া হবে।
সিনতিয়া একটা খালি টিনের কৌটোর ফুটো খুলে তার ওপর রাখল সিগারেটের ছাই। আধখানা ক্র্যাক ভেঙ্গে তার ওপর দিয়ে দিল। তিনবার আগুন ধরাবার পর টিনটা আর লাইটারটা এগিয়ে দিল আমার দিকে। অন্য একটা ক্র্যাকের টুকরো বসালাম। আগুন দিয়ে শ্বাস নিতে শুরু করলাম।
অনুভব করছি কি অপূর্ব এই ধোঁয়া যা ঢুকে যাচ্ছে আমার ভেতরে। নিয়ে যাচ্ছে একটা তীব্র বিষ মাথার ভেতরে – ব্রেনে। প্রত্যেকবারের মত এবারেও সেই একই অনুভূতি।এক অসাধারণ তীব্র সুখ,গ্রাস করছে আমাকে।
আরও একবার, কয়েক মুহূর্তের জন্য, আমি অসীমের ভগাঙ্কুরে হাত বোলাতে পারি সোহাগ ভরে। কিন্তু বাস্তব ছবি অন্যরকম। এক সুন্দরী কিশোরী সস্তার এক হোটেলের বিছানায় পা ফাঁক করে আছে।
এইভাবে আমরা তিনদিন কাটিয়ে দিলাম, ওই ভাড়া নেওয়া ঘরে বন্দী অবস্থায়।এই কদিন কিছুই খাইনি। বিয়ার আর তাকিলা ছাড়া। কোথাও যাইও নি। কারণ প্রায়ই রুম সার্ভিসকে বলে ক্র্যাক আনিয়েছি।
প্রথম দশটার পর আমি আর গুনতে পারিনি, সিনতিয়ার সঙ্গে ক’টা খাচ্ছি বা খেয়েছি।
অবাস্তবতার ভাব পুরো অভিজ্ঞতাকে জড়িয়ে ধরেছে। কারণ চব্বিশ ঘন্টার ওপর খালি মদ্যপান আর ড্রাগস নেওয়ার পর আর কোন হুঁশ থাকে না। পরবর্তীকালে এগুলো সব একে অন্যের ঘাড়ে চেপে একটা জগাখিচুড়ি। লাস ভেগাস থেকে চলে যাচ্ছি ফাইট ক্লাব, আর চং এর সিনেমা। সব ছেড়ে যাওয়া দৃশ্যের মত, যে সব অতীত স্বপ্ন, মহিলাদের সঙ্গে কিছু পর্ব, বাস্তব জীবনের পরিস্থিতি ইত্যাদি। এই সবই পূর্ব অভিজ্ঞতা, দূরপনেয় আঘাত, যা স্মৃতির সংজ্ঞাকে তুলে ধরে, যা দিয়ে স্বপ্ন তৈরি হয়।
ভাল ব্যাপারটা হল ১) ও, হ্যাঁ, সিনতিয়ার সঙ্গে ভালবাসতে বাসতে (আমার কেমন যেন মনে হচ্ছিল হিংস্র অভিনেতার মত। যখন এশিয়ার শরীরে ঢুকছে ট্রেসি লর্ডের মত যে তখনও ছোট ছিল।)
২) ওর চুম্বন এল, ক্র্যাকের ধোঁয়ার মধ্যে যা ঢুকে গেছে ওর শরীরের মধ্যে। যা তখন ঢুকছে আমার মধ্যে। এটা ঠিক সেই একই শুক্রানু অথবা সেই একই ঈশ্বর যিনি আমাদের দুজনের মধ্যে ঢুকেছেন সেই একই রাগমোচনে।
৩) পেন দিয়ে নতুন একটা লাইন আঁকল, আমার শরীরে যার মানে বোঝা অসাধ্য। (নতুন, কারণ আমার হাত বুক পিঠ উপজাতীয় ট্যাটুতে ভরা) আমাদের হ্যালুসিনেটকে পিটার গ্রীন ওয়ের সীনে বদলে দেওয়া।
৪) যে ছবিটা সিনতিয়া তৈরি করেছে, নাইট টেবিলের ওপর রাখা, বিজ্ঞাপনের জন্য টয়লেট পেপারে আগুন জ্বালিয়ে, অদ্ভুত। জ্বলন্ত ছবিগুলো ঘরের কার্পেটের ওপর পড়ছে।
আগুনের শিখা খুব ধীরে, স্লো মোশনে ওপরে উঠছে। জড়িয়ে ধরছে টিনটাকে যেটা এতক্ষণ স্মোকিং পাইপের কাজ করছিল।তার চারপাশে ক্র্যাক এর রেজিন লেগে রয়েছে ফানেল জুড়ে – গ্রিপার – সাকশন নজল।
ডায়ালগ: সিনতিয়া: এই তুমি ভেতরের দিকটা টানলে না তো? পুরোটা শেষ পর্যন্ত খাওয়াটাই ভাল।
এসতুয়ার্দো: এই বেশ্যা, আমি থার্ড ডিগ্রি বার্ন হয়ে যাওয়া কাগজের গন্ধ নিচ্ছি।
৫) বুঝতে পারলাম যে,যে ভুল,পুভার্ট করেছিল, মার্কুইস দে যাঁদের জীবনীতে যা কোন একটা স্ক্যান্ডালকে সম্মান জানাতে গিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। তার শিকারকে ‘ইয়ং মেইডেন্স’ বলে ডাকায়। তার যুক্তি ছিল তাতে তাদের মানসিক শক্তির নিয়ন্ত্রণ আরও বেড়ে যায়। কিন্তু অন্য জীবনীকাররা বলেন যে ওসব কিছুই নয়, আসলে অল্পবয়সীদের সঙ্গে পায়ুকাম করার সুবিধা। তারা অনেক নমনীয়।
অন্যান্য জীবনীকাররা খুব ভালভাবেই জানে যে অল্পবয়সীদের শরীরে পায়ুর স্থিতিস্থাপকতা, যেমন সিনতিয়ার, পুভার্তের থেকে অনেক বেশি। স্বর্গে যাবার একটাই সহজ রাস্তা আছে, সেই অল্পবয়সীদের সংকীর্ণ এবং আঁটসাঁট মলদ্বার।
খারাপ: কিছুক্ষণ চুপচাপ,কথা না বলে,শুয়ে থাকা বা নড়াচড়া না করা। চোখ বন্ধ করে অনুভব করছিলাম, কি ভাবে জেগে থাকাটা তন্দ্রায় বদলে যায়। ঠিক কিছুক্ষণ পরেই জেগে উঠে শ্বাসকষ্ট। মনে হচ্ছে অজ্ঞান হয়ে যাব, হাওয়ার অভাবে। কিন্তু পৃথিবীতে এমন কোন কিছু সমস্যাই নেই, যা কোন নগ্ন মেয়ে আর একটা ছোট তাকিলা সমাধান করতে পারেনা।
জানিনা কটা হাসিসের পুরিয়ার প্রভাব অথবা প্যারানয়েড সাইকোসিস আমার মধ্যে চলে এসেছে। শুনতে পাচ্ছিলাম কিভাবে পুলিস দরজা খুলে আমাকে বন্দী করবে তার প্রস্তুতি নিচ্ছে। (শুধুই আমাকে, কারণ সিনতিয়া চট করে মাদকাসক্ত থেকে মাদকবিরোধী এজেন্টে বদলে গেল)
কয়েক সেকেন্ড পরেই তারা ঘরের মধ্যে।তাদের বুঝতে পারছি,লুকিয়ে রয়েছে আক্রমণ করার অপেক্ষায়। পর্দার পেছনে খুঁজছি পাগলের মত। বিছানার তলায়। বাথরুমে। এমনকি কমোডের ভেতরে। কিচ্ছু নেই। কোথাও নেই। কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছি না। যখন এই দিকে খুঁজছি ওরা তখন ওই দিকে, অন্য দিকে লুকিয়ে পড়েছে। যতক্ষণ না ওরা আমার নজরের মধ্যে আসছে কিছু করতে পারছি না। কিন্তু ওরা বড় পিচ্ছিল। ঠিক নজরে রাখতে পারছি না। আমি যত তাড়াতাড়িই করি না কেন।
ঘর থেকে লুকিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। যাতে শেষ ছ’ঘন্টার পয়সা দিতে না হয়। তার কারণ আর পয়সা নেই। শেষ যে দু’শো পেসো ছিল, তাও শেষ করেছি ছ’টা ক্র্যাকের পুরিয়া কিনতে।
তিনদিন পরে ফিরে আসার পর, জানতে পারলাম যে আমার সঙ্গীরা পিজিআর এর কাছে ‘মিসিং’ হিসাবে রিপোর্ট করেছে। তাছাড়া প্রত্যেকে চেনা, অচেনা, ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যারাই অংশগ্রহণ করেছিল, সবাই আমার এই রহস্যজনক অন্তর্ধান সম্পর্কে জেনে গিয়েছিল। ব্যাপারটা মোটেও আনন্দদায়ক ছিল না।
কুৎসিৎ: এই ধরণের অভিজ্ঞতাকে কুশ্রী বা কদাকার এইভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে। আগে বা পরে যাই হোক এই ধরণের ঘটনার শেষ হওয়ার দরকার। আমাদের তো অনেকরকম কল্পনা বিলাস আছে। মিষ্টি প্যান্টি কিনতে গেলে, তার বাইরে বেরোতে ঠোঁট চাটতে থাকি। পাশাপাশি নতুন সেলফোন যোগাযোগের জন্য কিনতে, তারা টয়লেটে গিয়েছিল, যখন আমি বলেছিলাম আমার মুখেই সারতে।
কোন অল্পবয়সী সুন্দরী তরুণীর সঙ্গে, পাগলের মত আবদ্ধ হয়ে থাকা, মাতাল হয়ে যাওয়া, উপচে পড়া পর্যন্ত মদ খাওয়া, এগুলো সবই স্বর্গ বা স্বর্গের খুবই কাছাকাছি।
স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার পর, তখন বুঝতে পারা যায় কি বিবর্ণ, মাধুর্য্যহীন নীরস প্রতিদিনের বাস্তব।
“লা নো সে কে পুতাস–এন নুমেরোস রোমানোস” – গুয়াদালাহারা বইমেলা
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন