পিঠ ঠেকে গেছে দেওয়ালে

সুব্রত গুহ

আমরা হাজার শয়তানের উত্তাপ সহ্য করে রয়েছি। যেমন তেষ্টা পেয়েছে তেমনই ভেতরটা পুরো শুকিয়ে গেছে। রাফায়েলের জন্য অপেক্ষা করছি। কখন এসে বলবে যে এবার আমরা যেতে পারি, স্মাগলারদের সুড়ঙ্গে। যা সান ইসিদ্রোকে তিখুয়ানাকে আলাদা করেছে, সেই দেওয়ালের নিচে।

চারটে লোককে একটা ট্রেনের ওয়াগনে আটকে রাখা সহজ নয়। ছাদে মরা ইঁদুরের দুর্গন্ধে ভরা ওয়াগন। রিকার্দো আর আমি ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল রেসলিং এক চ্যাম্পিয়ন, অন্যান্য চ্যাম্পিয়নদের সাথে।

প্রথম এবং দ্বিতীয় ধ্বংসকারী (demolishers), যাদের মিলিত ওজন এই ব্যাংকের পাঁচশো পাউণ্ড ওজনের ভল্টের থেকে বেশি। অক্সিজেন প্রায় ফুরিয়ে আসছে। এদের চুপ করে থাকতে বলা বৃথা। অত জোরে কথা না বলতে বলার কোন মানেই হয়না। শুধু শুনতে হবে রাফায়েল আসছে কিনা, আমাদের নিয়ে যেতে।

হেনরি,প্রথম ধ্বংসকারী,এক কথা,বারবার বলায় তার কোন ক্লান্তি নেই। সে আবার এটা করবে যাতে তারা তাকে সম্মান করে। আমাদের ঠাট্টা না করে, গারসন দ্বিতীয় জন তার কান্না শেষ করেছে।

সম্প্রতি মেক্সিকালিতে সে যখন তার প্রদর্শন শেষ করেছে, সেই সময় কেউ একজন ফোন করে তাকে বলে যে তার মা মারা গেছে। অনুমতি পত্র জোগাড় করা, আরও যা যা দরকার সব ঠিকঠাক করেও সে অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ায় যোগদান করতে পারেনি। যদিও সেটা বেশ দেরী করেই করা হয়েছিল, ওর অপেক্ষায়।

রিকার্দো তার জামা খুলে, তাই দিয়ে হাওয়া খাচ্ছে। জিজ্ঞেস করল, কি হবে যদি ইমিগ্রেশন বা জুডিশিয়ারি আমাদের ধরে। আমি জানি না এই দুইয়ের মধ্যে কোনটা সব চাইতে খারাপ। আবার অন্য দিক দিয়ে দেখতে গেলে বলা যায় যে এতে গ্রেপ্তার করবে না।

একটা নোটিশ জারি করবে, যেটাতে মোস্ট ওয়ান্টেড পলাতক লেখা থাকবে। তারপর রেখে দেবে একটা আলাদা ঘরে। আর প্রথম যে ফ্লাইট পাওয়া যাবে তাতে করে গুয়াতেমালায় ফেরৎ পাঠাবে।

আমরা কি কল্পনা করতে পেরেছিলাম যে ‘ট্রিপল এ’র সঙ্গে আমাদের ট্যুর এইভাবে শেষ হবে। আমরা পালাচ্ছি অনেক লোকের থেকে যারা তিহুয়ানার রাস্তায় নেমে পড়েছিল। তাদের দাবী আমাদের চামড়া খুলে নেবে। দেশের সম্মান নষ্ট করার জন্য আমাদের হাড়গুলো চাই।মনে পড়ছে, কিভাবে এই ওয়াগনে এসে পৌঁছেছি যখন আমাদের পিঠ ঠেকে গেছে দেওয়ালে।

আমার আর রিকার্দোর আশা ছিল যে হেনরি আর গারসনকে নিয়ে কুস্তির ইতিহাসে সব চাইতে দুর্ধর্ষ জুটি তৈরি করব।আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে সবকিছু মিলিয়ে একটা নতুন গোল্ডষ্টার বেরিয়ে আসবে। শেষ গ্রেট ন্যাশনাল আইকন/ আইডল। এটা খুবই জরুরী ছিল। ওই জায়গাটা কাউকে নিতেই হবে। তারপর দেশে ফিরবে, যখন পুরো ব্যাপারটায় মেক্সিকো, আমেরিকা, জাপান চিরকাল আধিপত্য করেছে।

আমি যথেষ্ট সচেতন আর সতর্ক ছিলাম। ওইসব অবিশ্বাসী মুখ যারা রিং এর মালিক আর কোম্পানির প্রোমোটার ছিল। বিশেষতঃ যখন তাদের কাছে ঘোষণাই করেছিলাম যে আমাদের সঙ্গে কয়েকজন আছে, যারা রিং এ বিপ্লব এনে দেবে।তারপর ওই অবিশ্বাসী মুখগুলো কেমন বদলে গেল, অত্যন্ত ক্যালকুলেটিভ আর অনুমোদনে,যখন ওই দুই বিশালদেহী ঘরে ঢুকল। হেনরি তো নিচু হয়ে ঢুকল, কারণ দরজাটা অত উঁচু ছিল না। গারসন একটু ভুলো মনা বলে কপালে ধাক্কা খেল।

কিছুতেই ভুলতে পারছি না, যেভাবে জিমের মধ্যে নীরবতা ছড়িয়ে পড়ল। শরীরচর্চার যন্ত্রপাতি, যা পেশী তৈরি করছিল, সব থেমে গেল। প্রশিক্ষক, ছাত্র সবার নজর ঘুরে গেল। জল্লাদের মত যে সব মুখ, মালিকদের ঘিরে থাকে সবাইকে ওই দুই দৈত্যের কাছে লিলিপুট লাগছিল। ঠিক যেন আকাশচুম্বী বাড়ীর পাশে পুতুলের বাড়ী। ওই বিকেলেই কন্ট্র্যাক্ট সই হয়ে গেল। মঙ্গল, বৃহস্পতি, শুক্রবার ট্রেনিং হবে এই শর্তে।

প্রথম যেদিন ওরা শুরু করল, মাত্র সামান্য কিছু দর্শক ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। এমনকি যেসব বাচ্চারা লাফালাফি করছিল, তারাও চুপ করেছিল। আর লুকিয়ে পড়েছিল। যখন ওরা মুখোশ পড়ে কালো পোষাক পড়ে তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চিৎকার করে উঠল, আর সেকেন্ডের মধ্যে তারা চিৎ।

রেফারি ওদের দিকে তাকিয়ে একটু ইতস্তত করছিল। সে তিন গুনবে না আর একটু লড়াই যদি হয়। লোকেরা সিটি বাজিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল, এত সংক্ষিপ্ত লড়াই এর জন্য। একই ব্যাপার ঘটল অন্য দুটি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে। সেখানে আরও বেশী লোক হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রোমোটার তাদের স্টার ইভেন্টের জন্য প্রোমোশন দিয়ে দিল।

আমাদের দৈনিক পত্রিকা তাদের খেলার পাতায়, এক কলামের বদলে পুরো একটা পাতা জুড়ে লিখেছিল, এই দুই ডেমোলিশারের উত্থানের কথা। পুরো বর্ণনা ছিল কিভাবে তারা স্টার হয়ে গেছে।

বাইশ সপ্তাহ ধরে অপরাজিত থাকার পর,মৎস্যজীবী পালোপো জুনিয়র, সিলভার স্যাম এবং হালকন নেগ্রোর মুখোমুখি হতে রাজি হল। এদের এখন প্রচুর ভক্ত। তাদেরও একটা চাপ ছিল। সেন্ট জন যেমন যত একগুঁয়ে লোকেদের শায়েস্তা করেছিলেন, এরাও তেমনি।

প্রতিটি রবিবার আসে, আর জনগণ আশায় থাকে এইবার একটা কিছু ঘটবে। হয়ত ওরা হারবে। কোথায় কি?তিনচার জনের মিলিত শক্তিও ওদের জন্য যথেষ্ট নয়। এমনকি তাদের পিঠে চেয়ার দিয়ে মারলেও যা অথবা ঘোষকের ঘন্টা দিয়ে মাথায় মারলেও তাই। কোন কিছুই তাদের টলাতে পারে না।

বাচ্চারা তো সবসময় চাইত এদের যত কাছাকাছি যাওয়া যায়। পরিবারে কাউকে এরকম বিশাল দেহী, কোনদিন দেখেনি। রিং এ ঢোকার আগেও তারা উঁকিঝুঁকি মারত। মহিলারাও যারা ছাতাটাতা বিক্রি করত তাদের সঙ্গে কেউ নষ্টামি করলে তারাও জুতোর হীল দিয়ে প্রথম আঘাতটা হানত।

এদের খ্যাতির জন্য কুস্তি আবার ন্যাশনাল টেলিভিশন চ্যানেলে ফিরে এল। একজন প্লাস্টিকের পুতুল তৈরি করত। তার ভাগ্যই ফিরে গেল। ব্যবসাও নতুন মাত্রা পেল স্রেফ এই দুজনের পুতুল তৈরি আর বিক্রি করে। শুধু তাই নয় এদের তৈরি করা হয়েছিল ভোল্ট্রন আর তার লেসারের চাইতেও বড় করে। মুখে কালো মুখোশ তাতে সেলাই করে D লেখা। এটা অবশ্য সংগ্রাহকদের অনুরোধে বানানো।

এতদসত্ত্বেও লোকেদের মনে ঘৃণার ভাব ছিলই – যে কোন, ওদের লড়াইয়ের শেষেই রিংয়ের ওপর উড়ে আসত প্লাসটিকের কাপ,ডিস,কমলার খোসা, যেন একটা ডাস্টবিন। তবে লোকেরা ওদের মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল যখন ওরা ওয়ার্ল্ড কাপ জুড়ি সংস্করণে বিশ্ব রেসলিং কাউন্সিলের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ জিতেছিল। ওখানে ওরা নেগ্রো কাসাম আর ইখো দেল সান্তোকে হারিয়েছিল।

তাদের ওই শিরোনাম রক্ষার প্রতিদ্বন্দিতায় জয়লাভ, আরও লোকের ঘৃণা কুড়িয়েছিল। যেমন বিবি দি ক্লাউন, যে পুতুল মালিকদের একজন ছিল। বিবির কাজ ছিল বাচ্চাদের বেলুন দেওয়া। রিংয়ের ভেতরে ঢোকার আগে, তাদের হাতে একটা করে বেলুন ধরিয়ে দিত। আর ওই উপলক্ষে সে স্বাভাবিকের চাইতে অনেক বেশী উদার ছিল। ওই দুই ডেমোলিশাররা রিংয়ে ঢোকে তাদের স্বাভাবিক হিংস্রতার সঙ্গে। আর রিং এ ঢোকার সময় হাতের সামনে যত বেলুন পায় সব ফাটাতে ফাটাতে ঢোকে আর ফাটায়ও হাত দিয়ে চেপে।

বাচ্চারা সব কান্নাকাটি জুড়ে দিত, ঠিক অপরাধ না করেও বকুনি খেলে যেমন হয়। আর বাবাদের মাথা খারাপ হয়ে যেত তাদের থামাতে।

তারা একবার একটা স্ট্রেচার তুলে নিয়েছিল। কোন লোক তাদের থামাতে পারেনি। ওদিকে রুগী শুয়ে শুয়ে হাঁপাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত অনেক কষ্ট করে ওটা উদ্ধার করতে হয়েছিল। এইসব উল্টোপাল্টা কাজ, লোকেদের মনে ঘৃণা ছড়াত। আবার তাদের মতে এগুলো কিছুই নয়। ভয় দেখানো। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো টেলিভিশনেও দেখাতো।

পরের শনিবার জনগণ টেলিভিশনে রেফারিকে শাস্তির বিধান, ওদের ডিসকোয়ালিফাই করা উচিত ছিল অত্যাধিক রূঢ়তার জন্য। সেদিন রেফারি পালিয়ে বেঁচেছিল।

এই সবের ফলে তাদের তিক্ত প্রতিদ্বন্দীরা এককাট্টা হয়েছিল। ভোলক্রন এবং রে লাসের তাদের নিজস্ব ব্যক্তিগত পার্থক্য কাটিয়ে, আহ্বান করে ডেমোলিশারদের, মুখোশের বিরুদ্ধে মুখোশ খোলার লড়াই এ। সব কিছু অনুমোদিত।

চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য রিং যথেষ্ট ছিল না।শেষ পর্যন্ত যে জায়গা পাওয়া গেল তা চেয়ারে ভর্তি ছিল। গরম আর উত্তেজনায় বেশ কয়েকজন দর্শকের শরীর খারাপ হয়ে গিয়েছিল। বাইরে দুটো বিশাল স্ক্রিন লাগাবার দরকার পড়েছিল কারণ বহু লোক টিকিট পায়নি। তাছাড়া ব্ল্যাক মার্কেট ও রিসেল বন্ধ ছিলো। এটাকে বলা হয়েছিল শতাব্দীর লড়াই।

তারা দর্শকের সামনে এসে পড়েছে। কেউ কেউ পিঠ চাপড়াচ্ছে, কেউ কেউ হাততালি দিচ্ছে। সিকিউরিটিরা সবাই সবাইকে সরাতে গলদঘর্ম হয়ে যাচ্ছে।  যখন তারা পোলের উপর উঠে হাত নাড়ল, সেই সময় চারপাশ থেকে চিৎকার ভেসে আসা শুরু হয়েছে, রিং এর চারপাশ থেকে। স্ক্রিনে তখন ডেমোলিশারদের বক্তব্য দেখাতে শুরু করেছিল, তারা তখনও ড্রেসিং রুমে। তারা তাদের প্রতিনিধিদের সাবধান হতে বলেছিল, সেই সঙ্গে তারা যেন তাদের লাইফ ইন্সুরেন্স ঠিক রাখে।

জনগণের জন্য বলা হয়েছিল যে গোল্ডেনস্টার, ক্রীড়া পরিচালক এই লড়াইয়ের বিশেষ অতিথি রেফারী রূপে আসবেন। লোকেরা তাকে দেখে পাগলের মত চিৎকার করছিল। একটু ভুঁড়ি হয়েছে, অফিসে বসে কাজ করার জন্য।

রিংয়ের পাশের ডাক্তার প্রথম ডেমোলিশারের ঘাড়ের চারপাশে তোয়ালে জড়িয়ে দেওয়ার সময় ভলক্রন তার মুখোশ খুলে দেবার চেষ্টা চালালো।

বাচ্চারা রিং এর পাশে চুপ করে ছিল যাতে ডেমোলিশারদের নাম শুনতে পায়। দ্বিতীয় ডেমোলিশারের নাম গারসন আলবের্তো আলমেঙ্গর কেজাডা। পঁচিশ বছর বয়স, ভিলা নুয়েভার বাসিন্দা। আর প্রথম ডেমোলিশারের নাম হেনরি গঞ্জালো মোরাতাইয়া রামিরেজ, চব্বিশ বছর বয়স। এই দেশের রাজধানী শহরের তিন নম্বর জোনের বাসিন্দা।

পরের মঙ্গলবার কাগজে ছবি ছাপা হল। কেবল কোম্পানি দেখাল পুরো ঘটনাটা বারবার সম্প্রচারিত করে। কোনরকম কমার্শিয়াল ব্রেক ছাড়াই। তারা সম্প্রচারের আগে বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ করেছিল বাচ্চাদের উদ্দেশ্যে - যাতে তারা এই ধরণের পদক্ষেপ না করে বা অনুসরণ না করে।

কেউ একজন ওয়াগনটায় পাথর ছুঁড়ে মারল। কেউ একটুও নড়ল না। যখন আমরা বুঝতে পারছি চিনতে পারলাম রাফায়েলের সালভাদোরের উচ্চারণ। তার ওই উচ্চারণ একই আছে যদিও 20 বছর ধরে সে তিখুয়ানার অধিবাসী। ওর গলার আওয়াজ আমাদের কাছে রোদ্দুরের মত। ওর সঙ্গে ব্যাগভর্তি হ্যামকেক।

পুলিশ ইতিমধ্যেই আশেপাশের থেকে রেকর্ড করে ধরপাকড় শুরু করেছে। আমরা চুপ করে আছি। আর এক বন্ধু আসবে খুব ভোরে তারপর আমাদের টানেলের মুখে নিয়ে যাবে। সে আমাদের সঙ্গে কোনও বিশ্বাসঘাতকতা করবে না, কারণ সে প্রচুর টাকাপয়সা পেয়েছে। আসলে আমাদের কাছে কোন ডকুমেন্ট নেই। যাইহোক সে এক কথায় বুঝিয়ে দিল যে খুব ভোরে রাস্তাঘাট জনশূন্য থাকে।

ডেমোলিশাররা ফিরে আসবে এটা কেউ ভাবেনি। বাজারে গুজব ছিল যে তারা যে জুরির খেতাবটা জিতেছিল সেটা ফেরত দিয়ে খেতাবের জায়গাটা খালি করে দেবে। কিন্তু তিন মাস পরে কোন এক ফাংশনে তারা ফিরে আসার কথা ঘোষণা করে। রিং তখন প্রায় অন্ধকার হয়ে গেছে স্টার ফাইটারদের অভাবে। এমার্জেন্সি আলোগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হল। ডেমোলিশাররা আক্রমণ করেছে, ছয়জন ফাইটারকে।এইবার তাদের পোশাক হচ্ছে ক্যানভাসের প্যান্ট, স্কার্ফ, ক্যালিফোর্নিয়া বাইকারদের বুট।

বেচারি সিলভারমান, সে চলে গেল দ্বিতীয় সারির দর্শকের কাছে। আর বর্বর প্রিন্স সহজেই হেরে গেল।খুব তাড়াতাড়িই শুরু হলো কমলার খোসা বৃষ্টি আর প্লাস্টিকের বোতল ছোঁড়া।

নতুনভাবে ডেমোলিশারদের সঙ্গে চুক্তি হলো। দুমাসের জন্য। মেক্সিকো আর কোলিসেওর রিংএ। একটা ষাঁড়ের লড়াইয়ের বার্ষিকী ছিল চৌমাথার মোড়ে। তাছাড়া আজটেক নর্থ থেকে ‘ট্রিপল এ’ পর্যন্ত একটা ট্যুর ছিল। সেই সঙ্গে ছিল, জুটির চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে বেশ কয়েকজন।

মেক্সিকানরা বেল্টগুলো সঙ্গে নিয়ে যেতে চেয়েছিল কিন্তু আমরা তাদের ওই আনন্দ দিতে রাজি নই।খুব সহজেই পিয়েরথ আর রিকি সান্তানাকে হারিয়ে দিল।তাদের একটু অসুবিধা হয়েছিল আটলান্টিস ও ব্লু প্যান্থারের সঙ্গে লড়তে গিয়ে। মেক্সিকোর রিংকে বিদায় জানিয়ে দিল হেনরির সঙ্গে থাকা পোস্ট কার্ড দিয়ে, সঙ্গে তিনশো পাউন্ড রূপো।

উত্তরের সফর শুরু হল মাতা মোরোস থেকে আর শেষ হলো তিখুয়ানায়। পুরো লড়াই প্রথম এবং দ্বিতীয় ডেমোলিশারের সঙ্গে জুটির ওয়ার্ল্ড টাইটেলের জন্য। গুয়াতেমালানরা ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। তাদের লড়াই চ্যালেঞ্জার দুই মেক্সিকানের সঙ্গে আয়রন ফিস্ট এক ও দুই।

আয়রন ফিস্ট রিং এ এল গুয়াতেমালার পতাকা নিয়ে। সেটাকে সে ব্যবহার করছে তোয়ালের মতো। কখনো মুখ মুছছে, কখনও গায়ের ঘাম। এসব করেছিল খুয়ারেজে। নোগালেসে জুতো মুছেছিল, মেক্সিকালিতে থুতু ফেলেছিল।

তিখুয়ানাতে মেক্সিকোর পতাকা দোলাতে দোলাতে রিং এ ঢুকে দর্শকদের জাতীয় সংগীত গাইতে বলেছিল। ঘোষকের কাছ থেকে মাইক্রোফোন নিয়ে সে বলেছিল,যে রিং ঢোকার আগে বাথরুমে ঢুকে টয়লেট পেপার না পেয়ে ডেমোলিশারদের ব্যবহার করেছে।

হেনরি কোন অফিসিয়াল ঘোষণার অপেক্ষা না করেই আয়রন ফিস্ট এক কে ছুঁড়ে ফেলে দিল। তারপর পতাকার ডাণ্ডাটা তার মাথায় মেরে ভেঙ্গে দিল। রিং মধ্যে দাঁড়িয়ে পতাকাটা দিয়ে তাকে পেঁচিয়ে দমবন্ধ করার অবস্থায় নিয়ে গেল। দর্শকদের দেখিয়ে যেন প্রমাণ করতে চাইল সব ব্যাপারে সে নিস্পৃহ।

সে চারদিকে সব ছুঁড়তে আরম্ভ করল। আমরা পতাকার ডাণ্ডাটা, উদ্ধার করে পালালাম। টাকা পয়সা, পাসপোর্ট, ট্রফি, যা কিছু বাড়ী নিয়ে যাব ভেবে ছিলাম সব পড়ে রইল।

এখন আমরা ভোরের অপেক্ষা করছি। হেনরি ঢেঁকুর তুলল। গারসন চুপ করে আছে। রিকার্দো সময় দেখতে চাইছে। বললাম, বিকেল পাঁচটা বোধ হয়। একটু সময় নিয়ে অন্ধকার নামল। তারিখ জিজ্ঞেস করিনি কিন্তু মনে আছে।

আঙুলে কর গুণে বুঝলাম পনেরোই সেপ্টেম্বর।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%