অমিত দেবনাথ
ফকির স্ট্রিটের ঘরে আন্তর্জাতিক অব্যর্থ গোয়েন্দা সংঘের অব্যর্থ গোয়েন্দারা একটা বিশেষ মিটিং-এ বসেছিলেন।
সভাপতি শার্লক হোমস বললেন তাঁর চেয়ার থেকে, “যদি তোমাদের মধ্যে কেউ কোনও মতামত দিতে চাও যে...।”
“হোমস ভায়া,” বাধা দিলেন আর্সেন লুপিঁ, “আমরা কেউ... তুমি যা করেছ, তার চেয়ে বেশি কোনও মতামত দিতে বা নিতে চাই না।”
“না না,” একমত হলেন থিংকিং মেশিন, “ও’সব আমাদের কাজ নয়। আমাদের কাজ হল সূত্র খোঁজা, সিদ্ধান্তে পৌঁছনো এবং অপরাধী ঘোষণা করা।”
“সূত্রগুলো কী কী?” মঁসিয়ে লেকক বিশদ হলেন।
র্যাফেলস গম্ভীর হয়ে তাকালেন বৃদ্ধ ভদ্রলোকের দিকে, তারপর হাসলেন।
“সূত্রগুলো হল,” বললেন তিনি, “ফ্রেমটা পাওয়া গেছে পেছনের সিঁড়িতে, ল্যুভর-এর দেওয়ালের এক জায়গায় ফাঁকা, আর যে পেরেকগুলোয় ছবিটা ঝুলছিল, সেগুলো।”
“আচ্ছা, দেওয়ালের যে জায়গাটা ফাঁকা, তার মাপ কি ‘মোনালিসা’-র মতো?” জিজ্ঞেস করলেন মঁসিয়ে দুপিঁ।
“সেটা বলা যাচ্ছে না, ছবিটা হাতের কাছে নেই,” বললেন র্যাফেলস, “কিন্তু ‘মোনালিসা’ নেই, আর দেওয়ালের আর কোনও জায়গায় কোনও ফাঁকও নেই, যার ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।”
“তথ্যটা আমার কাছে খুব জোলো মনে হচ্ছে,” বিড়বিড় করে বললেন মঁসিয়ে দুপিঁ, “আচ্ছা, কর্পাস ডেলিক্টাই-এর ব্যাপারে কি একটা আইন আছে না?”
“সে আইন এখানেও নেই, ওখানেও নেই,” বললেন আরসেন লুপিঁ। র্যাফেলসের রসবোধ আরেক কাঠি ওপর দিয়ে গেল, “আর ছবিটাও নেই।”
শার্লক হোমস তাঁর সাদা হাতখানা কপালে বোলালেন ক্লান্তভাবে।
“মিটিংটা একটা নিয়ম মেনে হওয়া উচিত,” বললেন তিনি, “ভাইসব, তোমরা সবাই সমস্ত তথ্যগুলোর বর্ণনা শুনেছ... ফাঁকা ফ্রেম, ফাঁকা জায়গা, ফাঁকা পেরেক। এর থেকে আমার সিদ্ধান্ত... চোর লম্বায় পাঁচ ফুট দশ ইঞ্চি, ওজন ১৬০ পাউন্ড। মাথায় গাঢ় চুল, একটা দাঁত সোনাবাঁধানো। স্বাস্থ্য ভালই, তবে দুই তুতোভাই আছে, যার মধ্যে একজনের ছোটবেলায় ক্রুপ কাশি হয়েছিল।”
“সাবাস, হোমস! সাবাস!” বললেন ডাঃ ওয়াটসন, হাততালি দিতে দিতে। “এখনও সেই আগের মতোই!”
“আমি তোমার সঙ্গে একমত নই, হোমস,” ঘোষণা করলেন আরসেন লুপিঁ। “আমি পরিস্কার বুঝতে পারছি... চোরের চুল সোনালী, বেঁটে, রোগা আর তার মায়ের দিদিমার দিদিমার মতো দেখতে।”
হোমসকে একটু চিন্তাগ্রস্থ দেখাল। “না হে লুপিঁ,” অবশেষে বললেন তিনি, “সূত্রগুলো নিয়ে একটু ভাবলেই দেখবে তোমার সিদ্ধান্ত ভুল।”
“মানস্টারবার্গ বলেছেন,” শুরু করতে যাচ্ছিলেন লুথার ট্র্যান্ট, থামিয়ে দিলেন সভাপতি হোমস, স্বভাবগম্ভীর হাসি হেসে বললেন, “ভাইসব, আমাদের আরও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজ করা দরকার। যদি ছবিটা আমরা খুঁজে বার করতে না পারি, আর চোরকে ধরতে না পারি, তাহলে আমাদের আর এত নামডাক কিসের? এখন বলতো, এর সমাধান করতে কতদিন লাগতে পারে?”
“ভারি তো একটা পুরোন ছবি! ও আমি এক সপ্তাহেই বার করে দেব,” বললেন মঁসিয়ে দুপিঁ, “ঠিক এইভাবে। ধরা যাক...।”
“আস্তে, আস্তে,” থিংকিং মেশিন থামিয়ে দিলেন দুপিঁকে, “তোমার কথা কে শুনতে চাইছে? যে যার মতো করে কাজ কর তো! চোর আর ছবি... দু’টোকেই খুঁজে বার করতে আমার কাছে এক সপ্তাহই যথেষ্ট!”
“এক সপ্তাহ! বাহ!” র্যাফেলসের গলায় খোঁচার সুর। “আমার লাগবে তিন দিন। পাক্কা।”
সভাপতি হোমস তাঁর স্বভাবগম্ভীর হাসি হেসে বললেন, “আরসেন, তোমার কদ্দিন লাগবে?”
“দুদিন। তার সঙ্গে গাড়িভাড়া দিতে হবে।” বললেন আরসেন লুপিঁ। “আর তোমার কদ্দিন লাগবে, হোমস?”
সভাপতি হোমসের স্বভাবগম্ভীর হাসি আরও স্বভাবগম্ভীর হয়ে গেল। তিনি বললেন, “আমি জেনে গেছি এটা কোথায় আছে। শুধু গিয়ে নিয়ে আসা।”
“এটা ঠিক নয়! একদম ঠিক নয়!” ফেটে পড়লেন লুথার ট্র্যান্ট, ডাঃ ওয়াটসনের সাবাসধ্বনি তাতে চাপা পড়ে গেল।
“একদম ঠিক,” বললেন হোমস। “তোমরা যা জানো, আমিও ঠিক ততটুকুই জেনেছি। আমরা সবাই একই তথ্য জেনেছি আর সেখান থেকেই আমি সমাধান করে ফেলেছি। তোমরা না পারলে সেটা তোমাদের দোষ। বোঝাই যাচ্ছে, যেটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, সেটা তোমরা দেখতে পাও না।”
“এ তো বরাবরই হয়ে আসছে,” আউড়ে গেলেন মসিয়ে দুপিঁ, উপদেশের সুরে।
বরাবরের মতোই সভাপতি হোমস এ কথাটাতেও পাত্তা না দিয়ে বললেন, “আর কথাবার্তার কোনও দরকার নেই। আমরা তো আর হেঁজিপেঁজি লোক নই। আমরা প্রত্যেকেই বিখ্যাত, দুর্দান্ত এবং অব্যর্থ। কাজেই এখন যে যার নিজের নিজের পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখ, কে আগে ছবিটা খুঁজে পাও। আজ থেকে ঠিক এক সপ্তাহ বাদে আবার আমাদের মিটিং বসবে, এবং যে তার সঙ্গে করে ‘মোনালিসা’ নিয়ে আসতে পারবে, সে আমাদের সবার অভিনন্দন তো পাবেই, তার সঙ্গে ঘোষিত পুরস্কারও পাবে।”
“সাবাস, হোমস! সাবাস!” আর কেউ কিছু বলার আগেই বলে উঠলেন ডাঃ ওয়াটসন।
অবশ্য আর বিশেষ কিছু বলারও ছিল না। বিখ্যাত গোয়েন্দারা বরাবরই স্বল্পভাষী হন, তাঁরা বরাবরই নি:শব্দে চিন্তাভাবনা করেন, কিন্তু তাঁদের দেখলেই মনে হয় গোটা মহাবিশ্বের রহস্য তাঁদের কাছে জলভাত।
যার যার নিজস্ব স্টাইলে শুভরাত্রি জানিয়ে তাঁরা বেরিয়ে পড়লেন রহস্যের সমাধান করতে, আর শার্লক হোমস টেনে নিলেন তাঁর বেহালা, বাজাতে লাগলেন “তার মধুর হাসি আজও আমায় টানে” গানের সুরটা।
ধীরে ধীরে একটা সপ্তাহ ভবিষ্যৎ থেকে চলে গেল অতীতের গর্ভে। ফকির স্ট্রিটের ঘর আবার সাফসুতরো করে ফেলা হল মিটিং-এর জন্য। রাত্রি আটটায় মিটিং। একটি লোকও এল না।
“যত্তসব!” বিরক্ত গলায় বললেন হোমস, “সবকটা গাড্ডু মেরেছে, এখন লজ্জায় আসতে চাইছে না। আমিই একা সফল হয়েছি, ওই অমূল্য ‘জোকোন্ড’ আমিই একা আমার হেফাজতে রেখেছি।”
“সাবা...,” শুরু করতে যাচ্ছিলেন ডাঃ ওয়াটসন, এমন সময় দরজা খুলে ঘরে ঢুকলেন মঁসিয়ে দুপিঁ, বগলে একখানা বিরাট ক্যানভাস। ছবিটা একটা পুরোন শাল দিয়ে মোড়ানো, কিন্তু এর আকার দেখে ডাঃ ওয়াটসন অবধি বুঝে গেলেন যে এই হল সেই ছবি, যে ছবিতে পাক্কা চারটি বছর ধরে তুলি বুলিয়েছেন লিওনার্দো।
“এই যে, হ্যাঁ,” দুম করে বলে ফেললেন মঁসিয়ে দুপিঁ, “আমি পেয়েছি। আমি একটু অপেক্ষা করতে চাই... অন্যেরা আসুক, দেখুক, আমি কী পারি। হোমস ভায়া, আমি কিন্তু তোমার কাছ থেকে একটু বেশি হাততালি আশা করছি।”
হোমসের মুখের হাসিটা আরেকটু বেশি স্বভাবগম্ভীর হল, তবে তিনি কোনও উত্তর দেওয়ার আগেই ঘরে ঢুকলেন লেকক অমায়িক মুখ আর চকচকে চোখে, হাতে সযত্নে ধরা একটা বড়সড় কাগজের মোড়ক। তারপরই তাঁর চোখে পড়ল দেওয়ালে হেলান দিয়ে রাখা শালে জড়ানো বস্তুটার দিকে। তাঁর ভুরু কুঁচকে গেল।
“ওটা আবার কী?” খরখরে গলায় বললেন তিনি, “ওঃ, বুঝেছি। আমি যে ছবিটা এনেছি, ওটা তার ফ্রেম, তাই না? ফ্রেমটা সোনালী এনেছ তো?”
দুপিঁ এক লাফে দেওয়ালের কাছে গিয়ে একটানে শালটা খুলে নিলেন। লেককের কথা শুনে পিত্তি জ্বলে গেছে তাঁর।
“এই দেখ! ‘মোনালিসা!’ আমি পেয়েছি! কী মজা!”
“কী? ওটা আসল?” চেঁচিয়ে উঠলেন লেকক, খুলে ফেললেন তাঁর হাতের মোড়কটা, দেখা গেল সেখানেও রয়েছে আদি ও অকৃত্রিম সেই লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির অমর ছবিখানা!
হোমস দু-দু’খানা আসল ছবি দেখছিলেন কৌতুহলের সঙ্গে।
“এ দু’টোই আসল। এ বিষয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশই নেই,” ঘোষণা করলেন তিনি, “বোঝাই যাচ্ছে দ্য ভিঞ্চি মহিলার ছবিটা দু’বার এঁকেছিলেন।”
“সাবাস, হোমস! সাবাস!” কীর্তন শোনা গেল ডাঃ ওয়াটসনের গলায়।
কিন্তু দেখা গেল হোমসের এই ঘোষণায় একটু সমস্যা হচ্ছে। দুজন ফরাসির কেউই এটা মানতে চাইছেন না। মারাত্মক ঝগড়া বেঁধে গেছে দু’জনের মধ্যে। দু’জনেই বলছেন তাঁরটা আসল, অন্যেরটা নকল করা ছবি।
ঘরের অবস্থা যখন এরকম, তখন সেখানে আবির্ভাব হল থিংকিং মেশিনের উৎকট মূর্তির।
“চালিয়ে যাও, যালিয়ে যাও,” তিনিও চালিয়ে দিলেন ওঁদের দিকে তাকিয়ে, “কে জিতলে তাতে কিস্যু আসে যায় না, কারণ আসল ‘মোনালিসা’ আমার কাছে আছে, বাড়িতে। এখানে নিয়ে আসার ঝুঁকিটা নিলাম না। তোমাদের দু’জনেরটাই নকল।”
ঠিক তখনই ঘরে ঢুকলেন লুথার ট্র্যান্ট, পেছন পেছন তিনজন পিয়ন, প্রত্যেকের হাতেই একটা করে “মোনালিসা”-র ছবি। সেগুলো তিনি নামিয়ে রাখলেন আগের ছবিগুলোর পাশেই।
“এ’গুলোর মধ্যে একটা আসল,” বললেন ট্র্যান্ট। “কোনটা, তা এখনও আমি ধরতে পারিনি, তার ওপর আমার সিসমোস্পিগম্যাটোগ্রাফটা ভেঙে গেছে। তবে বার করে ফেলব, চিন্তা নেই। যাই হোক, ছবিটা এই তিনটের মধ্যেই আছে, এই আমি বলে দিলাম।”
এই হইচইয়ের মধ্যেই লাফাতে লাফাতে ঘরে ঢুকলেন র্যাফেলস, মুখে সে কী হাসি!
“পেয়েছি, পেয়েছি!” চেঁচিয়ে উঠলেন তিনি, পেছন পেছন ঘরে ঢুকে পড়ল তাঁর দলবল।
পাঁচজন পিয়নের হাতে আটটা “মোনালিসা”, তিনজন বাহকের প্রত্যেকের হাতে দুটো করে “জোকোন্ডে” এবং দুজন ধোপানি ধরাধরি করে নিয়ে এসেছে একটা জামা কাপড়ের ঝুড়ি, যার মধ্যে আছে চারখানা।
“সবকটাই বিশেষজ্ঞদের দিয়ে যাচাই করানো,” বললেন র্যাফেলস, “কাজেই এর মধ্যে একখানা অবশ্যই আসল।”
“তাই নাকি?” অলস গতিতে ঘরে ঢুকেছেন আরসেন লুপিঁ। “নিচে একখানা ঠেলাগাড়ি রেখে এসেছি, তার মধ্যে ‘মোনালিসা’ ভর্তি, আর প্রত্যেকটাতেই আমি সবসেরা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সই করিয়ে নিয়ে এসেছি যে এটাই আসল।”
শার্লক হোমস দেখে যাচ্ছিলেন সব কিছু, তাঁর মুখের হাসি ক্রমশই স্বভাবগম্ভীর থেকে স্বভাবগম্ভীরতর হয়ে যাচ্ছিল।
“ভাইসব,” অবশেষে বললেন তিনি তাঁর সবচেয়ে সেরা বরফ-ঠান্ডা গলায়, “তোমরা একবার দয়া করে পাশের ঘরে যাবে কি?”
তাঁরা সবাই খুব ধীরে ধীরে পা ফেলে... কারণ ঘরের মেঝে তখন হাঁটু-ডোবা হয়ে গেছে “মোনালিসা”-য়... পাশের ঘরে গেলেন এবং মনে হল তাঁরা যেন কোনও প্রেক্ষাগৃহে এসেছেন, কারণ ঘরের চার দেওয়াল জুড়ে শুধু “মোনালিসা,” এবং প্রত্যেকটির মধ্যেই অকাট্য, অভ্রান্ত, অকৃত্রিম অবিসম্ভাবী বিশুদ্ধতার প্রমাণ বিদ্যমান।
সমবেত অব্যর্থ গোয়েন্দারা ততক্ষণে সবাই বুঝে গেছেন হোমস যথারীতি এবারেও তাঁদের টেক্কা মেরে বেরিয়ে গেলেন। তখন তাঁদের একটাই করার ছিল এবং সেটাই তাঁরা করলেন। বিরক্তি-টিরক্তি পাশে সরিয়ে রেখে তাঁরা দু’চোখ ভরে দেখতে লাগলেন তাঁদের চারপাশে অজস্র, অগুন্তি “মোনলিসা”... একসঙ্গে! পাঠক, মনে করুন আপনার সেই রোমাঞ্চের কথা... যখন আপনি দাঁড়িয়েছিলেন ল্যুভর মিউজিয়ামে, তাকিয়েছিলেন সেই মহান শিল্পীর শুধু একটি মাত্র মাস্টারপিসের দিকে; এবার ভাবুন সেই রোমাঞ্চ, সেই শিহরণকেই আপনি গুণ করছেন অগুন্তিবার, যতক্ষণ না সেই শিহরণ কম্পজ্বরে পরিণত হয়! সত্যি, এ এক অসাধারণ মনস্তাত্ত্বিক মুহূর্তই বটে!
“এগুলো কি সবকটাই আসল?” অবশেষে ফিসফিসে গলায় জিজ্ঞেস করলেন মঁসিয়ে দুপিঁ, এতক্ষণে তিনি তাঁর হারানো কন্ঠস্বর ফিরে পেয়েছেন, এবং একই সঙ্গে র্যাফেলস হিসেব কষতে শুরু করেছেন এদের সমবেত মূল্য সংগ্রাহকদের কাছে কত হতে পারে!
“সবকটাই আসল। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের গ্যারান্টি আছে,” ঘোষণা করলেন হোমস এবং সেই মুহূর্তেই টেলিফোনটা বেজে উঠল।
“মিঃ হোমস বলছেন তো?” পুলিশ প্রধানের গলা শোনা গেল।
“বলছি,” উত্তর দিলেন শার্লক হোমস স্বভাবগম্ভীরভাবে।
“খবর আছে মিঃ হোমস। আমরা ‘মোনালিসা’ পেয়ে গেছি। যে চোর এটা চুরি করেছিল... আসলে একটা প্যারামারানোইয়াক... সে এটা ফেরত দিয়েছে আর অপরাধও স্বীকার করেছে। সে খুবই অনুতপ্ত, এবং তার শাস্তিও হবে, তবুও যখন তার পুরো স্বীকারোক্তিটা পাওয়া যাবে, তখনই জানা যাবে তার ছবিটা অটুট অবস্থায় ফেরত দেওয়ার আসল কারণটা কী। আমাদের এক মহামূল্য সম্পদ যে আবার আমাদের হাতে এসেছে, এতে আমি নিশ্চিত যে আপনিও অত্যন্ত খুশি।”
“যত্তসব!” অন্যান্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি পরিমাণ স্বভাবগম্ভীর গলায় বললেন হোমস, রিসিভারটা ঝোলাতে ঝোলাতে, “যখন কোনও ছবি এত তাড়াতাড়ি এবং এত সাধারণভাবে ফেরত আসে, তখন আমাদের এত কষ্ট করে এত ছবি পুনরুদ্ধার করার কোনই দামই রইল না দেখছি! বাদ দাও। ভাইসব, এবার তোমরা আমাকে সুন্দর করে একটা চলচ্চিত্রের বিবরণ দাও দেখি।”
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন