অমিত দেবনাথ
দুর্ধর্ষ খুন! দুরন্ত রহস্য!
দারুণ রহস্য। কারণ প্রথমত লোকটা নিঃসন্দেহে খুন হয়েছে। দ্বিতীয়ত কাউকেই খুনি বলে ধরা যাচ্ছে না। এখন একজন গোয়েন্দাকে না ডাকলেই নয়। অতএব, ডাক পড়ল সেই দুর্ধর্ষ গোয়েন্দার।
অকুস্থলে পৌঁছল গোয়েন্দা। মৃতদেহের ওপর একবার ক্ষুরধার দৃষ্টি নিক্ষেপ করেই পকেট থেকে বার করল একটা মস্ত বড় আতস কাচ। ‘হাঃ হাঃ!’ করে উচ্চস্বরে হেসে উঠে সে মৃতের কোটের ওপর থেকে তুলে নিল একটা চুল।
“রহস্য সমাধান এখন হাতের মুঠোয়,” চুলটা তুলে ধরল সে।
“দেখুন, আমার যা জানার আমি জেনে গেছি। খুনি তার মাথার চুল ফেলে গেছে,” সে বলল, “এখন শুধু বার করতে হবে এই চুলটা কার মাথার।”
অমোঘ যুক্তির পালা শেষ। এবার আসল কাজ।
গোয়েন্দা নিজেই নেমে পড়ল রাস্তায়, খুন হয়ে যাওয়া মানুষটার খুনিকে ধরার জন্য।
চার দিন চার রাত ধরে সে নিউ ইয়র্কের রাস্তায় রাস্তায় খুঁজে বেড়াতে লাগল কার মাথা থেকে চুলটা খসে পড়েছে, সেটা ধরার জন্য।
পঞ্চম দিনের মাথায় একটা লোক চোখে পড়ল তার। দেখে মনে হয় টুরিস্ট, মাথায় জাহাজি টুপি, সেটা নেমে এসেছে কান পর্যন্ত।
লোকটা গ্লোরিটানিয়া জাহাজে উঠতে যাচ্ছিল।
গোয়েন্দা তার পিছু নিল।
“ধর ব্যাটাকে!” লাফিয়ে উঠে চেঁচিয়ে বলল সে, হাতে ধরা সেই চুলটা।
“এই যে ওর মাথার চুল,” বলল দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা, “হাতে নাতে প্রমাণ।”
“ওর টুপিটা খুলে নাও,” হেঁকে বললেন জাহাজের ক্যাপ্টেন।
সবাই মিলে লোকটার মাথার টুপি খুলে ফেলল।
লোকটার মাথায় একটাও চুল নেই। মাথা জোড়া টাক।
“তবেই বুঝুন,” এক মুহূর্ত ইতস্তত না করে বলে উঠল দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা, “ব্যাটা শুধু একটা নয়, অগুনতি খুন করেছে।”
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন