সাগরিকা রায়

জীবনে কতরকম শিকার করেছি তার ঠিকঠাক হিসেব নেই। বাঘ, সিংহ, সাপ, শেয়াল, শকুন সবই শিকার করা হয়ে গেছে। আমার লিভিং রুমের পশ্চিমের ওয়ালটা দেখে থাকলে সহজেই বুঝে যাবেন আমার কথার সত্যতা। একটা বাঘের চামড়া সটান হাত-পা ছড়িয়ে আছে বছর দশেক ধরে। হ্যাঁ, ওটা আমারই কীর্তি। পূর্বপুরুষদের নয়। আর আছে কালো কাঠের আলমারির ওপরের র্যাকে গুটিয়ে রাখা একটা বিরাট ময়াল সাপের চামড়া! কি প্রিন্ট সারা গায়ে! দেখার মতো। তবে কী জানেন, আলমারিটা খুলতেই ভয় হয়।
একবার, আচ্ছা, আগে একটু চা হয়ে যাক। গরম চা গলায় গেলে কথা বলতে সুবিধে হয়। হুম, যা বলছিলাম, একবার, মনে আছে দিনটি ছিল বেস্পতিবার। সন্ধে নেমেছে সবে। ওপরের ঘরে বসার জায়গা থাকলেও ইদানিং আর বেশি ব্যবহার করা হয় না। কেন হয় না, সেটা বলছি।
সেদিন, সন্ধেবেলায় আলো জ্বালাতে সে-ঘরে ঢুকেছি। ঘরটাতে ঢুকতে বরাবরই আমার কী'রম কী'রম লাগত। একটা অচেনা অন্য ভুবনে ঢুকছি, মনে হতো। এদিকে বেস্পতিবার বলে সেদিন সারা বাড়িতে সন্ধ্যেত আলো জ্বলবে, এটাই আমার বাড়ির নিয়ম। সুতরাং সে ঘরেও আলো জ্বালাতে হবে।
ও ঘরে বাড়ির কাজের লোকদের যাওয়াটা পছন্দ করি না আমি। একবার ঝাড়ন দিয়ে ঝাড়তে গিয়ে হরিণের চামড়া খুলে ফেলেছিল দেওয়াল থেকে! তো, আমি দরজা ঠেলে ঢুকেছি, ঘরে কেমন একটা গন্ধ লেপে আছে। আচ্ছা, কখনও শ্মশানে গেছেন? মৃত্যুর গন্ধ পেয়েছেন? আমার ও-ঘরে ছেয়ে আছে মৃত্যুর গন্ধ।
এটা ভৌতিক ঘটনা নয়। মৃত জীবজন্তুর শরীর রয়েছে, তো মৃত্যুর গন্ধ হবে না? আমরা সুগন্ধী ইউজ করি নিজেকে সুবাসিত রাখার জন্য। প্রাণ চলে গেলে বডি মৃত্যুর গন্ধের পারফিউম স্প্রে করে। দেখবেন,একদিন মৃত্যুর গন্ধ দিয়ে তৈরি হবে ডিও, পারফিউম। কেউ মারা গেলে সাদা পোশাকের সঙ্গে সেটা স্প্রে করে সেখানে যাবে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন।
যাক, অন্য কথায় চলে যাচ্ছি। তো সে-ঘরে ঢুকতেই মনে হল আমি যেন কারও চোখের দৃষ্টির সামনে রয়েছি। ঘরের ভেতরে দুটো পুরনো আমলের আলমারি। তার পাল্লায় কাচ ফিট করা। ভেতরে কী আছে সেটা দেখা যাচ্ছে। আলমারির ভেতরে চোখ চলে গেল। কেন যে হঠাৎ করে সেখানেই চোখ গেল,জানি না। দেখলুম, একেবারে ওপরের র্যাক পাকিয়ে রাখা সাপের চামড়াটা। আমাকে টানছিল চামড়াটা। বা বলতে পারেন সাপটা। ওটাকে একদিন আমিই মেরেছিলুম ডুয়ার্সের জঙ্গলে।
আলমারির পাল্লা দু-হাতে খুলে ফেলতেই... একটু চা খেয়ে নিই,গলা শুকিয়ে যায়।...পাল্লাটা খুলতেই... নাহ! কিচ্ছু হল না। সব যেমনকে তেমন রয়েছে! কিন্তু আমি কী হবে ভেবেছিলাম? কী এমন আশঙ্কায় আলমারির পাল্লা খুলে ফেলেছিলাম? মন কখন যে কী ভাবে...!
যাক সে কথা। আমি কী করলুম তখন,আলমারি বন্ধ করে দিয়ে পেছন ঘুরেছি, মনে হল, আলমারিতে চাবি দেওয়া উচিত। বলা হয়নি, আলমারিতে সবসময় চাবি দেওয়াই থাকত। কিন্তু কিছু বই ছিল আলমারির নীচের
র্যাকে, সেখান থেকে কয়েকটা বই আমি পাড়ার লাইব্রেরীতে দিয়েছিলুম যখন, তখনই চাবি দিতে ভুলে গিয়েছি। সেদিন মনে হল, চাবিটা দিয়ে রাখা ভালো।
পেছন ফিরে আলমারি খুলে বইএর র্যাকে রাখা চাবিটা নিচ্ছি, ওপরের র্যাক থেকে সরসর করে কিছু নেমে আসছিল। আমার কপালের ওপরে কিছুর ছোঁয়া লাগছিল। চমকে ওপরের দিকে তাকাতেই দেখলুম একটা ময়াল সাপ কুন্ডলী পাকিয়ে থাকা অবস্থা থেকে সোজা হচ্ছে। এবং সেটা সেই ময়ালের চামড়াটা! ক্রমে ক্রমে সেটা জীবন্ত হয়ে উঠছে!
হ্যাঁ, চিৎকার করেছিলুম। ভয়ে। ভয়ে চিৎকার করে ওঠাতে মাধব ছুটে এল। আমি নাকি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলুম। ভয়ে কাঁপছি থরথর করে। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পরে মাধবকে জিজ্ঞাসা করেছি। মাধব বলেছে, ও ঘরে ঢুকে দেখেছিল আমি খোলা আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে ভয়ে চিৎকার করছি। অথচ, কিচ্ছু ছিল না সেখানে।
আমি দিনের আলোতে ঘরে ঢুকেছিলুম মাধবকে নিয়ে। আলমারির ভেতরে ময়ালের চামড়াটা এক ভাবে পাকিয়ে রাখা আছে। কিন্তু...,জানেন, একটা জিনিস আমার মাথায় আসেনি। সাপের মাথাটা সেই চামড়ার মধ্যে ছিল না। চামড়া সংরক্ষণের সময় মাথা কেটে বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেদিন মাধবকে নিয়ে সে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে গিয়ে একটা অস্বাভাবিকত্ব টের পেয়েছিলুম। পাকিয়ে রাখা চামড়াটা একটু ঘুরিয়ে রাখা হয়েছে যেন। অথচ কেউ সেখানে হাত দেয়নি।
মাধব বেঁটেখাটো লোক। অতটা উঁচুতে হাত পাবে না। তাছাড়া মাধবের সাপের ভয় ছিল তীব্র। তাহলে সাপের চামড়া কি নিজে থেকে ঘুরে গিয়েছিল? আর চামড়াটা এমন ভাবে আছে, মনে হচ্ছিল সাপের মাথাটা আমাকে দেখছে! ইচ্ছে করলে এখনই ফণা তুলবে!
সবটাই চোখের ভুল? হতে পারে। হয়তো সাপ, বাঘ এদের মেরে ফেলার পরে আমার মধ্যে অনুশোচনা ছিল! অবচেতনে নিজেকে অপরাধী ভাবি আমি! হয়তো! আর সেখান থেকেই ভয়টার আবির্ভাব হয়েছে! আসলে এখন মনে হয় শিকার-টিকার অনর্থক হিংস্র খেলা ছাড়া আর কিছু নয়। নিরীহ অবোলাদের হত্যার খেলা। নিজেকে ওজন করছি মনে হচ্ছে তো? করি। মাঝে মাঝেই এই ব্যাপারটা হচ্ছে।
ফিরে তাকাই পেছনের দিকে! হ্যাঁ, শিকার ভালোবাসতুম। অস্বীকার করে লাভ নেই। প্রথম শিকার ছিল একটা পাখি। শেষ শিকার সাপ। না, এটা ময়ালটা নয়। শেষের আগে ছিল একটা ঢ্যামনা। বিষধর নয়। ইংরেজিতে এদের বলে র্যাট স্নেক।
তখন ছিলাম বদরপুরে। দিল্লির কাছাকাছি এই বদরপুরে কিছু আদিবাসী আছে। তারা ঢ্যামনা সাপ পোষে। ঢ্যামনা ইঁদুর খায়। ইঁদুর আবার আদিবাসীদের মাটির বাড়ি খুঁড়ে ফেলে।
একদিন ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে একটা গাছের নীচে দাঁড়িয়েছি। একটা ঢ্যামনা আমার পা বেয়ে উঠে আসছে, দেখতে পাইনি। অন্যমনস্ক থাকার দরুণ সাপটাকে দেখে ঝট করে জাত চিনতে পারিনি। মেরে দিয়েছি। পকেটে সবসময় পিস্তল থাকত। সবই শখ। মেরেই কেতরে পড়া সাপটাকে দেখে বুঝে ফেললুম ভুল করেছি। অযথাই একটা হত্যা করে ফেলেছি।
চোখ মাটির দিকে। মাটিতে ছায়া পড়ল। তাকিয়ে দেখি একটি আদিবাসী যুবক নির্নিমেষে আমাকে দেখছে। চোখের দৃষ্টিতে সে যে কী ভীষণ ক্রুরতা, না দেখলে বোঝানো যাবে না। বুঝলুম, বিপদে পড়েছি। কথা না বলে দ্রুত জায়গাটা ত্যাগ করতে যাব, যুবকটি হাতের লাঠি ছুঁড়ে মারল আমাকে। আমি পিস্তল তুলে ভয় দেখাতে ব্ল্যাঙ্ক ফায়ার করলুম। যুবকটি ভয় পেল না। দাঁড়িয়ে দেখছিল আমাকে।
বিপদ আসন্ন বুঝে দ্রুত জায়গাটা ত্যাগ করলুম। শহরের ঝা চকচকে জীবনে পা রেখে ভুলে গেলুম বিকেলের ঘটনাটা। কিন্তু, ওরা ভোলেনি। রাতে আমার ঘরে ঢুকেছে যুবকটি। একটা হালকা শব্দ ঘুম ভেঙে যেতে দেখলুম ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আমাকেই দেখছে। এত প্রতিশোধপরায়ণ মানুষ হতে পারে জানতুম না। কী করে আমাকে খুঁজে পেল?
আমি ভয় পেয়েছিলুম। ভয়ে বালিশের নীচে থেকে আমার ছোট্ট পিস্তলটা বের করার কথা ভুলে গিয়েছি। উঠে বসব, সেকথাও ভুলে গিয়েছিলুম। কিন্তু আমি জাত শিকারি। আমার নার্ভ একটু হেলে গেলেও শুয়ে পড়ে না। নিজেকে সাহস দিলুম। ভয় পেও না। ও তোমার কী করতে পারে? ভাবতে ভাবতেই বুকে বল পেলুম।
আস্তে আস্তে হাত ঢুকিয়ে পিস্তলটা বের করলুম। শুয়ে থাকা অবস্থায় ট্রিগারে চাপ দিতেই! শব্দে রক্ত চলাচল শুরু হল শরীরে। আমি তড়াক করে উঠে বসতেই আলোর সুইচে হাত দিয়েছি। লোকটা আহত হয়েছে অবশ্যই। মরে গেছে কি? তাড়াতাড়ি করে খাট থেকে নেমে দাঁড়াতেই খুব অবাক হয়েছি। ঘরে লোকটার চিহ্ন পর্যন্ত নেই! দরজা বন্ধ। ও কোথায় গেল? অন্ধকারে কোথায় লুকিয়ে পড়ল?
আশ্চর্য হয়ে যাবেন শুনলে, সেই লোকটাকে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও পেলুম না। নো ট্রেস! আর কখনও ওকে দেখিনি! এবং বলা বাহুল্য আমি ওদের গ্রামে পা বাড়াইনি জীবনে আর। যদিও সে রহস্যের সমাধান আজও করতে পারিনি। লোকটা যে লাঠি ছুঁড়েছিল, সেটা কিন্তু ঘরে ছিল না।
যা ভাবছেন, তা ঠিক নয়। না, সেটা কোনভাবেই স্বপ্ন নয়। আমি সম্পূর্ণ সচেতন ছিলুম। যে মুহূর্তে ট্রিগারে আঙুল রাখছি, তখনও দেখতে পাচ্ছি যুবকটিকে! জীবন আমাদের অনেক অদ্ভুত কিছু ঘটনার সম্মুখীন করে। এটাও তেমনই একটি হয়তো!
একটু চা হয়ে যাক। গলা শুকিয়ে গেছে! অতীতে বিচরণ করতে করতে টায়ার্ড হয়ে গিয়েছি। হা হা হা। ...আচ্ছা, হ্যাঁ কী বলছিলুম? শিকার! জীবনে শিকার করেছি। কিন্তু, সেরা শিকার কী করেছিলুম জানতে ইচ্ছে করছে না? তাহলে সে কথাই বলি। সে কথা ভাবলে আজও আমার সমস্ত শরীর যাকে বলে কন্টকিত হয়ে ওঠে।
গিয়েছিলুম ডুয়ার্সে। আমার বন্ধুর বাড়ি। সেখানকার একটি স্কুলে সদ্য চাকরি পেয়েছে। সে খুশি তো ছিলই, প্লাস শহরের ছেলে প্রকৃতির মধ্যে পড়ে আপ্লুত। আমাকে ফোন করে বলল,—তুই বিশ্বাস করবি না এই যুগেও এখানে মাঝরাত বলে একটা ব্যাপার আছে! গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেলে সাঁওতাল পল্লীর মাদলের আওয়াজ পাওয়া যায়। খুব বৃষ্টির দিনে টিনের চালে ঝমর ঝমর বৃষ্টি পড়ার শব্দে জাঁকিয়ে ঘুম আসে। আমার ঘরের ঠিক পেছনে একটি পুকুর আছে। পুকুরের চারপাশে সারি দিয়ে নারকেল গাছ। ঝুনো নারকেল পড়ে টুপ টাপ। আমার পাশের কোয়ার্টারে ইন্দ্রবাবু থাকেন। ভূগোলের টিচার। ওঁর ওয়াইফ নিয়মিত নারকেল নাড়ু বানান। আমি প্রসাদ পাই। তা, তুই চলে আয়। ক'টাদিন কাটিয়ে যা। দূরে সরুগাঁ-এর হাট বসে শুক্কুরবার করে। যাব দুজনে। ওখান থেকে কালো ননিয়ার চাল এনে রাতে খিচুড়ি খাব। সঙ্গে হাঁসের ডিমের কালিয়া।...
বুঝলেন, শুনে খুব ইচ্ছে হল এই ইট কাঠ লোহার জঙ্গল থেকে ক'টাদিন ছুটি পেতে। চলে গেলাম। কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে চেপে যখন পৌঁছলাম নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে, নীল আকাশের গায়ে সাদা মেঘ দেখে মন জুড়িয়ে গেল। হিম হিম ভাব চারপাশে। একটি মারুতি ভাড়া করে বাস টার্মিনাস। বাসে চেপে চলে গেলাম নাগরাকাটা। আরও ভেতরে কাঠিপোঁতায় আমার বন্ধু অর্জনের স্কুল। কোয়ার্টার।
কাঠিপোঁতায় কখনও গেলে দেখবেন সেখানে কি গভীর জঙ্গল রয়েছে। তখনও বনজঙ্গল কাটা হয়নি। যাক, যখনকার কথা বলছি, তখনও বাতাসে মা-দুর্গার গায়ের গন্ধ পেয়েছি।
কাঠিপোঁতায় পৌঁছে বন্ধুর বাড়ি যেতে ভ্যানে উঠতে হল। রাস্তার দুপাশে সবুজ। মাঝে চমৎকার ঠান্ডা ঠান্ডা ছায়া ভরা রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে ঘুম পাচ্ছিল। উল্টোদিক দিয়ে আসছে একটি সাইকেল রিকশা। সওয়ারি নেই। রিকশাওলা গলা ছেড়ে গান গাইছিল।
শীত পড়ো পড়ো সময়। অঘ্রাণ মাস। খেজুরগাছে হাঁড়ি ঝুলতে দেখলুম। রস-পিপাসুদের হাঁড়ি। অবশেষে ভ্যান-রিকশাটা আমাকে নামিয়ে দিল একটা স্কুলের সামনে। টিনের চাল, বাখারির বেড়া, টানা লম্বা সারি সারি ক্লাসরুম। স্কুলবাড়ির সামনে আদিগন্ত মাঠ। ঝোপঝাড়, বড় বড় কিছু গাছ।
ভ্যান রিকশা থেকে নেমে দাঁড়ালুম। অর্জন বলেছে স্কুলবাড়ির ঠিক পেছনে মাস্টারমশাইদের কোয়ার্টার। মাঠ পেরিয়ে স্কুলের পেছনে যাব ভেবে পা বাড়াতে রিকশাওলা বলল,—ওদিকে বড্ড সাপখোপের বাসা। আপনি ডানদিক দে বেরিয়ে দেখুন সরু রাস্তা রয়েছে। ওটা দিয়ে মাস্টারবাবুদের বাড়িতে যাওয়া যায়।
ভ্যানওলা বলে দিয়ে চলে গেল প্যাঁ প্যাঁ করতে করতে। সে চলে যেতেই ঝুপ করে একা হয়ে গেলাম! কোথায় লুকিয়ে লুকিয়ে পাখি ডাকছিল। গাছপালার ভেতর দিয়ে কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় শিরশিরে অনুভূতি। ফাঁকা চারপাশ। শীতের হাওয়া বড্ড গায়ে বিঁধছিল। তখন হাতে মোবাইল ফোন আসেনি।
নিজেই খুঁজতে বেরিয়ে পড়লুম ডানদিকের রাস্তা। তখনই দেখি একটি সাপ! জঙ্গলে ভরা জায়গায় একটি ছোট ছোট লেবু ভর্তি লেবুগাছ। তার নীচেই শুয়ে আছে একটি সাপ! ওটা কি ময়াল? অজগর?
তাড়াতাড়ি করে জায়গাটা ত্যাগ করে এগিয়ে যাচ্ছি। তবে অসুবিধে হল না। একজন মহিলা আসছিলেন ঝোপঝাড় ঠেলে। সম্ভবত পুকুর থেকে আসছেন। শাড়ি ভেজা ভেজা। হাতে ছোট সাইজের বালতি। আমাকে দেখে মহিলা থমকে দাঁড়ালেন। অচেনা মানুষ দেখে অবাক হয়েছেন বলা বাহুল্য। আমি জিজ্ঞাসা করলাম,—এখানে মাস্টারমশাইদের কোয়ার্টার কোথায়? আমি অর্জন মাস্টারের কোয়ার্টারে যাব।
মহিলা একটু অবাক হলেন—এই তো, চলেই এসেছেন! ওই যে বাঁ-হাতে ঘুরেই মাস্টারমশাইদের কোয়ার্টার। বলতে বলতে মহিলা ঝোপঝাড়ের ভেতর দিয়ে ওদিকে কোথায় চলে গেলেন। আমি তাঁর কথা মতো বাঁ-হাতে চলতে শুরু করতেই অর্জনকে দেখে ফেললাম। ও-ও আমাকে দেখেছে। তারপর সাঙ্ঘাতিক আনন্দের বান বয়ে গেল।
সেদিন রাতে খেতে বসেছি ইন্দ্রবাবুর রান্নাঘরে। কাঠের পিঁড়ি পেতে। বেশ জামাই জামাই ভাব। ইন্দ্রবাবুর ওয়াইফ মানে রুবি বউদির হাতের রান্না অতুলনীয়। সরু চালের ভাত, ঘি,কাঁচালঙ্কা, মুগডালে মাছের মুড়ো, পাঁঠার মাংস।
কেরোসিনের কুপি জ্বলছে। ওখানে মদেশিয়া শ্রমিকের থেকে কিছু শব্দ জুড়ে গেছে বাংলা শব্দে। কুপিকে বউদি বলছিলেন ডিবরি। গল্পে গল্পে বউদি বলে দিলেন রাতবিরেতে একা যেন ঘর থেকে বের না হই। বের হতে হলে অবশ্যই অর্জনকে জাগিয়ে দিয়ে যেন বের হই।
এখনকার মতো আটাচড ওয়াশরুম ছিল না। কিন্তু একা বের হলে অসুবিধে কোথায়? সাপ? বাঘ? তখন বাঘের দেখা পাওয়াটা দুর্লভ ছিল না। বউদি ইন্দ্রবাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন,—সে তো আছেই। তাছাড়া নতুন মানুষ। অন্ধকারে ভয়-টয় পেতে পারে।
আমি কিছু বুঝলুম না। ভয় পেতে যাব কেন খামোখা? যাহোক, তখনকার মতো চুপ করে গেলেও শুতে গিয়ে অর্জনকে চেপে ধরলুম-কী ব্যাপার রে? বউদির কথায় কেমন গন্ধ পাচ্ছি! ভূত-টূত আছে নাকি?
অর্জন হেসে ফেলল,—ধুর! সেসব নয়। আসলে, সেদিন ইন্দ্রবাবু নিজেই ভয় পেয়েছিলেন। রাতে বেরিয়েছেন। হঠাৎ মনে হল, কেউ রান্নাঘরের পেছনে চলে গেল। একটা বউ মতো কেউ। তো ইন্দ্রবাবু খুব ভয় পেয়ে চেঁচিয়ে উঠতে আমি আমার ঘর থেকে বের হলাম আলো নিয়ে। বউদিও হ্যারিকেন নিয়ে বের হলেন। ইন্দ্রবাবু বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন। তা বাদে কিছুই দেখলুম না।
ইন্দ্রবাবু কিন্তু সিরিয়াস,—না, আমি ঠিক দেখেছি। কেউ একজন সরে গেল। যেদিকটা দেখালেন, আমি সেদিকে গেলাম। হাতে লাঠি নিয়েছি। ভয় করছিল অবশ্যই। ডাকাত-ফাকাত যদি হয়! যদিও চোর-ডাকাতের উপদ্রবের কথা শুনিনি এখানে।
যাক, খানিক এগিয়ে দেখি, একটা গরু অন্ধকারে গুছিয়ে বসে জাবর কাটছে। হ্যারিকেনের আলোয় ওর বিশাল চোখদুটোকে পুকুরের কালো জল বলে মনে হল। আমরা স্বস্তির শ্বাস ফেলে ঘরে ফিরে এলুম। বউদি বকাবকি করছিলেন,—কেন অন্ধকারে বের হয়েছ? ভয় পাওয়া ভালো নয়। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ...! এই আর কি।
অর্জন হাসছিল। আমার মনে পড়ল আমার মায়ের কথা। অনেকদিন আগে মা দেখেছিল গভীর রাতে একটি লোক এসে ঝাকড়া মাথাটা নাড়িয়ে নাড়িয়ে উঠোনে দাঁড়িয়ে গান গায়। মা ভয় পেয়েছিল। কিন্তু কাউকে বলেওনি। তো, একদিন মা ঘুম ভেঙে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতে দেখে না, লোকটা আসেনি আজ।
মা ওয়াশরুমে যাবে। বড়মাসি পাশে ঘুমুচ্ছে। দু-একবার ডাকাডাকি করে জাগাতে না পেরে মা একাই দরজা খুলে বের হয়েছে। ঝাকরা মাথা লোকটা হাজির। জোরে জোরে মাথা নাড়াচ্ছে। মা ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠতে সবাই জেগে গেছে। অবশেষে দেখা গেল, উঠোনের ওপরের বেঁটে সুপুরি গাছটা তখন মাথা নাড়াচ্ছে। রাতের দিকে হাওয়া হয়। বাতাসের দাপট খুব। তারপর থেকে মায়ের ভেতর থেকে ভয়-টয় সরে গেল জন্মের মতো।
যাক, এক সময় ঘুমিয়ে পড়লাম। অনেক ভোরে ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম ভাঙতেই প্রথমেই একটি ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠল। সেই মহিলা হাতে বালতি নিয়ে ঝোপঝাড় ঠেলে আসছেন!
আমার অবাক লাগল। হঠাৎ করে সেই অচেনা মহিলাকে কেন মনে পড়ল আমার? অদ্ভুত তো! আমার এরকম হয়! আমি সম্ভাব্য ঘটনার আভাস আগেই পেয়ে যাই। কখনও কখনও। আমার জ্যাঠামশাই মারা যাওয়ার পরে যেখানে তাঁর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছিল, সেটি হল শ্রীশ্রীরামঠাকুরের আশ্রমের একটি শাখা।
জ্যাঠামশাই-এর শ্রাদ্ধ হয়ে যাওয়ার মাস সাত-আট পরে হঠাৎ করে চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই আশ্রমের ছবি! দোকান পাট, রাস্তাঘাট...! ঝট করে ছবিটা ভেসে উঠেই ফের হারিয়ে গেল। আমি ভয় পেলাম। আগামিতে কি আমাকে ওই আশ্রমে যেতে হবে? ভাবতে ভাবতে মাসখানেক পরে জেঠিমা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তারপরেই যা যা হওয়ার হল। সেই আশ্রমেই শ্রাদ্ধ হল জেঠিমার!
তো, সেই সকালে ঘুম ভেঙেই মহিলার বালতি হাতে আসার দৃশ্যটা চোখে ভেসে উঠতে অবাক হলাম। কী ব্যাপার? মহিলা কে? আমার অবচেতনে কেনই-বা তিনি আছেন? অবচেতন মন ভারি আশ্চর্য জিনিস। গোপন ক্যামেরায় ছবি তুলে রাখে সে। এমন ছবি, যা চেতন মন দেখতেই পায়নি। তাহলে মহিলা কে জানতে হবে!
অর্জন মহিলাকে দেখেনি কখনোই। ও অবাক হল। মহিলা এদিকে কে আসতে পারে? রুবি বউদি জানালেন গ্রামের দিক থেকে অনেকেই আসে পুকুরে। তাদেরই কেউ হবে।
সেদিন অর্জন স্কুলে গেল। দুপুরে কোয়ার্টারে ফিরবে ভাত খেতে। একটি মধ্যবয়স্কা মহিলা রান্না করে দিয়ে যায়। আমি ওর জন্য অপেক্ষা করছি। ইন্দ্রবাবুও স্কুলে। বউদি নিজেদের কোয়ার্টারে সংসারের কাজকর্ম করছেন। আমি বারান্দায় বসে থেকে থেকে ঘুমিয়ে পড়েছি কখন!
হঠাৎ শিরশির করে উঠল শরীরটা। একটা ঠান্ডা স্পর্শ আমার পা বেয়ে উঠছে! চমকে উঠে তাড়াতাড়ি পায়ের দিকে তাকিয়েছি। কিচ্ছু নেই কোথাও, নিদেনপক্ষে একটি পিঁপড়েও নয়! অথচ স্পর্শটা ভুল অনুভব করেছি, এমনও নয়! তাহলে? আর ঘুমুতে পারলুম না। চারপাশে অসীম নৈঃশব্দ বিরাজমান। দুপুরের ছবি যেমন হয়! অর্জন এখনও আসেনি! ঘড়িতে দেখি বারোটা বাজে। দুটোতে টিফিন টাইম।
অর্জনের টেবিল থেকে একটা রহস্য-গোয়েন্দা বই নিয়ে ফের বারান্দায় গিয়ে বসেছি। খানিক পরে ফের চোখ জুড়ে গেল ঠান্ডা বাতাসে। এবং তন্দ্রাটা কেটে গেল ফের সেই শিরশিরে অনুভূতিতে। কিছু একটা আমার পা বেয়ে বেয়ে উঠে আসছে! ঠান্ডা অনুভূতি। আমি সম্পূর্ণ জেগে আছি। আমার পা বেয়ে সেই আগের মতই হিম কিছু উঠে আসছে! পা নাড়াতে ভয় পাচ্ছি। নড়লেই যদি ছোবল দেয়! সেটা যে সাপ, আমি বুঝে গিয়েছি। চোখ বুজে বসে নরক যন্ত্রণা অনুভব করে যাচ্ছি।
এমন সময়—কী? ঘুমিয়ে পড়েছেন? চা খাবেন? বউদি ওদিকের জানালা দিয়ে আমার উদ্দেশ্যে চেঁচাতেই মুহূর্তে সেই অনুভূতিটা সড়সড় করে নেমে গেল পা থেকে! আমি হৃৎপিণ্ডের ধকধকানি টের পাচ্ছিলাম। আস্তে চোখ খুলে দেখি জানালায় বউদির হাসিমুখ। আর বারান্দায় কিচ্ছু নেই!
চা খাব বলাতে বউদি খানিক পরেই চা নিয়ে এলেন। আমি গরম চা গলায় ঢালতেই সাহস ফিরে পাচ্ছিলুম। বউদিকে জিজ্ঞাসা করলুম,—বউদি, এখানে কি অস্বাভাবিক কিছু আছে?
—মানে? বউদি একটু অবাক।
—মানে...তেমন কিছু নয়। আসলে আমার একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল। মনে হল, কিছু একটা পা বেয়ে উঠে আসছে।
—ওহ, স্বপ্ন দেখছিলেন। নতুন জায়গা। নির্জন পরিবেশে এমনটা হয়।
টুকটাক কথাবার্তার পরে বউদি চলে গেলেন। আমি উঠে চারপাশ বেশ করে খুঁজে পেতে দেখলুম। মনটা উদ্বিগ্ন হয়ে রইল। অর্জনের এধরনের অভিজ্ঞতা হলে বউদি জানতেন। আমার কেন হচ্ছে এমন?
অর্জন, ইন্দ্রবাবু দুজনে একই সঙ্গে ফিরলেন। অর্জনের সঙ্গে খেতে বসলুম। ডিমের ঝোল, মাছ ভাজা, মুসুরি ডাল। লেবু হলে ভালো হত। কিন্তু শীতের সময়ে এদিকে লেবু পাওয়া যায় না। আমি এখানে আসার সময় একটি লেবুগাছ দেখেছি। সেই গাছের নীচে একটি সাপ শুয়েছিল। আমার সাড়া পেয়ে সাপটি নড়েচড়ে ঝোপের ভেতরে ঢুকে গেল। ওই গাছে লেবু ছিল। দরকার নেই বাবা ওই লেবু খেয়ে। সাপটা হয়তো লেবুর ওপর দিয়ে হিলি হিলি করে চলে গেছে!
বিকেলের দিকে অর্জন একটা গন্ধরাজ লেবু নিয়ে এল। ঝোপে ঝাড়ে লেবু গাছ আছে। ও দেখেছিল আগে। রাতে লেবু কেটে থালায় নিতেই কেমন করে উঠল শরীরটা। লেবুর গন্ধে কেমন ঝিমিয়ে পড়ছি যেন। আমি লেবু খেলাম না। রাত করে লেবু খেলে অ্যাসিডিটি হতে পারে। তাই, অর্জনও খেল না।
এদিকে রাতে ভালো ঘুম হল না। কী এক অস্বস্তি! আমি পাশ ফিরে শুতে যাচ্ছি, ঘর অন্ধকার হলেও আমি বুঝতে পারলুম আমার পায়ের কাছে কেউ দাঁড়িয়ে আছে! আমি তার গায়ের গন্ধ পাচ্ছি। বাসি জামাকাপড় থেকে বা ধরুন বৃষ্টি ভেজা জামাকাপড় থেকে যেমন গুমসো গন্ধ বের হয়, তেমন গন্ধ আসছিল তার শরীর থেকে।
আমি পুরোপুরি চোখ খুলে তাকে দেখার চেষ্টা করলুম। একজন কেউ ...দাঁড়িয়ে আছে আমার পায়ের কাছে! বন্ধ ঘরের ভেতরে ঢুকল কী করে? আমি বালিশের তলা থেকে আমার পিস্তল বের করলুম...! একটা চিৎকার হল। অর্জন লাফিয়ে উঠেছে। আমি উঠেই টর্চটা নিয়েছি হাতে। ঘরের এদিক ওদিক আলো ফেলে কিছুই দেখতে পেলুম না। আশ্চর্য! এত ভুল হবে?
অর্জন হ্যারিকেন জ্বালিয়ে ফেলেছে। পিস্তলের গুলি গায়ে বিঁধেছে বলেই সে চিৎকার করেছিল! তাহলে রক্তের দাগ থাকবে না? আমি অর্জনকে বললুম,—চল, দরজা খুলে দেখি। দুজনে দরজা খুলে হ্যারিকেন হাতে বের হলুম। বাইরে শীতের ঝাপটা এসে চোখে মুখে লাগল। অর্জন বলে উঠল,—ওটা কী?
দেখি, বারান্দার মেঝেতে রক্তের দাগ। কিছু যেন ছেঁচড়ে গেছে। যেদিকে গেছে, সেদিকে এগিয়ে গেলুম। রক্তের দাগ এগিয়ে গেছে। আমরা যেতে যেতে দাগটা দেখতে পেলুম না। জঙ্গলের মধ্যে মিলিয়ে গেছে। অর্থাৎ, যে এসেছিল, সে জঙ্গলের দিকে গেছে।
পরের দিন আমাদের রান্নার মাসি খবর দিল, পুকুরঘাটে একটি মহিলা আহত হয়ে পড়ে আছে। রক্তে মাখামাখি শরীরটা!
দেখতে গিয়ে অবাক হয়ে গেলুম। মহিলাকে গুলি করা হয়েছে। অর্জন আশ্চর্য চোখে আমার দিকে তাকাল।
ইন্দ্রদা মুখ খুললেন,—আমি জানতাম দাসীবালা ফিরে এসেছে। বাজারের দীপক চৌবে বলেছিল, দাসীকে কারা দেখেছে। সে কে, কোথা থেকে এসেছে, কেউ জানে না। কালাযাদু নামে এক ভয়াবহ যাদু জানে। ওকে অনেকবছর দেখা যায়নি। সে রাতে আমি মানুষ দেখেছিলাম। পরে দেখা গেল একটি গরু জাবর কাটছে! এটা হতেই পারে না। কিন্তু, আপনি আসার পরে যেটুকু ঘটনা ঘটল, আমার বিশ্বাস এটা দাসীবালার কাজ।
আমি বিস্মিত,—কিন্তু দাসীবালা আমার ঘরে ঢুকল কী করে? আর আমাকেই বা কেন নজর দিয়েছে?
—ওর সঙ্গে আপনার দেখা হয়েছিল ঠিক কোথাও। এমন সময়ে দেখা হয়েছিল, যখন ওর খিদে পেয়েছে। দেখা হওয়ার পরে আপনাকে ও খাদ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে ফেলেছিল। আর তাই গ্রাস করতে আসছে বারবার।
আমার সঙ্গে কোথায় দেখা হল দাসীবালার? ওই বালতি হাতে ভেজা শাড়ি পরা মহিলা? স্নান করে ফিরছিল? তখন ওর খিদে পেয়েছিল! বারবার তাই কি ওকে মনে পড়ছে আমার? সেই দৃষ্টি ভুলি কী করে?
আমি ক্ষিপ্ত,— পুলিশে দিলে হয় না? ওই যে পড়ে আছে, পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দিন। বলেই তাকিয়ে দেখি, পুকুরঘাটে একটা লম্বা ধূসর রঙা রক্তাক্ত সাপ মরে পড়ে আছে! সে কী? মহিলাটি কোথায় গেল?
—ইচ্ছেমতো দেহ ধারণ করতে জানে দাসীবালা। ইন্দ্রবাবু ফিসফিস করেন,—ওই পাশেই দেখুন ওর শাড়িটা পড়ে আছে...। দাসীবালা ময়াল হতে ভালোবাসত।
আমার চোখে ভেসে উঠল লেবুগাছের নীচে শুয়ে থাকা ময়ালটিকে। আর তারপরেই দাসীবালাকে দেখেছি, সে জল নিয়ে আসছিল ঝোপঝাড় ঠেলে।
ওটাই আমার শেষ শিকার।
...একটু চা...!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন