সাগরিকা রায়

স্কুলে যাতায়াতের রাস্তায় দেখতাম সাদা বাড়িটাকে। বাড়ির লোকজনকে কখনও দেখা যেত না। বিতান বলেছিল, একদিন একটা বুড়িকে দেখেছিল ওই বাড়ির সামনে। কিন্তু রজতদা বলল, কখনোই কোনও বুড়ি ওই বাড়িতে থাকে না। কারন রজতদা বাড়ির পাশ ঘেঁষা রাস্তাটা দিয়ে জিতেনস্যারের কাছে টিউশন পড়তে যেত দুবছর আগে। বাবা! এতদিন ধরে বাড়িটা ফাঁকা পড়ে আছে? বুড়িটা যদি না থাকে তাহলে কারা থাকে ওই বাড়িতে? রজতদা মুখ বেঁকিয়েছিল কেমন একরকম করে। একটু ত্রাস এবং ভয় থেকে পাওয়া দূরত্ব নিয়ে বাড়িটিকে ভাবছিল রজতদা।
'—জানি না। দেখিইনি কাউকে কখনও। এই বড় তালা দেওয়া বাড়ি। রাতের বেলা কাচের জানালায় আলো চলকে ছলকে যেতে থাকে। ওটা বাড়ির ভেতরের আলো? নাকি বাইরের রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলে যায়, সেই গাড়ির আলো? বুঝতে পারিনি। তবে বড্ড রহস্যময় মনে হয় বাড়িটিকে। জানি না ভাই!
এই সব শুনে অব্দি ভেবেছিলাম এইরকম বাড়িকেই তাহলে পোড়ো বাড়ি বলে। আসলে পোড়ো বাড়ি শব্দটা শুনে মনে হতো যে বাড়িটা আগুনে পুড়ে গেছে। কিন্তু সনকাদি বলেছে, পোড়ো মানে হল পরিত্যক্ত। এই শব্দটা আরও বেশি আকর্ষণীয়। কারা ছিল ওই বাড়িতে? কেন চলে গেল তারা? বাড়িটাতে কি তাদের ব্যবহার করা জিনিসপত্র আছে?
খুব ইচ্ছে করে বাড়িটার মধ্যে যেতে। কী কপাল! ভাবতে ভাবতেই একদিন সেই সুযোগ এসে গেল। গাছের চারা দিতে এসেছিল নার্সারির রুইদাস। ও নাকি ওই বাড়িটার কাছাকাছি কোথায় চারা দিতে গিয়েছিল। শুনে খুব মজা পেয়েছি। তাহলে রুইদাস অনেক কিছুই দেখেছে!
প্রশ্নটা শুনে রুইদাস মুহূর্তে গম্ভীর—ওসব ভুলে যাও। এসব নিয়ে বেশি ভেবনা।
—কেন? ভুলে যাও বললেই কি ভোলা যবে? এখন তো মনে হচ্ছে বাড়িটা বেশ বেশ রহস্যময়! কী রহস্য ওখানে বলো না রুইদাস! একটা বাড়ি কেন ফাঁকা পড়ে থাকবে, এবং কেন তুমি বাড়িটাকে ভুলে যেতে বলছ?
রুইদাস খানিক ভেবে, মাথা চুলকে টুলকে বলল—বাড়িটা মায়াবাড়ি! শুনেছি। কেউ ওদিকে যেতে চায় না। ভয় পায়। ওসব নিয়ে ভেব না। পড়াশোনা করো।
রুইদাস চলে যাওয়ার পরে ডিসিশন নিয়ে নিলাম। কাউকে কিছু জানাবার দরকার নেই। আমি একাই চলে যাব। দিনদুপুরে যাব। ভয়ের কী আছে, সেটাই দেখার। তবে,যাব যাব করেও কিছুদিন কেটে গেল। ওই রাস্তায় নিয়মিত যাই। আমার স্কুল ওদিকে ঠিক নয়। যাতায়াতের পথে এক ঝলক বাড়িটা দেখা যায় এই মাত্র! ঝোঁক বলে একটা কথা আছে। বাড়িটাকে নিয়ে ভাবার ঝোঁকটা পরীক্ষার চাপে ফুস মন্তরে উড়ে গেল বলা যায়। সনকাদি আমাকে বাংলা পড়াতে আসে। এখন রবীন্দ্রনাথ, নজরুল নিয়ে আমার প্রাণান্তকর দশা। রাত জেগে পড়া করে ফের ভোরে উঠে পড়তে বসা!
পরিশ্রম একদিন শেষ হল। মাসির বাড়িতে যাব ভেবেছি। মা-র ইচ্ছে রাজস্থান বেড়িয়ে আসার। রানী পদ্মাবতীর মহল দেখার খুব ইচ্ছে মায়ের। যে দীঘিতে রানী স্নান করতেন, সেটা নাকি মা স্বচক্ষে দেখতে পায় কল্পনায়।
বেড়াতে যাওয়ার একটা অন্যরকম আনন্দ আছে। মনটা বাড়িতে থেকেও যেন নেই হয়ে গেছে। উড়ু উড়ু ভাব সবসময়। যার সঙ্গে দেখা হচ্ছে, তাকেই যেনতেন প্রকারেণ জানিয়ে দিচ্ছি—আর বোলোনা, এবারে রাজস্থান যাচ্ছি। মাসখানেক পরে ফিরব। আই পি এল দেখা হবে কিনা! এমনকী মা পর্যন্ত এভাবেই কথা বলছিল পাশের ফ্ল্যাটের কিঙ্কিণী আন্টির সঙ্গে। বাবা অবশ্য চুপচাপ।
আর-মাত্র তিনদিন বাকি বেড়াতে যাওয়ার, তখনই ঘটনাটি ঘটল। স্কুল-লাইব্রেরির দুটো বই ছিল আমার কাছে। ভ্যাকেশনের আগে সেগুলো স্কুলে জমা দিয়ে দেওয়ার নিয়ম।
একটু মেঘলা করে আছে সকাল থেকেই। মা বলেছিল সঙ্গে করে ছাতাটা নিয়ে যেতে। ভেবেছি এই ছুট্টে যাব আর আসব। ছাতা-টাতা মানেই বোঝা! কিন্তু ভাই, কথায় বলে তুমি যাবে বঙ্গে, তোমার কপাল যাবে সঙ্গে। তো, হল কি আমার কপাল আমার সঙ্গে সঙ্গে চলল। স্কুলে বই জমা দেওয়া, রাস্তায় নেমে বিনি আর সানুর সঙ্গে খানিকক্ষণ আই পি এল নিয়ে আলোচনা করা চলল। সানুর কী কাজ ছিল সঞ্জয় স্যারের সঙ্গে, ও চলে গেল।
এখনও স্কুলে গেলে স্যারকে পাবে। এইসময় গুম গুম শব্দে মেঘ ডাকতেই বিনি 'ওরে বাবারে, বৃষ্টি আসছে 'বলে দে দৌড়। আমি হেসে বাঁচি না। বৃষ্টি এল তো কী এল গেল? আর মেঘ ডাকার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি আসে নাকি?
বিনি পালাল। আমার আবার কবিতা লেখার শখ আছে। আমি ঘন কালো মেঘের দিকে তাকিয়ে 'ওই আসে ওই অতি ভৈরব হরষে, জল সিঞ্চিত ক্ষিতি'। বলতে বলতেই ঘন গৌরবে বর্ষা নেমে পড়ল ঘোড়া ছুটে যাওয়ার মতো শব্দ করে। আমি ছুট লাগালাম বৃষ্টির সঙ্গে তাল মেরে। ভিজে জবজবে হয়ে যাচ্ছি।
সোজা বাড়িতেই চলে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কাছাকাছি হল বলে গল্পের বই-এর মতো ঠিক সেই সাদা পরিত্যক্ত বাড়িতে গিয়ে উঠলাম। কাঠের গেট ঠেলতে খুলে গেল বা বলা যায় কব্জা ভেঙে একপাশে কাত হয়ে পড়ে গেল।
এই খা খা মাঠের মধ্যে এই বাড়িটা ছাড়া কোথাও কিছু নেই! ঢুকতেই সামনে ছোট বারান্দা। ধুলোয় ধুলাকার। কতকাল কেউ পা রাখেনি এখানে! যারা থাকত তারা এসে বারান্দায় বসে গল্পগুজব করত। চা খেত। ওদের বাড়ির শেফু এসে চা, ঘরে তৈরি শিঙাড়া দিয়ে যেত মাঝে মাঝে। আর নীলুকাকা শুধু চা খেত। উদাস চোখে তাকিয়ে থাকত এই খা খা মাঠের দিকে! কিন্তু এই কথাগুলো আমি জানলাম কী করে? নীলুকাকু কে? শেফুই বা কে!
খুব জোরে বাজ পড়ল! মাঠের মধ্যে বিদ্যুতের বিশাল লম্বা তরোয়াল যেন ঝাঁপিয়ে পড়ল মাঠটাকে কেটে কুচি কুচি করার জন্য। কিছুক্ষণের জন্য চোখে ধাঁধা লেগে গিয়েছিল। এখন চারটে বাজে হয়তো। অথচ দেখো, যেন সন্ধে নেমে এসেছে।
বাড়ির সামনে একপাশে তুলসীমঞ্চ আছে? দেখিনি এতক্ষণ। বাসি ফুল ফেলে ছোট পেতলের বালতি থেকে জল ঢেলে ঢেলে তুলসী মঞ্চ ধুয়ে ফেলছে কে একজন। ধুয়ে দিয়ে বালতিটা নিয়ে সে চলে গেল সাইডের সরু প্যাসেজ দিয়ে। ওই দিক দিয়েই একটি বউ প্রদীপ নিয়ে আসছিল। পাছে বাতাসে নিভে যায়, তাই হাত দিয়ে আগুনটুকু আগলে রেখেছিল। তুলসী মঞ্চে প্রদীপ রেখে ঘাড় নামিয়ে প্রণাম করছিল সে। তখন দেখি তার দু-পায়ে লাল টুকটুকে আলতা পরা।
মাকে দেখেছি দুর্গা পুজোর দিন কখনও আলতা পরতে ঠাম্মির অনুরোধে। বাড়ি ফিরে এসে ঘষে ঘষে আলতার দাগ তুলে ফেলে মা। এই জায়গাটা ভারি নির্জন। কোথাও কোনও শব্দ নেই। আমাকে ওরা কেউ কি দেখেনি? ওদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি, ওরা রাগ করতে পারে!
ভাবতে ভাবতেই বউটি পেছন ফিরে তাকাল। আমার দিকে তাকিয়ে সুন্দর করে হেসে চলে গেল সাইডের সরু প্যাসেজ দিয়ে। আমার খুব খুব ইচ্ছে করল বউটির পেছন পেছন যেতে। আমিও ওদিকে পা বাড়ালাম। যাই একটু দেখে আসি ওদের বাড়ির ভেতরটা। লোকে কেন যে বাড়িটাকে পোড়ো বাড়ি, মায়াবাড়ি বলে!
সরু প্যাসেজটা অনেকটা লম্বা। আমি যখন প্যাসেজে পা রেখেছি, বউটিকে তখনও দেখা যাচ্ছে। তারপরে বউটি বাঁ-দিকে বাঁক নিয়ে চলে গেল আর আমি ওই প্যাসেজের মধ্যে একেবারে একা হয়ে গেলাম। বৃষ্টি ঝরা গুমগুমে সন্ধে নামা বিকেলে এক অজানা, অচেনা বাড়ির সরু প্যাসেজের মধ্যে আমি একা একা এগিয়ে যাচ্ছি যেদিকে বউটি চলে গেছে!
যেতে যেতে হাঁপিয়ে যাচ্ছিলাম। দুপাশে চাপা দেওয়ালের মধ্যে এই যে সরু প্যাসেজ, সেটা ভেজা ভেজা মাটির। কিছু কুঁচোনো পাথরের কুচি ছড়ানো আছে রাস্তাটায়। আমার চপ্পল ভিজে গেছে বলে পাথরের কুচির উপর দিয়ে হাঁটতে অসুবিধে হচ্ছিল। বউটি এই সরু পথ দিয়েই তো গেছে। এত সময় লেগেছে কি? মনে তো হয়না। আমি এসেও দেখেছি তাকে হেঁটে বাঁ-দিকে বাঁক নিতে! আমার কেন এত সময় লাগছে!
আর দুটো মানুষকে দেখেছি। মানে হল, এখানে মানুষ থাকে। কিন্তু ঘনায়মান সন্ধের থমথমে নির্জনতায় মানুষের সাড়া পাচ্ছি না কেন? একবার দাঁড়ালাম। আর কি এগোনো ঠিক হবে? মন একবার টানছে, একবার পিছিয়ে দিচ্ছে।
শেষে ইচ্ছের জয় হল। বা বলা ভালো কৌতূহলের জয় হল। আমি এগিয়ে চললাম। কিছুটা যেতেই ঝট করে রাস্তাটা বাঁক নিয়ে নিল। বাঁ-দিকে মোড় ঘুরতেই দেখি সামনে ফাঁকা প্রান্তরের একধারে একটা কালো জলে ভরা পুকুর। পুকুরের ধারে বিশাল অশ্বত্থগাছ। অসংখ্য ডালপালায়, পাতায় ঘন অন্ধকার হয়ে আছে গাছের তলা। পুকুরের ঘাটের সিঁড়ির ধাপ নেমে গেছে জলের নীচে। সেই ঘাটে বউটি আরও অনেকগুলো বউ-এর সঙ্গে চুপ করে বসে আছে জলের দিকে চেয়ে।
লাল টুকটুকে শাড়ি, আলতা পরা বউগুলো কোনো কথা বলছে না। আমি গিয়ে পৌঁছতেই সবাই ওরা একসঙ্গে পেছন ফিরে তাকাল। আমি অবাক হয়ে গেলাম। সকলকেই এক রকম দেখতে! বড় করে সিঁদুরের টিপ, শাঁখা পরা বউগুলো একসঙ্গে হেসে উঠল আমাকে দেখে। হাসতে হাসতে নেমে গেল সিঁড়ির ধাপ বেয়ে। নামতে নামতে জলে নেমে গেল। আস্তে আস্তে জলে ওদের কোমর পর্যন্ত ডুবে গেল। ক্রমশঃ পুরো শরীর জলের তলায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। পুকুরের কালো জলে বউগুলো মিলিয়ে গেল।
আমি ভয়ে কেঁপে উঠেছি। মনে হল পালাতে হবে। যেভাবে হোক এখান থেকে পালাতে হবে। পেছন ফিরে ঘুরে ছুট দিতে গিয়ে থমকে গেলাম। পেছনে সেই সরু প্যাসেজ তো নেই! লম্বা লম্বা সিঁড়ি উঠে গেছে মাটি থেকে উপরে। আমি দিশেহারা হয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে শুরু করলাম। মনে হচ্ছে মাটিতে থাকা আর ভালো নয় আমার পক্ষে।
খানিকটা উঠে পেছন ফিরে সেই কালো জলের পুকুরের দিকে তাকালাম। বউগুলো কি জল থেকে উঠে আসছে? তাকিয়ে আমি হতবাক। কোথায় কী? জল, অশ্বত্থগাছ, প্রান্তর কোথাও কিছু নেই! কিছু ঝোপঝাড় ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না। শুধু দেখা যাচ্ছে না তাই নয়, আর কিছু নেইও! অদ্ভুত কাণ্ড! ভয়ে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে অনেকটা উঠে যেখানে গিয়ে দাঁড়ালাম, সেটা একটা বারান্দা। বারান্দায় একটা দোলনা ঝুলছে। দোলনা দেখে ভারি ভালো লাগল। আমাকে দেখেই যেন দুলতে শুরু করেছে দোলনাটা। আমি দোলনায় উঠে বসলাম। দোলনা দুলছে। ভারি ভালো লাগছে।
ঘোর অন্ধকার হয়ে এসেছে। চারপাশে আলো বলতে আকশের দু চারটে তারা দেখছি। কেন মনে হচ্ছে এ-বাড়িতে আমি থাকতে এসেছি নীলুকাকাদের মতো। শেফু নামের কাজের মাসিকে খুব চেনা চেনা লাগছে। যেন অনেকদিন আগে ওদের দেখেছি। ওরা এখানেই আছে কোথাও!
দোলনায় দুলছি। ভারি আরামবোধ হচ্ছে! একবার মনে এল বাড়ি যেতে হবে। কিন্তু বাড়িটা কোথায়...।,কার বাড়ি...। কিছু মাথায় এল না। গা ঝমঝম গয়না পরে কে যেন উঠে আসছে নীচে থেকে! লাল টুকটুকে শাড়ি পরা কে একজন! ওমা, তার পেছনে সারি বেঁধে আরও আরও বউ ভেজা জল সপসপ শাড়ি পরে উঠে আসছে। তাদের গয়নার শব্দ হচ্ছে ঝমর ঝমর ছম ছম!
উঠে আসতে আসতে বউগুলো ঘোমটা তুলে একসঙ্গে সবাই মিলে আমার দিকে চোখ তুলে তাকাল! সেই চোখগুলো ঘন কালো জলের মতো অতলান্ত! আমার মুখের দিকে তাকিয়ে ওরা হেসে উঠল! একসঙ্গে যেন অঝোর ধারায় বৃষ্টি হচ্ছে,ওদের হাসির শব্দ এমন! আমি সেই শব্দের গভীরে ডুবে ডুবে যাচ্ছি! ওহ! মা!
এই বাড়িতে থাকতে থাকতে মাঝে মাঝে অনেক আগের একটা বাড়ির কথা ঝট করে মনে এসে ফের চলে যায়। মা ছিল...বাবা, বুনু...। স্কুল...। কোথা থেকে ছম ছম জল সপসপ শব্দে সব কথা, সব মনে পড়া হু হু করে উড়ে যায় বাতাসে। ঘুটঘুটে অন্ধকার বাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে আছি কবে থেকে। বের হতেই জানি না! আমার শরীরটা ছোট দোলনায় দোল খাচ্ছে একা একা একা...!
এক বৃষ্টির বিকেলে দুটো ছেলে এই বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আঙুল তুলে বাড়িটা দেখিয়ে বলল— ওই দ্যাখ, পোড়ো বাড়ি! কেউ থাকে না ওখানে। অনেক অনেক বছর আগে একটা মেয়ে ওই বাড়িতে ঢুকেছিল, আর কেউ ওকে দেখতে পায়নি! মায়া বাড়ি কিনা। আটকে পড়েছে। চল ভাই, এখানে দাঁড়াব না।
খুব মেঘ করেছে আজ। ছেলে দুটো চলে যাচ্ছে। ওদের ডেকে কথা বলতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু আমি এখন কথা বলতে পারি না। অনেক অনেক বছর কথা বলিনি কারও সঙ্গে। কথা বলতে ভুলে গেছি। নাকি শরীর না থাকলে কথা বলা যায় না?
আমার শরীরটা দোলনায় দুলছিল। আমিও পাশে গিয়ে বসলাম!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন