খোদা আর ঈশ্বরের লড়াই

কমলেশ সেন

যশ পাল

খোদা আর ঈশ্বরের লড়াই

যশপালের জন্ম পাঞ্জাবে, কাঙ্গরা জেলার হাশিমপুরে। প্রেমচন্দ-এর পরে হিন্দি সাহিত্যে তিনিই সবচেয়ে জনপ্রিয় কথাশিল্পী। জীবন এবং জীবন সংগ্রামের বৈচিত্র্যময় খাদ-নিখাদে তিনি ওঠা-নামা করেছেন। করেছেন তার কারণ তাঁর জীবনটাই ঘটনাবহুল এবং বৈচিত্র্যময়। সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন থেকে সাম্যবাদী আন্দোলনের দীর্ঘ কঠিন পথ ধরে তিনি এগিয়েছেন। এই এগিয়ে চলার পথে তিনি দেখেছেন এই দেশের মানুষকে। ‘অমিতা’–তাঁর প্রথম উপন্যাস। তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনা ‘সিংহাবলোকন’ উত্তর ভারতের সন্ত্রাসবাদী এবং বিপ্লবী আন্দোলনের এক সুদীর্ঘ ইতিহাস। উপন্যাসগুলির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘পার্টি কমরেড’, ‘দাদা কমরেড’,‘দেশদ্রোহী’,‘পাকা কদম’, ‘মনুষ্য কেরূপ”, “দিব্যা’। সাহিত্য আকাদেমি উনিশ শ' ছিয়াত্তরে তাঁর ‘তেরি মেরি উসকি বাত'-কে শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবে পুরস্কার দেয়। তাঁর মৃত্যু হয় ১৯৭৬ সালের ২৬শে ডিসেম্বর মাসে।

গভীর অন্ধকার। নিস্তব্ধ কার্ফুর রাত্রি ।

‘গংগু কী গলি।’ গলির দুদিকে সার সার দোতালা তেতলা দালান। একটিও দালান কোঠার বন্ধ দরজা জানলা দিয়ে আলোর রশ্মি দেখা যাচ্ছে না। বাড়িগুলোতে কোন জনপ্রাণী আছে বলেও মনে হচ্ছে না। বাজার থেকে যে ইলেকট্রিক লাইন গলিতে টেনে নেওয়া হয়েছিল, দিন-চার আগে বাজারে আগুন লাগার জন্যে সেই লাইন পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছে। ফাঁকা জনপ্রাণীশূন্য বাড়িগুলো যে থমথমে ভাব সৃষ্টি করেছে, সেই থমথমে ভাব যেন গলির অন্ধকারকে আরও ভয়াবহ এবং গভীর করে তুলেছে। গলির মুখেই ডান এবং বাঁ দুদিকে প্রসারিত ‘সৈদ মিঠা' বাজারও কেমন একটা থমথম করছিল। জনপ্রাণীশূন্য উজাড় বাজারে শুধু ইলেকট্রিক লাইটগুলো টিমটিম করে জ্বলছে, আর এই টিমটিমে আলো যেন নিস্তব্ধতার যে বৈরাগ্য, সেই বৈরাগ্যকে ক্রমেই বাড়িয়ে তুলছে।

দেশ বিভাগের খবরে, লাহোরের গুলজার এবং গুজ্জান দু-মহল্লার দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমুল দাঙ্গা হয়ে গিয়েছে। ফলে দু জায়গার মানুষই ভয়ে আতঙ্কে বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। সাম্প্রদায়িক ঘৃণায়—হিন্দু এবং মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ই সংহার মূর্তি ধারণ করে এবং উন্মাদ হয়ে ওঠে। এই উন্মত্ত পাগলপণ দাঙ্গা বন্ধ করার জন্যে সরকার কার্ফু জারি করে। কার যে আতঙ্ক, সেই আতঙ্ক রাত্রির নিস্তব্ধতাকে আরও ভারাক্রান্ত এবং গভীরতর করে তুলেছে। শহরে যে আতঙ্ক এবং নিস্তব্ধতা ছেয়ে রয়েছে, তার ওপর মুশলধারে আছড়ে পড়ছে আগস্ট মাসের বৃষ্টি। বৃষ্টির ঝাপটায় হাওয়া এমনই কাবু হয়ে পড়েছে যে, একটুও হেলতে-দুলতে পারছে না ।

‘গংগু কী গলিতে যে সব হিন্দু থাকত, তারা তেরোই আগস্ট বাড়িঘর ফেলে পালিয়েছে। শুধু মুলাঁই (মূলদেই জ্যেঠি) রয়ে গিয়েছে। বাজারের কাছে, গলি যেখানে শেষ হয়েছে, সেখানেই গোটা কয়েক ছোট-মোট দোকান । এই ছোট দোকানগুলো হচ্ছে মুসলমানদের—নিয়ামত দর্জি, কলাইকর রসিদ, নজু পটুয়া, নেচেওয়ালা লতিফের। আগস্ট মাসের গোড়া থেকেই তারা ‘গংগু কী গলি’র এ মুখো হয়নি। শুধু গলির মুখে যে দোকান সেই দোকানের মালিক ললারি (যে কাপড় রঙ করে) ফজ্জে আর তার ছেলে নসরুই শুধু অনন্যোপায় হয়ে রয়ে গিয়েছে। চার হাত লম্বা আর দু হাত চওড়া এই দোকান ঘরই তাদের মাথা গুজবার একমাত্র ঠাঁই। ফজ্জের নীচু আর ছোট ঘর বা দোকান যাই বলুন না কেন, তার কড়ি-বরগার সঙ্গে অসংখ্য তার টানানো। তারগুলো খালি পড়ে রয়েছে। দাঙ্গার আগে, সুদিনে ফজ্জে আর নসরু পাগড়ি, শাড়ি এবং ওড়না রঙ করে তাতে কলপ আর অবরক লাগিয়ে এই তারগুলোতে টান টান করে শুকোতে দিত। দোকান ঘরে পাল্লা ছাড়া একটা আলমারিও রয়েছে। রঙের পুরিয়া, ডিব্বা এবং হাজার রকম টুকিটাকি জিনিসে তা ভর্তি। ঘরের এক কোণে বাপ-বেটার যাবতীয় সম্পত্তি— অ্যালুমিনিয়ামের কলাইকরা লোটা, ডেকচি এবং একটি থালা। আর চাটাইয়ের ওপর থাকে তাদের পরনের দু'চারটে জামা কাপড়। কাপড় রঙ করার মাটির চাড়ি এবং কলপ তৈরির হাড়ি রাত্রে তারা দরজার কাছে বৈঠকি গল্প করার যে মাচা পাতা রয়েছে তার নীচে রেখে দিত। গলির লাগোয়া যে প্রাচীর, সেই প্রাচীরের শেষ প্রান্তে রাখা থাকত জলের মটকা। ফজ্জে আর নসরুর ঘরে শোয়ার খুব একটা দরকার পড়ে না। লাহোরের প্রচণ্ড শীতের বা বর্ষার দিনগুলোতেই ওরা ঘরে ঘুমোয় । তাছাড়া ফজ্জে দোকানের চৌকাঠের সামনেই রাতটা কোনমতে কাটিয়ে দেয়, আর নসরু গলিতে আসা-যাওয়ার রাস্তা ছেড়ে দিয়ে একটা চাটাই বিছিয়ে শুয়ে পড়ে।

চাটাই-এ শুয়ে শুয়েই ও রাতের এক প্রহর পর্যন্ত ‘হীর’ বা ‘টপ্পা’ গেয়ে চলে।

নসরু আর রমেশের মধ্যে ‘হীর’ এবং টপ্পা'-র জোর লড়াই চলে। রমেশরা ফজ্জের দোকান ছাড়িয়ে দুটো বাড়ি পরে দোতালায় থাকে।

রমেশ তাদের বাড়ির গেটের কাছে বসে, দুকানে হাত রেখে গলা ছেড়ে তান ধরে; আর নসরু গলির চাটাই-এ বসে, কানে হাত রেখে, রমেশের বাড়ির দিকে মুখ ঘুরিয়ে প্রতি উত্তরে গলা সপ্তমে চড়ায়। কখনও কখনও বা তারা দুজনে রমেশদের বাড়ির চত্বরে বসেও এক সঙ্গে তান ধরে।

উনিশশ সাতচল্লিশের জুলাই পর্যন্ত ‘সৈদ মিঠা'-তে হিন্দুদেরই বেশি আধিপত্য ছিল। ইতিমধ্যে বাজারে তিন-চারজন মুসলমান মারাও গিয়েছে। মুসলমানরা এখন আর এই বাজারের রাস্তা ধরে যাতায়াত করে না, ফলে ‘গংগু কী গলি’-তে মুসলমানরা তাদের ছোট ছোট দোকানপাট বন্ধ করে রেখেছে। ‘গংগু কী গলি’-তে অন্য মুসলমানদের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও ফজ্জে এবং নসরু কিন্তু সেখানেই রয়ে গেল। ফজ্জে ভয়কে লুকিয়ে, আল্লার ভরসায় নিজেকে সঁপে দিল। তাছাড়া এই গলিতে আজ দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে ফজ্জে আছে, সেটাও তার কম ভরসা নয়। গলির কাচ্চা-বাচ্চা আর তরুণ-তরুণী সবাই তাকে মামা বলে ডাকে। বাড়ির বৌ-ঝি আর বড় মেয়েরা মাথার আঁচল না টেনেই ওড়না, শাড়ি এবং পাগড়ি রঙ করানোর জন্য তার দোকানে আসে। মনের মত রঙ না হলে, বা কলপ এবং অবরক কম হলে তারা তার সঙ্গে ঝগড়া করতেও ছাড়ে না। বাচ্চারা ছেঁড়া ঘুড়ি ঠিক করার জন্যে তার কলপের হাঁড়ির মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে কলপ নিয়ে ছুটে পালাত ।

ফজ্জে চিৎকার করে নসরুকে বলত, নসরু, ধর ধর, চোর পালাল। ... গলিতে যে সরু হাত দশেক লম্বা বাঁশ দড়ি দিয়ে ঝোলানো থাকত, তা নামিয়ে নিতে নিতেই বাচ্চারা এক এক লাফে সটান তাদের ছাদে গিয়ে উঠত। গলির বৃদ্ধা, বৌ, মেয়ে সবার নাম-ধামের সঙ্গে সে পরিচিত। তাই এদের ছেড়ে সে কোথায় যাবে? অন্য জায়গায় ওর আপন বলতে আর কে আছে !

‘গংগু কী গলি’-তে মুসলমানদের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হিন্দুরা নিজেদেরই জয় অনুভব করল। ফজ্জে আর নসরু তাদের দোকানপাট ফেলে পালিয়ে না যাওয়ায়, দু-চারজন হিন্দু তা চ্যালেঞ্জ বলে মনে করল। এখন আর কেউ রঙ করার জন্যে তাদের কাপড় দিতে আসে না। কর্মচন্দ একদিন তাকে চোখ রাঙিয়ে বলেছে, “কি মিঞা তোমার ব্যাপার-স্যাপার কী?'

ফজ্জে হাত জোড় করে বলেছে, “বাদশা, তোমার যা ইচ্ছে—তোমার যা হুকুম তাই-ই হবে। চল্লিশ বছর ধরে আমি এই গলির নুন খাচ্ছি, নিজের বলতে অন্য কোন জায়গা নেই। তুমি যদি ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দাও, চলে যাব। অন্য কোথাও আমার যাওয়ার জায়গা নেই। বাদশা, এ রকম ঝড় তো হয়-ই, আবার থেমেও যায় । মাথা গরম করে কী লাভ, বল ?”

হরচরণ পন্সারি মধ্যস্থতা করে বলে, “আরে ওকে থাকতে দাও, ও থাকলে কার কী আসে যায় ? কালই যদি গলির বৌ-ঝিদের শাড়ি, ওড়না রঙ করার দরকার হয়, তখন কে করবে?” –কিন্তু কর্মচন্দ-র সাত বছরের ছোট ভাই ধর্মচন্দ এবং রমেশের ছোট ভাই রাজেশ তাদের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাকে কিছুতেই বশে আনতে পারছিল না। ওরা লাট্টু দিয়ে গাচ্ছা মেরে গলিতে রাখা ফজ্জের মটকা ভেঙে ফেলল। দিন পনেরো আগেও এমন ঘটনা ঘটলে ছেলেরা বকাবকি খেত। কিন্তু আজ ছেলেদের কেউ একটি কথাও বলল না ৷

নসরুর রক্ত ওর বাবার মতো ঠাণ্ডা নয়। মটকা ভেঙে দেওয়ায় তার রক্ত গরম হয়ে উঠল। সে কাফের হিন্দুদের এ অপমান কিছুতেই সহ্য করতে পারছিল না। শহরের অন্য মুসলমানরা যা করছে, সেও তাই করতে চাইল । পাকিস্তানের জন্যে যে ধর্মযুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে, সেই ধর্মযুদ্ধে অংশ গ্রহণের জন্যে সে আকুল হয়ে উঠল। কিন্তু তার ভীরু প্রকৃতির বাবার যে জিদ সেই জিদের জন্যে ওর নিজের ইচ্ছেকে দাবিয়ে রাখতে হল। হিন্দুদের দুর্গের মধ্যে বৃদ্ধ বাবাকে একলা ফেলে রেখে সে কেমন করে যায় ? বেশ কয়েকদিন ধরেই নসরু তার বাবাকে গলি ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার জন্যে বোঝাল। কর্মচন্দ শাসিয়ে যাওয়ার এবং মটকা ভাঙার পর নসরু রাগে দাঁতে দাঁত পিসে ওর বাবাকে বলল “শালা এই কাফেরদের মার ... এখানে আর থাকা সম্ভব নয়। চল অন্য কোথাও জায়গা না পেলে মসজিদ বা দরগায় গিয়ে থাকব।”

ফজ্জে নীচু গলায় ছেলেকে ধমক দিয়ে বলল, “চুপ কর শুয়োরের বাচ্ছা, খুব বাড় বেড়েছ। এখনও এমন কিছু ঘটেনি, এরকমই হয়ই। বেকুফের মতো কথা বলিস না, ... এই দোকান আমার বাপ করে গিয়েছে। এই ঘরে তোর জন্ম হয়েছে। তোর জন্মের সময় এই গলির বৌ-ঝিরা তোর মাকে দেখাশোনা করেছে। এই ঘরেই তোর মার মৃত্যু হয়েছে। আর এই গলির নুন খেয়েই তুই বড় হয়েছিস, তোর শরীরে বল এসেছে। চুপচাপ বস, সব ঠিক হয়ে যাবে।”

হিন্দুরা ফজ্জেকে যে অপমান করেছে, সেই অপমান গলাধঃকরণ করে নসরুকে কড়া ধমক দিল সে। ফজ্জের ধমক খেয়ে যুবক নসরুর চোখ জলে ভরে ওঠে। ও ফুঁপিয়ে বাবাকে বলল, “তোমার শরীরে মুসলমানের রক্ত নেই।”

ফজ্জে রাগে রি রি করে উঠল, “তেরি মা কি, ... শুয়োর, তুই বড় মুসলমান হয়েছিস ! তুই-ই একমাত্র দীনদার গাজি, না? তোর ঠাকুর্দা মুসলমান ছিল না ? তুই কোন মুসলমানের বাচ্চা? তোরা সব নতুন মুসলমান হয়েছিস? শুয়োর চুপ করে বস।”

উনিশশ সাতচল্লিশ সাল, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহেই সৈদ মিঠা বাজারের অবস্থা পালটে গেল। দু-দুবার মুসলমানরা আক্রমণ করল। হিন্দুদের অনেক বাড়িঘর এবং দোকানপাট জ্বালিয়ে দেওয়া হল। এখন দোকানপাট প্রায়ই বন্ধ থাকে। ‘গংগু কী গলি'-র সমস্ত বাসিন্দাই হিন্দু। লাহোর ছেড়ে ইতিমধ্যে হাজার হাজার পরিবার পালিয়েছে। তা সত্ত্বেও ‘গংগু কী গলি’-র হিন্দুরা এই গলিতেই জাঁকিয়ে বসে থাকা ঠিক করল। ঔরঙ্গজেব ও নাদির খাঁকেও আমরা ডরাই না—জিন্না আর মুসলিম লিগ আমাদের কী করবে? আমরা আমাদের ধর্মও ছাড়ব না, আমাদের বাড়িঘর ছেড়েও পালাব না। কিন্তু সৈদ মিঠাতে আগুন, খুনখারাপি, লুটতরাজ শুরু হয়ে গেলে ভয়ে বেশ কয়টি পরিবার পালিয়ে যায়। আর যারা পড়ে রইল তারাও আর ভরসা না পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্যে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠল। থেকে গেল শুধু মুলাঁ জ্যেঠি।

বছর ছাব্বিশ আগে মুলা জ্যেঠি বিধবা হয়েছে। ভগবানের কৃপায় ওর তিন তিনটি মেয়ে। মুলাঁ-র স্বামী পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা করে ভাইদের থেকে ভিন্ন হয়ে যায়। মুলা জ্যেঠির সঙ্গেও তার ভাসুর এবং দেওরদের খটাখটি লাগত। সব সময়েই সে মনে করত, আত্মীয়-স্বজন সবাই বুঝি তাকে ঠকাচ্ছে। ‘গংগু কী গলি'-তে তার যে বিরাট বাড়ি, তাতে দুটি ভাড়াটে আছে। সোনার যে গয়নাগাটি ছিল তা বিক্রি করে দিয়ে সে গোপনে অন্যের গয়নাগাটি বন্ধক রেখে সুদে টাকা ধার দিত। সবচেয়ে ছোট মেয়ের বিয়েই হয়েছে আজ থেকে বছর চোদ্দ আগে। ছোট মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর বাড়িতে আর একটি ভাড়াটে বাড়ে। ভাড়াটেদের সঙ্গেও ওর শুধু সম্পর্ক ছিল ভাড়া নেওয়ার। ভাড়া দিতে চারদিন দেরি হলে ভাড়াটেদের চোদ্দ পুরুষকে উদ্ধার করে ছাড়ত । পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গেও ওর কোন রকম সম্পর্ক ছিল না। ঠাকুরের পুজোপাঠ আর জপতপেই ওর সারা দিন কেটে যেত।

গলির হিন্দুরা ভয়ে পালাতে শুরু করলে মুলাঁ তার বাড়ি আর গুপ্ত সম্পত্তির মায়ায় আরও জড়িয়ে পড়ল। সে সময় কারো সঙ্গেই প্রীতির কোন সম্পর্ক ছিল না। নিজের গৃহদেবতা ছাড়া ও দুনিয়ায় আর কাউকে বিশ্বাস করত না। পাড়া-প্রতিবেশীরা ওর এই পাগলামো দেখে বলত, বুড়ি এত টাকা-পয়সা দিয়ে কী করবে? বোধ হয় মন্দির বা ধর্মশালা বানিয়ে নাম কিনতে চায়। এই সংকট মুহূর্তে কেউই স্বেচ্ছায় সহানুভূতিশীল হয়ে বুড়ির বোঝা নিজের কাঁধে চাপাতে চাইল না। নিস্তব্ধ গলিতে মুলা তার বিরাট শূন্য বাড়িতে ঠাকুরকে ভরসা করে একাই রয়ে যায়। আর নীচে, গলির মোড়ে থেকে গিয়েছে কেবল ফজ্জে ললারি ও তার ছেলে নসরু ।

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হওয়ার আগে, ‘গংগু কী গলি'-র প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে ফজ্জের কোন না কোন ভাবে একটা সম্পর্ক ছিল। মুলা জ্যেঠির ছোট মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর থেকে ফজ্জের সঙ্গে মুলাঁ জ্যেঠির সম্পর্ক ছিল শুধু মাস পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গত মাসের ভাড়া নেওয়ার। দু-তিনবার করে তাগাদা না দিলে ফজ্জেও কিছুতেই ভাড়া দিত না । তাই মুলাঁ জ্যেঠি ফজ্জেকে ভাড়ার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যে দোতালার বারান্দায় ফজ্জের দোকানমুখো হয়ে ঠাকুর নিয়ে বসত। আর পুজো করতে করতে সময় মতো ভাড়া না দেওয়ার জন্যে ফজ্জেকে সমানে গালিগালাজ করত ।

গলি থেকে সবাই যখন এক এক করে তাদের জিনিসপত্র আর পরিবার পরিজন নিয়ে পালাত, তা দেখে ফজ্জে দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে বলত, “হায় আল্লা, একী কিয়ামতের দিন এল। সবাই যদি চলে যায় তবে এই উজাড় জায়গায় আমি একা কী করে দিন কাটাব ! ভূতের ডেরায় আমি একা কী করে থাকব !”

কাফেরদের পালাতে দেখে নওজোয়ান নসরু উল্লসিত হয়ে ওঠে। দাঁত পিষতে পিষতে নসরু বলল, “হারামি কাফেরদের জাহান্নামে যেতে দাও। পাকিস্তানে কাফেরদের কোন স্থান নেই।”

কারা কারা যাচ্ছে, আর কারা কারা থেকে গেল, ফজ্জে এক দুই করে গুনে চলল। তেরোই আগস্ট ভোরে সাধুরাম এবং যমুনাদাসও তাদের পরিবার নিয়ে চলে গেল। ওরা চলে যাওয়ার পর ফজ্জে উদাসভাবে তার ছেলের দিকে তাকাল । বলল, “শুধু মুলাঁ জ্যেঠিই রয়ে গেল।”

নসরু মুখ বিকৃত করে উপেক্ষার সাথে বলল, “ও ডাইনি আর কোথায় যাবে । সোনা-রূপো মাটিতে পুঁতে তার ওপরই সাপ হয়ে থাকবে। ও ও আর কোথায় যাবে!” ...

সেদিনই দুপুরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনায় মত্ত মুসলমানদের একটা দঙ্গল হীরামণ্ডির দিক থেকে এসে সৈদ মিঠা বাজারের ওপর চড়াও হল। হিন্দুরা আগেই তাদের দোকানপাটে বড় বড় তালা ঝুলিয়ে পালিয়েছিল। মুসলমানরা পাকিস্তান জিন্দাবাদ, আল্লা-হো-আকবর সলতনে ইলাহি জিন্দাবাদ প্রভৃতি স্লোগান দিতে লাগল । দোকানের তালা ভেঙে তারা লুটতরাজ শুরু করে দিল। কাপড়ের দোকান থেকে লুটেরারা সিল্ক, মখমল এবং মলমলের থান নিয়ে পালাতে লাগল। কেউ কেউ মনিহারি দোকান থেকে বাদাম, কিসমিস, চুহার আটা, সুজি, চিনির বস্তা নিয়ে ভাগল। কেউ কেউ বাসনের দোকান এবং সোনার দোকানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। হৈ-হল্লা শুনে কী হচ্ছে দেখার জন্যে ফজ্জে আর নসরুও গলির মুখ পর্যন্ত এগিয়ে গেল। লোভে নসরুর জিভ জলে ভরে উঠল। ও বলল, “আব্বা এক-আধ থান মখমল বা আটা, চিনির বস্তা যা পাই উঠিয়ে নিয়ে আসি?”

ঘৃণায় ফজ্জে ওকে ধমক দিয়ে বলল, “চুপ করে থাক হারামজাদা।”

নসরু ওর বাবার সঙ্গে তর্ক করে বলল, “কেন, সবাই তো নিয়ে যাচ্ছে। কথায় আছে, এগুলো তো ধর্মযুদ্ধের প্রসাদ।”

ফজ্জের রাগ আরও দ্বিগুণ হয়ে গেল, “শালা, চুরি-ডাকাতি করা জেহাদ, তাই না ? ধর্মযুদ্ধের প্রসাদ তো নয়, শুয়োরের বিষ্ঠা।” ঘৃণায় আর রাগে ফজ্জে একগাদা থুথু ফেলে বাড়ি মুখো হল। এবং নিজের দোকানের চৌকাঠে গিয়ে বসল।

ধর্মের জন্যে নসরুর যে উন্মাদনা, বাবাকে ব্যঙ্গ করেও তা শান্ত হল না। ও সামনে একপা-দুপা করে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে মিশে গেল এবং স্লোগান দিতে দিতে ‘লুহারি মণ্ডি’র দিকে চলল। পথে নিহত তিন জন হিন্দুর লাশ পড়ে থাকতে দেখে ওর উত্তেজনা এবং জেহাদি রক্ত আরও টগবগ করে ফুটে উঠল। ধর্মযুদ্ধের যে লড়াই, সেই লড়াই-এর একজন হওয়ার জন্যে ওর হাত নিশপিশ করতে লাগল।

লাহোরের প্রতিটি বাজারেই এমন লুঠতরাজ আর বিধ্বংসী কার্যকলাপ শুরু হয়ে গেল যে, অবস্থা আয়ত্তে আনার জন্যে লরি ভর্তি সশস্ত্র ফৌজ পাঠাতে হল। গুড়ুম গুড়ুম করে রাইফেল গর্জে উঠল। ভিড় দেখলেই মিলিটারি গুলি চালাতে লাগল। ফজ্জে তার দোকানের চৌকাঠের ওপর বসে বাজারের দিকে তাকিয়ে রইল। একজন লোক পিতলের এক বিরাট পরাত বগলদাবা করে গলির সামনে দিয়ে পালাচ্ছিল। তাকে তাক করে বন্দুক গর্জে উঠল, লোকটি চিৎকার করে মাটিতে পড়ে গেল। পরাতটা তার হাত থেকে ছিটকে রাস্তার ওপর পড়ে ঝনঝন করে উঠল। ভয়ে ফজ্জের সমস্ত অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল,—হায় নসরু !

রাইফেলধারী সিপাইরা সমস্ত বাজার এবং অলিগলি তছনছ করে দিয়ে গেল। কার্ফু শুরু হয়ে গিয়েছে। তিন জনের একসঙ্গে চলার কোন হুকুম নেই। হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়েছে, সন্ধ্যা সাতটায়— মিউনিসিপ্যালিটির বাতি জ্বালার পর বাজারের ভেতর দিয়ে কেউ চলাফেরা করতে পারবে না। করলে সঙ্গে সঙ্গে গুলি করা হবে।

কার্ফু শুরু হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও নসরু ফিরে এল না। ভয়ে ফজ্জের কলিজা মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসতে চাইছিল। ওর চোখ জলে টলমল করে উঠল। নওজোয়ান ছেলের এরকম আহম্মকি দেখে রাগে ফজ্জের মুখ দিয়ে বারবার গালি বেরিয়ে আসছে, হারামজাদা বোকা পাঁঠা কোথাকার, মাথা একেবারে বিগড়ে গেছে, হায় আল্লা, কেন এমন হল ?

... আলো জ্বলার আগেই নসরু ফিরে এল। নসরুকে দেখে, ফজ্জের ধড়ে প্রাণ ফিরে এল। ছেলেকে ধমক দিয়ে ফজ্জে বলল, “চল, ঘরের ভিতর গিয়ে বস। খবরদার বাইরে একদম বেরুবি না। তাহলে মিলিটারির গুলিতে পাগলা কুত্তার মতো মরবি ... .... সব বীরত্ব বেরিয়ে যাবে।”

কোন রকম পরোয়া না করেই নসরু বলল, “তাতে কী হয়েছে? মিলিটারিও তো আমাদের। আমরা সবাই মুসলমান, ভাই ভাই। কাফেররা সব পালিয়েছে। এক একজন পাঁচ পাঁচ সের করে সোনা ভাগে পেয়েছে। কাপড়ের থানে ঘর ভরে গিয়েছে।”

নিজের সম্প্রদায়ের বিজয়ে নসরুর মন উদ্বেলিত হয়ে উঠেছে। লুহারি মণ্ডি থেকেও একটা ছুরিও সংগ্রহ করে এনেছে। বুড়ো বাপ ছুরি দেখে যাতে ভয় না পেয়ে যায়, সেজন্যে সে কোমরের লুঙ্গির ভাঁজে ছুরিটি গুঁজে রাখে ।

সাতটার সময় কার্ফু শুরু হওয়ার ভোঁ শুনে ফজ্জে আর নসরু— দু জনেই ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। ফজ্জে আর কিছুতেই রুটি সেঁকায় মন লাগাতে পারছে না। নসরু তার বাবার অবস্থাগতিক দেখে কোন কথা বলল না। ঘরের মধ্যে যে চাটাই পাতা রয়েছে, তাতে দুজনেই পাশাপাশি শুয়ে পড়ল। গলিতে অন্ধকার ক্রমেই ঘন হয়ে উঠছে, আর ঘরের ভেতর যে অন্ধকার তা যেন আরও বেশি জমাট বেঁধে রয়েছে। কোন হাওয়া বইছে না—চারদিকে নিশ্চল, একটা গুমোট ভাব । আকাশ ভারি মেঘে ছেয়ে রয়েছে, আর অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে। বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটা রৌদ্রের তাপে দগ্ধ ফাঁকা দালানকোঠার যে অসহ্য গরম, সেই গরমকে আরও ভ্যাপসা করে তুলেছে। সারা শহরে কোন সাড়াশব্দ নেই। হাওয়াও যেন শ্বাস রোধ করে রয়েছে।

ঘরের মধ্যে ভ্যাপসা গরমে শুয়ে শুয়েই ফজ্জে আর নসরু যেন শরীর থেকে নিংড়িয়ে নিংড়িয়ে তেলের মতো ঘাম বের করে চলেছে। ফজ্জে গা থেকে জামা এবং লুঙ্গি খুলে শুধু লেঙ্গুটি পরে নিল। নসরুও উদোম গায়ে শুয়েছিল। ঘামে শরীর চটচট করছিল বলে নসরু কোমর পর্যন্ত লুঙ্গি তুলে নিল। কার্ফু আর প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরমে দুজনেই বদ্ধ ঘরের মধ্যে আতঙ্কে নির্বাক হয়ে গিয়েছে। মেজাজ ক্রমশ‍ই তিরিক্ষি হয়ে উঠছে। ঘরে খেজুরের পাতার একটা হাত পাখা ছিল। ফজ্জে খেজুরের পাখা দিয়ে নিজেকে এবং নসরুকে হাওয়া করতে লাগল। হাত অবশ হয়ে গেলে, পাখা বারবার নসরুর বুকের ওপর আছড়ে পড়তে লাগল। বাবার হাত থেকে পাখাটা টেনে নিয়ে নসরু নিজেকে এবং বাবাকে হাওয়া দিতে থাকে। দুজনের মনই পরস্পরের প্রতি এবং সমস্ত পরিবেশের ওপর বিষিয়ে উঠছিল, আর দুজনে দুজনকে পালা করে হাওয়া দিয়ে চলেছিল। একমাত্র ঘুমই ওদের দেহমনে শান্তি এনে দিতে পারত । কিন্তু ভ্যাপসা গরমের জন্য ওদের চোখে ঘুম ছিল না। চারদিকে ভয়ের যে বুকচাপা নিস্তব্ধতা, সেই নিস্তব্ধতাকে খানখান করে শান বাধানো বাজারের ফুটপাতে সশস্ত্র মিলিটারির বুটের শব্দ ভেসে আসছিল। আর এই শব্দ যেন ওদের আরও ভয়ে কুঁকড়িয়ে দিচ্ছিল।

রাতের এক প্রহর পার হয়ে গিয়েছে। না ফজ্জে না নসরুর —কারো চোখে ঘুম আসছে না। ঘামে নসরুর পিঠ বারবার খেজুরের চাটাইয়ের সঙ্গে সেঁটে যাওয়ার ওর মনমেজাজ খিঁচিয়ে উঠছিল। বাবার হাতে পাখা ধরিয়ে দিয়ে ও চাটাই থেকে উঠে চৌকাঠের ওপর গিয়ে বসল।

গলিতে চাপা পায়ের শব্দ শুনল। নসরু চমকে উঠল। শব্দকে অনুসরণ করে ওর চোখ ঘুরে গেল। দেখল, ধুতি আর চাদর দিয়ে নিজেকে আপাদমস্তক ঢেকে মুলাঁ পা টিপে বাজারের দিকে এগুচ্ছে। নসরু একবার বাবার দিকে ফিরে তাকাল, তাকিয়ে খুব নীচু গলায় বলল, “বাবা দেখ, বুড়ি মুলাঁ ভাগছে।”

শুয়ে হাওয়া করতে করতে ফজ্জে অবহেলায় বলল, “ভাগতে পারে আছে, ভয় পেয়ে গিয়েছে। আল্লাই ওকে বাঁচাবে।”

নসরু দেখতে পেল একা বুড়ি গলি ছেড়ে বাজারের রাস্তায় পা রেখেছে। “শালি, কাফের পোঁটলায় সমস্ত কিছু নিয়ে পালাচ্ছে।”... মুখ থেকে কথাগুলো বেরুতেই ওর সমস্ত লোমকূপ খাড়া হয়ে উঠল।

ফজ্জে করুণার সঙ্গে বলল, “আল্লা যদি ওকে বাঁচায়, তাতে তোর কী ? ”

বাবার কথা শেষ না হতেই নসরু বারান্দা থেকে এক লাফে নীচে নেমে বুড়ির পেছনে ধাওয়া করল ।

নসরুকে বাজারের দিকে ছুটতে দেখে ফজ্জে বুঝল ছেলে বিপদের মধ্যে পা বাড়াচ্ছে, যে কোন সময় প্রাণ যেতে পারে। কোন উপায় না দেখে সে খিস্তি করে উঠল আর খিস্তি দিতে দিতেই ছেলের পেছন পেছন ছুট দিল।

বৃদ্ধ ফজ্জে কোন রকমে অবসন্ন পায়ে টলতে টলতে বাজার পর্যন্ত ছুটে এল। সে দেখল প্রায় চল্লিশ কদম আগে একটা লাইটপোস্টের নীচে নসরু মুলাঁ জ্যেঠির পেটে চাকু চালিয়ে দিয়ে ওর পোঁটলা ছিনিয়ে নিয়ে আবার দৌড়ে আসছে।

রাগে কাঁপতে কাঁপতে ফজ্জে ছেলেকে ধাক্কা দিয়ে ঘরে ঢোকাল।

সাফল্যের উল্লাসে নসরু বলল, “কাফের বুড়ি, সব নিয়েই পালাচ্ছিল।” .... ও আর একমুহূর্তে দেরি না করে তাড়াতাড়ি পোঁটলা খুলতে লাগল ।

ফজ্জের বুক ধড়ফড় করছিল। দুহাত মাথা টিপে ধরে ও বসে পড়ল৷ জোরে জোরে ওর নিশ্বাস পড়ছিল। গলা দিয়ে কোন আওয়াজ বেরুচ্ছিল না । হাতে কোন বল ছিল না, তাই বুড়ির কাছ থেকে ছিনিয়ে আনা সম্পত্তি যখন নসরু খুলছিল সে বাধা দিতে পারল না। হাতে বল থাকলে সে পোঁটলা ছিনিয়ে নিয়ে বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিত।

নসরু পোঁটলা খুলে ফেলল। ভেতরে ছোট্ট একটা বন্ধ কাঠের বাক্স। এক ঝটকায় ঢাকনা খুলতেই দেখল, “হায় একি ..... শালি কাফের বুড়ি পাথরের এক খোদা নিয়ে পালাচ্ছিল।” ও ব্যঙ্গ করে হেসে উঠল।

ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে রাগে ক্ষোভে ফজ্জের চোখ লাল টকটকে হয়ে উঠল, ছেলেকে সুরক্ষিত অবস্থায় দেখে ফজ্জে রাগে এবং গ্লানিতে বলে উঠল, “শালা শুয়োরের বাচ্চা, ... খুব বাড় বেড়েছে তোর, একটা নিষ্পাপ বুড়িকে তুই খুন করলি। কাফের তার পাথরের খোদা নিয়ে ভাগছিল। ওর পাথরের খোদা দিয়ে যদি তোর খোদার মাথা ভেঙে দেওয়া হয় ! তুই বড় গাজি হয়েছিস, তুই তোর খোদাকে বাঁচিয়েছিস না।”

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%