সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

এইটুকু মেয়ে পুপু৷ বয়স মোটে সাড়ে তিন বছর৷ এই বয়সেই সে কত কী জানে৷ কত কী বোঝে৷ সে এখন সব কথা ঠিক ঠিক বলতে পারে৷ শুধু কয়েকটা কথা বাদে৷
যেমন কিনা সে বাবাকে বলে 'তাতা', ঠাকুরদাকে 'দাদা'৷ আর ঠাকুরমাকে 'মামমাম'৷ আসলে মুখে কথা ফোটার সময় এগুলো সে নিজেই বানিয়ে নিয়েছিল৷ এখনও তা বদলায়নি৷ অথবা সে বদলাতে চায় না৷ এগুলো তার নিজের পছন্দ কিনা৷
আরও কিছু কথা আছে৷ সে বেড়ালকে এখনও 'ম্যাঁও' বলে৷ বেড়াল কথাটা বলতে পারে না তা তো নয়৷ তবু কিছুতেই বলবে না৷ কারণ এর পেছনে একটা মজার ঘটনা আছে৷ তখন তার দেড় বছর বয়স৷ একটা বেড়াল চুপিচুপি তার দুধের গেলাসে মুখ দিয়ে গেছে৷ আর পুপু করেছে কী, তার লেজ ধরে দিয়েছে হ্যাঁচকা টান৷ আচমকা লেজে টান পড়ায় বেড়ালটা ভয় পেয়ে ম্যাঁও করে চেঁচিয়ে উঠে জানলা গলিয়ে উধাও৷ পুপুর তখন সে কী হাসি৷
মাস তিনেক আগে পুপু বাবা-মায়ের সাথে চাঁদিপুরে সাগর দেখতে গিয়েছিল৷ ফিরে আসার পর তার দাদা বলেছিলেন, 'পুপু, কী দেখে এলে?'
পুপু সাগর না বলে দুটো হাত উঁচু থেকে নীচুতে তারপর নীচু থেকে উঁচুতে নাচের মতো দুলিয়ে সুর করে বলল, 'ঢে-এ-এ-উ-উ!'
তারপর থেকে সে কিছুতেই 'সাগর' বলবে না৷ বলবে 'ঢেউ'৷ এ তার নিজের ভাষা৷
গত মাসে তার বাবা-মা তাকে নিয়ে ওড়িশার একটা গহন বনে বেড়াতে গিয়েছিলেন৷ সেখানে বাংলোর চৌকিদারের মুখে 'জঙ্গল' শুনে শুনে সে কিছুতেই বন বলে না৷
তার ঠাকুরমা ব্যালকনিতে অনেকগুলো টবে নানারকম গাছ লাগিয়েছেন৷ পুপুর এখন সেটাই 'জঙ্গল'৷ সেখানে সে আপন মনে বাঘ-ভালুকের সাথে কথা বলে৷ বাঘকে সে বলে 'হালুমবাবা', ভালুককে বলে 'ভললুদাদা'৷
পুপু ক্যারিকেচারেও পাকা৷ তাকে যদি বলা হয়, 'তোমার দাদু কী করেন, একবার দেখাও তো পুপু'৷ তখন সে তার মায়ের চশমা নিয়ে চোখে পরবে৷ বিছানায় শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে একটা বই খুলে পড়ার ভান করবে আর মাঝে মাঝে নস্যির কৌটো থেকে নস্যি নেওয়ার ভঙ্গি করবে৷ সত্যি কৌটো নেই৷ ওটা আছে, তা ধরে নিতে হবে, এই যা৷
পুপু তার দাদার ক্যারিকেচার আরও ভালো করে৷ চেয়ারে বসে একটা কাগজে ডটপেন দিয়ে হিজিবিজি কাটবে৷ আর মাঝে মাঝে বাঁ হাতের দুই আঙ্গুলের ফাঁকে ধরা সিগারেট টানার ভঙ্গি করবে৷ দাদা তাকে যদি বলেন, 'ও কী পুপু! হিজিবিজি কেন? বইয়ে যা পড়ছ তা লেখো৷' পুপু বলবে, 'দাদা তুমি তো হিজিবিজিবিজি লেখ৷'
'পুপু, আমি তো গপপো লিখি৷'
'ভ্যাট! তুমি গপপো লিখতে পারোই না৷ হিজিবিজিবিজি লেখ শুধু৷'...
সেদিন পুপুর দাদু এসেছিলেন৷ তাঁর একটা ছোট্ট কুকুর আছে৷ সারা গায়ে সাদা ঝাঁকড়া লোম৷ তার নাম জিমি৷ পুপুর সাথে তার খুব ভাব৷ আগে পুপু তাকে 'ঘো ঘো' বলত৷ বোধ করি জিমির অনুরোধেই সে তাকে আর ওই নামে ডাকে না৷ জিমি বলেই ডাকে৷
তো বিকেলে পুপুর দাদু বেড়াতে বেরোলেন৷ জিমি চলল পেছনে৷ পুপুও চলল দাদুর আঙুল ধরে৷ দাদু বললেন, 'পুপু, তুমি আমার কাঁধে চেপে এসো৷ অতদূর হাঁটতে পারবে না৷'
পুপু বলল, 'না দাদু, আমি হাঁটি হাঁটি করে যাব৷' কিছুদূর হাঁটি হাঁটির পর একটা খেলার মাঠ৷ মাঠের শেষে একটা ঝিল৷ ঝিলের চার পাড়ে ঘন গাছপালা আর ঝোপঝাড়৷ পুপুর দাদু একটা বেঞ্চে বসে পড়লেন৷ পুপু আর জিমি ছুটোছুটি করতে থাকল৷ পুপুর দাদু বললেন, 'পুপু, জঙ্গলের দিকে যেন যেয়ো না৷'
পুপু হঠাৎ অবাক হয়ে দেখল, তাই তো৷ তার এত কাছে একটা জঙ্গল৷ পুপুর দাদু যখন নস্যি নিচ্ছেন সেই সুযোগে পুপু দৌড়ে জঙ্গলে ঢুকে গেল৷ জিমি কি না গিয়ে পারে? সেও তার পেছনে চলল৷
কিছুদূর গিয়ে জিমি 'ঘোঃ ঘোঃ' করে উঠল৷ পুপু বলল, 'কী রে জিমি?'
জিমি পেছনের দুই পা মুড়ে বসে চাপা গলায় আবার বলল, 'ঘোঃ ঘোঃ?'
সেই সময় পুপু দেখল সামনে একটা গাছের ডালে বসে আছে একটা হনুমান৷ এতদিন হনুমান সে বইয়ের ছবিতে দেখেছে৷ সত্যিকারের হনুমান দেখে সে একটু ভয়ে ভয়ে বলে উঠল, 'ও হনুমানকাকু! তুমি ওখানে কী করছ?'
হনুমানটা কাকু বলা শুনে খুশি হয়ে নীচের ডালে নেমে এল৷ হাসিমুখে বলল, 'তোমার নাম কী?'
'আমার নাম পুপু৷'
'ওগো মেয়ে! আমার লেজটা একটু টেনে দেবে? এক বুড়িমার বাড়ির বাগানে জামরুল খেতে ঢুকেছিলুম৷ লেজে ঢিল মারল বুড়িমা৷ একটা জায়গা যেন কুঁকড়ে গেছে৷ একটু টেনে দাও না সোনা!'
পুপু তার লেজ ধরে কয়েকবার টান দিল৷ হনুমান বলল, 'আঃ! আরাম পেয়েছি৷ শোনো পুপু৷ আর এখানে থেকো না৷ একটা ভালুক আসছে দেখেছিলুম৷ সে বড়ো বদমেজাজি৷' বলেই হনুমান পেছনে তাকিয়ে থেকে লাফ দিয়ে পাশের গাছে ঝুলে পড়ল৷ তারপর উধাও হয়ে গেল৷
পুপু ডাকল, 'জিমি, জিমি৷'
কিন্তু জিমিকে দেখতে পেল না৷ পুপু বলল, 'তুই এত ভিতু জানতুম না তো!'
এই সময় একটা ভালুক এসে থমকে দাঁড়াল৷ বলল, 'ওটা কে বটে?'
পুপু ভয়ে ভয়ে বলল, 'ভললুদাদা! আমি পুপু৷'
ভালুক বলল, 'এখানে একা তুমি কী করছ?'
পুপু বলল, 'আমি জঙ্গলে বেড়াতে এসেছি৷ আমার সাথে জিমি এসেছে৷'
'জিমি আবার কে?'
'ঘোঃ ঘোঃ,' পুপু হাসল৷ 'জিমি খুব ভিতু তাই সে লুকিয়ে আছে৷ সে তোমাকে ভয় পেয়েছে যে৷'
ভালুক বলল, 'তুমি তাকে ঘোঃ ঘোঃ বলছ কেন?'
'সে সব সময় ঘোঃ ঘোঃ করে যে!'
ভালুক হেসে কুটি কুটি হল৷ 'তাই বলো! জিমি তোমার কুকুরের নাম৷'
'আমার নয়, দাদুর৷'
'তোমার দাদু কোথায়?'
'খেলার মাঠে নস্যি দিয়ে হ্যাঁচচো হ্যাঁচচো করছে৷'
'নস্যি? আমারও নস্যি নিতে ভালো লাগে৷ তবে কী জানো? খেলার মাঠে আমি গেলেই রামু ধোপার গাধাটা খুব চেঁচামেচি করবে৷ সে এক ঝামেলা৷'
'গাধা কী ভললুদাদা?'
'গাধা দেখোনি তুমি? ওই দেখো৷ বেঁটে, সাদা, চারঠেঙে ওই যে ঝিলের জলে দুই ঠ্যাং ডুবিয়ে ঘাস ছিঁড়ে খাবে বলে টানাটানি করছে৷ রামু ধোপা অনেক কাপড় কেচে শুকোতে দিয়েছে৷ একটু পরে শুকনো কাপড় গুছিয়ে রামু তার গাধার পিঠে চাপিয়ে বাড়ি যাবে৷'
পুপু ঝোপের ফাঁক দিয়ে গাধা দেখে অবাক হল৷ তারপর হঠাৎ যেই গাধাটা এদিকে তাকাল, অমনি সে ভালুকে দেখে বিকট চেঁচিয়ে উঠল৷ ভালুকটা চেঁচানি শুনে বলে উঠল, 'ওরে বাবা! আমি পালাই৷ রামুকে গাধাটা ডাকছে৷ রামু এখনই লাঠিসোটা নিয়ে তাড়া করবে৷'
ভালুকটা জঙ্গলের ভেতর দিয়ে পালিয়ে গেল৷ পুপু ডাকছিল, 'ভললুদাদা! ভললুদাদা! তুমি পালিয়ে যেয়ো না৷'
এবার জিমি বেরিয়ে এসে বলল, 'ঘোঃ ঘোঃ, চলে এসো পুপু৷ আমার ভয় করছে৷'
পুপু ধমক দিল, 'দূর ভিতু কোথাকার! জঙ্গলে বেড়াতে এসে ভয় পেলে চলে? আর আমরা আরও দূরে যাই৷ জঙ্গলে কত মজা৷'
কিছুদূর এগিয়ে পুপুর কানে ভেসে এল 'খর খর ঘষ ঘষ' আওয়াজ৷ সে থমকে দাঁড়াল৷ একটা গাছের গুঁড়িতে একটা বাঘ দুই পায়ে দাঁড়িয়ে সামনের দুই পায়ের নখ ঘষছে৷ পুপু বলে উঠল, 'ও হালুমবাবা! তুমি অমন করছ কেন?'
বাঘটা তার দিকে না তাকিয়ে চার পায়ে দাঁড়িয়ে বলল, 'আরে! এটা আবার কে?'
পুপু বলল, 'আমি পুপু৷'
বাঘটা অবাক হয়ে বলল, 'তুমি এইটুকু মেয়ে৷ তোমার এত সাহস? জানো আমি তোমাকে গপ করে গিলে খেতে পারি৷'
পুপু হেসে উঠল৷ 'খেয়েই দেখো না হালুমবাবা! তোমার পেটে ঢুকে আমি কাতুকুতু দেব৷ আমার কাতুকুতু কেমন তা তো তুমি জানো না৷' বলে সে দু-হাত বাড়াল৷
'কাতুকুতু! কাতুকুতু!'
বাঘ বলল, 'থাক ও শুনেই কাতুকুতু লাগছে৷ তোমাকে খেয়ে আমার পেটও ভরবে না৷ খামোকা কাতুকুতু লাগবে৷ একবার একটা শেয়ালছানা খেয়ে কী বিপদে না পড়েছিলুম৷ সে পেটের ভেতরে চার ঠ্যাং ছুড়ে আমাকে খুব ভুগিয়েছিল৷'
পুপু জিমিকে খুঁজছিল৷ জিমি আবার লুকিয়েছে৷ পুপু ডাকল, 'জিমি! জিমি!'
বাঘ হাসল৷ 'হুঁ৷ ওই ঝোপের ভেতর এতটুকু সাদা কী লুকিয়ে আছে৷ আরে! ওটা তো একটা কুকুর৷ তোমার চেয়ে ছোট্ট৷ নাহ৷ ওটাকে খেলেও বিপদ৷ সেই শেয়ালছানা খাওয়ার মতো ভুগতে হবে৷ অথচ আমার খুব খিদে পেয়েছে যে৷ ও পুপু, কী খাই বলো তো?'
পুপু বলল, 'হালুমবাবা, তুমি রামুর গাধাটাকে খাবে?'
বাঘ আঁতকে উঠে বলল, 'ওরে বাবা গাধা খাওয়ারও কী বিপদ তুমি তো জানো না৷'
'কী বিপদ শুনি?'
'আমাকে দেখলেই কে জানে কেন গাধাটা গান গাইতে শুরু করবে৷ সেই গান শুনলে আমার তো হাসি পাবে৷ যে হাসির চোটে মাটিতে গড়াগড়ি দিতে হবে৷ পেটে সুড়সুড় করবে৷ খুব হাসি পেলে তোমারও কি পেট সুড়সুড় করে না?'
পুপু বলল, 'ঠিক বলেছ৷ সেদিন আমার নিনিপিসি একটা ছড়া বলছিল, ছড়াটা শুনে আমার এত পেট সুড়সুড় করছিল৷ বলেছিলুম, ও নিনিপিসি! আর বোলো না গো বোলো না৷'
'ছড়াটা কী শুনি?'
'পেটমোটা কোলাব্যাং
জুতো পরা দুই ঠ্যাং
হাতে নিয়ে লন্ঠন
চলে গেল লন্ডন...'
বাঘ হাসির চোটে গড়াগড়ি খেতে খেতে বলল, 'ও পুপু! আর বোলো না গো! বোলো না!'
পুপু বলল, 'আরও আছে হালুমবাবা৷'
'ওরে বাবা আরও শুনলে আমি হাসির চোটে মারা পড়ব৷' বলে বাঘটা লাফ দিতে দিতে পালিয়ে গেল৷
এবার জিমি বেরিয়ে এসে বলল, 'ঘোঃ ঘোঃ! খুব হয়েছে এবার এসো৷'
পুপু বলল, 'তুই যা, আমি যাব না৷'
এই সময় একটা রংচঙে ফুলের ঝোপ দেখতে পেল পুপু৷ সে ঝোপ থেকে ফুল তুলতে হাত বাড়িয়েছে, অমনি একটা ফুটফুটে সুন্দর মেয়ে বেরিয়ে এল৷ তার পরনে রঙিন শাড়ি, পিঠে দুটো রঙিন ঝলমলে ডানা, সে বলল, 'এই মেয়ে! ফুল তুলতে নেই৷ ফুল শুধু দেখতে হয়!'
পুপু বলল, 'বাঃ রে! আমি মামমামের ফুলগাছ থেকে ফুল তুলি৷ মামমাম তো বকে না, তুমি বকছ কেন? কে তুমি?'
'আমি ফুলপরি৷ তুমি কে?'
'আমি পুপু৷'
ফুলপরি বলল, 'ভ্যাট! পুপু কি একটা নাম হল? এটা তো ডাকনাম৷ তোমার আসল নামটা কী?'
পুপু বলল, 'বিষ্টিকণা৷'
ফুলপরি হাসল, 'উঁহু, বলো বৃষ্টিকণা৷'
'বৃ-ষ-টি-ক-ণা৷ হয়েছে তো এবার?'
'তুমি বৃষ্টি দেখেছ তো?'
'হুঁউ৷ আকাশ থেকে ঝরে৷ বৃষ্টি দেখতে আমার খুব ভালো লাগে৷'
'আকাশে মেঘ ভাসে৷ মেঘ থেকে ঝরে৷ তুমি সেই বৃষ্টির ফোঁটা৷ বুঝলে তো?'
পুপু বলল, 'ভ্যাট, তাহলে আমি পুপু৷ তুমি ফুলপরিদি! তুমি কোথায় থাকো গো?'
ফুলপরি বলল, 'আমি ফুলের ভেতর থাকি৷ কখনো মনের খুশিতে উড়তে উড়তে মেঘের দেশে চলে যাই৷'
'ফুলপরিদি! তুমি আমাকে মেঘের দেশে নিয়ে চলো না৷'
'যাবে তুমি, তাহলে এসো৷ তোমাকে কাঁধে চাপিয়ে উড়ে যাব৷'
পুপু পেছনে জিমিকে দেখিয়ে বলল, 'জিমিকেও নিয়ে যেতে হবে ফুলপরিদি৷'
জিমি বলল, 'ঘোঃ ঘোঃ, যাব না, আমি কিছুতেই যাব না৷'
পুপু বকে দিল তাকে, 'তাহলে তুই অপেক্ষা করে থাক, আমি ফুলপরিদির কাঁধে চেপে মেঘের দেশে যাই৷ তুই চলে যাসনে যেন৷'
ফুলপুরি পুপুকে দু-হাতে তুলে কাঁধে চাপাল৷ তারপর উড়ে চলল মেঘের দেশে৷
জিমি ওদিকে তাকিয়ে বারবার বলতে থাকল৷ 'ঘোঃ ঘোঃ ঘোঃ ঘোঃ৷'
এদিকে হয়েছে কী পুপুর দাদু পুপুকে খুঁজছেন৷ তিনিও হঠাৎ জিমির ডাক শুনতে পেলেন৷ তিনি ছুটে আসছেন দেখে জিমি তাঁকে পুপুর খবর দিতে গেল৷ তিনি বললেন, 'পুপু কোথায় রে?'
জিমি আকাশের দিকে মুখ তুলে বলল, 'ঘোঃ ঘোঃ!'
পুপুর দাদু হঠাৎ দেখলেন পুপু একটি ফুলের ঝোপের পাশে মাটিতে শুয়ে আছে৷
তিনি তাকে তখনই কোলে তুলে নিয়ে বললেন, 'সারা দুপুর তুমি ঘুমোও না৷ কাউকে ঘুমোতেও দাও না৷ এখন জঙ্গলে হাঁটি হাঁটি করে কেমন ঘুম পেয়েছে৷'
পুপুর সত্যি ঘুম পেয়েছিল৷ ফুলপরির কাঁধে মেঘের দেশে যেতে যেতে আরামে ঘুমিয়ে পড়েছিল৷
তাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দাদু বিছানায় শুইয়ে দিলেন৷ মাথার কাছে জিমি অবাক হয়ে বসে রইল...
এবার আসল কথাটা খুলে বলি৷ ওপরে যে গপপোটা লিখেছি, তা পুপুর মুখে শোনা৷
সকালে আমি লিখতে বসেছি, সেই সময় পুপু চোখ মুছতে মুছতে এসে আমার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়েছিল৷ বলেছিলাম, 'পুপু, কী হয়েছে? কাঁদছ কেন?'
পুপু বলেছিল, 'কাল বিকেলে আমি জঙ্গলে গিয়েছিলুম৷ জঙ্গলে কী কী হয়েছিল, সব বললুম৷ তাই শুনে সবাই আমাকে বলল, পুপুটা কী মিথ্যুক৷ বলো তো দাদা আমি কি মিথ্যুক?'
বলেছিলুম, 'না না৷ তুমি মিথ্যুক নও৷ তবে এবার আমায় বলো তো জঙ্গলে কী কী হয়েছিল?'
পুপু সবটা বলার পর বলেছিল, 'দাদা তুমি হিজিবিজিবিজি না লিখে আমার এই গপপোটা লেখো৷'
কী আর করা যাবে? পুপু যা যা বলেছিল অবিকল তাই তাই লিখে দিলুম৷

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন