চাঁদা আদায়

গৌতম দাশ

বেশ ছেলেবেলায় সকালের জলখাবারের বরাদ্দ থেকে আধখানা রুটি নাকি রাস্তার একটা নেড়িকুকুরের দিকে ছুড়ে দিয়েছিলেন কৃপাসিন্ধু। ছেলের আদিখ্যেতা দেখে চোখ ট্যারা হয়ে গিয়েছিল দয়াময় পোড়েলের। ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্রায় হাহাকারের গলায় মন্তব্য করেছিলেন, ‘গেল গেল, সব গেল। আপনি পায় না শঙ্করাকে ডাকে। রাস্তার কুকুরকে ডেকে রুটি খাওয়ানো হচ্ছে! উঃ ছেলে আমার সাক্ষাৎ কৃপাসিন্ধু রে। এই আমি বলে দিলাম, বড়ো হয়ে এই ছেলে দাতাকর্ণ না হয়ে যায় না। পাঁচপুরুষের সম্পত্তি পাঁচজনকে দানখয়রাত করেই শেষপর্যন্ত ফতুর হয়ে যাবে। আমার কী? তখন তো আর দেখতে আসব না।’

তা সেই ‘কৃপাসিন্ধু’ নামটাই চালু হয়ে গেল। যদিও দয়াময়ের ভবিষ্যদবাণীটা শেষপর্যন্ত সত্যি হয়নি। বড়ো হয়ে কৃপাসিন্ধু দাতাকর্ণ না হয়ে, হলেন হোমিয়োপ্যাথ ডাক্তার। আর দয়াময় দেখে যেতে পারলে বড়ো খুশি হতেন যে, খরচের ব্যাপারে কৃপাসিন্ধু তাঁকেও টপকে গিয়েছেন। বাজে খরচের ভয়ে বিয়ে পর্যন্ত করেননি। এক দূর সম্পর্কের বুড়িপিসি তাঁর সংসার আগলান।

পাকুড়গাছির হাটতলার পাশেই কৃপাসিন্ধুর ডাক্তারখানা। টিনের চালের একখানা ঘর। খানদুই হাতলভাঙা চেয়ারের একখানায় নিজে বসেন, আর একখানা রোগীর জন্য। দুই চেয়ারের মাঝখানে ধুলোপড়া নড়বড়ে একটা টেবিল। বাইরের একফালি বারান্দায় গোটাদুই বেঞ্চি। অপেক্ষমাণ রোগীদের জন্য। অবিশ্যি সে দু-টো অধিকাংশ দিন ফাঁকাই পড়ে থাকে। তিনটে ধুলোপড়া ফাটা কাচের আলমারিতে হোমিয়োপ্যাথ ওষুধের ছোটো-বড়ো নানা আকারের শিশি-বোতল। নিন্দুকে বলে, ‘ঘোড়েল ডাক্তারের কোল্ড ড্রিঙ্কসের দোকান।’ যদিও টিনের সাইনবোর্ডে বেশ বড়ো হরফে লেখা আছে, ‘দয়াময় হোমিয়ো সদন’।

সপ্তাহে দু-দিন হাটতলায় হাট বসে। মঙ্গলবার আর শনিবার। ওই দু-দিন কৃপাসিন্ধু ডাক্তারের কাছে আশপাশের গাঁ-গঞ্জের কিছু রোগীর ভিড় হয়। সপ্তাহের বাকি ক-টা দিনে গোনাগুনতি রোগী। মাঝেমধ্যে গজানন গুঁই, বটকেষ্ট বটব্যাল আর রাখাল সরখেল গল্পগুজব করে যায়। বাকি সময়টা বসে-বসে হাতপাখা নেড়ে বাতাস খান আর মাছি তাড়ান কৃপাসিন্ধু।

এইরকম এক মাছি তাড়ানো বিকেলে লোকটা এল। হাতে মাঝারি সাইজের একটা পাকা কাঁঠাল। কাঁঠালটা ঘরের দেওয়ালের কোণে রাখতে রাখতে বলল, ‘গাছে হয়েছিল, তাই ভাবলাম... পেন্নাম হই ডাক্তারবাবু।’

কৃপাসিন্ধু ডানহাতখানা সামান্য তুলে খুশির গলায় বললেন, ‘বোসো। কী নাম তোমার? বাড়ি কোথায়?’

লোকটি দু-হাত কচলে জবাব দিল, ‘আজ্ঞে, আমার নাম গুণধর মান্না, থাকি সাহেবডাঙায়।’

কৃপাসিন্ধু বললেন, ‘কোথায় বললে? সাহেবডাঙায়? অতি নচ্ছার জায়গা। গতকালই ওখানকার ক্লাবের গোটাকতক ফক্কড় বখাটে ছোকরা আমার কাছে চাঁদা চাইতে এসেছিল। বলে, ‘আমাদের ক্লাবে নাটক হবে, একান্ন টাকা চাঁদা দিন।’ হ্যা:, মগের মুলুক, দিয়েছি ভাগিয়ে। তা তোমার অসুবিধে কী?’

গুণধর চিন্তিত স্বরে বলল, ‘অসুবিধে খানিক আছে বইকী ডাক্তারবাবু। বর্ষাকালে ঘরখানা জল থইথই, শীতকালে কনকনে উত্তুরে বাতাস, গরমকালে আগুনের হলকা...।’

কৃপাসিন্ধু বিরক্তির গলায় বললেন, ‘সেকথা বলছিনে। বলছি, আমার কাছে তো কোনো রোগের চিকিৎসার জন্য এসেছ, নাকি? তোমার সেই রোগটা কী?’

গুণধর একটু বোকা-বোকা হেসে বলল, ‘সে তো ঠিক কথা। রোগের জন্যই তো আসা। নইলে আপনার কাছে আসবই বা কেন? আপনি এখানে কোনো গন্ধ পাচ্ছেন, ডাক্তারবাবু?’

কৃপাসিন্ধ তিনবার ফোঁস ফোঁস করে নাক টেনে অবাক গলায় বললেন, ‘গন্ধ? কই কীসের গন্ধ?’

গুণধর বলল, ‘কেমন করে বোঝাই? ধরুন, যদি বেশ অনেক শ্যামাপোকা, খানিকটা তিসির তেল আর একডেলা হিং একটা হামানদিস্তায় একসঙ্গে পেষাই করা হয়, তা হলে যেমন গন্ধ বের হয়, অনেকটা যেন সেই রকম।’

কৃপাসিন্ধু চমকে গেলেন। বললেন, ‘এখানে তুমি ওইরকম গন্ধ পাচ্ছ?’

গুণধর ঘাড় নেড়ে বিষণ্ণ গলায় বলল, ‘হ্যাঁ ডাক্তারবাবু, ওইটাই তো আমার রোগ। তবে সবসময় নয়, গন্ধটা পাই মাঝে-মাঝে। আর যখন এই গন্ধটা পাই, তখন তেনাদের দর্শন হয়ে যায়।’

কৃপাসিন্ধু একটু ঘাবড়ে গিয়ে বললেন, ‘তেনাদের মানে?’

গুণধর বেশ চাপা গলায় বলল, ‘ওই রাত্তিরবেলায় যাদের নাম করতে নেই। এখনও পুরোপুরি রাত হয়নি অবিশ্যি।’

কৃপাসিন্ধু ভেতরে ভেতরে সিঁটিয়ে গেলেন। ভিতু গলায় বললেন, ‘রাম রাম। ইয়ে জলধর, তোমার কোনো ভুল হচ্ছে না তো?’

গুণধর বলল, ‘আজ্ঞে, আমার নাম গুণধর। ভুল কেমন করে হবে ডাক্তারবাবু? চোখের সামনে পষ্ট দেখছি, আপনার পিছনের ওই ওষুধের আলমারির ওপরে বসে তেনাদের দু-জন পা দোলাচ্ছেন।’

ঘরের অদৃশ্য জায়গা থেকে টিকটিকি শব্দ করে উঠল, ‘ঠিক-ঠিক-ঠিক’।

হুড়মুড় করে পেছন ফিরে দেখতে গিয়ে কৃপাসিন্ধু চেয়ার উলটে পড়ে যান আর কী! সামলে নিয়ে ভয়ে ভয়ে পেছনে তাকিয়ে গোটাদুই ঝুলতে থাকা ঝুল ছাড়া আর কিছুই নজরে পড়ল না।

কৃপাসিন্ধু চমকে গেলেন। বললেন, এখানে তুমি ওইরকম গন্ধ পাচ্ছ?’

গুণধর লজ্জিত গলায় বলল, ‘আজ্ঞে, ডাক্তারবাবু, মিছেই ব্যস্ত হচ্ছেন, আপনি তো দেখতে পাবেন না। এই দেখতে পাওয়াটাই তো আমার রোগ। এর জন্য কত রকমের মুশকিলে যে পড়তে হয়! অনুমতি পেলে মুশকিলের কথাগুলো বলি। বলব?’

কৃপাসিন্ধু শুকনো গলায় বললেন, ‘বলবে? আচ্ছা বলো।’

গুণধর শুরু করল, ‘এই তো মাসখানেক আগের কথা। যোগেন সরকারের বাড়িতে জানলা-দরজা রং করছিলাম। সরকারমশাই তদারকি করছেন। হঠাৎ রঙের গন্ধ ছাপিয়ে এই গন্ধটা পেলাম। চোখে পড়ল, তেনাদের দু-জন! মনে হয়, এই দু-জনই যোগেন সরকারের পেছনের টেবিলে বসে খুব হাসাহাসি করছে। কথাটা সরকারমশাইকে বললাম। কিন্তু তিনি আমার কথা বিশ্বাস করলেন না, উড়িয়ে দিলেন। পরের দিন সকালবেলা শুনি....!’

কৃপাসিন্ধু আড়ষ্টভাবে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী...কী শুনলে হলধর?’

গুণধর বলল, ‘শুনলাম, সরকারমশাই রাতের বেলায় হার্টফেল করেছেন। তারপর এই সপ্তাদুয়েক আগে বীজপুরের ননী সামন্তের বাড়িতে কাজ ছিল। বললে বিশ্বাস করবেন না, সেখানেও দর্শন হল। এই দু-জনই। লজ্জা-সংকোচ ঝেড়ে ফেলে সামন্তমশাইকে বলে ফেললাম কথাটা। যোগেন সরকারের বাড়ির ঘটনাটাও বললাম। তা সামন্তমশাই আমার কথাটা অবিশ্বাস করলেন না। জিজ্ঞেস করলেন, ‘গুণধর, কী করা যায় বলো তো?’

সামন্তমশাইকে বললাম, ‘সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির থেকে একটা প্রসাদী ফুল সংগ্রহ করে ক-টা দিন কপালে ঠেকান। এর মধ্যে আমি আপনার জন্য একটা প্রেততারণ কবচের ব্যবস্থা করে দিতে পারি, যদি রাজি থাকেন।’

সামন্তমশাই রাজি হয়ে গেলেন। আমার কাজ বাড়ল বটে, কিন্তু একজন লোকের উপকার তো হল! আমার বাবা বলতেন, ‘গুনো, মানুষের উপকার সবার আগে। তারপর অন্য সবকিছু।’ সামন্তমশাই অবিশ্যি পুরোপুরি নিস্তার পাননি। ফুল ঘরে রেখে দিয়ে চান করতে গিয়েছিলেন। পুকুরঘাটে পা পিছলে পড়ে গিয়ে বুড়োবয়সে ডান পা-খানা ভেঙেছেন। তবু যাহোক, প্রাণটা তো বাঁচল। তার তিনদিন পরে আমি প্রেততারণ কবচ দিয়ে এসেছি। ব্যাস, নিশ্চিন্ত। আর কোনো উৎপাত নেই। মনে হচ্ছে, সেই অপদেবতা দু-জনকেই আবার আপনার এখানে দেখতে পাচ্ছি। অপরাধ নেবেন না ডাক্তারবাবু। আমার আবার পেটে কথা থাকে না, বলে ফেললাম। অবিশ্যি আপনার বিপদ না হতেও পারে। যদি বলেন, ‘গুণধর তোমার কোনো বিপদ হয় না কেন? প্রায়ই তো এনাদের দেখতে পাচ্ছ!’ তা হলে আমাকে কবুল করতেই হবে যে, একজন মহাপুরুষ স্নেহের বশে আমায় এই বিপদ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। প্রথম প্রথম যখন এইসব দর্শন হত, তখন বড্ড ভয় করত। সেই কথা শুনে একজন কাপালিক, আমাকে একটা প্রেততারণ কবচ দান করেন। ভাগ্যিস করেছিলেন! নইলে আপনার সামনে বসে গুণধর মান্না এত কথা বলার জন্য কী আর বেঁচে থাকত? তা যাই হোক ডাক্তারবাবু, আপনার কাছে যদি এই দর্শন-রোগের কোনো ওষুধ থাকে, আমায় একটু দেবেন!’

কৃপাসিন্ধু কাঁপা গলায় বললেন, ‘না হে গদাধর, এর কোনো ওষুধ আমার কাছে নেই।’

গুণধর এবার আর শুধরে দিল না। করুণ গলায় বলল, ‘তবে আর কী হবে! উঠি তা হলে! আপনি একটু সাবধানে থাকবেন ডাক্তারবাবু। সন্ধ্যে হয়ে আসছে। ডাক্তারখানা বন্ধ করে না হয় রামধুন গাইতে-গাইতে বাড়ি চলে যান। যাওয়ার সময় কাঁঠালটা নিয়ে যেতে ভুলে যাবেন না যেন! ভালো খাজা কাঁঠাল।’

কৃপাসিন্ধু শিউরে উঠলেন। তাঁর কপালে শেষপর্যন্ত এইরকম অপঘাতে মরণ লেখা ছিল? হে ভগবান! আর, অপঘাতে মরলে নাকি ভূত হয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়। গাছে গাছে ক-হাজার বছর দোল খেয়ে কাটাতে হবে কে জানে? কী সর্বনাশ! আর এই অবস্থায় তাঁকে কাঁঠাল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে এই ছোকরা! উঃ!

কৃপাসিন্ধু আতঙ্কতাড়িত গলায় বললেন, ‘আর কাঁঠাল! ওহে, কী যেন... দূর ছাই, মনেও পড়ছে না তোমার নামটা...!’

গুণধর বলল, ‘আজ্ঞে, গুণধর।’

কৃপাসিন্ধু বললেন, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ গুণধর। ভাই গুণধর, তোমার ওই প্রেততারণ কবচ না-কী যেন বললে, আমার জন্য জোগাড় করে দেওয়া যায় না ভাই?’

বলল, ‘আমায় মাপ করবেন ডাক্তারবাবু। ওটার জন্য বেশ হাঙ্গামা আছে। অনেক দূর আসা-যাওয়া করতে হয়, খরচাপাতি আছে। সময় লাগে অনেক। আমি গরিব মানুষ আমার একটা দিন নষ্ট মানে অনেক ক্ষতি। তার চেয়ে আমি কাপালিক বাবার ঠিকানা দিয়ে দিচ্ছি, নিজেই একটু কষ্ট করে যোগাযোগ করে নেবেন।’

কৃপাসিন্ধু টেবিলের ওপর দিয়ে হাত বাড়িয়ে খপ করে গুণধরের হাতটা চেপে ধরলেন। বললেন, ‘এই যে একটু আগে বললে, তোমার বাবা বলতেন, সবার আগে পরের উপকার! অ্যাঁ? আমার এটুকু উপকার তোমাকে করতেই হবে। কত লাগবে মুখ ফুটে বলো ভাই।’

গুণধর একটু হিসেব করে বলল, ‘তা ধরুন, কাপালিকবাবা নেবেন পুরো ১০০ টাকা। হোম-যজ্ঞ করতে হয় কিনা! আর আমার যাতায়াত খরচ। সেটা সামান্য। গোটা তিরিশের মধ্যেই হয়ে যাবে। আপনি নিজে গেলেই ভালো হত ডাক্তারবাবু। তবে আপনি আদেশ করলে তো ফেলতে পারব না। যেতেই হবে।’

কৃপাসিন্ধুর বুকটা শুকিয়ে গেল। ১৩০ টাকা! ওরে বাবা। মনের মধ্যে টাকার শোক আর প্রাণের ভয়ের মধ্যে যুদ্ধ বেধে গেল। কিন্তু শেষপর্যন্ত প্রাণের ভয়েরই জিত হল। কৃপাসিন্ধ সিদ্ধান্তে পৌঁছোলেন, প্রাণ থাকলে তবেই টাকা নাড়াচাড়া করা সম্ভব।

‘দয়াময় হোমিয়ো সদন’-এর দরজা বন্ধ হয়ে গেল। বোধ হয় অনির্দিষ্টকালের জন্য। গুণধর ভরসা জোগাতে জোগাতে আতঙ্কিত কৃপাসিন্ধু ডাক্তারের হাত ধরে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে এল। নগদ ১৩০ টাকা গুনেও নিল। আশ্বাস দিল, যেমন করে হোক তিনদিনের মধ্যেই কবচটা এনে দেবে। এই তিনটে দিন যেন ডাক্তারবাবু সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ির একটা প্রসাদী জবাফুল বুকপকেটে রেখে বিপদটাকে কোনোরকমে ঠেকিয়ে রাখেন।

পরদিন সকালবেলা সাহেবডাঙা বিদ্যার্থী ক্লাবের সদস্যদের কাছে গতকালের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিল অন্যতম সদস্য সঞ্জয় মিত্র ওরফে গুণধর মান্না। সকলে ঘটনাটা শুনছিল আর হেসে কুটিপাটি হচ্ছিল।

পল্টু বলল, ‘তুই একেবারে অসাধ্যসাধন করেছিস সঞ্জয়। আফশোস, এমন নাটকটা দেখতে পেলাম না। আমরা কেউই ব্যাপারটার বিন্দুবিসর্গও জানি না। ব্যাপারটা কী খুলে বলোতো আমাদের।’

সঞ্জয় বলল, ‘আগের দিন গলাধাক্কা খেয়ে আমার একটা জেদ চেপে গিয়েছিল, যেভাবেই হোক কৃপাসিন্ধু ডাক্তারের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতেই হবে। সেদিন ডাক্তার যদি নরম সুরে বলতেন, ‘না ভাই, আমার চাঁদা দেওয়ার ক্ষমতা নেই’, তা হলে হয়তো জেদটা চাপতো না। কিন্তু ডাক্তার তেড়েফুঁড়ে উঠলেন। প্রায় সব মানুষেরই কিছু না-কিছু ব্যাপারে দুর্বলতা থাকে। পাকুড়গাছির রাখালজ্যাঠার কাছে জানতে পারলাম, কৃপাসিন্ধুডাক্তারের খুব ভূত আর চোরের ভয়। ভরসা ছিল, আগের দিন আমাদের সকলকে ভাগিয়ে দেওয়ার সময় নিশ্চয়ই আমাকে আলাদাভাবে চিনে রাখেননি। তবুও একজোড়া পুরুষ্টু গোঁফ লাগিয়ে বয়সটা খানিক বাড়িয়ে নিলাম। মনে মনে একটা গল্প তৈরি করে নিলাম। তারপর প্ল্যান অনুযায়ী এগোলাম। ব্যাস! কেল্লা ফতে। এই পল্টু, শোন, লিস্টে কৃপাসিন্ধুডাক্তারের নামটা লিখে পাশে ‘অনুদান হিসেবে ১০০ টাকা’ লিখে রাখ। বাকি ৩০ টাকার মধ্যে ২০ টাকা একটা পাকা কাঁঠালের দাম আর দশ টাকায় একটা তামার কবচ কিনতে হবে। গুণধর মান্নাকে তো আর একদিন যেতে হবে প্রেততারণ কবচটা পৌঁছে দিতে।’

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%