গৌতম দাশ

নেতাজি সুভাষ রোডে মৃগাঙ্ক মৌলিকের একটা বইয়ের দোকান আছে। অঙ্কের মাস্টারমশাই অংশুমান লাহিড়ির সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় ওখানেই। বছর কয়েক আগে একদিন অংশুমানবাবু একটা বইয়ের অর্ডার দিতে এসেছিলেন। অর্ডার নেওয়ার ফাঁকেই এল তুমুল বৃষ্টি। ফলে অংশুমানবাবু আটকে গেলেন। হঠাৎ মৃগাঙ্কবাবুর চোখে পড়ল ব্যাপারটা—বৃষ্টির ছাঁটে ভদ্রলোক বিব্রত হচ্ছেন। দোকানের ভেতরে ডেকে চেয়ার এগিয়ে দিয়ে বসতে বললেন।
চেয়ারে বসেই ভদ্রলোক প্রথমে একটা ধন্যবাদ জানালেন। তারপরই বললেন, ‘শুনেছি ময়রায় মিষ্টি খায় না, সেই ফর্মুলায় আপনি আবার বই-কুন্ঠবাবু নন তো!’
কথাটা বুঝতে একটু সময় লেগেছিল মৃগাঙ্কবাবুর। তারপরই প্রাণখোলা হাসি হেসেছিলেন মানুষটাকে ভালো লেগে গিয়েছিল সেই মুহূর্তেই।
পরবর্তী বছরগুলোয় অন্তরঙ্গতা বেড়েছিল। এর মধ্যে মৃগাঙ্কবাবু বার কয়েক অংশুমানবাবুর বাড়িতেও গিয়েছেন। প্রথমবার অবিশ্যি মাস্টার মশাইয়ের চায়ের নিমন্ত্রণ স্বীকার করে। পরে অন্তত দু-বার দুটো সমস্যা নিয়ে গিয়েছেন। ফিরেছেন সমাধান নিয়ে। আর অংশুমানবাবু দোকানে এলেই জোর করে আটকে রাখেন যতক্ষণ আটকানো যায়। ওঁর সান্নিধ্য মৃগাঙ্কবাবুর ভালো লাগে।
আজও অংশুমানবাবুর বাড়ি যাচ্ছেন কাঁধে ঝোলানো ব্যাগে কয়েকটা রহস্যময় বস্তু ভরতি করে।
অংশুমানবাবু তাঁর ছাত্র পড়ানোর ঘরেই ছিলেন। মৃগাঙ্কবাবু সামনের চেয়ারে বসতেই বললেন, ‘আপনার বয়স কত হল?’
‘তা ধরুন—ফিফটি-টু প্লাস।’
‘মাধ্যমিক পরীক্ষায় অঙ্কে কত পেয়েছিলেন?’
‘যতদূর মনে হচ্ছে ছেচল্লিশ। কেন বলুন তো!’
‘তাহলেও হবে। একটা অঙ্ক চট করে কষে ফেলুন তো। এই বাহান্ন বছর ধরে আপনি যত অন্ন এবং আনুষঙ্গিক বস্তু ধ্বংস করেছেন, অর্থাৎ চাল, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি—সেগুলোর টোটাল পরিমাণটা কী দাঁড়াচ্ছে? এবার সেগুলো আলাদা-আলাদা করুন। ধরুন আপনার সামনে রয়েছে বেশ কয়েক ট্রাক চালের পাহাড়, তার পাশে ডাল, বাঁ-দিকে কয়েক পুকুর মাছ কিলবিল করছে, ডানদিকে কয়েকশো পাঁঠা ব্যা-ব্যা করছে। পেছনদিকে সবজির পাহাড়—এ পর্যন্ত যা যা সবজি খেয়েছেন। ভাবতে পারেন ব্যাপারটা!
মৃগাঙ্কবাবু ভাবতে গিয়ে একটু হকচকিয়ে গেলেন। তারপর একটু হেসে বললেন, ‘কিন্তু স্যার, ওই পাহাড় পরিষ্কার না করলে কি এই মুহূর্তে আমি আপনার সামনে বসে কথা বলতে পারতাম! সেটাও আপনি একটু ভাবুন।’
অংশুমানবাবু হেসে ফেললেন। তারপর বললেন, ‘রাইট। এবারে বলুন আপনার সমস্যাটা কী?’
মৃগাঙ্কবাবু একটু অবাক হলেন। বললেন, ‘আপনি কী করে বুঝলেন যে আমি কোনো সমস্যা নিয়ে এসেছি!’
অংশুমানবাবু বললেন, ‘এটা বুঝতে খুব বেশি বুদ্ধির দরকার হয় না মৃগাঙ্কবাবু। আজ রবিবার এবং এখন সকাল ন-টা-পাঁচ। আপনি আপনার ‘‘সরস্বতী মন্দির’’ ছেড়ে এই অসময়ে দীনের পর্ণকুটিরে পদার্পণ করেছেন। আজ আমার স্কুল নেই, অর্থাৎ আপনি আমাকে অনেকক্ষণ পাবেন ধরে নিয়েই এসেছেন। সুতরাং, নিশ্চয়ই ডালমে কুছ কালা হ্যায়। তাইতো; নাকি ভুল বললাম!’
মৃগাঙ্কবাবু বললেন, ‘না-না, ভুল বলেননি। আরে আপনি তো মশাই একেবারে গল্পের গোয়েন্দাদের মতো ফটাফট বলে গেলেন। কিন্তু ব্যাপারটাকে ঠিক সমস্যা বলা যায় কিনা সেটাই বুঝতে পারছি না। গোড়া থেকেই বলি। গরমকালে টিউবওয়েল থেকে জল পাম্প করে তুলতে যে কী কষ্ট তা তো জানেন। মিস্ত্রিগুলো বলে জলের লেয়ার নাকি নেমে যায়। কী যে হয় কে জানে, তবে এক বালতি জল টিপে বের করতেই শরীর থেকে দু-বালতি ঘাম বেরিয়ে যায়।
ভাবলাম একটা কুয়ো কাটাই। তাতে অন্তত মেহনত খানিকটা কমবে। মঙ্গলবার আমাদের সাপ্তাহিক দোকান বন্ধের দিন। গত মঙ্গলবার কুয়ো-কাটার লোকজনদের আসতে বলেছিলাম। ওরা এল। আমাদের রান্নাঘরের পেছনের দিকটায় কুয়োটা কাটানো হবে বলে ঠিক করা হয়েছিল।
সেইমতো কাজ শুরু হল। আমি সামনেই ছিলাম। ফুট চার-পাঁচ মাটি কাটা হতেই যে মজুরটা গর্তের মধ্যে মাটি কাটছিল, সে হঠাৎ চাপাস্বরে চিৎকার করে উঠল, ‘বাবু একটা বাক্স’। গর্তের মুখে গিয়ে দাঁড়ালাম। সত্যি সত্যিই একটা বাক্স। একটা কোণে কোদালের কোপ পড়ে কাঠের একটা চাকলা উঠে গেছে। বুকের মধ্যে ধড়াস ধড়াস করছিল। গুপ্তধন নাকি! এখন গুপ্তধন পাওয়ার হ্যাপাও অনেক। থানা-পুলিশ হ্যানোত্যানো করে শেষে বোধ হয় গভর্নমেন্টকেই দিয়ে দিতে হয়। তার চেয়ে না পাওয়া অনেক ভালো।
যাই হোক বাক্সটাতো বেশ যত্ন করে ওপরে তোলা হল। খুব বড়ো নয়—এই ধরুন দেড়ফুট-বাই-দেড়ফুট হবে। তখন তো উত্তেজনায় সকলের চোখ বড়ো-বড়ো হয়ে গেছে। আমিই প্রথমে চেষ্টা করলাম খুলতে কিন্তু পারলাম না। বহুদিন মাটির তলায় থাকার ফলে জমাট বেঁধে গেছে। কিন্তু কোনো আংটা বা তালা ছিল না বাক্সটায়।
শেষপর্যন্ত মজুর-দুটো বেশ চেষ্টাচরিত্র করে বাক্সটা খুলে ফেলল।
কী দেখলাম বলুন তো! ভেতরে আরেকটা বাক্স। ছোটো একটা কাঠের বাক্স। সেটা খুলতে বিশেষ অসুবিধা হয়নি। তার মধ্যে রয়েছে দুটো মুদ্রা—খুব সম্ভবত মোগল আমলের। আরবি কিংবা পারসিতে লেখা। আর রয়েছে একগুচ্ছ গিটবাঁধা চুল। তৃতীয় বস্তুটি হচ্ছে—আগেকার দিনে পুথি লেখা হত যে ধরনের পুরু কাগজে—সেই ধরনের গোটা তিনেক কাগজ, কিন্তু দুটোতে কিছু লেখা নেই। একটা কাগজে খুব হালকা একটা লেখার আভাস যেন আছে, কিন্তু পড়া যায় না। উপস্থিত সকলেই খুব হতাশ হল দেখলাম। মজুর দুটো আবার কুয়োকাটতে লেগে গেল। আমি তখনই ঠিক করে ফেললাম যে, ওগুলো আপনাকে একবার দেখাব।’
অংশুমানবাবু মন দিয়ে শুনছিলেন মৃগাঙ্কবাবুর কথা। এবারে বললেন, ‘জিনিসগুলো এনেছেন?’
‘হ্যাঁ এই যে।’
ব্যাগ থেকে ছোট্ট একটা বাক্স বের করে মৃগাঙ্কবাবু অংশুমানবাবুর দিকে এগিয়ে ধরলেন। অংশুমানবাবু সেটা নিয়ে জিনিসগুলো বের করে সাবধানে টেবিলের ওপর রাখলেন।
কালচে হয়ে যাওয়া দুটো মুদ্রা। কাঁচা-পাকা চুলের একটা গুচ্ছ। ইঞ্চিদুয়েক লম্বা—একপাশে গিট দেওয়া। আর গোটা তিনেক ঈষৎ হলদেটে মোটা কাগজ।
মৃগাঙ্কবাবু বললেন, ‘এগুলো আপনার কাছে থাক। দেখুন ভালো করে। পরশু মঙ্গলবার আমার দোকান বন্ধ। সন্ধ্যের দিকে না-হয় একবার আসব।’
অংশুমানবাবু খুব আলতোভাবে ঘাড় নেড়ে বললেন, ‘ঠিক আছে।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যার একটু আগেই মৃগাঙ্কবাবু চলে এলেন। ভেতরে দু-কাপ চায়ের জন্য বলে অংশুমানবাবু বলতে শুরু করলেন, ‘কুয়ো খুঁড়তে গিয়ে আপনি আসলে প্রায় আড়াইশো বছরের পুরোনো এক কাহিনি তুলে এনেছেন মৃগাঙ্কবাবু।... আচ্ছা, এখানে আপনারা কত পুরুষ ধরে বাস করছেন বলুন তো?’
মৃগাঙ্কবাবু বললেন, ‘তিন পুরুষ। আমার ঠাকুরদা ছিলেন পোস্টমাস্টার। আজ এখানে কাল সেখানে বদলি হতে হতে এই জায়গায় এসে রিটায়ার করেন। গঙ্গার খুব কাছাকাছি বলে জায়গাটা তাঁর ভালো লেগে যায় এবং এখানেই ওই জমিটুকু কিনে বাড়ি তৈরি করেন। সেটা বিংশ শতাব্দীর চল্লিশের দশকের গোড়ার দিকের কথা। স্বাধীনতার আগে। তবে কার কাছ থেকে কিনেছিলেন সেটা আমি বলতে পারব না।’
অংশুমানবাবু বললেন, ‘আপনি ‘‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের’’ কথা জানেন তো! নিশ্চয়ই জানেন। দুর্ভিক্ষে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল—এটাই আমরা সাধারণভাবে জানি। সঠিক সংখ্যাটা কেউই জানি না— সেটা সম্ভবও নয়। সেযুগের কথা ছেড়ে দিন, এই যুগেও হালের ‘‘সুনামি’’-তে ঠিক কত লোক প্রাণ হারিয়েছে—তা কি আমরা জানি! যে সংখ্যাটা জানি আসল সংখ্যাটা নিশ্চয়ই অনেক বেশি।
যাই হোক, ওই সময়ে অর্থাৎ বাংলা ১১৭৬ এক দুর্ভিক্ষপীড়িত ব্রাহ্মণ পরিবার ছিলেন আপনাদের এখনকার ভিটের মালিক। গৃহকর্তার চোখের সামনে ব্রাহ্মণী এবং একমাত্র পুত্র অনাহারে মৃত্যুবরণ করেন। শূন্যগৃহ এবং অনাহারের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে ব্রাহ্মণ গৃহকর্তা পূর্বপুরুষের ভিটে ছেড়ে চলে যান চিরকালের মতো।...দাঁড়ান, আপনাকে আগে ওগুলো দেখাই।’
বইয়ের আলমারির ভেতর থেকে বাক্সটা এনে কাগজ তিনটে বের করলেন অংশু মাস্টারমশাই।

ব্যাগ থেকে ছোট্ট একটা বাক্স বের করে মৃগাঙ্কবাবু অংশুমানবাবুর দিকে এগিয়ে ধরলেন। অংশুমানবাবু সেটা নিয়ে জিনিসগুলো বের করে সাবধানে টেবিলের উপর রাখলেন।
মৃগাঙ্কবাবু অবাক হয়ে দেখলেন কাগজ তিনটেতে গোটা-গোটা অক্ষরে লেখা ফুটে উঠেছে। তাঁর অবাক চোখের দিকে তাকিয়ে অংশুমানবাবু বললেন, ‘এটা কোনো ম্যাজিক নয় মৃগাঙ্কবাবু। যদিও ম্যাজিশিয়ানরা এরকম ম্যাজিক দেখিয়ে থাকে। আপনি জানেন কিনা জানি না, কাগজের ওপর কালির বদলে দুধ অথবা পেঁয়াজের রস দিয়ে লিখে যদি সেটা শুকিয়ে নেন, দেখবেন কাগজ একদম সাদা। কোনো লেখাই সেখানে নেই। কিন্তু ওই কাগজখানার ওপর যদি একটু তাপ দেন, দেখবেন আপনি যেটা লিখেছিলেন, সেটাই ফুটে উঠেছে। যাই হোক, আমি জানি না ঠিক কী দিয়ে আপনার জমির পূর্বতন মালিক রামগতি ভট্টাচার্য লিখেছিলেন। খুব সম্ভব তিনি কালি দিয়েই লিখেছিলেন, বহুদিন মাটির নীচে থাকার ফলে লেখাটা আপাতঅদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। সামান্য তাপ দেওয়ার পরে অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে। আগে ওটা পড়ুন।’
মৃগাঙ্কবাবু পড়তে শুরু করলেন।
আমি শ্রী রামগতি ভট্টাচার্য পিতা রামকালী ভট্টাচার্য অদ্য ৩রা আশ্বিন ১১৭৬ সন উত্তরপুরুষগণের উদ্দেশ্যে এই লিপিকাখানি প্রস্তুত করিতেছি। দুই সন যাবৎ অন্নাভাব চরমে পৌঁছিয়াছে। গ্রামস্থ অধিকাংশ পরিবার বৃক্ষপত্রাহারে প্রাণ ধারণ করিতেছে। নিকটে জাহ্নবীমাতার অবস্থান হেতু জলসংকট তীব্র নহে। কিন্তু অন্নাভাবহেতু চতুষ্পার্শ্বস্থ গ্রামসকল এবং স্বগ্রামস্থ এমন একটি গৃহও নাই যে স্থলে মৃত্যুদেবতা প্রবেশ করেন নাই। গত পক্ষকালের মধ্যে আমার একমাত্র পুত্র রামকিঙ্কর এবং ব্রাহ্মণী গঙ্গালাভ করিয়াছেন। আত্মহত্যা মহাপাপ। কিন্তু আমি সহ্যাতীত স্থানে উপনীত হইয়াছি। আগামী ৭ই আশ্বিন ন্যায়রত্ন মহাশয় কাশীধাম যাত্রা করিবেন। স্থির করিয়াছি আমিও সহগমন করিব। বাসনা ছিল জাহ্নবীতীরে যে স্থলে পিতৃপুরুষগণের অন্তিমক্রিয়া সম্পন্ন হইয়াছিল সেই স্থলে আমারও অন্তিমক্রিয়া সম্পন্ন হউক। কিন্তু বিধিবাম। প্রত্যাবর্তন করিতে পারিব কিনা জানি না। সম্ভবত পারিব না। তাই আমার মস্তকস্থিত শিখাগুচ্ছ কর্তন করিলাম। আমার পূর্বপুরুষের সঞ্চয় দু-টি রজতমুদ্রা এবং শিখাগুচ্ছ কাষ্ঠপেটিকার অভ্যন্তরে লিপিকাসহ মৃত্তিকা নিম্নে প্রোথিত করিলাম। উত্তরপুরুষগণের উদ্দেশ্যে সনির্বন্ধ প্রার্থনা, যিনি এই পেটিকা প্রাপ্ত হইবেন যেন ওই শিখাগুচ্ছ এবং লিপিকাখানি জাহ্নবীগর্ভে সমর্পণ করেন। রজতমুদ্রা দু-টি তাঁহার সম্মানদক্ষিণা
ওঁ শান্তি।
পড়া শেষ করে মৃগাঙ্কবাবু অংশুমানবাবুর দিকে তাকালেন। অংশুমানবাবু বললেন, ‘বৃদ্ধের অন্তিম ইচ্ছার মর্যাদা তো দিতেই হবে। আপনি এক কাজ করুন। এগুলো আমার এখানেই থাক। শুধু মুদ্রা দুটো আপনি নিয়ে যান। কাল খুব সকালে আমার এখানে চলে আসুন। গামছা-টামছা নিয়ে আসবেন। বহুদিন গঙ্গাস্নান হয় না। বৃদ্ধের আশীর্বাদে সেটাও কাল হয়ে যাক।
মৃগাঙ্কবাবু বললেন, ‘ঠিক আছে। কিন্তু মুদ্রা দুটো আমি নেব না। একটা আপনি রাখুন, একটা আমি নিয়ে যাই। ভট্টাচার্য বংশের শেষ স্মৃতিচিহ্ন।’
পরদিন সকালে সূর্যোদয়ের আগেই একটা রিকশায় করে দু-জনে গঙ্গায় চলে গেলেন। কোমর জলে নেমে অংশু অংশুমানবাবু হাতে করে শিখাগুচ্ছ এবং কাগজগুলো জলে ভাসিয়ে দিলেন। একটুক্ষণ ভেসে থেকে সেগুলো ধীরে ধীরে জলের নীচে অদৃশ্য হয়ে গেল। মৃগাঙ্কবাবু শূন্য বাক্সটা জলে ভাসিয়ে দিলেন। সেটা ভাসতে ভাসতে স্রোতের টানে ক্রমশই দূরে চলে যেতে লাগল। তখন সূর্যোদয় হচ্ছে। সূর্যের রক্তিম আলোয় প্রাচীন এক বৃদ্ধের পরলোকগত আত্মার শান্তিকামনায় দু-জনেই একসঙ্গে উচ্চারণ করলেন, ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি! ওঁ শান্তি!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন