কুয়াশার রাত

সাগরিকা রায়

লেখা লেখি করাটা আমার শখ। এই শখ এখন আমার পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানান পত্রপত্রিকায় নিয়মিত আমার লেখা প্রকাশিত হয়। পাঠকের মনোযোগ পেয়েছি। ফলে প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। এর মধ্যে পুজোসংখ্যার লেখালেখি চলল। সেপ্টেম্বরের মধ্যে পত্রিকাগুলো বেরিয়েও গেল। পকেট মোটামুটি ভারী বললে অত্যুক্তি হয় না। রঞ্জনদা আমাকে বলেছিল ওর ওখানে যেতে। কিন্তু আমার খুব একটা ইচ্ছে ছিল, তা বলা যায় না। ভিড় ভাড়াক্কা, লোকজন থেকে খানিকটা দূরে থাকতে চেয়েছিলাম। রঞ্জনদা আমাকে আশ্বাস দিল, ‘হয়ে যাবে। আমার এখানে দুটোদিন রেস্ট নিয়ে তারপর নির্জন জায়গায় থাকিস। আমার জানাশোনা জায়গা আছে। তোর মনের মতো। সুতরাং দেরি নয়। চলে আয়।’

অগত্যা! আমার ব্যাগ গুছিয়ে নিতে যেটুকু দেরি। দেরি না করে অনলাইনে টিকিট কেটে ফেললাম। আমি ফ্লাইটে চলে গেলাম মুম্বই। এয়ারপোর্টে রঞ্জনদা থাকবে বলে দিল।

রঞ্জনদা আমার পিসির ছেলে। আমার থেকে মাত্র তিন বছরের বড়। ছোট থেকেই আমাদের খুব ভাব।

এয়ারপোর্টে রঞ্জনদা ছিল। দুজনের মুলাকাৎ হইহই করেই হল। তারপরে আমরা দুজনে গাড়িতে চেপে চলে গেলাম বান্দ্রায় দাদার ফ্ল্যাটের উদ্দেশে। মুম্বাইতে আমি অনেকদিন পরে এলাম। ভিড়, ট্র্যাফিক, হাইরাইজ, হোর্ডিং...দেখতে দেখতে বিরক্ত লাগছিল। রঞ্জনদা বুঝতে পারছিল। আমি চোখ বুজে সিটে হেলান দিয়েছিলাম। রঞ্জনদা ডাকল, ‘আরে, দুটো দিন একটু সহ্য কর। এরপর তোকে মুম্বইয়ের কাছাকাছি একটা দারুণ নির্জন নিরিবিলি জায়গায় নিয়ে যাব। কেয়ারটেকার আমার পরিচিত। তোর দারুণ যত্ন নেবে। ভালো লোক। ওকে তোর কথা বলা আছে। তোর জন্য দুর্গের একটা সুন্দর ঘর সাফসুতরো করে রেখেছে। তুই মোটেই চিন্তা করিস না বিতান। ম্যায় হু না?’

শুনে মন ফ্রেশ হয়ে গেল। দুর্গে থাকব? আরেব্বাস! স্বপ্নের ব্যাপার। সত্যি যে দুর্গে থাকব, বিশ্বাস হচ্ছিল না। গাড়ির ভেতর থেকে বাইরেটা দেখতে দেখতে সময় কখন চলে গেল। একটু পরে বান্দ্রার আম্বেদকর রোডে পৌঁছে রঞ্জনদার ফ্ল্যাটে ঢুকতেই শালিনী বউদির সঙ্গে দেখা। আর তারপর ফের হুল্লোড় শুরু। শালিনী বউদি আমার ক্লাসমেট অদ্রির দিদি। আমার পূর্ব পরিচিতই শুধু নয়, বন্ধু বলাই ভালো। অনেকদিন পরে খুব হইচই হল। এভাবেই দুটো দিন কেটে গেল দেখতে দেখতে।

তৃতীয় দিনে আমার সেই দুর্গে গিয়ে থাকার কথা। আমি মোটামুটি উত্তেজিত। একটা দুর্গে থাকব, একটা দারুণ এক্সপিরিয়েন্স হবে, এসব ভেবে স্নান করে ব্রেকফাস্ট করে রেডি হয়ে বসে আছি। ছুটির দিন হলে রঞ্জনদা একটু দেরি করে বিছানা ছাড়ে। কিন্তু আজ সে রেডি হয়ে নিল তাড়াতাড়ি। আমরা বউদির থেকে বিদায় নিয়ে রওনা হলাম।

আম্বেদকর রোড থেকে গাড়িটা এস ভি রোডে উঠে ডানদিকে ঘুরে মেরিন ড্রাইভের দিকে ছুটল। এই রাস্তাটা বাঁ-দিকে ঘুরে গিয়ে সান্তাক্রুজ, খার, আন্ধেরির দিকে গিয়েছে। আমি রাস্তা দেখছি। রঞ্জনদা বলল, ‘এই রাস্তাটা এস ভি রোড থেকে মাত্র দশ মিনিটের মধ্যে খাঁড়িতে পৌঁছে দেবে। খাঁড়ির পাড়ে টিলা আছে প্রচুর। পরে দেখাব। তুই আগে এসেছিলি, তখন দেখিসনি নিশ্চয়?’

‘না, মাত্র সাতদিন ছিলাম। তা সেও একটা কাজে এসেছিলাম। সারাক্ষণ ব্যস্ততায় কাটিয়েছি। এলিফ্যান্তা কেভ, আর গেটওয়ে অব ইন্ডিয়া দেখেছি। আচ্ছা, দুর্গটা কোথায়?’

‘আন্ধেরি পেরিয়ে গিয়ে। আর দুঘন্টা। নো টেনশন।’

অবশেষে আমরা খানিকটা অন্যরকম জায়গায় প্রবেশ করছিলাম। রাস্তা সংঙ্কীর্ন হয়ে এসেছে এখানে। ঝুপ করে নির্জনতা গ্রাস করে নিয়েছে এলাকাটিকে। ঘন জঙ্গুলে পথ। আমি উদগ্রীব হয়ে এদিক ওদিক দেখছি। গাড়ি আস্তে আস্তে অনেকটা নীচে নামছে। নামতে নামতে ভুস করে ওপরে উঠে এল। ওপরে উঠেই গাড়ি একটা বাঁক নিল। নিয়েই একটা ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে গেল। রঞ্জনদা গাড়ির কাচ নামিয়ে গলা বাড়িয়ে দেখল, ‘ব্যস, এসে গিয়েছি। কুন্দন আসছে। ওই যে। ওই হল কেয়ারটেকার। আচ্ছা, নেমে পড়।’

আমি বাঁ-দিকের দরজা খুলে নেমে পড়লাম। ডিকি থেকে আমার ব্যাগ বের করে নিলাম। লম্বা চওড়া মাঝবয়সি লোকটি হাসি মুখে আপ্যায়ন জানাল, ‘আইয়ে সাব।’

তাকিয়ে দেখি আমার সামনে বিশাল খণ্ডহর। তার খানিকটা দাঁড়িয়ে আছে, খানিকটা প্রায় বসে গিয়েছে। প্রধান ফটক সামনেই নিশ্চয়! বিশাল ফটক ছিল একসময়। আজও তার চিহ্ন রয়ে গিয়েছে ফটকের গায়ে। একটা সময় খিলানের ওপর সূক্ষ্ম লতাপাতার শৈল্পিক ছাপ আজও অস্পষ্ট হয়ে আছে। প্রবেশ পথের ওপরের অংশটা অর্ধ গম্বুজাকৃতির। কোথাও কোথাও আধভাঙা সিঁড়ি উঠে গিয়েছে অনেক ওপরে। যেখানে পৌঁছেছে, সেখানে দাঁড়ানোর জায়গাই নেই। ফাঁকা। অদ্ভুত শূন্যতা থমকে আছে আকাশে মিশে যাবে বলে।

আমরা দুর্গে ঢুকতেই রঞ্জনদা বলল, ‘তোর একা একা লাগবে নাতো? লোনলি ফিল করবি মনে হচ্ছে। অসম্ভব নির্জন দেখছি! রাতে আরও নিঝুম হয়ে যাবে। চার্জারটা এনেছিস তো? আচ্ছা, কুন্দন, এখানে ইলেকট্রিসিটি আছে নিশ্চয়?’

‘হ্যাঁ রঞ্জনভাই। কিছু এলাকায় আছে। আমি এখানে থাকি। আর আছে একজন আমার হেল্পার। বুদিরাম। ও আমার রান্না করে। এখানে মাঝে মাঝে রিপেয়ারিং চলে। সরকারি কাজ। আমাকে দেখভাল করতে হয়। তবে এখন কাজ বন্ধ আছে। অসুবিধে নেই। আমি আছি। ভাববেন না।’

‘তাহলে আমি আসি? হটপটে খাবার দিয়েছে শালিনী। লাঞ্চ-ডিনার হয়ে যাবে। কাল থেকে কুন্দন ব্যবস্থা করবে। জোয়ারের রুটি আর মাখন। গোবিকা সবজি। বেসনের লাড্ডু। ওয়াও। আর, শোন, এখানে একদিন বারবিকিউ করা যায় কিন্তু। চুপেচাপে।’ হেসে উঠেছে রঞ্জনদা, ‘কিচ্ছু ব্যাপার না। কুন্দনকে ফিট করতে হবে। ইট প্রচুর আছে। এটা ১৬০০ শতকের। পোড়া ইট রয়েছে। ভেঙেচুরে চাকনাচুর হয়ে গিয়েছে। কয়েকটা ঘর বসবাস যোগ্য করা হয়েছে। সবটাই টুরিস্ট টানতে। ওই ইট দিয়ে একটা চৌকো বাক্সের মতো বানিয়ে নীচে কয়লা দিয়ে ওপরে জালি বা গ্রিলের ট্রে বা কয়েকটা স্কিউয়ার লাগিয়ে নিলে...হেভি বারবিকিউ। চিকেন হলে আমি করব...! একদিন এসে থাকব এখানে।’

রঞ্জনদা ঢুকল আমার সঙ্গে। আমি যে ঘরে থাকব, সেটা দেখে নিল ভালো করে, ‘শোন, দরকার হলেই ফোন করবি। আর, ভালো না লাগলে সোজা আমার ফ্ল্যাটে চলে যাবি। আমি এসে নিয়ে যাব। আজ যাচ্ছি।’ রঞ্জনদা চলে গেল। সি অফ করে দুর্গে এসে ঢুকলাম।

দুর্গের সামনের দিকের দুটো ঘর মানে যাকে কক্ষ বলা উচিত, সেই বিশাল কক্ষে ঢুকে মনে হল হারিয়ে যাব এত বড় ঘরে। বিশাল ঘরের সঙ্গে মানানসই বিরাট দরজা। ধাতব দরজায় পেতলের বড় বড় চাকতি সেঁটে আছে। মাথার ওপরে ছাদ অনেক উঁচুতে। একটি প্রাচীন পালঙ্ক রয়েছে। এটি অবশ্য নব সংযোজন হয়েছে দুর্গের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। কারণ সে যুগে লোহার খাটের চল ছিল না বলেই মনে হয়। যেটুকু দেখলাম পুরো দুর্গই পোড়া ইটের। পাথরের ব্যবহার ছিল না।

বিছানায় টানটান বেডকভার। পায়ের কাছে নিভাঁজ কম্বল। দুর্গটা ঘুরে ফিরে দেখে নেব এখন। রাতে বসে লিখব। বেশ মেজাজ আসছে। এই দুর্গের কত ইতিহাস...কত না বলা কথা লুকিয়ে আছে এর দেওয়ালে দেওয়ালে, বিভিন্ন কক্ষে, আধ ভাঙা সিঁড়ির ধাপে ধাপে। দুর্গের চারপাশ ঘিরে যে পরিখা রয়েছে, তা এখন শুকিয়ে আছে। কেবল চিহ্ন রয়ে গিয়েছে।

‘সাব, আপনি কি চা নেবেন?’ বিশাল দরজায় ছায়া পড়ল। কুন্দন এসে দাঁড়িয়েছে।

‘চা?’ আমি কুন্দনের দিকে তাকালাম। যেন প্রাচীন ভারত থেকে উঠে এসেছে। দুচোখে স্বপ্ন মেদুরতা।

‘সাব!’

‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, কুন্দনভাই, চা খাব। তারপর আমাকে দুর্গটা একটু ঘুরিয়ে দেখাবেন।’

‘নিশ্চয় সাব।’ বলে পেছন ফিরে গলা তুলল কুন্দন, ‘আরে ও বুদিরাম, চায়ে লা।’

দূর থেকে আওয়াজ এল, ‘আয়া জি।’

কেউ আসছে। সে বুদিরাম। এখানেও কি কথাবার্তা বলবে নাকি সারাক্ষণ এরা? আমি একটু নিজের মতো করে থাকতে চাই। ওই বুদিরাম এল। বড় ট্রে করে স্টিলের গ্লাসে ঘন দুধের চা নিয়ে এসেছে। সঙ্গে বিস্কুট। বুদিরাম লম্বা হিলহিলে চেহারার অল্পবয়সী মারাঠি ছেলে। মাথায় সুন্দর চুল। অল্প কোঁকড়ানো। হাসিভরা চোখ। রাজপুত্রের মতো চেহারা। এই দুর্গের সঙ্গে ঠিক মানানসই।

চা খাওয়ার পরে কুন্দনের সঙ্গে দুর্গ দেখতে বের হলাম। দুর্গের চার কোণে চারটি বুরুজ আছে। এই বিশাল দুর্গের কোনদিক দিয়ে দেখা শুরু করব! কুন্দন আমাকে নিয়ে একটার পর একটা কক্ষ পেরিয়ে যেতে যেতে লম্বা ঘোরানো প্যাসেজের মতো জায়গায় নিয়ে এল। এখান থেকে সিঁড়ি ব্যবহার না করে ওপর-নীচে চট করে যাতায়াত করা যায়। সে যুগে দুর্গের গায়ের ছিদ্র দিয়ে শত্রুকে আক্রমণ করার জন্য তির ছোড়া হতো। যাকে বলে শরছিদ্র। দেওয়ালে তেমন ছিদ্র দেখলাম।

প্রতি শরছিদ্রের দুপাশে দুটো করে সরু ছিদ্র দেখা গেল। শত্রুর আনাগোনা বোঝার জন্য চোখ রাখা হতো এই সরু ছিদ্রে। কুন্দন নীচে নামিয়ে আনল। একটা চতুষ্কোণ উঠোনে এসে পড়লাম। আয়তাকারে নির্মিত দুর্গটি পুবে-পশ্চিমে দুভাগে ভাগ করা। পশ্চিমের দিকটি আয়তনে পুবের থেকে অপেক্ষাকৃত বড় বলে মনে হচ্ছে। উঠোন জুড়ে পড়ে আছে রাশি রাশি ইট। গ্রামের লোকজন নাকি প্রচুর ইট নিয়ে গিয়েছে। এখন অবশ্য আটকানো গিয়েছে। দরজা জানালাও নিয়েছে। পেতলের চাকতি খুলে নিয়েছে। এসব বলতে বলতে কুন্দন আমাকে একটা সিঁড়ির কাছে নিয়ে এল। সিঁড়িটা গিয়ে উঠেছে প্রাচীরের শীর্ষে। প্রাচীরের শীর্ষে শরছিদ্র চোখে পরল। কিন্তু দুপাশে ছোট ছিদ্রগুলো আছে। ছাদের ওপরে আছে ওয়াচ টাওয়ার। শত্রুর আভাস পেলেই কামান দাগা হতো।

নীচে থেকে বুদিরাম কুন্দনকে ডাকছিল। কুন্দন আমাকে নীচে নেমে যেতে বলল। এমন রোদ ঝলমল দিনে কী করব ঘরে ঢুকে! তার চেয়ে যদি দুর্গটা ঘুরে দেখি?

কুন্দন একটু ভাবল, ‘আচ্ছা, কিন্তু এই যে সিঁড়িটা দেখছেন, মনে রাখবেন এটা দিয়ে নীচে নামবেন। এখানে অনেক সিঁড়ি, অনেক ঘর, অনেক ঘোরালো পথ আছে, বেশি ভেতরের দিকে যাবেন না।’ কুন্দন একটু হেসে চলে গেল। আমি খানিকক্ষণ এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলাম। দুর্গের বিশালত্বের মধ্যে হারিয়ে গিয়েছি যেন। একটা প্যাসেজ এমন সরু যে ওই প্যাসেজ দিয়ে কোথায় যাওয়া যায় ভাবছিলাম। ইচ্ছে হল একটু এগিয়ে দেখি। আবার কুন্দনের সাবধানবাণী ভুলতে পারছি না। নিশ্চয় ভেতরটা গোলকধাঁধার মতো।

কুন্দন জানে নিশ্চয় গলিঘুঁজির ধাঁধাটা। হারিয়ে ফেললে ও খুঁজে বের করতে পারবেই! হুম, একটা কাজ করা যাক, এখান থেকে কোনও একটা নিশানা রেখে যাই। একটা দাগ রেখে রেখে...হ্যানসেল, গ্রেটেলের গল্পের মতো! কী করি? সীতার মতো গয়না ফেলে ফেলে যাব, তার উপায় নেই। তাহলে...এই যে, আমার পকেটে পেন রয়েছে। দেওয়ালে একটা দাগ রেখে রেখে যাই, তাহলে আর অসুবিধে নেই!

দেওয়ালে পেনের দাগ রেখে রেখে সরু প্যাসেজের মধ্যে ঢুকে পড়লাম। বাপরে! কী অন্ধকার! সামনে কী আছে, বুঝতে পারছি না। হাতড়ে হাতড়ে এগিয়ে যাছি। আচ্ছা, এই রাস্তাটা গিয়েছে কোথায়! দেওয়ালে ছোট ছোট ইট সুবিন্যস্ত। হাতে তার স্পর্শ পাচ্ছি, কিন্তু দেখতে পাচ্ছি না। আচ্ছা, এখানে নাকি শত্রুদের গুম করে রাখার ব্যবস্থা ছিল! এটা সেই পথ নয়তো ও গুমঘরে যাওয়ার পথ নিশ্চয় এটা। হুম, তাহলে তো যেতেই হচ্ছে। দেখি, আরেকটু এগিয়ে দেখি।

অন্ধকারটা ক্রমশ বাড়ছে। দৃষ্টি আর চলে না। হাতড়ে হাতড়ে চলেছি ঠিকই, কিন্তু চোখে দেখতে পাচ্ছি না বলে সাবধানে পা ফেলতে হচ্ছে। হঠাৎ করে পথটা হয়তো শেষ হয়ে গেল! বা সামনে কোনও দেওয়াল উঠে গেছে, অন্ধকারে দেখতে পাচ্ছি না, সুতরাং জোর ধাক্কা খেতে হবে অজান্তে! আবার বলা যায় না, পথটা গিয়ে কোন একটা গভীর গর্তে পড়েছে, এমন হতেই পারে! ব্যাক করে যাব? পথ তো শেষ হচ্ছে না! কুন্দন এসে আমাকে খুঁজে পাবে না।

মন টানছে দুদিকে। ফিরে যাব, নাকি এগিয়ে যাব! সামনে কী আছে? কেউ টানছে আমাকে! ভীষণ আকর্ষণ করছে সামনের অদৃশ্য কেউ বা কিছু! এই যে প্রাচীন দুর্গ, এর কত কাহিনি, কত মানুষের নিঃশ্বাস, আশা, নিরাশা...ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে এই দুর্গের দেওয়ালে দেওয়ালে। কত মানুষের হাহাকার ঘুরে মরছে এই দুর্গের অলিগলিতে। বাঁ-দিকের গলিটা ঝট করে সামনে চলে এল। ওদিকে কী আছে? বাঁ-দিকে পা বাড়ালাম।

এদিকটাও একই রকম। আগের পথটার মতোই। কোথায় একটা জোর শব্দ হল! কারা ছুটে আসছে এদিকে! ওহ, কুন্দন ভয় পেয়ে আমাকে খুঁজছে! হা হা হা। সঙ্গে আরও কেউ আছে। কে আর! বুদিরাম ছাড়া আর কে হতে পারে!

আমি যে সরু পথ দিয়ে আসছিলাম এতক্ষণ, সেখান দিয়ে দৌড়ে চলে যাচ্ছে ওরা। আমি যে বাঁ-দিকের গলিতে ঢুকেছি, ওরা জানে না! একটু শব্দ করি? আমি আস্তে আস্তে মুখের কাছে দুহাত নিয়ে শব্দ করলাম--কুউউ!

দৌড়টা হঠাৎ করে থেমে গেল! হঠাৎ করে সব সুনসান! কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে ওদের উপস্থিতি বোঝার চেষ্টা করলাম। নাহ! কেউ নেই! কী আশ্চর্য! এইমাত্র এই পাশের গলিতে ছিল যারা, তারা ঝট করে কোথায় গেল? আমি তাড়াতাড়ি করে বাঁ-দিকের গলি থেকে পাশের গলিতে বেরিয়ে এলাম। এই সরু পথ দিয়ে আমি সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম, তারপর বাঁয়ের গলিতে ঢুকেছি। কিন্তু এই যে গলিতে এলাম এখন, এটাই কি সেই আগের গলি? সামনে আরেকটা সরু গলি চলে গিয়েছে! আমার পেছনেও দুটো সরু সরু গলি...।

আমি বুঝতে পারছি, আমি সর্বনাশা খেলা খেলতে নেমেছি। কিন্তু কুন্দন কোথায়? সুনসান চারপাশ অন্ধকারে হোলি খেলছে। কোন এক অজানা ঘরে অদ্ভুত কোনও পোকা ঘুরুরুরু করে ডেকে উঠেছে। ব্যস! আর কোথাও কোনও শব্দ নেই! কী আশ্চর্য! আমাকে কুন্দন খুঁজেও পাচ্ছে না? ও জানে এই দুর্গের গলিঘুঁজির কথা। আমাকে সাবধান করেছিল। তাহলে খুঁজতে বেরিয়ে চলে গেল কোথায়?

খুব ভুল হয়ে গিয়েছে! কিছুক্ষণ হল এসেছি এই দুর্গে। কুন্দনের ফোন নাম্বার নেওয়ার কথা মাথায় আসেনি! ও জানতে পারবে না আমি কোথায়!

আস্তে আস্তে দেওয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়ালাম। আমি একটু করে বুঝতে পারছি আমার অবস্থাটা। এই দুর্গে ভুলভুলাইয়া আছে। আমি সেই ফাঁদে পড়ে গিয়েছি! আমার বুক শুকিয়ে গেল। সত্যি যদি আমি দুর্গের ভেতরে আটকে পড়ি, যদি কুন্দন আমাকে খুঁজে না পায়...!

‘সাব...সাব...!’

আমাকে ডাকছে! আমি সোজা হয়ে দাঁড়ালাম। কুন্দনের গলা! আমি চিৎকার করে উঠলাম, ‘কুন্দন, আমি...এখানে...এ...এ...!’

কেউ ছুটে আসছিল। ভয় কাকে বলে আজ সম্যকভাবে বুঝতে পেরেছি! কুন্দনের কন্ঠস্বর যেন প্রাণের আশ্বাস নিয়ে এল আমার মধ্যে!

কুন্দনের ছায়া পড়ল আমার চোখের সামনে। একটা সরু গলি দিয়ে বেরিয়ে এল কুন্দন, ‘আপনি ঠিক আছেন সাব? এদিকে এসেছিলেন কেন? আমি বলেছিলাম...!’

কুন্দনের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে এলাম। আমার সামনে এখন সূর্যের আলো! সিঁড়িটা দেখে ধড়ে প্রাণ এল। এই সিঁড়ি দিয়েই ওপরে উঠেছিলাম!

‘আমি সোজাই যাচ্ছিলাম। কিন্তু ভেতরে অনেক পথ...একই রকম...! গোলমাল হয়ে যাচ্ছিল।’

‘এখানে গোলকধাঁধা আছে। শুনেছি শত্রুকে ধোঁকা খাওয়াতে এটা তৈরি হয়েছিল।’ কুন্দন হাঁটতে হাঁটতে কথা বলছিল।

‘আচ্ছা, আপনারা একটু আগেও আমাকে খুঁজতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরে কোনদিকে যে গেলেন, আমি বুঝতে না পেরে অন্য প্যাসেজে ঢুকে গেলাম!’

‘আমরা কিন্তু যাইনি। আমি এইমাত্র এসেছি, আর আপনাকে দেখতে না পেয়ে বুঝেছি যে আপনি নিশ্চয় ভেতরে ঢুকেছেন! ডাকাডাকি করে আপনার সাড়া না পেয়ে ভয় পেয়েছিলাম। একবার গোলকধাঁধায় আটকে গেলে খুব মুশকিল। আমিও এই দুর্গের ভেতরের সবটুকু চিনি না। আপনি জানেন না, দুর্গের ভেতরে অদ্ভুত সব জায়গা আছে! একবার নাচমহলে যদি ঢুকে পড়তেন!’

‘নাচমহল আছে এখানে?’

‘আছে সাব। কিন্তু আমি দেখিনি। শুনেছি। ওই নাচমহল নিয়ে অনেক কাহিনি শুনেছি। যাক, আসুন, আপনার রুমে পৌঁছে দিই।’

কুন্দনের সঙ্গে আমার জন্য বিশাল নির্দিষ্ট কক্ষে ঢুকলাম। দিনের বেলায় ঘরটা অল্প আলো ছায়ায় ঘেরা। রাতে ভালো ঘুম হয়নি। নিপাট শয্যা দেখে ঘুম তেড়ে এল। আমি কুন্দনকে বললাম সেকথা। কুন্দন লাঞ্চ ওদের কাছেই করার জন্য আমন্ত্রণ জানাল। ভালোই হল। একা খাবার খেতে ভালো লাগে না। আমি ঘণ্টাখানেক পরে লাঞ্চ করব বলে পালঙ্কে গিয়ে শুয়ে পড়েছি। শুতেই সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েছি!

হ্যাঁ, আশ্চর্য ঘটনা হল, গভীরভাবে ঘুমিয়ে পড়লাম! সাধারণত দিবানিদ্রা আমার অভ্যেসের মধ্যে পড়ে না। আমি গভীর রাত পর্যন্ত লিখি। বেলা এগারটায় আমার ঘুম ভাঙে। তখন স্নান করে হালকা ব্রেকফাস্ট। তারপর একটু পড়াশোনা, ফোনাফুনি। বিকেলে বেশিরভাগ দিন সাহিত্যসভা, বই উদ্বোধন...ইত্যাকার বিষয় সামলে রাতে লেখার টেবিলে বসি। আজ এমন কিছু টায়ার্ড ছিলাম না যে দিন দুপুরে এমন অসাড় ঘুম ঘুমবো।

ঘুমটা ভেঙেছে একটা সময়, কিন্তু আমি অসাড় অবস্থা থেকে নিজেকে সাড়ে ফেরাতে পারছি না। যেভাবে শুয়ে পড়েছিলাম, সেভাবেই আছি। আই মুভমেন্ট করতে পারছি না। আমার কি স্লিপ প্যারালাইসিস হল! আমি একটু নড়তে পারছি না! তাকিয়ে আছি আর দেখছি বুক হিম করে দেওয়া এক অন্ধকারে একা দাঁড়িয়ে আছি! অনন্ত বিষাদ আমাকে টেনে ধরে আছে। এই অন্ধকারেই আমাকে থাকতে হবে। আমার ব্রেন কাজ করছিল। আমি সব বুঝতে পারছি! কিন্তু হতাশার আবর্ত থেকে নিজেকে বের করতে পারছি না। ক্রমশ আমার চিন্তাশক্তি হারিয়ে যাচ্ছে! আমি একটা মমি হয়ে যাচ্ছি!

কতক্ষণ এভাবে ছিলাম, জানি না। কুন্দন আমাকে ডাকছে। ও-ই চোখে মুখে জল ছিটিয়ে, ধাক্কা দিতে দিতে আমার সাড় ফিরিয়ে আনে, ‘আপনি এমন ঘুম ঘুমিয়েছেন সাব! তবিয়ত ঠিক আছে? কতক্ষণ থেকে ডাকছি!’

আমি উঠেছি। স্বপ্ন দেখছিলাম! কুন্দন বলল, ‘গোসল করবেন তো?’

বাথরুম বেডরুমের বাইরে। স্নান করার ইচ্ছে ছিল না। শীত করছিল। এখানে গরম জলের ব্যবস্থা নেই। ওদের কাছে ফের গরম জল চেয়ে বিরক্ত করতে ইচ্ছে হল না। বাঁধানো চৌবাচ্চা রয়েছে অতীতের স্মৃতি নিয়ে। হাতমুখ ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে তাকাতেই আয়নাটা দেখলাম। দেওয়ালে সেট করা ফ্রেমে আঁটা বিশাল এক আয়না। আমার প্রতিচ্ছায়া দেখতে আমার ভয় ভয় করছিল। এই কাচে কাদের প্রতিচ্ছায়া পড়ত? কে জানে তারা কোথায়! এসব মনে হচ্ছে কেন আমার? তা জানি না। আসলে এত নৈঃশব্দ্য মনকে ভয়ের অনুভূতিতে আচ্ছন্ন করে ছিল। আয়নার দিকে তাকিয়ে শীতল ভয় আমাকে অসাড় করে ফেলছে! আয়নার প্রতি আমার ভীতির কোনও মেডিক্যাল এক্সপ্লেনেশন নেই। সত্যি বলতে আমার তো স্পেক্টোফোবিয়া নেই!

আমি দ্রুত দরজা খুলে বাইরে আসতেই দেখি, বুদিরাম আমাদের ডাকতে আসছে।

আমার ঘর থেকে হটপট নিয়ে নীচে নেমে এলাম। ওরা খাবার সাজিয়ে বসেছে। আমার বক্স খুলে খাবার বের করে ভাগ করে খেলাম। এরা কাঁচালঙ্কার আচারটা দারুণ করে!

এখানে সন্ধে নামে তাড়াতাড়ি। সন্ধে হতে হতেই সব নিঝুম হয়ে গেল। বাইরের শব্দ আসছে না। ডিনার সেরে নিলাম। ঘি জবজবে জোয়ারের রুটি আর একটা সবজি।

লিখতে বসে গেলাম। এই ঘরে ইলেকট্রিসিটি কানেকশন নেই। কেন, তা জানি না। চমৎকার একটি পেতলের টেবিল ল্যাম্প জ্বলছে। কাচটা হলুদ। আমার ল্যাপের ওপরে হলুদ আলো এসে পড়ল। আজ রহস্য রোমাঞ্চ পত্রিকার জন্য একটি গল্প লিখব। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই দুর্গে ঢুকে অব্দি অদ্ভুত ভাবে নানা অবস্থায় পড়েছি। এখানে আসার পর যেসব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি, সেই সব অনুভূতিগুলো আমার মনকে নতুন করে আচ্ছন্ন করছিল। সত্যি সত্যি মনে হচ্ছিল আমি যেন ফের সেই গোলকধাঁধায় ঢুকেছি! সেই ভয় ফের হিরহির করে আমার শিরদাঁড়ায় ঢুকে পড়ছে!

এই ঘরের হলদে আলো আর ছায়া মিলে আমাকে কেমন ঘোরের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। নেশায় আবিষ্ট হয়ে পড়েছি আমি। আমার আঙুল আমার আদেশ না মেনে নিজে চলতে শুরু করেছে। এক অতিপ্রাকৃত পরিবেশ আমাকে শাসন করছে। আমি মিষ্টি কোন ফুলের গন্ধ পাচ্ছি। চেনা চেনা গন্ধ! চুলের তেলের গন্ধ। আমি আমার গল্পে লিখছি,—এবারে আমার সমস্ত শরীরে অস্বাভাবিক শিহরণ জেগে উঠেছে। মনে হল, আমি একা নই এই দুর্গের একটি বিশাল আধোঅন্ধকার ঘরে। এই ঘরে কবে কোন রমণী কেশসজ্জা করত। তার চুলের তেলের গন্ধ পাচ্ছি। মেহেন্দির গন্ধ পাচ্ছি। একটা চুড়ি পরা হাত আমার সামনে ...তার হাতে মেহেদির লতাপাতার কাজ...!’

প্রথমে লক্ষ করিনি। কিন্তু মনটা কিছু বলছিল। আমার মনে হচ্ছে একটা অন্যরকম ঘটনা ঘটে যাচ্ছে এখানে! ল্যাপ থেকে চোখ তুলতে যাচ্ছি, চমকে গেলাম। আমার সামনে একটা হাত! সেই হাতে রঙবেরঙি চুড়ি, হাতে আমি যেমন লিখেছি, ঠিক তেমনই মেহেদির লতাপাতা। কার হাত? মুখ তুলে তাকিয়ে কিচ্ছু দেখতে পেলাম না! হাত রয়েছে, হাতের মালকিন নেই! মানে?

আমি যা লিখছি, সেটাই সত্যি হচ্ছে এঘরে। আমি হাতের কথা লিখেছি। হাতের মালিকের কথা লিখিনি! তাই হাত এসেছে, চুড়ি পরা হাত, হাতে মেহেদি...!

ঘরে আলোছায়া খেলা করছে! আমি একভাবে বসে রয়েছি। নড়তে পারছি না! ফের অসাড় হয়ে যাচ্ছি আমি!

ঠিক যেন মমি!

অসাড় হয়ে যেতে যেতে শুনতে পেলাম আমার ঘরের সামনে দিয়ে ছুটে চলে গেল কারা...

আমার চোখ বুজে আসছে।

ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রেখেছি। কুন্দন কাল এসেও আমাকে বের করতে পারবে না। আমি যে নড়তে পারছি না! দরজা খুলব কী করে!

একটি হাত আমার গলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। চুড়ির শব্দ উঠল ঠুং! হাতের মালিকের মুখের বর্ণনা দেব? নইলে তাকে দেখব কী করে? আমি আস্তে আস্তে বর্ণনা দিতে শুরু করেছি। হরিণের মতো তার চোখ নিশ্চয়। পানপাতা মুখ। গোলাপের পাঁপড়ির মতো ঠোঁট। সুন্দর মুক্তোর মতো দাঁত...! বর্ণনা যত এগোচ্ছে, ঘরের ভেতরে একটা পরিবর্তন টের পাচ্ছি। আমার মানসপ্রিয়া আমার পেছনে জন্ম নিচ্ছে। আর সহ্য হল না। তাকে না দেখে থাকতে পারছি না। আমি ঘুরে তাকালাম। এক লোলজিহ্বা সাদা চুলের দন্তহীন বৃদ্ধা হেসে উঠল। হাত তুলে আমাকে দেখাচ্ছে যেন কত বোকা বানিয়েছে আমাকে। তার হাত আমার চোখের সামনে দুলছে হাসির দমকে দমকে। দেখছি সেই হাতে আমার বর্ণনা মতো মেহেদির সুন্দর লতাপাতার কাজ। তার গা ভরা গয়না। লম্বা লম্বা সোনার চেইন হাঁটু পর্যন্ত নেমে এসেছে। সেগুলো দুলছিল সাপের মতো। হাত ভরা চুড়িগুলো ঝনাক করে উঠল। আমার গলায় শিরশিরে অনুভূতি হচ্ছে।

বৃদ্ধা হাসতেই চিৎকার করে উঠেছি, ‘কুন্দন...!’

আমার চিৎকার কেউ শুনতে পাচ্ছিল না। ঘরের ভেতরে কুয়াশা ক্রমেই ঘন হয়ে উঠছে। আমার চেতনা লুপ্ত হতে হতে একটা কথা মনে হল। এই বৃদ্ধার কথা আমি লিখিনি। অথচ এই প্রেত এল কী করে এখানে? হ্যাঁ, আমি একটি রমণীর কথা লিখেছি অবশ্যই। অর্থাৎ এই কক্ষের মধ্যে মনের চিন্তা খানিকটা সত্যি হয়!

আমি চোখ বুজে রঞ্জনদার কথা ভাবলাম। রঞ্জনদা...রঞ্জনদা...!

দরজায় কেউ ধাক্কা দিচ্ছিল, ‘বিতান, বিতান!’

উঠে গিয়ে কোনওরকমে দরজা খুলতেই রঞ্জনদার হাসিমুখ, ‘কী রে? দুর্গে যাবি না? আজ থেকে দুর্গে বাস করার কথা, ভুলে গিয়ে দমসে ঘুমিয়ে যাচ্ছিস? চল। আমি রেডি।’

আমি বিমূঢ়। দুর্গে যাব মানে? আমি দুর্গে যাইনি? যা ঘটেছে, সব স্বপ্ন? এ কি সত্যি? সেই কুয়াশার রাত, বৃদ্ধা...!

‘কাল স্বপ্ন দেখেছি, তোকে নিয়ে দুর্গে রেখে এসেছি। একদম সত্যি মনে হচ্ছিল স্বপ্নটা। যাক, চল। কুন্দন ওয়েট করছে হয়তো।’ রঞ্জনদা এগিয়ে যাচ্ছে, আমি পিছন থেকে ডাকলাম, ‘আমি যদি তোমার এখানে থাকি, দুর্গে না যাই অসুবিধে হবে?’

একরাশ হেসে রঞ্জনদা আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমি জানি, দুর্গে গেলে যা যা ঘটেছে, সব ঘটবে। সেই বৃদ্ধা অপেক্ষা করে আছে আমার জন্য।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%