বন্ধুরা এসেছিল

সাগরিকা রায়

বাড়ি থেকে বেরিয়ে মেট্রো স্টেশনে পৌঁছতে পৌঁছতে পরপর দুটো ট্রেন মিস হয়ে গেল৷ অনির্বাণ এস্কেলেটারে পা রেখে ট্রেনের টাইম দেখে বুঝতে পারল নেক্সট ট্রেন আসতে একমিনিট বাকি৷ ও তাড়াহুড়ো করল না৷ আর মাত্র একটু বাকি৷ আজ ওকে কালীঘাটে যেতে হবে৷ মায়ের পিসতুতো দিদির ভারি অসুখ৷

সকালে ফোন করেছিল অলীকদা৷ অলীকদা হল সেই দিদির ছেলে৷ মানে অনির্বাণের কাজিন৷ মা ধরে বসল, দিদিকে দেখতে যাবে৷ অনির্বাণ প্রমাদ গুনেছে৷ দুটো কারণে৷ এক, মায়ের কোমরে চোট আছে৷ সামান্য চিড় ধরেছে বলে বেডরেস্টে আছে মা৷ এখন মাসিকে দেখতে গেলে আরও অসুস্থ হয়ে যাবে৷ দুই, মাকে নিয়ে কালীঘাটে যাওয়া মানে উবর বুক করতে হবে৷ বিকেলের দিকে যাওয়া মানে অফিস ফিরতি সময়৷ তখন উবরের ভাড়া সাংঘাতিক বেশি৷ তার চেয়ে যদি ও গিয়ে দেখে আসে? তেমন জুলুম করলে অন্যদিন না-হয় উবরই বুক করে মাকে শুইয়ে নিতে হবে৷ দেখে আসবে মাসিকে৷ দেখাই যাক, অবস্থা কতটা ক্রিটিকাল৷ আপাতত তাই অনির্বাণ একাই যাচ্ছে৷

আজ সারাদিন ঘন কালো মেঘের ছুটোছুটি চলছে আকাশ জুড়ে৷ এই জুলাইতে নর্থবেঙ্গল ভেসে যাচ্ছে, অথচ এদিকে বৃষ্টি যেন বাচ্চা মেয়ের খেলাধুলো৷ ফ্রক দুলিয়ে আসছে, যাচ্ছে৷ কালীঘাটে বৃষ্টি না হলেই ভালো৷

স্টেশন থেকে অনেকটা ভেতরে মাসির বাড়ি৷ একচুয়ালি বাড়িটা মনে আছে, কিন্তু যাওয়াই হয় না৷

অলীকদা এখন থাকে বেঙ্গালুরু৷ মায়ের শরীর খারাপ শুনে অনির্বাণকে খবর দিয়েছে৷ যদি অনির্বাণ গিয়ে মাসিকে দেখে আসে, তাহলে অলীকদা একটু নিশ্চিন্ত হয়, এই আর কি! তেমন হলে অলীকদা আজই ছুটির ব্যবস্থা করে রাখছে৷ আসলে অলীকদা অনির্বাণের ওপরে খুব ভরসা করে৷ দুজনে বন্ধু বেশি, ভাই কম৷ অলীকদা বলল, ‘আমাদের বন্ধুত্ব লোক দেখানো নয়৷ তোর শরীর খারাপ হলে আমি ঠিক বুঝতে পারি৷ সেদিন শেষরাত থেকে আমার কোলাইটিসের ব্যথায় মরণাপন্ন দশা হয়েছিল৷ তোর ফোনটা পেয়ে আমার যা স্বস্তি হয়েছিল! রিলিফ পেয়েছিলাম৷ আজ মায়ের কথা শুনে তোর কথাই মনে এল৷ তুই সম্পর্কে ভাই হলেও আগে আমার বন্ধু৷’

কালীঘাটে নেমে স্টেশন থেকে বেরিয়ে একটা অটোতে উঠে পড়ল অনির্বাণ৷ মোক্তারপাড়া যেতে হলে খানিকটা অটোতে গিয়ে তারপর হন্টন পদ্ধতি নিতে হবে৷ ওদিকটাতে অটো যাবে না৷ দুটো বছরে কি পরিস্থিতি একটু পাল্টায়নি? মোক্তারপাড়া এখনও কলকাতার বুকে প্রায় অনাবিষ্কৃতের পর্যায়ে আছে? অনির্বাণ ভাবল৷

বাজারের মুখে এসে অটো ছেড়ে দিল অনির্বাণ৷ মোক্তারপাড়ার রাস্তাটা ধরে এগিয়ে যেতে লাগল ও৷ যেতে যেতে গলির মুখে এসে মনে পড়ল রাস্তাটা৷ এবারে একটা প্রাইমারি সুকল পড়বে৷ সেখান থেকে আরেকটা সরু গলি বাঁ-দিকে অনেকটা বেঁকে বেঁকে দু-ভাগ হয়ে গেছে৷ তারই ডানদিকেরটা ধরে একটা ছোট পুকুরের পাশ দিয়ে যেতে হবে৷ ওদিকটা কি এখনও জঙ্গুলে আছে? বড্ড সাপ খোপের আড্ডা ছিল সেখানে৷

অলীকদা চলে যাওয়ার পরে আর ইচ্ছে হত না আসতে৷ তাছাড়া যাওয়ার দরকারই পড়েনি৷ মাসি ছেলের সঙ্গে বেঙ্গালুরুতে ছিল৷ কিন্তু নতুন জায়গা বলে মাসির খুব নিঃসঙ্গ লাগত৷ রোজ বিকেলে শিবমন্দিরে বসে আরতি দেখা, গল্পগুজব করা হচ্ছিল না৷ এদিকে ছেলে সময় দিতে পারে না৷ অগত্যা মাসি জুলুম করেই চলে এল ফের কালীঘাটে৷ একটা ঠিকে ঝি ছিল৷ তারও তো যথেষ্ট বয়স হয়ে ছিল৷ এতদিনে সে বেঁচে আছে কিনা কে জানে!

নর্থবেঙ্গলে চাকরি নিয়ে যাওয়ার পর একটু সময় বের করতে পারেনি ও৷ অলীকদার সঙ্গে ফোনেই যা টুকটাক কথাবার্তা হয়৷ সেভাবেই জানে মাসি বেশ আছে৷ ব্যস! ব্যস্ততা মানুষকে আপনজন থেকে দূরে রেখে দেয়৷

প্রাইমারি সুকলটার গায়ে প্রাচীনত্বের ছাপ পড়েছে৷ দেখেই বোঝা যায় সংস্কার হয়নি বহুদিন৷ সুকলের অপোজিটের সরু গলিটায় ঢুকে পড়ল অনির্বাণ৷ অনেকটা হেঁটে যেতে হবে এখন৷ গলিটা ঠিক যেন অতুল সরকারদের জয় লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের অজস্র প্যাঁচওলা জিলিপির মতো৷ হেঁটে যেতে যেতে অনির্বাণের মনে হল গলিটা খুব নির্জন৷ এত নির্জনতা মাঝে মাঝে ভয় সৃষ্টি করে৷ ওর সামনেও কেউ নেই, পেছনেও যতদূর দৃষ্টি চলে, কেউ নেই! ভয় হবে না? নিজের পায়ের শব্দ ছাড়া অন্য কোনও শব্দ নেই৷ এমন জায়গায় অস্বস্তি হবে, এ আর বেশি কী? কাঁচা রাস্তায় একটা আধ ছেঁড়া পুতুল পড়ে আছে৷ এদিক ওদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কয়েকটা নীল, সবুজ কাচের চুড়ির ভাঙা টুকরো৷ হাঁটতে হাঁটতে একবার শ্বাস ফেলল অনির্বাণ৷ এদিকে লোকজন থাকে৷ চিহ্ন আছে৷ দেখা নেই৷

অবশেষে পুকুরের কাছে এসে খানিক স্বস্তি৷ এখান থেকে মাসির বাড়ি বেশি দূরে নয়৷ একটা বুড়ি পুকুরের ধারে উবু হয়ে শাক তুলছিল৷ অনির্বাণ তাকে জিজ্ঞাসা করবে কিনা ভেবে চুপ করে গেল৷ হয়তো চিনবে না মাসিকে৷ কানে শুনতে পাবে কিনা...! ঝুঁকে পড়ে শাক তুলছে৷ কোমর ভাঙা৷ ঠিক যেন ঘড়ির কাঁটা সাড়ে ছটায় এসে দাঁড়িয়েছে, এমন শরীরটা৷

বুড়ির পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় জল কাদায় পায়ের শব্দ উঠেছে জপ জপ৷ বুড়ি মুখ তুলে তাকাল, ‘কে? কে যাও? শ্রীনাথ?’

‘না, আমি শ্রীনাথ নই৷ আমি, অলীকদের বাড়ি যাচ্ছি৷ মোক্তারপাড়ার অলীক৷’

‘পা চালিয়ে যাও৷ দেরি নেই৷’ বুড়ি নিচু হয়ে ফের শাক তোলায় মন দিয়েছে৷

‘দেরি নেই? কীসের?’ বুড়ির কথাটা কেমন শোনাল অনির্বাণের কানে৷ অদ্ভুত লাগল৷ কীসের কথা বলছে বুড়ি?

বুড়ি হাসল না৷ স্থির চোখে অনির্বাণের দিকে তাকিয়ে দেখল৷ ফের ঘোলাটে চোখ নামিয়ে শাক তুলতে ব্যস্ত হল৷ অনির্বাণের মন খারাপ হয়ে গেল৷ কী বলছে বুড়ি? অলীকদার মা, মানে মাসির শরীর কি খুব খারাপ নাকি? এই বুড়ি পাড়ার লোক যখন, ঠিকই বলছে নিশ্চয়৷ অনির্বাণের বুকটা ফাঁকা ফাঁকা ঠেকল৷ কতদিন মাসির কাছে আসা হয়নি! অন্যায় হয়ে গিয়েছে৷ কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও একটু দেখা করার কি সময় বের করে নিতে পারত না ও? ছি!

তাড়াতাড়ি করে যাচ্ছে, গলির মুখে আসতেই এক ফলওয়ালার সঙ্গে প্রায় ধাক্কা লাগতে লাগতে বেঁচে গেল৷ অন্যমনস্ক বলে অনির্বাণ তাড়াহুড়ো করছে৷ নিজেকে একটু সামলে নিয়ে এগোতেই বাজার এলাকার মধ্যে এসে পড়ল৷ ভ্যান-রিকশায় প্রায় ধাক্কা খাচ্ছিল একটা বুড়ি৷ সে রাস্তা পার হবে৷ অনির্বাণ দ্রুত বুড়ির হাত ধরে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনতেই বুড়িটা অসচ্ছ চোখে তাকাল, ‘ওই পারে যাব৷ এ পারে এসেছিলাম৷ এখন যেতে হবে৷ তাড়াতাড়ি যেতে হবে৷ দেরি নেই৷ সময় হয়ে এল বলে!’

ঝট করে বুড়ির হাত ছেড়ে দিল অনির্বাণ৷ দুটো বুড়িই প্রায় একই ধরনের কথা বলল! আশ্চর্য! হাত ছাড়ে দিতেই বুড়ি টুকটুক করে রাস্তাটা পার হয়ে গেল৷ তারপরে যে কোনদিকে গেল, অনির্বাণ খেয়ালই করেনি! কিন্তু এই দুটো বুড়িই ওর মনটাকে খারাপ করে দিয়েছে৷ মাসি কেমন আছে কে জানে! এরা কি মাসির শরীর নিয়েই কোনও ইঙ্গিত দিয়ে গেল? ধুর! কী উলটোপালটা ভাবছে ও? এপার মানে বুড়ি রাস্তার এপারের কথা বলছিল! মন দুর্বল হয়ে আছে বলে এপার, ওপার শব্দগুলো অন্য ইশারায় কাঁপছে৷

ওপার মানে কি পরপার? ধ্যাত! তবে তাড়াতাড়ি যাওয়া দরকার৷ তেমন হলে দেরি না করে দ্রুত হসপিটালে নিয়ে যাবে মাসিকে৷ আর বুড়িদুটো অনির্বাণকেই বা এসব বলবে কেন? ওকে কি চেনে নাকি?

অনির্বাণ দ্রুত পা চালায়৷ এসে গেছে৷ ওই যে মাসির বাড়ির তুঁতে কালারের বারান্দা দেখা যাচ্ছে৷ অলীকদা একবার রঙের পোঁচ দিয়ে গিয়েছিল৷ বহুদিন আগের কথা৷ তারপর আর রঙ পড়েনি বাড়ির গায়ে, বোঝাই যাচ্ছে৷ সেই প্রথম রঙের প্রলেপের চিহ্ন রয়ে গেছে৷ আর রয়ে গিয়েছে বছরের পর বছরের বৃষ্টির দাগ৷ শ্যাওলার ছোপ৷

ছোট একতলা বাড়ি৷ সামনে বারান্দা৷ অনির্বাণ জানে বাড়ির পেছনে একটা পুকুর আছে৷ খানিকটা সবজিবাগানও৷ কিন্তু জায়গাটা শহরের প্রাণ থেকে বেশ ভেতরে৷ লোকবসতিও খুব কম এদিকে৷ যারা আছে, তারা দায়ে পড়েই আছে যেন৷ চারপাশেই ঝিমিয়ে পড়া ভাব৷ এখন শরীর খারাপ মাসির৷ এখানে কেই বা দেখাশোনা করছে! দরকারে ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থাই বা কী? আফশোস হল৷ মাসে এক-দুবার এসে মাসিকে দেখে যেতে পারত ও৷ শনি-রবি করে এলেই হত! আসলে নিজের জীবনের প্রবলেমগুলোকে সামলে তবেই তো অন্যের কথা ভাবে মানুষ!

বড্ড স্যাঁতসেঁতে জায়গাটা৷ এখানে এমনিতেই জ্বরজ্বালা হবে! বছর ভর সর্দি লেগেই থাকবে৷ মাসির তো হাঁপানির টান ছিল! ক্যানিঙের ওদিকে কোন কবিরাজের ওষুধ খেত যেন!

মাসির বাড়ির বারান্দায় একটি লোক দাঁড়িয়েছিল৷ অচেনা লোক৷ লম্বা, শুঁটকো লোকটার চেহারায় অনিদ্রার ছাপ৷ অনির্বানকে দেখে ভ্রু কুঁচকে উঠল, ‘আপনি? চিনলাম না!’

‘আমি অলীকের কাজিন৷ মাসির ছেলে৷ এখানে মাসি অসুস্থ শুনে অলীকদা খবর দিয়েছিল৷ তাই! জানতাম না৷ নাহলে আগেই আসতাম৷ উনি কেমন আছেন?’

‘ভালো নয়৷’ লোকটি নিচু স্বরে বলল, ‘দেখাশোনার লোক নেই৷ একা একা থাকেন! যা হয় আর কি! যাক, আসুন৷ আমি পাড়ার লোক৷ অসুস্থ শুনে এসে দেখে যাই৷ আর কী করব৷’

অনির্বাণ লোকটার পেছন পেছন ঘরে ঢুকতে একটা কেমন গন্ধ পেল৷ এই রকম গন্ধ পেয়েছিল জেঠুর মৃত্যুর আগে৷ শরীর ক্রমে শক্তি হারাতে থাকে৷ কোষগুলো নিস্তেজ হয়ে আসে৷ সেইসময় কি এধরনের গন্ধ বের হয়? এটাকেই কি মৃত্যুর গন্ধ বলে?

মলিন বিছানায় শুয়ে আছে মাসি৷ চোখ আধখোলা৷ মাথার কাছে একজন বৃদ্ধা মহিলা বসে আছেন৷ ওরা ঘরে ঢুকতে বৃদ্ধা মহিলাটি বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে৷ যেতে যেতে দরজা পর্যন্ত গিয়ে একবার পেছন ফিরে তাকালেন৷ ঘোলাটে চোখে কেমন এক কৌতুক আর বিষাদ একসঙ্গে জড়াজড়ি করে আছে৷ অনির্বাণ চমকে উঠল৷ এই বয়সের মানুষের দৃষ্টি কি একই ধরনের হয়?

‘কে ওই মহিলা?’ লোকটিকে জিজ্ঞাসা না করে পারল না অনির্বাণ৷ মহিলার চোখের কৌতুকটা ওকে অবাক করেছে৷

‘কোন মহিলা?’ লোকটি চারপাশে তাকাল৷

‘মাসির মাথার কাছে বসেছিলেন এইমাত্র৷ আমরা ঢুকতে চলে গেলেন!’

‘আপনি ভুল দেখেছেন মনে হয়৷ কোনও মহিলা তো ছিল না ঘরে!’

বৃদ্ধা মাসির চোখ অর্ধ নিমীলিত৷ অনির্বাণ ডাকাতে সাড়া দিলেন, ‘কে?’

‘আমি, অনির্বাণ৷ অলীকদা ফোন করেছিল! তাই...!’

‘ওকে বলিস, আমি যাচ্ছি৷ বন্ধুরা এসেছে নিয়ে যেতে৷’

অনির্বাণের চোখের সামনে মাসির চোখ বুজে এল৷ ডাকাডাকি করে আর সাড়া পাওয়া গেল না৷ লোকটি মাসির চোখ টেনে দেখল৷ পালস দেখল৷ বিমর্ষ গলায় বলল, ‘চলে গেছেন! আপনার অপেক্ষাতে ছিলেন যেন!’

অনির্বাণ ঘরের বাইরে গিয়ে দাঁড়াল৷ এদিকে পুকুর দেখা যায়৷ অলীকদাকে ফোন করতে হবে৷ ফোনে কথা বলছিল অনির্বাণ৷ খেয়াল করেনি প্রথমে৷ দেখল চারটে বুড়ি পুকুরের ধার ঘেষে ওইদিকে কোথায় চলে যাচ্ছে! খুব হাসাহাসি, গল্প করতে করতে যাচ্ছে বুড়িগুলো৷ অনির্বাণ তাড়াতাড়ি করে এগিয়ে যেতে যেতে ওরা মিলিয়ে গেল!

গেল কোথায়? এদিক দিয়ে যাওয়ার রাস্তা নেই! তাহলে? কে দেখেছে ওদের? পুকুরের পারে কিছু পাখি, জল ফড়িং হয়তো দেখেছে ওদের৷ কিন্তু ওরা কাউকে বলে না সেসব কথা৷ চারটে বুড়ি কারা? তিনজনকে ও আগে দেখেছে৷ চারনম্বর কে? মাসি? কারা এসেছিল মাসিকে নিয়ে যেতে? বন্ধুরা! মানে? মাসির বন্ধুরা? যাদের টানে মাসি বেঙ্গালুরু থেকে চলে এসেছিল এই পুরোনো পাড়ায়? তারা আগেই চলে গিয়েছে ওপারে৷ আজ এসেছিল বন্ধুকে নিয়ে যেতে!

ওদিকে অলীকদা ফোনে হ্যালো হ্যালো করছে৷ অনির্বাণ মৃদু স্বরে বলে--অলীকদা...! মাসি এইমাত্র চলে গেল...এইমাত্র...!

পুকুরের পাড় দিয়ে অনেকটা হেঁটে গিয়েও কাউকে দেখতে পেল না অনির্বাণ৷ কেউ নেই কোথাও৷ অথচ খানিকটা গল্প, হাসি...বাতাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যেন এখনও৷ ফুলের গন্ধের মতো৷

দুটো জলফড়িং ওড়াওড়ি করছে৷ অনির্বাণ জানে ওরাও দেখেছে চারবন্ধুকে৷ কিন্তু কোথায় গিয়েছে তারা, কেউ জানে না৷ জানতে নেই সেই অজানা দুনিয়ার কথা! সে এক গাঢ় বন্ধুত্বের জগৎ!

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%