সপ্তদশ অধ্যায়

সুচিত্রা ভট্টাচার্য

সায়নদীপের দিকে সোজাসুজি তাকাতে পারছিল না বৃষ্টি। দু-তিন দিন প্রাণপণ চেষ্টা করেছে যেন মুখোমুখি না হতে হয়। কিন্তু আজ এমনভাবে ঝট করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তার সামনে এসে দাঁড়াল!

শহর জীবনের একটা মস্ত গুণ অনেক ঘটনা দিনের আলোতে ঘটলেও অপ্রকাশ্য থেকে যায় বহু দিন। তেমন আবার বড় দোষ যত গোপনেই ঘটে যাক না কেন, বিশেষ করে সেই ঘটনায় যদি কেলেংকারির গন্ধ থাকে, কেউ না কেউ তার সাক্ষী থাকবেই। সেদিন রাত্রি একটার সময় থানা থেকে ফিরলেও বৈশাখের খোলা জানলা দিয়ে এক আধটা চোখ উকি দেয়নি, এ তো হতেই পারে না। অবিনাশবাবুর ছেলের বউ অথবা বৃদ্ধ বিশুদাদু নিদেনপক্ষে কোন মানদা বা রামু। বৃষ্টি সেটা জানে বলেই কেমন একটা লজ্জা ভর করেছে তাকে। অথচ তার তো এমন হওয়ার কথা নয়। সেই রাতই বৃষ্টির নেশা করে ফেরার প্রথম রাত নয়। আগেও অনেক বেসামাল অবস্থায় বাড়ি ফিরেছে। তার জন্য তার কোন লজ্জাবোধ ছিল না, আত্মগ্লানি তো নয়ই।

পুলিশে ধরার পরেই বৃষ্টি বুঝতে পারল, সংকোচ কুণ্ঠা সবটুকু বোধহয় এখনও মুছে দিতে পারেনি সে। নাহলে পুলিশ অফিসারের অশ্রাব্য গালিগালাজে, নেশার ঘোরেও, কেন অপমানিত বোধ করছিল!

সে প্রথমে বাড়ির ঠিকানা, ফোন নাম্বার বলতে চায়নি। পুলিশ অফিসার রুল তুলে ভয় দেখিয়েছিলেন তাকে,

—লেকে বসে পাতা খেয়ে ছেলেদের সঙ্গে লদকালদকি করার সময় বাড়ির লোকের কথা মনে ছিল না? এখন তাদের নাম শুনেই খুকিপনা? ন্যাকামো? একটা রুলের ঘা পড়লে...

শুধু অপমান নয়, ভয়ও অসাড় স্নায়ুর ভেতর শুঁয়োপোকার মত ওঠানামা করছিল সে সময়! ফোন নাম্বার বলার পর বার বার মনে হচ্ছিল কতক্ষণে মা আসবে; তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাবে ওই নরক থেকে। মার আগে বাবা এল।

বাবা মার অমন বিবর্ণ পাংশু মুখ, বাবা যেন এক ভাঙাচোরা মানুষ, মা দুমড়ে যাওয়া প্রতিমা, কল্পনারও অগোচরে ছিল বৃষ্টির। তুরীয় অবস্থাতেও মনে হচ্ছিল বিধ্বস্ত দুটো মানুষ তাকে কালো খনির অন্ধকার থেকে তুলতে এসেছে। এখন সায়নদীপের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, এই ছেলেটাও কি পূর্বাভাস পেয়েছিল কিছু? নাহলে সেদিনই বা ওরকম ইঙ্গিত করে কি করে?

দগ্ধ দিনের পর বৈশাখের উত্তাপ কমাতে ফিনফিনে বাতাস বইতে শুরু করেছে। বৃষ্টি মাথা নিচু করে জিজ্ঞাসা করল,

—তোমাদের বাড়িতে নাকি দু-তিন বার ডাক্তার এসেছিল? সুধামাসি বলছিল। তোমার মার কি শরীর খারাপ?

—তা জেনে তোমার কি লাভ? নিজের বাড়ির লোকেদের ব্যাপারেই তোমার চিন্তা আছে কোন?

বৃষ্টি মুখ তুলল,—কেন থাকবে? কেউ তো খারাপ নেই।

নিজের কথাতে নিজেই আজ তেমন সায় পেল না বৃষ্টি। যেন কথাটা তার মনের কথা নয়।

সায়নের মুখে বিদ্রূপের হাসি। বৃষ্টি সব সময় এমন হাবভাব করে যেন পৃথিবীর সমস্ত মানুষের মানসিক অবস্থা তার নখদর্পণে। সমগ্র মানুষজাতির সুখের সমুদ্রে বৃষ্টি যেন একাই শুধু নিঃসঙ্গ দুঃখের দ্বীপ।

পার্কের রেলিঙের ধারে দাঁড়িয়েছে দুজনে। পিকলু রনিরা পার্কের ঘাসে বসে আড্ডা মারছে। বৃষ্টির সঙ্গে সায়নের কথা বলা, মাখামাখি তারা পছন্দ করে না। সায়নের মত ছেলে বৃষ্টির সঙ্গে মিশবে কেন?

সায়ন বলল,—খারাপ নেই? নিজের মা বাবার কতটুকু খবর রাখো? জানো তাদের অবস্থা?

ভেতরে রাগ দপ্ করে উঠলেও বৃষ্টি রাগতে পারল না, —এটা আমার পারসোনাল ব্যাপার নয় কি?

—যখন একটা কলেজে পড়া মেয়ে রোজ রাত দশটায় বাড়ি ফেরে, মাঝে মাঝে টলতে টলতে, তখন ব্যাপারটা পারসোনাল থাকে না। তোমার কি মনে হয়, যখন কোন বাবা মা ড্রাগ নেওয়া মেয়েকে ধরাধরি করে বাড়িতে নিয়ে আসেন, তখনও ব্যাপারটা পারসোনাল থাকে?

বৃষ্টি কোণঠাসা বেড়ালের মত তাকিয়ে। সায়ন ভ্রূক্ষেপও করল না,

—কি এত দুঃখ তোমার? বাবা মার ডিভোর্স হয়ে গেছে? স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকতে পারেননি, আলাদা হয়ে গেছেন। সেটা সম্পূর্ণ তাঁদের পারসোনাল ব্যাপার। এই যে রনির মা বাবা সকাল-সন্ধে দু’জনে দু’জনকে অভিশাপ দ্যান্, এটাই ঠিক? এক সঙ্গে থাকা কি দু’জনে দু’জনকে দুরমুশ করার জন্য?

কোণঠাসা বেড়াল আর সংযত থাকতে পারল না। রাস্তার আলোয় তার ছায়া মৃদু কাঁপছে,—রনির বাবা মা আলাদা হয়ে গেলেই সব সমাধান হয়ে যেত? রনির বাবা আরেকটা বিয়ে করে ফেলতেন আর রনির মা...

—তোমার বাবা আবার বিয়ে করেছেন?

—করেছেন মানে? একটা ছেলেও আছে। মার নেহাত হয়ে ওঠেনি তাই। নইলে আমি ওদের কে? ফালতু।

সায়ন নয়, যেন নিজের সঙ্গে ঝগড়া শুরু হয়েছে বৃষ্টির।

সায়ন বলল,—ও। সেই জন্য তুমি মদ খাও? ড্রাগ নাও? একটা গ্রোন্‌আপ মেয়ে তার এতটুকু বোধ নেই, কোন মানুষই শুধু স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকতে পারে না। নিজের মত করে আরেকবার জীবনটাকে গড়ে তুলতে চাওয়া অন্যায়? অন্যের মুখের দিকে তাকিয়ে সারা জীবন আপস করে চলতে হলে তার পরিণতি কি হয় জানো? জানো না। আমি জানি। তুমি তো জান আমার বাবা মারা গেছে, কিভাবে মারা গেছে জানো? সায়নের স্বরে উত্তেজনার ছাপ।

বৃষ্টি বলল,—পিকলু রনিদের কাছে শুনেছিলাম। অ্যাক্সিডেন্ট।

—না। পিকলু রনি কিছুই জানে না। আমার বাবা সুইসাইড করেছিল। কেন করেছিল জানো? মায়ের চাওয়ার সঙ্গে তাল রাখতে গিয়ে।

অতর্কিতে ধাক্কা খেয়েছে বৃষ্টি।

সায়নের গলা কেঁপে গেছে,—আমার মাকে তো দেখেছ? মনে হয়নি শান্ত, ঘরোয়া? আমার মা কিরকম ছিল জানো? অত্যন্ত লোভী, স্বার্থপর টাইপ। নিজের সুখ ছাড়া কিছু চিনত না পৃথিবীতে। শুধু টাকা, গয়না, টিভি, ফ্রিজ, ভিসিআর...। মায়ের সঙ্গে তাল দিতে গিয়ে ঘুষ নিতে শুরু করেছিল বাবা। লোভ বাড়তে বাড়তে ক্যাশ থেকে চুরি। ধরাও পড়ল। তারপর অ্যারেস্ট, হাজত, সাসপেনশন্। যেদিন বেলে ছাড়া পেল তার পরের দিনই ট্রেনে গলা দিল বাবা। এরকম বাবা মার ছেলে হয়ে কি করা উচিত ছিল আমার? ছিনতাই? ওয়াগন ভাঙা? মদ? ড্রাগ? তোমার বাবা মা তোমার জন্য ভাবেননি, তাই তোমার এত অভিমান, এত দুঃখ। আর আমার? চোর বাবা আর লোভী মাকে দেখে কি শিক্ষা পেতে পারতাম আমি?

আমূল বদলে গেছে সায়ন। অন্য কেউ যেন সায়নের গলায় কথা বলছে। পূর্বপুরুষের পাপের কথা, অসহিষ্ণুতার কথা, অনুশোচনার কথা, সন্তাপের কথা।

—আমি কিন্তু বাবা মার ওপর রাগ করে বসে থাকিনি। ওই ঘটনার পর মা একদম পাল্টে গেছে, বুঝতে পেরেছে অন্যের ওপর নিজের লোভ লালসা চাপিয়ে দিলে কি হয়। আমার বাবার সেই ডেডবডিটার মুখ আমি এখনও চোখ বুজলে পরিষ্কার দেখতে পাই। সাদা চাদরে ঢাকা শরীর...শ্মশানের হাওয়ায় চাদর উড়তেই বীভৎস মুখ..ক্ষত বিক্ষত...

হঠাৎই নিজের অজান্তে সায়নের হাত চেপে ধরেছে বৃষ্টি। সায়নের চোখের দিকে তাকাবার চেষ্টা করছে।

সায়ন মুখ ঘুরিয়ে নিল,

—আমি তো সেই পুরনো দুঃখ আঁকড়ে ধরে বসে থাকিনি। একটাই তো জীবন মানুষের। সেটাও যদি অন্যের অপরাধের বিচার করতে গিয়ে, প্রতিশোধ নিতে গিয়ে শেষ করে ফেলি তবে আমার রইল কি? বাবা মার ডিভোর্স হয়ে গেছে বলে তোমার বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে হয়ত অস্বস্তি হয়েছে, এড়িয়ে যেতে চাও তাদের আর আমার বাবার অ্যারেস্ট হওয়ার খবর নিউজপেপারে বেরিয়েছিল। স্কুলে সবাই আমার দিকে আঙুল তুলে দেখাত। যেমন চিড়িয়াখানায় দেখায় আর কি। একটা বন্ধুও ছিল না আমার। নট এ সিঙ্গল্ ওয়ান। কাউকে মনের কথা বলতে পারিনি। নিজের মাকেও না। এ পাড়ায় এসে তাও দু-একজনের সঙ্গে মিশতে পারি, কথা বলতে পারি। কতটা রাগ হওয়া উচিত ছিল আমার? বাবা মার ওপর?

সূক্ষ্ম সর্ষে দানার মত কষ্ট বুকের ভেতর ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে বৃষ্টির। এই বয়সের একটা ছেলে এক দিনের জন্যও বুঝতে দেয়নি কি ভয়ানক এক অন্তর্দাহের পাহাড় বুকে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় সারাক্ষণ! তাই বোধহয় ছায়ার মত পাহারা দিতে চেয়েছে বৃষ্টিকে। তার খারাপ হওয়ার ইচ্ছাগুলোকে। তার যন্ত্রণা পাওয়ার শৌখিন খেলাটাকে।

সায়ন রেলিঙে ভর রেখে নিশ্চল।

ঝুপ করে আলো নিভে গেল। অনেক দিন পর আজ আবার লোডশেডিং! সঙ্গে সঙ্গে নাগরিক অন্ধকার দুটো ছায়াকে আরও আবছা করে দিয়েছে।

বৃষ্টি সায়নের হাতে চাপ দিল,

—আয়াম সরি। আমি জানতাম না।

—জানার তো কথাও নয় তোমার। কিন্তু যাদের তুমি চেষ্টা করলে জানতে পারতে, বুঝতে পারতে তাদেরকেও তো তুমি...বলতে বলতে এক ঝটকায় সায়ন হাত ছাড়িয়ে নিয়েছে। দ্রুত চলে গেছে নিজেদের ফ্ল্যাটবাড়ির ভেতর।

বৃষ্টি তবু দাঁড়িয়ে আছে। টেরও পায়নি কখন চোখে জল এসে গিয়েছে তার। রুমাল বার করে এদিক ওদিক তাকিয়ে মুছে নিল মুখটা। বাড়ির দিকে ফিরছে।

তিন-চার দিন কেটে গেছে। অ্যানুয়াল পরীক্ষার জন্য বৃষ্টিদের ক্লাস বন্ধ হব হব। বৃষ্টি ক্লাসে গিয়ে চুপ করে বসে থাকে, কারুর সঙ্গে তার কথা বলতে ভাল লাগে না। বন্ধুরা তাকে দেখে মুখ চাওয়াচাওয়ি করে। ফিসফাস করে আড়ালে,

—কি ব্যাপার বল্ তো? সেদিন থানা থেকে কিছু ...

সবাই জেনে গেছে সেদিনের ঘটনাটা। রাজীব মারফত শুভই জানিয়েছে। ক’মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া বৃষ্টির আবার কি হল! এ কি কোন নতুন পর্বের সূচনা!

সুদেষ্ণা বলেছে,—থাক গে। ঘাঁটাস না ওকে। কি বলতে কি উল্টোপাল্টা বলে দেবে। যা চণ্ডালের মত রাগ!

দেবাদিত্য বার বার ভেবেছে, তাদের কি কিছুই করার ছিল না? চোখের সামনে মেয়েটা ভুল রাস্তায় চলে গেল! ভেবেছেই শুধু, সাহস সঞ্চয় করে বৃষ্টিকে গুছিয়ে বলতে পারেনি কিছুই। তার ভাবনাগুলো সব ভাবনার স্তরেই থেকে যায়। প্রকাশ করতে গেলেই ঠাট্টা হয়ে পড়ে।

শুভই সাহস করে কথা বলার চেষ্টা করেছিল দু-এক বার।

—তুই রাজীবদের সঙ্গে সেদিন ড্রাগ নিতে গেলি কেন? দেখেছিস্ তো আমিও ওদের অ্যাভয়েড করি আজকাল।

বৃষ্টি শুকনো চোখে তাকিয়ে থেকেছে। সন্ধ্যার আড্ডাটা একবারের জন্যও আকর্ষণ করেনি তাকে। কলেজ থেকে সোজা বাড়ি চলে আসে। বাস থেকে নেমে বার বার এদিক ওদিক তাকায়। পার্কের ভেতরে, বাইরে, রাস্তায়, ফুটপাথে কোথথাও সায়ন নেই। সেদিন হনহন করে বাড়িতে ঢুকে যাওয়ার পর কর্পূরের মত উবে গেছে শহর থেকে।

বৃষ্টি পর দিনই, রাস্তায় না দেখে, গিয়েছিল সায়নকে খুঁজতে।

করবী বৃষ্টিকে আদর করে ডেকেছিল,

—এসো। কেমন আছ তুমি?

বৃষ্টি অবাক। সায়নের মা এমনভাবে কথা বলছিলেন, যেন একদিন নয়, বৃষ্টি তাঁর অনেক দিনের চেনা।

বৃষ্টি করবীকে দেখে ভাবছিল এই সেই মহিলা যার কথা বলতে গিয়ে সায়ন...

—সায়ন নেই?

—না। বুবলু তো আজ সকালেই দিশেরগড় চলে গেল খেলতে। এসো না, ভেতরে এসো।

—না। আজ যাই। বৃষ্টি ইতস্তত করেছিল,—কবে ফিরবে সায়ন?

—ঠিক নেই। আমার শরীর ভাল নেই বলে যেতেই চাইছিল না। ক্লাবের সবাই জোর করল, প্রসপেক্টের ব্যাপার, ওখানে নাকি টাটার স্পটার আসবে।

—আপনার এখন শরীর কেমন?

—এখন আমি ভালই আছি। যাওয়ার আগে শাসিয়ে গেছে, যেন ঘর থেকে না বেরোই। আমিও দিব্যি ছুটি নিয়ে বসে আরাম করছি।

—তাহলে দু-চার দিনের মধ্যে ফিরছে না?

—কে জানে। টিম্ হেরে গেলে হয়ত পরশুই ফিরে আসবে। নইলে আরও কয়েক দিন...

কত দিন? আর কত দিন? বৃষ্টির যে এখখুনি সায়নকে দরকার। হারছে না কেন? হেরেও তো ফিরে আসতে পারে।

বাড়িতে ফিরে বৃষ্টি সারাক্ষণ সায়নের কথাগুলোকে নিয়ে নাড়াচাড়া করে। সত্যিই কি বৃষ্টির বেঁচে থাকা, বৃষ্টির জীবন, অন্যেরা তার সঙ্গে কি রকম আচরণ করছে তার ওপরেই নির্ভর করবে? সে কি একটা শিশু? বাবা হাঁটতে হাঁটতে হাত ছেড়ে দিল, সে পড়ে গেল। মা হাত ধরে দাঁড় করিয়ে রাখল, বৃষ্টি দাঁড়িয়ে রইল। যেন নিজের অস্তিত্ব নিয়ন্ত্রণের কোন ক্ষমতাই গড়ে ওঠেনি তার!

বৃষ্টির প্রতি দিনই মনে হয় আজ তাকে বাবা ফোন করবে। সুধাকে জিজ্ঞাসা করেছে দু একবার। ভালমামার ঘরে গিয়ে চুপচাপ বসে থেকেছে সন্ধেবেলা। অ্যানুয়াল পরীক্ষা নিয়ে টুকিটাকি আলোচনা করেছে। সব সময় চাপা অস্থিরতা, বাবার ফোন আসবে। টেলিফোন বাজলে চমকে উঠেছে। কার সঙ্গে কথা বলছে মা, ভালমামা বা সুধামাসি?

জয়ার সঙ্গে বৃষ্টি মুখোমুখি হয়েছে খুবই কম। কয়েকবার মনে হয়েছে মা বুঝি কিছু তাকে বলতে চায়। জয়া কয়েক পলক থমকেছে। বৃষ্টিও। তারপর দুজনে দু দিকে চলে গেছে। জয়ার রাতের খাবার সুধা স্টুডিওতেই দিয়ে আসে। এক সঙ্গে টেবিলে বসে খাওয়ার পাট এ বাড়ি থেকে উঠে গেছে।

বৃষ্টির কান্না পায়। মা যেন আর কোনদিনই কথা বলবে না বৃষ্টির সঙ্গে! বাবাও আর জীবনে কখনও ফোন করবে না!

এখন একা একা বৃষ্টিকে সারা রাত শুধু জাগতে হবে।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%