সুজন দাশগুপ্ত
শেষ পর্যন্ত শান্তনু গাড়ি করে যাওয়াই স্থির করল। ট্রেনে অবশ্য যাওয়া যেত। কিন্তু সেক্ষেত্রে ট্যাক্সি, রিকশা, ট্রেন— তিন-তিনটে বাহনের ভরসায় থাকতে হবে। সময়মতো তাদের দর্শন মিলবে কি না সন্দেহ। সুললিতা দেবী অবশ্য একটু আপত্তি তুলেছিলেন। দেশে এতদিন বাদে এসে অতটা ড্রাইভ করা। শান্তনু সেটাকে উড়িয়ে দিয়েছে। আমেরিকাতে একনাগাড়ে সাতশ মাইল চালিয়েছে, আর এ তো মাত্র দেড়শ মাইলের পথ! প্রথম দিন অবশ্য রাস্তার বাঁদিক দিয়ে চালাতে একটু অসুবিধা হচ্ছিল, এখন সেটা রপ্ত হয়ে গেছে। শান্তনুর বন্ধু অমরজিৎ সিং প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া খাটায়। তার কাছ থেকে একটা মারুতি এস্টিম ভাড়া করেছে ছ-সপ্তাহের জন্যে। বন্ধুত্বের খাতিরে নামমাত্র ভাড়ায় গাড়িটা পেয়েছে। সাধারণত ড্রাইভার ছাড়া গাড়ি কাউকে ভাড়া দেয় না অমরজিৎ। বন্ধুর জন্য সে নিয়মটা খাটায়নি। শুধু গাড়ি নিয়ে শান্তনুর সুখচিন্তাপুর যাবার প্ল্যান শুনে বলেছে, “খেপেছিস! এ তোদের আমেরিকা নয়, বহুত বাজে রাস্তা!” চমৎকার বাংলা বললেও মাঝে মাঝে হিন্দি বেরিয়ে পড়ে তার কথাবার্তায়। কিন্তু শান্তনুকে টলাতে পারেনি। সুখচিন্তাপুরের জন্য একজন ড্রাইভার দিতে চাইল অমরজিৎ, শান্তনু নিল না।
মঙ্গলবার ভোর হতে না হতেই শান্তনু বেরিয়ে পড়ল। গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড দিয়ে একশ দশ মাইলের মতো গেলে একটা ছোট রাস্তা পড়ে, তার নাম পরগনা রোড। সেটাই সুখচিন্তাপুর যাবার পথ। রাস্তাটা ঝোপজঙ্গলের মধ্যে দিয়ে এঁকেবেঁকে গেছে। দু-পাশ বুনো ফুলে ভর্তি, ধুতরো আর আকন্দ ছাড়া আর প্রায় কোনোটাই শান্তনু চিনল না। ঝোপঝাড়ের ভিতর দিয়ে উঠেছে সারি সারি উঁচু গাছ— কৃষ্ণচূড়া, শিশু, পিপুল, আরও হরেকরকমের। তাদের শাখাপ্রশাখায় আকাশ প্রায় ছেয়ে গেছে। ঘন সবুজ পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ নেমেছে ঝিরিঝিরি। মনে হয় যত্ন করে কেউ আলোর ঝালর টানিয়ে রেখেছে। ভারী সুন্দর। বাংলার শোভায় মুগ্ধ হল শান্তনু।
প্রকৃতিরসিকদের তৃপ্ত করলেও মোটর-যাত্রীর পক্ষে পরগনা রোড হচ্ছে একটা নিদারুণ অভিজ্ঞতা! রাস্তা বললে অবশ্য বস্তুটাকে মাহাত্ম্য দেওয়া হয়। খানাখন্দের ওপর কিছু পাথরের কুচি ছড়িয়েই পরগনা রোডের সৃষ্টি। এর তুলনায় খ্যাংরাপট্টি বাইলেনকেও মনে হবে ইন্ডি ফাইভ হান্ড্রেড-এর রেসিং ট্র্যাক! একটু চালানোর পর শান্তনু বাস্তবিকই হতাশ হল। অল্প পিচ ঢেলে আর রোলার চালিয়ে— এই ছায়াঘেরা আঁকাবাঁকা পথটাকে কত সহনীয়, রমণীয়, আর মোহময় করে তোলা যেত! পি ডবলু ডি রোডস-এর কী শোচনীয় প্ল্যানিং!
ঝাঁকুনিটা যখন সহ্যের সীমা প্রায় ছাড়াচ্ছে, তখন হঠাৎ করেই ভোল পালটে গেল। পাকা রাস্তা শুরু হবার সঙ্গে সঙ্গেই চারিদিকের ঝোপজঙ্গল অদৃশ্য হয়ে ধানের খেত দেখা দিল। তারপর অল্প একটু যেতেই চোখে পড়ল ছোট একটা গ্রাম, আর দু-পাশে কয়েকটা দোকান। তার মধ্যে একটা যেন চায়ের স্টলও আছে। শান্তনু গাড়িটা দাঁড় করাতে যাচ্ছিল। যথেষ্ট সতর্ক ছিল না। রাস্তার পাশে শোয়ানো বাঁকা বাঁকা লোকার শিকের কয়েকটা পটাপট বাঁদিকের দুটো টায়ারের মধ্যে ঢুকে গেল।
কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ছোটখাটো একটা জনতা গাড়িটাকে ঘিরে ধরল। শান্তনুর মনে হল সবাই গ্রাম্য চাষাভুষো টাইপের (মনে হওয়াটা পলিটিকালি কারেক্ট হল না, কী আর করা!)। একটা ছোঁড়া আবার তাদের মধ্যে একটু ফড়ফড়ে।
“দুটো টায়ারই ফেঁসেছে বাবু।”
“তাই তো দেখছি।”
“গাড়ি চলবে না আর,” ময়লা দাঁতগুলো বিকশিত করল ফড়ফড়ে।
“জানা আছে সেটা,” এই ফালতু ইনফরমেশনে বিরক্ত হল শান্তনু।
“মিস্ত্রি আছে কাছাকাছি?”
“দত্তদা সারাতে পারেন।”
“কোথায় তিনি?”
“ওই সামনে,” আঙুল তুলে ছোঁড়া দূরে একটা দোকানের দিকে নির্দেশ করল। “চলুন, আপনাকে লিয়ে যাচ্ছি।” জনতাকে ‘সর সর’ বলে ঠেলে ছোঁড়া পথ করে দিল।
“লতুন গাড়ি বুঝি?”
“হুঁ।”
“কত টাকা দাম?”
“কী হবে জেনে?”
“এই শুনি একটু।”
মেজাজটা সামলে শান্তনু ভুরু কোঁচকাল।
“দু-তিন লাখ?”
“আমার গাড়ি নয় এটা।” নাছোড়বান্দা ছোঁড়ার মুখ বন্ধ করতে চাইল শান্তনু।
“ভাড়ার গাড়ি?”
“হুঁ।”
“কত ভাড়া লাগল?”
আচ্ছা ত্যাঁদড় তো! শান্তনু জবাব দিল না। কিন্তু ছোঁড়ার মুখ বন্ধ হল না।
“পাঁচশর মতো?”
“এটা কি ‘টোয়েন্টি কোশ্চেন’ হচ্ছে নাকি?” ধমক লাগাল শান্তনু। ‘টোয়েন্টি কোশ্চেন’ আমেরিকার খেলা, এই গ্রাম্য ছোকরার জানার কথা নয়।
“যাঃ চলে, আমি কী বললাম, আর আপনি কী শুনলেন!”
“চুপ করো, আজেবাজে না বকে দত্তবাবুর কাছে নিয়ে চলো।”
“ব্যস, অমনি গরম হয়ে গেলেন। টায়ার ফাঁসালেন আপনি, আর দোষ হল ছটকুর!”
শান্তনুর ইচ্ছে হচ্ছিল ছোঁড়াটার কান দুটো টেনে ছিঁড়ে দেয়, আর চাঁদির ওপর অন্তত গোটা দশেক উড়ন্ত চাঁটি কষায়। কিন্তু এই বিদেশে বেঘোরে অসহিষ্ণু হলে চলবে না। দত্তদা না কে, তার কাছে নিয়ে যাবার ব্যাপারে এই ছোঁড়াই ভরসা। তাই রাগটাকে চেপে রেখে, যেন কিছুই হয়নি ভাব করে পকেটে হাত দিয়ে শিস দিতে দিতে শান্তনু চলল। ছোঁড়াটার ঘ্যানঘ্যানানি অবশ্য তাতে কমল না। একবার হঠাৎ সন্দেহ হল শান্তনুর, ব্যাটা বজ্জাতি করে চরকি ঘোরাচ্ছে না তো! এইরকম অজ পাড়াগাঁয়ে কোনও মোটর মেকানিক থাকবে কল্পনা করা কঠিন। না, দুর্ভাবনাটা বৃথাই করছিল।
দত্তদা একটা সাইকেল সারাচ্ছিলেন। দোকানের ভিতরে মোটরগাড়ি, সাইকেল, পাম্প ইত্যাদি হরেকরকম যন্ত্রের পার্টস ছড়িয়ে আছে। মনে হল উনি এই অঞ্চলের ইউনিভার্সাল মেকানিক। শান্তনু সামনে দাঁড়াতেই জিজ্ঞাসু চোখে তাকালেন।
ফড়ফড়েই বাক্যালাপ শুরু করল। “বাবুর টায়ার ফেঁসেছে, মুখুজ্জে মশায়ের শিকে লেগে।”
কথাটা শুনেই দত্তদা দারুণ উত্তেজিত হয়ে উঠলেন, “কী রে, বলেছিলাম না তোকে? বলেছিলাম না? বেশ হয়েছে এখন!”
তারপর শান্তনুর দিকে ঘুরে বললেন, “অন্তত একশবার মশাই বারণ করেছি মুখুজ্জেকে। ওখানে শিকগুলো রাখিস নে, রাখিস নে।”
শান্তনু ঠিক ভেবে পেল না এই অবস্থায় কী বলা কর্তব্য।
“সারানো যাবে তো টায়ারটা?”
“আলবৎ যাবে, নইলে দোকান খুলেছি কেন স্যার?”
“কতক্ষণ লাগবে?”
“না দেখলে তো বলতে পারব না, এইসব জিনিস তাড়াহুড়ো করে হয় না।”
“আমার একটু তাড়াই ছিল,” খানিকটা আত্মগতভাবেই বলল শান্তনু। দত্তদা জবাব দিলেন না।
“ছটকু, জ্যাক আর স্প্যানারটা তুলে নে।”
মনে হল ফড়ফড়েই দত্তদার চ্যালা। মহোৎসাহে জ্যাক আর স্প্যানারটা তুলে নিয়ে দুটোতে ঠনঠানাঠন বাড়ি লাগাতে লাগাতে চলল।
“এই শালা হারামি, খেলা পেয়েছিস নাকি!” দত্তদা হুঙ্কার ছাড়লেন।
শব্দের চয়ন, স্বরের দার্ঢ্য, মুখের ভঙ্গি— সবকিছুর মধ্যেই এমন একটা অথরিটি আর থ্রেট লুকোনো আছে যে এক মুহূর্তে ছটকু একেবারে ঠান্ডা মেরে গেল। মুগ্ধ হল শান্তনু। মার্কিন মুলুকে জন্মালে বড় গোছের ম্যানেজার হতে পারতেন ভদ্রলোক!
পরীক্ষানিরীক্ষার পর দত্তদা ঘোষণা করলেন, “টিউব পালটাতে হবে আপনাকে।”
“জোড়া লাগানো যাবে না?”
“ফর্দাফাঁই হয়ে গেছে, খামোখা পয়সা খরচা করবেন।”
“টিউব আছে আপনার কাছে?”
“এখুনি নেই। আমার লোক গেছে সাপ্লাই আনতে, বিকেল নাগাদ এসে পড়বে।”
“সে তো অনেক দেরি!”
দত্তদার মুখ বিকৃত হল। বিরক্তিটা লক্ষ করল না শান্তনু। “আচ্ছা ফ্যাসাদ হল তো, অন্য কোথাও সারানো যায় না?”
“আজ্ঞে না, এই অঞ্চলে এই একটাই দোকান।”
“দত্তদা, চাকা দুটো লিয়ে যাই?” পরম উৎসাহে ফড়ফড়ে অনুমতি চাইল।
“দাঁড়া, বাবু বললে তারপরে।”
শান্তনুর মাথায় হাজার চিন্তা কিলবিল করছে। শুকতারাদিকে দেরি হবে জানানো দরকার, অমরজিৎকে একবার ফোন করে পরামর্শ চাইলে মন্দ হয় না, হয়তো এদিকে বাস সার্ভিস আছে, গাড়িটা সারাতে দিয়ে বাসে চলে যাওয়া যেতে পারে...
দত্তদা দু-একবার গলাখাঁকারি দিলেন। শান্তনু তাও উচ্চবাচ্য করছে না দেখে বললেন, “কী করতে চান তাহলে, সারাবেন?”
শান্তনুর সংবিৎ ফিরল। “উপায় কী? মানে অন্য উপায় কি কিছু আছে?”
“না নেই,” দত্তদা নিশ্চিত।
খরিদ্দারদের সুবিধা-অসুবিধার প্রতি দত্তদা যত্নবান। দোকানের একদিকে শান্তনুর বসার জন্য একটা তেল-চিটচিটে জরাজীর্ণ আরামকেদারা এনে দিলেন। পুষ্পেন্দুদাকে একটা মেসেজ পাঠানোর চেষ্টা করল কয়েকবার, যাচ্ছে না।
“মোবাইল সিগন্যাল এখানে খুব উইক,” দত্তদা বললেন। টেলিফোনের খোঁজ করল শান্তনু।
“পাবলিকদের জন্য একটা আছে, মাইল ছয়েক দূরে পোস্ট অফিসে। বেশির ভাগ সময়েই অচল থাকে, সারায়-টারায় না।”
শুনে বিরক্তি লাগল শান্তনুর, “তাহলে টেলিফোনটা রেখেছে কেন?”
“এখন তো মোবাইলের যুগ, টেলিফোন আর কে ব্যবহার করে!” না-সারানোর কারণটা ব্যাখ্যা করলেন দত্তদা।
“চমৎকার! তাহলে এখানকার লোকেরা ফোন করে কী করে?”
“এই রাস্তা ধরে মাইলখানেক গেলে সিগন্যাল ভালো আসে।”
“গড!” মুখ থেকে অস্ফুটভাবে বেরিয়ে এল শান্তনুর।
বাসের ব্যাপারেও কোনও ভরসা পাওয়া গেল না। দু-ঘণ্টা অন্তর বাস আসে বটে, কিন্তু তার ভিতরে দূরের কথা, ছাতে জায়গা পাওয়াও দুষ্কর। সুতরাং চুপচাপ বসে থাকা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই।
“চা খাবেন?”
“চা?” সামনের টুলের ওপর একটা ভাঙা চোকলা-ওঠা চিনেমাটির কাপ নজরে পড়ল। তলানিটা তখনও কাপের মধ্যে রয়েছে। অজস্র মাছি ভনভন করছে, কয়েকটা কাপের রিমের ওপর বসে।
“নাঃ, থাক।”
শান্তনুর দ্বিধার কারণটা বুঝতে অসুবিধা হল না দত্তদার।
“খুরির চা আছে, গরম জলে খুরি ধুয়ে তারপর দেবে।”
শান্তনু এবার লজ্জা পেল, “বেশ, দিন।”
ছটকুকে চা আনার হুকুম দিয়ে দোকানের ভিতরের একটা ঘর থেকে কতগুলো সিনেমা পত্রিকা বার করে আনলেন দত্তদা।
“পুরোনো ম্যাগাজিন অবিশ্যি, তবে উলটে-পালটে সময় কাটাতে পারেন।”
আতিথেয়তায় মুগ্ধ হল শান্তনু, “চমৎকার, অনেক ধন্যবাদ।” সায়েবি কেতা বেরিয়ে পড়ল তার কথার ঢঙে। সাগ্রহে পত্রিকাগুলো নিল হাত বাড়িয়ে।
“যাই, আপনার চাকার টিউবগুলো আনার বন্দোবস্ত করি,” বলে দত্তদা একটু বেরোলেন।
পত্রিকাগুলোর পাতা উলটোতে লাগল শান্তনু। শতচ্ছিন্ন মলাট, তেলে-জলে-ধুলোয় মাখামাখি। বইগুলোর চেহারা দেখলে জুতোর সুকতলার কথাই প্রথম মনে পড়ে। পাতা ওলটাতেই নজরে পড়ল বেশির ভাগ ছবির পাতাই ছেঁড়া। কারণ অবশ্য বুঝতে অসুবিধা হল না। সেগুলো দেয়াল জুড়ে শোভা পাচ্ছে! আর্থিক দিক থেকে বিবেচনা করলে চুনকামের বদলে ছবি দিয়ে দেয়াল ঢাকাটা মন্দ আইডিয়া নয়। ছবিগুলোর দিকে এবার একটু দৃষ্টি দিল শান্তনু। নায়কদের থেকে নায়িকার প্রতিই দত্তদার পক্ষপাতিত্ব বেশি, বিশেষ করে তারা যদি স্বল্পবেশিনী হয়। এ ব্যাপারে দত্তদার কোনও ঢাক-গুড়গুড় নেই, ভালোই লাগল শান্তনুর। একটা বইয়ের মাঝখানটা খুলল সে। স্বাস্থ্য বিষয়ক চিঠিপত্রের আসর। একটি মেয়ে তার ব্রণর জন্য ভারী দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। একটি ছেলের বয়স উনিশ বছর, কিন্তু তার দাড়ি গজাচ্ছে না, আর একজনের কম বয়সে চুলে পাক ধরছে। কোনও ওষুধ আছে কি? এদিকে দত্তদার সঙ্গে একজনের তুমুল তর্কাতর্কি লেগেছে— মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গল নিয়ে। ক-দিন আগেই মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলকে তিন-এক গোলে গোহারান হারিয়েছে… সুপ্রিমেসির এর থেকে ভালো উদাহরণ আর কী হতে পারে! দত্তদা সেটাই সাড়ম্বরে লোকটাকে বোঝাবার চেষ্টা করছেন। কিন্তু লোকটা যেমন গোঁয়ার তেমনি অবুঝ! হেরেছিস হেরেছিস, মাথা নিচু করে থাক! কিন্তু কোথায় কী! ইতিহাস, ভূগোল, স্ট্যাটিসটিকসের নানান কচকচি এনে সাধারণ একটা বিষয়কে বিষম ঘোলাটে করে তুলেছে। শেষে কিনা বলে মোহনবাগানের তিনটে গোল ছিল অতি সাধারণ, টেকনিক্যালি ইস্টবেঙ্গলের গোলটা নাকি তুলনাহীন!
“তবে রে ব্যাটা, এঁড়ে তক্কের আর জায়গা পাসনি!” একটা ঢাউস সাইজের স্প্যানার তুলে লোকটাকে তাড়া করলেন দত্তদা! কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ব্যাপারটা কীরকম জানি এলোমেলো হয়ে গেল! দত্তদা একটা বিরাট ফুটবল হয়ে লাফাতে লাফাতে লোকটার পিছনে ছুটছেন! লোকটা ঊর্ধ্বশ্বাসে ঝোপজঙ্গল খানাডোবার ফাঁক দিয়ে দৌড়োচ্ছে! কিন্তু পালাবে কোথায়? যেখানেই যায় পিছনে ফুটবল!...
হর্নের বিচ্ছিরি আওয়াজে ঘুমটা হঠাৎ ভেঙে গেল। ছটকু একটা মরচে ধরা হর্ন বাজাচ্ছে। সামনে একটা টুলের ওপর ধূমায়িত চা।
দত্তদার লোক ফিরল সেই সন্ধ্যায়। টিউব পালটাতে অবশ্য বেশি সময় লাগল না। ক্ষিপ্রহস্তে কাজটা সারলেন দত্তদা। পয়সা দিতে গিয়ে শান্তনু আবিষ্কার করল পকেট থেকে মানিব্যাগটা কখন জানি অদৃশ্য হয়েছে! ভাগ্যিস সাইডপকেটে কিছু টাকা ছিল! পাওনাগণ্ডা চুকিয়ে দেখল মাত্র গোটা পনেরো টাকা রয়েছে।
ইতিমধ্যে ছোটকু কোত্থেকে জানি সোনালি ফিতে দিয়ে বাঁধা এক বাক্স মিষ্টি নিয়ে এসেছে।
“আমার কাছে টাকা নেই,” আসতেই জানিয়ে দিল শান্তনু।
“টাকা লাগবে না,” দত্তদা বললেন। “এ অঞ্চলের অমৃতি বিখ্যাত, আপনার জন্য তাই আনিয়েছি। খেতে খেতে যান।”
“অনেক ধন্যবাদ।” নমস্কার করে গাড়ি চালু করল শান্তনু।
ভালোয় ভালোয় এখন সুখচিন্তাপুরে পৌঁছোতে পারলে হয়!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন