সুজন দাশগুপ্ত
গতকাল মোক্ষদা ভেবেছিল প্রথমে দিদিমণির বাড়ির কাজ সারবে, তারপর সুরম্যতে যাবে। বিলেতের বাবুকে তাই সে বলেছিল সকালে আসতে দেরি হবে। কিন্তু গতরাত্রে শুকতারার সঙ্গে কথাবার্তা বলে সে আঁচ করেছে বাবুটির গতিবিধি সম্পর্কে দিদিমণি যথেষ্ট আগ্রহী। সুতরাং আজ সকালে সে প্রথমেই সুরম্যর পথ ধরল। নতুন কোনও খবর থাকলে দিদিমণিকে সকাল সকাল দেওয়া যাবে। মোক্ষদা চোখকান বেশ খোলা রেখেই কাজ করে।
বাইরের দরজাটা একটু ঠেলতেই খুলে গেল। গতরাত্রে বারবার সাবধান করা সত্ত্বেও কোনও ফল হয়নি! দায়িত্ববোধের কোনও বালাই নেই বাবুটির। এঁটো বাসন দু-একটাই মাত্র জমে ছিল। স্বভাবসিদ্ধ ক্ষিপ্র হাতে কয়েক মিনিটেই সেগুলো পরিষ্কার করে ফেলল মোক্ষদা। তারপর কাপড়চোপড় কী ধোয়ার আছে খুঁজতে লাগল এদিক-ওদিক। নাঃ, নিচে কিছু নেই।
“বাবু, ও বাবু!” হাঁকডাক সত্ত্বেও কোনও সাড়া পাওয়া গেল না। ব্যাপারটা কী? মোক্ষদা আস্তে আস্তে দোতলায় উঠল। শোবার ঘরের দরজাটা বন্ধ। উচিত নয়, তবু দরজাটা একটু ফাঁক করে ভিতরের দিকে উঁকি দিল মোক্ষদা! ও-মা-গো! কী সর্বনাশ! বাবুর বিছানায় দিব্যি কাত হয়ে শুয়ে আছে একটা সোমত্ত ডবকা ছুঁড়ি! বাবুটি নেই… নিশ্চয় উঠে বাথরুমে ঢুকেছে! ছি-ছি-ছি, পাকড়াশীবাবুর বাড়িটাকে একেবারে নরক বানিয়ে ফেলল গো! ধুপধাপ লাফ দিয়ে সিঁড়ি ভেঙে ঊর্ধ্বশ্বাসে দিদিমণির বাড়িতে রিপোর্ট করতে ছুটল সে।
পুষ্পেন্দুবাবু কিছুতেই যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। শুকতারা আল্টিমেটাম দিলেন। “বেশ, তুমি তোমার দায়িত্ব পালন না করতে চাও কোরো না। কিন্তু মোক্ষদার কাছে সবকিছু শুনে আমি চুপ করে বসে থাকতে পারি না।”
“আমাদের এতে কী দায়িত্ব আছে শুকু? একটা প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে যদি এ ধরনের জীবনযাপন পছন্দ করে…”
“চুপ করো তুমি! পাকড়াশীবাবুর বাড়ি ভাড়া নিয়েছি আমরা, সেটাকে বেশ্যাবাড়ি বানাতে না দেওয়ার দায়িত্ব কি আমাদের নয়?”
পুষ্পেন্দুবাবু চুপ।
“তুমি যাবে কি যাবে না? হ্যাঁ কি না বলো।”
“আমার না গেলে চলে না?”
“না, চলে না। তোমার লজ্জা পাওয়া উচিত! ভীতু কাপুরুষ কোথাকার!”
“বেশ। চলো তাহলে। আমি কিন্তু এসব নোংরামির মধ্যে কিছু বলতে পারব না। যা বলার তুমি বলবে।”
“তা তো বটেই। নোংরা ঘাঁটতে তো আমারই কেবল ভালো লাগে!” টপ টপ শ্লেষ ঝরে পড়ল শুকতারার কথায়।
গাড়ি স্টার্ট দিয়ে পুষ্পেন্দুবাবু বললেন, “বুঝলে তো, হয়তো সবকিছুরই একটা যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা আছে।”
শুকতারা জ্বলন্ত দৃষ্টিতে পুষ্পেন্দুবাবুর দিকে তাকালেন। গিয়ার দিতে ব্যস্ত পুষ্পেন্দুবাবু সেটা দেখতে পেলেন না।
“শান্তনু ফোন করেছিল, আমায় সুরম্যতে ডেকেছিল।”
“কখন?”
“সকালে, তুমি তখন ঘু্মোচ্ছিলে।”
“তাতে কী এসে গেল?”
“মানে ফোন করে কালকের ব্যাপারটা নিয়ে একটু আলোচনা করতে চেয়েছিল।”
“কীসের আলোচনা?”
“তা ঠিক জানি না।”
“আমায় জানাওনি যে?”
শান্তনু যে শুকতারা মিত্রকে না জানিয়ে সুরম্যতে আসতে বলেছিল, সেটা বলার সাহস পেলেন না পুষ্পেন্দুবাবু, ফলে জুতসই উত্তরও কোনও খুঁজে পেলেন না।
“উত্তর দিচ্ছ না কেন?”
“তুমি ঘুম থেকে ওঠার পর আর খেয়াল হয়নি।”
“বাজে বোকো না! এরকম একটা ব্যাপার তোমার খেয়াল না হয়ে পারে না। কেন জানাওনি?”
পুষ্পেন্দুবাবু একটু ইতস্তত করলেন, কিন্তু এখন আর চেপে রাখার মানে হয় না।
“শান্তনু তোমাকে বলতে বারণ করেছিল।”
শুকতারা মিত্রের ঠোঁট দুটো রাগে বেঁকে গেল। একটা অগ্নিবর্ষী দৃষ্টি হেনে বললেন, “তুমি কী ধরনের মানুষ! রাস্তার লোকে তোমায় যা বলবে, তাই শুনবে?”
পুষ্পেন্দুবাবু ভাবলেশহীন মুখ করে বকুনিটা হজম করলেন।
“কেন জানাতে বারণ করেছিল, কারণটা কিছু বলেছিল?”
“না, হঠাৎ কানেকশনটা কেটে গেল।” শুকতারার রাগান্বিত চেহারা দেখে পুষ্পেন্দুবাবু এই মিথ্যাটুকু না বলে আর পারলেন না। শান্তনু যতই জঘন্য চরিত্রের ছোকরা হোক না কেন, উনি নিজে তো আর পাষণ্ড নন!
সুরম্যর সামনে দুটো গাড়ি দাঁড়িয়েছিল। একটা শান্তনুর, আর একটা গাড়ি যেটা আগে ছিল না। কার গাড়ি? পুষ্পেন্দুবাবু বেশ অবাক হলেন। শুকতারা মিত্র হলেন না। শান্তনুর কাণ্ডকারখানায় অবাক হবার পালা শুকতারা মিত্রের শেষ হয়েছে।
দরজা খুলল শান্তনুই। শুকতারা মিত্র ভণিতা করলেন না, “কোথায় সে?”
“কোথায় কে?” শান্তনু অবাক হবার ভান করল।
এখনও বজ্জাতি! চিড়বিড়িয়ে উঠলেন শুকতারা, “ন্যাকামি ছাড়ো, মেয়েটাকে কোথায় লুকিয়েছ?”
শান্তনু উত্তর দেবার আগেই ভেতর থেকে কাঁচাপাকা চুল, চশমা পরা চোখে সৌম্য চেহারার এক প্রৌঢ় পাইপ মুখে বেরিয়ে এলেন।
“এই যে পরিচয় করিয়ে দিই। এঁরা হচ্ছেন শুকতারাদি আর পুষ্পেন্দুদা, এঁদের কথাই আপনাকে বলছিলাম।” তারপর শুকতারার দিকে মিটিমিটি চোখে তাকিয়ে বলল, “আর ইনি হচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার সরকার। যে মেয়েটির খোঁজ করছেন, তার বাবা।”
পুষ্পেন্দুবাবুর লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছিল। মেয়েটির বাবা যখন এখানে, তখন অশোভন কিছুই ঘটেনি। অথচ শান্তনুকে নিয়ে কত নীচ, জঘন্য চিন্তা এতক্ষণ ধরে করেছেন! শান্তনু যখন যেচে কথা বলতে চেয়েছে, অভদ্রের মতো টেলিফোন নামিয়ে রেখেছেন! ছি-ছি-ছি!
শান্তনুর কথার তাৎপর্য উপলব্ধি করে শুকতারা মিত্রও কেমন জানি মিইয়ে গেলেন। শিকার ধরতে এসে নিজেই শিকার হয়েছেন!
“আই অ্যাম সরি, একটু আগে কী যেন জিজ্ঞেস করলেন আপনি?” শান্তনু শুকতারাকে প্রশ্ন করল।
শুকতারা মিত্র ঘুঘু মহিলা, ফাঁদে পা দিলেন না। প্রশ্নটা পুরোপুরি উপেক্ষা করে ততক্ষণে ব্রিগেডিয়ার সরকারের দিকে মনোনিবেশ করেছেন।
“সকাল সকাল চলে এসে আশা করি আপনাদের খুব বিরক্ত করলাম না? কিন্তু এমন কতগুলো ঘটনা গত কয়েক ঘণ্টায় ঘটেছে যেগুলো পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা শান্তি পাচ্ছি না।”
পুষ্পেন্দুবাবুর মুখ দেখে মনে হল তিনি বহুবচন ‘আমরা’ থেকে নিজেকে বিযুক্ত করতে চাচ্ছেন।
“আই সি,” ব্রিগেডিয়ার সরকার পাইপে একটা কামড় দিলেন গম্ভীরভাবে। তারপর আড়চোখে পুষ্পেন্দুবাবুর দিকে তাকালেন। পুষ্পেন্দুবাবু সঙ্গে সঙ্গে চোখ নামিয়ে নিলেন। ব্রিগেডিয়ার সরকার এবার স্থির দৃষ্টিতে তাকালেন শুকতারার দিকে। শুকতারার চোখটাও একটু যেন কাঁপল।
“আমি কি তাতে কিছু সাহায্য করতে পারি?”
উঃ, কী ব্যক্তিত্ব রে বাবা! পুষ্পেন্দুবাবুর মনে হল স্কুলের ছাত্র হেডমাস্টারের হাতে পড়েছেন। তাড়াহুড়ো করে বললেন, “না, না, স্যর, আমার সন্দেহ তো অনেক আগেই মিটে গেছে, মানে আদপেই ছিল না।” বলেই শুকতারাকে বললেন, “চলো, এখন আর ওঁদের বিরক্ত করা উচিত হবে না। তাড়াতাড়ি বাড়িতে যাই, ওঁদের জন্য চায়ের বন্দোবস্ত করতে হবে তো!... কী খাবেন স্যর আপনারা, চা না কফি?” পিটপিট করে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন ব্রিগেডিয়ার সরকারকে।
পাইপ-এর ফাঁক দিয়ে একটু হাসির ঝিলিক খেলল। “সেটা আর হয়ে উঠবে না। একটা জরুরি কাজে আমায় কলকাতায় ফিরে যেতে হবে এখুনি। তবে নেমন্তন্নের জন্য ধন্যবাদ।”
“একেবারেই থাকতে পারবেন না?” প্রশ্নটাতে যেন একটু বেশিরকমের জোর দিলেন শুকতারা।
“না, সরি।”
“ও... তাহলে...” খেই হারিয়ে গেল শুকতারার।
পাইপে আর একটা টান দিয়ে ভুরু কোঁচকালেন ব্রিগেডিয়ার সরকার। “আপনার সন্দেহটা মনে হচ্ছে এখনও যায়নি মিসেস...”
“মিত্র।” শান্তনু পদবিটা চট করে যোগ করে দিল।
“থ্যাংক ইউ।”
“অ্যাঁ?” হঠাৎ আক্রমণে একটু হতচকিত হয়ে পড়লেন শুকতারা। তবে সামলে নিলেন।
“না সন্দেহ ঠিক নয়, তবে সংশয় কিছুটা রয়ে যাচ্ছে বটে।”
“যেমন?” ব্রিগেডিয়ারের চোখে ভদ্র জিজ্ঞাসা।
“আপনাকে এক্সপেক্ট করিনি। মনে হয় গোলমালটা সেইজন্যেই লাগছে। আপনারা যদি আসবেন জানতাম, তাহলে...”
শুকতারা মিত্রকে কথাটা শেষ করতে দিলেন না, হঠাৎ ঠা ঠা করে হাসলেন ব্রিগেডিয়ার সরকার। “আমরা মিলিটারিম্যান মিসেস মিত্র, আমরা অতর্কিতে হানা দিই! যাতে শত্রুপক্ষ বেসামাল হয়ে পড়ে!”
হঠাৎ সজোর হাসিতে শুকতারা মিত্রও কেমন জানি আন-নার্ভড হয়ে গেলেন। সেটা উপভোগ করলেন ব্রিগেডিয়ার সরকার। তারপর বললেন, “জাস্ট কিডিং! না জানাটাই স্বাভাবিক। আসার দিন পর্যন্ত আমিও জানতাম না আসব কি না। আসলে এই শহরে পঁচিশ বছর আগে কিছুদিন ছিলাম। তাই শান্তনু আসছে শুনে সকন্যা এসে হাজির হলাম। অবশ্য অফিস থেকে বেরোতে দেরি হওয়ায় আমরা এসে পৌঁছোলাম একটু রাতে। সেইজন্যেই আপনাদের সঙ্গে দেখা হয়নি। তবে আপনাদের আতিথেয়তার পূর্ণ সুযোগ আপনাদের অজান্তে আমরা নিয়েছি। ভেরি নাইস প্লেস।”
এই ব্যাখ্যায় যে ফাঁকটুকু ছিল, সেটা পুষ্পেন্দুবাবুর ধরতে পারার কথা। কিন্তু এই মুহূর্তে তাঁর কানে উচ্চিংড়ে লাফাচ্ছিল, কিছুই ঢুকছিল না। মন জুড়ে তাঁর একটাই চিন্তা, কী করে তাড়াতাড়ি শুকতারাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়!
“বাঃ, সবকিছুই পরিষ্কার হয়ে গেল, শুকু। একেবারে ক্রিস্টাল ক্লিয়ার। খামোখা অনেক দুশ্চিন্তা গেল। সত্যি, আপনারা আর ক-দিন থাকতে পারলে খুব ভালো লাগত। পরে না হয় আর একবার...”
“নিশ্চয় চেষ্টা করব।”
“শান্তনু, তুমি কখন আসবে চা খেতে?” পুষ্পেন্দুবাবু জিজ্ঞেস করলেন।
“আমি আসতে পারছি না, পুষ্পেন্দুদা। আমাকেও কলকাতা চলে যেতে হবে ওঁদের সঙ্গে।” শান্তনু ভাবটা দেখাল যেন অনিচ্ছাসত্ত্বেও যেতে হচ্ছে।
“সে কী, তুমি যাচ্ছ কেন?”
“আমার আবার গাউটটা বেড়েছে, তাই শান্তনুকে বলেছি গাড়িটা চালাতে।” ব্রিগেডিয়ার সরকার একটু লজ্জিত হয়েই কথাটা বললেন।
“কথাবার্তা তো কিছুই হল না। এলে আর গেলে।” শুকতারার গলায় অসন্তুষ্টির ভাবটা সুস্পষ্ট।
“কী করি বলুন, গাড়ি খারাপ হয়ে বসে আছে। সারাতে ক-দিন লাগবে কে জানে! আমার আবার কালকেই ফিরে যেতে হবে। এদিকে মেসোমশাইয়ের সাহায্যের দরকার। তাই ঠিক করলাম আজই ফিরব।”
অত সহজে নিষ্কৃতি দেবার পাত্রী শুকতারা নন। ব্যাজার মুখে বললেন, “যেতে চাও যাও, ঠেকাতে পারব না। কিন্তু এ আসার কোনও মানে হল না।”
“ঠিকই, বড্ড তাড়াহুড়ো হল।” শান্তনু সসংকোচেই বলল।
“অনেক কথা ছিল তোমার সঙ্গে।”
“বেশ তো, আপনারা কথা বলুন, আমি ততক্ষণে রেডি হই।”
ব্রিগেডিয়ার সরকার উপরে যেতেই শুকতারা প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়লেন। “কে উনি?”
শান্তনু বোকা সাজল, “বললাম যে ব্রিগেডিয়ার সরকার।”
“তোমার বেশ চেনাজানা লোক মনে হচ্ছে।”
“ঠিক ধরেছেন, আমার এক বন্ধুর বাবা।”
“বন্ধুটি আসেনি?”
“না, ও এখন আমেরিকায়।”
“মেয়েটি?”
“বন্ধুর বোন।”
“তা তো বুঝলাম, থাকে কোথায়?”
“কলকাতায়?”
“কী করে?”
“বন্ধু না বন্ধুর বোন?” একটু চটাবার জন্যেই ন্যাকা সাজল শান্তনু।
গা-টা চিড়বিড়িয়ে উঠল শুকতারা মিত্রের, কিন্তু ধৈর্য হারালেন না। তদন্তটা সম্পূর্ণ করা দরকার।
“দুজনেই।”
“ছেলেটা পি এইচ ডি করছে। মেয়েটা কলেজে পড়ে।
“কোন কলেজে?”
“সেটা তো জানি না।”
“বিয়ে হয়েছে?”
“কার?” শান্তনুর অজ্ঞতা যেন সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে!
“আঃ, মেয়েটার!”
“জানি না তো।”
“আশ্চর্য!”
“কী আশ্চর্য?”
“একটা মেয়ের সঙ্গে বেড়াতে এসেছ, কিন্তু তার বিয়ে হয়েছে কি না তুমি তা জানো না!”
পুষ্পেন্দুবাবু এদিকে ভারী লজ্জিত হচ্ছিলেন শুকতারার জেরার বহরে।
“ও বেচারার জানার কী দরকার, ও তো আর ঘটকালি করতে যাচ্ছে না!”
শুকতারা মন্তব্যটা উপেক্ষা করলেন।
“মিস্টার সরকাররা কখন এলেন?”
“ব্রিগেডিয়ার সরকার,” শুদ্ধ করে দিল শান্তনু। “অনেক রাত্রে। আপনারা চলে যাবারও বেশ কিছু পরে।” আড়চোখে পুষ্পেন্দুবাবুর দিকে চেয়ে নিল শান্তনু। যদ্দূর বোঝা যাচ্ছে কাল রাত্রে দেবযানীর সঙ্গে দেখা হয়ে যাবার ব্যাপারটা শুকতারাদিকে উনি বলেননি। অবশ্য বললেও ক্ষতি নেই। মাতালের প্রলাপ বলে উড়িয়ে দিত। আটঘাট বেঁধে নেমেছে আজ। সমস্ত কিছুরই যুক্তিগ্রাহ্য একটা ব্যাখ্যা করার অস্ত্র আছে ওর হাতে।
“তখন আমাদের বললে না যে!”
“আমি সিওর ছিলাম না ওঁদের আসা শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠবে কি না। খামোখা আপনাদের বিব্রত করতে চাইনি।”
“বলা উচিত ছিল। ওঁরা এতদূর থেকে বেড়াতে এসেছেন। জলখাবারটা যেন ঠিকমতো আসে সেটা দেখা তো আমাদের কর্তব্য।”
“ওঁরা অবশ্য খুব অমায়িক লোক। কিছুই মাইন্ড করেন না এসব ব্যাপারে।”
“আমরা করি। খবরটা না দিয়ে অত্যন্ত লজ্জায় ফেলেছ আমাদের। অতিথিসৎকারের মূল্য এদেশে এখনও দেওয়া হয়।”
“এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কী আছে শুকু? শান্তনু তো বললই, কী জানি গিয়ে, ওঁরা খুব ক্যাজুয়াল লোক।” পুষ্পেন্দুবাবু আর চুপ থাকতে পারলেন না।
“তুমি থামো তো! দায়িত্বহীনতাকে আর আশকারা দিয়ো না!” থাবা দিলেন শুকতারা মিত্র।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন