সুজন দাশগুপ্ত
শান্তনু যখন শুকতারার ডিরেকশন ফলো করে সুরম্য পৌঁছোল, তখন রাত্রি বেশ ঘনিয়েছে। গাড়িটা বাড়ির গেটের মধ্যে ঢুকিয়ে ঘ্যাঁচ করে ব্রেক কষতেই ইঞ্জিনটা ঘটঘট ঘটাং করে উলটোপালটা ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে গেল। যাচ্চলে! শান্তনু চাবি ঘুরিয়ে দু-তিনবার স্টার্ট দেবার চেষ্টা করল। বৃথা চেষ্টা। ইঞ্জিন ব্যাটার নড়াচড়ার কোনও উৎসাহই দেখা গেল না। চৈতক ঘোড়ার মতো প্রভুকে তাঁর গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিয়েই তার জীবন-সমাপ্তি ঘটেছে। বনেট খুলে দেখা যেতে পারে স্টার্টার পুড়েছে কি না। তাতে জ্ঞানপিপাসার তৃপ্তি হয়তো হবে, কিন্তু লাভ হবে না কিছুই। এই গভীর রাত্রে অজানা অচেনা শহরে নতুন স্টার্টার মিলবে কোত্থেকে! অবশ্য এই মুহূর্তে বাহনের কোনও দরকার শান্তনুর নেই। নির্ধারিত সময়ে না হলেও নির্ধারিত স্থানে এসে সে পৌঁছে গেছে। আশা করা যায় শুকতারাদি অন্নসংস্থানের একটা বন্দোবস্ত করে রেখেছেন। স্নানের জন্য একটু জল, আর একটা বিছানা। ব্যস, তার থেকে বেশি কিছু দরকার নেই। শুকতারাদি পাত্র হিসেবে ওকে যদি নাকচও করেন, ফাইন। চান করে দুটি খেয়ে, একটা ঘুম লাগিয়ে, কালকেই কলকাতা চলে যাবে। হোপফুলি পুষ্পেন্দুদা স্টার্টার জোগাড় করতে সাহায্য করবেন, কেনার জন্য কিছু টাকাও ধার দেবেন। অবশ্য স্টার্টার গেছে কি না কে জানে! প্রবলেম হয়তো আরও অনেক সিরিয়াস... টাইমিং বেল্টই হয়তো কেটে গেছে! ধুত্তোর!
গেটের ভিতর সুরকির রাস্তাটা বাড়ির লাগোয়া গ্যারাজে গিয়ে শেষ হয়েছে। শান্তনু পাশ ফিরে বাড়িটার দিকে তাকাল। বাড়ির ভিতরটা অন্ধকার, অন্তত বাইরে থেকে আলোর কোনও আভাসই পাওয়া যাচ্ছে না। চাঁদের ঝাপসা আলো সত্ত্বেও পুরো জায়গাটা বেশ অন্ধকার। গা ছমছম করে উঠল একটু। হঠাৎ মনে হল বাড়িটা যেন ভৌতিক বস্তু। বস্তু নয়, একটা ভূতই। থমথমে মুখে নড়াচড়া না করে ওঁত পেতে দাঁড়িয়ে আছে শান্তনুকে পাকড়াও করবে বলে। পাঁচিল ঘেঁষে বেশ কয়েকটা সুপুরি গাছ। বাতাসে সেগুলো দুলছে... যেন শাঁকচুন্নি পেতনির দল ভূতের চারপাশে দাঁড়িয়ে সঙ্গ দিচ্ছে! যত্তসব উদ্ভুট্টে কল্পনা! পোঁ পোঁ করে দু-বার হর্ন বাজিয়ে শান্তনু গাড়ি থেকে নেমে পড়ল।
সামনেই বাড়ির দরজা, ভিতর থেকে বন্ধ। কোনও ডোরবেল নেই, কড়াটা বেশ কয়েকবার খট খট করে নাড়ল শান্তনু। কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। দরজার পাশের জানলাটাও বন্ধ। পুরোনো ধরনের বাড়ি, খড়খড়ি আছে। সেটা তুলে ভেতরটা দেখার চেষ্টা করল। ঘুটঘুট্টি অন্ধকার, কিছুই দেখার জো নেই। আচ্ছা ফ্যাসাদ হল তো! না আছে বাহন, না আছে রাত কাটাবার জায়গা! অজানা অচেনা শহর, গভীর রাত্রি, পকেটে মাত্র পনেরোটা টাকা... কী কুক্ষণেই বাড়ি থেকে বেরিয়েছে আজ! পুষ্পেন্দুদা হয়তো মেসেজটাই পাননি। মোবাইল পরিষেবার এখানে যা হাল! তার মানে দুর্ভোগের চূড়ান্ত হবে এ যাত্রায়! একটা অজানা শঙ্কা শান্তনুকে ধীরে ধীরে গ্রাস করছিল। এমন সময় হঠাৎ খেয়াল হল। এটা সদর দরজা নয়। সদর দরজাটা বাড়ির সামনের দিকে। অতএব এত তাড়াতাড়ি হতাশ হবার কোনও কারণ নেই। পাশের এই ছোট দরজাটা হয়তো ব্যবহারই করা হয় না। শান্তনু পা চালিয়ে বাড়ির সামনে এল।
বাড়ির সামনে এসেও শান্তনু বিশেষ ভরসা পেল না। ভিতরে আলোর রেশ মাত্র নেই। সামনে একটা ছোট বারান্দা, সেখানে কয়েকটা বেতের চেয়ার এলোমেলোভাবে ছড়ানো রয়েছে। অন্ধকারে পরিষ্কার দেখা না গেলেও বোঝা গেল দু-একটা টবের গাছও রয়েছে বারান্দার একপাশে। শান্তনু অবশ্য সেটা আবিষ্কার করল একটু অসাধারণভাবেই— দর্শনে নয়, স্পর্শনে। একটা টবে পা লেগে হুমড়ি খেয়ে পড়তে পড়তে কোনোমতে বারান্দার একটা থাম ধরে নিজেকে সামলে নিল। এই অবস্থায় স্বাভাবিক মানুষ যা করে শান্তনুও তাই করল। পদস্খলনটা কেউ প্রত্যক্ষ করেছে কি না নিঃসন্দেহ হবার জন্য আশেপাশে তাকিয়ে দেখল। এই প্রথম সে উপলব্ধি করল যে, এ বাড়ির ধারেকাছে কোনও বাড়ি নেই। সবচেয়ে কাছের বাড়িটাও অন্তত তিন-চারশ গজ দূরে। টিমটিম করে সেখানে কয়েকটা আলো জ্বলছে। তাছাড়া অন্য যে দু-একটা আলো চোখে পড়ল, ভালো করে দেখতে হলে ছোটখাটো দূরবিনের দরকার পড়বে। আশেপাশে থাকার মধ্যে রয়েছে শুধু ঝোপঝাড় আর জোনাকির ঝাঁক, শব্দের মধ্যে ঝিঁঝির কোরাস আর মশার সংকীর্তন। এক্কেবারে যাকে বলে বনের মধ্যে বসত!
দরজায় সামনে গিয়ে বার দুই কড়া নাড়ল শান্তনু। গাড়ির আওয়াজ, হর্নের পোঁ পোঁ, কড়া নাড়ার শব্দ— এগুলোর উত্তরে ভিতর থেকে আমন্ত্রণ না হোক, অন্তত একটা ‘কে-এ’ প্রত্যাশা করেছিল। শান্তনু এবার প্রায় নিঃসন্দেহ হল এই নীরবতার মূল কারণ সম্পর্কে। এখন তাহলে কী কর্তব্য? মশার আক্রমণে তো এদিকে আত্মারাম খাঁচা-ছাড়া হবার জোগাড়! তাহলে কি দূরের বাড়ির দিকেই এবার হাঁটা দেবে? এইসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে শেষবারের মতো আর একবার কড়া নাড়তে যাচ্ছে, হঠাৎ রূপকথার রাজপুরীর মতোই ঝপাং করে দরজাটা খুলে গেল। এই অবস্থায় বিচক্ষণ ব্যক্তিমাত্রই সন্দিগ্ধ হবেন, দু-পা পিছিয়ে অবস্থাটা ভালো করে বোঝার চেষ্টা করবেন। কিন্তু পরগনা রোডের ঝাঁকুনি, টায়ার পর্ব, পিক-পকেট, খিদে, তেষ্টা, অচল গাড়ি, মশার কামড়... সবকিছু মিলে শান্তনু তখন প্রায় মরিয়া। এই অভাবনীয় আমন্ত্রণ উপেক্ষা করার কোনও প্রশ্ন তার মাথায় স্থান পেল না, হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ল সে।
“বেড়ালে পা দেবেন না, বেড়ালে পা দেবেন না।” চাঁচাছোলা রমণী-কণ্ঠ শান্তনুকে সাবধান করার চেষ্টা করল। কিন্তু ক্ষতি যা হবার ততক্ষণে হয়ে গেছে। বিড়ালটা বিতিকিচ্ছিরি রকমের ‘ম্যাও’ শব্দ করে তিড়িং করে একটা লাফ মেরে অদৃশ্য হল।
“ওরেব্বাস!” শান্তনুও চমকাল মন্দ না।
সামনে হ্যারিকেন হাতে গাঁট্টাগোট্টা চেহারার একটি রমণী-মূর্তি দাঁড়িয়ে। কদমছাঁট চুল, কাঠখোট্টা মুখ, কমনীয়তার লেশমাত্র নেই।
“যাঃ, মাড়িয়ে ফেললাম, অন্ধকারে ঠিক দেখতে পাইনি।” শান্তনু লজ্জিত স্বরে বলল।
অন্য পক্ষ থেকে কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না।
“আমার নাম শান্তনু, শান্তনু রায়— কলকাতা থেকে আসছি।”
“আপনার তো দুপুরে আসার কথা ছিল?”
সুরটা জেরার, হবু জামাইয়ের প্রতি স্বাগত-বার্তা বলা চলে না।
শান্তনু কাঁচুমাচু মুখে বলল, “গাড়িটা গড়বড় করল একটু।”
“খবর দিলেন না কেন? দিদিমণি শুধু শুধু দুশ্চিন্তা করলেন সারাদিন!”
‘দিদিমণি’ শুনে শান্তনু বুঝতে পারল শুকতারাদির বাড়িতে কাজ করে। শুকতারাদির যোগ্য সহচর!
“ইচ্ছে ছিল, খুবই ইচ্ছে ছিল। মুশকিল হয়ে গেল মাঝখানে ঝামেলাটা বাধায়, মানে কাছেপিঠে কোনও টেলিফোন পেলাম না। মোবাইলেও সিগনাল পাচ্ছিলাম না।”
রমণীটির চোখে মুখে অবিশ্বাস, লন্ঠনের অস্পষ্ট আলোতেও সেটা পরিষ্কার ধরা পড়ল। কিন্তু সেটা গায়ে মাখার অবস্থা আপাতত শান্তনুর নয়।
“শুকতারাদি কোথায়?”
“বাড়িতে।”
“পুষ্পেন্দুদা?”
“বাইরে।”
“এখানে কেউ নেই?”
“না।”
“শুকতারাদি কি আজ আসবেন?”
“কী করে আসবেন, তাঁর শোবার টাইম হয়ে যায়নি?”
“ও হ্যাঁ, তাও তো বটে, রাত অনেকই হয়েছে। তাহলে তো এখন ওঁকে আর জানানো যাবে না যে, আমি এসেছি। যাবে কি?”
রমণীটি কোনও উত্তর দিল না।
যেখানে শান্তনু দাঁড়িয়ে সেখানে লন্ঠনের আলো ছাড়া কোনও আলো নেই। একটা ঘরে, বোধ হয় সেটা বাইরের ঘর, একটা মোমবাতি মনে হল টিমটিম করে জ্বলছে।
“লোডশেডিং চলছে নাকি?”
“শিডিং এখানে হয় না। হরি মিস্ত্রিকে খবর দিয়েছি। আজ রাতেই ঠিক করে দিয়ে যাবে।”
“ব্যস, তাহলে তো আর চিন্তাই নেই। এখন শুধু প্রশ্ন, শুকতারাদিকে খবর দিই কী করে!”
কথাটা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কদমছাঁট রমণীটি জিজ্ঞেস করল, “রাতের খাওয়া খাবেন তো, না খেয়ে এসেছেন?”
“তা খাব, কিন্তু এত রাত্রে আবার হাঙ্গামা!” একটু ভদ্রতা না করলেই নয়। শান্তনু ঘড়ির দিকে তাকাল, “ইসস, ন-টা বাজতে চলল। না না, ওসব ঝামেলা করে কাজ নেই।”
“রান্না সব করা আছে, খাবারগুলো টেবিলে ঢাকা দেওয়া।”
“বাঃ, তাহলে তো আর চিন্তাই নেই। আমি ধীরেসুস্থে মুখ-হাত-পা ধুয়ে খেয়ে নেব-খন। আপনাকে আর কষ্ট করে থাকতে হবে না, অনেক রাত হয়েছে।”
মনে হল এতক্ষণে রমণীটির মন পাওয়া গেল, “ঠিকঠাক নিতে পারবেন তো? নইলে দিদিমণি আবার আমার ওপর রাগ করবেন।”
“ঠিক পারব, কোনও চিন্তাই নেই।”
“খাবার গরম করে দিই?”
“একদম না, ঠান্ডা খেতেই আমার ভালো লাগে।”
“এঁটোকাঁটা তুলতে যাবেন না, আমি কাল এসে পরিষ্কার করে দেব।”
“তুলব না। যাবার আগে আমাকে শুধু বাথরুমটা, শোবার জায়গা আর জলটলগুলো কোথায় আছে দেখিয়ে দিলেই চলবে।”
“সে তো দেবই, ওগুলো সব দোতলায়। আসুন।”
একটু এগিয়েই বাঁদিকে দোতলায় যাবার সিঁড়ি। হ্যারিকেনটা নিয়ে দোতলায় উঠে শান্তনুকে বাথরুম আর শোবার ঘর দেখিয়ে দিল কাজের মহিলাটি। যদিও অন্ধকারে সবকিছু স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না, কিন্তু তার মধ্যেই মনে হল সুন্দর ব্যবস্থা। বিশেষ করে বাথরুমটা। টাওয়েল র্যাকে দুটো তোয়ালে, সিংকের ওপর একটা বড় আয়না, লিকুইড সোপের একটা বোতল সিংকের একপাশে। টুক করে দেখেও নিল শান্তনু, বেসিনের কলে জল আসছে কি না।
“জল নিয়ে চিন্তা নেই, ট্যাংকিতে অনেক জল আছে।” ঘোষণা করল রমণীটি। “খাবারের জায়গাটাও দেখিয়ে দিই।”
খাবারের জায়গা নিচে। রান্নাঘরের ঠিক পাশেই ছোট একটা ঘরে। সেখানে জনা ছয়েকের বসার মতো টেবিল রয়েছে। টেবিলের ওপর ঢাকা দেওয়া বেশ কয়েকটা পাত্র। একটা প্লেট উলটো করে রাখা, তার পাশে কাগজের ন্যাপকিনে জড়ানো কিছু রাখা, সম্ভবত কাঁটা চামচ। নিশ্চয় শুকতারাদি তত্ত্বাবধান করে গেছেন।
“এখানে ভাত, ডাল, মাছ, মাংস আর তরকারি আছে… বলুন, গরম করতে হবে না তো?”
“একদম না।”
“বাথরুমে তোয়ালে সাবান সব পাবেন। শোবার ঘরে বিছানা করা আছে, শুধু মশারিটা নামিয়ে নেবেন।”
বাঃ, বিছানা আর মশারির তথ্যটা নতুন।
“খাবার জল, বিলিতি সরবত সব বরফ-মেশিনে।” খাবার ঘরের এক কোণে রেফ্রিজারেটরের দিকে আঙুল নির্দেশ করল এক হাতে হ্যারিকেনটা ধরে। “ঘরে মোমবাতি আর দেশলাই আছে, জ্বালিয়ে নেবেন।”
“কোথায়?” নির্দেশটা শান্তনুর কাছে যথেষ্ট স্পেসিফিক নয়।
“ঠিক আছে, আমিই জ্বালিয়ে দিয়ে আসছি।” বলে রমণীটি হ্যারিকেন নিয়ে অদৃশ্য হল।
একটু বাদেই নেমে এল। “এই মোমবাতিটাও জ্বালিয়ে দিই।” বলে ক্ষিপ্র হস্তে, টেবিলের পাশে রাখা মোমবাতিকে প্রজ্বলিত করল।
“ব্যস, তাহলে তো কোনও চিন্তাই নেই। খারাপ লাগছে শুধু শুকতারাদিকে কিছু জানাতে পারছি না।”
“আমি গিয়ে জানিয়ে দেব। এখনও হয়তো জেগে আছেন।”
“চমৎকার! উনি যেন এই রাত্রে আবার কষ্ট করে না আসেন, আমিও তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ব আজ।”
রমণীটি ভুরু কুঁচকে শান্তনুর দিকে তাকাল। উলটোপালটা কিছু বলল নাকি শান্তনু? মরুক গে যাক!
“মিষ্টিকে ঘরে ঢুকিয়ে নেবেন রাত্রে। পাত থেকে একটু খেতে দেবেন।”
“মিষ্টি?”
“পাকড়াশী মশাইদের বেড়াল। এটা ওঁদের বাড়ি, ছুটিতে বাইরে গেছেন।”
“আই সি! নিশ্চয় খেতে দেব। দরজা খুলে রাখব ওর জন্য, কোনও চিন্তা নেই। আশা করি ভয় পাবে না আমাকে… একবার পা দিয়ে মাড়িয়ে দিয়েছি তো!”
“বেড়াল আবার ভয় পায় নাকি! শোবার আগে কিন্তু দরজা বন্ধ করে দেবেন। চোর আছে এ দেশে, এ আপনাদের বিলেত নয়!”
“বুঝেছি, নিশ্চয় দেব।”
“হ্যারিকেনটা রেখে যাচ্ছি।” সদর দরজার পাশে পেরেকের হুকে একটা টর্চ ঝুলছিল, সেটা নিয়ে খটখটিয়ে প্রস্থান করল রমণী।
বাপ রে বাপ, কী ক্যাটকেটি রমণী! অবশ্য শুকতারাদির বাড়িতে যে কাজ করে, অন্য আর কী আশা করা যায়!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন