সুজন দাশগুপ্ত
ঘরে ঢোকামাত্র শান্তনুর একটা অদ্ভুত অনুভূতি হল। একটা চাপা সুগন্ধ যেন চারিদিকে ছড়িয়ে আছে, গন্ধটা নতুন, মিষ্টি জুঁইফুলের... এর আগে পায়নি। বাঁদিকে চোখে পড়তেই সুগন্ধের উৎসটা চোখে পড়ল। হ্যারিকেনের আবছা আলোয় সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে যে বসে আছে সে যেন কবিতা, গান, সুর ও ছন্দের এক অপূর্ব সমন্বয়। ফ্লোরিডার কমলার মতোই সরস, কাশ্মীরী আপেলের মতো মিষ্টি আর শিশিরভেজা গোলাপের মতো সতেজ। শান্তনুর জীবনে এভাবে কোনও হুরি-পরির আবির্ভাব আগে হয়নি। হুরি-পরি যে দূর থেকে দেখেনি তা নয়, বেশির ভাগই সিনেমার পর্দায়। এই অযাচিত সৌভাগ্যে সে বাক্যহারা হয়ে গেল। অবাক চোখে এই সুন্দরী উদ্ভিন্নযৌবনা ললনার দিকে চেয়ে রইল শুধু।
শান্তনুকে দেখে মেয়েটাই ব্যস্তসমস্ত হয়ে উঠে দাঁড়াল, “আপনি তো এই এলেন, তাই না?”
মেয়েটার গলার স্বর একটু গাঢ়, টানটা পরিষ্কার বিদেশি। সংবিৎ পেয়ে বলল, “বলতে কী, প্রশ্নটা তো আপনাকেই করা উচিত আমার।” স্মার্টলি কথাটা বলতে পেরে তৃপ্ত হল শান্তনু।
অল্প হাসল সুন্দরী, “আসলে একটু আগেই আপনাকে প্রথম দেখলাম। নিশ্চয় এ শহরে নতুন?”
একটু আগে মানে! মেয়েটা আমার দিগম্বর মূর্তি দেখেছে নাকি! শান্তনু লাল হল একটু, “হ্যাঁ, মানে কিছুক্ষণ আগে বলতে কী অনেকক্ষণ আগেই এসেছি। এসে পর্যন্ত বাড়ির ভিতরে বসেছিলাম। তাই একটু বেরিয়েছিলাম হাওয়া খেতে।” এতগুলো কথা হয়তো না বললেও চলত।
“সারাক্ষণ বাড়ির ভিতরে ছিলেন?” মেয়েটা একটু যেন সন্দিগ্ধ।
“হ্যাঁ, সারাক্ষণই।” বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে জবাব দিল শান্তনু।
“আশ্চর্য!”
“কেন বলুন তো?”
“একটু আগে আমি যখন এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন মনে হল আপনি, মানে কেউ একজন খালি গায়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছে।”
“মাই গড!” শান্তনু চোখমুখ কুঁচকে ভালোরকমের একটা বিস্ময় ফোটাল।
“আমি তাড়াতাড়ি পেঁপে-কে বললাম।”
“পেঁপে?”
“আমাদের ঝি। ও কিন্তু বিশ্বাস করল না। বলল, আমি নাকি ভুল দেখেছি!”

“একদমই অসম্ভব নয় সেটা, রাত্রে অন্ধকারে অনেক সময়েই ভুল হয়।”
“কিন্তু আমি যে পরিষ্কার দেখলাম?”
“তা কী করে হয়? আমি তো বাড়ির মধ্যে। আর কেউ এখানে থাকলে নিশ্চয় টের পেতাম।”
“তা ঠিক,” মেয়েটা মাথা নাড়ল, “তার কিছুক্ষণ বাদে টর্চ হাতে আপনাকে বেরোতে দেখলাম, তাই সঙ্গে সঙ্গে চলে এলাম।”
“ও!” কথাটা বলল বটে, কিন্তু রহস্যটা পরিষ্কার হল না। এটা ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে ক্যাম্পাস নয়, পশ্চিমবঙ্গের এঁদো শহর সুখচিন্তাপুর। এখানে এই রাত্রে কোনও সুন্দরী ললনা একা একা অন্যের বাড়ি আসবে, কারণ যাই হোক... এই প্রগতি তো স্বপ্নেরও অতীত!
“আলো জ্বলছে না বুঝি?”
“হ্যাঁ, লাইন খারাপ শুনলাম। কিন্তু আপনি?”
“ও সরি, আমি দেবযানী।”
“আমি শান্তনু, শান্তনু রায়।”
“আমি ওই পিছনের বাড়িতে থাকি।” আঙুল দিয়ে দিকনির্দেশ করল মেয়েটি।
“এর পেছনে আবার বাড়ি আছে নাকি? আমার তো মনে হচ্ছিল আশেপাশে কোথাও কিছু নেই!” শান্তনু এবার একটু নার্ভাস হয়েই প্রশ্ন করল। সত্যিকারের রক্তমাংসের মেয়ে? পেত্নি-ফেত্নি নয় তো?
“না থাকলে আমি এলাম কোত্থেকে?”
“তা অবশ্য ঠিক,” বোকা বোকা মুখে শান্তনু কথাটা মানল।
“একটু মুশকিলে পড়ে আপনার কাছে এসেছি। অসুবিধা করলাম না তো?”
“না না, কোনও অসুবিধা নেই— কারও অসুখবিসুখ?”
“না, সেরকম আর্জেন্ট নয়, তবে এক্সট্রিমলি ইম্পর্ট্যান্ট। নইলে কি কেউ এভাবে কখনও আসে?”
“তা ঠিক।” আর কী বলা যেতে পারে এর উত্তরে, মাথায় এল না।
ইংরেজি উচ্চারণ আমেরিকানদের মতো। চেহারাটার মধ্যেও কোথাও যেন একটু বিদেশিনী ছাপ। শান্তনুর এবার নজরে পড়ল মেয়েটার পায়ে কিচ্ছু নেই। চুল-টুলও একটু যেন অবিন্যস্ত। মনে হয় হঠাৎ করেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে।
“আমি আমার স্টেপ-ফাদারের কাছে থাকি।” একটু খাপছাড়াভাবেই তথ্যটা দিল মেয়েটি।
“ও!” ব্যাপারটা ঘোরালো রূপ নেবে মনে হচ্ছে, শান্তনু মনে মনে প্রস্তুত হল।
“আমার নিজের বাবা নেই। মা সিংজিকে পরে বিয়ে করে।” কথাটা বলে মেয়েটি ওড়না দিয়ে কপালটা পুঁছল। “একটা তোয়ালে হবে আপনার কাছে?”
শান্তনু এতক্ষণ পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিল না। মেয়েটার কথায় খেয়াল হল, মেয়েটার কামিজও যেন কেমন একটু ভেজা ভেজা।
“এ কী কাণ্ড, আপনি তো ভিজে গেছেন একেবারে! দাঁড়ান, একটা তোয়ালে নিয়ে আসি।”
সুটকেসে একটা তোয়ালে এনেছিল। উলটেপালটে সেটাই খুঁজতে লাগল।
“খুব ইমপোজ করছি আপনার ওপর। কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি জানি না আর কী করতে পারি?” মেয়েটি শান্তনুর পিছন পিছন প্রায় গা ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে।
“একটুও না,” মেয়েটির নৈকট্যে একটু নার্ভাস হয়েই তাড়াহুড়ো করে তোয়ালে খুঁজতে খুঁজতে শান্তনু বলল, “কিচ্ছু ভাববেন না আপনি।”
ভাবনার নানান ঘূর্ণি উঠেছে শান্তনুর মাথায়। কে এই রহস্যময়ী সুন্দরী? ছিটগ্রস্ত খ্যাপা? হাবভাবে একটু ছেলেমানুষি ছাপ আছে নিঃসন্দেহে, তবে পাগল বলে তো মনে হচ্ছে না। কী এমন অসুবিধা যার জন্য এত রাতে প্রতিবেশীর বাড়িতে এসে হানা দিয়েছে? পাকড়াশী মশাইদের কি চিনত? কোনও ঝামেলায় ঝুলিয়ে দেবে না তো? একবার মনে হল রেফ্রিজারেটর-এ ‘বিয়ার’ রাখার মতো এটাও হয়তো শান্তনুকে বাজিয়ে দেখার শুকতারীয় প্ল্যান, ভাড়া করা অ্যাকট্রেস বা কলগার্ল টাইপ। তবে কিনা মেয়েটার ব্যবহার সাবলীল আর স্বচ্ছ, কোথাও কোনও অশোভনতা বা মলিনতা নেই।
তোয়ালেটা শেষে পাওয়া গেল। “আশা করি এটায় কাজ চলবে?”
“খু-উ-উ-ব। আপনি ভীষণ কাইন্ড, সেইজন্য আপনার কাছে আর কিছু চাইতে লজ্জা করছে।”
“কী আশ্চর্য, বলেই ফেলুন না!”
“আমার কামিজটা একদম ভিজে গেছে, একটা শুকনো কামিজ বা শাড়ি হবে এখানে?”
“নাঃ,” মাথা নাড়ল শান্তনু, “মেয়েদের পরার মতো কিছুই নেই আমার কাছে।”
“পাজামা বা পাঞ্জাবি হলেও চলত।”
“তা অবশ্য আছে,” এবার চিন্তিত হল শান্তনু, “বেশ অনেকক্ষণ এখানে থাকতে হলে শুকনো জামাকাপড় পরে ফেলাই বোধ হয় ভালো।”
‘বেশ অনেকক্ষণ’-এর ওপর একটু জোর দিল।
“বাঁচালেন!”
“সাইজে কিন্তু ফিট করবে না... আপনার বাড়ি তো কাছেই বললেন… সেখান থেকেই বরং…”
“পুরো ব্যাপারটা শুনলে আপনি বুঝবেন, কী অবস্থায় আমি এখানে এসেছি। তখন আপনিই বলবেন… থাক গে।”
সর্বনাশ! নিশ্চয় ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের ব্যাপার! বিদেশ-বিভুঁইয়ে এতে এখন জড়িয়ে পড়লে… বাস্তবিকই এবার শঙ্কিত বোধ করল শান্তনু।
“ব্যাপারটা আগে শুনে নিলে হত না?”
“আরম্ভ হলে শেষ হতে অনেকক্ষণ লাগবে। অবশ্য আপনাকে জোর করতে চাই না। যদি আপনি অসুবিধা বোধ করেন, তাহলে…”
একটু কি ছলছল করল চোখটা?
“না না, সে কী কথা!” শান্তনু বাধা দিয়ে মেয়েটির কথা থামিয়ে সুটকেস থেকে একটা পাজামা, পাঞ্জাবি বার করে দিল।
“দোতলায় বাথরুম বা শোবার ঘর যেটা খুশি ব্যবহার করতে পারেন। হ্যারিকেনটা নিয়ে যান, আমি এখানে অপেক্ষা করছি। নাকি দেখিয়ে দেব কোথায়?”
“না না, লাগবে না,” মেয়েটি যেতে যেতে থামল। “চিরুনি বোধ হয় নেই আপনার কাছে?”
“পকেট-চিরুনি। আমি অবশ্য ওটা ব্যবহার করি। ধুয়ে নিয়ে যদি চলে…”
“সিওর। ফিতে একটা পেলে খুব ভালো হত, চুলটাও বেঁধে ফেলতাম।”
“ফিতে? না, এটাই তো মুশকিল হল। জুতোর একটা নতুন ফিতে আছে অবশ্য… সেটা নিশ্চয় ব্যবহার করা চলে না।”
হেসে ফেলল মেয়েটি, “না, চলে না।”
“আমার পাজামার ফিতেটা দিতে পারি, গিঁট দিয়ে পাজামা পরার অভ্যাস আছে আমার।”
“না, না, ওসব কিছু করতে যাবেন না, প্লিজ।”
“হ্যাঁ, সেটা একটু রিস্কি হয়ে যাবে বোধ হয়। দাঁড়ান, মনে পড়েছে। একটা মিষ্টির বাক্স আছে, একটা সোনালি ফিতে দিয়ে বাঁধা ছিল বাক্সটা। আপনি একটু দাঁড়ান, নিয়ে আসছি।”
টর্চ নিয়ে আবার বেরোল শান্তনু। ড্রাইভারস্ সিটের পাশেই পড়েছিল ছিল অমৃতির বাক্সটা। খোলাও হয়নি। বেরিয়ে এসে ভালোই হল, নইলে বাইরেই পড়ে থাকত সারা রাত, নষ্ট হত মিষ্টিটা। বাক্সটা ঘরে নিয়ে টেবিলে রেখে ফিতেটা খুলে মেয়েটির হাতে দিয়ে জিজ্ঞেস করল, “এতে হবে?”
“খুব হবে। যাই, চট করে এগুলো পরে আসি।”
“যাবার আগে, একটু যদি আভাস দিতে পারেন ব্যাপারটা সম্পর্কে…” শান্তনু শেষ চেষ্টা করল।
“একটু ধৈর্য ধরুন, প্লিজ। এক মিনিট লাগবে আমার।” বলে হ্যারিকেন নিয়ে মেয়েটি অদৃশ্য হল।
ওপরে বাথরুমের দরজা বন্ধ হবার আওয়াজ আসতেই অন্ধকারে শান্তনুর মাথায় চিন্তাগুলো আবার কিলবিল করতে শুরু করল। একটা মেয়ে রাতের অন্ধকারে বেরিয়ে পড়েছে, কীসের জন্যে? রাগারাগি, ভুল বোঝাবুঝি, ফিজিক্যাল ভায়োলেন্স, না অন্য কোনও বিপদ? বাড়িতে সৎবাবা, তিনি কেন আটকালেন না? না, তিনিই সমস্যা! পেঁপে না কে… বাড়ির ঝি… সে তো জানে মেয়েটা বেরোচ্ছে, সেই বা বাধা দিল না কেন? বাইরে বৃষ্টির নামগন্ধ নেই, মেয়েটার সালোয়ার কামিজ ভিজল কী করে? শান্তনু কি জেগে আছে না স্বপ্ন দেখছে? জেগে যে আছে মশার কামড় সেটা জানান দিচ্ছে। কিন্তু কী অবিশ্বাস্য ঘটনাচক্রের মধ্যে জড়িয়ে পড়েছে আজ! এ পর্যন্ত যা যা ঘটেছে… অক্ষরে অক্ষরে বললেও কেউ সেটা বিশ্বাস করবে না। চোখের সামনে যেন দেখতে পাচ্ছে অমরজিৎ চোখ কুঁচকে দাড়ি কাঁপিয়ে খ্যাঁক খ্যাঁক করে হেসে বলছে, “তুই শালা হারামি আছিস, কোত্থেকে বাগালি মেয়েটাকে?”
ঘটনাটা অবিশ্বাস্য হলেও নৈরাশ্যজনক মোটেই নয়। দেবযানীর সান্নিধ্যটা লুকিয়ে লুকিয়ে প্রথম সিগারেট খাওয়ার মতো। একদিকে প্রবল উত্তেজনা, অন্যদিকে চরম অপরাধবোধ। এখন যদি শুকতারাদি ঘরে ঢোকেন! কী হবে? উনি নিশ্চয় সত্য-অসত্য কোনও ব্যাখ্যাতেই কান দেবেন না। সত্যি কথা বলতে কী, পুরো ব্যাপারটাই ব্যাখ্যার অতীত! ধরেই নেবেন দুশ্চরিত্র শান্তনু মেয়েটাকে ফাঁকা বাড়িতে ফুর্তি করতে নিয়ে এসেছে। ভাবতে ভয় এবং আনন্দ দুটোই হচ্ছে। সত্যিই শুকতারাদি এলে সোনায় সোহাগা হবে। অসহ্য অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ-এর এই চক্রান্তে অতি মোক্ষম রকমের একটা ঘা মারা যাবে!
হঠাৎ বাইরে ঠক ঠক শব্দ! কী সর্বনাশ! সত্যিই কি শুকতারাদি এসে হাজির হলেন? চিন্তায় অনেক কিছু চলে… কিন্তু বাস্তবে? শান্তনুর কপালে ঘাম জমতে শুরু করল বিন্দু বিন্দু, গলা শুকিয়ে গেল। ঘটনাটাকে ঠিক এইভাবে বিশ্ব-সমাজের সামনে উদ্ঘাটিত করতে মন একদমই চাচ্ছিল না। হাজার হোক, নিজের সম্মানও এর মধ্যে জড়িত। টর্চটা হাতের কাছে পেল না, অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে হেঁটে সন্তর্পণে দরজা খুলল।
খাকি হাফপ্যান্ট আর টর্চ হাতে যে দাঁড়িয়ে সে আর যেই হোক, শুকতারাদি নয়।
“লাইট সারাতে এসেছি।” উচ্চস্বরে সংক্ষিপ্ত ঘোষণা করল লোকটি।
“ভেতরে আসুন।”
“আজ্ঞে?”
মনে হল লোকটা কানে খাটো। “আসুন ভিতরে।” গলা চড়িয়ে বলল শান্তনু।
সিঁড়ির নিচেই মেইন ফিউজ বক্স। হরি মিস্ত্রি ফিউজ বক্স খুলল। “বাতি আছে আপনার কাছে?”
“না,” হ্যারিকেনের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে শান্তনু বিশদ আলোচনায় যেতে চাইল না।
“নিয়ে আসুন সেটা।”
“বাতি নেই।” শান্তনু চেঁচিয়ে বলল।
“ও, তাহলে টর্চটা ধরুন।”
উজবুক একটা, প্রথমে বললেই তো হত! শান্তনু হরি মিস্ত্রির টর্চটা হাতে নিল। ব্যাটারির অবস্থা মর-মর, আলো নিবু নিবু করছে। তার মধ্যেই নতুন ফিউজ তার লাগিয়ে হরি মিস্ত্রি মেইন সুইচ অন করল। এক মুহূর্তে পাকড়াশীপুরী আলোয় ঝলমল করে উঠল! ওপর থেকে দেবযানীর উচ্ছ্বসিত স্বর ভেসে এল, “আলো এসেছে, দেখেছেন?”
হরি মিস্ত্রি একটু যেন বিস্মিত। ওপরের দিকে তাকাল, “কেউ কিছু বলছেন?”
শান্তনু তাড়াতাড়ি বলল, “কই না তো! কিছু দিতে হবে আপনাকে?” বলেই খেয়াল হল, আছে সাকুল্যে পনেরোটা টাকা!
“আজ্ঞে?”
“আপনার টাকাটা?”
“মিত্রবাবুর কাছ থেকে নিয়ে নেব।”
“বেশ, তাই নেবেন তাহলে, নমস্কার।”
“পাকড়াশী মশাইকে বলবেন, এগুলো পালটে এখানে একটা সার্কিট ব্রেকার লাগাতে। বাথরুমে লাখ লাখ টাকা খরচা করছেন, অথচ…”
“নিশ্চয় বলব, নমস্কার।”
“আর সবকিছু ঠিকঠাক আছে তো… একবার দেখে নিন।”
“না না, সব ঠিক আছে। আপনি আসুন, নমস্কার।”
হরি মিস্ত্রিকে তাড়াহুড়ো করে কোনোমতে বিদায় করল শান্তনু। ভাগ্য ভালো, মেয়েটা উপরে ছিল। গলার স্বর শুনে ফেলেছিল আর একটু হলে, কানে কম শোনে বলে রক্ষা! এখানকার মিস্ত্রি, নিশ্চয় মেয়েটাকে চেনে। শুকতারাদির কাছে রিপোর্ট করলে কেলোর কীর্তি হত!
ইতিমধ্যে দেবযানী পোশাক বদলে নেমে এসেছে। শান্তনুর পাঞ্জাবি ঢিলে হয়ে প্রায় গোড়ালি পর্যন্ত নেমেছে। হাতটা ভাঁজ করে গুটিয়ে নিয়েছে হাতের কনুই অবধি। চুলগুলো পিছনে পনিটেল করে বাঁধা, সৌজন্যে দত্তবাবুর দেওয়া মিষ্টির বাক্সের সোনালি ফিতে। পাজামার তলাটা ভাঁজ করার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু কাজটা দুঃসাধ্য। একটা কিছুটা তবু হয়েছে, অন্যটা মেঝের তলা পর্যন্ত লোটাচ্ছে! হাত দিয়ে সেটাকে তুলে হাঁটছে দেবযানী। পোশাক বিসদৃশ, কিন্তু সৌন্দর্য তাতে এতটুকু ম্লান হয়নি, বরং বেড়েছে। শান্তনুর মুখোমুখি সোফায় ওপর পা গুটিয়ে বসল।
“ভাবছি কীভাবে শুরু করব। আজকের ঘটনাটাই আগে বলি, কেমন?”
“বলুন।”
“সংক্ষেপে বলতে গেলে সিংজি আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।”
“সিংজি?” নামটা আগে শুনলেও বেমালুম ভুলে গেছে শান্তনু।
“আমার স্টেপ-ফাদার।” মনে করিয়ে দিল দেবযানী।
“তাড়িয়ে দিয়েছে মানেটা কী?” বিস্ময়ে মুখটা হাঁ হয়ে গেল শান্তনুর।
“মাথায় এক ঘড়া গঙ্গাজল ঢেলে বলেছে, ‘নিকলো ঘরসে’!”
“হোয়াট?”
“পেঁপেই এর জন্য দায়ী, আমার নামে সিংজিকে গিয়ে লাগিয়েছে।”
“কী লাগিয়েছে?”
“আমি অশুদ্ধ পত্রিকা পড়েছি বলে।”
মেয়েটা কি অশ্লীল বলতে চাইছে? এত রাতে শ্লীল-অশ্লীল প্রসঙ্গ নিয়ে অচেনা মেয়ের সঙ্গে আলোচনায় ঢুকতে চাইল না শান্তনু, অন্য অ্যাঙ্গেল ধরল।
“সরি, আমি কিন্তু কিছুই বুঝতে পারছি না। পত্রিকা মানে নিউজপেপার?”
“হ্যাঁ।”
“তার সঙ্গে শুদ্ধ-অশুদ্ধর সম্পর্ক কী?”
“সিংজি সবকিছু গঙ্গাজল ছিটিয়ে আগে শুদ্ধ করে... শুদ্ধ না করে কোনও কিছু ঘরে ঢোকানো বারণ।”
“তা বলে পত্রিকাতেও গঙ্গাজল ছিটিয়ে ঢোকাতে হবে?”
“হ্যাঁ।”
“দ্যাটস্ ক্রেজি!”
“টেল দ্যাট টু হিম!”
“আমি আর একটু বোঝার চেষ্টা করি। পত্রিকায় গঙ্গাজল ছেটানো মানে তো অক্ষর ভিজে যাবে, সবকিছু পড়াও যাবে না।”
“ঠিক, আর শুকোতেও সময় লাগে।” দেবযানী ক্ষুব্ধ স্বরে বলল।
“তারপর?”
“এমনিতেই নিউজপেপার এখানে দেরিতে আসে, শুকিয়ে-টুকিয়ে পড়তে পড়তে দুপুর হয়ে যায়! বাসি খবর পড়তে ভালো লাগে, বলুন?”
“না।” সত্যিই লাগে না শান্তনুর। “এবার বুঝলাম, আপনি গঙ্গাজল না ছিটিয়ে পত্রিকা পড়েছিলেন।”
“ঠিক।”
“আর রাত্রে সিংজি ফিরতেই আপনাদের কাজের মেয়েটি, পেঁপে না কী জানি নাম, সেটা জানিয়ে দিয়েছে।”
দেবযানী মাথা নাড়ল।
ব্যাপারটা চূড়ান্ত অবিশ্বাস্য লাগল শান্তনুর, “মাই গুডনেস! এরকম একটা সিলি কারণে আপনাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন আপনার নিজের স্টেপ-ফাদার?”
“ইয়েস, তবে আগেও এভাবে পত্রিকা পড়া নিয়ে স্টার্ন ওয়ার্নিং দিয়েছিল। বলেছিল আর একবার পড়তে দেখলে তাড়িয়ে দেবে।”
“কিন্তু নিজে তো উনি দেখেননি?”
“দেখেনি, কিন্তু শুনেছে। পেঁপে দেখেছে, আর পেঁপের সব কথা সিংজি বিশ্বাস করে।”
“চুলোয় যাক পেঁপে, গঙ্গাজল না ছিটিয়ে পত্রিকা ঘরে আনলে কী হয়?”
“বাড়িতে নাকি ভূতের উপদ্রব হয়।”
“ননসেন্স! যতসব কুসংস্কার!”
“হ্যাঁ, আমি একবার বলেছিলাম সে কথা। আমাকে বলেছিল আর একবার এই নিয়ে প্রশ্ন করলে আমাকে বাড়ি থেকে কিক-আউট করবে।”
“সিংজি কি এরকম করেই কথা বলেন আপনার সঙ্গে?”
“ইদানীং সবার সঙ্গেই বলে।”
“বলা আর করা কিন্তু দুটো আলাদা জিনিস। আমার মনে হচ্ছে উনি চটে গিয়ে আপনাকে চলে যেতে বলেছেন, কিন্তু মন থেকে বলেননি। আপনি যে রাগ করে বেরিয়ে যাবেন, বোঝেননি। না গেলে কিছুই হত না। গজগজ করতেন শুধু। এখন মাথা নিশ্চয় ঠান্ডা হয়ে গেছে। আপনি নিশ্চিন্ত মনে বাড়ি ফিরে যান।”
কথাটা শোনামাত্র দেবযানীর কোমল মুখটা শক্ত হয়ে গেল, “না, আমি কখনোই আর সিংজির বাড়ি ফিরব না।”
“তাহলে কী করতে চান?” প্রশ্নটা একটু ভয়ে ভয়েই করল শান্তনু।
“জানি না।”
“আপনার কোনও বন্ধু আছেন যেখানে গিয়ে থাকতে পারেন?”
“না। আমরা এখানে নতুন। কেউ আমাদের সঙ্গে মেশে না।”
শান্তনু চিন্তা করল একটু। এরকম একটা সুন্দরীকে কাছে পাবার লোভ হলেও, বিবেচনা বলে একটা বস্তু আছে। নিজে তো আর বরাভয় দিয়ে দেবযানীকে আশ্রয় দিতে পারে না। একটা সমাধান তার মাথায় এল হঠাৎ, “আচ্ছা সিংজির কথা না হয় বাদ দিন, আপনার মা তো এখানে আছেন। তাঁর কাছে নিশ্চয় আপনি ফিরে যেতে পারেন?”
“মা নেই। এক বছর হল সিংজিকে ছেড়ে চলে গেছে।”
“কোথায়?” প্রশ্নটা করে শান্তনু বিব্রত হল… নান অফ হিজ বিজনেস।
“আমেরিকার কোথাও। আমার মা আমেরিকান, বাবা ছিলেন বাঙালি।”
“ও, কিন্তু আপনি তো ভালো বাংলা বলেন!”
“আমার মা-ও বাংলা জানত। শান্তিনিকেতনে পড়তে এসেছিল। আমার জন্মও এ দেশে। পরে অবশ্য ফিলাডেলফিয়াতে থাকতাম। তারপর বাবা মারা যায়, মা সিংজিকে বিয়ে করে... সবাই মিলে দু-বছর আগে এদেশে চলে আসি।”
“আপনি মা-র সঙ্গে ফিরে গেলেন না কেন?”
“আমি তখন হস্টেলে, ফার্স্ট ইয়ারে পড়ছি। পড়াশোনা ছেড়ে কোথায় যাব! তা ছাড়া আই হেট আমেরিকা। এটা আমার বাবার দেশ। আই লাভ ইট হিয়ার। তা ছাড়া... ” মেয়েটি একটু ইতস্তত করল, “সিংজি তখন এরকম বাতিকগ্রস্ত ছিল না। মা চলে যাবার পর থেকেই সিংজির ভীষণ ভূতের ভয় আর ছোঁয়াছুঁয়ি বাতিক শুরু হয়। গত বছর বাড়িতে এসে দেখি ভূত তাড়াতে সব জায়গায় গঙ্গাজল ছেটাচ্ছে! পাপ আর ভূত নাকি গঙ্গাজলকে ভয় পায়। বিকেইম টোটালি ক্রেজি!”
একটা টেকনিক্যাল প্রশ্ন মাথায় জাগল শান্তনুর। “গঙ্গা তো এখান থেকে অনেক দূর! গঙ্গাজল এখানে পাওয়া যায়?”
“কলকাতা থেকে ম্যানেজার নিয়ে আসে— ঘড়া ঘড়া।”
মাথায় এক ঘড়া গঙ্গাজল ঢালা আর সালোয়ার কামিজ ভেজার রহস্যটা এতক্ষণে পরিষ্কার হল শান্তনুর কাছে।
“আসলে সিংজি চায় সবাই তার হুকুম মতো চলুক, একটুও যেন নড়চড় না হয়। কার কী দরকার, কে কী খাবে, সব সিংজিই ঠিক করে। একটু অন্যরকম হলেই গালাগাল করবে, গায়ের জোর খাটাবে। আমি তো এই ছুটিতে এখানে আসতেই চাইনি। সিংজিই আমাকে মিস করছে বলে বুঝিয়েসুঝিয়ে নিয়ে এসেছিল। আমি এখন মিজারেব্ল।” বাষ্পাচ্ছন্ন চোখে কথাটা শেষ করল।
দেবযানীর চোখে জল দেখে শান্তনুর বুকে সহানুভূতি উথলে উঠল। বাস্তবিকই অত্যন্ত নচ্ছার লোক এই সিংজি।
“এ অবস্থায় আমি কী করতে পারি বলুন?” বড় বড় জলভরা চোখে দেবযানী শান্তনুর দিকে তাকাল।
“ঠিকই তো, সারারাত রাস্তায় রাস্তায় তো আর ঘুরতে পারেন না!” দেবযানীর এই আসাটা এক কথায় অনুমোদনই করল শান্তনু।
“আমি আর কখনোই ও বাড়িতে ফিরব না।” দেবযানীর ভিজে চোখেও হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ খেলে গেল।
নিজের আসন্ন বিপদের কথা উপলব্ধি করে নড়েচড়ে বসল শান্তনু।
“পাকড়াশীরা বাইরে জানতাম। ভাগ্যিস আপনাকে দেখলাম। তাই মনে হল এখান অন্তত আশ্রয় পাব।”
“হ্যাঁ, সেটা বলতে পারেন ঠিকই। আপনি যখন বাড়ি ফিরতে চাচ্ছেন না… তার যুক্তিযুক্ত কারণও আছে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে আপনার জামাকাপড় কিছু নেই। বুঝতে পারছি না ঠিক কীভাবে তার বন্দোবস্ত করা যাবে।”
“আপনাকে বিপদে ফেলতে চাই না,” একটু আহত স্বরে দেবযানী বলল।
“না, না, বিপদ কিছু নয়। ব্যাপারটা হচ্ছে আপনার পরার মতো কিছুই নেই। একজন মহিলাকে অবশ্য আমি চিনি এখানে। কিন্তু তাঁকে বোধ হয় কিছু না জানানোই ভালো। একটা নোংরা কিছু খাড়া করবেন এই ঘটনা থেকে।”
“কেন?”
“একটু সন্দেহবাতিক আছে মহিলার… মানে শুনেছি।”
“কেউই বোধ হয় বিশ্বাস করবে না ব্যাপারটা।” দেবযানী চিন্তিত স্বরে বলল।
“তবে আমি অবশ্য একটা চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু মনে হয় ফল তাতে উলটোই হবে। আরও ঘোঁট পাকিয়ে যাবে সবকিছু।”
“না হয় নাই বিশ্বাস করলেন উনি, কী এসে যাবে তাতে?”
“খুব ভীষণভাবে এসে যাবে, চট করে আপনাকে বলে উঠতে পারব না। মোট কথা এই ভদ্রমহিলাকে ঘাঁটানো মোটেই উচিত হবে না।”
“ও, বুঝতে পেরেছি!” দেবযানী কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। তারপর হঠাৎ সোফা থেকে এক লাফে উঠে পড়ল। “আপনাকে বিপদে ফেলতে চাই না, আমি যাচ্ছি।”
“খেপেছেন!” শান্তনুও উঠে পড়ল, “এই রাত্রে মোটেও আপনাকে কোথাও যেতে দেওয়া যাবে না। বসুন, প্লিজ বসুন।”
যত ক্ষতিই হোক না কেন, এই রাতে দেবযানীকে একা বাইরে ছেড়ে দেবে এত কাপুরুষ সে নয়।
“আসলে আপনি যা ভাবছেন, তা নয়,” দেবযানী বসলে শান্তনু বলল, “মহিলাটির সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।”
দেবযানী চুপ।
“ওঁর ছোট বোনের সঙ্গে আমার বিয়ের সম্বন্ধ হচ্ছে। মহিলাটির সবকিছুতেই দারুণ সন্দেহ। এই যে আপনি রাত্রে এখানে একা এসেছেন, আমি তো প্রথমে ভেবেছিলাম উনি আপনাকে দিয়ে আমার চরিত্র-পরীক্ষা করছেন।…”
“আমি এসেছি আপনার চরিত্র-পরীক্ষা করতে?” দেবযানী একটু ক্ষুব্ধ স্বরে বলল, “এটাই ভাবছিলেন?”
“আরে না, সেটা তো প্রথম দিকে… আসলে এই যে আপনি আর আমি এত রাত্রে বাড়িতে একা দুজনে রয়েছি, আমার পাজামা-পাঞ্জাবি আপনি পরে আছেন... যদিও ব্যাপারটা সম্পূর্ণ নির্দোষ, ওঁর পক্ষে সেটা মানা… মানে… খুব আজেবাজে একটা কিছু… মরুক গে যাক।” এই ঘোরতর গোলমেলে বিষয় নিয়ে শান্তনু আর আলোচনায় যেতে চাইল না।
দেবযানী কী একটু ভাবল। তারপর বলল, “মনে হয় কালকে আমি আমার জামাকাপড় নিয়ে আসতে পারব। তারপর কলকাতা যাব, সেখানে কয়েকজন অন্তত বন্ধু আছে। দু-সপ্তাহ বাদে কলেজের হস্টেল খুললেই সেখানে চলে যাব।”
“বন্ধু এখানেও আপনার আছে,” শান্তনু মৃদু স্বরে কথাটা বলল।
“জানি,” একটা ম্লান হাসির আভাস দেবযানীর ঠোঁটে। “কিন্তু আপনার পক্ষেও সম্ভব অসম্ভব আছে, কিছুটা তো আমি বুঝি। কাল ভোর হলেই আমি চলে যাব। আর জানেন তো আমি কারও ডিপেন্ডেন্ট নই। আমার নিজের বাবা আমার জন্য টাকা রেখে গেছেন। প্লেনটি অফ মানি! সিংজিকেও আমি খুব ভালোবাসতাম, বাট দিস ইজ ইট। ও এখন বদ্ধ পাগল!”
“আপনার নিজের বাবার কেউ কলকাতায় নেই?”
“না, হি ওয়াজ অ্যান অরফ্যান।”
“ও, সরি।”
ভবিষ্যৎ বিদায়বেদনায় নিঃশব্দে কিছুক্ষণ বসে রইল দুজন। নীরবতাটা শান্তনুই ভাঙল, “এখানে আমার সঙ্গে একা আছেন জানলে সিংজি কী ভাববেন?”
“জানি না,” ঠোঁট ওলটাল দেবযানী, “আগে কখনও এভাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসিনি।”
“মনে হয় সিংজি আপনার ফেরার জন্য অপেক্ষা করছেন। ভাবছেন এসে ক্ষমা চাইবেন।”
“ইটার্নিটি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ওকে।” স্বরটা আবার কঠোর হল দেবযানীর।
“আমার বোধ হয় সিংজির সঙ্গে একবার কথা বলা উচিত। আপনি এ বাড়িতে এসেছেন, সব জেনেশুনে আপনাদের গোলমালটা মেটাবার চেষ্টা করছি না, এটা ভালো দেখায় না।”
“তা আপনি যা ভালো বুঝবেন, করুন।”
“আপনি আসবেন না?”
“আমি তো বলেইছি, আমি আর ফিরব না। তা ছাড়া আমার ঘুম পেয়েছে।” ছোট্টমতো একটা মিষ্টি হাই তুলল দেবযানী।
“এলে বোধ হয় ভালো হত।”
দেবযানী উত্তর করল না।
“আমাকেই তাহলে যেতে হবে একা একা,” গলার স্বরে একটা অসহায় বিরক্তির ভাব এনে শান্তনু সুটকেস থেকে বার করা কোলাপুরি চপ্পলে পা গলাল।
দেবযানী উঠে এসে শান্তনুর খুব কাছে এসে দাঁড়াল। “রাগ করলেন? প্লিজ রাগ করবেন না। আমার ভাগ্য আপনি এখানে এসেছিলেন।” শান্তনু কিছু বলার আগেই তরতর করে দোতলায় উঠে গেল দেবযানী।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন