দক্ষিণের জানলা

কৌশিক কারক, আকাশ চন্দ, উৎস ভট্টাচার্য

আকাশটা কালো করে আছে আজ সকাল থেকেই। গুমোট ভাবটাও এখন বেশ কষ্টদায়ক। বাতাসও একেবারে বন্ধ। একেবারে হাঁসফাঁস করছে অমিত।

মা সকালে উঠিয়ে দিয়েছে অমিতের কথামতোই।

তবে বলেওছে—

''খোকা, আজ কি না গেলেই নয়?''

—না, মা। এই সপ্তাহটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেককটা মিট আছে। যেতে হবেই।

অমিতের গতবছর পদোন্নতির সাথে সাথে দায়িত্ব বেড়েছে অনেকটা। জোনাল হেড হিসাবে মেদিনীপুর, হুগলি, বর্ধমান এবং নদিয়া জেলার বিরাট অঞ্চল ওকে এখন দৌড়োতে হয়। আজ স্টারকেমকো কোম্পানীর যা সুনাম তার পিছনে অমিতেরই সিংহভাগ কৃতিত্ব।

আরামবাগে একটা ঘর ভাড়া নিয়েছে অমিত। সাবঅর্ডিনেট ধীরাজই ব্যবস্থা করে দিয়েছে সব। ওখান থেকেই ঘাটাল, চন্দ্রোকোণা, ক্ষীরপাই সহ বর্ধমানের ও একটা বড়ো অংশ কভার করা বেশ সহজ হবে অমিতের পক্ষে। নদিয়াও বেশি দূর নয়।

সমুদ্রগড়—এ কাজ সারতে সারতেই বৃষ্টিটা শুরু হলো। তবে জোরে নয় আস্তে আস্তে।

কালনায় কাজ করার সময়ই দেখা যাচ্ছিলো আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছে।

আরামবাগ বাসস্ট্যান্ডে যখন পৌঁছানো গেল তখন প্রায় পাঁচটা। তবে বৃষ্টিটা ধরেছে এখন।

—ধীরাজ, আমি পাঁচটা নাগাদ পৌঁছাবো বাসস্ট্যান্ডে। তুমি থেকো। ফোনে বলছিলো অমিত।

—স্যার, আমি পৌঁছে গেছি। এখন এখানেই আছি।

উত্তর দিলো ধীরাজ।

ধীরাজই বাড়িটার ব্যবস্থা করেছে। অমিতকে এখন আগামী তিনমাস থেকেই কাজ চালাতে হবে। কালও সারাদিন আরামবাগ পরশু দুপুরে ঘাটাল। এরকমই প্ল্যান হয়ে আছে ধীরাজের সাথে।

ধীরাজকে একবার মনে করিয়ে দিলো অমিত।

—চলো ধীরাজ, গরম সিঙারা ভাজছে খাওয়া যাক।

অমিত আর ধীরাজ সিঙারা আর রসগোল্লা খেলো। রসগোল্লাগুলো সত্যি দারুণ। ফেরার দিন বাড়ির জন্য নিয়ে যাবে। মা খুব খেতে ভালোবাসেন রসগোল্লা।

চা খেয়ে হাঁটতে শুরু করলো দুজন। বাসস্ট্যান্ডের সামনে ভেজা অমলতাস গাছটা জলে ভিজে যৌবনবতী নারীর মতো লাগছে। যৌবন যেন চুঁইয়ে পড়ছে সারা গা থেকে।

অনেকদিন পর অমলতাস দেখলো অমিত। বাবার চাকরিসূত্রে ধানবাদে যখন থাকতো তখন কোয়ার্টারের সামনে একটা অমলতাস গাছ ছিলো। কতদিন পর অমলতাস আবার দেখলো অমিত।

স্ট্যান্ড থেকে রিক্সা নিয়ে ধীরাজের নির্দেশিত পথে এবার যাত্রা।

শহর ছাড়িয়ে নির্জনতাটা বেশ উপলব্ধি করছিলো অমিত। ঝড়, বৃষ্টির পর বাইরেটা বেশ ঠান্ডা। মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। ''আমরা কজন'' বলে একটা ক্লাব পেরিয়ে বাঁদিকে একটা গলি। অনেকটা ফাঁকা প্লট। শেষ প্রান্তে একটা বাড়ির আগে রিক্সাটা দাঁড়াতে বললো ধীরাজ।

ভাড়া মিটিয়ে অমিত জিজ্ঞেস করলো। ''কোন বাড়িটা ধীরাজ?''

—স্যার, ঐ হলুদ বাড়িটার আগের বাড়ি।

শেষ প্রান্তের হলুদ বাড়িটার আগের সাদা দোতলা বাড়িটাই অমিতের থাকার জন্য ঠিক করেছে ধীরাজ। ওটাই পিনাকীবাবুর বাড়ি।

* * *

কলিংবেলটা বাজাতেই দরজা খুললেন এক সৌম্যদর্শন বৃদ্ধ।

''স্যার, ইনিই বাড়ির মালিক পিনাকীবাবু। এখানকার হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। ইনি নীচের তলায় থাকেন। উপরটা আপনাকে ভাড়া দিচ্ছেন। উপরে বারান্দা, শোবার ঘর, ডাইনিং, এটাচড বাথরুম সব আছে।''

বড্ড বকবক করে ধীরাজ। ভাবছিলো অমিত। আরে সারাদিনই তো বাইরে বাইরে ঘুরে ঘুরে কেটে যাবে শুধু রাত্রিটা শোওয়ার জন্য বাড়ি নেওয়া।

—ধীরাজ, ঠিক আছে তুমি যাও। কাল সকাল নটায় চলে এসো। কালকে সারাদিন প্রোগ্রাম। দুপুরে হোটেলে খেয়ে নেবো। বললো অমিত।

পিনাকীবাবু অমিতকে নিয়ে বাড়ির ভিতর ঢুকলেন।

ছিমছাম রুচিশীল বাড়ি। আধিক্য নেই অথচ রুচিশীলতার ছাপ সর্বত্র।

—বসুন, একটু চা খান। তারপর আপনাকে উপরে নিয়ে যাচ্ছি। ততক্ষণ বাইরের ঘরে বসি। বললেন পিনাকীবাবু।

পিনাকী বাবুর স্ত্রী বিয়োগ হয়েছে তিনবছর আগে। ভুল চিকিৎসায়। ডাক্তার বাবুরা সঠিক রোগ ধরতে পারেননি। গল্প করছিলেন পিনাকীবাবু চা খেতে খেতে। একমাত্র ছেলে ডাক্তারি পড়ছে। এখন দ্বিতীয় বর্ষে। অমিতের সব কথা জিজ্ঞেস করলেন একে একে। বাড়িতে কে কে থাকেন, কোথায় বাড়ি এইসব।

লোকটা অত্যন্ত মিশুকে গল্প করতে ভালোবাসে। প্রথম দর্শনে অন্ততঃ অমিতের তাই মনে হচ্ছে।

চা খাওয়ার পর দোতলার ঘর দেখাতে নিয়ে গেলেন পিনাকীবাবু। নীচের মতোই উপরেও দুটো ঘর। গ্রীল আর কাঁচ দিয়ে ঘেরা বারান্দা, এটাচড বাথরুম, ডাইনিং কাম লিভিং রুম। রুমে প্রকান্ড একটা টিভি।

নীচের ঘরের মতোই একই কালারের পর্দা জানলায়।

বেশ পরিষ্কার—পরিচ্ছন্ন। বোঝাই যায় না গৃহকত্রী নেই।

নয় পিনাকীবাবু খুব ছিমছাম, নিজের হাতে করেন সব পরিষ্কার নয়তো কাজের লোক রেখেছেন ভালো।

সেক্ষেত্রে কাজের লোকটা বেশ কর্মঠ। নীচে অবশ্য শ্যামলা এক যুবতীকে দেখেছিলো অমিত একঝলক। চা এনে দিয়েছিলো যুবতীটি। দেখতে বেশ সুশ্রী।

এই তবে কাজের লোক?

না, অন্য কিছুর গন্ধ আছে? পিনাকীবাবু কি পরকীয়া করেন বলে নির্জন জায়গায় বাড়ি করেছেন।

এসব ভাবছিলো অমিত আপন মনে।

ধ্যুস!

যত সব আজে বাজে চিন্তা।

—আপনার এই ঘরটা। বাইরে ছাদের দরজা খুলে ছাদ ব্যবহার করতে পারেন। তবে ছাদের দরজা রাত্রে যেন বন্ধ করে শোবেন। চোর ডাকাত ঢুকতে পারে। আর জলের বোতলে জল ভরা আছে যদি লাগে রাত্রে জল, তাহলে সিঁড়ি দিয়ে নেমেই জলের ফিল্টার রয়েছে জল ভরে নেবেন।

সকাল আটটায় জলখাবার পাবেন আর চা। দুপুরে খাবার তো ধীরাজ বলেছে আপনি বাইরে খেয়ে নেবেন। তাই জিজ্ঞেস করছি রাত্রে কি খাবেন রুটি না ভাত? আর মুরগি, মাছ, ডিম সব চলে তো?

শ্যামলী মানে ঐ রান্নার মেয়েটি রান্না করছে তো তাই বলে দেবো।

অমিত হাসলো।

—আমি সর্বভুক। খাওয়ার আমার বাছবিচার নেই।

পিনাকীবাবু হাসলেন।

শোয়ার ঘরে ব্যাগ রাখলো অমিত।

হঠাৎ পিনাকী বাবু বললেন আস্তে আস্তে কেটে কেটে ''আপনাকে একটা কথা বলে দিই। রাত্রে ঘরে ড্রিঙ্কস করলে সাবধান। চুপিচুপি করবেন। ধূমপান করলে পেছনের বাগানের দিকটাতে গিয়ে করবেন। ঘরে যেন চিৎকার চেঁচামেচি না হয়। আর ঘরটা পরিষ্কার রাখবেন।

ও হ্যাঁ, একটা সাবধানবার্তা আছে কোনও অবস্থাতেই আপনার শোয়ার ঘরের দক্ষিণের জানলাটা খুলবেন না। ওটা দড়ি দিয়ে বাঁধাও আছে। খুলবেন না। এটা আমার নির্দেশ। কারণ জিজ্ঞেস করবেন না। তবে এটুকু জানুন ওই জানলা খুললে অনর্থ হবে।''

পিনাকীবাবুকে বেশ উত্তেজিত লাগছিলো।

পিনাকী বাবু নীচে চলে গেলেন।

অমিতের বেশ অবাক লাগছে।

শেষে কি বক্তব্য রাখলেন পিনাকীবাবু?

গভীর রহস্য মনে হচ্ছে!

দক্ষিণের জানলার পাশেই তো শেষ বাড়িটা হলুদ রঙের।

বাড়িটা আসার সময়ে দেখেছে অমিত।

তবে কি ঐ বাড়িতে কিছু আছে?

আজকে সারাদিন পরিশ্রম হয়েছে। শ্যামলীর হাতের রান্না বেশ ভালো। তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে অমিত বারান্দায় গিয়ে জানলাটা খুলে দিলো।

একটা সিগারেট ধরালো অমিত। বাগানের দিকে সিগারেটের শেষটা ছুঁড়ে দিলো অমিত।

আজ চাঁদের আলো বেশ উঠেছে। আকাশ পরিষ্কার তারা ঝলমল করছে। ব্যাঙের ডাক শুধু নির্জনতা ভঙ্গ করছে। বারান্দার কাঁচের জানলাটা বন্ধ করতে গিয়ে পেছনের হলুদ বাড়িটার দিকে নজর গেলো।

অন্ধকারে পুরো ভৌতিক হানাবাড়ির মতো বাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে। সামনের দিকটা জঙ্গলে ঢাকা মনে হচ্ছে।

একটাও আলো জ্বলছে না।

দক্ষিণের সেই পিনাকীবাবুর নির্দেশিত নিষিদ্ধ জানলার সোজাসুজি হলুদ বাড়িটার ঝোলা বারান্দা। একদম সোজাসুজি মনে হচ্ছে।

রহস্য মনে হয় ঐ দিকেই...কে জানে!

রাত্রে ঘুম হলো ভালোই। নতুন জায়গা কোনও অসুবিধা হলো না।

* * *

সকালে ব্রেকফাস্ট খেয়ে পিনাকীবাবুকে বলে নীচে নেমে এলো অমিত ব্যাগ নিয়ে।

ধীরাজ আসেনি এখনো।

না পিনাকীবাবু বর্ষীয়ান লোক। দেখে শুনে সিগারেট খেতে হবে। না! পিনাকীবাবুকে ধারে কাছে দেখা যাচ্ছে না। সিগারেট ধরালো অমিত। আস্তে আস্তে হলুদ বাড়িটার দিকে এগোলো অমিত।

এই বাড়িতেই মনে হয় রহস্য লুকিয়ে আছে।

ও বাবা!

এ বাড়ির সামনে তো তালা ঝুলছে। তাও আবার জং ধরা।

সামনের বাগানে পার্থেনিয়াম আর আরো অন্য আগাছায় ভরে গেছে। চারদিক শুধু আগাছাতে ভর্তি। একসময় কেয়ারী করা বাগান ছিলো মনে হয়। হ্যাঁ যা ভাবা গেছিলো তাই।

দক্ষিণের জানলার সোজাসুজি হলুদ বাড়িটার বারান্দা একদম পাশাপাশি। আচ্ছা হলুদ বাড়িটাতে তো কেউ থাকে না বলেই মনে হয়....

তাহলে দক্ষিণের জানলা খুললে অসুবিধা কোথায়?

''স্যার, স্যার। আমি এসে গেছি।''

ধীরাজের গলা শুনে ঐ দিকে দ্রুত পা চালালো অমিত। মোড়ের দোকানে চা খাওয়ার জন্য একটু বসলো।

এই দোকানদার তো পুরোনো লোক বলেই মনে হচ্ছে অমিতের। আচ্ছা ওনার কাছ থেকে হলুদ বাড়িটার সম্পর্কে কিছু জানলে কেমন হয়?

নাকি অযাচিত কৌতূহল দেখানো হবে?

ধীরাজ চা খেয়ে চলে যাওয়ার পর অমিত সিগারেট ধরালো একটা। দোকানদার একজন বয়স্ক লোক।

হঠাৎ গলা নামিয়ে লোকটি অমিতকে জিজ্ঞেস করলো.....

—দাদা, নতুন এসেছেন মনে হচ্ছে এ পাড়ায়....

কোথায় থাকেন?

অন্য সময় হলে এসব প্রশ্নে অমিত বিরক্ত হয় কিন্তু আজ এই লোকটা অমিতের কাছে তুরুপের তাস। জানতে হবে হলুদ বাড়িতে কারা থাকে? বন্ধ কেন বাড়িটা? কোথায় আছে বাড়ির বাসিন্দারা?

অমিত ধীরে ধীরে সব বললো তার চাকরি আর পিনাকীবাবুর বাড়িতে থাকার কথা।

দক্ষিণের জানলার কথাটা ইচ্ছে করেই বললো না লোকটিকে। তাহলে লোকটি সতর্ক হয়ে যেতে পারে।

অমিত হঠাৎ লোকটিকে জিজ্ঞেস করলো দোলাচলে দুলতে দুলতেই—আচ্ছা দাদা, পাড়ার শেষ প্রান্তে ঐ হলুদ বাড়িটা কার? ওটা বন্ধ রয়েছে মনে হয় অনেকদিন। নতুন বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে...কিছু জানেন নাকি?

লোকটি অবাক দৃষ্টিতে তাকালো অমিতের মুখের দিকে।

—ঐ বাড়িটা সামন্তবাবুদের ছিলো বুঝলেন। বাড়িতে দুটি প্রাণী সামন্তবাবু আর ওনার যুবতী স্ত্রী। জানেন একরাত্তিরে একটা দুর্ঘটনা সব ওলটপালট করে দিলো। সে এক বিরাট ঝামেলা, কেচ্ছা। বাবুদের বাড়ির ব্যাপার বুঝলেন না। সামন্তবাবু কোথায় চলে গেলেন বাড়ি সেই থেকে বন্ধ। আজ পাঁচ বছর হতে চললো।

অমিত বুঝতে পারছে বেশ উত্তেজনাকর কিছু অতীত ঘটনা আছে। বেশ রহস্যজনক ব্যাপার। জানতে হবে। সিগারেটটা ফেলে উঠে দাঁড়ালো।

ঘটনাটা কে বলবে তাকে?

পিনাকীবাবু রাশভারী। এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করা ভালো দেখায় না। তারপর দক্ষিণের জানলার ব্যাপারে নিজেই যখন নিষেধ আরোপ করেছেন। কাজেই তাকে জিজ্ঞেস করা সমীচীন নয়।

চায়ের দোকনদার বেশি কিছু বলবে না তাকে। অন্য পরিবারের কেচ্ছার ব্যাপার।

ধীরাজ না! তাকেও কিছু জিজ্ঞেস করতে পারবে না অমিত।

আচ্ছা জানার দরকার আছে? অযাচিত কৌতূহল ভালো নয়। কি দকার পরের বিষয়ের মাথা গলানোর? আসলে বন্ধ দক্ষিণের জানলাটা অমিতকে তীব্রভাবে টানছে।

পরের তিনদিন ঘাটাল আর আশেপাশে অনেক ঘোরাঘুরি হলো। কর্মক্লান্ত শরীর বিছানা চাইছিলো। রাত্রে কোনও ঘটনাও ঘটেনি।

শনিবার রাতে ওয়াশরুমে যাওয়ার পর বাইরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট খাওয়ার বাসনা হলো অমিতের। চারদিক নিস্তব্ধ। অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে একটা গন্ধ পাচ্ছিলো অমিত। আর হালকা একটা বাজনার শব্দ অমিত বেশ বুঝতে পারছিলো।

কোথা থেকে আসছে? চারদিক অন্ধকার। ঘড়ির কাঁটা জানান দিচ্ছে রাত দুটো আঠেরো।

নিশাচর পাখি একটা উড়ে গেল। কালো আকাশ তারায় ভরা। একটা সুরেলা গলা পাচ্ছে যেন অমিত। গানটা ভেসে আসছে আস্তে আস্তে। কোথা থেকে ভেসে আসছে এই গান তাও আবার এত রাত্রে? কে গাইবে?

সামন্তবাবুদের বাড়ির দিক থেকে আসছে বলেই মনে হচ্ছে।

সারা শরীরটা কেমন যেন শিরশির করে উঠলো অমিতের।

ঘরের দিকে দ্রুত পা চালালো।

উত্তেজনায় সারা রাত ঘুম আসছিলো না অমিতের।

না!

রহস্যর সমাধান তাকে করতেই হবে।

এমনি অমিত খুব সাহসী পরোপকারী। যৌবনে রক ক্লাইম্বিং, নেচার ক্যাম্প করা ছেলে। ইউনিভার্সিটি ব্লু। ফুটবল ক্রিকেট চুটিয়ে খেলেছে একসময়।

রবিবার সকালে পিনাকীবাবু একটা খবর দিলেন যেটা বেশ আনন্দের খবর অমিতের কাছে।

দুপুর নাগাদ পিনাকীবাবু যাবেন বর্ধমানে। আজ ফিরবেন না। ফিরবেন কাল সকালে। শ্যামলী আসবে রাত্রে রান্না করে দেবে....

পিনাকীবাবু বাড়ির দরজার একটা চাবির গোছা দিয়ে যাবেন অমিতকে।

অমিত তো হাতে স্বর্গ পেলো। পিনাকীবাবু বোধহয় ছেলের কাছে যাবেন আবার শ্বশুরবাড়িও পিনাকীবাবুর বর্ধমানে।

অমিত বললো ''না না কোনও ব্যাপার নয়। আপনি নিশ্চিন্তে যান। আপনি ফিরলে তবেই আমি কাল বের হবো। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। কোনও অসুবিধা হবে না।''

* * *

দুটো নাগাদ পিনাকীবাবু চলে গেছেন। আজকের খবরের কাগজ পড়তে গিয়ে অমিত বুঝলো ভিতরে ভিতরে তার একটা তীব্র উত্তেজনা হচ্ছে।

টিভিও দেখতে ভালো লাগছে না। একটাই চিন্তা। দক্ষিণের জানলা! ওপারে আছে কি?

চারটে নাগাদ শ্যামলী এলো। চা করে খাবার তৈরি করে চলে গেল।

নীচে পিনাকীবাবুর দুটো ঘরে তালা লাগানো। পিনাকীবাবুই দিয়ে গেছেন।

অমিতের কাছে সদরের কমন প্যাসেজ আর মেন দরজার চাবি আছে।

শ্যামলী চলে যেতেই অমিত দরজা খুলে নীচে নামলো। টর্চটা হাতে নিয়েছে। বলা যায় না লোডশেডিং হলে মুশকিল। গন্তব্য মোড়ের সেই চা—এর দোকান।

চা—এর দোকানে আজকে বেশ ভীড়। ছুটির দিন বলে বোধহয়। এত লোকের সামনে কাজ হবে না। দোকানদারও ব্যস্ত, আড্ডা মারার সময় নেই তারও।

কাজেই চা খেয়ে পয়সা দিয়ে অমিত বের হয়ে এলো দোকান থেকে। রাস্তার ধারের বাতিস্তম্ভগুলো একে একে জ্বলতে শুরু করেছে। একটা জোনাকি উড়ছে। অনেকদিন পর জোনাকি দেখলো অমিত।

হলুদ বাড়িটা এখন তাকে চুম্বকের মতো টানছে। বাড়ির সামনে এসে সিগারেটটা ধরালো অমিত। সেই সময়ই লোকটাকে দেখলো অমিত।

শতচ্ছিন্ন পোশাক, গোঁফ দাড়ির জঙ্গল মুখে, দীর্ঘ দেহ। গায়ের রঙ বোঝা যায় না আধো আলোতে। একদৃষ্টে লোকটা চেয়ে আছে সামন্তদের বাড়ির দিকে।

লোকটা পাগল নাকি?

হঠাৎ লোকটা এগিয়ে গেল সামন্তদের বাড়ির গেটের দিকে।

অমিত সরে গেল পোস্টের পেছনে।

দেখা যাক লোকটা কি করে? জানতে দিলে হবে না।

লোকটা বন্ধ গেটে তালা ঝাঁকাচ্ছে। রাগে গরগর গরগর করছে।

বিড়বিড় করে বলছে ''সব মরবে...মরবে সব।''

আস্তে আস্তে ফিরে আসছে লোকটা। শান্ত পায়ে। একরাশ থুতু ফেললো। হ্যাঁ আবার ফিরে যাচ্ছে লোকটা। অন্ধকারে টলতে টলতে মিশে যাচ্ছে তার ছায়া।

চাপা একটা অস্বস্তি হচ্ছে অমিতের?

কে এই লোকটা? কারা মরবে বলে অভিশম্পাত করছিলো? আটটা নাগাদ খেয়ে টিভি দেখতে বসলো অমিত।

ধ্যুস! একঘেয়ে খবর।

সিগারেটটা ধরিয়ে ছাদের দরজা খুলে ছাদে এসে দাঁড়ালো অমিত। আজ এই এত বড় বাড়িটা তার একার। অন্ততঃ আজকের রাতের জন্য। দক্ষিণের জানলা বন্ধ রাখতে হয় কেন? কি অনর্থ ঘটবে ওটা খুললে? ছাদের কার্নিশ থেকে মাথা ঝুঁকিয়ে তাকালো অমিত।

ঐ তো দেখা যাচ্ছে সামন্তদের বাড়িটা।

আচ্ছা!

বাড়িতে একটা হালকা আলো দেখা যাচ্ছে মনে হচ্ছে। বাড়ি তো তালাবন্ধ। তাহলে আলো জ্বাললো কে?

অমিতের মাথা কাজ করছে না।

দরজা বন্ধ করে আবার ব্যাক টু নিজের বেডরুম।

জানলাটা খুলতে একটু কসরত করতে হচ্ছে। অনেকদিন ধরে বন্ধ এ জানলা। ছিটকিনি ছাড়াও দড়ি দিয়ে বাঁধা।

আস্তে আস্তে দড়ির ফাঁস খোলার চেষ্টা করছে অমিত। উত্তেজনা হচ্ছে অমিতের। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম।

আসলে নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আকর্ষণ অমোঘ। জানালাটা খুলে ফেললো অমিত শেষপর্যন্ত।

একদম কয়েক হাত দূরেই জানলার সোজাসুজি হ্যাঁ অমিতের ধারণা ঠিকই, সামন্তবাবুদের বারান্দা।

অমিজ আজ ঠিক করলো জানলা খুলেই শোবে।

অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে সামন্তদের সেই হলুদ বাড়ি। বাইরে চন্দ্রালোকিত জ্যোৎস্না। ঝিঁঝি পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। চিরশান্তিতে ঘুমিয়ে আছে যেন বিশ্ব চরাচর।

ধ্যুস!

কোথাও কিছু নেই।

অমিত আস্তে আস্তে নিদ্রা দেবীর আরাধনায় ব্যস্ত হলো।

হঠাৎ মাঝরাতে ঘুমটা ভাঙলো।

একটা মৃদু গান ভেসে আসছে যেন দক্ষিণের খোলা জানলা দিয়ে।

অমিত আস্তে আস্তে এগিয়ে গেল জানলাটার দিকে।

বাইরে চাঁদের আলোয় চারদিক ভেসে যাচ্ছে।

অমিতের বিস্ফারিত দৃষ্টির সামনে বারান্দায় দাঁড়িয়ে এক যুবতী।

যুবতীকে দেখতে যথেষ্ট সুন্দর। একদিকে মাথাটা হেলিয়ে তাকিয়ে আছে অমিতের জানলার দিকে।

ইনি তাহলে গান গাইছিলেন?

হঠাৎ একটু চমকে উঠলো যুবতী। বারান্দায় পায়ের আওয়াজ হচ্ছে। অমিতও স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে এখান থেকে। একটা পুরুষ শরীর। দূব থেকে আবছা অবয়ব ভালো করে বোঝা যাচ্ছে না। এগিয়ে আসছে অতি দ্রুত পদক্ষেপে।

যুবতীটিও এগিয়ে গেল পুরুষের দিকে।

অমিত দেখতে পাচ্ছে খোলা বারান্দায় আলিঙ্গনাবদ্ধ সেই যুগলকে।

হ্যাঁ ভালোবাসার ক্ষরণস্বরূপ শব্দ, প্রতিশব্দও বেশ শুনতে পাচ্ছে অমিত।

হঠাৎ অমিত সেই পুরুষকে দ্রুত নিজেকে বন্ধনমুক্ত করতে দেখলো। যুবতীও নিজেকে ঠিক করে নিচ্ছে। পুরুষটি মনে হলো দ্রুত পদক্ষেপে নীচে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

নীচ থেকে তখন আর একটা ভারী পায়ের আওয়াজ আসছে। যুবতীটির মুখ দিয়ে যেন আর্ত চিৎকার বের হলো। নীচে যেন বেশ ধ্বস্তাধস্তির আওয়াজ আসছে। অমিত কি করবে। একটা আর্তচিৎকার যেন শুনতে পেলো অমিত। একি মেয়েটি তাকে দেখতে পেয়েছে মনে হচ্ছে। হাত নেড়ে তাকে ডাকছে?

না অমিত—এর সাহায্য চাইছে যুবতীটি।

তবে যুবতীটির বাড়ীতে কেউ ঢুকেছে অনাহুত?

অমিত আচ্ছন্নের মতো সব ভুলে টর্চ হাতে চাবি নিয়ে বের হলো। সদর দরজা খুলে পাশের বাড়ির দরজায় অমিত এসেছে।

না দরজা খোলা। তালা নেই তো লাগানো। আজ রাত্রিতে সামন্তদের হলুদ বাড়ি উন্মুক্ত। খোলা দরজা দিয়ে অমিত এগিয়ে গেল।

বাহ!

সুন্দর কেয়ারি করা বাগান। নাইটকুইনের গন্ধ ভেসে আসছে নাকে। ভেসে আসছে আরো অনেক নাম না জানা ফুলে মিষ্টি সুবাস।

সামনের সিঁড়ি দিয়ে মায়াময় একটা হলদে আলো যেন চুঁইয়ে পড়ছে বাগানে। সেই আলোর দিকে এগোতে থাকলো অমিত বহ্নি পতঙ্গের মতো।

হলুদ আলোটা যেন অমিতকে দিকনির্দেশ করছে।

অমিত সব ভুলে যাচ্ছে। স্থান, কাল, পাত্র সব কিছু। অমিত সিঁড়ি ভাঙতে থাকলো দ্রুত হলুদ আলোকে অনুসরণ করে। অদ্ভুত নৈঃশব্দ্য যেন গ্রাস করেছে বাড়িটাকে। হালকা একটা নীল আলো বাইরের বারান্দার ঘরে। একটা কেউ যেন শুয়ে আছে সেখানে।

অমিত ভুলেই গেছিলো টর্চ আছে হাতে। হলুদ আলোর পথ ধরেই এগোতে থাকলো অমিত।

আস্তে আস্তে টর্চ জ্বালিয়ে ঐ দিকে ফেললো অমিত।

যা দেখলো!

তা অমিতের মতো সাহসীরও মাথা ঘুরিয়ে দিলো। একটা পুরুষ শরীর। বিস্ফারিত দৃষ্টি ছাদের দিকে। একটা চোখ নেই দেহটার। বোধহয় কীটভোগ্য হয়েছে। বুকের মধ্যে যেন একটা গহ্বর। তা থেকে রক্তের ধারা নেমে শুকিয়ে কালো হয়ে আছে। দেহটা বেশ পুরোনো। সারা শরীরে গন্ধ ছড়াচ্ছে। মুখ ও কান—এর পাশ থেকে বের হয়ে আসছে মাংসভোজী কীটের দল। পূতিগন্ধময় ঘরটা। চারদিক অগোছালো।

অমিত ভয়ে পালাবে মনস্থ করলো। খুব হয়েছে। আর দরকার নেই। পালাতে গিয়ে অমিত বেশ বুঝতে পারছে তার পা আর চলছে না। আস্তে আস্তে অমিত বুঝলো সেই হলুদ আলোর নির্দেশিত পথ ছাড়া আর তার কোথাও যাওয়ার ক্ষমতা নেই।

অমিত আস্তে আস্তে মৃতশরীরের মতো দেহটাকে টানতে টানতে হলুদ আলোটার দিকে হাঁটতে থাকলো মন্ত্রমুগ্ধের মতো। সিঁড়িতে উঠতে উঠতেই আবার একটা বিশ্রী গন্ধ পেলো অমিত।

হলুদ আলোটা ধরে সে উঠে এসেছে সেই বারান্দায়।

বারান্দায় একটা ম্লান আলো জ্বলছে।

ঐ তো!

সেই যুবতী।

''এসেছেন। এত দেরি করে।''

অমিত বুঝতে পারছে না যুবতী কি বলছে।

অমিতের দিকে ফিরে খিলখিল করে হাসলো যুবতী। তখনই অমিত দেখলো হলুদ আলোটা আর নেই। চাঁদটাও যেন মেঘে ঢাকা।

''আসুন। দেখে যান। দেখবেন না।''

অদ্ভুত রিনরিনে গলায় বললো যুবতী।

বারান্দায় একটা দোলনা। সেই দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যুবতীটি।

অমিত প্রশ্ন করতে ভুলে যাচ্ছে নীচের ঘরের পুরোনো লাশটা কার?

যুবতীর হাসলো। সেই হাসি যেন ছড়িয়ে গেল অমিতের স্নায়ুতন্ত্রে এক মূর্চ্ছনা তুললো।

সেই সময়ই মেঘটা সরে গিয়ে গর্ভিনী চাঁদ হঠাৎ ফুটে উঠেছে আকাশে। সেই আলো এসে সরাসরি স্পর্শ করছে যুবতীর মুখ। অপূর্ব মুখশ্রী। একমাথা ঢেউ খেলানো কালো চুল।

যুবতীটি আস্তে আস্তে ফিরলো অমিতের দিকে।

অমিতের মুখ থেকে আর্তনাদ বের হয়ে এলো।

যুবতীর মুখের বাঁ পাশে কান অবদি বিরাট কালো এক গহ্বরের মতো ক্ষত। তাতে মাংস নেই শুধু হাড়। কালো শূন্যতার মাঝে যেন দাঁতগুলো পাশ থেকে চাঁদের আলোয় চিকচিক করছে।

যুবতী আবার হাসলো বেশ উচ্চৈচঃস্বরে।

''সবটা দেখে যাও। দেখবে না''

অমিত আর কিছু বুঝতে পারলো না। চোখে অন্ধকার নেমে এলো দ্রুত। আর কিছু মনে নেই অমিতের।

* * *

সকালে এলার্মের আওয়াজে ঘুম ভাঙলো অমিতের।

এ কি!

অমিত তো বিছানায় রয়েছে।

তবে কাল রাতের ঘটনা স্বপ্ন না বাস্তব?

সে তো ঐ বাড়িতে গিয়েছিলো রাত্রে। যুবতীর কথামতো।

তবে!

অমিত দেখলো দক্ষিণের জানলাটা খোলা। তাড়াতাড়ি বন্ধ করলো সে। আবার দড়ির ফাঁস দিয়ে দিলো আগের মতো। কাল অমিত তাহলে দক্ষিণের জানলা খুলেছিলো?

মাথাটা ঝিমঝিম করছে।

শ্যামলী আসবে। তার আসার সময় হলো। দরজা খুলতে নীচে নামলো অমিত। হ্যাঁ দরজা তো বন্ধই আছে। তাহলে কাল রাত্রে যা দেখেছে অমিত সেটা কি?

ধীরাজকে সব বলেছিলো অমিত। বলেছিলো খবর নিতে ধীরাজকে। সামন্তবাড়ির রহস্যটা অমিতকে জানতেই হবে।

ধীরাজ খবর সংগ্রহ করেছিলো অনেক কষ্টে।

অনিকেত সামন্ত বলে এক ব্যবসায়ী তার স্ত্রী পারমিতাকে নিয়ে এই বাড়ি করেছিলেন। এটাই এ পাড়ার প্রথম দিকের বাড়ি।

—বুঝলেন স্যার, অনিকেতবাবুর ব্যবসাটা সুবিধের ছিলো না। পারমিতাকে দেখতে ভালো ছিলো। আর অনিকেত তার যুবতী স্ত্রীকে ভালোবাসতেন। স্ত্রীর একাকীত্ব কাটানোর জন্য গানের মাস্টারমশাই রেখেছিলেন।

পারমিতা শুধু গানে নয় মাস্টারমশাই—এর প্রেমেও ভেসে গেল। যুবক মাস্টারমশাই অনিকেতবাবু না থাকার সময়ে বেশি করে গান করাতে আসেন। একদিন অনিকেত সামন্ত সব ধরে ফেললেন। অনিকেত এমনিতেই গুন্ডা প্রকৃতির তারপর তার অন্ধকার জগতের সঙ্গীদের কাছ থেকে খবর পেয়েছিলেন স্ত্রীর অভিসারের ব্যাপারে।

ব্যাস! একদিন ক্যাচ কট কট।

যুবক মাস্টারমশাই কুড়ুলের এক কোপে ইহলীলা সাঙ্গ করেন আর স্ত্রীর মুখে প্রথমে এসিড ছুঁড়ে মারেন বীর পুঙ্গব অনিকেত। তারপর পারমিতাকে গলা টিপে হত্যা করেন। মারার আগে কেন ও মুখটা নষ্ট করেছিলেন এ নিয়ে পুলিশের সন্দেহ, পারমিতার সুন্দর মুখটাকে প্রতিহিংসাবশতঃ শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন।

রাতে সব কাজ সমাধা করে অনিকেত সামন্ত বাড়ি তালা বন্ধ করে চম্পট দেন।

বেশ ক'দিন পর এক কাগজওয়ালা ওখানে কাগজ কুড়োতে গিয়ে বিশ্রি পচা গন্ধ পায়। তখন সামন্তদের বাড়ির আশেপাশে কোনও বাড়ি ছিলো না। সব ফাঁকা প্লট। কাজেই কেউ জানতে পারেনি। পুলিশ দরজার তালা ভেঙে ঢোকে ও বিকৃত গলিত দুটো দেহ উদ্ধার করে। দেহদুটোতে পোকা থিকথিক করছিলো। ভয়ংকর দৃশ্য।

অনিকেত সামন্ত আজও ফেরার। আজও পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি।

পারমিতারও তিন কুলে কেউ নেই আর গানের মাস্টার—এরও আত্মীয় স্বজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

আমার জেঠামশাই পুলিশে আছেন বলে আপনার জন্য এ খবর সংগ্রহ করেছি।

এবার অমিত সব বুঝছে। পিনাকীবাবুও দক্ষিণে জানলা খুলে তারই মতন কিছু অপার্থিব ঘটনা দেখেন।

অমিত যে পাগলটাকে দেখেছিলো আসলে সে কি অনিকেত সামন্ত?

সেই রহস্যময়ী যুবতীর অপূর্ণ ইচ্ছেই বা কী? তাকে ডেকেছিলো কেন?

অমিত কিভাবে সামন্তদের বাড়িতে গেছিলো সে রাত্রে? না কি ওটা স্বপ্ন ছিলো?

কে জানে এর উত্তর।

তবে অমিত পিনাকীবাবুর বাড়ি ছেড়ে দিয়েছিলো, কারণ অমিতের আবার জোন চেঞ্জ হয়ে গেছে। এবার কর্মস্থল উত্তরবঙ্গ।

তবে সেই দক্ষিণের জানলার ঘটনা অমিত আজও ভুলতে পারে না। নতুন বাড়ি ভাড়া নিলেই আগেই দেখে নেয় দক্ষিণ দিকে জানলা আছে কি না।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%