রাজপুত্র অজয়

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

যাত্রা আরম্ভ হয়। জগৎ নেই, কেউ নেই—শুধু অপু আছে, আর নীলমণি হাজরার যাত্রার দল আছে সামনে।

পালা দ্রুত এগোতে থাকে। কী সব সাজ ! কী সব চেহারা !

হঠাৎ পেছন থেকে কে বলে—খোকা, বেশ দেখতে পাচ্ছ তো? তার বাবা কখন এসে আসরে বসেছে অপু জানতে পারেনি। বাবার দিকে ফিরে বলে—বাবা, দিদি? এসেচে চিকের মধ্যে বুঝি?

মন্ত্রীর গুপ্ত-ষড়যন্ত্রে যখন রাজা রাজ্যচ্যুত হয়ে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে বনে চলেছেন, তখন কাঁদুনে-সুরে বেহালার সংগত হয়। তারপর রাজা করুণ রস বহুক্ষণ জমিয়ে রাখার জন্য স্ত্রী-পুত্রের হাত ধরে এক-এক পা থামেন, আর এক-এক পা এগুতে থাকেন—সত্যকার জগতে বনবাস-গমনোদ্যত কোনো রাজা নিতান্ত অপ্রকৃতিস্থ না হলে একদল লোকের সম্মুখে তেমন করে না। বিশ্বস্ত রাজ-সেনাপতি রাগে এমন কাঁপেন যে, মৃগী-রোগগ্রস্ত রোগীর পক্ষেও তা হিংসার বিষয় হওয়ার কথা।

অপু অপলক চোখে চেয়ে বসে থাকে, মুগ্ধ বিস্মিত হয়ে যায়। এমন তো সে কখনো দেখেনি!

তারপর কোথায় চলে গেছেন রাজা, কোথায় গিয়েছেন রানি! ঘন নিবিড় বনে শুধু রাজপুত্র অজয় ও রাজকুমারী ইন্দুলেখা—ভাই-বোন ঘুরে বেড়ায়। কেউ নেই যে তাদের মুখের দিকে চায়, কেউ নেই যে নির্জন বনে তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলে। ছোটো ভাইয়ের জন্য ফল আনতে একটু দূরে চলে গিয়ে ইন্দুলেখা আর ফেরে না। অজয় বনের মধ্যে বোনকে খুঁজে বেড়ায়। তারপর নদীর ধারে হঠাৎ খুঁজে পায় ইন্দুলেখার মৃতদেহ—খিদের তাড়নায় বিষফল খেয়ে সে মরে গেছে ! অজয়ের করুণ গান—'কোথা ছেড়ে গেলি এ বন কান্তারে প্রাণপ্রিয় প্রাণসাথিরে'—শুনে অপু এতক্ষণ অপলক চোখে চেয়েছিল আর থাকতে পারে না—ফুঁপিয়ে কাঁদে।…

কলিঙ্গরাজের সঙ্গে বিচিত্রকেতুর যুদ্ধে তলোয়ার-খেলা কী ভীষণ ! ... যায়, বুঝি ঝাড়গুলো গুঁড়ো হয়, নয়তো কোনো হতভাগ্য দর্শকের চোখ-দুটি বুঝি বিঁধে যায়। রব ওঠে—ঝাড় সামলে—ঝাড় সামলে! কিন্তু অদ্ভুত যুদ্ধ-কৌশল, সব বাঁচিয়ে চলে। ধন্য বিচিত্রকেতু!

মধ্যে অনেকক্ষণ ধরে জুড়ির দীর্ঘ গান ও বেহালার কসরতের সময় অপুকে তার বাবা ডেকে বলে—ঘুম পাচ্চে, বাড়ি যাবে খোকা? …ঘুম ! সর্বনাশ ! …না, সে বাড়ি যাবে না ! বাইরে ডেকে তার বাবা বলে—এই দুটো পয়সা রাখো বাবা, কিছু কিনে খেয়ো, আম বাড়ি গেলাম।

অপুর ইচ্ছা সে এক পয়সার পান কিনে খায়। পানের দোকানের কাছে কীসের খুব ভিড় দেখে অগিয়ে এসে দেখে, অবাক কাণ্ড ! সেনাপতি বিচিত্রকেতু হাতিয়ারবন্দ অবস্থায় সিগারেট কিনে সোঁ-সোঁ টানছেন—তাঁকে ঘিরে রথযাত্রার ভিড়! আশ্চর্যের ওপর আশ্চর্য ! রাজকুমার অজয় কোথা থেকে এসে বিচিত্রকেতুর কনুইয়ে হাত দিয়ে বলল—এক পয়সার পান খাওয়াও না কিশোরীদা ! রাজপুত্রের প্রতি সেনাপতির বিশ্বস্ততার কোনো নিদর্শন দেখা গেল না, হাত ঝাড়া দিয়ে বলল—যাঃ, অত পয়সা নেই, ওবেলা সাবানখানা যে দুজনে মাখলে, আমায় কী বলেছিলে? রাজপুত্র আবার বলল—খাওয়াও না কিশোরীদা ! আমি বুঝি কখনো কিছু দিইনি তোমাকে? বিচিত্রকেতু হাত ছাড়িয়ে চলে গেল।

অপুরই সমবয়সি হবে। টুকটুকে, বেশ দেখতে, গানের গলা বড়ো সুন্দর। অপূ মুগ্ধ হয়ে তার দিকে চেয়ে থাকে—বড়ো ইচ্ছা হয় আলাপ করতে ! হঠাৎ সে কীসের টানে সাহসী হয়ে এগিয়ে যায়, একটু লজ্জার সঙ্গে বলে—পান খাবে? অজয় একটু অবাক হয়, বলে—তুমি খাওয়াবে? নিয়ে এসো না! দুজনে ভাব হয়ে যায়। ভাব বললে ভুল হয়। অপু মুগ্ধ, অভিভূত হয়ে যায়! একেই সে এতদিন মনে-মনে চেয়ে এসেছে—এই রাজপুত্র অজয়কে! তার মায়ের শত রূপকথার কাহিনির ভেতর দিয়ে, শৈশবের শত স্বপ্নময়ী মুগ্ধ কল্পনার ঘোরে তার প্রাণ একেই চেয়েছে—এই চোখ, এই মুখ, এই গলার স্বর। ঠিক সে যা চায় তাই! অজয় জিজ্ঞাসা করে—তোমাদের বাড়ি কোথায় ভাই? আমাকে একজনদের বাড়ি খেতে দিয়েছে, বড্ড বেলায় খেতে দেয়। তোমাদের বাড়িতে খায় কে?

খুশিতে অপুর সারা গা রোমাঞ্চিত হয়ে উঠে, সে বলে—ভাই, আমাদের বাড়িতে একজন খেতে যায়, সে আজ দেখলাম ঢোলক বাজাছে, তুমি কাল থেকে যেয়ো, আমি এসে ডেকে নিয়ে যাব। ঢোলকওয়ালা না হয় তুমি যে বাড়িতে আগে খেতে, সেখানে খাবে।

খানিকক্ষণ দু-জনে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াবার পর অজয় বলে—আমি যাই ভাই, শেষ সিনে আমার গান আছে।

শেষ রাত্রে যাত্রা ভাঙলে অপু বাড়ি ফেরে। পথে আসতে-আসতে যে যেখানে কথা বলে, তার মনে হয় যাত্রার 'একটো' হচ্ছে। দিদি জেগে জিজ্ঞাসা করে—ও অপু, কেমন যাত্রা শুনলি? অপুর মনে হয়, গভীর জনশূন্য বনের মধ্যে রাজকুমারী ইন্দুলেখা কী বলে উঠল। কীসের যে ঘোর তাকে পেয়ে বসেছে ! মহাখুশির সঙ্গে সে বলে—অজয় যে সেজেছিল, মা, কাল থেকে সে আমাদের বাড়ি খেতে আসবে।

তার মা বলে—দু-জন খাবে নাকি? দু-জনকে কোত্থেকে—। অপু বলে—তা না, একজন চলে যাবে, শুধু অজয় খাবে। দুর্গা বললে—কেমন যাত্রা রে অপু? —এমন কখনো দেখিনি। কেমন গান কললে যখন সেই রাজকন্যে মরে গেল !

অপু তো রাত্রে ঘুমের ঘোরে চারদিকে যেন বেহালার সংগীত শোনে। একটু বেলায় তার ঘুম ভাঙে, শেষরাতে ঘুমিয়েছে, তা-ও তৃপ্তির সঙ্গে ঘুমোয়নি। সূর্যের তীক্ষ্ণ আলোয় চোখে যেন ছুঁচ বিঁধে, চোখে জল দিলে জ্বালা করে। কিন্তু তার কানে একটা বেহালা-ঢোল-মন্দিরার ঐকতান যেন তখনও বাজছে—তখনও যেন সে যাত্রার আসরেই বসে আছে !

ঘাটের পথে যেতে পাড়ার মেয়েরা কথা বলতে-বলতে যাচ্ছে, অপুর মনে হল—কেউ ধীরাবতী, কেউ কলিঙ্গ দেশের মহারানি, কেউ রাজপুত্র অজয়ের মা বসুমতী ! দিদির প্রতি কথায়, হাত-পা নাড়ার ভঙ্গিতে রাজকন্যা ইন্দুলেখা যেন মাখানো। কাল যে ইন্দুলেখা সেজেছিল তাহাকে মন্দ মানায়নি বটে, কিন্তু তার মনে-মনে রাজকন্যা ইন্দুলেখার যে প্রতিমা গড়ে উঠেছে, তা তার দিদিকে নিয়ে, ওই রকম রং, অমনি বড়ো-বড়ো চোখ, অমন সুন্দর চুল। দুপুর বেলা খাবার জন্য অপু গিয়ে অজয়কে ডেকে আনল। তার মা দু-জনকে এক জায়গায় খেতে দিয়ে অজয়ের পরিচয় নিতে বসল। সে ব্রাহ্মণের ছেলে, তার কেউ নেই, এক মাসি তাকে মানুষ করেছিল, সেও মরে গেছে। আজ বছর-খানেক যাত্রার দলে কাজ করছে। সর্বজয়ার ছেলেটির ওপর খুব স্নেহ হল—বার-বার জিজ্ঞেস করে তাকে খাওয়াল। খাওয়াবার উপকরণ বেশি কিছু নেই, তবু ছেলেটি খুব খুশির সঙ্গে খেল। তারপর দুর্গা মাকে চুপিচুপি বলল—মা, ওকে সেই কালকের গানটা গাইতে বলো না—সেই 'কোথা ছেড়ে গেলি এ বন-কান্তারে প্রাণপ্রিয় প্রাণসাথিরে'।

অজয় গলা ছেড়ে গানটি গাইল—অপু মুগ্ধ হয়ে গেল ! সর্বজয়ার চোখের পাতা ভিজে এল। আহা, এমন ছেলের মা নাই ! তার পর সে আরও গান গাইল ! সর্বজয়া বলল—বিকেলে মুড়ি ভাজব, তখন এসে অবিশ্যি করে মুড়ি খেয়ে যেয়ো—লজ্জা করো না যেন। যখন খুশি আসবে, আপনার বাড়ির মতো, বুঝলে?

অপু তাকে সঙ্গে করে নদীর দিকে বেড়াতে গেল ! সেখানে অজয় বলল—ভাই, তোমার গলা বড়ো মিষ্টি, একটা গান গাও না? অপুর খুব ইচ্ছা হল এর কাছে গান গেয়ে সে বাহাদুরি নেবে। কিন্তু বড়ো ভয় করে—এ একজন যাত্রাদলের ছেলে—এর কাছে তার গান গাওয়া ! নদীর ধারে বড়ো শিমুলগাছটার তলায় চলা-চলতির পথ থেকে কিছু দূরে বাঁশঝোপের আড়ালে দু-জনে বসে। অপু অনেক কষ্টে লজ্জা কাটিয়ে একটা গান ধরে—'শ্রীচরণে ভার একবার গা তোল হে অনন্ত'—দাশু রায়ের পাঁচালির গান, বাবার মুখে শুনে সে লিখে রেখেছিল। অজয় অবাক হয়ে যায়, বলে—তোমার এমন গলা ভাই ! তা তুমি গান শেখো না কেন? আর একটা গাও। অপু উৎসাহিত হয়ে আর একটা ধরে—'খেয়ার আশে বসেরে মন ডুবল বেলা খেয়ার ধারে'! তার দিদি কোথা থেকে শিখে এসে গাইত, সুরটা বড়ো ভালো লাগায় অপু তার কাছ থেকে শিখে নিয়েছিল, বাড়িতে কেউ না থাকলে মাঝে-মাঝে গানটা তারা দু-জনে গেয়ে থাকে।

গানটা শেষ হলে অজয় প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল। বলল—এমন গলা থাকলে যেকোনো দলে ঢুকলে পনেরো টাকা করে মাইনে সেধে দেবে বলচি তোমায়—এর ওপর যদি শেখো !

বাড়িতে কেউ না থাকলে দিদির সামনে গেয়ে অপু কতদিন জিজ্ঞেস করেছে—হ্যাঁ দিদি, আমার গলা আছে? গান হবে? দিদি তাকে বরাবর আশ্বাস দিয়ে এসেছে। কিন্তু সে-আশ্বাস যতই আশাপ্রদ হোক, আজ একজন খাস যাত্রা দলের নাম-করা মেডেলওয়ালা গায়কের মুখে এ প্রশংসার কথা শুনে আনন্দে অপু কী উত্তর দেবে ভেবে ঠিক করতে পারল না। বলল—তোমার ওই গানটা আমায় শেখাও না ভাই। তার পর দু-জনে গলা মিলিয়ে সেই গানটা গাইল।

অজয় অনেক মনের কথা বলে ফেলল। এমন সাথি তার আর জুটেনি। সে প্রায় চল্লিশ টাকা জমিয়েছে। আর একটু বড়ো হলে সে এ-দল ছেড়ে দেবে। অধিকারী বড়ো মারে। সে আশুতোষ পালের দলে যাবে—সেখানে বড়ো সুখ, রোজ রাত্রে লুচি। না খেলে তিন আনা পয়সা খোরাকি দেয়। এ-দল ছাড়লে সে আবার অপুদের বাড়ি আসবে আর সে-সময়ে কিছুদিন থাকবে।

বিকালের কিছু আগে অজয় বলল—চলো ভাই, আজ আবার এখুনি আসর হবে, সকাল-সকাল ফিরি। যদি 'পরশুরামের দর্প-সংহার' হয়, তবে আমি নিয়তি সাজব, দেখো কেমন একটা সুন্দর গান আছে !…

আরও তিন দিন যাত্রা হল। গ্রামসুদ্ধ লোকের মুখে যাত্রা ছাড়া আর কথা নেই। পথে-ঘাটে-মাঠে, গাঁয়ের মাঝি নৌকা বাইতে-বাইতে, রাখাল গোরু চরাতে-চরাতে যাত্রার পালার নতুন-শেখা গান গায়। গ্রামের মেয়েরা দলের ছেলেদের বাড়ি ডাকিয়ে, যার যে গান ভালো লেগেছে তার মুখে সে-গান ফরমাস করে শুনতে লাগলেন।

অপু আরও তিন-চারটি নতুন গান শিখে ফেলল। একদিন সে যাত্রাদলের বাসায় অজয়ের সঙ্গে গিয়েছে, সেখানে তাকে দলের সকলে মিলে ধরল—একটা গান গাইতে হবে। সেখানে সকলে অজয়ের মুখে শুনেছে সে খুব ভালো গান গাইতে পারে। অপু বহু সাধ্যসাধনার পর নিজের বিদ্যা ভালো করে জাহির করার খাতিরে একটা গেয়ে ফেলল। সকলে তাকে ধরে অধিকারীর কাছে নিয়ে গেল। সেখানেও তাকে একটা গাইতে হল। অধিকারী কালো রঙের ভুঁড়িওয়ালা লোক, আসরে জুড়ি সেজে গান করে। গান শুনে বলল, এসো না খোকা, দলে আসবে? অপুর বুকখানা আনন্দে গর্বে দশহাত হল। আরও সকলে মিলে তাকে ধরে—এসো, চলো, তোমাকে আমাদের দলে নিয়ে যাই। অপুর তো ইচ্ছা সে এখনি যায়। যাত্রাদলে কাজ করা যে মনুষ্যজীবনের চরম উদ্দেশ্য, সেকথা এতদিন সে কেন জানত না, এটাই তো আশ্চর্যের বিষয়। সে গোপনে অজয়কে বলল—আচ্ছা ভাই, এখন যদি আমি দলে যাই, আমাকে কী সাজতে দেবে? অজয় বলল—এখন এই সখীটখি, কি বালকের পার্ট এই রকম, তারপর ভালো করে শিখলে—

i23

..গান শুনে বলল, এসো না খোকা, দলে আসবে

অপু সখী সাজতে চায় না, জরির মুকুট মাথায় সে সেনাপতি সেজে তলোয়ার ঝোলাবে, যুদ্ধ করবে। বড়ো হলে সে যাত্রার দলে যাবেই, এটাই তার জীবনের ধ্রুব লক্ষ্য।

দিন-পাঁচেক পরে যাত্রাদলের গাওনা শেষ হয়ে গেলে, তারা রওনা হল। অজয় বাড়ির ছেলের মতো যখন-তখন আসত যেত, এই কয়দিন সে যেন অপুরই আর এক ভাই হয়ে পড়েছিল। অপুরই বয়সি ছোটো ছেলে, সংসারে কেউ নেই শুনে সর্বজয়া তাকে এ ক-দিন অপুর মতো যত্ন করেছে। দুর্গাও তাহাকে আপন ভাইয়ের চোখে দেখেছে—তার কাছে গান শিখে নিয়েছে, কত গল্প শুনিয়েছে, তাদের পিসিমার কথা বলেছে, তিনজনে মিলে উঠানে বড়ো ঘর এঁকে গঙ্গা-যমুনা খেলেছে, খাবার সময় জোর করে বেশি খেতে বাধ্য করেছে। যাত্রা-দলে থাকে, কোথায় শোয়, কী খায়, কে কোথায় দেখে, তা বলবার কেউ নেই। যাবার সময় সে হঠাৎ পুঁটলি খুলে কষ্টে সঞ্চিত পাঁচটি টাকা বার করে সর্বজয়ার হাতে দিতে গেল। একটু লজ্জার সুরে বলল—এই পাঁচটা টাকা দিয়ে দিদির বিয়ের সময় একখানা ভালো কাপড়—

সর্বজয়া বলল—না বাবা না, তুমি মুখে বললে এই খুব হল, টাকা দিতে হবে না, তোমার এখন টাকার কত দরকার—বিয়ে-থা করে সংসারী হতে হবে। তবু সে কিছুতেই ছাড়ে না। অনেক বুঝিয়ে তবে তাহাকে নিরস্ত করতে হল।

সকলে বাড়ির দরজার সামনে খানিকটা পথ তাকে এগিয়ে দিতে এল। যাবার সময় সে বার-বার বলে গেল, দিদির বিয়ের সময় অবশ্য করে যেন তাহাকে পত্র দেওয়া হয়।

গাবতলার ছায়ায় তাহার সুকুমার বালকমূর্তি ভাঁটশ্যাওড়া ঝোপের আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেলে হঠাৎ সর্বজয়ার মনে হল, বড্ড ছেলেমানুষ। আহা, এই বয়সে বেরিয়েছে নিজের রোজগার নিজে করতে। অপুর আমার যদি…উঃ মাগো !

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%