সঞ্জীবকুমার দে

চুরির ঠেলায় একেবারে নাস্তানাবুদ হয়ে গেছে হেরম্বপুর থানা অঞ্চলের গ্রামবাসীরা। আর তাদের চেয়েও বেশি নাস্তানাবুদ হয়েছেন বা হচ্ছেন দিকপতি দারোগা। হেরম্বপুর থানার বড়োবাবু তিনি। মাত্র কয়েকমাস হল থানার দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন। এসেই সকলের টনক নাড়িয়ে দিয়েছেন। ধুরন্ধর চোর সনাতনকে পাকড়াও করে এনে তার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত অপরাধ জগৎকে কঠিন বার্তা দিয়ে রেখেছেন। বলা চলে, এর মধ্যেই তাঁর দাপটে বাঘে-গোরুতে এক ঘাটে জল খাচ্ছে, সাপে-নেউলে আপসে ঝগড়া মেটাচ্ছে। মোটামুটি সবকিছুই ঠিকঠাক, শান্তিপূর্ণ। অশান্তি শুধু ওইটুকুই—উত্তরোত্তর চুরি বৃদ্ধি।
ঠেকাতে কম ব্যবস্থা নেননি দিগম্বর দিকপতি। গ্রামে গ্রামে নৈশ পাহারার বন্দোবস্ত করেছেন প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে। বাছাই করা পুলিশের টিম নিয়ে স্বয়ং এ-গাঁয়ে ও-গাঁয়ে টহল দিয়ে ফিরছেন। চুরি হয়ে যাওয়া স্থানে গিয়ে তদন্ত করছেন নিজে। কিন্তু সমস্তই নিষ্ফল। চোর ধরাও পড়ে না আর চুরি বন্ধও হয় না।
এই কারণেই শান্তি নেই দিকপতি দারোগার মনে। সবসময় ভেতরে একটা ছটফটানি। একটা অপমানবোধ। আর তাই মেজাজ সকল সময়ই চড়ে আছে সপ্তমে।
ডাকসাইটে চোর সনাতনকে রাখা হয়েছে কড়া নজরদারিতে। সে ব্যতীত আরও যে চোর নেই হেরম্বপুরে, এ-কথা তো জোর দিয়ে বলা যায় না! তাছাড়া বামাল না ধরে শুধু সন্দেহের বশে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করার পক্ষপাতীও তিনি নন। আবার হেরম্বপুরের বাইরে থেকে যে-কেউ এসে চুরি করে যাচ্ছে না, এ-কথাও বলা যাচ্ছে না জোর দিয়ে।
এভাবে চলতে চলতে তিতিরিরক্ত হয়ে মেজোবাবুর পরামর্শে একদিন দিকপতি থানায় ডেকে পাঠালেন এলাকার চিহ্নিত সম্ভাব্য দুই চোরকে। যদুনাথ আর সনাতন। ভিন্ন ভিন্ন সময় এলেও দুজনের একই কথা—সে নয়, চুরি করছে অন্য কেউ।
সনাতন আবার তুখোড় তাঁর যুক্তির বুননে। —“আমারে তো একেবারে গেহবন্দি করি রাখিছেন বড়োবাবু! আমি চুরি করি কী করে?”
রাগ আয়ত্তে রেখে ঠান্ডা মাথায় বললেন দিকপতিও, “দ্যাখ সনাতন, যদুনাথও যে চুরি করছে এই ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। এমনও হতে পারে যে বাইরে থেকে কেউ এসে এই কাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে আর সন্দেহ জাগছে তোদের ওপর। হতে পারে তো?”
একটু সময় চুপ করে থেকে দিকপতি সত্যি বলছেন না ঠাট্টা করছেন, ভালো করে বুঝে নিল সনাতন। তারপর বলল, “হ বড়োবাবু, তাও হতি পারে।”
“তবে সেটা এখনই বন্ধ কর!”
“তা আমার দ্বারা কী করি সম্ভব?”
“তোরা চোরেদের ব্যাপার-স্যাপার সব বুঝিস। খবরাখবর রাখিস। ইচ্ছে হলেই ধরে দিতে পারিস ফট করে।”
“এটা কী কথা বললেন বড়োবাবু! আমি নিজে একটা চোর হয়ি অন্য
চোররে ধরি দেব? এটা হয় নাকি? অধম্ম হবে যে!”
হাসবেন, না কাঁদবেন দিকপতি! মনে মনে রাগছেন। তবুও সামলালেন নিজেকে। —“তবে নিজেদের ঘাড়েই দায় নিবি?”
“আর কে কী নেবে আমি তা বলতে পারব না এজ্ঞে, তবে খবরাখবর নে আপনাদের সাহায্য করতে পারি।”
“সেটাই করে দে!”
“তা হলি তো আমারে নজর ছাড়া করতি হবে বড়োবাবু! ঘুঙ্ঘুট সিংরে সারাক্ষণ আমার গায়ে গায়ে লেপটি রাখলি চলবে না।”
মন কু গাইল দিকপতির। ওরে সর্বনাশ! একে নজর ছাড়া করলে তো আরেক বিপদ!
বড়োবাবুকে নিরুত্তর দেখে আবার বলে সনাতন, “একটা কথা কন বড়োবাবু, আপনাদিগের খবর দেওয়ার লোক যারা, তাদের আপনারা চিনতে দেন? আমারে খবর দেওয়ার লোকদের আমি তবে চেনাই কেমনে?”
মেজোবাবু রজনী বটব্যাল অস্ফুটে কী যেন বলতেই দিকপতি রাজি হয়ে গেলেন সনাতনের কড়ারে। —“বেশ, তোকে নজরমুক্ত রেখে যদি প্রকৃত চোরের খোঁজ পাওয়া যায়, মন্দ কী?”
কিন্তু লাভ হল না তাতেও। চুরি বন্ধ হল না। কোনও খবরাখবর আনতে পারল না দুই চোরের কেউই। উলটে সনাতন রাতবিরেতে বুক চিতিয়ে বেরিয়ে পড়ল। আর এদিকে ‘বাইরের চোর’ ‘বাইরের চোর’ কথাটা চাউর হতেই পাশে দু-দিকের দুটি থানার সঙ্গে সম্পর্কও তিক্ত হয়ে গেল। ধূর্তডাঙার বড়োবাবু রতন দারোগার সঙ্গে দেখা হতে তো একদিন তর্কবিতর্কও হয়ে গেল।
সেইদিনই একদম মারমুখী মেজাজে থানায় ঢুকেই দিকপতি হুকুম করলেন, “দো চোট্টা কো আভি পাকড়কে লাও!”
একদিকে হাবিলদার ঘুঙ্ঘুট, আর একদিকে কনস্টেবল রতিকান্ত ছুটল হুকুম তামিল করতে।
বড়োবাবুর কণ্ঠে কীরকম যেন এক অশুভ ইঙ্গিত পেলেন মেজোবাবু রজনী বটব্যাল। ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “কী ব্যাপার স্যার?”
“ঠিক করেছি দুটোকেই আমাদের থানা এলাকা থেকে দূর করে দেব।” উত্তেজিত গলায় বলেন দিকপতি।
“সে কি!” আঁতকে উঠলেন মেজোবাবু, “না না, এ কাজও করবেন না স্যার! সর্বনাশ হয়ে যাবে!”
“সর্বনাশ!” আশ্চর্য হলেন বড়োবাবু, “কীসের সর্বনাশ?”
“চোর, বদমাশ সব তাড়িয়ে দিলে আমাদের কোনও গুরুত্ব থাকবে ভেবেছেন? এই যে আপনার এত খ্যাতি, এত খাতির—তা তো এদের ঢিট করে রাখার জন্যই, নাকি? এরা না থাকলে কেউ কি আমদের পুঁছত স্যার?”
কথাটা যুক্তিগ্রাহ্য মনে হল দিকপতির। তবুও বললেন, “কিন্তু এছাড়া যে কোনও উপায় দেখছি না!”
“তা অবিশ্যি ঠিক।” বললেন রজনী বটব্যাল, “তবে স্যার এক কাজ করুন, একজনকে রেখে দিন। আরেকজনকে তাড়াবার বন্দোবস্ত হোক। এতে আমাদের সুবিধাও থাকবে বেশি।”
“কীরকম?”
“তখন কোনও চুরির কিনারা করতে গেলে হাতের নাগালে থাকছে একজনই। তখন তো আর এখনকার মতো এ-ওর ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে আর আমাদের নাকাল করতে পারবে না।”
“ঠিক!” উচ্ছ্বাস দিগম্বর দিকপতির গলায়, “এ ব্যাপারটা তো মাথায় আসেনি!”
দুই চোর থানায় উপস্থিত হতে দিকপতি একজনকে পাততাড়ি গুটিয়ে দ্রুত হেরম্বপুর ত্যাগ করার আদেশ দিলেন।
যদুনাথ বলল, “বেশ, আমি তবে থাকতেছি। আপনি সনাতনরে চলি যেতে বলেন।”
“কী!” ফুঁসে উঠল সনাতন, “আমি চলি যাব, আর উনি থাকবেন! ক্যান হুজুর? আমি যদি অপরাধী হই, ও তবে কী? আমার শাস্তি হবে, ওর হবে নাই কেন? এ কেমন নিদান?”
কথা জোগাল না দিকপতির মুখে। একটু থমকে আমতা আমতা করে বললেন, “বেশ, তবে তুই থেকে যা। যদুনাথ বিদেয় হোক।”
“এ কেমনতর বিচার দারোগাবাবু!” প্রতিবাদ জানাল যদুনাথ, “এ তো আপনার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ!”
“চোপরাও বেয়াদপ!” রাগে ফেটে পড়লেন দিকপতি। তারপর নিজেই চুপ করে গেলেন কী যেন কী মনে করে। মুখ খুললেন মিনিট দুই পরে, “বেশ, তবে তোরা পরীক্ষা দে।”
বিস্ময় দুই চোরের মুখেই, “কীসের পরীক্ষা?”
“চুরির পরীক্ষা।” গম্ভীর গলা দিগম্বর দিকপতির, “দেখতে চাই চোর হিসাবে তোদের মধ্যে কে বেশি দয়ালু। যে বেশি দয়ালু, বুঝব সে-ই হচ্ছে কম ক্ষতিকর। সে-ই থাকবে আমার এলাকায়।”
“সত্যি!” উৎসাহিত দুই চোর-মহোদয়।
“হ্যাঁ, তাই। তবে আজ রাতে করা চুরির মধ্যেই দিতে হবে তোদের সেই পরীক্ষা। দেখে বুঝে আমি রায় দেব কাল। কাল রাতের দিকে থানায় আসবি তোরা। আর যা, এই পরীক্ষার জন্য আজ রাতের পাহারা আমি তুলে নিলাম।”
পরদিন সাতসকালেই থানায় দৌড়ে এল নিশিকুটুম্বপুর গাঁয়ের এক গরিব দিনমজুর আনোয়ার মল্লিক। —“হুজুর, আমারে বাঁচান হুজুর! আমি দীন-হীন মানুষ হুজুর, কারো সাতে-পাঁচে নাই।”
বিস্মিত হলেন দিকপতি। —“কী ব্যাপার!”
“রাতে ঘুমায় ছিলাম হুজুর, কিচ্ছুটি টের পাই নাই। ভোরে দোর খুলে দেখি এই সমস্ত বস্ত্র পড়ি রয়েছে দাওয়ায়! এ-সকল আমার জিনিস নয় হুজুর, নিশ্চয় আমারে বিপদে ফেলার জন্যি এই কাণ্ড কেউ করি গেছে।” ভয়ার্ত গলায় বলে যায় আনোয়ার মল্লিক।
নীচে ঝুঁকে বস্ত্রগুলো নাড়াচাড়া করে দেখলেন দিকপতি। একটা রঙিন বিলিতি কম্বল, দুটো সুতোর সূক্ষ্ম কাজ করা কাশ্মীরি শাল। নিশ্চয় কোনও অভিজাত বাড়ি থেকে চুরি করা। দয়ালু প্রমাণ করতেই চুরি করে ফেলে দিয়ে গেছে আনোয়ারের বাড়িতে।
“আল্লার কসম হুজুর, আমি এসবের কিছু জানি না।”
দিকপতি দারোগা কিন্তু জানেন। জানেন এসব কাদের কাজ। তাই মনে মনে তিনি না হেসে পারলেন না। আনোয়ারের সততায় মুগ্ধ হয়ে জোর করে বসিয়ে চা-বিস্কুট খাইয়ে রেহাই দিলেন তাকে।
বেলা দশটা নাগাদ থানায় এল এই সংক্রান্ত আরেকটি কেস। জুবিলা গ্রামের নবীন মণ্ডল এলেন ডায়েরি লেখাতে। তাঁর একমাত্র পুত্র গদাইয়ের বিয়েতে যৌতুক পাওয়া নতুন সাইকেলটি চুরি হয়ে গেছে গতরাতে।
দিকপতির কাছে সমস্তটাই জলের মতো পরিষ্কার। দুটো কেস, দুজনের কীর্তি। এ ছাড়া সারাদিনে আর কোনও চুরির কেস না আসায় এটাও পরিষ্কার যে এই দুজন ছাড়া এ-তল্লাটে চুরির কর্মে আর কোনও তৃতীয় ব্যক্তি নেই। তবে কিছুটা হেঁয়ালিও রইল বটে—শাল-কম্বল চুরির ডায়েরি না হওয়ায় আর সাইকেলের হদিস না মেলায়।
যাক গে। গা ঝাড়া দিয়ে উঠলেন দিকপতি। সন্ধের পর দুই কীর্তিমানকে তো থানায় আসতে বলেছেন। তখনই হয়ে যাবে সব নিষ্পত্তি।
***
কথামতো একটু রাতের দিকে থানায় এসে উপস্থিত দুই মূর্তি। প্রথমে যদুনাথ, তার মিনিট পনেরো পর সনাতন।
প্রথম কেসটির কৃতিত্ব দাবি করল যদুনাথ। —“এজ্ঞে হুজুর, ওটি আমারই কম্ম। নিশিকুটুম্বপুরের কুণ্ডুবাড়ি থিকে চুরি করে তা আমি দি এইছি গরিব আনোয়ার মল্লিকের দোরে।” গর্বের হাসি যদুনাথের মুখে। —“এখন বলেন হুজুর, আমি দয়ালু কি না?”
“দয়ালু হলেই তো হবে না বাপু, দুজনের মধ্যে বেশি দয়ালু হতে হবে যে!” মনে করিয়ে দিলেন দিগম্বর দিকপতি। —“নইলেই বিদায়।”
যদুনাথ চুপ করে থাকে।
“আচ্ছা বল তো, কুণ্ডুরা কেন ডায়েরি করতে এল না?” প্রশ্ন দিকপতির।
“এজ্ঞে কী যে বলেন হুজুর!” হাসে যদুনাথ। —“যাদের অত আছে, অঢেল আছে, তারা আসবেন একটা কম্বল আর দুটা শালের জন্যই নালিশ লেখাতে?”
এবার সনাতনকে নিয়ে পড়লেন দিকপতি। —“তবে সাইকেল চুরির কৃতিত্বটি কি তোমার, বাছাধন?”
হ্যাঁ, না, কিছু না বলে মাথা চুলকাতে শুরু করে সনাতন। তৎক্ষণাৎ যদুনাথের প্রশ্ন, “আপনি কোন সাইকেল চুরির কথা শুধাতেছেন বড়োবাবু? জুবিলার নবীন মণ্ডলের বাড়ির সাইকেল কি?”
“হ্যাঁ। কার কীর্তি?”
“সেটাও আমার।”
“তাই নাকি?” দিকপতি বিস্মিত। —“তা বেত্তান্তটা কী, একটু শোনাও তো দেখি!”
“গদাইয়ের মতো অমন একটা যমদূত মার্কা চেহারায় কি ওই সাইকেলটা মানায়, বলেন? তাই দিলাম রাতের বেলায় ধাঁ করি!”
“বেশ করেছ!” ব্যঙ্গের সুর দিকপতির কণ্ঠে, “কিন্তু এতে কি প্রমাণ হচ্ছে তুমিই বেশি দয়ালু?”
“নেশ্চয়! একেবারে নতুন সাইকেল। ওটা বেচতে গেলি তা অন্তত পাঁচশো টাকা তো পেতাম!”
“তা হয়তো পেতিস।”
“কিন্তু আমি তো তা করি নাই এজ্ঞে।”
“কী করেছ তবে এজ্ঞে?” দিকপতি বিকৃত স্বরে জানতে চান।
“ওই সাইকেল চড়লে যাঁরে মানায়, তাঁর দোরে দে এইছি!”
“তা কার দোরে? বল দেখি!”
“আপনি জানেননি?”
কিছু বুঝতে না পেরে দিকপতি না-সূচক মাথা নাড়েন।
“সে কি! সেটা তো ভোরের আলো ফোটার অনেক আগেই গে আপনার কোয়াটারের বারান্দায় রাখি দে এইছি! পান নাই?”
বিস্ময়ে হতবাক দিকপতি আবার না-সূচক মাথা দোলান।
অস্ফুটে বলে যদুনাথ, “তবে কি আবার সেটিরে কেউ ধাঁ করি নে গেল?”
দিকপতি এবার নজর দিলেন নির্লিপ্ত সনাতনের দিকে। —“এবার তোর চুরির কী মাহাত্ম্য তার বিবরণ দে।”
“আমি কোনও চুরিই করিনি এজ্ঞে।”
“কেন?” দিকপতি একা নন, সমস্বরে প্রশ্ন সেই মুহূর্তে থানায় উপস্থিত সকলের। এমনকি যদুনাথেরও।
“দয়ার মায়ার কথা তুলি আপনি আমার মনটারে বড়ো দুব্বল করে দেছেন বড়োবাবু। তাই চেষ্টাচরিত্তির করেও চুরি করা আর হয়ি উঠল না আমার।” আবেগতাড়িত কণ্ঠ কেঁপে উঠল সনাতনের। পরক্ষণেই সে-ভাব ঝেড়ে ফেলে কঠিন গলায় বলল, “যাক গে, বাদ দেন ওসব। এবার পরীক্ষার ফলাফল কী, তাই বলেন।”
কোয়ার্টারের বারান্দা থেকে পুনর্বার গায়েব হয়ে যাওয়া সাইকেলটার ব্যাপারে দিকপতি দারোগা কি কিছু অনুমান করতে পারলেন?
শুকতারা, চৈত্র ১৩৯৯

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন