সঞ্জীবকুমার দে

“বড়োবাবু যাত্রাপালায় অভিনয় করতি চলিছেন শোনলাম?”
সন্ধ্যাবেলা থানায় প্রবেশের মুখেই চমকে গেলেন দিগম্বর দিকপতি। অতি পরিচিত কণ্ঠস্বর। তবুও চমকাতে হল, কারণ হেরম্বপুরের ওই একজনকেই তিনি মনে মনে হলেও ভয় পান।
মুখ তুলেই হাড়গিলে পেটসর্বস্ব চেহারার সেই হতভাগাটাকে সামনে দেখতে পেলেন। পিত্তি জ্বালানো একমুখ হাসি ছড়িয়ে কৈফিয়ত চাওয়ার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে সে। প্রশ্ন তারই।
মেজাজ সপ্তমে চড়ে গেল দিকপতির। —“কেন? কী মহাভারত অশুদ্ধ হয়েছে তাতে?”
“এই দ্যাখেন,” জিভ কেটে ফেলল সনাতন, “আমি কি সে-কথা বলিছি! আপনি ক্যান জানি মেজাজটারে সর্বসময়ই তিরিক্ষি করি রাখেন।”
“কেন জানিস?” চেম্বারের দিকে যেতে যেতে বলে চলেন দিকপতি, “আজ পর্যন্ত এক ঘাও মারতে পারিনি তোকে, সেই আফসোসে।”
“সে আর আপনি কী করবেন বড়োবাবু,” পিছু পিছু যেতে যেতে বলে চলে সনাতন, “আমারই পোড়া কপাল। আমারে এক ঘা দিলেই তো আমি শেষ। তখন আপনিই তো পড়বেন অন্য ঝামেলায়।”
দিকপতি থমকালেন। কটমটে চোখে সনাতনকে জরিপ করলেন কয়েক মুহূর্ত। তারপর নিজের চেয়ারে গিয়ে বসলেন। —“এবার ঝেড়ে কাশ। এখানে কী মতলবে?”
“মতলব কিছু নয় বড়োবাবু।” সনাতন দাঁড়িয়ে হাত কচলায়। —“এত বড়ো খবরটা শোনলাম, তাই চলি এলাম।”
“কোথায় শুনলি?”
“আলাদা করি কোন স্থানের নাম বলব? এ তো রাষ্ট্র হয়ি গেছে। পোস্টারও দেখলাম ইস্টিশনের টিকিটঘরের দেওয়ালে—হেরম্বপুর সরগরম, হেরম্বপুরের বিশিষ্টজনদের দ্বারা অভিনীত সামাজিক পালা, অবনী ঘোষাল রচিত ও নির্দেশিত—কন্যাদায়। আয়োজনে নববর্ষ উদযাপন কমিটি। পয়লা বৈশাখ, রাত দশটায়। স্থান: চড়কমেলার মাঠ। মুখস্থ করি ফেলিছি এজ্ঞে।”
“বলিস কী! পোস্টার পড়ে গেছে?” স্বর একেবারেই নরম হয়ে যায় দিকপতির।
“এজ্ঞে হ, বড়োবাবু।”
“অভিনেতাদের নাম দেয়নি কারও?” সুর আরও মোলায়েম, আন্তরিক।
“না, বড়োবাবু। কারে ছেড়ে কার নাম দেবে? কত নাম, একেবারে তো চাঁদের হাট! ইস্টিশন মাস্টার, হাসপাতালের সুপার, হাই স্কুলের দুইজন মাস্টারমশাই, তার মধ্যি একজন তো অবনীবাবু নিজেই, পালাকার ও ডাইরেক্টর। এছাড়াও আমাদের চোখের ত্রিলোচন ডাক্তারবাবু ও তাঁর ইস্ত্রি, পোস্টমাস্টারমশাই বল্লালবাবু, বি.ডি.ও অফিসের ভক্তিবাবু ও তাঁর মেয়ে রূপা-দিদিমণি। আরও কতজনা!”
সনাতন দম নেয়। দিকপতি নীরব, কিন্তু উদগ্রীব আরও কিছু শোনার আশায়।
“তবে যে নামটি নে চারিদিক তোলপাড়, সে তো আপনি—সকলের মধ্যমণি, দিগম্বর দিকপতি, হেরম্বপুরের দোর্দণ্ডপ্রতাপ—বড়োবাবু।”
দিকপতির মুখে লাজুক হাসি। চেম্বারে ঢুকে একটু আয়েশ করে বসলেন। —“আসলে ওঁরা এমন করে এসে ধরলেন, বুঝলি সনাতন।” টেবিলের ফাইল একটু গোছগাছ করার চেষ্টা দেখান দিকপতি। এখন একেবারে বৈঠকি মেজাজ। —“আমি আর না বলতে পারলাম না।”
পরক্ষণেই যেন হঠাৎ খেয়াল হয়ে গেছে সেই ভঙ্গিতে উলটোদিকের চেয়ার দেখিয়ে বলে ওঠেন, “আরে, দাঁড়িয়ে আছিস কেন! বোস বোস।”
উপেক্ষা করতে পারল না সনাতন। সংকোচের সঙ্গে বসতে বসতে বলল, “আপনার এই গুণের কথা কিন্তু জানা ছিল না বড়োবাবু। আপনি কি আগে কখনও অভিনয় করিছেন?”
“অবশ্যই! ছাত্রাবস্থায় আমি চুটিয়ে অভিনয় করেছি রে! এই চাকরি পাওয়ার আগে গ্রুপ থিয়েটারের একটা দলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলাম অনেকদিন। গ্রুপ থিয়েটার বুঝিস তো?”
“এজ্ঞে, শখের থেটার দল।”
“ঠিক।” খুশি হন দিকপতি। —“তাদের হয়েও অভিনয় করেছি কলকাতায়, মফস্সলেও কয়েকটা জায়গায়। তারপর আর কী? পেটের জন্যই এই পুলিশের চাকরি। আর এই চাকরিতে এসে সাধ-আহ্লাদ সব জলাঞ্জলি।”
“সত্যি, ক্যান যে আপনি এই চাকরিতে আসি ঢুকলেন!” সনাতন যেন সমব্যথী।
আর তাতে আরও উৎসাহিত দিকপতি। —“অবনীবাবু প্রথম দিনের রিহার্সালে আমাকে কী বলেছেন, জানিস? আমার হাঁটাচলা, কণ্ঠস্বর, এমন নায়কোচিত চেহারা নাকি বড়ো অভিনেতার লক্ষণ। এই চাকরিতে না এলে নাকি মানুষ আমাকে অন্যরূপে পেত।”
“হক কথা, এজ্ঞে।” সনাতন সায় দেয়, “তবে বড়োবাবু, আপনারে দে অভিনয় করাবার মতলবটা এল কার মাথায়?”
“তা বলতে পারব না। তবে আমাকে এসে পাকড়াও করেন ওই অবনীবাবুই, সঙ্গে নকুল সাঁতরা—অঞ্চল প্রধান। তিনি নাকি নববর্ষ উদযাপন কমিটির সম্পাদক। এক্কেবারে নাছোড়! ওঁরা নাকি এই নাটকের মাধ্যমে হেরম্বপুরে একটা ইতিহাস গড়তে চান। যত বলি যে আমার যা ডিউটি, তাতে অভিনয় করা আমার দ্বারা সম্ভব নয়, দেখা গেল শোয়ের দিনই এমন একটা ঝামেলার কেসে আটকে পড়লাম যে আসরেই উপস্থিত হতে পারলাম না—তখন! অবনীবাবু ছাড়লেন না। বললেন, সেটা হল দুর্ঘটনা, যে কারোরই হতে পারে। ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর নাকি সবক’টি চরিত্রই তৈরি থাকে। তেমন হলে তিনি নিজে এই ভূমিকায় অভিনয় করে দেবেন।”
“হক কথাই বলিছেন।”
“তবুও আমি বলেছি, আমি রিহার্সাল দেব কখন? অবনীবাবু বলেছেন, সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত। আমি আমার সুবিধামতো যখনই উপস্থিত হব, তখনই হবে আমার রিহার্সাল। বল, এরপর আর না বলা যায়? এদিকে মেজোবাবু, সেজোবাবু, হাবিলদার ঘুঙ্ঘুট সিং থেকে শুরু করে কনস্টেবল রতিকান্ত পর্যন্ত ইন্ধন জোগাল ওঁদের। ওরা নাকি আমার অনুপস্থিতির সময়গুলো ঠিক সামলে নেবে। আমি অভিনয় করলে নাকি গোটা থানারই গৌরব বাড়বে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে থানার সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে...”
দিকপতির কথা শেষ করার আগেই বাধা পড়ল। কী একটা প্রয়োজনে চেম্বারে ঢুকেছিল ঘুঙ্ঘুট সিং। সনাতনকে বসে থাকতে দেখে তার চক্ষু চড়কগাছ। —“আরে, এ ব্যাটা চোট্টা কখন ভিতরে সেঁধিয়ে গেল!”
আমল না দিয়ে সনাতন পা নাচায়।
ঘুঙ্ঘুট দিকপতিকে জানায়, “বিকাল থিকেই এ-ব্যাটা থানার গেটে ঘুরঘুর করছিল হুজুর! আপনার সঙ্গে নাকি মুলাকাত করবে। শয়তানটার জরুর কুছু খারাপ মতলব আছে। ওকে বাহর করে দিন, সাহাব।”
সনাতন করুণ চোখে তাকায় দিকপতির দিকে।
“আহ্, ঘুঙ্ঘুট!” দিকপতি বিরক্তির সুরে বলেন, “ওর সঙ্গে আমার কিছু জরুরি কথাবার্তা চলছে। তুই এখন যা এখান থেকে।”
হকচকিয়ে কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে থাকে ঘুঙ্ঘুট। তারপর বেরিয়ে যায় চেম্বার থেকে।
কথার খেই ধরতে দিকপতি জিজ্ঞাসা করেন, “তা হ্যাঁ রে সনাতন, যাবি তো পালা দেখতে?”
“না, এজ্ঞে।”
“সে কি!” বিস্মিত হন দিকপতি, “যাবি না কেন?”
“আপনিই বলেন না বড়োবাবু, আমার পক্ষে কি সেদিন যাওয়া সম্ভব?” লাজুক মুখে প্রশ্ন করে সনাতন, “তল্লাটে যাত্রা-নাটক হলি আমার কাজকম্ম সেদিন বহুগুণ বেড়ি যায়। তার উপর এ-তল্লাটে এবার পালাগান হতিছে প্রায় বছর তিনেক পরে। গাঁ-কে-গাঁ উজাড় করি মানুষজন সব যাবে আসরে। তায় আবার আপনি এবার ডিউটিতে থাকবেননি। ওরে বাবা! এমন মওকা আমি হেলায় হারাবনি। না বড়োবাবু, আমার পালা দেখতে গেলে চলবেনি।”
দিকপতি হতবাক। কিংকর্তব্যবিমূঢ়। হাঁ হয়ে চেয়ে থাকেন সনাতনের দিকে। সনাতনের কণ্ঠে আকুতি, “রাগ করবেননি বড়োবাবু। বোঝেন তো সব। আপনি যেমন পেটের জন্যি আসিছেন পুলিশের চাকরিতে, আমিও আসিছি তেমন মহাবিদ্যায়। যার যা কাজ।”
ইতিমধ্যে হুড়মুড় করে চেম্বারে এসে ঢুকেছে দিকপতি-বাহিনী। সম্ভাব্য বিপদের গন্ধ পেয়ে ঘুঙ্ঘুটই ডেকে এনেছে তাদের। সনাতনের শেষের কথাগুলো কানে গিয়েছে সকলেরই।
দিকপতি তখনও নির্বাক।
“এজ্ঞে বড়োবাবু, আমি তাহলি চলি এখন।” অনুমতির অপেক্ষা না করেই চটপট পিটটান দেয় সনাতন।
দিকপতি ধাতস্থ হতে বেশ কিছুটা সময় নেন। তারপর নিষ্ফল রাগে একসময় হঠাৎ টেবিলে রাখা রুলটা সপাটে দেওয়ালে ছুড়ে মারেন। “হতচ্ছাড়ার এত বড়ো স্পর্ধা! আমাকে ঠান্ডা মাথায় এসে একরকম হুমকি দিয়ে যায়! ভয় দেখিয়ে আমার অভিনয় করা বানচাল করতে চায়!”
মেজোবাবু বিচক্ষণ, ধীর, স্থির এবং দিকপতির মুশকিল আসান। শান্ত করার চেষ্টা করেন দিকপতিকে, “উত্তেজিত হবেন না স্যার। উত্তেজিত হলে বুদ্ধি কাজ করে না। সনাতনের মোকাবিলা করতে হবে বুদ্ধি দিয়ে। খুলে বলুন, ব্যাপারটা কী।”
সব শুনে মেজোবাবুও বিচলিত। —“এ তো পরিষ্কার চ্যালেঞ্জ।”
“তবে!” দিকপতি ক্ষিপ্ত।
“আসলে হতভাগা চাইছে হয় আমাদের ভয় দেখিয়ে আপনার অভিনয় করা বন্ধ করাতে, নয় আপনি অভিনয় করলে আপনার দায়িত্ব পালনে গাফিলতির জন্যই ব্যাপক চুরি—এই ব্যাপারটা জনসমক্ষে তুলে ধরতে।”
“সাংঘাতিক!” সেজোবাবুর কণ্ঠ দিয়েও বেরিয়ে আসে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
“এখন কী করা উচিত?” পরামর্শ চান দিকপতি, “আপনারা কী বলেন, আমি কি কোনও একটা অজুহাত দেখিয়ে অভিনয় থেকে সরে আসব?”
“কক্ষনো না!”
“নেভার!”
মেজোবাবু, সেজোবাবুর একই বক্তব্য প্রকাশ পায়। —“আমরা ওর কাছে হার মানব না।”
“সহি বাত!” ঘুঙ্ঘুটও সায় দেয়, “ওহি দিন আমরা চারিদিকে এমন টহল দিবো যে ওহি শয়তানটা কোত্থাও চুরি করতে পারবে না।”
“সন্ধ্যা থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত ওকে নজরদারিতে রেখে দেব স্যার। কিচ্ছু চিন্তা করবেন না।” বলে রতিকান্ত।
“ব্যাপারটা অত সহজ হবে না।” বললেন মেজোবাবু, “ওর নাম সনাতন। ও পারে না এমন কোনও কাজ নেই। প্রমাণ পাওনি তোমরা? এর আগে যাত্রাপালার রাতগুলোতে ওকে ঠেকাতে পেরেছিলে? মনে নেই? একবার তো বাহাদুরি দেখিয়ে তোমরা যাত্রার নায়ককে তুলে এনে লক-আপ করে দিলে! সে-যাত্রা শেষমেশ অধিক রাত হতেই চুরিতে গাঁ-কে-গাঁ উজাড়। ধূর্ত, চতুর। পরতে পরতে বুদ্ধি ওর। ওকে আটকাতে হবে বুদ্ধি দিয়েই।”
“কিন্তু কীভাবে?” দিকপতি ব্যাকুল।
“ওকে সেদিন বাইরে ছেড়ে রাখা যাবে না। ওই যাত্রার আসরেই আটকে রাখতে হবে ওকে। ও থাকবে আপনার কাছে-কাছেই।” হঠাৎ করে মতলব খেলে যায় মেজোবাবুর মগজে।
“কিছুই বুঝতে পারছি না।” দিকপতি অকপট।
“বুঝিয়ে বলছি।” মেজোবাবু চেয়ার টেনে বসলেন। —“ওকেও অভিনয় করার প্রস্তাব দিন এই পালায় আপনাদের সঙ্গে।”
“অ্যাবসার্ড!” দিকপতি আবার ক্ষেপে উঠলেন।
“কেন অ্যাবসার্ড?”
“এ কি তামাশা নাকি? চোর-পুলিশ অভিনয় করবে একই পালায়!”
“এছাড়া ওকে আটকাবার অন্য উপায় নেই। দিনকাল খারাপ। আগেকার সময় হলে মিথ্যে কেসে দু-চারদিন না-হয় লক-আপে আটকে রাখতাম। এখন উপায় নেই। মেনে নিন।”
“আমি মেনে নিলেও আয়োজকরা মানতে চাইবে? কত গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব রয়েছেন নাটকে, তাঁরা মানবেন?”
“উদ্যোক্তারা অনেক কষ্টে রাজি করিয়েছেন আপনাকে। সনাতনকে না নিলে আপনি সরে আসবেন, এই ভয় দেখান। আর অন্যদের বোঝান, ওকে ছেড়ে রাখলে কী বিপদ ঘটতে পারে। মনে হয় কাজ হবে।”
“বেশ।” নিমরাজি হন দিকপতি, “চেষ্টা করে দেখছি। কিন্তু ওকে দিয়ে কি অভিনয় হবে?”
“ওর অভিনয় প্রতিভা নিয়ে কি আপনার এখনও সন্দেহ আছে?”
দিকপতি চুপ করে থাকেন।
“অবশ্য শুধু ওঁরা রাজি হলেই তো হবে না, সনাতনকেও রাজি করাতে হবে।” মেজোবাবুকে একটু চিন্তিত দেখায়।
“সেটি কিন্তু আমার দ্বারা হবে না।” দিকপতি তৎক্ষণাৎ ঘোষণা করেন, “ও-দায়িত্ব আপনাকে নিতে হবে।”
***
মেজোবাবুর প্রাণপাত চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত রাজি হল সনাতন। সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা, দিন চারেক লাগাতার সনাতনের খোঁজে মেজোবাবু হন্যে হয়ে ফিরেছেন। বার বার তার বাড়ি গেছেন। বাড়ির লোক প্রতিবার বলেছে—নেই। বাজারে, হাটে, সেলুনে, স্নানের ঘাটে—কোত্থাও দেখা মেলেনি বাছাধনের। সকলে নিশ্চিত, বাড়িতেই লুকিয়ে ছিল সনাতন। কিন্তু তল্লাশি নেওয়ার সাধ্যি নেই।
পঞ্চম দিনে তার সাক্ষাৎ পেয়ে মেজোবাবু বর্তে গেলেন। এটা সেটা কথাবার্তার পর আসল কথাটি পাড়েন। অত সহজে কি রাজি হয় মহাবিদ্যাধরী! সে তো পাকা খেলোয়াড়। উপরন্তু বল তারই কোর্টে যখন।
তাও রাজি হতে শর্ত দেয়, “আপনি যখন অত করি অনুরোধ করতিছেন, বেশ, অভিনয় করব পালায়। তবে আমার পুলিশের চরিত্তি চাই।”
মেজোবাবু বিষম খেলেন। —“এই চেহারায়!”
“ক্যান, এই চেহারার কি পুলিশ নাই?” রুখে ওঠে সনাতন, “অসুখে-বিসুখে ভুগি কেউ হতি পারে না রুগ্ন মতন?”
অত যে চৌকস মেজোবাবু, তিনিও বিব্রত তখন।
“বেশ, অফিসার না হোক, সেপাই-টেপাই!”
“দ্যাখ, এই পালায় সেপাই-পুলিশ আছে কি না আমার জানা নেই।” মেজোবাবু বোঝাবার চেষ্টা করেন।
“নাই মানে!” জোর দিয়ে বলে সনাতন, “আলবাত আছে! মেয়ের বিবাহ নে পালা, কন্যাদায়। কন্যা যখন দায় তখন দেনাপাওনা, পণ সবই আছে। আর এসব থাকলি পুলিশও থাইকবে।”
“আচ্ছা, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।” বলেই মেজোবাবু মোবাইল থেকে কাউকে ফোন করলেন। সম্ভবত বড়োবাবুকেই। কথা হল বেশ কিছুক্ষণ।
তারপর মোবাইল পকেটে রেখে সনাতনকে আশ্বস্ত করলেন, “আছে। অফিসারও আছে, সেপাইও আছে। তবে অবনীবাবু হচ্ছেন ডিরেক্টর। তাঁর সিদ্ধান্তই সব। তোকে তাঁর কাছেই যেতে হবে। তিনি তোকে যে-চরিত্রের জন্য পছন্দ করবেন সেটাই ফাইনাল।”
“বেশ, কবে যাব বলেন?”
“আজই চলে যা সন্ধ্যাবেলায়। এখন তো রোজই রিহার্সাল। কোথায় রিহার্সাল হয় জানিস কি?”
“সব জানি এজ্ঞে।” জোরের সঙ্গে কথাটা বলে অর্থপূর্ণ হাসি হাসে সনাতন।
মেজোবাবুর দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। তিনি তখন সনাতনকে তোয়াজ করতে ব্যস্ত। —“যা ব্যাটা, বরাত বটে তোর! হেরম্বপুরের মান্যিগণ্যি ব্যক্তিদের তালিকায় তুইও ঢুকে গেলি শেষে।”
“মান্যিগণ্যি হলাম কি না জানি না।” বলে সনাতন, “তবে আক্ষেপ চলি গেল। বড়ো সাধ ছিল পুলিশ হবার। যাত্রাতেই সে-সাধ মেটাই!”
ওদিকে সনাতনের ব্যাপারে আয়োজক বা অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মতি আদায়ে অসুবিধা হয়নি দিগম্বর দিকপতির। সকলের কথার একই অর্থ—আপনাকে যেন না হারাই।
ডিরেক্টর অবনীবাবু একান্তে কথা বলেন দিকপতির সঙ্গে, “দেখুন, আমার কাছে ডাক্তার, পুলিশ, চোর, জোচ্চোর কোনও ভেদাভেদ নেই। সবাই অ্যাক্টর। আমি চাই একটা সুসংহত টিম-ওয়ার্ক। একটা ফাটাফাটি অভিনয়।”
“সবই বুঝলাম মাস্টারমশাই,” দিকপতি বেদনাহত, “কিন্তু আমি মনের দিক থেকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। নিরুপায় হয়ে ওকে নিতে হয়েছে ঠিকই, কিন্তু হতভাগাকে দেখলেই আমার মাথায় রক্ত চড়ে যাচ্ছে।”
“কোনও চিন্তা করবেন না।” অবনীবাবু ভরসা দেন। —“আমি পালাকার, এখনই দৃশ্য বদল করে দিচ্ছি। ও আর আপনি স্টেজে একই দৃশ্যে থাকবেন না।”
“স্টেজের কথা পরে। ওকে দেখলে তো রিহার্সালেই আমার তাল কেটে যাচ্ছে।”
“বেশ, যে-দৃশ্যে ও রয়েছে সে-দৃশ্যগুলোর রিহার্সাল আমি অন্যদিন করে দিচ্ছি। আর বাকি দিনগুলোয় ওকে আসতে নিষেধ করে দেব। একমাত্র ফুল রিহার্সালের দিন ছাড়া কেউ কারও মুখোমুখি হবেন না।”
তবুও খুঁত খুঁত করেন দিকপতি। —“ওকে স্টেজে দেখে লোকে আমাকে ছ্যা-ছ্যা করবে।”
“এমন মেক-আপ দেওয়াব ওকে যে লোকে চিনতেই পারবে না!” অবনীবাবু আরও সাহস জোগান, “ও রয়েছে তো গোটা তিনেক দৃশ্যে! সংলাপও প্রায় নেই। না স্যার আর হ্যাঁ স্যার। শুধু যাওয়া আর আসা।”
দিকপতির শুকনো মুখে একটু হাসির ঝিলিক।
অবনীবাবু এবার সতর্ক করেন দিকপতিকে, “দিগম্বরবাবু, আপনিই কিন্তু এই পালার মূল চরিত্র, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা। অসম্ভব ভালোও করছেন চরিত্রটি। দেখবেন, নিজের প্রতি বিশ্বাস হারাবেন না।”
যাত্রার দিকে দিন ক্রমশ এগোয়। দিকপতিও ক্রমশ প্রস্তুত হন। একদিকে নিজের অভিনয়ের প্রস্তুতি, অন্যদিকে সেদিনের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার। একদিকে তাঁর অভিনয়ের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ভুলত্রুটির মেরামতি, অন্যদিকে তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর বাহিনীর ত্রুটিবিচ্যুতি না করার তালিম।
শোনা যাচ্ছে, দশ-বারোখানা গ্রাম থেকে হাজার আটেক লোকসমাগম হবে আসরে। জেলা সদরে জানিয়ে অতিরিক্ত ফোর্স আনাচ্ছেন দিকপতি। মোতায়েন হবে অঞ্চলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পথের মোড়ে মোড়ে। পাশের থানার সঙ্গে থাকবে জিপে ও মোটরবাইকে যৌথ টহলদারি। আসরের দায়িত্বে থাকবেন সেজোবাবু ও পাশের থানার একজন এ.এস.আই। সঙ্গে জনা বিশেকের ফোর্স। থানায় বসে সমস্তটা কন্ট্রোল করবেন বিচক্ষণ মেজোবাবু। সেবার তা না করে ঘুঙ্ঘুটকে দায়িত্বে রেখে কী সর্বনাশই না হয়েছিল! বিখ্যাত অপেরার বিখ্যাত নায়ককে ডাকাত ভেবে লক-আপই করে দিয়েছিল ঘুঙ্ঘুট! এবার সতর্কতা বেশিরকম।
হঠাৎ হঠাৎ একেকটা বিষয় মনে পড়ে যাচ্ছে দিগম্বর দিকপতির। আর অধস্তনদের ডেকে সতর্ক করছেন অথবা বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
এমনই হঠাৎ কী মনে হতে চটপট ডেকে পাঠালেন সেজোবাবুকে। —“সনাতনকে তো বিশ্বাস নেই। কখন কী হাতিয়ে বসে হতভাগা! গ্রিনরুমে তো একটু নজরদারির দরকার।”
“হ্যাঁ, স্যার।” সেজবাবু একমত হন, “একদম মাথায় আসেনি ব্যাপারটা! মান্যিগণ্যি অনেকে থাকবেন, তাঁদের মালপত্রও থাকবে টুকিটাকি। সুতরাং সনাতনকে তো চোখে চোখে রাখতেই হবে! ওখানে পোস্টিং করে দেব একজনকে।”
“গুড।” দিকপতি সন্তুষ্ট হন, “আরেকটা কথা, পর্যাপ্ত টর্চ সঙ্গে রাখা চাই। প্রয়োজনে কিছু কিনিয়ে রাখুন। ছড়িয়ে দিতে হবে টহলদারদের হাতে হাতে। আসরে যারা থাকবে তাদের হাতেও।”
“ওকে, স্যার।”
শেষ মুহূর্তের তদারকি সেরে থানা থেকে যখন দিকপতি আসরে এলেন তখন রাত ন’টা। যাত্রা শুরু হতে মাত্র ঘণ্টা খানেক বাকি।
আটটা নাগাদ প্যান্ডেল থেকে ফোন পেয়েছিলেন সেজোবাবুর। সনাতনের পৌঁছনোর সংবাদ। এসে নাকি মেক-আপ নিতেও বসে গেছে বাছাধন। সুতরাং তিনি টেনশনহীন। একদম ফুরফুরে মেজাজ।
কাতারে কাতারে লোক আসছে আসরে। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ কেউ রিকশা ভ্যানে। সাইকেলে, স্কুটারেও কম নয়। ভালো লাগে দিকপতির। যা অনুমান করেছিলেন, লোকসংখ্যা তার চেয়েও বেশি হবে বলেই মনে করলেন তিনি। পুলিশকর্তা হিসেবে নয়, আজ অভিনেতা হিসেবে এক অন্যরকম অনুভূতি হতে থাকে তাঁর।
গ্রিনরুমে এসে ঢুকতেই হইহই করে ছুটে এলেন অবনীবাবু। —“ওহ্, ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন মশাই! যদিও বলেছিলেন আপনি ঘণ্টা খানেক আগে ঢুকবেন, তবুও বোঝেন তো, পরিচালকের মন।”
দিকপতি হাসেন।
“নিন, আর দেরি করবেন না, মেক-আপে বসুন।”
দিকপতি ভেতরের পরিবেশটা একটু দেখে নেন। চমৎকার দৃশ্য। প্রায় সকলের ড্রেস, মেক-আপ হয়ে গেছে। প্রায় ত্রিশজন অভিনেতা-অভিনেত্রী। কম কথা নয়! পালাও দীর্ঘক্ষণের। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার। রাত কাবার না হলে লোক আসত না আসরে। আসলে সকলেই তো কাছেপিঠের মানুষ নয়। ফিরতে ফিরতে আলো ফুটতে থাকলে তাদের সুবিধা হয়। এজন্যই যাত্রা শুরু একটু দেরিতে, দশটায়। এই মুহূর্তটাকে খুব ভালো লাগে দিকপতির। মিঠে আবেশে মন ভরে যায়।
মেক-আপ শেষ করে ড্রেস করার সময়ই লক্ষ করলেন, একজন কনস্টেবল দেওয়া হয়েছে গ্রিনরুমে। অদূরে একটা টুলের ওপর বসে সে চারদিকে লক্ষ রাখছে। চোখাচোখি হতেই দাঁড়িয়ে দিকপতিকে স্যালুট ঠুকল সে। দিকপতি হাতের ইশারায় তাকে কাছে ডাকলেন। —“তোমাকে ডিউটি ঠিক বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে তো?”
লোকটি ঘাড় কাত করে।
“বেশ, ঠিক ঠিক ওয়াচ রাখবে। আরেকটা কথা, আমার মোবাইলটা তোমার কাছে রাখো। সাইলেন্ট করে রেখেছি, বন্ধ করিনি। যদি জরুরি ফোন আসে! ফোন এলে রিসিভ করবে। জরুরি কিছু বুঝলে দৃশ্যের মধ্যে মধ্যে আমি যখন গ্রিনরুমে আসব, আমাকে জানাবে। এই দেখো, এই সুইচটা টিপে রিসিভ করা আর এইটাই দ্বিতীয়বার টিপে ফোন কেটে দেওয়া।” দিকপতি বুঝিয়ে দেন।
লোকটি মোবাইল পকেটে নিয়ে আবার টুলের ওপর গিয়ে বসে।
দিকপতি একটু স্ক্রিপ্টের দিকে নজর দেন।
একসময় কনসার্ট বেজে ওঠে। অবনীবাবু প্রথামতো নির্দেশক হিসেবে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উদ্দেশে দু-এক কথা বলেন।
যথাসময়ে অভিনয় শুরু হয়ে যায়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই পালা জমে ওঠে। প্রাণ ঢেলে অভিনয় করতে থাকেন সকলে। কাউকে বাদ দিয়ে কারও কথা আলাদা করে বলা সম্ভব হবে না, এমন অভিনয়। তবুও দর্শক-মনে পৃথকভাবে রেখাপাত করে চলেন দিকপতি ও ভক্তিবাবুর মেয়ে রূপা। কন্যাদায়গ্রস্ত এক পিতা ও তাঁর এক অতি সাধারণ হতভাগিনী কন্যা। আজকের সমাজের প্রতিটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সমস্যাসংকুল কাহিনি। অল্পক্ষণের মধ্যেই মোহিত হয়ে পড়ে দর্শককুল।
দৃশ্যের পর দৃশ্য। কখনও হাততালিতে ফেটে পড়ছে চারদিক, কখনও নিস্তব্ধ, নিস্পন্দ। গল্পের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছে সকলে। টান টান নাটক। আশ্চর্য বাঁধুনি।
একটা ঘোরের মধ্যে রয়েছেন দিকপতি। একেকটা দৃশ্য শেষ করে ফিরছেন, গ্রিনরুমে পায়চারি করছেন। মনে মনে সংলাপ আওড়ে পরের দৃশ্যের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। আবার উঠে পড়ছেন স্টেজে। এই মুহূর্তে সমস্যা-জর্জরিত এক পরিবারের এক নিরুপায় অসহায় পিতা ছাড়া তিনি আর অন্য কেউ নন। স্টেজময় তাঁর কী সাবলীল বিচরণ! হতবাক হয়ে দেখে যাচ্ছে হেরম্বপুরের মানুষ এক অন্য বড়োবাবুকে।
***
একসময় পালা শেষ হয়। করুণ কাহিনির সমাপ্তি, কিন্তু অত্যন্ত মধুর। অনেক কান্নার শেষে খুশির আবেশে দর্শকরাও উদ্বেল।
গ্রিনরুমে সহ-অভিনেতারা দিকপতিকে নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন। অবনীবাবু আবেগে দিকপতিকে আলিঙ্গন করেন।
দিকপতিও যেন আজ অন্য মানুষ। রাশভারী দারোগার কঠিন বর্ম ত্যাগ করে কী সহজ, সরল, সাধারণ।
কতজন সাক্ষাৎ করতে আসছেন গ্রিনরুমে। অভিনন্দন জানিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের ভালো লাগার কথা বলে যাচ্ছেন। দিকপতি তাঁদের ধন্যবাদ জানাতে ভুলছেন না। তিনি সমস্ত কৃতিত্ব দিচ্ছেন অবনীবাবুকে। তাঁদের বলছেন অবনীবাবুর পরিশ্রমের কথা। রচনা ও পরিচালনার কথা। নিজেদের টিম-ওয়ার্কের কথা।
ধীরে ধীরে ভিড় কমতে থাকে। কোলাহল কমতে থাকে ক্রমশ। রাত প্রায় শেষ প্রহরে। মানুষজন ঘরে ফেরার তাড়ায়।
গ্রিনরুমে ড্রেস বদলে মেক-আপ তোলার ব্যস্ততা। কেউ নিজে নিজেই মেক-আপ তুলছেন, কাউকে তুলে দিচ্ছেন মেক-আপ ম্যান। চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ত্রিলোচন চৌধুরীর নকল দাড়ি খোলা যাচ্ছে না দেখে কিছুক্ষণ ঠাট্টা-তামাশায়ও মেতে ওঠেন সবাই।
আয়োজক নববর্ষ উদযাপন কমিটির তরফ থেকে একদিন প্রীতিভোজের আয়োজন হবে সে-ঘোষণাও হল একসময়।
ইতিমধ্যে দিকপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে ঢুকেছেন সেজোবাবু। এসেছেন শান্তিপূর্ণ সমাপনের সংবাদ জানাতে।
শুনে দিকপতি যারপরনাই আহ্লাদিত। প্রচলিত প্রথার ধারেকাছে না গিয়ে সেজোবাবুর পিঠ চাপড়ে বাহবা জানালেন, “সাবাশ!”
হঠাৎ একটা উক্তিতে তাঁর মন কু গেয়ে উঠল। ড্রেসারদের একজন গ্রিনরুমের অন্যপ্রান্ত থেকে চেঁচিয়ে বললেন, “কনস্টেবলের পোশাক এখনও পর্যন্ত পাইনি কিন্তু!”
উপস্থিত উর্দিধারীকে পোশাক খোলার জন্য টানাটানি করে দেখা গেল, সে সত্যিই কনস্টেবল।
মুহূর্তে চলে এল সনাতন-প্রসঙ্গ।
তখনকার দেখা সেই কনস্টেবলের মুখটা মনে পড়ে গেল দিকপতির। মনে পড়ে গেল মোবাইলের কথাও। বুক কেঁপে ওঠে তাঁর। —“আমার মোবাইল!”
এদিক ওদিক নজর ঘুরিয়ে কাকে খুঁজলেন দিকপতি। তারপর সহজ উপায় মনে হতেই বললেন সেজোবাবুকে, “একবার ঝটপট আমার নম্বরে রিং করুন তো!”
রিং করলেন সেজোবাবু। বাজছে।
ফোন রিসিভও হয়েছে। —“হ্যালো! কে?”
“আমি সেজোবাবু বলছি। আপনি...”
“এজ্ঞে, আমি সনাতন।” শান্ত, ধীর কণ্ঠস্বর। মোবাইল সেজোবাবুর কানে থাকলেও দিকপতি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছেন—“বড়োবাবুরে বলবেন, একপ্রস্থ পুলিশের পোশাক হাতানো আমার বহুদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল। এই সুযোগে তা পূরণ হল। এবার থিকে পুলিশ সাজিই চুরি করব।”
সেজোবাবু ও দিকপতি বিস্ফারিত চোখে একে অপরের দিকে চেয়ে থাকেন।
“আরও বলবেন, আপনাদের চাপে পড়ি যাত্রা করতি গে আমার অনেক ক্ষেতি হয়ি গেছে। ক্ষেতিপূরণ বাবদ বড়োবাবুর মোবাইলটা নে গেলাম। চুরি করিছি বলতে পারবেননি! বড়োবাবু কিন্তু স্বেচ্ছায় দেছেন।”
শুকতারা, শারদীয়া ১৪১৬

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন