সঞ্জীবকুমার দে

ভরসা নেই, আবার ভরসা না রেখে উপায়ও নেই। এমন অবস্থায় শেষ বারের মতো মনস্থির করতে চাইলেন হেরম্বপুর থানার বড়োবাবু দিগম্বর দিকপতি। —“হ্যাঁ রে ঘুঙ্ঘুট, সব ঠিকঠাক সামাল দিতে পারবি তো রে?”
“কী কথা যে বোলেন বড়াবাবু!” এক ভীষণরকম অপরাধকে ক্ষমা করে দেওয়ার মতো হাসি মুখে ফুটিয়ে বলে হাবিলদার ঘুঙ্ঘুট সিং, “বিস সাল পুলিশে নোকরি করছি। এই থানাতেই হোয়ে গেল পাঁচ বছর। সব কায়দাকানুন আমার জানা।”
অপ্রস্তুত দিকপতি সামাল দিতে চাইলেন কথাটা, “আরে, সে কি আমি জানি না! আমার আর মেজোবাবুর পর তুই-ই হলি এই থানার বাকিদের মধ্যে সবচেয়ে সিনিয়র। তোর দায়িত্ব কি কম?”
তোষামোদে তুষ্ট ঘুঙ্ঘুট ভরসা দেয়, “আপনি বে-ফিকির স্কোয়াড নিয়ে যাত্রার আসরে চলে যান। আপনার ডিউটি ভি হোবে, আর একটা ভালো পালা দেখা ভি হোবে।”
সত্যিই খুব ভালো পালা আজ। জগদম্বা অপেরার ‘জমদগ্নি পালা’। নাম ভূমিকায় দিকপতিবাবুর প্রিয় অভিনেতা যাত্রাসূর্য রূপকুমার। গত বছর যাঁর ‘বন্দেগি বাদশা’ দিকপতিবাবুকে মোহিত করে দিয়েছিল।
এই পালাগান দেখতে যাওয়াটাই কিন্তু দিকপতির একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। আরও একটা কারণ অবশ্যই আছে। জেলার সবচেয়ে বড়ো যাত্রা-উৎসব তাঁর এলাকার পলাশপুর গাঁয়ে। কলকাতার চিৎপুরের বিখ্যাত সব দলকে নিয়ে প্রতিবছরই হয় সাতদিন ব্যাপী এই পালাগানের আয়োজন। আজ এবারকার শুভ উদ্বোধন। এই উপলক্ষে জেলার গণ্যমান্য বিশিষ্টজনেরা অনেকেই উপস্থিত থাকবেন আসরে। থাকবেন জেলাশাসক, পুলিশ সুপারও। তাঁদের সামনে উর্দি পরে ডিউটি করা মানে তাঁদের নজরে থাকা। গুড বুকে থাকা। এ কি চাট্টিখানি ব্যাপার! কিন্তু ইচ্ছে হলেই উপায় হয়ে উঠবে, এমন কোনও মানে নেই। মেজো দারোগা রজনীবাবুর শ্যালিকার বিয়ে। আটকানো যায় না ভদ্রলোককে। গতকাল থেকে গিয়েছেন চারদিনের ছুটিতে। থার্ড অফিসার বিপ্লব নামের ছোকরাটিও হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ক’দিন অনুপস্থিত। এমতাবস্থায় থানার দায়িত্বে রেখে যাবেন কাকে? শুধু থানা সামলানো তো নয়! সঙ্গে রয়েছে সমস্ত এলাকার শান্তিরক্ষার দায়িত্বও।
সেই দায়িত্বই শেষ পর্যন্ত ঘুঙ্ঘুট সিংয়ের ওপর ছেড়ে যাত্রার আসরে যাচ্ছেন দিকপতি। আর যাওয়ার আগে ভালো করে বাজিয়ে যাচ্ছেন ঘুঙ্ঘুটকে।
“তবে ঘুঙ্ঘুট, খুব সাবধান!” সতর্ক করলেন দিকপতি, “পাঁচখানা গাঁ ঝেটিয়ে লোকজন সব চলে যাবে যাত্রার আসরে। এমন রাতেই কিন্তু চুরি-ডাকাতির আশঙ্কা!”
“পাঁচজন সিপাহি সাইকেলে গাঁও টহল দিয়ে বেড়াবে হুজুর।” সমঝদার ঘুঙ্ঘুট সিংয়ের প্ল্যান একদম ছকা। —“বাকি কয়েকজন যারা, তারা থানায় থাকবে আমার সঙ্গে।”
“বাহ্!” সন্তুষ্ট হলেন দিকপতি। —“তবে পরিস্থিতি আয়ত্তে নেই বুঝলেই কিন্তু আমাকে খবর পাঠাবি।”
“জী হুজুর।” সেলাম ঠুকল চৌকস হাবিলদার।
***
রাত প্রায় সাড়ে ন’টা নাগাদ ফোর্স নিয়ে থানায় ফেরত এলেন দিকপতি। সঙ্গে যাত্রাদলের অধিকারীমশাই সহ আয়োজকদের কয়েকজন। সকলেরই বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত চেহারা। চেয়ারে বসেই জল চেয়ে ঢকঢক করে দু-গ্লাস জল খেলেন তিনি। তারপরই হুংকার ছাড়লেন অধিকারীমশাইয়ের উদ্দেশে, “এ সমস্ত কিছুর জন্য দায়ী ওই একটাই লোক, আপনাদের রূপকুমার! এত লোকজন, এত আশা, এই আয়োজন, অথচ তিনি এলেন না!”
ঝামেলা যে একটা বড়ো কিছু ঘটেছে, অনুমান করে নেয় ঘুঙ্ঘুট। বড়োবাবুর তিরিক্ষি মেজাজ দেখে এখানকার ঝামেলাটি আর প্রকাশ করার সাহস হয় না। সময়ের অপেক্ষায় থাকে।
মুঠি পাকিয়ে শূন্যে ঘুসি ছোড়েন দিকপতি। —“ওঁর জেল হওয়া উচিত!”
মুখ কাঁচুমাচু অধিকারীমশাইয়ের, গলায় মিনতি, “কিন্তু, বিশ্বাস করেন বড়োবাবু, তিন বছরের ওপর আমার দলে আছে রূপকুমার, কোনোদিনও এমনটা হয়নি!”
“আজ তো হল!” দিকপতি ধমকে ওঠেন, “আর হল তো হল, আমারই এলাকায়?”
“পথ ভুল করে অন্য কোথাও চলে যাননি তো?” আয়োজকদের একজন প্রশ্ন করেন।
“গত দু-বছর তো এখানে শো করে গেছে!” বলেন অধিকারী, “আর ওর গাড়ির ড্রাইভারও নতুন নয়। খুব পাকা লোক।”
কিছুক্ষণ কথা নেই কারও মুখে। সাহস পেয়ে আর একটু বলতে শুরু করেন অধিকারী, “গতকাল শো ছিল মেদনীপুরের পটাশপুরে। পালা শেষে রাতের খাওয়া সেরে আমরা বাঁধাছাঁদা করছি এখানে রওনা দেবার জন্যে, সে বললে কাছে এগরায় তার মাসির বাড়ি। বহুদিন যাওয়া হয় না—রাতে সেখানেই থেকে যাবে। কাল দুপুরে মাসির বাড়ি খাওয়াদাওয়া সেরে রওনা দিয়ে এখানে পৌঁছে যাবে ঠিক সময়ে। ওর নিজের অ্যাম্বাসেডর গাড়ি। সময় ওর বশে। যাদের নিজেদের গাড়ি, সেই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অনেকেই এমনটা করে। আর ঠিক ঠিক সময়ে পৌঁছেও যায়! তাই আপত্তি করিনি। কিন্তু আজই এমন হল, সে পৌঁছল না! নিশ্চয় পথে কিছু একটা ঘটেছে…”
“চোপ!” বিকট শব্দে চিৎকার করে ধমক লাগালেন দিকপতি। ভেংচে উঠলেন তারপর, “নিশ্চয় কিছু ঘটেছে! আপনাদের কী ঘটতে চলেছিল ভুলে গেলেন? ওই হাজার দশেক মারমুখী জনতার হাত থেকে বাঁচতে পারতেন আপনারা?”
অধিকারী তো বটেই, উপস্থিত আয়োজকদের সকলেই না-সূচক মাথা নাড়লেন।
“কিন্তু বাঁচলেন। কীভাবে বাঁচলেন?” প্রশ্ন হেরম্বপুরের দোর্দণ্ডপ্রতাপের, আবার উত্তরও, “কারণ, আমি কারও গায়ে একটিও আঁচড় লাগতে দিইনি।” গর্বের হাসি দিগম্বর দিকপতির ঠোঁটে, “এ-কৃতিত্ব আমার।”
“বটেই তো!” সমস্বরে সমর্থন। গদগদ কেউ কেউ।
“তবে, এখানকার লোকেরা আমাকে কত মান্যি করে, এটাও বলুন!” হঠাৎ বিনয়ে গলার স্বর পালটে ফেললেন দিকপতি, “নইলে আমার সাধ্যি কী মশাই, মাত্র এই ক’জনের ফোর্স দিয়ে তাদের ঠেকাই?”
“ঠিক কথা।” আবার এক বাক্যে কবুল।
“তবে আমি মাইক হাতে মঞ্চে উঠে জনতাকে কথা দিয়ে এসেছি, অবশিষ্ট ছ’দিনের মধ্যেই একদিন জমদগ্নি পালা গাইয়ে ছাড়ব। আর রূপকুমার যতদিন না এখানে এসে উপস্থিত হচ্ছেন ততদিন এই অপেরা পার্টি আটক থাকবে। অধিকারীমশাই আন্ডার অ্যারেস্ট!”
অধিকারী কাঁদো কাঁদো। —“আমার কী দোষ বলেন তো বড়োবাবু! আমি সকালবেলায়ই পুরো দল নিয়ে অপেরার বাস ঢুকিয়ে দিয়েছি। এইদিকে পথে রূপকুমারের কোনও বিপদ-আপদ ঘটে গেল কি না, সেটা তো বুঝতেই পারছি না!”
দিকপতি কোনও সাড়া না দিয়ে সিগারেটে অগ্নিসংযোগে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। এক মুখ ধোঁয়া ছেড়ে বললেন, “একদিকে না এসে ভালোই করেছেন। এসে গেলে আমি কি আর এলেম দেখাবার এই সুযোগটা পেতাম?”
অধিকারী নিরুত্তর।
“হ্যাঁ, আজ দেখে গেলেন জেলার বড়োকর্তারা। ডি.এম সাহেব। এস.পি সাহেব। ওহ্, কী ঘটনা!” বলতে বলতে রোমাঞ্চিত হয়ে উঠলেন দিকপতি, “ওরে ঘুঙ্ঘুট! এবার আমার প্রমোশন ঠেকায় কে রে!”
বড়োবাবুকে উৎফুল্ল দেখে এবার উৎসাহিত হয়ে উঠল ঘুঙ্ঘুট সিং। এই সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায়ই ছিল সে। —“আমরা ভি দু-দুটা ডাকু পাকড়েছি বড়াবাবু! পিছা-জঙ্গলের ধারের রাস্তা থিকে।”
“বলিস কী!” বিস্ময় দিকপতির গলায়।
“হ্যাঁ স্যার।” সায় দিল রতিকান্ত কনস্টেবল। এই কৃতিত্বের অন্যতম দাবিদার সে। —“অন্ধকারে গাড়ি থামিয়ে কী শলা করছিল দুজনে। আমিই দেখতে পেয়ে এসে সিংজীকে খবর দিই।”
“তারপর দলবল নিয়ে গিয়ে আমি চ্যালেঞ্জ করি হুজুর।” বুক ফুলিয়ে দাঁড়ায় ঘুঙ্ঘুট সিং, “খুব একটা ঝুট-ঝামেলা হয়নি সাব। ওদের গাড়ি গড়বড় করছিল। তাই পালাতে না পেরে সারেন্ডার করেছে।”
কৌতূহলী দিকপতির টেবিলের ওপর খুব সাবধানে ঘুঙ্ঘুট নামিয়ে রাখে একটি রিভলভার। —“একজনের বডি সার্চ করে এটা মিলেছে বড়াবাবু।”
“কট উইথ গান!” চক্ষু ছানাবড়া দিগম্বর দিকপতির। উল্লাসে ফেটে পড়েন তিনি। —“ওরে করেছিস কী তোরা! এ যে আমাদের থানার জয় জয়কার!”
আবেগ-মাখা গলা রতিকান্তর, “বলে কিনা স্যার, লাইসেন্স আছে!”
“আমরা ওসবে কান দিইনি হুজুর,” বলল ঘুঙ্ঘুট সিং, “আগে লক-আপে চলো তো! যা দিখবার পরে সব বড়াবাবু দিখবেন।”
“ঠিক! ঠিক করেছিস তোরা!” আরও উল্লসিত দিকপতিবাবু, “মামদোবাজি!” আনন্দের প্রকাশ আর কীভাবে করবেন বুঝতে পারছেন না তিনি। —“ওরে, আমাদের থানার আজ বড়ো গৌরবের দিন!”
“পুরা থানারই কি পরমোশন হয়ে যাবে হুজুর?”
“আলবাত হবে!” টেবিলে চাপড় মেরে চেঁচিয়ে উঠলেন দিকপতি, “আরে রিভলভার সমেত ডাকাত ধরা—এ কি মামুলি ব্যাপার!”
“রিভলভার! ডাকাত! আরে সর্বনাশ!” হঠাৎ মাটি ফুঁড়ে ঘরে সনাতনের আবির্ভাব, “যা অনুমান করিছি তাই!”
চমকে গেলেন দিকপতি। আরও চমকে দিয়ে তার চেম্বারে যেন বোমা ছুড়ল সনাতন। —“এরা ডাকাত ভেবি রূপকুমার আর তেনার ড্রাইভার-দাদারে আটক করেনি তো?”
মুহূর্তের বিস্ফোরণে যেন ছিটকে উঠল অনেকগুলো শরীর। পড়িমরি করে দিকপতি ছুটলেন লক-আপের দিকে। পিছনে সমবেত সকলে। ঘুঙ্ঘুট-রতিকান্তরাও।
লক-আপের ভেতর নজর করে ডুকরে উঠলেন অধিকারীমশাই, “এ আপনারা করেছেন কী! এই তো আমাদের রূপকুমার!”
ভিড় ঠেলে সনাতন সামনে। একেবারে দিকপতির মুখোমুখি। —“এই নে গর্ব করে হেরম্বপুরের পুলিশ! লজ্জায় মাথা কাটা যেতিছে আমার। করেন, রূপকুমার স্যাররে এখুনি বার করেন!”
স্তম্ভিত দিকপতি। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিনা বাক্যব্যয়ে সনাতনের হুকুম তামিল করেন।
অপমানিত, অপদস্থ রূপকুমার কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। তাঁর গাড়ির চালক ও সনাতনের বিবৃতি একসঙ্গে করে যা বোঝা গেল, তা হল—রূপকুমারের গাড়ি আজ শুরু থেকেই গোলমাল করছিল। পথে একটা গ্যারাজে একবার মেরামতিও হয়ে গেছে। তবুও গাড়ি গোলমাল করতেই থাকে। ভরসা না পেয়ে চালক পথ সংক্ষিপ্ত করার জন্য অন্যের দেখানো পথ ধরতে গিয়ে গন্তব্য ভুল করে বসে। গাড়িও হেরম্বপুরে প্রবেশের মুখেই পুরোপুরি বিগড়ে যায়। ঘটনাচক্রে সনাতন সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। সে যাত্রাসূর্যকে চিনতে পারে এবং ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মেকানিক আনার জন্য দৌড়য়। পরামর্শ দিয়ে যায় তার যদি আসতে দেরি হয়, রূপকুমার যেন লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে করে যাত্রার আসরে পৌঁছে যান। সে মেকানিক দিয়ে গাড়ি সারিয়ে ঠিক আসরে পৌঁছে দেবে।
সনাতনের দেরি মোটেই হয়নি। সে মেকানিক নিয়ে এসে কাউকে না দেখে ভেবেছিল ওঁরা আসরে চলে গেছেন। গাড়ির গোলমাল সারাতে বিস্তর পরিশ্রম আর অনেক সময় অতিবাহিত হয়েছে। এরপর যখন মেকানিককে পেমেন্ট করাবার জন্য তাকে নিয়ে রূপকুমারের কাছে যাবে বলে মেকানিকের বাইকে স্টার্ট দিচ্ছে, তখন আসর ফেরতা লোকের মুখে যাত্রা বানচাল আর রূপকুমারের বে-হদিশের খবর পায়। ব্যাপারটা থানার গোচরে আনার জন্য মেকানিককে নিয়ে সে এখানে এসে দেখে এই কাণ্ড!
অধিকারীমশাই আয়োজকদের শুধালেন, “রাত তো তেমন বেশি হয়নি। আপনারা কি পালা শুরু করাতে পারেন?”
“আপনারা শো করতে পারলে আমাদের কোনও অসুবিধা নেই।” বললেন একজন।
“আসলে আমাদের শো শেষ করেই বেরিয়ে যেতে হবে আরামবাগের পথে। ওখানে কাল ও পরশু দু-রাত শো। আমরা সময় দিতে পারব না।”
অনিচ্ছুক রূপকুমারকে অধিকারীমশাই বেশ কিছুক্ষণ বোঝালেন। অর্বাচীন অধস্তন পুলিশ কর্মীদের নিকৃষ্ট আচরণের জন্য দিকপতি থানার তরফ থেকে ক্ষমাপ্রার্থনা করায় অভিনয় করতে রাজি করানো গেল তাঁকে।
মিয়ানো গলায় দিকপতি শুধু প্রশ্ন তুললেন, “মানুষজন তো সব বাড়ির দিকে, আর কি আসরে ফেরত আনতে পারবেন?”
লাফিয়ে উঠল সনাতন। —“আপনারে আর এসব নে মাথা গলাতে হবেনি বড়োবাবু! এই দায়িত্ব আমি নেলাম।”
দিকপতির আজ কিছুই করার নেই। হাতি গর্তে পড়েছে, ব্যাঙ যা মারবার, মারবেই! ঢোঁক গিলে রাগ দমন করলেন।
অধিকারীমশাইকে শুধাল সনাতন, “আপনাদের পালা শুরু করতে কতক্ষণ লাগবে এজ্ঞে?”
“প্রস্তুত হতে অন্তত আমাদের ঘণ্টা খানেক সময় তো দিতে হবেই।”
“ততক্ষণে এই মেকানিকদাদার বাইকের পিছনে চেপি আমি পাঁচটা গেরামে খবর রাষ্ট্র করি দিতেছি।”
মানি-ব্যাগ খুলে মেকানিকের প্রাপ্য মেটাতে মেটাতে সনাতনকে প্রশ্ন করলেন রূপকুমার, “প্রচার সেরে আসরে আপনি আসছেন তো?”
ঢিপ করে তাঁর পায়ের ধুলো নিয়ে জানাল সনাতন, “না স্যার, সারা রেতি আমার অনেক কাজ। যাত্রাটা রেতি হতিছে বলে আমার কাজও আজ খুব বেড়ি গেল।”
কথাটা বলতে-বলতেই সনাতন আড়চোখে দিকপতিকে দেখে নিল একবার। আর থানা থেকে বেরিয়ে যাবার মুহূর্তে দিকপতিকে উদ্দেশ করে বলে গেল, “জমদগ্নি পালার রেতি আপনাদিগের আজ আর ডিউটি করি কাজ নাই বড়োবাবু। খুব পরিশ্রম করি ফেলিছেন। রূপকুমার স্যাররে হরণ
করি যা পালা আপনারা দেখালেন!”
রবিবাসরীয় আনন্দমেলা, ২০ জানুয়ারি ১৯৯১

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন