সনাতনের বিশ্বকাপ

সঞ্জীবকুমার দে

থানায় ঢুকে সনাতনের দিকে চোখ পড়তেই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন দিগম্বর দিকপতি। বাজখাঁই গলায় চেঁচালেন, “এ কী! এ হতভাগা এখানে কেন? ফের ধরা পড়েছে?”

“না না, বড়াবাবু!” ঘুঙ্ঘুট সিং উঠে এল সঙ্গে সঙ্গে। —“ও খেলা দেখতে এসেছে হুজুর।”

বিষম খেলেন দিকপতি। —“খেলা দেখতে এসেছে মানে!”

অনর্থ অবশ্যম্ভাবী। তাই এসে দাঁড়ালেন মেজোবাবু স্বয়ং। —“ও স্যার বিশ্বকাপের খেলাগুলো দেখার জন্য আসে। বিশ্বকাপ শুরুর দিন থেকেই আসছে, প্রতিদিন। আজ সেই সাড়ে সাতটার ম্যাচটা থেকেই বসে।”

হাঁ করে রইলেন দিকপতি। এলাকার একটা কুখ্যাত চোর এসে থানায় বসে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে একত্রে টিভি দেখছে! সাতদিন মাত্র ছিলেন না থানায়। স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে ছুটি নিয়ে গিয়েছিলেন বাড়িতে। তাঁর অনুপস্থিতিতে এখানে এতদূর? লোকে যে বলে, চোর পুলিশ ভাই ভাই—ভুল বলে না তাহলে?

ধাতস্থ হয়েই কৈফিয়ত চাইলেন মেজোবাবুর কাছে, “আপনারা ওকে অ্যালাউ করলেন কী করে?”

মেজোবাবু নিরুত্তর।

মুহূর্তে দিকপতি হুংকার ছাড়লেন সনাতনের উদ্দেশে, “বেরো এক্ষুনি, বেরো হতভাগা থানা থেকে!”

সনাতন বিব্রত, মুখ কাঁচুমাচু তার। এই একটা কারণেই বড়োবাবুকে তার ভয়। রাগলে আর হিতাহিত জ্ঞান নেই।

কিন্তু সে-জ্ঞান আছে যাঁর, সেই মেজোবাবু বড়োবাবুকে শান্ত করেন চাপা স্বরে, “বাড়ি বাড়ি, পাড়ায় পাড়ায় লোকে মগ্ন টিভিতে বিশ্বকাপে। এখন এ-সময় ওকে ছেড়ে রাখলেই বিপদ স্যার! বরং এখানে আমাদের চোখের ওপর আছে। তাই স্বেচ্ছায় যখন এসেছে থানায়, আমি আর বাধা দিইনি। এতে আমাদেরই মঙ্গল স্যার!”

দিকপতি ঘটনাটার গুরুত্ব বুঝে শান্ত হলেন। কিন্তু নিশ্চিন্ত হলেন না। ব্যক্তিটি যখন সনাতন তখন ব্যাপারটা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। যাঁরা ওকে চেনেন তাঁরা জানেন এ-বস্তুটি আসলে কী।

সুতরাং ব্যাটার এই স্বেচ্ছা-প্রবেশের মধ্যেও কোনও চাতুরি আছে বলে সন্দিগ্ধ হলেন দিকপতি। আঙুল নাচিয়ে তাকে কাছে ডাকলেন, “এদিকে শোন।”

ধীর পায়ে এগিয়ে এল সনাতন। —“এজ্ঞে, বলেন।”

“সত্যি করে বল, এখানে কী মতলবে?”

“এই ন্যান, মতলব আবার কী হবে?” সনাতন নির্দোষ হাসি হাসে।

“এত জায়গা থাকতে টিভি দেখতে থানায় কেন বাপু? থানার প্রতি এত টান?”

“তবে কার বাড়ি যাব, বড়োবাবু? কে আমারে ঢুকতি দেবে? পাড়ার কেলাবে পর্যন্ত আমার ঢোকার জো নাই।”

“জো হবে কী করে? চারদিকে তোর সুখ্যাতি কম?”

“কী করব, বড়োবাবু? চুরি আমার পেশা। আবার ফুটবল খেলা দেখা আমার নেশা। জানেন, আশেপাশে দশ-বিশ মাইলের মধ্যে ভালো খেলা থাকলি সে-মাঠের ধারে আমারে পাবেন। আমি কতবার কলকাতা গে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের খেলা দেখে আসিছি জানেন? আমি আসলে ফুটবল পাগল।”

“সহি বাত বড়াবাবু।” হাবিলদার ঘুঙ্ঘুট সিং সায় দেয়।

“এই বিশ্বকাপের জন্য জানেন কত ক্ষেতি হতিছে আমার?” উৎসাহিত কণ্ঠে বলে সনাতন, “এখন আমার কোনও কাজকম্মে মতি নাই। রোজগারপাতি নাই। ফুটবল না ভালোবাসলি পুঁজি ভাঙি এখন বসি বসি খাই?”

“বিশ্বকাপের তুই কী বুঝিস?” দিকপতি বাজিয়ে দেখতে চান।

রুখে ওঠে সনাতন, “ক্যান বড়োবাবু, গরিবদের, মুখ্যুদের কি ফুটবল ভালোবাসতে নাই?”

“বেশ, বল বিশ্বকাপ ফুটবল ক’দিন অন্তর অন্তর হয়।”

“চার বছর।”

“এবার কোথায় হচ্ছে বিশ্বকাপ?”

“ফেরানসে।”

“কতগুলো দেশ খেলছে এবার?”

“বত্রিশটা।”

“আগেরবারের চ্যাম্পিয়ান কারা?”

“পেলের দেশ, বাজিল।”

“পেলে কে জানিস?”

“জানবনি! যে-বার পেলে কলকাতা আসিছিল মোহনবাগানের সঙ্গে ম্যাচ খেলতি, কলকাতা ছিলাম তিনদিন। রাত জাগি লাইন দে লটারির টিকিট কিনিছিলাম পাঁচটা, খেলার টিকিট পাবার জন্যি। টিকিট পাই নাই। তেনারে দেখাও হয় নাই, এমন অদ্দেষ্ট!”

বড়োবাবু রোমাঞ্চিত। এলেম আছে হতভাগার! মনটা নরম হয়ে গেল। প্রশ্রয়ের সুরে বললেন, “তুই কার সাপোর্টার?”

“এজ্ঞে, বাজিলের।”

“আমিও!” শিশুর মতো উচ্ছ্বাসে দিকপতি গগন ফাটালেন।

সকলে তাজ্জব।

চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে বসলেন দিকপতি। —“আজই তো ব্রাজিলের খেলা!”

“আজ্ঞে হ্যাঁ, নরওয়ের সঙ্গে, রাত সাড়ে বারোটায়।” বলে রতিকান্ত সেপাই। —“এখন চিলি-ক্যামেরুন ম্যাচের রেকর্ডিং দেখাচ্ছে স্যার।”

“দেখছ দ্যাখো, কিন্তু ডিউটিতে যেন কোনও গাফিলতি না হয়। সাবধান!” সতর্ক করলেন দিকপতি সহকর্মীদের। তারপরেই মেজোবাবুর কাছে গত সাতদিনের রিপোর্ট চাইলেন।

“সে-সব কাল সকালে হবে স্যার।” মেজোবাবু গদগদ কণ্ঠে বললেন, “আজ আপনি রিল্যাক্স করে খেলা দেখুন। তবে জেনে রাখুন, এলাকা পিসফুল। নো গড়বড়।”

হাতঘড়িতে সময় দেখে দিকপতি উঠে পড়লেন। —“আমি তবে বাসা থেকে ফ্রেশ হয়ে আসি। তুই বসে খেলা দেখ, সনাতন।”

বারোটার আগেই দিকপতি থানায় টিভির সামনে এসে উপস্থিত। ব্রাজিলের ম্যাচ বলে কথা। ইয়ার্কি নাকি? থানা জমজমাট। পুলিশকর্মীরা শুধু! লক-আপের আসামিদের চোখও গারদের ওদিক থেকে টিভিতে।

বাসায় গিয়ে কাজের লোক জগদীশের কাছ থেকে বড়োবাবুর খাবার নিয়ে এল সেপাই রামলগন। গরম পরোটা আর ছোলার ডাল। নিজে খেলেন দিকপতি, সনাতনকেও জবরদস্তি খাওয়ালেন। সাড়ে সাতটা থেকে পেটে কিল মেরে বসে—ভাবা যায়!

কিন্তু এত উৎসাহ, এত তোড়জোড় নিমেষে ধুয়ে সাফ। ব্রাজিল হেরে গেল শেষ মুহূর্তে, পেনাল্টি গোলে। দিকপতি ঊরুতে চাপড় কষালেন। —“অন্যায় পেনাল্টি!”

“ব্রাজিলকে জোর করে হারাল!” চেঁচালেন মেজোবাবু।

হেরম্বপুর থানাই এখন সাও-পাওলো শহর। কিন্তু সকলকে ছাপিয়ে গেল সনাতনের উচ্চ স্বর। হাউ হাউ করে কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ল সনাতন।

বেকুব বনে গেলেন দিকপতি। ত্রিশ বছর পুলিশের চাকরি করছেন। অনেক কান্না শুনেছেন। কোনও কান্নাই তাঁকে টলাতে পারেনি। আজ সনাতনের কান্নায় মনটা হু হু করে উঠল। একটা চোর, অথচ ফুটবলের জন্য, ব্রাজিলের জন্য তার কী আকুতি!

কিছুক্ষণ থ হয়ে ছিলেন। তারপর নিজেই ঝুঁকে পড়ে সনাতনের পিঠে হাত রাখলেন। —“ওঠ ওঠ, কাঁদিস না সনাতন। আজ হেরেছে তো কী হয়েছে? এটা গ্রুপ লিগ।”

কান্নার রব এবার দ্বিগুণ।

“ওরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে অন্য খেলা দেখবি। এর নাম ব্রাজিল।”

অনেকক্ষণের সান্ত্বনায় উঠে দাঁড়ায় বিধ্বস্ত সনাতন। —“আমার মন ভাঙি গেছে, বড়োবাবু!”

“তুই এ-কথা বলছিস? রোনাল্ডো-লিওনার্দোরা কী বলবে তবে! ওদের জন্য মন শক্ত কর। সামনে তো আরও বড়ো লড়াই।”

প্রায় আড়াইটা নাগাদ টলতে টলতে থানা থেকে বিদায় হল সনাতন।

***

বেলা দশটা নাগাদ একটা খবর পেলেন দিকপতি। খরবটা এনেছে এক ইনফর্মার। ভোররাতের দিকে তাঁতি পাড়ায় একজনের চালতাগাছে উঠে কী করছিল সনাতন। বাড়ির মালিকের বক্তব্য, গাছের মাথায় বাঁধা টিভির অ্যান্টেনা খুলতে গিয়েছিল সে। পারেনি, ধরা পড়ে গেছে।

মেজোবাবু বললেন, “কই, থানায় তো কেউ আসেনি রিপোর্ট লেখাতে! তাছাড়া এমন ঘটনা কোনোদিনও ঘটেনি আমাদের এলাকায়। ঘটলে কমপ্লেন আসত।”

বড়োবাবু বললেন, “মিথ্যে ফাঁসাবার মতলব। ও চুরি করবে কী, যা মনের অবস্থা দেখলাম! ব্যাটা শোকে গাছে উঠে ঝাঁপ দিতে গিয়েছিল নিশ্চয়ই।”

ওয়্যারলেস অপারেটর তপন বক্সী সমর্থন জানিয়ে বললেন, “ব্রাজিলে এমন অনেক হয়।”

***

সন্ধেবেলা যথাসময়ে সনাতন উপস্থিত হতেই তাকে খুব ধমকালেন দিকপতি, “তোর কি ভীমরতি ধরেছে! ব্রাজিল এর আগে হারেনি? ছিয়াশিতে, নব্বইয়ে তো হেরেই বিদায় নিয়েছে। তখনও কি একবার করে ঝাঁপ দিয়ে মরেছিলি?”

সনাতন মৃদু হাসছে মাথা নীচু করে।

যাক, ব্যাটা নিজেকে সামলে নিয়েছে, বুঝলেন দিকপতি।

মাঝরাতে স্পেন-বুলগেরিয়ার খেলা। খেলা শেষে হাসি হাসি মুখ করে বের হল সনাতন। দিকপতির নির্দেশে দূরত্ব রেখে গোপনে তার পিছু নিল ঘুঙ্ঘুট সিং।

খবর মিলল ভোরবেলা। চুরি-টুরি কিছু করেনি, কিন্তু হেরম্বপুরের সম্ভ্রান্ত অঞ্চল সুভাষচকের বহু পাকাবাড়ির দেয়াল বেয়ে কার্নিশে কার্নিশে, ছাদে ছাদে হেঁটে বেড়িয়েছে সনাতন একেবারে শেষরাত অবধি।

দিকপতি মাথা চুলকোলেন। —“ব্যাপার কী!”

মেজোবাবু বললেন, “আমি আগের বিশ্বকাপের সময় ছিলাম নন্দীপুর থানায়। সে-বার সেখানে টিভির অ্যান্টেনা, অ্যান্টেনার তার ইত্যাদি খুব চুরি যাচ্ছিল। বাড়ছিল ওদিকে দোকানে দোকানে অ্যান্টেনা ও তারের ভীষণ বিক্রি। শেষে পাকড়ালুম। বিক্রি বাড়াবার জন্য এক ব্যবসায়ীই করাচ্ছিল চুরি। চক্রান্ত ফাঁস হতেই তার হাজতবাস। কিন্তু এখানে তো চুরি-টুরির নালিশ নেই।”

***

সন্ধেবেলা সনাতন আসতেই তাকে নিয়ে পড়লেন দিকপতি। —“শুনলাম, কালও নাকি মরতে গিয়েছিলি?”

“ভুল শুনিছেন।”

“তবে কার্নিশে, ছাদে হেঁটে বেড়িয়ে তোর কী লাভ?”

থমকে গেল সনাতন। —“আমার পিছনে লোক লাগায়েছেন মনি হতিছে। ভয় নাই, বিশ্বকাপ যতদিন চলবে, আমি ও-কাজ করবনি। এ আমার পিতিজ্ঞা।”

“তবে তোর হাঁটাহাঁটির মানেটা কী?”

“বডিটারে ফিট রাখতিছি বড়োবাবু। খেলোয়াড়দের দেখেননি? শুধু ম্যাচের দিনই হুটোপাটি করে? অন্যদিনও সমান কসরত করি যায়। আমিও তেমন চর্চা করি যেতিছি। এক-দেড় মাস পরে ফের কাজে নামতি হবে তো! অনভ্যাসে বিদ্যে হ্রাস হইয়ে পড়বেনি!”

দিকপতি আর কী বলেন। হাঁ হয়ে রইলেন।

মেজোবাবু থানায় ছিলেন না। ফোর্স নিয়ে গিয়েছিলেন ধুবুলি গাঁয়ে একটা মারামারির খবর পেয়ে। ফিরলেন ন’টা নাগাদ। দূরদর্শনে তখন মেক্সিকো-হল্যান্ড ম্যাচ শেষ। পরের ম্যাচ বেলজিয়াম-দক্ষিণ আফ্রিকার, রেকর্ডিং দেখা যাবে অনেক পরে, সেই দশটা বত্রিশে।

এসেই দিকপতির উদ্দেশে বললেন, “এই রেকর্ডিংয়ের ভরসায় থাকা যায় না স্যার। কীসব উত্তেজক ম্যাচ! ক্যাবলের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলি দেখাচ্ছে সরাসরি। এবার থানায় ক্যাবল-টিভির একটা লাইন নিয়ে নিন স্যার, মন্দ কী?”

দিকপতি বিরক্ত হলেন। পুরাতন প্রসঙ্গ নতুন করে তুলে লাভ কী? ক্যাবল অপারেটর তো থানায় কানেকশন দিতে পারলে বর্তে যায়। তবুও দিকপতি নেননি। বিনি পয়সায় হোক আর পয়সায় হোক, এটা তাঁর না-পসন্দ। মেজোবাবু ভুলে গেলেন নাকি!

বড়োবাবুকে নিরুত্তর দেখে সনাতনও খোঁচায়, “আপনি যদি আজ্ঞা করেন বড়োবাবু, আমি আধঘণ্টার মধ্যি লাইন জুড়ি দেবার বন্দোবস্ত করতি পারি।”

সনাতনকে অত্যুৎসাহী দেখে চাগালেন দিকপতি, “আধঘণ্টার মধ্যে এনে দিবি!”

“আলবাত!”

“অতই সোজা!” মুখ ফিরিয়ে নিলেন দিকপতি।

“বিশ্বেস হতিছে না? আজ্ঞা করি দেখেন। আমি যা বলব, এখন ওরা তাই শুনবে। এই তো আমার মাসোহারা ছিল একশো টাকা, তিন বছর ওই একই।” গড়গড় করে চলে সনাতনের কথার গাড়ি। —“এ-মাসে বললাম, হবেনি, আমার ক্ষয়-ক্ষেতির মাস, তিনশো চাই। এককথায় রাজি।”

দিকপতি এগোচ্ছেন রহস্যভেদের লক্ষ্যে। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শুধোলেন, “তোকে সত্যি সত্যি কিছু দেয় নাকি?”

“দেবে না! যদি কেটি নিই তারগুলি, কম ক্ষেতি?”

“দূর বোকা! ওই তার কেটে ক’পয়সা পাবি? ভারী ভারী বোঝা, শুধু বয়েই মরবি।”

“জানি হুজুর। ওরাও জানে। কিন্তু বার বার কাটাকাটি—ওদের বিড়ম্বনা, ছোটাছুটি। তাই আমারে তুষ্ট রাখে।”

দিকপতি বোকা বোকা হাসি হাসলেন। লক্ষ্যে পৌঁছতে আর একটু বাকি।

একটু থেমে নিজেই বলে সনাতন, “অবিশ্যি আমিও ওদের অনেক উপকার করি বড়োবাবু। অনেক গেরস্থর টিভির অ্যান্টেনা নাড়াঘাঁটা করি দিই। একবার-দু’বার না, বার বার। কিছুদিন বাদবাদই। শেষে তারা বিরক্ত হয়ি গে কেবেলের লাইন নিয়ি নেয়। ওদের আয়ও বেড়ি যায় তাতে।”

চোখ বিস্ফারিত দিকপতির রহস্যের জট খুলে যাওয়াতে। —“তবে গাছের মাথায়, বাড়ির কার্নিশে, ছাদে এই কারণেই তোর নৈশভ্রমণ?”

“হ, বড়োবাবু।” আকর্ণবিস্তৃত হাসি সনাতনের। —“রাগ করতি পারবেননি হুজুর। এটা কিন্তু চুরি নয়। বিশ্বকাপ যতদিন চলবে, চুরি মোটেই করবনি। পিতিজ্ঞে করিছি!”

হযবরল, বর্তমান, ২ জুলাই ১৯৯৮

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%