দ্বৈরথ

নির্বেদ রায়

সভ্যতার আদিমকাল থেকে মানুষে মানুষে শুরু হয়েছে অন্তর্দ্বন্দ্ব, কলহ, সংঘাত। কখনো তা এসেছে অধিকার রক্ষার প্রশ্নে, আবার কখনো রাজনৈতিক ক্ষমতালিপ্সাকে চরিতার্থ করার মধ্য দিয়ে। কখনো এই দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তি হয়েছে প্রাচীন এবং মধ্যযুগীর পন্থায়—অসিযুদ্ধে, আবার কখনো বা মহাযুদ্ধের বিস্তীর্ণ রণাঙ্গণে। মানুষের এই সংঘাতের কাহিনিকে লিপিবদ্ধ করে রচিত হয়েছে ইতিহাস।

কিন্তু মানুষই এই পৃথিবীর একমাত্র বাসিন্দা নয়। তাই পৃথিবীর এক বিরাট অংশ জুড়ে, জনপদের প্রান্তসীমায় বিস্তৃত রয়েছে যে বিশাল অরণ্য-সাম্রাজ্য, তার অধিবাসীরা সভ্যজগতের কলহ, সংঘাত অথবা রাজনীতির ধার ধারে না। ফলে, ওই রাজত্বের নিয়ম-শৃঙ্খলাগুলো চিরন্তন, অপরিবর্তিত। সভ্য জগতের সংশ্রবমুক্ত অরণ্য জগতের অধিবাসীরা জানে শুধু একটি কথা—'হয় মারো, নয় মরো'—শক্তিই এখানে একমাত্র যুক্তি।

আমাদের বর্তমান কাহিনিতে এই উক্তির যথেষ্ট প্রমাণ মিলবে বলেই আমার ধারণা।

ব্রিটিশ অধিকৃত ভারতবর্ষে আগত জনৈক শ্বেতাঙ্গ শিকারি মিঃ স্নিলকের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, ভারতের মধ্যপ্রদেশে অবস্থিত 'তকতুরপানি' নামক পর্বতবেষ্টিত এক অরণ্য অঞ্চল আমাদের কাহিনির পটভূমি। উক্ত অঞ্চলের অরণ্যভূমি ছিল শ্বাপদসঙ্কুল। এই ধরনের জায়গা সাধারণত কোনো ভদ্রলোকের পক্ষে খুব আরামপ্রদ এবং নিরাপদে বাসযোগ্য স্থান হিসাবে পরিগণিত হতে পারে না, ফলে ওই সময় মিঃ স্নিলক যে উক্ত অঞ্চলে নিছক ভ্রমণবিলাস বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করবার জন্য তাঁবু ফেলেননি, এ কথা সহজেই বোঝা যায়।

স্নিলকের নিজের কথাতেই আমাদের কাহিনি শুরু করছি।

''তকতুরপানিতে আমার তাঁবু ফেলার প্রধান কারণ হল, এই অঞ্চলে সম্প্রতি একটা বাঘ প্রায়ই স্থানীয় গাড়োয়ানদের উপর হানা দিয়ে ফিরছিল এবং ক্রমে সেটা একটা নরখাদকে পরিণত হয়েছিল। অন্যান্য নরখাদক বাঘের মতো স্বভাবচরিত্রে এটাও ছিল প্রায় একইরকম—অসম্ভব ধূর্ত। আমি নিজে বহুবার জন্তুটাকে 'মোষের টোপ' দিয়ে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনোবারই সেটা ফাঁদে পা দেয়নি, অসম্ভব বুদ্ধির জোরে মৃত্যুকে এড়িয়ে গেছে। আর আশ্চর্য! বাঘটাকে কোনোদিনই জোৎস্নারাতে দেখা যেত না। চাঁদের আলোয় সে যেন হাওয়ায় মিলিয়ে যেত। সুতরাং ক্রমে ক্রমে আমার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যেতে লাগল। শেষ পর্যন্ত আমি আর আমার পাঠান সঙ্গী নাদির খান একটা মতলব আঁটলাম।

আমরা জানতাম যে, নিকটবর্তী জলাশয়ের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি ক্ষীণস্রোতা স্রোতস্বিনী রয়েছে। সুতরাং ওই জলাশয়ের আশেপাশে কোনো জায়গায় অপেক্ষা করলে আমরা নিশ্চিত বাঘটার দেখা পাব, কারণ, জলপান করতে তাকে ওই জলাশয়ে আসতেই হবে।

আমাদের অভিপ্রায় মতো যখন আমি, নাদির খান এবং মাথু গণ্ড নামে একজন স্থানীয় পথপ্রদর্শক, এই তিনজনে জলাশয়ের পাড়ে এসে পৌঁছলাম তখন অরণ্যের পশ্চিমপ্রান্তে রক্তসূর্যের আভা ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে। পরিবর্তে নেমে আসছে রাত্রির কৃষ্ণ আবরণ। আমরা আশ্রয় নিলাম চারদিক কাঁটাঝোপে ঘেরা ছোট্ট অথচ পরিষ্কার একখণ্ড জমির উপর। আমাদের উন্মুক্ত দৃষ্টিপথে সম্মুখের বিস্তৃত জলাশয়ের পাড় পরিস্কার দৃশ্যমান। সময় আস্তে-আস্তে এগিয়ে আসছিল গভীরতর রাত্রির অপেক্ষায়।

রাত প্রায় ন'টা...

জলাশয়ের তীরবর্তী ফাঁকা জমির উপর আত্মপ্রকাশ করল কয়েকটি সচল ছায়া। একটা—দুটো—তিনটে—চারটে, চার-চারটে অতিকায় মার্জার। বাবা, মা এবং দুটি প্রায়-প্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চাদের নিয়ে একটি সম্পূর্ণ প্যান্থার পরিবার। দুটি অপেক্ষাকৃত ছোট তরুণ-বয়স্ক প্যান্থার এবং মা-প্যান্থারের সহযোগে দলটিকে নির্দ্বিধায় বেশ একটু বিপজ্জনক বলেই চিহ্নিত করা যেতে পারে। উপরন্তু, পরিবারের কর্তা পুরুষ প্যান্থারটি আকৃতিতে ছিল বিশাল। নির্বাক দর্শকের ভূমিকায় বসে বসে আমরা সেই অতিকায় মার্জার বাহিনীর ক্রিয়াকলাপ লক্ষ্য করছিলাম। হঠাৎ, জলপানে বিরত হয়ে পুরুষ প্যান্থারটি পাড়ের দিকে ঘাড় ফেরাল। বুঝলাম, আমাদের চোখ ও কানের অগোচরে কোনো কিছুর অবস্থিতি তাকে উৎকর্ণ করে তুলেছে। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না। স্বল্পকালের মধ্যেই একটি ক্ষীণ অথচ দ্রুত খুরের শব্দ আমাদের সজাগ কর্ণেন্দ্রিয়ে আঘাত করল। খুরের শব্দ ক্রমশ স্পষ্টতর হল এবং অবশেষে অরণ্যের অভ্যন্তর থেকে আত্মপ্রকাশ করল এক বিরাট বন্য বরাহ।

জলাশয়ের পাড়ে একটু দূরেই চার-চারটি চিতাবাঘের মারাত্মক সান্নিধ্য যে তাকে খুব একটা বিচলিত করেছে এমন মনে হল না, কারণ ফোঁটা-কাটা বিড়ালগুলোর দিকে না তাকিয়েই সে তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ঘোঁৎ! ঘোঁৎ! করতে করতে স্রোতস্বিনীর নিকটবর্তী হয়ে জলপানে মনোনিবেশ করল।

অন্য দিকে পুরুষ প্যান্থারটার ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটছিল। রবাহুত হতচ্ছাড়া জানোয়ারটার মতিগতি সম্ভবত তার আত্মসম্মানে ঘা দিয়ে থাকবে। তার সুদীর্ঘ লাঙ্গুল এপাশে ওপাশে আন্দোলিত হয়ে অধীর আক্রোশে আছড়ে পড়ছিল মাটির উপর। যদিও দলগত শক্তির বিচারে বন্য শূকরটা ছিল দুর্বলতর প্রতিদ্বন্দ্বী, তবু প্রাথমিক পর্যায়ের লড়াই-এর কথা চিন্তা করেই পুরুষ প্যান্থারটি বরাহটাকে আক্রমণ করতে একটু দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছিল। বোধহয় ওই ছোপওয়ালা বেড়ালগুলোকে শূকরটার ঠিক পছন্দ হচ্ছিল না। অত্যন্ত বিরক্তির সঙ্গে সে জলপানে বিরত হয়ে একবার অনতিদূরে দণ্ডায়মান জন্তুগুলোর দিকে মনোযোগ সন্নিবিষ্ট করল। তারপর বিদ্যুৎগতিতে সোজা তেড়ে গেল গোটা দলটাকে লক্ষ্য করে।

পরিণতি হল আশ্চর্য রকমের হাস্যকর।

বন্যবরাহের তীব্রগতির আক্রমণ এবং তার ওষ্ঠের প্রান্তদেশে শাণিত কিরীচের মতো ভয়ংকর দাঁত দুটির সংস্পর্শে এলে তার ফল কি দাঁড়াবে সে সম্পর্কে মার্জারবাহিনীর সম্যক ধারণা ছিল বলেই মনে হল। বন্যপ্রাণীর তীব্র অনুভূতি দিয়ে ততক্ষণে তারা বুঝে নিয়েছে যে এ শিকার সহজ নয়—এর মারাত্মক সান্নিধ্য এড়িয়ে সরে পড়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ফলে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে রণে ভঙ্গ দিল চার-চারটে জানোয়ার। আপদ বিদায় হওয়াতে নিশ্চিন্ত মনে ফিরে এল বন্য বরাহ। তারপর আবার জলপানে মনোনিবেশ করল যথারীতি। জলপান শেষ করে এবং জলাশয়ের তীরবর্তী গাছের গায়ে গা-ঘসে প্রায় আধঘণ্টা পরে সে ধীরে-ধীরে স্থানত্যাগ করল...

নরখাদক বাঘটির জন্য অপেক্ষা করতে করতে সামান্য তন্দ্রাভাব এসেছিল মিঃ স্নিলকের।

আচম্বিতে ভয়ংকর এক গর্জনধ্বনিতে কেঁপে উঠল স্রোতস্বিনীর তীরবর্তী অরণ্যভূমি। মিঃ স্নিলক এবং তাঁর সঙ্গীদের মনে হল যে বাঘটা বোধহয় ঠিক তাঁদের পিছনেই আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছে। আবার সেই প্রচণ্ড গর্জনধ্বনি। একবার নয়, পর পর কয়েকবার। তারপর সেই গর্জনের সঙ্গে মিশল এক বিজাতীয় ঘোঁৎ-ঘোঁৎ শব্দ। ভুল ভাঙল শিকারিদের, কিন্তু বুঝতে বাকি রইল না আসল ঘটনা। জলাশয়ের পাড়ে ঝোপের মধ্যে শিকারের জন্য অপেক্ষমান বাঘ মারাত্মক ভুল করেছে—বুদ্ধিভ্রষ্টের মতো আক্রমণ করে বসেছে পূর্বোক্ত বন্য শুকরটিকে। মিঃ স্নিলক মনে মনে বেশ খানিকটা পুলকিতই হলেন। বাঘটা যদি তাঁর প্রার্থিত নরখাদকটা হয়ে থাকে তাহলে সে যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বীর পাল্লায় পড়েছে।

অরণ্য জীবনের এই বিরল মুহূর্তগুলো খুব কম ভাগ্যবানের জীবনেই চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা হিসাবে সংগৃহীত হয়, সুতরাং মিঃ স্নিলকের পক্ষেও লোভ সামলানো সম্ভব হল না। ধীরে ধীরে তাঁরা তিনজনই তাঁদের আশ্রয়স্থল থেকে বেরিয়ে এসে এগিয়ে গেলেন অকুস্থলের দিকে, যেখানে মৃত্যুপণ দ্বৈরথে অবতীর্ণ হয়েছে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী—ভারতীয় অরণ্যভূমির দুই মহারথী, কেঁদো বাঘ ও বুনো শুয়োর। খানিক দূর এগিয়েই লড়াইয়ের প্রথম চিহ্নটি চোখে পড়ল। সামনের মাটিতে একখণ্ড সাদা চকচকে বস্তু। পাণ্ডুর চাঁদের আলো বস্তুটির উপর প্রতিফলিত হওয়ার ফলে অন্ধকার রাত্রেও সেটি শিকারিদের দৃষ্টিগোচর হল। মিঃ স্নিলক কৌতূহলী হয়ে বস্তুটিকে তুলে নিলেন—একখণ্ড চর্বি। বরাহের রুক্ষ গাত্রচর্মের সঙ্গে সংলগ্ন চর্বিখণ্ডটি তখনও থিরথির করে কাঁপছিল।

যুদ্ধের প্রাথমিক পর্বের ফলাফল।

রক্তের রেখা এইখান থেকে এগিয়ে চলেছে বিক্ষিপ্ত রণক্ষেত্রকে চিহ্নিত করে। মিঃ স্নিলকের সঙ্গী পথপ্রদর্শক মাথু গণ্ড রক্তের রেখাকে অনুসরণ করে সর্বপ্রথমে অগ্রবর্তী হল। তাঁর পশ্চাদ্ধাবন করলেন শ্বেতাঙ্গ মিঃ স্নিলক এবং তাঁর পাঠান সঙ্গী নাদির খান। অরণ্য জীবন সম্পর্কে মাথু গণ্ডের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান এবং তীব্র অনুভূতির সাহায্যে সমগ্র ঘটনা অনুমান করতে তাঁর একটুও অসুবিধা হল না।

ক্ষুধার্ত বাঘ যখন শিকারের আশায় এবং জলপান করতে পূর্বোক্ত জলাশয়ের দিকে আসছিল, তখন বেশ কিছুটা দূর থেকেই জলাশয়ের পাড়ে বন্য বরাহের উপস্থিতি তাঁর তীব্র অনুভূতিতে ধরা পড়ে। ক্ষুধার্ত শ্বাপদ শিকারের অপেক্ষায় প্রস্তুত হয়। সাধারণত কোনো বাঘই একটি পূর্ণবয়স্ক ভারতীয় বুনো শুয়োরকে আক্রমণ করার কথা চিন্তা করে না, কিন্তু যেহেতু এই বাঘটি অত্যন্ত ক্ষূধার্ত ছিল, সেই কারণেই এই ব্যতিক্রমটি ঘটে যায়। শূকরের অবস্থিতি জানতে পারার সঙ্গে-সঙ্গেই বাঘটি ঝোপের আড়ালে আত্মগোপন করে এবং জলপান শেষ করে যখনই শূয়োরটি ফেরার পথ ধরে অগ্রসর হয়, তখনই অকস্মাৎ শিকারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাঘ হয়তো শূকরটিকে একটা গৃহপালিত গরু অথবা মোষের মতোই অনায়াসে নিহত করবে বলে চিন্তা করেছিল, কিন্তু আক্রান্ত বরাহ তার সে চিন্তায় সায় দিল না। ফলে আক্রমণের প্রথম ধাক্কা সামলে নিয়ে বরাহ তার প্রচণ্ড শক্তিকে প্রয়োগ করে নিজেকে শত্রুর কবলমুক্ত করতে। খানিকক্ষণের প্রচেষ্টায় সে সাফল্য লাভ করে এবং পরমুহূর্তে শত্রুর দেহকে সন্ধান করে বারবার শূন্যে আন্দোলিত হয় বরাহের দুটি শাণিত কিরীচ। ভয়ংকর দাঁত দুটোর মারাত্মক সান্নিধ্যে এসে, বাঘ কিছুক্ষণের মধ্যেই উপলব্ধি করে নিজের নির্বুদ্ধিতার গুরুত্ব, কিন্তু জঙ্গলের আইনে প্রায়শ্চিত্তের সুযোগ খুব কমই পাওয়া যায়। ফলে বরাহের দন্তাঘাতে সাংঘাতিকভাবে আহত বাঘ যখন রণভূমি ছেড়ে পশ্চাদপসরণ করে তখন তার অন্তিম সময় নিকটবর্তী। কিন্তু 'বেড়ালের ন'টি প্রাণ'। সুতরাং সেই অতিকায় মার্জার মরণাহত হয়েও সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেনি। আরও কয়েকবার দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর টুকরো টুকরো সংঘাতে রণক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়েছে বিক্ষিপ্তভাবে। গাছের গায়ে, ঝোপে-ঝাড়ে ইতস্তত চোখে পড়ল টুকরো টুকরো ঝুলে থাকা হলুদ কালো পশমী গাত্রচর্মের ফালি। আর একটু এগোতেই দ্বৈরথ যুদ্ধের অন্যতম নায়কের দেখা মিলল। শাণিত কিরীচের মতো দাঁতের নিষ্ঠুর সঞ্চালনে ছিন্ন-ভিন্ন নরখাদকের মৃতদেহ। শুধুমাত্র করোটি এবং পায়ের নখগুলি ছাড়া দেহে আর কিছুই প্রায় অক্ষত নেই। মিঃ স্নিলক সেই অক্ষত অংশগুলিই সংগ্রহ করলেন এই দুর্লভ দ্বন্দ্বযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে।

এরপর বরাহের সন্ধান।

রক্তের ঘনত্ব, বর্ণ এবং পরিমাণ দেখে বোঝা গেল যে বরাহের অবস্থাও খুব একটা ভালো কিছু নয়। সেও সাংঘাতিকভাবে আহত।

মিঃ স্নিলক এবং তাঁর সঙ্গীরা আশা করলেন যে বাঘের মৃতদেহের খুব কাছাকাছিই শুয়োরের সন্ধান মিলবে। অবশ্যই মৃত অবস্থায়।

কিন্তু আশ্চর্য শক্তির অধিকারী ওই বুনো শুয়োর।

ঘন রক্তের চিহ্ন ধরে শিকারি দল যখন মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর শূকরটিকে একটি জলাশয়ের পাড়ে আবিষ্কার করলেন, তখন মূল রণক্ষেত্র ছাড়িয়ে তাঁরা পাক্কা ছ'ছটি মাইল অতিক্রম করে এসেছেন।

শূকরটির অন্তিম যন্ত্রণা শিকারিদের কারুরই সহ্য হচ্ছিল না। ফলে মিঃ স্নিলকের রাইফেল অগ্নিবর্ষণ করে বন্যবরাহকে তার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিল।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%