নীলগিরি পাহাড়ে বাঘ শিকার

নির্বেদ রায়

নীলগিরি পাহাড়ের পাদদেশে যখন সেনাবহিনীর কাজে ঘুরে বেড়াচ্ছি, তখন খবর পাই এক কুখ্যাত বাঘিনির—প্রায় দুশো মানুষ সে মেরেছে—তার মাথার দাম হিসাবে সরকার বড়সড় পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

কিন্তু পুরস্কারের টাকায় তো আর বাঘ ধরা পড়ে না, তার জন্য বুদ্ধিমান শিকারি দরকার। নরখাদকের ক্ষেত্রে আরও বুদ্ধি প্রয়োজন হয়। বোধহয় কিছুটা ভাগ্যের সহায়তাও—কারণ, যে বাঘ দুশো মানুষের বেশি শিকার করেছে, মানুষের চলাফেরা, বুদ্ধি-বিবেচনা, চিন্তাভাবনার একটা ভালোরকম ধারণা তার আছে। সুতরাং, এলাকার লোকজন আর শিকারিদের চেষ্টা এতদিন সফল হয়নি। বাঘিনি তাদের সমস্ত চেষ্টাকে ফাঁকি দিয়ে উধাও হয়েছে।

জঙ্গল খেদানো হয়েছে, বাঘের বা এক্ষেত্রে বাঘিনির দেখা পাওয়া যায়নি। টোপ হিসাবে গৃহপালিত জীবজন্তু রাখা হয়েছে, বাঘিনি ছোঁয়নি পর্যন্ত—কাছাকাছি তার চলাফেরার প্রমাণও মেলেনি। পায়ের ছাপ বা অন্য আর কোনও প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

হতাশ হয়ে যখন খোঁজাখুঁজির আশা ছেড়ে দেব ভাবছি, তখন আমার এক বন্ধুর খবর এল। এটুকু ভাগ্যের জোর থাকতে হয়।

বন্ধুটি সেনাবাহিনীর লোক। সে বাঘিনিটাকে দ্যাখে সরাসরি শিকার ধরতে। এখানে শিকার বলতে এক হতভাগ্য মেয়ে। গ্রামে থাকে। পাহাড়ি গ্রাম। জল নিতে এসেছিল ছোট, সরু নালা থেকে। গ্রাম থেকে একটু দূরে যেখানে পাহাড়ের বুকে ছোট-বড় স্রোত বয়ে যায়, সেখান থেকে লোকজন খাবার জল সংগ্রহ করে। খাবার জল নিতেই মেয়েটা এসেছিল। তখন বাঘিনি তাকে ধরে।

সেনাবন্ধুটি যখন দ্যাখে তখন বাঘিনি তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, মেয়েটি তখন মারা গেছে বলে মনে হয়।

সে দ্রুত ছাউনিতে ফেরে, বন্দুক নেয় আর নেয় কয়েকজন সঙ্গী—কাউকে কিছু না বলে সে বাঘিনিকে ধাওয়া করে। সঙ্গীদের একদম নিঃশব্দে কোনো আওয়াজ না করে তাকে অনুসরণ করতে বলে। সে জানত, 'বিটার'-দের চিৎকার-চেঁচামেচির ফল কী হবে এই বাঘিনির ক্ষেত্রে। বাঘিনি একেবারে নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে, আর কিছুতে তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। খুব তাড়াতাড়ি তারা বাঘিনির খোঁজে বেরোয়...'

এই পর্যন্ত যে বিবরণ আমরা শুনলাম, সেটা ডগলাস হ্যামিলটনের। ১৮৪৪ থেকে ১৮৭০ সাল, তিনি 'মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে' ইংরেজ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত জেনারেল পদের দায়িত্ব সামলেছেন। আট ভাই তাঁরা, সবচেয়ে ছোট ডগলাস। ভাইদের মধ্যে আরও কেউ কেউ সেনাবাহিনীতে ছিলেন। যেমন, রিচার্ড হ্যামিলটন। ওস্তাদ শিকারি, হাতের লক্ষ্য ছিল নিখুঁত। 'হক আই' ছদ্মনামে তিনি 'গেম' বলে বই লিখেছিলেন। কিন্তু সেনাদলে কাজ করলেও ডগলাসের হাতের টিপ ভালো ছিল না। বাহিনীর কাজে ঘুরতে ঘুরতে, কখনো শখ মেটাতে আবার কখনো প্রয়োজনের তাগিদে পশু বা পাখি মারার চেষ্টা করতে করতে একসময় বন্দুক হাতে 'বসে যায়'। ডগলাস বলেছেন তাঁর প্রিয় অস্ত্র ছিল মাজল রাইফেল। ততদিনে তাঁর লক্ষ্য হয়েছিল নিখুঁত। দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম ভাগে পাহাড়, জঙ্গলে, গুহা-কন্দরে ঘুরতে ঘুরতে অনেক শিকার করেছেন ডগলাস, তাঁর সঙ্গীরাও অনেক অভিজ্ঞতার সাক্ষী। নয়-নয় করে চোদ্দোটা খাতায় লেখা সেই পাণ্ডুলিপি সংকলন করেছেন তাঁর ভাই এবং বন্ধুরা।

'বাঘের সম্পর্কে জানা যা-কিছু সেটা ওই সময়ে। আমার একটা দূরবিন ছিল, সেনাবাহিনীর লোক হিসাবেই দূরবিনটা পেয়েছিলাম। ক্ষমতাশালী দূরবিন, মানে বহুদূর থেকে বাঘ বা অন্য জন্তুর গায়ের লোম পর্যন্ত পরিষ্কার দেখা যেত। সেই দূরবিন নিয়ে পর্যবেক্ষণ করে জানোয়ারদের বহু স্বভাবচরিত্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়ে উঠেছিলাম। হয়তো বা বহু পেশাদার শিকারির চেয়েও ভালোভাবে ওদের চালচলন বুঝতে পারতাম।

তবে সবটুকু দূরবিন দিয়ে হয়নি, বোধকরি হয়ও না। যেমন বাঘের চলাফেরা, তার অরণ্যে বা মাঠে-প্রান্তরে গা-মিলিয়ে লুকিয়ে থাকা। বাঘের চলাফেরা কত নিঃশব্দে হতে পারে, সামনাসামনি তার অভিজ্ঞতা না থাকলে বলা সম্ভব নয়। দু-একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করা দরকার—প্রথম ঘটনা হল—একদিন আমি একটা মোষের খোঁজে বেরিয়েছিলাম, তবে জ্যান্ত নয়, মরা মোষ। বাঘের আক্রমণেই মারা গেছে মোষটা। মোষের প্রকাণ্ড শরীরটাকে টেনে নিয়ে বাঘ পাহাড়ের নীচে একটা ঝোপের কাছে নিয়ে এসেছে। আমি তার একদম কাছে একটা গাছের উপর বসে বাঘটা তখন তার শিকারের কাছে ফিরবে তার জন্য অপেক্ষা করছি। বেশ কিছুদিন এলাকায় বৃষ্টি হয়নি, গাছের পাতা, ডালপালা আর শুকনো ঘাস চারিদিকে—এরকম পরিবেশে বাঘের মতো ভারী দেহের জন্তুর একেবারে নিঃশব্দে ঘোরাফেরা করা সম্ভব নয়, কিছু একটা আওয়াজ আমার কানে আসবেই...

বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকার পর একটা ডাল যেন শুকনো পাতার উপর পড়ল বলে মনে হল। ব্যস, ওইটুকু, আর কিছু না। তবু চোখ-কান সতর্ক হয়ে উঠল। বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেলে তারপরও—ইন্দ্রিয়গুলো ঝিমিয়ে আসতে শুরু করল আবার।

ঠিক এমন সময় আমার ঠিক বিশ গজের মধ্যে যেন মাটি ফুঁড়ে উঠে এল প্রকাণ্ড একটা বাঘ। হাতের অস্ত্র ছিল, তার উপরে দিনের বেলা, রোদ্দুর ঝকঝক করছে, সুন্দর পরিষ্কার আবহাওয়া—ফলে হঠাৎ উদয় হওয়ার ফলে আমার যে স্তম্ভিত ভাবটা এসেছিল, সেটা কেটে যেতে সময় লাগল না। বাঘটাকে গুলি করলাম। কিন্তু তার নিঃশব্দ চলাফেরা আমাকে অবাক করেছিল, শিক্ষাও দিয়েছিল।

নীলগিরি পাহাড়ের কোলে আর পাদদেশে ঘোরাফেরা করার সময় ভারতের বহু জীবজন্তু দেখেছি, যাদের আগে দেখিনি, যাদের চেহারা-চরিত্র জানি না—ফলে বিপদের সম্ভাবনা ছিল, বেশ ভালোরকমই ছিল। এদের ব্যাপারে এলাকার স্থানীয় মানুষ সাহায্য করেছে, যে সাহায্য ছাড়া এই বিবরণ লেখা সম্ভব হতো না। শুধু বিবরণ লেখা নয়, জীবনটাও খোয়াতে হতো কি না বলা যায় না। এখানে শুধু নিজের অভিজ্ঞতা লিখেছি বটে কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার ঝুলিতে অন্য বন্ধু বা স্থানীয় মানুষও নায়ক হয়ে উঠেছে। তাদের গল্পগুলোও অসামান্য।

যেমন যে কাহিনি দিয়ে শুরু করলাম এই লেখা, সেখানে ফিরে যাই। লক্ষ্য করা যায় যে, এ গল্পের সঙ্গে আমার সম্পর্ক সামান্য।

কয়েকজন লোক, যার মধ্যে স্থানীয় লোকজন, বিশেষ করে পাহাড়ি মানুষও ছিল—তাদের সঙ্গে নিয়ে আমার বন্ধু বাঘিনির খোঁজে বেরোয়। জঙ্গল এখানে ঘন, তাই ঘুরপথে ধীরে ধীরে তার খোঁজ করতে করতে শেষ পর্যন্ত একটা পাহাড়ি নালা-র কাছে এসে দেখা মেলে বাঘিনির। নালাতে জল নেই, শুকনো নালা। নালার পাড়ে এসে শিকারসুদ্ধু বাঘিনির দেখা পায় শিকারির দল।

বাঘিনি এক মুহূর্তের জন্য তাদের দেখতে দাঁড়িয়েছিল—ঠিক তখনই গুলি করে আমার বন্ধু। অব্যর্থ লক্ষ্য। বাঘিনি তৎক্ষণাৎ মারা যায়। বন্ধুর নাম বলেননি ডগলাস।

এ হল নরখাদক বাঘিনি শিকার করার কাহিনি। কিন্তু, ডগলাস হ্যামিলটনের 'দাক্ষিণাত্যের শিকার ও তার বিবরণ' বইটিতে সেদিনের নীলগিরি পাহাড় আর অন্যান্য অরণ্যে যে বিপুল সংখ্যায় সম্বর, বুনো মহিষ, বাইসন, হাতি আর লেপার্ড পাওয়া যায় তার রেকর্ড রয়েছে। রয়েছে বাঘ। তার সঙ্গে বড় সংখ্যায় রয়েছে ভালুক, অ্যান্টিলোপ আর নেকড়ে। ছোট জন্তু অজস্র।

হ্যামিলটন পশুদের চেহারা, চরিত্র সব কিছুর বর্ণনা দিয়েছেন। তারা কী খায়, কখন খায় সে সব কিছু তাঁর আলোচনায় জায়গা পেয়েছে। যেমন, তিনি বাঘের 'মাপ' সম্পর্কেও নিখুঁত তথ্যই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই কাজের মধ্যে তিনি নিজের অভিজ্ঞতাপ্রসূত ধ্যানধারণাকে বাদ দেননি। বাঘের শরীরের মাপ দিতে গিয়ে বলেছেন, পূর্ণবয়স্ক বাঘ সাধারণত নয় ফুট থেকে নয় ফুট ছ-ইঞ্চি লম্বা হয়। এক্ষেত্রে বাঘের নাকের ডগা থেকে লেজের প্রান্ত পর্যন্ত মাপা হয়ে থাকে। ডগলাস তাঁর পরিচিত ফরেস্ট রেঞ্জার-এর কাছে যে পূর্ণবয়স্ক বাঘের মাপ পেয়েছিলেন তা হল ন-ফুট পাঁচ ইঞ্চি। কিন্তু সিম্পসন আর শেক্সপিয়রের বর্ণনায় দশ ফুট আট ইঞ্চি আর দশ ফুট চার ইঞ্চি মাপের বাঘের কথা পাওয়া যায়। মাটি থেকে কাঁধ পর্যন্ত চার ফুট উঁচু। নাইটিঙ্গল, দশ ফুট দুই ইঞ্চির একটা বাঘ তাঁর রেকর্ডে রেখেছেন, কিন্তু উচ্চতায় সেটা চার ফুট দুই ইঞ্চি মাপের।

এগুলো সব 'সৃষ্টিছাড়া' ভারতীয় বাঘের মাপ বা দৈর্ঘ্য। সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্ক বাঘের মাপ হল—ল্যাজের দৈর্ঘ্য ২ ফুট ২০ ইঞ্চি, পায়ের গোড়ালি থেকে কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা ৩ ফুট ২ ইঞ্চি, শরীরের মাপ ঠিক ঘাড়ের পরবর্তী অংশে ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি, পুরোবাহু বা ফোর-আর্মের মাপ (বেড়) ২ ফুট ৭ ইঞ্চি, গলার রেড ৩ ফুট, মাথার গোলাকৃতি মাপ ৩ ফুট ৩ ইঞ্চি।

এ ছাড়া ভারতের বিস্তৃত অরণ্যে বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন মাপ পাওয়া যেতে পারে। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাঘ সাইবেরিয়ান টাইগার এবং উত্তর-চিনের বাঘ। ছশো ষাট পাউন্ড ওজন আর মাপ প্রায় ওই ১০ ফুট ৬ ইঞ্চি—এটা সাধারণ বড় বাঘ, সিম্পসন বা শেক্সপিয়রের 'সৃষ্টিছাড়া' মাপের ভারতীয় বাঘ নয়। হ্যামিলটন নিজে সবচেয়ে বড় যে বাঘটা শিকার করেছেন তার মাপ ছিল নয় ফুট তিন ইঞ্চি। তাঁর প্রথম বাঘ শিকার ১৮৫৪ সালের ৯ অগস্ট। একটা ধসের কাছে, ধস মানে পাহাড়ি সম্প্রপাত। পাহাড়ের উপর থেকে একটা বড় হরিণ শিকার করে বাড়ি ফিরছেন ডগলাস, বেশ কিছুটা নেমে আসার পর হঠাৎ চোখের একপাশে একটা নড়াচড়া লক্ষ করেছেন তিনি। যেটা নড়ছে সেটা অনেকটা দূরে।

প্রথমে মনে হল জংলি ভেড়া, দু-তিনটে মিলে নড়াচড়া করছে, তারপর একটু নজর তীক্ষ্ন করতে ডোরা ডোরা দাগ চোখে পড়ল। দূরবিনটা নিয়ে চোখে দিতেই বুঝলাম রাজকীয় চেহারার মালিক একটা চমৎকার বাঘ।

বন্ধু ফ্রান্সিস সঙ্গে ছিল, তাকে বললাম। সে বলল, মারতে হবে জন্তুটাকে। বাড়ি অর্থাৎ বাংলোর থেকে খুব দূরে নয়, তাই বিপজ্জনকও বটে।

অনুসরণের পক্ষে জায়গাটা সুবিধাজনক। বাঘটা খানিকটা দূরে শুয়ে আছে। খুব ধীরে ধীরে পাহাড়ি পথ ধরে বাঘটার পাশ দিয়ে একটা সুবিধামতো জায়গায় এসে পৌঁছোলাম। এতটা নিঃশব্দে যে বাঘ টের পায়নি। উঁচু টিলা আর পাহাড়ের আড়াল থেকে আস্তে আস্তে খেয়াল করলাম যে জায়গা মতো এসে গেছি, এবার গুলি ছোঁড়া যেতে পারে।

প্রথমেই পাথরের আড়াল থেকে চোখে পড়ল জন্তুটার ঘাড় আর প্রকাণ্ড মাথা। বাঘটা বিশ্রাম নিচ্ছে. মনে হল বাঘটা আমাকেই দেখছে, কিন্তু ভুল ভাঙল। বাঘটা একেবারে সোজাসুজি তাকিয়ে আছে, আমরা একটু কোনাকুনি।

ঠিক এই সময় নীচে আমার বাংলোর দিক থেকে দুটো-তিনটে গুলির আওয়াজ ভেসে এল। বাঘ সেদিকে ঘাড় ঘোরাল। আর আমিও গুলি ছুড়লাম। লক্ষ্য অভ্রান্ত, বাঘের কানের নীচে গুলি লাগল। একটা চাপা গর্জন করে বাঘটা শুয়ে পড়ল।

উত্তেজনায় এগিয়ে যাচ্ছিলাম, বন্ধু ফ্রান্সিস ঠান্ডা মাথার মানুষ। আমায় আটকাল, বলল—আর একটা গুলি করো। তার উপর ভরসা করেই দ্বিতীয় গুলি করলাম—এবার বাঘের বুক লক্ষ্য করে। বাঘটা কুঁকড়ে গেল, তারপর শুয়ে পড়ল আবার। ফ্রান্সিস এবারও আমাকে নিরস্ত করল, বলল—আজ বাড়ি ফিরে চলো; কাল আসব। এসে যদি দেখি বাঘটা এখানেই শুয়ে আছে, তাহলে বুঝব ওটা মরেছে, আর যদি না মরে থাকে তাহলে তুমি আর এখানে ওকে পাবে না। মনের ইচ্ছাকে চেপে রেখেই বাড়ি ফিরলাম। বাঘের শুয়ে থাকা শরীরটার কাছে আর গেলাম না।

সারারাত ধরে বাঘটার স্বপ্ন দেখলাম। দেখলাম, সকালে গিয়ে আর বাঘটা নেই, চলে গেছে...। পরের দিন তাড়াতাড়ি ব্রেকফাস্ট সেরেই বাঘটার খোঁজে দুই বন্ধুতে বেরিয়ে পড়লাম। গিয়ে দেখি, বাঘটা পালায়নি, ওখানেই শুয়ে আছে। মৃত। পরীক্ষা করে দেখলাম বাঘটা চার বছরের একটা চমৎকার প্রাণী। উজ্জ্বল গাত্রবর্ণ, চামড়াটিও সুন্দর।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%