সাগরের বুকে চিড়িয়াখানা

নির্বেদ রায়

'বাঘে-বলদে একঘাটে জল খায়।' রাজা-উজিরের প্রতাপ কতখানি তারই বর্ণনা দিতে গিয়ে লোকের মুখে-মুখে এই প্রবাদ বাক্যটা প্রচলিত হয়ে পড়ে। কিন্তু কেন বলা হল না 'বাঘে-মানুষে একঘাটে জল খায়?' কারণটা ঠিক জানি না, তবে এইটুকু বুঝি যে, বাঘ এবং বলদে একসঙ্গে জল খাওয়াটা যখন এতই অপ্রচলিত ব্যাপার, অর্থাৎ বলদের মতো বলবান জন্তুই যখন বাঘের সঙ্গে জল খেতে বা কাছে ঘেঁষতে এত নিমরাজি, তখন মানুষের ক্ষেত্রে তো কোনো কথাই আসে না।

কিন্তু বাস্তব মাঝে-মাঝে প্রবাদ অথবা গল্পকেও ছাপিয়ে যায়। তাই, যদিও বন্য ব্যাঘ্র ও মানুষের একসঙ্গে পাশাপাশি জলপান করার কথা আমার জানা নেই, কিন্তু যদি আমি বলি বাঘে-মানুষে নির্বিবাদে দিব্যি সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে মুক্ত হাওয়ায় ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করছে তা হলে হয়তো অনেকেই চমকে উঠবেন। আর ভ্রমণের পক্ষেও স্থানটি বড় মনোরম। অতলান্ত সাগরের বুকে ধাবমান একটি জাহাজের ডেক।

ঘটনাটা বিস্তারিতভাবে বলা যাক। কারণ, সেই আজব চিড়িয়াখানায় সে দিন শুধুমাত্র বাঘ আর মানুষই মুক্ত অবস্থায় ঘোরাফেরা করেনি, পাত্র-পাত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরও কয়েকটি চরিত্রকেও আমরা ক্রমশ আবিষ্কার করব।

সন—ইংরেজি ১৯২৮। 'এস, এস, ফোর্ডসডেল' নামে একটি জাহাজ লন্ডন থেকে ছুটে চলেছিল আটলান্টিক মহাসাগরের বুক চিরে অস্ট্রেলিয়ার তটভূমির উদ্দেশ্যে। জাহাজের 'বিশেষ যাত্রী'-দের তালিকায় ছিল একজোড়া বিরাট ভাল্লুক, একটা অজগর সাপ, প্যান্থার, তুষারচিতা বা 'স্নো-লেপার্ড', বাঁদর, কতকগুলি ব্যাজার (ছোট ছোট মাংসাশী প্রাণী), কোকিল ও অন্যান্য কয়েক জাতের পাখি। আর ছিল দুটো পূর্ণবয়স্ক বাঘ।

জাহাজ ছাড়বার সময়ই খাঁচাগুলোর গড়ন ও কাঠামো বিশেষ সুবিধার ঠেকছিল না। কয়েকজন যাত্রী এমনকী স্বয়ং ক্যাপ্টেনও একবার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন যে, যাত্রাপথে জন্তুগুলো খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে পড়ে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটাতে পারে। কিন্তু নাবিকরা তাঁদের আশ্বস্ত করল এই বলে যে, বিগত বহুকাল ধরেই এই খাঁচাগুলোতে করে বিভিন্ন জন্তু-জানোয়ার পৃথিবীর বহু চিড়িয়াখানায় চালান দেওয়া হয়েছে এবং কোনো ক্ষেত্রেই কোনো বিপদ ঘটেনি। যাত্রীদের এবং ক্যাপ্টেনের ধারণা নিতান্তই অমূলক...

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে একদিন রাত্রে কয়েকটি ব্যাজারের মুক্তিলাভের মধ্যে দিয়ে। কী করে কে জানে, ব্যাজারগুলো তাদের খাঁচা ভেঙে সেই রাত্রে মুক্তিলাভ করে এবং অচিরেই কোকিলের খাঁচা আক্রমণ করে পাখিগুলোকে নির্বিবাদে পেটে চালান করে। সকালে পাখির খাঁচায় কোকিলগুলোর ছড়ানো পালক দেখে হত্যাকারীদের খোঁজ পড়ে যায়, কিন্তু ভোঁদড়ের মতো আকৃতিবিশিষ্ট ওই হতচ্ছাড়া জানোয়ারগুলোকে ধরতে গিয়ে নাবিকদের বারবার নাজেহাল হতে হয়। এরই মধ্যে জনৈক নাবিক একটা গর্তের মধ্যে থেকে ব্যাজার ধরতে গিয়ে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটিয়ে বসে। ক্ষুদে বিচ্ছুটা নাবিকটার মুখের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এমন ভাবে তাঁকে আঁচড়ে কামড়ে দেয় যে, লোকটি সঙ্গে-সঙ্গে 'ব্যাজার' অনুসন্ধানে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয় এবং অচিরেই উপলব্ধি করে যে, এই ধরনের অসম্ভব পাজি জন্তু-জানোয়ার ধরা কখনোই নাবিকদের কর্তব্যকর্মের মধ্যে পড়ে না।

এই ঘটনা যখন ঘটে তখন 'ফোর্ডসডেল' ভূমধ্যসাগরের মধ্য দিয়ে ছুটে চলেছে ভারত মহাসাগরের বুকে পাড়ি জমাতে।

ভারত মহাসাগরের উষ্ণ জলবায়ুতে শীতপ্রধান দেশের অধিবাসীদের কিছুটা অস্বস্তি হওয়ারই কথা। ফলে ভারত মহাসাগরের দিগন্তবিস্তৃত নীল জলের উপর দিয়ে জাহাজ যখন এগিয়ে চলেছে তখন জাহাজের অভ্যন্তরে দুজন যাত্রী বেশ অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিল। দুজনই শীতপ্রধান দেশের অধিবাসী—দুটি বিরাটকায় ভাল্লুক।

উষ্ণ অঞ্চলের আবহাওয়ায় অনভ্যস্ত ভালুক দুটো ক্রমান্বয়ে অশান্ত হয়ে উঠতে লাগল এবং বারবার আঘাত করতে লাগল খাঁচার নড়বড়ে শিকগুলোর উপর। অমিতশক্তির অধিকারী দুই বিপুলদেহ বন্য প্রাণীর ক্রমাগত আঘাতে ধীরে-ধীরে খাঁচার প্রতিরোধ ক্ষয়ে আসতে লাগল এবং এই ঘটনার পরিসমাপ্তি হল একটি রাতে, যেদিন ডেকের উপর 'চার্ট' দেখতে ব্যাপৃত জনৈক নাবিকের দেখা হয়ে গেল অদূরে সঞ্চরণশীল দুটি বিপুলবপু ছায়ার সঙ্গে। মুহূর্তপূর্বের মনোসংযোগ ছিন্ন করে এবং চার্ট সম্পর্কে নিতান্ত উদাসীন হয়ে সে যে গতিবেগ এবং দেহ-সৌষ্ঠবের সৃষ্টি করে দৌড় দিল, সেটি দৌড়বীরদের আদর্শ হতে পারত।

এক দৌড়ে সে যখন উপরের ডেকে এসে পৌঁছল তখন জাহাজের একজন মেট সেখানে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে অতীতের কোনো সুখকর স্মৃতির রোমন্থন করছিল—সঙ্গে ছোট-ছোট চুমুক দিচ্ছিল একহাতে ধরা কফির পেয়ালায়। মোট কথা, সে একটা অলস, কর্মহীন পরিবেশকে বেশ একা একা উপভোগ করছিল। এমন সময়ে বেগে ধাবমান ব্যক্তিটি এসে তাকে ওই ভাল্লুক দুটোর কথা জানাল। 'সাংঘাতিক ব্যাপার—বলে কি!' এখনই কোনো একটা কিছু ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করলেন মেট।

কিন্তু সেই কাজে এগোতে গিয়েই বিপত্তি ঘটল। অপসৃয়মান মানুষটির পিছু-পিছু একটা কৌতূহলী ভালুক চলে আসছিল উপরের ডেকে—ডেকের সিঁড়ির উপরই তার সঙ্গে একেবারে মুখোমুখি দেখা-সাক্ষাৎ হয়ে গেল মেট-এর। ভাল্লুকটার কাছে সম্ভবত, আলাপ পরিচয়ের প্রাথমিক পর্বটা সেরে নেওয়া ভদ্রোচিত বলে মনে হয়ে থাকবে। কিন্তু সে দু-এক পা এগোতেই ডেকের উপরে মেট ভদ্রলোক যেভাবে 'আস্ত ডিমের পোচ মার্কা' দু-দুটো গোল গোল বিস্ফারিত চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইলেন যে, ভালুককে হতাশ হতে হল। সে অত্যন্ত নিরাশ হয়ে ধীরে-ধীরে ঘুরে সিঁড়ি বেয়ে নেমে তার সঙ্গীর সাথে মিলিত হতে চলে গেল।

ততক্ষণে জাহাজের বিপদসূচক ঘণ্টি বেজে উঠেছে। নাবিকরাও প্রায় সবাই এসে ডেকের উপর জড়ো হয়েছে মুক্ত ভালুক দুটোকে দেখবার আগ্রহে।

ভাল্লুকের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই, বোধ করি এই বিষয়ে খুব কম লোকই পড়াশোনা করেছেন। সুতরাং সঠিক করে কিছুই বলা সম্ভব নয়। তবু যতদূর মনে হয় ডেকের উপর অতগুলো লোকের সমাবেশ তাদের কাছে ভালো ঠেকছিল না। ফলে মুক্তিযোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে অল্পক্ষণের মধ্যেই তারা দুটো বাঘ, দুটো বিরাট বিরাট ইঁদুর, বেশ কয়েকটা বানর এবং অন্যান্য আরও কয়েকটা জন্তুকে বন্ধন দশা থেকে মুক্তি দিল। বোধ করি তারা বুঝতে পেরেছিল যে, যত জন্তু মুক্তিলাভ করবে, নিজেদের মুক্ত বিচরণের সময়সীমাও তত দীর্ঘতর হবে...

ওই দিনই বিকেলের দিকে ঘটল আরেক অঘটন। জাহাজের একজন উচ্চপদস্থ কর্মচারী সেই সময় জাহাজের ডেকের উপর পায়চারি করছিলেন। এমন সময়ে গুটি-গুটি পায়ে তাঁর সঙ্গে সখ্যতা পাতাতে একটি সদ্য-মুক্তিপ্রাপ্ত বাঘের সেখানে আবির্ভাব ঘটে। বাঘের মতলব বিশেষ খারাপ ছিল না। কিন্তু শার্দুল সন্দর্শনে ভদ্রলোক অত্যন্ত সন্ত্রস্ত হয়ে কোমরের খাপ থেকে রিভলভার টেনে নিয়ে তৎক্ষণাৎ বাঘটার উদ্দেশ্যে গুলি চালালেন। গুলির নিশানা কতদূর নির্ভূল ছিল সে প্রসঙ্গে পরে আসছি, কিন্তু ভদ্রলোকের এই ব্যবহারে বাঘটি অত্যন্ত বিরক্ত হল, এবং 'মানুষ' নামক জীবটি যে অত্যন্ত হীনচেতা ও অভদ্র সে সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হয়ে ওই স্থান ত্যাগ করল। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছিল যে, বাঘটির উদ্দেশ্যে নিক্ষিপ্ত গুলিতে জাহাজেরই একটা বিড়ালের দেহান্তর ঘটেছিল। ভদ্রলোকের এলেম আছে!

ইতিমধ্যে জাহাজের নাবিকরা সচেষ্ট হয়ে উঠেছিল মুক্তিপ্রাপ্ত জন্তুগুলোকে ধরার জন্য। দুই ভদ্রলোক—মিঃ দেওয়ার এবং জাহাজের জনৈক কর্মচারীর প্রচেষ্টায় বাঘ এবং ভালুকদের ধরা হল। প্রথমে জাহাজের কারিগরকে দিয়ে আগেরগুলোর চেয়ে অনেক শক্ত এবং টেঁকসই খাঁচা বানানো হল। তারপর জাহাজের কর্মচারীটির পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে বাঘ দুটিকে রসাল ভেড়ার মাংসের টোপ দিয়ে প্রলুব্ধ করে আটকানো হল, এবং তারপর নাবিকদের সাহায্যে মিঃ দেওয়ার ভালুক দুটোকে ধরলেন দড়ির ফাঁস দিয়ে। এই চারটে জন্তুকে আটকে জাহাজের নাবিকরা হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন। বিপজ্জনক পরিস্থিতি কাটানো গেছে।

অন্য দিকে কতকগুলো বাঁদর পাখির খাঁচা ভেঙে সেগুলোকে নির্বিচারে হত্যা করেছে, কিন্তু বাঘ-ভালুকের দিকে মনোযোগ থাকার জন্য এই সামান্য ঘটনাটা বিশেষ কেউই লক্ষ্য করল না। সে যাই হোক, ক্রমে ক্রমে সবক'টা ছোটখাটো জন্তুকেই ধরা হল—কেবল ধরা পড়ল না একটা বাঁদর। বহু চেষ্টা সত্ত্বেও যখন ওই লক্ষ্মীছাড়া প্রাণীটাকে ধরা গেল না, তখন ক্যাপ্টেন বেশ বিরক্ত হয়েই 'জীবিত অথবা মৃত' যে কোনো অবস্থায় সেটাকে ধরার জন্য আদেশ জারি করলেন।

তখন পুবের আকাশে সবে অন্ধকার ফিকে হয়ে আসছে। জলপোত 'এস এস. ফোর্ডসডেল' ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে অস্ট্রেলিয়ার তটভূমির দিকে। ঘড়িতে তখন ভোর চারটে। মিঃ দেওয়ার ও জাহাজের জনৈক উচ্চপদস্থ কর্মচারী ডেকের উপর দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলছিলেন। হঠাৎ জাহাজের উলটোদিক থেকে ভেসে এল এক প্রাণান্তকর চিৎকার এবং একটু পরেই আবছা আলোতে তাঁদের দৃষ্টিগোচর হল দ্রুতবেগে ধাবমান একটি সাদা এ্যাপ্রন ও টুপি—জাহাজের বাবুর্চি! ভয়ার্ত কণ্ঠে আর্তনাদ করতে করতে সে ওই দুই ব্যক্তির দিকেই ছুটে আসছে। কাছে আসতে আর্তনাদ শব্দে রূপান্তরিত হল—ক্রমান্বয়ে সে চিৎকার করে চলেছে—ভূত! ভূত!...

'—ভূত! ভূত কোথায়!' বেশ একটু আশ্চর্য হলেন মিঃ দেওয়ার ও তাঁর সঙ্গী ভদ্রলোক।—'আজ্ঞে হ্যাঁ! আমি যখন প্রাতরাশ বানাতে রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছিলাম তখনই ভূতটাকে প্রথম দেখতে পাই। আমাকে দেখেই ভূতটা তেড়ে এল, আমি কোনোরকমে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে এসেছি,' আতঙ্কিত স্বরে তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেয় বাবুর্চিটি।

একটু একটু ভয় যে করছিল না, সে কথা বললে ভুল হবে। কিন্তু উভয় ব্যক্তিই ভূতের সন্ধানে যাত্রা করলেন। বেশি দূর এগোতে হল না, দূর থেকে তাঁদের চোখে পড়ল ডেকের উপর সঞ্চরণশীল কোনো 'কিছুর' উপর। অন্ধকারে তার অবয়ব প্রায় অদৃশ্য; একমাত্র জ্বলন্ত চোখ দুটো ছাড়া। বাবুর্চির ভয় অমূলক নয়। তবু সাহসে ভর করে এগিয়ে গেলেন মিঃ দেওয়ার। সঙ্গে-সঙ্গে এক বিরাট লাফে ডেকের এক প্রান্তে এসে পড়ল আর তারপরই তরতর করে মাস্তুল বেয়ে উঠে গেল বহু ঊর্ধ্বে। এতক্ষণে ভূতের রহস্য পরিষ্কার হল দুজনের কাছে। ভূত আর কেউ নয়। হতচ্ছাড়া বাঁদরটা।

মিঃ দেওয়ার ডেকের উপর থেকে কয়েকটা কাঠের টুকরো সংগ্রহ করে মাস্তুল বেয়ে খানিকটা উঠে গেলেন। তারপর বানরটাকে লক্ষ্য করে ছুড়তে লাগলেন ওই কাঠের খণ্ডগুলো। প্রথম আর দ্বিতীয়টা লাগল না বটে, কিন্তু তৃতীয় টুকরোটা গিয়ে সজোরে আঘাত করল বাঁদরটার গায়ে। বেশ জোরেই টুকরোটা ছুড়েছিলেন মিঃ দেওয়ার, ফলে লক্ষ্যবস্তু স্থানচ্যুত হয়ে সোজা ডেকের উপর পড়তে লাগল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভূপতিত হল না বাঁদরটা। দেওয়ার মাস্তুলের যেখানটায় দাঁড়িয়েছিলেন, ঘটনাচক্রে সেইখানে একটা লোহার শিক সোজা বেরিয়ে এসেছিল মাস্তুলের গা থেকে। সেই বেরিয়ে থাকা লোহার দণ্ডটা ধরে নিয়ে নিজের 'অধঃপতন' রোধ করল বানরটা! পরক্ষণেই, মিঃ দেওয়ার কিছু বুঝবার আগে তাঁরই হস্তগত একটি কাঠের টুকরো কেড়ে নিয়ে তাই দিয়ে পাজি জানোয়ারটা সজোরে আঘাত করল তার আততায়ীকে, আর সেই সঙ্গে দেওয়ারের গালের উপরও এসে পড়ল এক প্রচণ্ড চপেটাঘাত। এবার আর সহ্য হল না মিঃ দেওয়ারের। বাঁদরের হাতে এই নিগ্রহ তাঁর ধৈর্যচ্যুতি ঘটিয়ে দিল। ফলে তিনিও হতভাগা বাঁদরটার গালে কসিয়ে দিলেন এক বিরাশি সিক্কার চড়। চড়ের ওজনটা নেহাত মন্দ ছিল না। এরপর শুরু হল বানর আর মানুষে পারস্পরিক চপেটাঘাত পর্ব। এই সুযোগে দেওয়ারের অপর সঙ্গী মাস্তুল বেয়ে উঠে চট করে ধরে ফেললেন বাঁদরটাকে, তারপর উভয়ে মিলে তাকে নামিয়ে এনে খাঁচায় বন্দি করলেন।

ঘণ্টা কয়েক পরে ফ্রিমেনটেল বন্দরে ধীরে ধীরে প্রবেশ করল জলযান 'এস. এস. ফোর্ডসডেল'।

আবগারী বিভাগের কর্মচারী প্রশ্ন করলেন জাহাজের ক্যাপ্টেনকে। সেই সনাতন প্রশ্ন—'যাত্রাপথে কী কোনো অসুবিধার কারণ ঘটেছিল?'

—'তা কিছুটা হয়েছিল বলতে পারেন,' স্বাভাবিক স্বরেই উত্তর দিলেন ক্যাপ্টেন, 'ওই কয়েকটা জন্তু খাঁচা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে পড়েছিল, সেগুলোকে আমাদের আবার ধরে খাঁচায় পুরতে হয়েছে।'

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%