নির্বেদ রায়

'বোগোর' কথাটি স্থানীয়, যার আক্ষরিক অর্থ 'ছন্নছাড়া'।
জাভাদ্বীপে অবস্থিত পূর্বোক্ত 'বোগোর' শহরের উপকণ্ঠে একটি চা-বাগিচা সংলগ্ন অতিথিশালা একটু নজর করলে হয়তো অনেকেরই চোখে পড়বে। ১৯৪২ সালে জাপানি আক্রমণের সময় টেরি মাইকেল ওই বাড়িটা ছেড়ে চলে আসেন। গোটা জাভাদ্বীপ জুড়ে তখন চলছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তাণ্ডবলীলা। কিন্তু অতিথিশালাটিকে অত সহজে ভুলতে পারলেন না মাইকেল। পরবর্তী জীবনে যখনই ওই বাড়িটা তাঁর স্মৃতিতে ভেসে উঠেছে, মাইকেল অনুভব করেছেন তাঁর শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে যাচ্ছে একটা হিমশীতল আতঙ্কের স্রোত!
না, বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা নয়, অতিথিশালার পূবদিকে ঘরের দেওয়ালে ঝোলানো রুক্ষ খসখসে একটা চামড়াই ওই আতঙ্কের কারণ।
সর্বাঙ্গে অজস্র ছোট ছোট গুটি বসানো চামড়টা লম্বায় প্রায় বারো ফুটের উপর; মধ্যভাগে দেহের বিস্তৃতিও নেহাত কম নয়—দুই বাহু দুই দিকে সম্পূর্ণ প্রসারিত করলে একটি মানুষ কোনোক্রমে নাগাল পেতে পারে।
কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে দেহ-সংলগ্ন চারটি পা!
কুমির বা অন্যান্য সরীসৃপদের সঙ্গে পা-গুলোর বিশেষ মিল চোখে পড়ে না, বরং প্রাগৈতিহাসিকদের নখর-ভয়াল থাবার সঙ্গেই সেগুলোর সাদৃশ্য অনেক বেশি।
যে-কোনো সাধারণ মানুষই এক নজরে বলে দেবে ওটা কুমির অথবা সাপের চামড়া নয়। কিন্তু ওই অত্যাশ্চর্য দেহচর্মের সত্যিকার মালিককে আবিষ্কার করতে গেলে অনেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিরই মস্তিষ্ক হবে ঘর্মাক্ত!
তাহলে ওই অদ্ভূত সংগ্রহটির পরিচয় কী?
টেরি মাইকেলের ভাষায়, 'বিংশ শতাব্দীর পৃথিবীতে প্রস্তরদ্বীপের বুকে ওরা আজও ঘুরে বেড়ায়—সভ্যজগতের বিস্ময় অতিকায় হিংস্র ড্রাগনের দল!'
বিস্ময়কর সেই অভিজ্ঞতার কাহিনি—
পূর্ব আফ্রিকায় শিকারের পর্ব চুকিয়ে ম্যানিলা যাওয়ার পথে শিকারি টেরি মাইকেল জাভা দ্বীপে দিন কয়েকের জন্য জনৈক চা-বাগিচা মালিকের অতিথি হয়েছিলেন। চা বাগানের মালিকের নাম ভ্যান এফেন—জাতে ওলন্দাজ। আড়ে বহরে বিশাল ওই ভদ্রলোকটির চেহারা ছিল দেখবার মতো। যেদিন ভ্যান এফেন-এর আতিথ্য গ্রহণ করেছিলেন টেরি মাইকেল, সেদিনই সন্ধ্যাবেলা তিনি এফেন-এর সঙ্গে কফি পান করতে করতে সেখানকার দ্বীপপুঞ্জগুলির বন্য জীবন নিয়ে আলোচনা করছিলেন। স্থানীয় প্রসঙ্গের আলোচনার মধ্যে দিয়ে এফেনই কথাটা বললেন।
উনবিংশ শতকের শেষভাগে তাবৎ পৃথিবীর জীবতাত্ত্বিকরা জীব-জগতের সমস্ত জাতি এবং প্রজাতিগুলিকে তালিকাভূক্ত করার প্রচেষ্টা চালান। যদিও কিছু কিছু বিশেষ ধরনের পাখি অথবা অজানা কীটপতঙ্গ কিংবা ছোটখাটো সাপ-টাপ নতুনভাবে আজও আবিষ্কৃত হচ্ছে, কিন্তু শতাব্দীর প্রথম দশকে বৃহৎকায় প্রাণীদের কোনো বিশেষ গোষ্ঠী আর অনাবিষ্কৃত ছিল না—বৈজ্ঞানিকদের দল সারা পৃথিবীর বুকে বিদ্যমান প্রায় সব কয়টি বৃহৎ প্রাণীকেই আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন।
যদিও ওই সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের 'ফ্লোরস' দ্বীপমালার নিকটবর্তী স্থানীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে 'ড্রাগন' নামক একধরনের অদ্ভুত প্রাণীর অস্তিত্ব সম্পর্কে 'গুজব' চালু ছিল, কিন্তু উক্ত অঞ্চলের শ্বেতাঙ্গদের কাছে প্রসঙ্গটি অবসর বিনোদনের সময় হাসির খোরাক জোগানো ছাড়া আর কোনো গুরুত্বই পেত না। 'ফ্লোরস' দ্বীপমালাটির ভৌগোলিক অবস্থান ছিল জাভার পূর্বদিকে বালিদ্বীপ ছাড়িয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়ে 'টিমর' দ্বীপের কাছাকাছি। জাভার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পূর্বপ্রান্তে একটি দ্বীপমালা গঠিত হয়েছে 'বালিদ্বীপ', 'ফ্লোরস' প্রভৃতি ছাড়া বেশ কয়েকটি অতি ক্ষুদ্র দ্বীপের সমষ্টিতে—মানচিত্রে ওই ছোট ছোট ভূখণ্ডগুলোর প্রায় কোনো হদিসই মেলে না।
ওই অখ্যাত ক্ষুদ্র দ্বীপগুলির একটির নাম 'কোমোডো'। স্থানীয় জনশ্রুতিতে এই দ্বীপটিকেই অতিকায় মাংসাশী ড্রাগনদের মূল বাসভূমি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
গুজব, জনশ্রুতি, লোককথা ইত্যাদি অত্যন্ত সংক্রামক। আর সেই সংক্রমণের প্রভাবেই বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে পূর্বে উল্লিখিত দ্বীপগুলিতে সত্যি সত্যিই একটি অনুসন্ধান দল পাঠানো হয়।
দিন কয়েকের মধ্যেই কোমোডো এবং তার আশেপাশের ছোট ছোট ভূখণ্ডগুলিতে পরিক্রমা শেষ করে ফিরে এলেন অভিযাত্রী বৈজ্ঞানিকদের দল। সঙ্গে নিয়ে এলেন এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর তথ্য। সেই তথ্যের সারমর্ম হল যে, 'কোমোডো' এবং তার প্রতিবেশী ছোট ছোট দ্বীপগুলির বুকে দলে দলে বিচরণ করছে বিচিত্র একধরনের প্রাগৈতিহাসিক সরীসৃপ এবং যার কোনো খবরই আধুনিক জীববিজ্ঞান রাখে না।
ফলে, ১৯১৪ সালে জীবতত্ত্বের তালিকায় বারো ফুট দীর্ঘ, দুশ পঞ্চাশ পাউণ্ড ওজনের এক দানব গিরগিটির পরিচয় লিপিবদ্ধ হল। বিজ্ঞানীরা নামকরণ করলেন 'Giant Monitor' বা 'অতিকায় গো-সাপ'।
বর্তমান পৃথিবীর বুকে বিদ্যমান সরীসৃপগোষ্ঠীর সর্বাপেক্ষা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ প্রজাতি।
এই চাঞ্চল্যকর আবিষ্কারের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ওলন্দাজ কর্তৃপক্ষ প্রাক-ইতিহাস যুগের এই দুর্লভ গোষ্ঠিটিকে সংরক্ষিত রাখার জন্য সচেষ্ট হলেন। কারণ, পেশাদার অথবা সখের শিকারিদের হাতে প্রাণীগুলোর জীবনসংশয় ঘটার যথেষ্ট কারণ ছিল।
শেষ পর্যন্ত, বিশ দশকের মাঝামাঝি সময়ে পুনরায় একটি অভিযাত্রী দলকে কয়েকটি 'জীবন্ত ড্রাগন'-এর নমুনা সংগ্রহের জন্য কোমোডো দ্বীপে প্রেরণ করা হয় এবং বহুকষ্টে কয়েকটি অতিকায় সরীসৃপকে ধরা সম্ভব হয়। জন্তুগুলো এখন আমেরিকা এবং ইউরোপ মহাদেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের বিস্ময় উৎপন্ন করছে।
ভ্যান এফেন চুপ করলেন। ঘরের জানালাপথে দূরে দৃশ্যমান রত্নমালার মতো আলো ঝলমলে 'বোগোর' শহর। এফেন-এর দৃষ্টি সেদিকেই নিবদ্ধ। কফির পেয়ালা হাতে ভ্যান এফেনের বিরাট দেহটা এক রহস্যময় ছায়ামূর্তির মতো মনে হল টেরি মাইকেলের। মাইকেলের মুখেও কথা নেই, কিন্তু তার নির্বাক অস্তিত্বের অন্তঃস্থলে শিকারি সত্তা ততক্ষণে সজাগ হয়ে উঠেছে রোমাঞ্চকর এক অভিযানের গন্ধ পেয়ে।
পৃথিবীর বুকে প্রস্তরদ্বীপের অন্তরালে আজও বিচরণ করে বেড়াচ্ছে প্রাগৈতিহাসিক ভয়ংকর সরীসৃপের দল—'ড্রাগন'। যে করেই হোক অন্তত একবারের জন্য হলেও মাইকেলকে পৌঁছতে হবে তাদের আস্তানায়, তবেই সফল হবে তাঁর শিকারি জীবনের সরচেয়ে বড় স্বপ্ন...।
ভাগ্য ভালো টেরি মাইকেলের। অভিযানের অনুমতি পাওয়ার জন্য তার বিশেষ অসুবিধার সম্মুখীন হতে হল না। অবশ্য তার কারণও ছিল। মহাযুদ্ধের রণদামামা তখন বাজতে শুরু করেছে গোটা মহাদেশের বুক জুড়ে, ফলে ওই গিরগিটিগুলোর কথা চিন্তা করার মতো সময়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে খুব বেশি ছিল না।
শুধু ক্যামেরা নয়, রাইফেল সঙ্গে নেবারও অনুমতি পেলেন মাইকেল। অবশ্য শর্ত ছিল যে, কেবলমাত্র আত্মরক্ষার তাগিদেই তিনি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করবেন।
অনুমতি পাওয়ার পর আর অপেক্ষা করার মতো ধৈর্য বা ইচ্ছা কোনোটাই টেরি মাইকেলের ছিল না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটা স্টিমারে চড়ে দিনকয়েকের মধ্যে তিনি এসে পৌঁছলেন 'মাও মেয়ার' উপসাগরের তীরে 'পুলো বেসার' দ্বীপখণ্ডে। এই দ্বীপটির অবস্থিতি ছিল ফ্লোরস-এর উত্তর উপকূলবর্তী অঞ্চলে। স্থানীয় অঞ্চলটির অধিবাসী বলতে মালয়ী ও পাপুরা-রাই প্রধান। কাছেই একটা গ্রাম থেকে অভিযানের সঙ্গী হিসাবে দুটি লোককে বেছে নিলেন টেরি মাইকেল।
অ্যামেসি এবং বাজোডা। বৃষস্কন্ধ, খর্বাকৃতি অ্যামেসি স্থানীয় ওলন্দাজ ভাষা বেশ ভালোই আয়ত্ত করেছিল। সুতরাং যা কিছু কথাবার্তা, তা হত মাইকেল এবং অ্যামেসির মধ্যেই। অপেক্ষাকৃত দুর্বল চেহারার অধিকারী বাজোডা নামক যে স্থানীয় অধিবাসীটি মালবাহকের কাজে নিযুক্ত হয়েছিল সে ওই ওলন্দাজ ভাষা একেবারেই বলতে পারত না।

অভিযান সম্পর্কে খুঁটিনাটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাইকেল বুঝলেন যে কোমোডোর ড্রাগন অ্যামেসি বা বাজোডা কারো কাছেই অশ্রুতপূর্ব নয়—জনশ্রুতি সম্পর্কে তারা বেশ ভালো ওয়াকিবহাল।
অ্যামেসি তবু সাহেবের হাতের ওই 'অস্ত্রটার' ভরসায় সঙ্গে থাকতে রাজি হল, কিন্তু বাজোডা সঙ্গে গেলেও দ্বীপে নামতে নারাজ। অগত্যা বাজোডাকে নৌকার রেখে তারা দুজন দ্বীপে নামবেন বলে ঠিক হল।
দুটি ভূখণ্ডের অন্তর্বর্তী সংকীর্ণ খাড়ি অতিক্রম করে নৌকাটা অপর একটি দ্বীপের পাড়ে এসে ঠেকল।
কোমোডো দ্বীপ!
জলের পাড় থেকে ঘন ঘাসের জঙ্গল বিস্তৃত হয়েছে দ্বীপের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি পাহাড় বা টিলার সানুদেশ পর্যন্ত। টিলার নীচে ছোট ছোট গাছ এবং ঝোপ ঝাড় দূর থেকেই অভিযাত্রীদের চোখে পড়ল। ভূ-প্রকৃতির চরিত্র অনুধাবন করে অভিযাত্রীরা বুঝলেন যে অত্যন্ত সতর্ক হয়েই তাদের দ্বীপে অবতরণ করতে হবে। যে-কোনো মুহূর্তে ঘন ঘাসের জঙ্গল ভেদ করে বিপদ তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং নৌকার পাহারায় বাজোডাকে রেখে রাইফেল এবং ক্যামেরা সঙ্গে নিয়ে দুই শিকারি কোমোডো দ্বীপের বুকে পা রাখলেন।
চারপাশের ঘাসজঙ্গল ভেদ করে দৃষ্টি চলে না, উপরন্তু, কোমোডোর ড্রাগনের স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে তাঁরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ—প্রতি মুহূর্তের সজাগ সতর্কতা নিয়ে মাইকেল অগ্রবর্তী হলেন। সঙ্গীর দিকে দৃষ্টিপাত করে মাইকেল লক্ষ্য করলেন, অ্যামেসির সমস্ত পেশি সংবদ্ধ হয়েছে উন্মুখ প্রতীক্ষায়, শিকারি শার্দুলের মতো লঘু পায়ে সে তার সাহেবকে অনুসরণ করছে। তার হাতে ধরা শাণিত বর্শা, কোমরে লতার বন্ধনীতে সংলগ্ন বিশাল ছুরিকা। অভিযানের উপযুক্ত সঙ্গী সন্দেহ নেই। মাইকেল বেশ খানিকটা ভরসা পেলেন।
সতর্ক পায়ে প্রায় গোটা ঘাস-জমিটা অতিক্রম করে এসেছেন দুই শিকারি, এমন সময় ঘটল প্রথম অঘটন!
শিকারিদের সম্মুখবর্তী পাহাড়ি সমতলভূমির উপর আচম্বিতে জেগে উঠল কয়েকটি হিংস্র কণ্ঠের গর্জনধ্বনি এবং একাধিক বস্তুর ঝোপঝাড় আলোড়িত করে ছুটে যাওয়ার শব্দ। উভয় শিকারিই বুঝলেন যে তাঁদের দুপাশের ঘাস জঙ্গল ভেদ করে ছুটে চলেছে একদল জান্তব অস্তিত্ত্ব, যদিও তাদের স্বরূপ শিকারিদের কাছে অজ্ঞাত।
হঠাৎ মাত্র দশ ফুট দূরের একটা ঝোপ সন্দেহজনক ভাবে নড়ে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে সজাগ হয়ে উঠল মাইকেলের শিকারি স্নায়ু, হাতের আঙুল রাইফেলের ট্রিগার স্পর্শ করল।
মাত্র কয়েকটি মুহূর্ত...।
ঝোপের মধ্য থেকে আত্মপ্রকাশ করল শাণিত কিরীচের মতো দুটি দাঁত এবং রক্তবর্ণ দুটি চোখ।
'বুনো শুয়োর!'
হাতের বর্শা আনত করে অ্যামেসি প্রস্তুত হল, খর্বাকৃতি দেহটা টানটান হয়ে ঝুঁকে এল সামনের দিকে।
হিংস্র গর্জন করে ছুটে এল বন্য বরাহ। শাণিত কিরীচে খেলে গেল চকিত বিদ্যুৎশিখা। সঙ্গে সঙ্গে মাইকেলের হস্তধৃত রাইফেলের মুখে জাগল গর্জিত অগ্নিস্ফুলিঙ্গ এবং ধরাপৃষ্ঠে লম্বমান হল কোমোডোর বুনো শুয়োর। বরাহ ধরাশয্যা গ্রহণ করা মাত্র কোমরের খাপ থেকে ছোরা টেনে নিয়ে অ্যামেসি ছুটে গেল এবং মৃতদেহের পরিচর্যায় নিযুক্ত হল। সামান্য সময়ের মধ্যে বরাহের মৃতদেহ থেকে ছাল ছাড়ানো বড় এক খণ্ড মাংস কেটে নিয়ে হাতে তুলে ধরল অ্যামেসি—'আজ রাতের খাবার।' তারপর পরিত্যক্ত দেহটার দিকে পুনরায় দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে উঠল—'সাহেব! কোমোডোর ড্রাগনও বোধ হয় বুনো শুয়োরের মাংস পছন্দ করে।'
মন্দ প্রস্তাব নয়।
মাইকেলের মনে ধরল কথাটা।
শুয়োরের মাংসের টোপে মাংসাশী সরীসৃপদের প্রলুব্ধ করা কঠিন হবে না। ফলে দুজন মিলে গুরুভার মৃতদেহটাকে টেনে তুলে আনলেন টিলার উপরে অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার জায়গায়। গাছ এবং প্রস্তরখণ্ডের সন্নিবেশ টিলার উপরে এক জায়গায় তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক অন্তরাল, বুনো শুয়োরের দেহাংশ সেই আড়ালের সম্মুখবর্তী জমির উপর রেখে দিলেন শিকারিরা। উদ্দেশ্য, বরাহমাংসের টোপে প্রলুব্ধ হয়ে কোমোডোর অতিকায় সরীসৃপরা যদি এসে হাজির হয়, তাহলে ওই গাছ এবং পাথরের আড়াল থেকে মাইকেল তাঁর ক্যামেরার 'চোখ' দিয়ে ওই অদ্ভুত প্রাণীদের কয়েকটি দুষ্প্রাপ্য মুহূর্ত ধরে রাখবার চেষ্টা করবেন।
টোপ সাজিয়ে রেখে শিকারিরা অরণ্য-অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করতে বেরোলেন। একটু এগিয়েই গাছের সারির নীচে বালুকাময় জমির উপর মাইকেলের নজরে পড়ল সুদীর্ঘ নখরযুক্ত প্রকাণ্ড থাবার ছাপ এবং কোনো গুরুভার দেহকে বহন করে নিয়ে যাবার টানা দাগ। শিকারে অভিজ্ঞ মাইকেল বুঝলেন ভীতিপ্রদ ওই অজানা পায়ের ছাপের মালিক আর কেউ নয়, কোমোডোর অতিকার ড্রাগন!
পায়ের ছাপ অনুসরণ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন না শিকারিরা, এগিয়ে গেলেন সম্মুখবর্তী অরণ্যের মধ্যে। পথের মধ্যে এক জায়গায় ভেঙে পড়েছে কয়েকটি গাছ, ফলে ওই পথটুকু একরকম হামাগুড়ি দিয়েই পার হলেন তাঁরা। কিন্তু তাদের সামনে অদূরে ফাঁকা জমির উপর অপেক্ষা করছিল এক নতুন বিস্ময়!
এক বিরাট মহীরুহকে আশ্রয় করে, শূন্যে ঝুলছে একটি শক্ত মোটা লতা, আর সেই লতা-সংলগ্ন যে প্রকাণ্ড সজীব দেহটা ধীরে ধীরে পাক খুলে মাটির উপর নেমে আসছে সেটা লক্ষ্য করে বিস্ফারিত-দৃষ্টি মাইকেল এবং অ্যামেসির মুখ দিয়ে কোনো শব্দ নির্গত হল না। যদিও বস্তুটির স্বরূপ চিনতে দুজনের কারুরই ভুল হয়নি। জাভা, সুমাত্রা প্রভৃতি অঞ্চলে বসবাসকারী সরীসৃপ বংশের অন্যতম কুলীন—'বোয়া কনস্ট্রিকটার' বা অতিকায় অজগর!
বিপদের গুরুত্ব উপলদ্ধি করতে দেরি হল না মাইকেলের, পর পর কয়েকবার তাঁর হাতের আগ্নেয়াস্ত্র গর্জন করে উঠল নির্ভুল লক্ষ্যে। গাছের উপর থেকে মাটিতে আছড়ে পড়ল দানব-সরীসৃপের প্রাণহীন বিশাল দেহ। সাপ মরল বটে, কিন্তু রাইফেলে পুনরায় গুলি ভরতে গিয়ে মাইকেল আবিষ্কার করলেন যে তাঁর সংগ্রহে আর একটিও গুলি নেই। সম্ভবত হামাগুড়ি দিয়ে আসার সময়ই সামনের বুকপকেট থেকে গুলিগুলো নিঃশব্দে ঘাসে আবৃত মাটিতে পড়ে গিয়েছে। এখন আবার হামাগুড়ি দিয়ে গুলি খুঁজতে যাওয়া অত্যন্ত শ্রমসাধ্য ও কঠিন ব্যাপার, বরং নৌকায় ফিরে গিয়ে প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহ করে আনা অপেক্ষাকৃত সহজসাধ্য বলে বিবেচিত হল শিকারিদের কাছে।
কিন্তু নৌকায় ফিরবার পথে পূর্বে উল্লিখিত 'রাতের খাবার'-টি সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে হবে। উভয়েই ফিরলেন টিলার উপরিভাগে গাছ আর পাথরে ঢাকা আড়ালটির দিকে।
মাইকেলের হাতের রাইফেল অকেজো হয়ে পড়েছিল। যেখানে বুনো শুয়োরের দেহাবশিষ্ট রেখে শিকারিরা চলে গিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট সেই স্থানটি থেকে প্রায় একশো গজ দূরে এসে অ্যামেসি হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল। তারপর তার কোমরের লতাবন্ধনী থেকে ভারী ছোরাটা খুলে নিয়ে এগিয়ে দিল মাইকেলের দিকে। মাইকেল অস্ত্রটা সংগ্রহ করলেন, কিন্তু সঙ্গীর মুখে আতঙ্কের ছাপও তাঁর দৃষ্টি এড়াল না। মাইকেল বুঝতে পারলেন যে, আগ্নেয়াস্ত্র অকেজো হয়ে যাওয়ার ফলে অ্যামেসি ভয় পেয়েছে! তার সাহস ফিরিয়ে আনার জন্য মুখে দু-চারটে কথা বললেও অভিজ্ঞ শিকারির পক্ষে সঙ্গীর প্রকৃত মানসিক অবস্থা উপলব্ধি করতে অসুবিধা হল না। চারিদিকে সতর্ক দৃষ্টি মেলে দ্রুত গতিতে তিনি এগিয়ে চললেন।

গাছ আর পাথরে ঘেরা জায়গাটির খুব কাছাকাছি এসে পড়েছেন দুই শিকারি—আর মাত্র গজ পঁচিশেকের ব্যবধান। হঠাৎ, এক ঝটকায় অ্যামেসিকে টেনে নিয়ে মাইকেল আত্মগোপন করলেন সামনের একটা ছোট ঝোপের আড়ালে। তাদের সম্মুখে উন্মুক্ত দৃষ্টিপথে ভেসে উঠেছে এক ভয়াবহ দৃশ্য!
মরা শুয়োরের দেহটার খোঁজে এসে উপস্থিত হয়েছে দুটো অদ্ভূত-দর্শন প্রাণী। লম্বায় তাদের প্রত্যেকটিই প্রায় বারো ফুটের উপর। দানব গিরগিটির মতো শরীরটা আগাগোড়া রুক্ষ, অজস্র গুটিওয়ালা খসখসে চামড়ায় ঢাকা। লম্বা কুৎসিত গ্রীবার উপর বসানো কদাকার মস্তক এবং চিতাবাঘের মতো নখরভয়াল চারটে পায়ের থাবা। সব মিলিয়ে মাইকেলের মনে হল তাদের সামনে আবির্ভূত হয়েছে দুটো দুঃস্বপ্নের জীব!
পিছনের দুটো পায়ের উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে উঠল একটা সরীসৃপ। তারপর এগিয়ে গেল অদূরবর্তী মৃতদেহটার দিকে। দন্তভয়াল মুখগহ্বরের মধ্যে দিয়ে আত্মপ্রকাশ করল সাপের জিভের মতো অস্বাভাবিক লম্বা একটা বিভক্ত জিভ। পরমুহূর্তে ড্রাগনের দুটো শক্তিশালী চোয়ালের ফাঁকে বজ্রদংশনে আবদ্ধ হল শুয়োরের স্থূল দেহ। কুকুর যে ভাবে একটা ছোট খেলনা মুখে তুলে ঝাঁকানি দেয়, ঠিক সেই ভাবে ড্রাগনটা অবলীলায় দেহটাকে কামড়ে ধরে এক ঝটকায় শূন্যে তুলে ফেলল। দু-চারটে ঝাঁকানি দিতে শুয়োরের শক্ত চামড়া ভেদ করে মাংসের মধ্যে প্রবেশ করল সরীসৃপের ধারালো দাঁতের সারি। বড় এক খণ্ড মাংস গলাধঃকরণ করে শবটাকে আবার মাটিতে নামিয়ে রাখল সেই অতিকায় সরীসৃপ।
ভয়াবহ দৃশ্য!
কোমোডোর ড্রাগন সম্পর্কে অ্যামেসির যাবতীয় অভিজ্ঞতা, এত দিন পর্যন্ত জনশ্রুতির উপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু উপকথার জীব যে কোনোদিন বাস্তবে তার সামনে সশরীরে আবির্ভূত হতে পারে, এ কথা সে কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবেনি। ফলে এই প্রত্যক্ষদর্শনের প্রভাবে তার স্নায়ুযন্ত্র দুর্বল এবং অসাড় হয়ে পড়ল। ছোট ছোট ঝোপের আড়ালে আত্মগোপন করে মাইকেলের পিছনে পিছনে সে দিশাহারা শিশুর মতো হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে চলল পাথরের আড়ালটার দিকে।
তবু শেষরক্ষা হল না!
আগেই বলেছি যে রাতের খাবারের জন্য শুয়োরের দেহ থেকে কেটে নেওয়া মাংসের খণ্ডটি আলাদাভাবে কয়েকটা পাথরের চাঁই-এর আড়ালে রেখে গিয়েছিলেন শিকারিরা, এবং ওই উপাদেয় খাদ্যবস্তুটি সংগ্রহ করতেই তাঁরা ফিরে এসেছিলেন।
মাইকেল ঝোপের আড়ালে আড়ালে এসে পড়েছেন পাথরের প্রাচীরটার কাছে। আর মাত্র কয়েক গজ অতিক্রম করলেই তাঁরা নিরাপদ। এমনকী ওই পাথরগুলোর আড়াল থেকে সুযোগমতো ড্রাগন দুটোর ছবিও তোলা যেতে পারে। কিন্তু আতঙ্কে বিহ্বল অ্যামেসির পক্ষে আর ধৈর্য ধরা সম্ভব হল না। জন্তু দুটোর সান্নিধ্য থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য হঠাৎ সে জমি ছেড়ে সটান দাঁড়িয়ে উঠল, তারপর পাগলের মতো এক প্রকাণ্ড লাফ দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল সম্মুখবর্তী পাথরটার অপর দিকে।
বেশ খানিকটা চমকে গিয়েছিলেন মাইকেল।
কিন্তু পরমুহূর্তে তার বিহ্বলতাকে ছাপিয়ে প্রস্তরপ্রাচীরের অপর দিক থেকে ভেসে এল অ্যামেসির ভয়ার্ত আর্তনাদ এবং তার সঙ্গে রক্তজমানো এক বিজাতীয় হিস হিস শব্দ। প্রকৃত ঘটনা বুঝতে মাইকেলের দেরি হল না, হামাগুড়ি দেওয়ায় ইস্তফা দিয়ে তিনি এক লাফে পাথরটার উপর উঠে পড়লেন। সঙ্গে সঙ্গে তার সামনে, পৃথিবীর দৃশ্যপট যেন পিছিয়ে গেল দু-কোটি বছর আগে এক প্রাগৈতিহাসিক প্রস্তরযুগে...।
শুয়োরটার দেহ থেকে সংগৃহীত মাংসখণ্ডটার গন্ধে গন্ধে প্রস্তরবেষ্টিত স্থানটির মধ্যে এসে হাজির হয়েছে তৃতীয় একটা ড্রাগন। আর ভয়ার্ত অ্যামেসি লাফ দিয়ে ওই ভোজনরত সরীসৃপের একেবারে সামনে এসে পড়েছে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।
মাইকেলের মনে হল আদিম পৃথিবীর এক আক্রান্ত গুহামানব প্রাণপণে লড়াই করছে প্রাগৈতিহাসিক এক দানবের সঙ্গে...।
হাতের রাইফেল অকেজো হয়ে পড়েছে। তবু সেটাকেই মুগুরের মতো বাগিয়ে ধরে ড্রাগনের কুৎসিত মস্তকের উপর প্রাণপণে আঘাত হানলেন টেরি মাইকেল। আঘাতের তীব্রতায় সরীসৃপটা মুখব্যাদান করল, দুই চোয়ালের মাঝখানে উঁকি দিল সারিবদ্ধ দাঁতের কিরীচ। পিছনের পায়ের একটা প্রকাণ্ড থাবা দিয়ে অ্যামেসির ভূতলশায়ী দেহটাকে চেপে ধরে জন্তুটা তার নতুন প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করল।
সতর্ক থাকলেও নিষ্কৃতি পেলেন না মাইকেল। বাঘের থাবার মতো ভয়ংকর একটা থাবা তাঁর বাঁ-কাঁধের উপর এঁকে দিয়ে গেল সুদীর্ঘ ক্ষতচিহ্ন এবং পরমুহূর্তে তাঁর সমস্ত সতর্কতার বেড়া ডিঙিয়ে চাবুকের মতো একটা প্রকাণ্ড লেজ অতর্কিত আঘাতে তাঁকে ছিটকে ফেলে দিল অদূরবর্তী একটা পাথরের উপর।
অর্ধলুপ্ত চেতনার মধ্যেও টেরি মাইকেল উপলব্ধি করলেন যে, পাথরে ঘেরা ছোট্ট জায়গাটুকুর মধ্যে কোণঠাসা অবস্থায় ড্রাগনের সম্মুখীন হওয়া শুধু নির্বুদ্ধিতাই নয়, এক সাংঘাতিক ঝুঁকিও বটে।
বন্দুক হাত থেকে ছিটকে গিয়েছিল। অস্ত্র বলতে এখন অ্যামেসির দেওয়া ছোরাটাই একমাত্র ভরসা। কটিবন্ধ থেকে ভারী ছোরাটি খুলে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন মাইকেল। কিন্তু অন্যদিক থেকে আক্রমণ এল না, টলতে টলতে পাথরের উপর উঠে পড়েছে দানব সরীসৃপ। মাইকেল বুঝলেন যে, বন্দুকের কুঁদোর আঘাত বেশ জোরালোই হয়েছিল। স্থানত্যাগ করতে উদ্যত ড্রাগনকে বিরক্ত করার কোনো সদিচ্ছা মাইকেলের ছিল না, কিন্তু অ্যামেসির দিকে চোখ পড়তে তিনি হতভম্ভ হয়ে গেলেন।
অর্ধলুপ্ত চৈতন্যের ঘোর কাটিয়ে অ্যামেসি তখন উঠে বসেছে। উদভ্রান্তের মতো সে একবার দৃষ্টি সঞ্চালিত করল অদূরে প্রস্থানোদ্যত সরীসৃপটা দিকে। তারপর হঠাৎ উন্মাদের মতো ছুটে গিয়ে হাতের বর্শাটাকে আমূল বিদ্ধ করে দিল কদাকার জন্তুটার পাঁজরের নীচে।
ড্রাগনের কণ্ঠ থেকে নির্গত হল তীব্র হিস হিস শব্দ, বিস্তৃত মুখগহ্বরের মধ্যে থেকে ছিটকে বেরিয়ে এল একগাছা দড়ির মতো দীর্ঘ একটা চেরা জিভ, এবং প্রকাণ্ড একটা লেজের আঘাতে অ্যামেসি ছিটকে পড়ল মাটির উপরে। তার চৈতন্যকে লুপ্ত করে নেমে এল মূর্ছার ঘন অন্ধকার।
ছিলে ছেঁড়া ধনুকের মতো শূন্যে বাতাস কেটে আহত সরীসৃপের বিশাল দেহটা ঘুরপাক খেয়ে ছিটকে এসে পড়ল মাইকেলের সামনে।
ততক্ষণে ভয় উবে গেছে মাইকেলের মন থেকে।
হাতের ছোরাটাকে শক্ত করে ধরে তিনি ক্রমাগত কোপ মারতে লাগলেন জন্তুটার ঘাড়ে, পেটে এবং শরীরের অন্যান্য দুর্বল স্থানে। তীব্র আতঙ্কে তখন তার বাহ্যিক অনুভূতি প্রায় লুপ্ত হয়ে এসেছিল। টেরি মাইকেলের কাছে তখন একটি কথাই সত্য—'হয় মারো, নয় মরো।' চরম আঘাত হানবার জন্য ছোরাটাকে শক্ত মুঠোয় তুলে ধরলেন মাইকেল। তারপর দেহের সমস্ত শক্তি জড়ো করে নামিয়ে আনলেন ড্রাগনের মাথা লক্ষ্য করে।
শূন্যে বিদ্যুৎ চমকে নির্ভুল লক্ষ্যে নেমে এল শিকারির হাতের অস্ত্র। আর সঙ্গে সঙ্গে একটা জীবন্ত চাবুক সশব্দে আছড়ে পড়ল মাইকেলের দেহের উপর।
প্রচণ্ড আঘাতের যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করে প্রস্তরশয্যা ত্যাগ করে উঠে পড়লেন মাইকেল। তারপর অ্যামেসির অর্ধ অচেতন দেহটাকে টানতে টানতে সরিয়ে আনলেন নিরাপদ স্থানে। অদূরে মরণাহত সরীসৃপের গোটা দেহ পাক খেয়ে খেয়ে আস্ফালিত হয়ে উঠছে, তার একটি আঘাতে অ্যামেসির মৃত্যু ঘটাও অস্বাভাবিক নয়।
নৌকা থেকে ক্ষতগুলোর প্রাথমিক চিকিৎসা সেরে গুলিভরা রাইফেল হাতে টেরি মাইকেল আবার দ্বীপে পদার্পণ করেছিলেন। উদ্দেশ্য কোমোডো ড্রাগনের অপূর্ব গাত্রচর্মটি সংগ্রহ করা। তখনকার মতো সংগৃহীত হলেও শেষ পর্যন্ত অবশ্য মাইকেলের ভাগ্যে চামড়াটা জোটেনি। কারণ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভ্যান এফেন মারা যাওয়ার পর সেটা আর মাইকেলের সঙ্গে নিয়ে আসা হয়ে ওঠেনি।
তা নাই বা হল, কিন্তু অভিজ্ঞতার যে স্মৃতিটুকু তাঁর মনে গেঁথে রয়েছে তার প্রভাবেই মাঝে-মাঝে মাইকেলের শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে যায় একটা হিমশীতল স্রোত। ঠান্ডা আতঙ্কের শিহরন!

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন