মেরুভালুকের মুখোমুখি

নির্বেদ রায়

মার্চ মাসের সকাল, উজ্জ্বল সকাল। দুই সঙ্গীকে নিয়ে বেরোলাম আমাদের কুটির থেকে। কুটির বলতে কাঠের তৈরি কেবিন। লগ-কেবিন। কেপ ফ্লোরার এই কাঠের তৈরি আশ্রয় থেকে যাব একটু দূরের দ্বীপে। ফ্রানজ জোসেফ দ্বীপপুঞ্জে।

বাহন একটি স্লেজ, টানছে একটা ঘোড়া। রুশদেশের উত্তর দিকে এই পনি ঘোড়া পাওয়া যায়। আগের এক পর্যটক বেল দ্বীপপুঞ্জে—আমাদের বর্তমান আশ্রয় থেকে পনেরো মাইল দূরে এসেছিলেন। তার কাছে যেতে হবে। কিছু যোগাযোগ দরকার।

আমার সঙ্গীদের মধ্যে একজন আমার এই 'পোলার' অভিযানের দীর্ঘদিনের সাথি। অনেক পথ, বহুবার আমার সঙ্গে ছিল। অন্যজন নিমরড। ম্যাস্টিফ গোছের কুকুর। বড়সড়, তুষারঝড়ের মুখোমুখি হতে সক্ষম শক্তিশালী সারমেয়।

সঙ্গে নিয়েছি .৩০৩ রাইফেল, কিছু খাবার ও চিজ। খাবার বলতে বিস্কুট।

তাপমাত্রা এখন মাইনাস পঁচিশ ডিগ্রি ফারেনহাইট। ঠান্ডা আছে, তবে ঠান্ডা বাদ দিলে আবহাওয়া ভালো। হাড় কাঁপানো হাওয়া বইছে না, মেরুপ্রদেশে যা আকছার বয়। সূর্য, ঝকঝকে সুন্দর আলোয় ভরিয়ে তুলেছে চারিদিক।

সবে দিনকয়েক আগে মেরু ঘুম ভেঙে উঠেছে। মেরু অঞ্চলের দীর্ঘ রাত পার করে আলোয় উজ্জ্বল চারদিক। মৃতুশীতল এই অঞ্চলে তুষারশৃঙ্গ আর বরফের প্রান্তর সব ঝকঝক করছে। মাথার উপর ইস্পাত-নীল ধূসর আকাশ, একটুকরো মেঘ নেই কোথাও।

এই বরফের রাজ্য ধরে যাত্রা শুরু হল। উঁচু-নীচু বরফের রাস্তা। মাঝেমধ্যে নরম বরফ, কোথাও শক্ত তুষার। তার মধ্যে থেমে, বসে একটু বিস্কুট, চিজ খেয়ে নেওয়া। তারপর আবার যাত্রা, পথ চলা।

পাঁচ ঘণ্টা কেটে গেল এই তুষারের জগতে। একটানা এতটা সময়...একটা পশুপাখি বা কিছুই চোখে পড়ল না। শুধু মৃত্যুর মতো সাদা তুষারের জগৎ।

এইভাবেই বিবরণ লিখেছেন ক্যাপ্টেন জ্যাকসন। সময় বিশ শতকের একদম মুখোমুখি প্রায় ১২০ বছর আগের পৃথিবী।

ম্যাবেল দ্বীপের পাড়ে এসে প্রথম আমার চোখে পড়ল তিনটে হলুদ রঙের বস্তু। সেগুলো নড়ছে। একটা তার মধ্যে বড়, অন্য দুটো একটু ছোট বলেই বোধ হচ্ছে।

ব্যাপারটা বেশ কিছুটা দূরে...আমার দৃষ্টি ভালো, আবহাওয়াও চমৎকার তবু বাইনোকুলারটা ব্যবহার করতে হল। দেখলাম একটা মা-ভাল্লুক তার বাচ্চাদের নিয়ে বরফে ঘুরতে বেরিয়েছে। শ্বেতভল্লুক বা সাদা ভালুক।

আমার চোখে বাইনোকুলার লাগে, নিমরডের লাগে না। তিনটে হলুদ বস্তু তার চোখে পড়ামাত্র প্রথম সে গলা থেকে একটা কর্কশ ডাক দিল, তারপর বিদ্যুৎবেগে ছুটল ওই তিনটি ভালুকের উদ্দেশ্যে।

তুষারভালুক। দেখতে যত সুন্দর, আচরণে ততটাই ভয়ংকর।

তার উপর মেরুপ্রদেশ তার ঘর-সংসার। এখানে প্রতি তুষারের কণা তার পরিচিত।

নিমরডও এই অঞ্চলের বাসিন্দা ঠিকই, কিন্তু অতিকায় মেরুভালুক সে তাড়া করতে পারে। ফল কী হবে, বলা কঠিন। ভালুকের বিশাল থাবা, যে কায়দায় আক্রমণ শানাবে, কুকুরের ছোট থাবা আর পা দিয়ে তার মোকাবেলা করা কঠিন। সেটা নিমরডের থেকে ভালো করে কেউ বোঝে না। তাহলে এই হঠাৎ আক্রমণ কেন?

কারণ মা-ভালুক নয়, তার দুটো বাচ্চা।

এই মেরু অঞ্চলে একমাত্র খুঁজে বেড়াতে হয় খাবার—সারা দিন-রাত। এমনকী অন্ধকারে যখন সমস্ত দিন আচ্ছন্ন হয়ে থাকে এখানে, সূর্যের দেখা পাওয়া যায় না, তখনও এই বরফের দেশে খাবার খুঁজে ফিরতে হয় বুনো জন্তুদের। খাবারের খোঁজ না পেলে—মৃত্যু! ঝুঁকি নিতে তাই প্রস্তুত নিমরড। কারণ, ওই দুটো বাচ্চা ভালুক।

কিন্তু জ্যাকসন সে গল্প জানলেও, নিমরডের পিছু ছাড়েননি, কারণ এ পথে নিমরড গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও সাথি। কিন্তু গণ্ডগোল বাঁধল সেখানে।

মা-ভালুক জ্যাকসনের প্রয়োজন আর মনের কথাটুকু বুঝতে পারল না।

জ্যাকসন পৌঁছতেই সে নিমরড থেকে চোখ সরিয়ে নতুন শত্রুকে আক্রমণের লক্ষ্য করে বসল।

বাস্তব কারণেই কুকুর যে ক্ষিপ্রতায় তার চেয়ে আকারে অনেক বড় আর হিংস্র জন্তুর আক্রমণ এড়াতে পারে, বা পাল্টা কামড় বসাতে পারে, মানুষের সেই ক্ষমতা প্রকৃতি দেয়নি—কিন্তু শরীরের খামতি পুষিয়ে দিয়েছে তার বুদ্ধিবৃত্তি।

জ্যাকসনের থ্রি নট থ্রি রাইফেলের প্রথম গুলি গিয়ে লাগল ভালুকের গলায়। গুলির ধাক্কায় মা-ভালুক ঘুরে গেল—কিন্তু বাচ্চা দুটো থেকে দূরে সরলো না।

বন্দুকের গুলি ভরে নিলেন জ্যাকসন, তুষার ভালুকের ভাবগতিক সুবিধার ঠেকছে না। কিন্তু গুলি ভরার সময় হাতের আঙুলটা কাজে লাগাতে হয়। মাইনাস পঁচিশ ডিগ্রির আবহাওয়ায় সে কাজ খুব সুবিধাজনক নয়—ঠান্ডার কামড়ে অবশ হয়ে গেল আঙুল—'ফ্রস্টবাইট', বুঝতে দেরি হল না জ্যাকসনের।

তবু তার মধ্যেই নিখুঁত লক্ষ্যে দু-চোখের মাঝখানে গিয়ে লাগল পরের গুলিটা। ভালুক মাটিতে পড়ল, স্থির। মা-ভালুক মারা যেতেই দৌড় দিল দুটো বাচ্চা। জ্যাকসনের একার ক্ষমতায় তাদের ধরা সম্ভব ছিল না।

নিমরডের সাহায্যে অনেক কষ্টে তাদের ধরা গেল শেষ পর্যন্ত। অনেকটা ঝক্কি পোয়াতে হল। বরফের রাস্তা। দুটো বাচ্চা ভালুক অনায়াসে দৌড়ে যাচ্ছে। জ্যাকসনকে দেখেশুনে সাবধানে পিছু নিতে হচ্ছে, যেন পিছলে না পড়ে যায় অথবা নরম বরফে পা ঢুকে না যায়। সেখানে দুটো জন্তুকেই আটকাচ্ছে নিমরড। তার হিংস্র আক্রমণ আর ভালুক দুটোর পাল্টা আক্রমণে রক্তাক্ত হচ্ছে সাদা বরফের প্রান্তর—কিন্তু লড়াই হচ্ছে থমকে থমকে এক একটা জায়গায়। ফলে জ্যাকসনের খানিকটা সুবিধা হচ্ছে বই কী!

যা হোক, কুকুর আর ভালুক ছানার লড়াই চলল বেশ কিছুক্ষণ। তারপর ভালুকের বাচ্চা দুটোকে ধরলেন জ্যাকসন। স্লেজে তুললেন তাদের ভালো করে বেঁধে। আর মা ভালুকের চামড়া ছাড়িয়ে নিয়ে, সেই চামড়াটাকেও স্লেজে চাপিয়ে নিয়ে এগোলেন বেল দ্বীপভূমির দিকে।

'বেল দ্বীপ আর ম্যাবেল দ্বীপের মাঝখানে একটা ছোট খাঁড়ি। ম্যাবেল-এ পৌঁছে রেকর্ড বা নথিগুলো খুঁজে পাওয়ার জন্য খাটলাম বটে, কিন্তু সবটাই বৃথা চেষ্টা।

এদিকে বেলা পড়ে আসছে, পথে দেরি হয়েছে, এখানে এসে কাজ হল না। ফেরা দরকার, আর সময় নষ্ট না করাই ঠিক। কিন্তু মানুষ ভাবে এক, হয় অন্য কিছু। এখন তাড়া আছে ফেরার, ঠিক তখনই পনি-ঘোড়া আর নড়তে চাইছে না।

বিরক্তির মধ্যেও একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখলেন ক্যাপ্টেন জ্যাকসন—চার মাস ধরে মেরু এলাকা জুড়ে 'রাত' চলেছে। সেইসময় পুরোটা আস্তাবলে কেটেছে এই ঘোড়াটার। এখনই ভারী কাজ সহ্য হবে না। আর সত্যি বলতে, এই এতটা পথ গাড়ি টেনে এনেছে জন্তুটা। সামান্য কিছুটা রাস্তা অবশ্য পেরিয়ে এসেছে স্লেজ।

কোনোরকমে বেল দ্বীপভূমির বরফের রাস্তা পেরিয়ে সবে গাঢ় রঙের ব্যাসাল্ট বা আগ্নেয় শিলার উপর দিয়ে চলেছি, এমন সময় নিমরডের সেই বিচিত্র ডাক। এতদিনে জানি এই ডাকের একটাই অর্থ—ভল্লুক।

কিন্তু কোথায়? জ্যাকসন চারিদিকে চোখ বোলালেন। বেল দ্বীপ আসলে একটু নীচু দ্বীপ। ব্যাসাল্ট পাথর আর ছড়ানো পাথরের টুকরো তার গোটা শরীর জুড়ে; শুধু পূর্বদিকটা উঁচু। প্রায় হাজার ফুট উঁচু। যদিও সব কিছুই এখন বরফে ঢাকা। এমনকী দ্বীপটা সমুদ্রের যে অংশ জুড়ে, সেখানেও বরফ।

তারমধ্যেই চোখ মেলে তন্নতন্ন করে খুঁজছেন ক্যাপ্টেন। কারণ একটাই, নিমরডের চোখ-কান আর সহজাত প্রবৃত্তি খুব তীক্ষ্ন। তার উপর প্রবল আস্থা ক্যাপ্টেন জ্যাকসনের।

এবারও তার অন্যথা হল না। ওই উঁচু অংশের প্রায় সাতশো ফুট উপরে দুটো হলুদ বল নড়াচড়া করছে। দুটো ভাল্লুক। তবে এবার কোনো বাচ্চা নেই। দুটোই পরিণত বয়স্ক বড় ভাল্লুক।

নিমরড একবার মালিকের দিকে তাকাল। জ্যাকসনের চোখে প্রশ্রয়।

কুকুর আর দেরি করল না। দৌড়ল ভালুক-দুটোর দিকে। পিছনে জ্যাকসন, হাতে থ্রি নট থ্রি রাইফেল। রাইফেলটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ না কুকুর, না মানুষ কাউকে দেখে দুই বিশাল আকৃতির ভালুকের ভয় পাওয়ার কথা নয়, বরং এই প্রচণ্ড শীতে তাদের খুশি হওয়ার কথা। দুটো খাদ্য। না, একটু ভুল হল, গোটা চারেক খাবার। দুটো মানুষ, একটা কুকুর আর একটা পনি-ঘোড়া!

নিমরড আগের লড়াইটাতে যে ভাবে গেছিল, এবারও সেই কায়দায় গেল বটে, কিন্তু বিশাল পুরুষ-ভালুকের তাড়ায় সে ফিরে এল। রীতিমতো ভয় পেয়ে ফিরল। কারণ, আর একটু হলে ভালুক তাকে ধরে ফেলেছিল প্রায়।

মালিকের কাছে ফিরে এসে নিমরড সে কথাই বোঝাতে চাইছিল তার চোখ-মুখের ভাব প্রকাশ করে। বলতে চাইছিল, চলো, চলো, আমরা ফিরে যাই...এ জায়গাটা ভালো নয়...

কিন্তু জ্যাকসন তার কথা শুনল না। এগোল...তার ভরসা ওই বন্দুক। তার হাতের অমোঘ অস্ত্র!

ভালুক মানে পুরুষ-ভালুকটা ধীরে ধীরে এগোচ্ছে, সঙ্গে মেয়ে-ভালুক। জ্যাকসন উঠছেন...তবে জ্যাকসনের ওঠাটা কঠিন। কঠিন তুষারে পা হড়কে যাচ্ছে। যতটা উঠছে প্রায় ততটাই আবার নেমে আসছে। পরিশ্রম হচ্ছে প্রচুর। কিন্তু মানুষের মধ্যে যে হিংস্র প্রবৃত্তি আছে তা জাগ্রত হলে কিছু করার থাকে না। ক্যাপ্টেন এফ, জি, জ্যাকসন নামে এক ভদ্র-সভ্য মানুষ আপাতত সেই প্রবৃত্তিতে আক্রান্ত।

ভালুক নামছে, জ্যাকসন উঠছেন। ভালুক কিছুটা অবাক, কারণ লোকটা উঠছে কী ভেবে? ভালুকের শীতকালীন শিকার হবে বলে? আর জ্যাকসন বহু কষ্টে পাথর আর বরফ পেরিয়ে প্রায় একশো গজ দূরে পৌঁছে থামল। আর একশো গজ দূরে বিশাল দুটো মেরু ভালুক।

প্রথম লক্ষ্য মেয়ে ভালুকটা। কিন্তু বন্দুক তুলে লক্ষ্য স্থির করতে গিয়ে মুশকিল হল, পুরুষ-ভালুকটা আড়াল করে আছে তার সঙ্গিনীকে। নিশানা করা যাচ্ছে না।

একটা জোরে শিস দিলেন জ্যাকসন, তাতেই কাজ হল। মেয়ে-ভালুক মাথাটা তুলল। একেবারে নিখুঁত লক্ষ্যে গুলি চালালেন শিকারি। জ্যাকসন আশা করেননি লক্ষ্য এতটা নিখুঁত হবে। গুলি গিয়ে লাগল ভালুকের মাথায়। এক পাক ঘুরে বরফের উপর থেকে ভালুক গড়িয়ে পড়ল নীচে, অনেকটা নীচে।

পুরুষ-ভালুক পুরো ব্যাপারটা দেখল বেশ খানিকটা অবাক হয়ে। তার সঙ্গিনীর পদস্থলন দেখে সে খানিকটা পথ তার পিছনে দৌড়ল বটে, কিন্তু খানিকক্ষণের মধ্যে সে মূল শত্রুকে চিনে নিল। তার লক্ষ্য এবার জ্যাকসন।

মেয়ে ভালুকটা গুলি খেয়ে যখন গড়িয়ে পড়ছিল তখন জ্যাকসন বাঁ-দিকে কয়েক গজ সরে গিয়েছিলেন। না-হলে ভালুক তাকে নিয়েই পড়ত নীচের পাহাড়ি ঢাল বেয়ে।

বিশালকায় পুরুষ-ভালুকটার আক্রমণের রকম দেখেই রাইফেলে গুলি ভরলেন জ্যাকসন।

তার গর্জন আর আক্রমণের মধ্যেই প্রথম গুলিটা তার বুকে গিয়ে লাগল।

ঢালু বরফের পাহাড়। এতটুকু জায়গা নেই অতবড় শরীরটাকে আড়াল করার বা আটকে রাখার। ভালুকের অতবড় পায়ের থাবা আর নখ বড়জোর শরীরের ওজনের সঙ্গে ওই তুষার পথের উঁচু-নীচুতে ভারসাম্য বজায় রাখতে কাজ করে। কিন্তু এই পর্যন্তই। বুলেটের ধাক্কা সহ্য করে ওই ঢালু বরফে দাঁড়িয়ে থাকা ওই অতবড় শরীরেও সম্ভব নয়। ফলে গুলি খেয়ে ভালুকটা পড়ল, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে জ্যাকসনের মাথায় একটা চিন্তার বিদ্যুৎ প্রবাহ বয়ে গেল।

ভালো চিন্তা নয়।

ভালুকটা যেখান দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে সেখানে আর একটু নীচে অপেক্ষা করছে তার গাড়ি টানার ঘোড়া আর সঙ্গী মানুষটি। দুজনেই নিরস্ত্র! জ্যাকসনের পরিতাপ হল। কেন যে সঙ্গীকে রাইফেল নিতে বললেন না বেরোনোর সময়?

তবু এটা মাথায় রেখে আরও দুটো গুলি ছুঁড়লেন জ্যাকসন। কপাল ভালো, গড়িয়ে গড়িয়ে যাওয়া ভালুকের শরীরে দুটো গুলিই লাগল।

ভালুক গড়িয়ে এসে থামল তার সঙ্গীর একেবারে পাশে। তার মুখের কাছে।

বেলা পড়ে এসেছে, প্রায় পনেরো মাইল বরফ ভেঙে পৌঁছতে হবে নিজেদের আশ্রয়ে। তার মধ্যেই ভাল্লুক দুটোর চামড়া ছাড়ানোর কাজ করে নিলেন জ্যাকসন আর তার সঙ্গী।

এত বড় মেরুভালুক জীবনে দেখেননি জ্যাকসন।

বাকি পথ আসতে সময় লাগল। ঝক্কি পোয়াতে হল দুটো মানুষ আর দুটো জন্তুকে। পনি-ঘোড়াটাকে আর নিমরডকে।

কিন্তু সঙ্গে যে দুটো জন্তু জোগাড়ও হয়েছে, তাদের কথা না বললে তো হবে না।

জ্যাকসন তাদের বেঁধেছিল ঠিকই, বেঁধে একটা বল্গা হরিণের চামড়ার উপরে রেখেছিল। যখন তারা 'বাড়ি' পৌঁছল, ততক্ষণে বল্গা হরিণের চামড়া টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। মেরু ভালুকের দাঁত-নখের জোর আছে। বাচ্চা হলেও আছে।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%