তৃপ্তি সান্ত্রা
নবনীতা দেবসেন
২১.০৭.১৫
যোগাযোগ না করে এত বড়ো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে দেখা করা যায় না—তবু চলে যে গেলাম, সে আমার চিরকালীন অগোছালো স্বভাব। গোলপার্ক থেকে ২ মিনিট হাঁটা, পথে হিন্দুস্থান পার্ক: ভালো-বাসা; নরেন্দ্রনাথ দেব। রাধারানী দেবী। দুজনেই পৃথক ফলকে।
নবনীতা দোতলাতেই ছিলেন। দেখা মিলল। লাল শাড়ি কালো ব্লাউজ, আলুলায়িত পিঠ জোড়া চুল। কী সুন্দরী স্টেডি এখনও। রিফেলেকসও অসাধারণ।
কানাইদা পাঁপড়, মাইক্রো ওভেনে তৈরি চীজ বিস্কুট আর বড়ো পেয়ালায় চা দিলেন।
নাতি-ছাত্র মানে ছাত্রর ছেলেরা পড়তে আসবেন, তার জন্য দিদি ছটফট করছিলেন। তার মধ্যে আমাদের প্রশ্নোত্তর পর্ব।
১. উভকামী প্রশ্নে দিদি বললেন—হ্যাঁ মানুষ উভকামী তবে শুতে না চাইলে, বলা যায় না। ছেলে বা মেয়ে—তাদের আমাদের ভালো লাগে। প্রেমেই পড়ে থাকি—সেটা কী কেন Social Science-এর লোকেরা বলতে পারবে। জেলে যেমন হয়—মেয়েদের মধ্যে, বা ছেলেদের মধ্যে সমকামিতা, সেটা উভকামী না হলে করতে পারে না। মনে মনে নারীপুরুষের প্রেম হয় কিন্তু শরীরী সম্পর্কে যাওয়া সম্ভব নয়। জীবন তো শুরুই করেছি প্রেম দিয়ে। বাবার সঙ্গে প্রেম। মার সঙ্গে প্রেম। প্রথম তো তাঁদের দিয়েই প্রেমের শুরু।
২. প্রেমের ক্ষেত্রে বয়সটা কোনো ব্যাপার নয়। কিন্তু সমাজ, সংসারের ক্ষেত্রে এটা একটা বাধা। সমাজ নানা কিছু বলবে। সংসারও মেনে নেবে না। এইসব বাইরের বাধার সম্মুখীন হবার জন্য যথেষ্ট শক্ত হতে হবে। বাধা অনেক বড়ো।
৩. আমি খোলামেলা লোক। ইচ্ছে গোপন রাখি না। গোপন করার মতো ইচ্ছে নেই। জীবনে এত ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। না চাইতে এত বেশি পেয়েছি—আমার ক্ষেত্রে এ প্রশ্নটা খাটে না।
৪. পরজন্ম বিশ্বাস করি কিনা বলতে পারব না। না মরলে বলতে পারব না। মেয়ে হয়ে খুশি। পুরুষ হবার কথা ভাবি না।
৫. বিয়ের বয়স হওয়া উচিত একুশ। মেয়েদের ক্ষেত্রে বাচ্চা হবার বয়স পেরিয়ে যায়, নানা রকম অসুবিধা হয়, তা নইলে পঁচিশ-ই বলতাম। মেয়ে ছেলের দুজনেরই পঁচিশ।
৬. Sex Education প্রয়োজন অবশ্যই। Adolessence পিরিয়ডে নয়, Pre-Adolessence Period-এ এই সচেতনতা দরকার। মেয়ে-বাচ্চা হলে ছোটো থেকেই তাকে শরীর সম্বন্ধে জানিয়ে দিতে হবে। বিশেষ কিছু গোপন অঙ্গ সেখানে কেউ হাত দেবে না—সেটা বাচ্চা মেয়েদের জানিয়ে দিতে হবে।
৭. স্বমেহন—নর্ম্যাল। পাপবোধের প্রশ্নে দিদি বললেন, হিসিপটি করতে যদি পাপবোধ না হয়, তবে এতেও পাপবোধ থাকা উচিত নয়।
অনেকে পাপবোধে ভোগে—মানসিক দিক দিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে যায়।এ প্রসঙ্গে নবনীতাদি বলেন, সেটা ছেলেদের ক্ষেত্রে হয়।
যন্ত্র-ব্যস্ততার যুগে বিদেশের মতো এখানেও বিবাহ নামক স্থায়ী সম্পর্কে যেতে চাইছে না... স্বমেহনও একটা অলটারনেট ভাবছে...Sex Toys... ইত্যাদি আমরা জানি।
—যন্ত্র দিয়ে যৌন সুখ তো আমরা চাই না। আমরা প্রেম চাই। এই সব খেলাধুলার অন্য অর্থ পাই না...
৮. হ্যাঁ—নির্মাণ।
মা হওয়া একটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
—অনেক সৃষ্টিশীল লেখকও বলেন, সন্তান সৃষ্টি শ্রেষ্ঠ আনন্দ।
—আমিও তাই বলি। আমার সর্বশ্রেষ্ঠ আনন্দ সন্তানের জন্ম দেওয়া। কিন্তু মেয়েদের জন্য যে সামাজিক শিক্ষা–- একমাত্র পরিচয় এবং বেঁচে থাকা মা হবার জন্য—এরকম ভাবার প্রয়োজন নেই।
আমার শরীরের মধ্যে আরো একটা শরীর রয়েছে—এই অনুভূতিটা দারুণ।
—এই সময় কবিতা লিখেছো?
—হ্যাঁ। অনেক। অন্তরা নামেও একটা কবিতা আছে আমার সেই সময়ে লেখা।
বীজ বপন একটা শক্তিশালী ব্যাপার, সেটা মানি।
কিন্তু ধারণ লালন একটা অসাধারণ ম্যাজিক।
৯. এলিজিবিটি আন্দোলন সমর্থন করি। বাড়াবাড়ি সমর্থন করি না। সাজগোজ, হইচই এসব নিয়ে যত বিজ্ঞাপন–বিজ্ঞাপিত হবার লক্ষ্য—সে সব সমর্থন করি না।
দেবারতি মিত্র
১৭.০৩.২০১৬ বৃহস্পতিবার। বিকেল চারটা
মুকুন্দপুর স্টপেজ থেকে ঢালাই ব্রিজ। রাস্তা পার হয়ে অটোতে হরিমতি গার্লস স্কুল পেরিয়ে UBI-এর উলটো ফুটে নেমে রাস্তা পেরিয়ে ‘যোগিয়া বাড়ি’ দেবারতিদি আর মণীন্দ্রদার আশ্রম। খুব সংক্ষেপে নিজের মতো করে উত্তর দিলেন দেবারতি মিত্র।
১. উভকামিতা প্রশ্নে বললেন—না। পছন্দ না।
ব্যক্তিগতভাবে অনুভূতির মধ্যে আনতে পারি না।
২. সম্পর্কের ক্ষেত্রে ছেলেটি ছোটো আমার ভালো লাগে না। অন্তত সমবয়সি না হলে ভালো লাগে না। যতবারই আকৃষ্ট হয়েছি, সবাই আমার চেয়ে বয়সে বড়ো।
৩. অফুরন্ত ইচ্ছে—বেড়ানোর। সমুদ্রের ধারে একটা বাড়িতে থাকা—এখনও ইচ্ছে করে।
খাওয়ার ইচ্ছে এই বয়সে আর কী বলব। এখন সহ্য হয় না—সিঙাড়া, কড়াপাকের সন্দেশ ভালো বাসতাম। অনেক আগে মাছ, মাংস...
আর একটা ইচ্ছের কথা শুনে হেসে না। আমার তো এই চেহারা। কী মোটা ছিলাম—তবু অভিনেত্রী হবার ইচ্ছে ছিল। ট্র্যাজেডি, কমেডি-তে অভিনয় করব—১নং অভিনেত্রী হব—না, না, সুচিত্রা, সুপ্রিয়া ওরা কেউ নয়—আমার ওদের অভিনয় ভালো লাগে না। হ্যাঁ। সাবিত্রী বড়ো অভিনেত্রী—কারো মতো নয় কিন্তু খুব বড়ো অভিনেত্রী হবার ইচ্ছে...
৪. পরজন্মের কথা জোর করে বলতে পারি না। কিন্তু পরলোকের কথা সারাদিন ভাবি যেহেতু বেশির ভাগ কাছের লোক পৃথিবীতে নেই—সব চলে গেছে।
কোনো জন্মেই পুরুষ হবার বাসনা নেই। না, পুরুষ হলেই আমার সব সাধ পূরণ হত, এমন ভাবি না। এখন তো কত মেয়ে কত রকম করছে, একা একা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি পারি না—আমার লিমিটেশন—জড়তা—আমার হীনম্মন্যতা বোধ খুউব বেশি—আগেই ভাবি পারব না।
৫. বিয়ের বয়স আমার মতে তেইশ-চব্বিশ—তার আগে প্রস্তুতির দরকার। যে যাই করুক—লেখাপড়া, নাচগান, আরো যা যা কিছু—সেই জায়গাটা তৈরি না হলে, বিয়ে করা ঠিক নয়।
৬. সেক্সের কথা বইটই পড়ে জেনেছি—হাতে ধরে তো কেউ শেখায়নি। তবে সেক্স-এডুকেশন অবশ্যই থাকা উচিত। অনেক কুসংস্কার ও অমূলক ভয়ের অবসান হয়।
৭. স্বমেহন—হ্যাঁ, প্রয়োজনে এটা হতে পারে। কোনো দোষ নেই...
৮. একটা বয়স অব্দি, মা হতে পারিনি বলে, খুব দুঃখ ছিল—নিঃসন্তান বলে দুঃখ ছিল। পঞ্চাশ-পঞ্চান্নর পরে সেটা কেটে গেছে। সেই সময় কবিতাও লিখেছি এ নিয়ে (খুকী ও ভূতেরা)...
অনেক জায়গাতে স্নেহ ছড়িয়ে গেছে... গাছপালা, পশুপাখি এমনকী আমার চেয়ে চার-পাঁচ বছরের ছোটোর প্রতি আমার সন্তান স্নেহ। সন্তান থাকলে বোধহয়, এরকম হত না।
‘মা’ হওয়াই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। তার জন্য এত দুঃখ, এত শূন্যতার কোনো মানে হয় না।
৯. এলিজিবিটি আন্দোলন খুবই সমর্থন করি। আমার ব্যক্তিগত মানসিকতা দিয়ে এর বিচার আমি করব না। এত লোক যখন এ নিয়ে আন্দোলন করছে এর একটা মূল্য আছে—এ তাঁদের স্বস্তি দেয়, আনন্দ দেয়। ‘সমপ্রেম’ নামে আমার একটা কবিতাও আছে...
‘পাহাড় হাওয়া দিচ্ছে’ কাব্যগ্রন্থে
১০. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অবশ্যই দরকার। তা না হলে স্বপ্ন ইচ্ছে উদ্দেশ্য উচ্চাশা সব নাকচ হয়ে যায়।
জয়া মিত্র
১. তৃপ্তি, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবার ক্ষেত্রে আমার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। ফলে আমার উত্তরে তোমার কাজ কতোটা সাহায্য পাবে বলা মুস্কিল। তোমার প্রশ্নগুলো, কারণবশতই, মূলত যৌনতা-সম্পর্কিত। আমার কাছে যৌন বোধ মোটামুটিভাবে যে মানসিক অবস্থাকে আমরা প্রেম বলি তার পরিপূরক। যে মানসিকতায় ৮ থেকে ৮০ যে কোনো স্ত্রী জাতীয়ার একমাত্র পরিচয় একটা ছিদ্র হিসাবে, তা অসুস্থ। এবং তা যৌনতা বা কাম নয়, হিংস্রতা। এই মনোভঙ্গী নিয়ে তোমার কাজে লাগার চেষ্টা করি—মডার্নস্কুল কি ও কাহারা? কোন মনুষ্য বিষয়ে তাহারা পারদর্শী বিশেষজ্ঞ? এসব কথা স্পষ্ট না বোঝা অবধি আমার কোন মতামত নেই।
২. সম্পর্ক যদি একটা থেকে থাকে তাহলে বয়স নতুন করে একটা ইশ্যু হবে কেন? সম্পর্ক স্বল্পস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু তার তো একটা আয়ু আছে। সেখানে নিজেদের নির্বাচন ভালো লাগাই পূর্ণতা পাবে।
৩. আরে হ্যাঁ, মনে ইচ্ছে আছে অসংখ্য। কিন্তু কোন দিন যা কাউকে বলা হয়নি, সে কি আর আজ এখানে বলবো? সে না হয় তোমার কানে কানে বলবো। যেমন একান্ত আকাঙ্ক্ষা ছিল গান গাইতে পারার আর সাইকেল শেখার।
৪. না না। এই জন্ম আমার এতো ভালো লেগেছে যে পরে বারবার এইরকমই থাকতে চাইবো। কিন্তু অন্য জীবনের অভিজ্ঞতা নেই বলে ফুল হয়ে জন্মানো, গঙ্গা ফড়িং হয়ে কিংবা অন্য কিছু, কি করে বলবো কোনটা কতো আকর্ষণীয়! তবে ছেলেদের, মানে আমাদের কাছাকাছি ছেলেদের জীবন আমাদের থেকে খুব বেশি আকর্ষণীয় বলে আমার তো মনে হয় না।
৫. বিয়ের বয়স—এটার ব্যাপারে ধরা বাধা কড়াকড়ি আমার কাছে একটু অনর্থক মনে হয়। বিয়েতে মেয়েটিকে যদি কেবল একটি শরীর হিসাবে বিবেচনা করা হয়, সে নিজেও সেটাই করে, তাহলে স্বভাবতই সবপক্ষই চাইবে যথাসাধ্য কম বয়সে অর্থাৎ শরীর যৌন মিলনে সমর্থ হলেই বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু বিয়ে তো তাছাড়াও আরো অনেক কিছু। দুজন মানুষ ও তার পরিবার ইত্যাদি ভাবলে বয়স একটা ন্যূনতম মাত্রার ওপরে থাকা ছাড়াও বহু বিষয় বিবেচনার থাকে সন্দেহ নেই।
৬. সেক্স এডুকেশন—এক সময় হয়তো দরকারি ছিল না, বিশেষত গ্রাম বা শহরতলি অঞ্চলে। বড়ো পরিবারে, গর্ভিণীদের উপস্থিতি সন্তান প্রসব, সে বিষয়ে বয়স্কা মহিলাদের নানা উদ্বেগ, উপদেশ ছোটোরাও শুনত। গরু ছাগল কুকুর অন্যান্য প্রাণীদের যৌন জীবন সম্পর্কে ছোটোরা স্বাভাবিকভাবেই ওয়াকিবহাল থাকতে পারত। পরবর্তীকালে ক্রমশ মানুষের যৌনতা সম্পর্কে একদিকে একরকম ‘চুপ চুপ’ ভঙ্গি, অন্যদিকে সংস্কৃতির নানা শাখায় জীবনের স্বাভাবিকতাবিহীন নানারকম উৎকট বিকৃত যৌনতার চর্চা। ফলে ছোটোরা প্রায় ভুলভাবে, বিকৃতভাবে এই বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হয়। সেজন্য উপযুক্তভাবে সংবেদনশীল ও দরদী শিক্ষক বা অভিভাবকদের কাছে এই বিষয়ে বস্তুগত জরুরি শিক্ষা পাওয়া অনেকখানি সাহায্য করতে পারে।
৭. একটি স্বাভাবিক জৈবিক ঘটনা। যদিও মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রাণীর মধ্যে আছে কিনা জানি না। আমার বন্ধু একটি আটিস্টিক তরুণের মায়ের কাছে শুনেছি কীভাবে ওই ‘বিশেষ কিশোর-কিশোরী’দের এই শিক্ষা থাকলে তাদের যন্ত্রণা, ভয়, বিপদে পড়ার সম্ভাবনা কম হয়।
৮. মা ও সন্তানের ব্যাপারটা একটা প্রাকৃতিক ঘটনা। কিন্তু মেয়েদের বিষয়ে সন্তানজন্মকে এমনভাবে ধরা হয় যেন এটা মেয়ের অস্তিত্বের সমার্থক। ফলে মেয়েরা নিজেরাও এই বিষয়ে নিজেদের আপত্তি, অনিচ্ছা, ভয়—ইত্যাদি জানাবার কথা ভাবতেও অনভ্যস্ত হয়ে যায়। কেবল সন্তান জন্মই নয়, তাড়াতাড়ি জন্মালো কিনা ছেলে হল কিনা—সবই মেয়েটির দায়, এ চিন্তা এখনো যথেষ্ট দেখা যায়। একটি মেয়ের নিজের মতামত তৈরি হবার আগেই প্রচলিত ধারণার চাপ তার ওপর চেপে বসে। সেটাই তখন তার মত হয়ে যায়।
৯. LGBT আন্দোলন বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। আমি যা দেখেছি তা হল কয়েকজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত যাপন-ইচ্ছা। কোন আন্দোলনের পেছনে যেমন এক সম্মেলক প্রকাশ আর আদর্শ থাকে, সেরকম কিছু দেখবার সুযোগ হয়নি।
১০. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা—মেয়েদের জন্য এই দাবিটির বয়স যথেষ্ট। এ দাবি ষাট-সত্তরের দশকেও ছিল। তখন মনে করা হত অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এলেই একটি মেয়ে স্বাধীন হতে পারে। কিন্তু আজ এই ২০১৮ই আমি এই প্রশ্নটিকেই একটু অন্যভাবে দেখছি। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মানে কি একজন মানুষের নিজের উপার্জনের টাকা নিজের পছন্দ মতো খরচ করার স্বাধীনতা? সেই অধিকার কি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে একজন পুরুষের থাকে? তাকে বাচ্চাদের স্কুল ফিজ, বাড়ির বাজার খরচ, যাতায়াত, চিকিৎসা—এই সব খরচের দায়িত্ব নিতে হয় না? সেই অর্থে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নারী-পুরুষ সকলেরই দরকার হয়। কিন্তু, বিশ্ব বাণিজ্যায়নের এই যুগে এসে এই বিষয়ে ‘মেয়েদের স্বাধীনতা’র কথাটি আমার মনে অন্য প্রশ্ন তৈরি করে। স্বাধীনতা শব্দের সঙ্গে ‘ইচ্ছে মত’ শব্দের একটা তফাৎ আছে। ইদানীংকালে যে কোন উপায়ে টাকা হাতে পাবার জন্য যে প্রচণ্ড আগ্রহ লোকজনের বিশেষত কমবয়সিদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সমাজে জটিল সমস্যা তৈরি করছে। এর প্রধান কারণ হল বাজারে অনাবশ্যক ভোগ্যবস্তুর সম্ভার। অর্থাগমের মূল সুবিধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বেশি ক্রয় ক্ষমতা। এবং এই বহুজাতিক পণও উৎপাদনকারী বাজারের অন্যতম টার্গেট ক্রেতা মেয়েরা। একটু তলিয়ে দেখলে বোঝা যায় নারী-বান্ধব হবার ছলে এই ভোগ্য উৎপাদকদের দর্শন ক্রমাগত মেয়েদের শ্রম বাঁচানো, সৌন্দর্য বৃদ্ধি, স্থায়ী যৌবনের গ্যারান্টি আরো হাজার রকম লোভ দেখাতে থাকে। আর্থিক ক্ষমতাবৃদ্ধির আর্থিক প্রয়োজনের কোন উর্দ্ধসীমা নেই। ফলে নারী পুরুষ সকলের হাতেই আর্থিক স্বাধীনতার বদলে ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণের সংস্থান থাকাই সমাজের পক্ষে শ্রেয় কিনা ভেবে দেখা দরকার হয়েছে।
মানুষ যেহেতু সামাজিক জীব, একা সে কোন উন্নতি উর্জন করতে পারে না, কাজেই ‘আর্থিক স্বাধীনতা’ ও সমাজের নিম্নস্তরের মানুষদের সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে হওয়াটা সমাজের পক্ষে কল্যাণকর।
সান্ত্বনা রায় (ডাক্তার, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ)
১. আমি পছন্দ করি না। হ্যাঁ, তবে এটা তো হয়ই। Usual.
২. বয়সটা ম্যাটার করে। সায়েন্টিফিক্যালি খারাপ হতে পারে না। হলিউডের রজার মুরকে আমি খুব মুগ্ধ ছিলাম—তার চেয়ে অনেক ছোটো একজনকে বিয়ে করেন।
তবে হ্যাঁ, বয়সের সঙ্গে সেক্সুয়াল সম্পর্কের যোগ আছে। ‘মেনোপজ’ হলে হরমোন সিক্রিয়েশন হয় না—শরীর ড্রাই হয়। মনের দিক দিয়ে ইচ্ছে, চাহিদা, তারুণ্য থাকলেও, শরীর সেভাবে সাড়া দেয় না।
৩. আমার নিজস্ব সন্তান নেই। ইচ্ছে ছিল অনাথ আশ্রম করব, চাকরির শেষে। ২০০৪ থেকে আমার স্বামী অসুস্থ, আমার আর সে ইচ্ছে পূরণ হল না। ঠাকুরপুকুরের কাছে সুহাসিনী মিস্ত্রী সবজি বেচে হাসপাতাল করেছেন। আমি খুব শ্রদ্ধা করি। ওখানে আমি সাহায্য করেছি।
৪. না। পুরুষ হতে ইচ্ছে হয় না।
৫. বিয়ের বয়স—অ্যাডাল্ট মানে Secondary Sex Characters যখন হবে, তারপরই। ব্রেস্ট, ভ্যাজাইনা, হোয়াইট ডিসচার্জ—মানে যৌবনের সব রকম চিহ্ন বিকশিত হবে, তখনই।
৬. সেক্স এডুকেশন মাস্ট। একটু আপার ক্লাসে উঠলে তবেই দিতে হবে।
৭. স্বমেহন স্বাভাবিক। সায়েন্টিফিক্যালি মেয়েদের কম হয়। অবিবাহিত মেয়েরা, মাঝবয়সিরা করতে পারে, অল্প বয়সিরা টেস্টটিউব দিয়ে মাস্টারবেট করতে গিয়ে ভেঙে গেছে—এমনও দেখেছি। রক্তাক্ত হয়ে এসেছে...
৮. মা হতে চায় সবাই। নির্মাণ পর্ব কিনা জানি না, তবে না হলে ম্যালিগন্যান্সির চান্স বেশি।
৯. এই আন্দোলন সম্বন্ধে খুব বেশি জানি না।
১০. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অবশ্যই প্রয়োজন।
সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়
১. মানুষ উভকামী কী না এ প্রশ্নের উত্তরে সংযুক্তা নিজের কথা জানায়—আমার লেসবিয়ান স্ট্রিক আছে। মানসিক দিক দিয়ে। আমি ও সাবিনা—আমার কবিতার বই—টানা গদ্যে লেখা। সাবিনা আছে, আরব্য উপন্যাসের মেয়ে বা মেয়েদের ব্রতকথায়। অল্প বয়সে আমার এক বন্ধু—মেয়ে বন্ধু। আমি শারীরিক ভাবে চেষ্টা করেছিলাম—কিন্তু খুব ভালো লাগেনি—যেমনটি পুরুষের সান্নিধ্যে।
২. পুরুষ সঙ্গী বয়সে ছোটো কী বড়ো—ম্যাটার করে না। রাজা তো আমার চেয়ে ছোটো। তুবী আর আমার প্রথম স্বামী দুজনেই বড়ো। তবে তিনজনের মধ্যে যৌনতার দিক দিয়ে প্রথমজন অসাধারণ। তার কাছে আমি অনেক শিখেছি। এমনকী Clitorial Pleasure ওর কাছেই শিখেছি।
৩. গোপন ইচ্ছে—একা বেড়াতে যাওয়া। খুব অসম্ভব কিছু না। দিল্লি থেকে হরিদ্বার যেতে ইচ্ছে করে একা একা। লোটা, কম্বল সম্বল—একদম ওই রকমই ইচ্ছে...
৪. না। না। পুরুষ হবার কোনো ইচ্ছে নেই।
৫. বিয়ের বয়সে বাধা নিষেধ থাকা উচিত বলে মনে হয় না। সচেতনতা আসার পর যে কোনো বয়সে বিয়ে করা যায়। মেয়েদের নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে বিয়ে করা দরকার।
৬. সেক্স এডুকেশন দরকার। অজ্ঞতায় ভোগে তারা। ছেলেমেয়ে দুজনেরই দরকার।
৭. স্বমেহন, হতেই পারে। সচেতন করার জন্য আলোচনা দরকার। অনেকেই অপরাধ বোধে ভোগে।
৮. মা হওয়াটা একটা নির্মাণ পর্ব—বলা যায়। সৃষ্টিশীল মেয়ের ক্ষেত্রে নয়।
৯. এই আন্দোলন সমর্থন করি।
১০. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা খুবই প্রয়োজন।
রুশতী সেন
১. মানুষ উভকামী এটা নিয়ে আজকে আর কোনো প্রতিবাদের জায়গা আছে বলে আমার মনে হয় না। বিজ্ঞান যত কথা বলে, সব তো আমার ভালো লাগে না। আমাদের সাবেকি ধারণার সঙ্গে স্ববিরোধী হয়। বিরোধী আমাদের ভালো না লাগতে পারে কথাটা। কিন্তু এ নিয়ে প্রতিবাদ বা অসহমত পোষণের কোনো জায়গা নেই। আজ যদি আ-বিশ্ব তাকিয়ে দেখি, নিশ্চয়ই উভকামী মানুষ। আমার খারাপ লাগতে পারে ব্যাপারটা। এটা তো আমার আবেগের জায়গা—যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করার জায়গা নেই। কিন্তু মানুষ নিশ্চয়ই উভকামী।
২. এক অর্থ প্রশ্নটা খুব জটিল। দুটো মানুষের একসঙ্গে থাকা, পরস্পরের কাছে খানিকটা প্রয়োজনে থাকা, তার অনেক স্তর আছে, বিভাগও আছে। মেয়েরা ছোটো থেকেই তাড়াতাড়ি বড়ো হয়। পরিণত হয়। ১০ বছরের ছেলে বা ১০ বছরের মেয়ের মানসিক তফাত এক নয়। সমস্যাটা মূলত এইখানে যে সমবয়স্ক দুজনে যদি বিয়ে করে, তবে তাদের অসুবিধা হবে। ও কিছু বুঝছে না, ও বেশি বুঝছে।
আজকের দিনে এটা একটু অন্যরকম। এই জায়গাটার আমাদের খুব বেশি কিছু বলার নেই। পাঁচ সাত বছরের তফাত থাকলে ভালো এই ধারণাটা। যদি আজ আমরা সার্ভে করি, দেখব, অনেক বেশি তফাতেও ডিভোর্স হচ্ছে, সমবয়সিরা সুখে সংসার করছে। সারা বিশ্ব জুড়েই এই সমস্যা। শরীরের দিকে সমস্যা আছে। মেয়েরা তাড়াতাড়ি বুড়ো হন। পঞ্চাশ বছরের ছেলে যে গতিতে হাঁটতে পারে, মেয়েরা পারে না। আমার দাদা মশায় ছিলেন দিদিমার চাইতে বারো বছরের বড়ো। আমি কলেজে যাবার সময় আমাকে মনে করিয়ে দেন, কলেজে ছেলেদের সঙ্গে পড়বে, বিয়েটা মেয়েদের কয়েক বছরের বড়োকেই করা উচিত। ওঁরই এক বন্ধুর মেয়ে, এক বছর চার মাসের ছোটো ক্লাসমেটকে বিয়ে করেছিল—তাই এই সতর্ক বার্তা।
আজ তো অবস্থাটা পালটেছে। মেয়েরা শুধু গৃহকর্মে ছিল, তাই বাইরে জড় ছিল। আজ জড়তা কমে যাচ্ছে। মেয়েদের অর্থনৈতিক কারণে বাইরে যেতে হচ্ছে। এখন পঞ্চাশ বছরের ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা অ্যাকটিভ। আগে মেয়েরা শুধু গৃহকর্মে ছিল, তাই জড়তা ছিল। আজ দেখা যাচ্ছে, ছোটো কাউকে বিয়ে করেও মেয়েরা ভালো আছেন আবার Ideal difference নিয়ে বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে।
মেয়েটা যদি মনে করে স্বামীর কাছে সমর্পণই একমাত্র কাজ বা সংসারের কাছে তবে তার কাছে এটা একটা সমস্যা...
৩. ঘর বাহির চাকরি সামলে ছুটি ছুটি মন করে। দুই তিন দিন একটু, একটা চুপচাপ জায়গায় যাওয়া। গত মে মাসে রসুলপুর মালঞ্চ, ইকোনেচার পার্কে গেছিলাম। পঞ্চায়েতের কাছ থেকে আশি বিঘা জমি নিয়ে সাতটি দিঘি, ছেষট্টি হাজার গাছ, পাখি কাঠবেড়ালি—কটেজ সাঁতার কাটার জায়গা...খুব ভালো লেগেছে। ট্রেকিং বা অন্য একটা সংস্কৃতিতে চলে যাওয়া পনেরো দিন—এক মাস করে এটা হবে না। অন্য সংস্কৃতিতে লালন পালন ওইটা আমি ভাবি না। কলকাতার বাইরে পলিউশন ফ্রি জায়গায় তিন-চারবার ঘোরা—এটুকুই। পাহাড়ে প্রব্লেম আছে।
অনেক কিছু পড়া হল না। দেখা হল না। আর হবে না, জীবন এত ছোটো। ভালো ছবি, বিশেষত ছবি... ইচ্ছে করে...
৪. একেবারেই না।
ছেলে হয়ে আমি কখনও জন্মাতে চাই না। অনেকেই বলে, ছেলে হলে বেঁচে যাই। কারণ ছেলেরা অনেক সুবিধা ভোগ করে। অনেক আলোকপ্রাপ্ত পরিবারের ছেলেদেরও দেখেছি, তারা কীরকম শ্রম বিমুখ। ভালো ছেলে, পড়ালেখায় ভালো, মানে সে ব্যাবহারিক জীবনে কিছু শিখবে না। আমার এক পিসতুতো দিদি বলতেন—নারীমুক্তি নিয়ে তোর বা আমার কিছু করার নেই। তোর একটা মেয়ে, আমার দুটো মেয়ে... ছেলে থাকলে তাদের মানুষ করার ধরন পালটে নারীমুক্তির বেগ ত্বরান্বিত করা যেত।
৫. বিয়ের বয়স নিয়ে একটা কথা বলি, আঠারো তো বটেই, যে কোনো মেয়ে একটা পাকা চাকরি না করে যেন বিয়ে না করে। পাকা চাকরি জীবনেও হবে না? না, মানে বলতে চাইছি স্বাবলম্বী হবে। আজকাল তো উচ্চ শিক্ষিতরা চাকরি না পেয়ে এক লাখ টাকার টিউশনিও করছে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের জন্যই এই চাকরি কথাটা বলছি। স্বনির্ভর হওয়ায় মেয়েদের সমস্যা তো আছেই। আপার মিড্ল ক্লাসের কর্মহীন মেয়েরাও চরম ফ্রাস্টেশনের শিকার...।
এমনি নিম্নবিত্ত মেয়েরাও যে ভাবেই হোক স্বাবলম্বী হবে। সে ডোকরা হোক, সলমা চুমকির কাজ করে হোক... তাহলে অমুকে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছে, এটা কমবে। মেয়েটি মারা যাবার বারো ঘণ্টা বাদে মেয়ের বাড়ি থানায় অভিযোগ করেছে। বলছে, গত আট মাস ধরে মেয়েটার ওপর অত্যাচার চলেছে। তবে মেয়েটা গায়ে আগুন দেওয়া অব্দি অপেক্ষা করলেন কেন?
বিয়ের বয়স শারীরিক কারণে আঠারো বলা হয় কারণ তার আগে শরীর তৈরি হয় না।
মেয়েদের বিয়ের বয়স একুশও করা হয়েছিল, সারদা অ্যাক্টে।
আমার মার বিয়ে হয়েছিল ১৯৫৩ সালে। দাদুকে গার্জেন হিসাবে সই করতে হয়েছিল কারণ মার বয়স তখন উনিশ।
৬. সেক্স এডুকেশন দেবে কে? যেখানে পলিসি প্রয়োগ হচ্ছে, যারা ট্রেনার, তার কীরকম—কীরকম তাদের বিজ্ঞান সচেতনতা, মূল্যবোধ, সংস্কার। কীভাবে তারা ডিল্ করছে—এগুলো জরুরি।
এটা যদি অ্যান্টিডোট হিসাবে কাজ করে, তবে অসুবিধা। আগে বড়ো পরিবারে সমস্যা কম ছিল। এখন নিউক্লিয়—পরিবারে সমস্যা বাড়ছে।
অ্যাডোলেসেন্স পিরিয়ডে ছেলেদের পরিবর্তন হয় একটু দেরিতে। মেয়েদের নয়-দশ-এগারোতেই। তাদেরকে খোলাখুলি সব বলে দেওয়া উচিত। মা বললেই ভালো।
‘পাকদণ্ডী’তে লীলা মজুমদার ওঁর মা-র কথা বলেছেন। লীলাদির দিদি তখন চোদ্দো, লীলাদি বারো, তো তারা প্রশ্ন করে: মানুষের বাচ্চা হয় কী করে?
মা উত্তর দেন: ভগবান দেন। তবে ভগবান তো নিজে এসে দিয়ে যান না। ব্যবস্থা রেখেছেন যাতে মানুষকে দিয়েই দেওয়ান এবং এর ওপর একটা ছোটোখাটো যৌন বিজ্ঞানের পাঠও দেন। তিনি কিন্তু কট্টর ব্রাহ্ম পরিবারে মানুষ।
৭. স্বমেহনের সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু মেয়েদের স্বীকার করাতেই পারবেন না। সেক্স জিনিসটার মধ্যে যে কোনো পাপ নেই—আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থায় লোকটির দেওয়ালে পিঠ বেঁকে গেলেও বলবে না। কনসিল করার ইচ্ছে মেয়েদের সবচেয়ে বেশি। যে ভাবে পায়খানা, ইউরিন চেপে রাখাটা তাদের কাছে একটা আনন্দ।
এইগুলো নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি যদি হয়, খারাপ কী! ব্যাপারটা সহজ হয়, তা হলে...
৮. আমার অনেক বয়সে বিয়ে হয়েছে। খুব স্বাবলম্বী ভাবে বাচ্চা প্রসব করে দেড় মাসের মাথায় কলেজ যেতে হবে—মা হওয়ার অভিজ্ঞতা, অবশ্যই খুব ইন্টারেস্টিং।
সেই সময় যাদবপুর ইউনিভার্সিটির উওম্যান স্টাডিজ-এর এক এম.ফিল.-এর ছাত্রীকে সুপারভাইজ করি, তো ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হল আমার মেয়ে টংলিং-এর ওজন ৩ কেজি ৮০০ গ্রাম আর আমার কাছে এম.ফিল থিসিস্ করছিল দিলসার, তার থিসিস পেপার ক্যুরিয়ারে এল, তার ওজনও ৩ কেজি ৮০০ গ্রাম। আমার কলেজে অনার্সের ছাত্রীদের সঙ্গে, আমার ইন্টার্যাকশন ভালো ও খারাপ। আবার আমার মেয়ের সঙ্গেও ভালো ও খারাপ।
চাইল্ড ম্যারেজের ওপর একটি সেমিনারের জন্য আমাকে একবার খুব খাটতে হয়। সে সব রিপোর্ট রেকর্ড পড়ে আমি পাগল পাগল হয়ে গেছিলাম। আমার সিজার করে বাচ্চা হয়েছে, আমি তো প্রসব বেদনা জানি না কিন্তু ওই কাজটা করার সময়, অনেক বড়ো কাজও তো করেছি, কিন্তু এর থেকে কষ্ট পাইনি।
হ্যাঁ। বিশাল ব্যাপার মা হওয়া। শুভ কাজে বাঁজা মেয়ের মুখ দেখলে হবে না। নিজের ইচ্ছেয় বাচ্চা চাইছে না, সেটা বলতে পারাও খুব শক্ত। বড়ো বড়ো ডাক্তার, বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী, আরো কতজন—কী যে ওদের চিকিৎসা। চোখের তলায় কালো—আমি দেখেছি এদের অনেকে, অ্যাডপ্ট যদি কেউ করতে চায়, তার পদ্ধতিও সহজ নয়। দুই দিকে গ্র্যান্ড প্যারেন্টসদের কনসেপ্ট লাগে...
জগদীশ গুপ্তর ‘দয়ানন্দ গিরি ও মল্লিকা’ উপন্যাসটির শেষ অংশের কথা মনে করুন। স্বামী তাকে কোনো দিন মারেনি তবু কোর্টের নির্দেশ সে আর কখনও শ্বশুরবাড়ি যেতে চায় না কেন?—অসুখের সময় ছেলে পেটে এসেছিল; মরতে বসেছিলাম। এ শরীরে আমি আর ছেলে চাইনে—ছেলে আমি পেটে ধরতে পারব না। রক্ষে করো আমাকে তোমরা।
৯. এলিজিবিটি—আমার অ্যাবসোলিউটলি সমর্থন আছে। যার যেটা দরকার—মানসিক বা শারীরিক ভাবে তাকে সেটা দেওয়া হোক। তবে আমাদের মতো দেশে ট্রান্সজেন্ডারের জন্য মানুষ নিজের শরীরের ওপর যতরকম সার্জারি চালাচ্ছে, সেটা কতটা ঠিক সন্দেহ আছে।
১০. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রয়োজনীয়। কিন্তু যথেষ্ট নয়। কোনো লেভেলই নয়।
কাজের মেয়েদের দেখুন। মাসে আট-দশ হাজার টাকা উপার্জন করে। মাতাল বর। মেনেই চলে। ‘ও যতদিন বাঁচবে, আমাকে জ্বালাবে’– আমি আর ভাবি না।
আর মধ্যবিত্তদের তো আড়াল তৈরি অনেক বেশি। বাইরের কাজ বেড়েছে, ঘরের কাজ বিন্দুমাত্র কমেনি।
এক সময় মনে হয়েছিল, যারা লেবার তারাই পারবে। কিন্তু সে রকম হয়নি। তারা যত্ন করে বেকার স্বামীদের পোষে যাতে সামাজিক মর্যাদা ঠিক থাকে। তারা উপার্জন করলেও বলতে পারছে না, গুড বাই...
স্বাতী ভট্টাচার্য
১. ব্যাবহারিক জীবনে সবাই যে নিজেকে উভকামী চিন্তা করে তেমন মনে হয় না। সেটা এক-একজনের মধ্যে এক-এক রকমের। সংস্কৃতির উপরেও নির্ভর করে। আমি যতটুকু বিজ্ঞান বুঝি, তাতে উভকামিতার কিছু উপকরণ হয়তো সব মানুষের মধ্যে আছে। কোথাও কোথাও উভকামিতা কালচারালি অ্যাকসেপটেড।
২. সম্পর্কের ব্যাপারে—মানসিক সম্পর্ক, যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে বয়সটা বাধা নাই হতে পারে। অনেকেই সুখী আছেন। ব্যাবহারিক দিকে, সামাজিক দিকে মেয়েটির অসুবিধা হয়। তার উপর আধিপত্য গঠন করতে সুবিধা হয়—যৌন জীবনের ক্ষেত্রে অসুবিধা হয়...
অবশ্য আগের চেয়ে ব্যাপারগুলো কমে গেছে।
৩. সাংসারিক বা সামাজিক জীবনে বন্ধু যদি না থাকে তবে তো অসুবিধা হতেই পারে। কারো সঙ্গে কিছু শেয়ার না করতে পারলে। ও আমার কোনো অপূর্ণ ইচ্ছে না। তবে মজা করে বললে বলি, আমার বক্সিং করতে ইচ্ছে হয়।
৪. পরজন্মে বিশ্বাস...
ইম্পর্টেন্ট প্রশ্ন। কম বয়সে অনেক বেশি বিশ্বাস করতাম। আমি ঈশ্বরে বিশ্বাসী। নিজেকে হিন্দু বলে বিশ্বাস করি। তখন রিলিজিয়াস কারণে মনে হত কর্মফল হয়। কিন্তু ওই ফেসটা পেরিয়ে এসেছি। এখন ওইরকম ভাবি না। বনমালী তুমি পরজন্মে হোয়ো রাধা, এরকম মনে হয় না।
I think my thinking was more scientific and spiritual
মেয়ে হয়ে জন্মানোর জন্য বিরক্ত হতে হয়নি, উত্যক্ত হতে হয়নি এমন নয়। কনফাইনড্ বলে মনে হয়নি তা নয়। কিন্তু আমার কখনও মনে হয়নি, থিঙ্কিং দিয়েও মনে হয়নি। I should have be a boy—ছেলে হতে ইচ্ছে হয়নি।
৫. বিয়ের বয়স...
নাবালিকা বিয়ে উচিত নয়, সেটা তো বলার কথা-ই নয়। বিয়ের বয়স দুটি দিক থেকে দেখা যায়—সামাজিক দিক থেকে আর ব্যক্তিগত দিক থেকে। সামাজিক দিক থেকে ২০ পার করে বিয়ে করা উচিত। বেশিরভাগ মেয়ের শারীরিক অবস্থা ভালো থাকে না। অ্যানিমিক হয়। শরীর মা হওয়ার উপযুক্ত নয়। যার ফলে সন্তান ধারণের কথা চিন্তা করে দেরিতে বিয়ে করা উচিত।
ব্যক্তিগতভাবে এটা একেবারে খুলে রাখা উচিত। এটা নিয়ে কারো কোনো চিন্তাই রাখা উচিত না। এবং বিবাহের সঙ্গে যৌন জীবনের সম্পর্ক রাখাও, আমার মনে হয় না ঠিক।
—মানে?
-—মানে বিয়ে করল, তারপর তার যৌন জীবন শুরু হল। এই যে আমরা ভাবি, বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে আমাদের বিয়ে হচ্ছে না—এইরকম গোছের একটা তাড়া থাকে। তো আমার মনে হয় না, Sex should be confined in marriage. We should have a sexual life. বয়স থাকতেই আমাদের Sexual life দরকার। সেখানে বিয়ের বাধ্য বাধকতা থাকা দরকার নয়, বলে আমার মনে হয়। বিয়ের বয়সের সঙ্গে Sex জীবনের কোনো সম্পর্ক থাকে না। আমাদের দেশে কুড়ির পর বিয়ে হলে নিশ্চিন্ত হওয়ার যায় যে, তার শরীর একটু ভালো হয়েছে।
আপনি যদি আমায় জিজ্ঞাসা করেন বিয়ের কোনো বয়স থাকা উচিত কিনা, আমি বলছি না। তার মানে এই নয় যে আমি মনে করি ২৬, ২৮ বা ৩২ বছরের একটা মেয়ের সেক্স লাইফ শুরু হবে, She can have sex life... বিয়ের জন্য বিয়ে করবে, sex করার জন্য বিয়ে করবে না।
কিন্তু আমি যখন বলছি, বিয়ের বয়স ব্যক্তিগত হওয়া উচিত, তখন এটাই মীন্ করছি যে এর সঙ্গে যৌন জীবনের কোনো সম্পর্ক নাই।
১৮+ বিয়ের বয়স এই রকম বেঁধে দিয়েছে। ২০-তে বিয়ে হলে একটু নিশ্চিন্ত হওয়া যায় যে মেয়েটির শরীরটা একটু ম্যাচিওর করেছে। দু’বছর এক্সট্রা সময় পাওয়া গেল।
কোথাও কোথাও ষোলো-তে কেউ কেউ বিয়ে দেন। বাবা-মার ভয় যে মেয়ে কিছু করে বসবে—এই কেলেঙ্কারির ভয়। তারা মেয়েটিকে পার করে দিতে পারলে বাঁচে।
৬. সেক্স এডুকেশন—অবশ্যই দরকার। এ নিয়ে বিতর্কের কোনো কারণ থাকতে পারে না।
Sex Education কারা দেবেন? টিচাররা। তাঁদের ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা আছে। NCERT বহু আগেই এর কারিকুলাম, ট্রেনিং ঠিক করেছে, কিছুদিন প্র্যাকটিশ ছিল।
অটলবিহারী বাজপেয়ীর সময় অনেক BJP স্টেট এই পাঠক্রম বন্ধ করে। তৃণমূল প্রথমবার ক্ষমতায় এলে SUC চ্যাঁচামেচি করল ব্রাত্য বন্ধ করে দিলেন। এটার কোনো অর্থ হয় না।
এটা Anti Human
Anti Youth
Anti Code... সবদিক থেকেই ন্যক্কারজনক।
৭. স্বমেহন—আলাদা করে বলার কিছু নেই। নানা ধরনের যৌন ক্রিয়ার মধ্যে একটি প্রক্রিয়া। স্বাভাবিক। এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন বা বিব্রত হবার মতো কিছুই নেই।
আমাদের হিন্দু কালচার অদ্ভুত। ব্রহ্মচর্য বলে একটা Pecular Myth-এর ওপর জোর দেওয়া হয় এবং মনে করা হয়, পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি একটি দুর্বলতা। কিন্তু সবই ফালতু কথা, এগুলো নেহাত-ই মিথ তৈরি করে রাখা হয়েছে, যেগুলো অর্থহীন এবং ক্ষতিকর।
আমার কাছে ভাত খাওয়া ক্ষতিকর জিজ্ঞাসা করা আর স্বমেহন ক্ষতিকর জিজ্ঞাসা করা একইরকম।
পিঠ চুলকানো কী উচিত?
কী মুস্কিল! চুলকোলে চুলকোতে হবে।
৮. মা হবার সাধ—একটা নির্মাণ
এটা অনেকটাই তাই। সম্প্রতি সেলিব্রিটিদের নিয়ে কথা প্রসঙ্গে এটা উঠে এসেছে। জেনিফার, সানিয়া মির্জার বক্তব্য যথেষ্ট জোরালো। মা হবার ইচ্ছা—সেটা যে সবসময় সন্তানের প্রতি ভালোবাসার একমাত্র কারণ, তা নয়। আমাদের দেশের মতো দেশে, মাতৃত্বই হচ্ছে মেয়েদের সম্মানের একমাত্র শর্ত। কারণ পরিবার, পারিবারিক উত্তরাধিকার এবং অন্যান্য সব কিছুতে দাবি কায়েম হয় মাতৃত্বের মাধ্যমে—এবং মেয়েটির মূল্য নির্ধারিত হয় মাতৃত্ব নিয়ে। তার Primary Value নির্ধারিত হয়—সামাজিকভাবে এটার প্রভাব খুব বেশি, প্রত্যাশা খুব বেশি বলে, মেয়েদের মধ্যে মাতৃত্বের ইচ্ছা বেশি। সেটা না হলে নিজেকে Efficient মনে করে না। এটা, এক অর্থে স্বাভাবিক হয়তো। কিন্তু অনেক কিছুই তো স্বাভাবিক। বৃদ্ধা বাবা-মার সঙ্গে থাকতে চাওয়া, এটাও তো স্বাভাবিক, কিন্তু এটা আমরা ক’জন করতে পারি? পারি না করতে। ব্যস্ত পৃথিবীতে, অনেকেই Not Compatible to Motherhood... ব্যস্ত হয়েও যদি করা যেতো, করতো।
Emotional fulfillment, যেটা Motherhood থেকে হয়, সেটা যদি অন্য জায়গা থেকে হয়ে যায়, কেউ যদি ভাইপো, ভাইঝিকে খুব ভালোবাসে, কুকুর পুষতে ভালোবাসে—তার Emotional fulfillment ওখান থেকে আসে। নিজের সন্তানের জন্য অত কাতর হয় না।
৯. LGBT আন্দোলন—খুবই জরুরি। আমাদের সময়ে মহিলা আন্দোলন যত জরুরি, এলজিবিটি আন্দোলন ততটাই জরুরি। এটা সব সময়ই ছিল এবং এখন প্রাধান্য পাচ্ছে এটা বড়ো কথা। এই আন্দোলনের জন্য সাংবিধানিক পরিবর্তন—সে সব নিয়ে যে সমস্যা আছে সেগুলো পাবলিক ডিসকোর্সের অঙ্গ হয়ে উঠছে এবং প্রতিদিনই কিছু কিছু বেশি মানুষ কষ্ট করে তাঁদের মত বলতে পারছেন। তাঁদের অধিকার আছে এবং স্বীকৃতি পাওয়া দরকার। এটা সম্পূর্ণ ঠিক। মানে, এটা নিয়ে আমার কোনো দ্বিধা নেই। এবং এখনও কিছু মানুষের মনে কেন দ্বিধা আছে, সেটা আমার কাছে আশ্চর্য।
১০. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা...
হ্যাঁ। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা তো অবশ্যই দরকার। প্রতিটি মেয়েরই দরকার। কিন্তু এটাই প্রথম কথা নয় আর শেষ কথা নয়—এটা মনে রাখা জরুরি।
বহু মেয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হয়েও, মনে এমন ভাবে ডিপ্রেশনে থাকে, বেশ কিছু মানসিক, আর্থিক ব্যাপার নিজের মধ্যে জড়িয়ে থাকে, সেটা খুবই অস্বস্তিকর...
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মানে নিজের রোজগার নয়। বড়োলোকের মেয়ে—গয়নাগাঁটি আছে, তার নামে হয়তো জমিও আছে, কিন্তু সে রোজ মার খায়। বাড়ির কাজের মেয়ে, তার রোজগারে সংসার চলে অথচ সে বরের কাছে মার খায়। তাহলে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলতে কী বুঝব! রোজগারটা ঠিক স্বাধীনতা নয়, জানেন তো! ভালো চাকরি করে, সবই করছে—তাদের বররা তাদের গালাগাল দিল, তারা হাসল—They make joke out of it... খুবই Secondary...
আমাকে থাকতেই হবে, যতই মারুক না কেন, এই একটা মনোভাব। যারা মার খেয়ে মারা যায়, তারা যে ঘরে ফিরে এলে দুটো খেতে পরতে পারত না তা নয়। বাবা-মারাও দায়ী—ওদের বোঝায়, যেমন করে হোক থেকে যাও। এরকম একটু হবেই। একটু তো অ্যাডজাস্ট করতেই হবে।
এখন যদি যে রোজগার করে, সে একটু নিজের মতো করে ভাবতে পারে। একটু সুবিধা হয়। রোজগার করলেই যে হবে, তা নয়।
যৌথ পরিবারের মহিলারা যথেষ্ট দাপুটে ছিলেন। যে মেয়েদের নামে জমি আছে, বাড়ি আছে—তারা একটু কম নির্যাতিত হন। কিন্তু তুলনায় যে নিজে রোজগার করে কিন্তু জমি বা বাড়ি নেই তারা বেশি নির্যাতিত হয়।
—এটা কী সব Class-এই?
—হ্যাঁ। ২০০জনকে নিয়ে সার্ভে করেছিলাম। যার জমি, বাড়ি আছে, তাকে তো আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন বলব না কারণ তার তো মাসিক উপার্জন নেই। কিন্তু তার যে একটা যাবার জায়গা আছে, স্বামী বার করে দিলে তাকে রাস্তায় থাকতে হবে না, জীবন নিয়ে ঝুঁকি নিতে হবে না—এই Confidence থাকলে, স্বামীরা মারতে সাহস পায় না। কিন্তু রোজগার যদি বা একটা মেয়ে করে, সে তো এত টাকা রোজগার নয় যে সে আলাদাভাবে থেকে নিজেকে চালাতে পারবে! তা ছাড়া মেয়েদের প্রবণতা আছে, মানে তারা মনে করে ছেলেমেয়েদের ছেড়ে গেলে, বিয়ে ভেঙে গেলে সামাজিক স্বীকৃতি সম্পর্কে সে আর পুরুষের ভালোবাসা পাবে না। ভালোবাসাহীন, প্রেমহীন অল্পবয়সি মেয়ে কীভাবেই বা জীবন কাটাবে, ইমোশনালি সে কীভাবেই বা ভাববে! ফেমিনিস্টরাও এটা খুব একটা অ্যাকসেপ্ট করে না।
বহরমপুরের এক মহিলা কনস্টেবলকে তার স্বামী পুড়িয়ে মেরে দিয়েছে। পি.এফ থেকে টাকা তুলে তুলে আরো অন্যভাবে স্বামীকে দিতে হত। তো মেয়েটি যখন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ডিভোর্স ফাইল করে, মরে যেতে হয়।
এবার বলুন, ফর্মূলা কোনটা ভুল হয়েছিল। কনস্টেবল মেয়ে, তার চেয়ে Empowered, আমাদের দিক থেকে আর কে আছে?
যশোধরা রায়চৌধুরী
১. দ্যাখো, নারী হয়ে নারীকে ভালোবাসার কথা যদি বলো, নান্দনিক দিক থেকেই বলো, আর দার্শনিক জায়গা থেকেই, বহুবার আমাদের এ রকম আলোচনা হয়েছে। বান্ধবীদের অনেকের সঙ্গেই মানুষ হিসেবে অনেক বেশি করে কাছাকাছি আমি। যতটা পুরুষ কারোর সঙ্গে। কিন্তু একে কামনা বলা যায় কিনা জানি না। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ ব্যাপারটা ঠিক যে রকম সেরকমই অনুভব করেছি আমি। তবে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের অনেক রং। অনেক শেডস।
২. সম্পর্কের ব্যাপারে বয়স: ছেলেটি ছোটো এরকম নিজের চোখে দেখেছি ঘটতে, বিয়ে ভেঙেও যেতে দেখেছি অনেক সময়ে। আমার কাছে বয়স অনেকটাই রিলেটিভ। একটি মানুষের ম্যাচিয়োরিটি তার বয়েসকে নস্যাৎ করে দিতেই পারে। যদিও বয়ঃক্রমে ছোটোদের প্রতি দাদাগিরি করা আমার এক আরোপিত অভ্যাস, তবু প্রেমের ক্ষেত্রে অন্তত বয়স যে কোনো বাধা নয় তা আমি মনে করি।
২ক. যখন সারাদিনের অসম্ভব পরিশ্রমের পর, কোমর ভেঙে আসতে চায়, তখন ইচ্ছে হয় কেউ যদি আমার কোমর দাবিয়ে দিত! এটা আমি কারুকে মুখ ফুটে বলতে পারি না। আমার বর আমাকে বলে তার জ্বর হলে। আমি রোজকার জীবনে এটা পারি না। অথচ দেখেছি কিছু বাড়িতে লোক আসে ম্যাসাজ করার। শরীরের শুচিবায়ু আমার এতটাই জন্মগত ট্রেনিং বশে, যে এমন কোনো মালিশওয়ালা রাখার কথা ভাবিনি। এখন আসন করি, ব্যথা কমেছে। কিন্তু ওই যে, বিলাস ব্যসনের মতো, আমি শুয়ে আছি আর আমার কোমর মালিশ করে দিচ্ছে কেউ, এটা আমার হিডেন ডিজেয়ার...
৩. আমার ছোটো বয়সের একটা ইচ্ছে ছিল ফ্যাশন ডিজাইনার হবার। নিজের সৃষ্টিশীলতার একটা দিক এই ফ্যাশন ডিজাইনিং-এর প্রবণতা। একটা গেঞ্জিতে নিজে ফ্রলিকা দিয়ে কবিতার লাইন লিখতাম, জামায় ডিজাইন আঁকতাম। নিজে জামা সেলাইও করতাম। এখনো শাড়িতে কারুকাজ করি, খুব কম, কারণ সময় নেই। এবং নিজের সৃষ্টিশীলতার অন্য একটা অভিমুখ আমি পেয়ে গেছি। তাই। তবু ওটা আমার নিভৃত বাসনাদের একটি। আমাদের যৌবনেই নানা বড়ো বড়ো ব্যান্ড কৃত ডিজাইনারা উঠলেন। এখন বুঝি তারাও শুধু সৃষ্টিশীলতায় চালিত হয় না। তাদের কী করতে হবে বলে দেয় বাজারই।
৪. নারী জীবন আমার খুব প্রিয়। ছোটোবেলায় হয়তো বা ভাবতাম, আচ্ছা যদি ছেলে হয়ে জন্মাতাম কেমন হত। তারপর একটা অদ্ভুত সাইকোলজিকাল গেম-এ আটকে গেছি। নিজের ভেতরে কতটা মেয়ে মেয়ে আর কতটা ছেলে ছেলে সত্তা আছে, তা বোঝার চেষ্টা করি। আসলে দুরকমই আছে, এটা, নিজেই অনুভব করেছি যে। কখনো মনে হয় আমি একেবারে মেয়েলি নই। কখনো মনে হয়েছে আমি খুবই মেয়েলি। এই জন্মেই সব জন্ম বাঁচা হয়ে গেল।
৫. বিয়ের বয়স: আমি খুব বেশি বয়সে বিয়ে করেছি। ৩২-৩২ বছর বয়সে। বিয়ের বয়স বেশি হলে—সমস্ত জিনিস তৈরি হয়ে গেছে—বিয়ের পর নতুন করে অ্যাডজাস্টমেন্ট হওয়া মুশকিল।
৬. সেক্স এডুকেশন থাকা উচিত। সবার। মাঝেমাঝে মনে হয় একটু এগোচ্ছি না আমরা। এখন তো কৌতূহল মেটানো সোজা, ইন্টারনেট আছে। তবে প্রপার গাইডেন্স দরকার।
৭. স্বমেহন: খুব জরুরি, একক জীবনে। সেক্স-কে স্বীকার করতে শেখা ভালো। সব সময় সেই রতি বা রমণের জন্য অন্য মানুষকে পাওয়া যে যাবেই তার কোনো স্থিরতা তো নেই। একা থাকলে, নিজেই নিজেকে পরিতৃপ্তি দিতে পারলে, অনর্থক জটিলতার থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
৮. মা হবার সাধ: একটি নির্মাণ: মেয়ে হল। স্ত্রী হল। যে এতদিন নারী ছিল, মা হয়ে সম্পূর্ণতা পেল। সমাজ স্বীকৃত হয়ে গেল। জরায়ু সম্বন্ধে ভয়ংকর ধারণা কাজ করে। প্রেগন্যান্ট হলাম, জরায়ুটাই ইম্পট্যান্ট।
মা, না হলে পূর্ণতা হয় না—এই রকম কনসেপ্ট। বাঁজা হলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সে ব্রাত্য। বাচ্চা যদি কেউ না নেয়, তার উপর সাংঘাতিক চাপ।
৯. এলজিবিটি আন্দোলন সমর্থন করি।
১০. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা খুব জরুরি।
ড. রঞ্জিতা বিশ্বাস
১. উভকামী মানে বাইসেক্সুয়াল—যৌন পছন্দ। একটি মানুষ পুরুষ বা নারী, উভয় লিঙ্গের প্রতি যৌন আকর্ষণ ফিল করে। বাই-সেক্সুয়ালিটি বিকৃতি নয়, আর এক ধরনের যৌন পছন্দ।
২. সম্পর্কের ব্যাপারে বয়সের ক্ষেত্রে ট্রাডিশনাল থিঙ্কিং পুরুষ নারীর গার্জেন হবে, কর্তা হবে। নারীকে চালনা করবে। এখন পুরুষ নারী সম বয়সি হয় বা ছোটো হয়। সম্পর্কে বয়সের কোনো গুরুত্ব থাকার কথা নয়। জেন্ডারেরও গুরুত্ব থাকার কথা নয়।
৩. মনের ইচ্ছে লুকিয়ে রাখি না, সাধারণত বলে দিই। ইচ্ছে ছিল, থিয়েটারে থাকা। বাড়ির লোকজন মনে করিয়ে দিল যে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার না হলে জীবনে কিছু হবে না, বৃথা যাবে। স্কুলে নাটক করেছি, জুনিয়ার ডাক্তার হিসাবে থাকার সময় একটা নাটক করলাম—ম্যানেজ করতে পারলাম না।
৪. পুরুষ হবার কোনো ইচ্ছে নেই। একদমই নেই।
৫. বিয়ের বয়স আঠারোর আগে নয়। বাল্যবিবাহে অনেক অসুবিধা। সমাজে মেয়েদের যৌনতা চেপে রাখা হয়। শরীর নিয়ে ইনফরমেশন দেওয়া হয় না। তাদের যে যৌন পছন্দ বা ইচ্ছে থাকতে পারে, তা দমিয়ে রাখা হয়। বিয়েটাই বড়ো বিষয় কারণ তারপর তুমি যৌন আনন্দ পাবে।
এই জন্যই বয়ফ্রেন্ড হলে তার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ একটা অ্যাট্রাকশন। বিয়ে করে Sex করতে হবে। আঠারোর তলায় মানে ষোলো হলেও আমার বিয়েতে আপত্তি নেই। তবে বারো-তেরোতে আমি মনে করি না।
৬. যৌন শিক্ষা... স্কুল থেকে দরকার। আজকের বাচ্চাদের ক্লাস ফোরেও মিনস্ট্রুয়েশন হয়ে যাচ্ছে। বাচ্চারা এক্সপোজড হয়ে যাচ্ছে—ডিসটরটেড হয়ে যাচ্ছে ক্লাস ফোর থেকে যৌন শিক্ষা দেওয়া দরকার। মেয়েদের যৌন শিক্ষা বলতে আমরা বুঝি, তাকে ভয় দেখানো। পিরিয়ড শুরু হবার পর তুমি যদি সেক্স করো, তবে তুমি প্রেগন্যান্ট হয়ে যাবে। অসুখ করবে। বা তুমি রেপড হবে, মানে সব সময় ভয় দেখিয়ে দেওয়া। মানে এর থেকে তুমি বিরত থাক। কোনো ইনফরমেশন দেব না। মেডিক্যালেও দেখেছি যারা পড়তে এসেছে, তারা নিজের শরীরটাকেই জানে না। শরীর মানে জেনিটাল। ছেলেরা কিন্তু ছোটো থেকেই জেনিটাল অরগ্যান সম্বন্ধে জানে।
রেপড্ হতে পারো, HIV পজিটিভ হতে পারে, তাই সেক্স করবে না, এবং এটা শুধু মেয়েদেরই বলা হয়... ছেলে মেয়ে, সেক্স এডুকেশন একই সঙ্গে দিতে হবে।
৭. … স্বমেহন আগের প্রশ্নের সঙ্গে রিলেটেড। মাস্টারবেশন সম্বন্ধে অনেকগুলো ভুল আইডিয়া আছে। (১) নং হচ্ছে, এটা শুধু ছেলেরাই করে বা করতে পারে বা করা উচিত। মেয়েরাও যে মাস্টারবেশন পারে বা করার মধ্যে কোনো দোষ নেই, এটাই মেয়েরা জানে না। তো এখনও যখন ওয়ার্কশপ নিই, দেখি বড়ো মেয়েরা যারা কলেজে পড়ে তারাও সেক্স প্লেজার, জানে না। করলেও ভ্যাজাইনা, ক্লাইটেরিস কি, জানে না। অনেক ওয়ার্কশপে মেয়েদের আয়না দিয়েছি। দিয়ে বলেছি, আজ বাড়ি গিয়ে তোমরা নিজের শরীরটাকে চেনো জানো। তারা শরীর চেনে না। কারণ একে তো তারা প্রাইভেসি পায়নি কখনও। দ্বিতীয়ত লজ্জাঘৃণা এমন করে শেখানো হয়েছে সব সময়, তারা তাদের শরীরটাকে ছুঁয়েও দেখেনি। আমরা তাদের আয়না দিয়ে বলি, দেখো তোমাদের গোপন অঙ্গ—ক্লাইটোরিস কোনটা, কোনো দিন ছোঁওনি তো। লজ্জাঘৃণা থেকে বেরিয়ে এসে, আমার শরীরটা যে আমার একটা আনন্দের স্থান, এটা বোঝা দরকার। এবং আমরা বলি মেয়েরাও মাস্টারবেট করতে পারে—এটা কোনো খারাপ কাজ নয়। ছেলেরাও মনে করে মাস্টারবেট করলে শরীর খারাপ হয়, স্পার্ম কাউন্ট কমে যায়। তবে তারা বাবা হতে পারবে না, এটা একটা ভুল ধারণা।
এটা প্লেঝারেবল অ্যাক্টিভিটি। তবে দুটো জিনিস মনে রাখতে হবে, এটা প্রাইভেট কাজ। সবার সামনে করবে না। এটা যদি অবসেশন হয়, তবে একটা সমস্যা। এর বাইরে আসতে হবে।
৮. মা হবার সাধ একটি নির্মাণ...
আমি বলব যে একটা তফাত করতে হবে ‘মাদারহুড’ আর ‘মাদারহুড ইনস্টিটিউশন’-এর মধ্যে।
প্রাতিষ্ঠানিকতা যদি একটা তৈরি হয়ে যায় যে, সব মেয়েকে মা হতে হবে—আর মা না হলে, তার জীবন বৃথা—আর যে মেয়ে মা হতে পারল না, তাকে সমাজ থেকে ব্রাত্য করে দিলাম, তাকে অসুস্থ বললাম—এটা একটা সমস্যা।
কিন্তু মা হতে চায় কেউ, এটাতে আমি সমস্যা দেখি না। মানে, কেউ যদি মা হতে চায়, অবশ্যই হবে। কেউ যদি মা হতে না চায়, তাকে যেন খারাপ ভাবে দেখা না হয়।
‘Mothering’ হচ্ছে একটা অ্যাক্টিভিটি—এটা ছেলেরাও করতে পারে, মেয়েরাও করতে পারে...
ছেলেরা জন্ম দিতে পারে না। কিন্তু একটা বাচ্চার যে ধরনের যত্ন, ভালোবাসা, মাতৃত্বের যে ভ্যালুজগুলো রয়েছে সেগুলো বায়োলজিক্যালি কানেকটেড নয়। নারীত্বের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নাই। মা জন্ম দিতে পারে, একটা সময় পর্যন্ত শিশুকে ‘ফীড’ করাতে পারে। কিন্তু এর বাইরে আমি মনে করি না যে মেয়েদের শরীর আর মাতৃত্ব কানেকটেড। আমি মনে করি এটা একটা কনস্ট্রাকশন—সামাজিকভাবে এটা তৈরি করা হয়েছে।
আমি কিছু একটা বহন করছি শরীরের মধ্যে, তখন আমি শিশু হিসাবে দেখতে পাচ্ছি না, যদি সোনোগ্রাফি দেখি, দেখি কিছু একটা নড়ছে। কিন্তু আমাকে না সব সময় বলা হয় দেখো, এটা না তোমার রক্তমাংস দিয়ে তৈরি, একটা টিউমারও তো আমার রক্তমাংস দিয়ে তৈরি। তার প্রতি তো আমার সেরকম মনে হয় না—। আজকাল সবাই এটা গ্লোরিফাই করি, চেরিশ, সেলিব্রেট করি...
অনেক মেয়ে দেখেছি—তারা কনসিভ করেছে, বাচ্চা হয়েছে, মা না হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেনি। কিন্তু তার মধ্যে এমন কোনোভাব জাগেনি যে এই বাচ্চাটা আমার, আমাকেই দেখাশোনা করতে হবে। তারপর সেই বাচ্চাটা মানুষ হয়েছে বিভিন্ন লোকের কাছে। তার মানে আমি এটা বলব না যে ও মাতৃত্বকে অস্বীকার করেছে। ও মা হতে চেয়েছে, ও মা হতে ভালোবাসে। কিন্তু ও মনে করে না যে, ওকে আমি শরীরে নয় মাস ধরেছি, তাই ও আমার প্রপার্টি।
মানে এটাই বোঝানো হয় যে ও তো তোমার শরীর থেকে বেরিয়েছে, তাই বাবার চেয়ে তোমার মানে মায়ের টান বেশি হবে। আমি মনে করি বাবার টানও ইকোয়্যালি হয়, হতে পারে। শরীর থেকে বেরোয়নি মানে, বাবার টান নেই, এমন নয়। এই নির্মাণের ফলে কী হয়, বাচ্চা অসুস্থ হলে মাকে-ই ছুটি নিতে হবে, রাত জাগতে হবে। অসুস্থ না হলে ন্যাপি পালটানো, খাওয়ানো সবই তোমাকে করতে হবে। কারণ? তোমার শরীর থেকে বেরিয়েছে...
৯. এলিজিবিটি আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করাতে রঞ্জিতা বলেন, এটা কী পশ্চিমবঙ্গের নিরিখে?
এই প্রশ্নটা কেউ করেনি। ওকে ইন্টারন্যাশনাল প্রেক্ষিতেই বলতে বলি। আমেরিকাতে লেসবিয়ান, বাই-সেক্সুয়াল বা ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছেন যারা যোনি নিয়ে জন্মালে মেয়েলি হবে বা লিঙ্গ নিয়ে জন্মালে পুরুষালি হবে, এটা মানেন না। মানে এই সোশ্যালাইজেশনের, প্রসেসটাই মানে না। আমি একটু মানি, কেউ একটু কম মানে, কিন্তু কেউ কেউ একদমই মানে না। তাদের কেউ কেউ নারী থেকে পুরুষে রূপান্তরিত হতে চায়। এটাকেই বলি ট্রান্স—ট্রান্সজেন্ডার, ট্রান্স সেক্সুয়াল...
তো এদেরকে অসুস্থ বলে ট্রিট করা হত। তাদের বাইরে একসঙ্গে মেলামেশার সুযোগ ছিল না। তারা একদিন করে ক্লাবে জড়ো হত, ড্রিংকস নিত, নাচগান করত। পুলিশরা ওদের জ্বালাতন করত, টাকা পয়সা দিতে হত। এইরকমই আঠাশে জুন ১৯৬৮-তে পুলিশ হুজ্জতি করেছে। কিছু মানুষ এর বিরুদ্ধে রিভোল্ট করে—রায়ট হয়ে যায়, তিনদিন ধরে রায়ট চলে। এটার নাম ‘স্টোন ওয়াল রায়ট’– নিউ ইয়র্কের ক্রিস্টোফার স্ট্রিটের ক্লাবে ঘটে। বহু পুলিশ, সমকামী, রূপান্তরকামীরা মারা যান—এই দিনটিই প্রতি বছর স্মরণ করা হয়—যা আজও চলছে। এটা যে রোগ নয়, এটা চিকিৎসা করার কথা না—এই সব মিলেমিশে ১৯৭২-এ আমেরিকা এটাকে রোগের লিস্ট থেকে বাদ দিয়ে দিল। এতে মুভমেন্ট গতি পেল। ছড়িয়ে গেল।
আমাদের দেশে এই ঢেউ এসে লেগেছে নব্বইয়ে। আটের দশকে HIV, AID বেড়ে গেছে গ্লোবাল লিবারাইজেশনের ফলে। আমাদের দেশেও এক ধরনের ফান্ড আসতে আরম্ভ করল, যেখানে কিনা HIV নিয়ে কাজ করতে হবে। হেলথের নাম দিয়ে হোমো সেক্সুয়াল মানুষদের, সমকামীদের সার্ভে করার কথা বলা হল, সরকারি তরফ থেকে। সরকারি টাকা ঢুকল। বিভিন্ন ছোটো ছোটো এনজিও তৈরি হল বিভিন্ন এলাকার হিজড়া ও সমকামী মানুষদের আইডেন্টিফাই করে। এবং তখন পুরুষ সমকামী মান্যতা পেল। এই মান্যতা দিয়ে এক জোট হওয়া। এক ধরনের মুভমেন্ট কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাইয়ে—‘বোম্বে দোস্ত’ বলে ম্যাগাজিন বার হয়েছে। এটা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে কিন্তু তখনও সেলিব্রিটিরা আসেনি। একবিংশে বিক্রম শেঠ বললেন, আমি বাই-সেক্সুয়াল। তারপর ‘ফায়ার’ রিলিজ হলে হইচই হল—মেয়েরাও সমকামী হতে পারে। হিন্দু আর আরএসএস বিজেপির লোকেরা ভাঙচুর করল। এর বিরুদ্ধে এক জোট হওয়া সেইটা একটা মেয়েদের মুভমেন্ট—১৯৯৯-৯৮ এইরকম সময়। ১৯৯৯-তে ‘স্যাফো (SAFO) তার আগে দিল্লিতে ‘সঙ্গিনী’, বোম্বেতে ‘লিবিয়া’—এরা উওম্যানস মুভমেন্ট থেকে বেরিয়ে এল। সমকামী মেয়েদের আন্দোলন তৈরি হল। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা, কলকাতায় SAFOকে হেল্পলাইন চালানোর একটা প্রতিশ্রুতি দিল। ২০০৩ সালে রেজিস্ট্রেশন হল এবং ফান্ড পেতে আরম্ভ করল। ফান্ড পেয়ে পাবলিক অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম, কলেজ প্রোগ্রাম, ফিল্ম উৎসবের মাধ্যমে অনেক সচেতনতা তৈরি হল। ঋতুপর্ণ অনেকটা সিনেমার মধ্য দিয়ে প্রকাশ করেছেন, কিন্তু অনেক পরে নিজেকে বাইরে এনেছেন। আগে যখন SAFO থেকে উনাকে অ্যাপ্রোচ করা হয়েছিল, উনি রাজি হননি। ২০০৯-১০-এ এসেছেন। খোলাখুলি বলেছেন। চিত্রাঙ্গদা করেছেন।
—এই প্রসঙ্গে একটা প্রশ্ন। পরিবর্তনের জন্য অপারেশন। এগেনস্ট দ্য নেচার। পয়সারও ব্যাপার...
—আসলে অনেকের এটা Existential Crisis... মানে আমি নিজেকে ছেলে মনে করি বা মেয়ে মনে করি, অথচ আমার শরীরটা সে রকম নয়। মানসিক ভাবে আমি তো ছেলে কিন্তু শারীরিক ভাবেও আমি যেন হই। আমার গলার স্বরটা যেন পালটায়, জেনিটালের পরিবর্তন হয়—। তখন হরমোন পরিবর্তন (সার্জারি) আমার কাছে জরুরি। সবার যে খুব কমপ্লিকেশন হয়, তা নয়। আনফরচুনেটলি ঋতুপর্ণর হয়েছিল। যাদের ছেলেমেয়েরা এসব করতে চান, তাদের বাবা-মা খুউব টেনসড্ থাকেন। কিন্তু সব সময় কমপ্লিকেশন যে সবার হবে তা নয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে মনিটরিং করে আসতে আসতে যদি করা যায়।
সবাই যে চেঞ্জ করতে চায়, তা নয়। তারা ভাবে আমি তো নিজেকে ছেলে বা মেয়েই মনে করি। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে একটা বড়ো ক্রাইসিস হল মেনস্ট্রুয়েশন—প্রত্যেক মাসে ব্লিডিং মনে করিয়ে দিচ্ছে, আসলে আমি শরীরে মেয়ে, যতই নিজেকে ছেলে ভাবি—এটা একটা বড়ো ট্রমা। কেউ আবার নিজেকে ছেলে ভাবে কিন্তু বড়ো ব্রেস্ট। কাউকে আবার বাইরে থেকে বোঝাই যায় না সে মেয়ে—তারা চেঞ্জ চাইবে না। কেউ কেউ চাইবে। কলকাতায় প্রচুর ডাক্তার চেঞ্জ করছে। হরমোন ট্রিটমেন্ট বা চিকিৎসা করাচ্ছে—
—এই ট্রেন্ডটা কী অর্থনৈতিক দিক থেকে যারা স্বচ্ছল, তাদের বেশি?
—যারা মেয়ে থেকে ছেলে হতে চায়, তারা Sex করে ইনকাম করতে চায়...। ছেলেরাও তাই। Sex করে, হিজড়া বৃত্তি করে টাকা পয়সা রোজগার করতে চায়। হ্যাঁ, গরিবরাও চায়। জমি বিক্রি করেছে। শুধু টাকা পয়সা ফ্যাক্টর নয়। মা বাবার বিরুদ্ধে যেতে পারছি না। আমি এই জায়গায় এস্টাব্লিশড হয়ে গেছি, চাকরিটা চলে যাবে, পারব না।
এসব এড়িয়ে বহুজন চেঞ্জ করতে চায়।
আমার কাছে রোজ ম্যাক্সিমাম মানুষ আসে, তারা চেঞ্জ করতে চায়। আমি সাপোর্ট করি। কিন্তু অন্য একটা জায়গায় অসুবিধা হয় যে আমরা যদি সামাজিকভাবে জেন্ডার ইশ্যুটাকে রাখি মানে আমরা যে একটা স্ট্রাকচার তৈরি করে ফেলেছি, মেয়ে মানে এইটা, ছেলে মানে এইটা—এইগুলো যতদিন চলবে, সামাজিকভাবে যতদিন না এই নির্মাণ ভাঙতে পারছি, এর থেকে বেরোতে পারব না।
১০. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা...
সব মেয়েরই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দরকার। কিন্তু আমি এটা মনে করি না যে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা থাকলেই, সে অন্যভাবে এমপাওয়ার্ড হয়ে যায়।
অনেক মেয়েদের দেখেছি, অর্থনৈতিক ভাবে ভীষণ ভালো জায়গায় আছে কিন্তু এইরকম ভাবে যে, স্বামীর তলায় থাকতে হবে। স্বামী যা বলবে তাই শুনতে হবে। বাবা, মা যা বলবে তাই শুনতে হবে।
একটা মেয়ে যখন রোজগার করে সেটাকে প্রাইমারি ইনকাম হিসাবে দেখা হয় না। ছেলেরাই প্রাইমারি ইনকাম করবে মেয়েরা সাপ্লিমেন্টারি ইনকাম করবে, এই মনোভাব মনে হয়।
আমি যদি টাকা ইনকাম করি, সেটার ওপর আমার অধিকার যেন থাকে। এটা যেন মনে না করি, এটা ফ্যামিলির। বাড়ি থেকে বেরোচ্ছি যখন কাজ করতে তখন বাড়ির স্বার্থেই করছো—এটা আমি মনে করি না। সেলফ্ ইনডিপেন্ডেন্সের জন্যই সে কাজ করবে। সব মানুষেরই যদি খেটে খাওয়ার ক্ষমতা থাকে, তবে সে খেটে আয় করুক। তারপর সেই আয় নিয়ে সে কী করবে, সেটা তার ব্যাপার। কিন্তু সেটা এমন নয় যে, মেয়েরা কাজ করছে মানে স্বামী বলেছে বা সংসারের প্রয়োজন।
সে কী মনে করে যে, আমি প্রাইমারিলি মানুষ আমার আয় করার কথা নাকি সে মনে করে আমি মেয়ে, আমার আয় করার কথা নয়। প্রয়োজনে আয় করতে পারি। এটা মুশকিলের জায়গা। মানে পুরুষ ইনকাম করবে, আর আমি করব না—প্রোডাকটিভ লেভেল আর রিপ্রোডাকটিভ লেভেল, এই ডিভিশনে আমি দাঁড়িয়ে আছি।
গুলশনারা খাতুন
১. আমি বিশ্বাস করি। যৌনতা প্রতিটি মানুষের পছন্দের বিষয়। সেক্ষেত্রে কেউ সমকামী উভকামী বা বিসমকামী হবেন, সেটা তার পছন্দের বিষয়।
আমি উভকামী নই। কিন্তু কেউ যদি উভকামী হন, তাতে আমার আপত্তি নেই।
২. আমি বয়সটাকে factor মনে করি না। আমার সঙ্গে যাদের সম্পর্ক হয়েছে—তারা দুজন আমার বয়সি, একজন ছোটো আর একজন বছর দশেকের বড়ো।
আমার তাদের সঙ্গে শারীরিক বা মানসিক কোনো অসুবিধা হয়নি।
৩. হ্যাঁ, মনে অনেকগুলি ইচ্ছে আছে।
কাল রাত্রেই দুম্ করে একটা ইচ্ছা হল। যে আমি বেরিয়ে পড়ি, রাত্রি সাড়ে বারোটা নাগাদ, ট্রেন ধরে কোনো এক অচেনা স্টেশনে চলে যাই। তারপর একটু বাংলা মদ পান করি, ওখানে বসে একটু শক্তি চট্টোপাধ্যায় পড়ি আবার সকালে লোকাল চায়ের দোকানে প্রজাপতি বিস্কুট দিয়ে চা খেতে খেতে সূর্যোদয় দেখি... তারপর বাড়ি চলে আসি। আরো একটা wild ইচ্ছে। আমি একদিন তিনটে ছেলেকে নিয়ে আসব। তাদের মধ্যে একজন আমাকে মদ সার্ভ করবে, একজন নাচবে আর একজন গা-হাত-পা টিপে দেবে।
আর একটা ইচ্ছে, আমি একটা থিয়েটার ভিলেজ বা নাট্যগ্রাম করতে চাই। একটা কম্যুনিটি লিভিং—চাষি, ছুতোর এরা নাটক না করলেও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকবে।
৪. না করি না। না, একদমই পুরুষ হতে চাই না। আমি হিজড়ে হয়ে জন্মাতে চাই কারণ ওই যন্ত্রণাটা দেখার ইচ্ছে আছে।
৫. আঠারোর পরে অবশ্যই কিন্তু যার যখন ইচ্ছে, তিনি তখন বিয়ে করতে পারেন। পেলে যদি ৭২ বছরে বিয়ে করতে পারেন, তো...
6. Sex Education ভীষণ দরকার। আমি একটা Co-Ed স্কুলে পড়ে বড়ো হয়েছি, সেখানে নারী-পুরুষের খুব সহজ আদানপ্রদান হয়েছে। বাড়ির পরিবেশও খুব খোলামেলা ছিল। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখেছি Sex Education না থাকার জন্য একটা Hush! Hush অবস্থার জন্য একটা ভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। জটিলতা তৈরি হয়। এর জন্য খোলাখুলি আলোচনা দরকার। স্কুলে প্রশিক্ষণ দরকার। এবং যারা শিক্ষা দিচ্ছেন, তাদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। হঠাৎ করেই Life Science-এর গ্রোথ অ্যান্ড রিপ্রোডাকশন চ্যাপ্টারটা যেন বাদ না পড়ে যায়।
৭. স্বমেহন এটাকে ভীষণ ভাবে একটা পুরুষের করে রাখা হয়। মেয়েরা যে স্বমেহন করতে পারে, এটা মেনে নেওয়াই হয় না। অথচ মেয়েরা তো কামশীতল নয়। তাদের ক্ষেত্রে শব্দটির অস্তিত্বই লজ্জাজনক অথচ সেটা খুব স্বাভাবিক। শারীরিক তাড়না ও তাগিদ সবারই খুব স্বাভাবিক।
৮. অবশ্যই। একটি মেয়ে জন্মাবার পরই, মেয়ে হিসেবে তাকে পরিপূর্ণতা পেতে হয়। মানুষ হিসাবে নয়। আর মেয়ে মানুষের পরিপূর্ণতার জন্য তাকে বলা হয় মা তো তোমাকে হতেই হবে।
আমার সিগারেট খাওয়ার নিষেধ হিসেবে বলা হয়েছে, দ্যাখ তোর, মা হতে অসুবিধা হবে। একবারও বলেনি তোর নাটকের ক্ষেত্রে অসুবিধা হবে। বা সাধারণ স্বাস্থ্যর ক্ষেত্রে, এটা খারাপ। যেন, মা, হবার জন্যই আমি জন্মেছি।
৯. আন্দোলনের বহিঃপ্রকাশ তো আমরা অনেক পরে দেখছি কিন্তু এ আন্দোলন আরো অনেক আগে হওয়া উচিত ছিল। ওই যেটা বললাম, যে আমার যৌনতার পরিচয় কী হবে সেটা কোনো সমাজ, কোনো বাইবেল, বেদ, কোরাণ কোনো প্রতিষ্ঠান ঠিক করে দেবে না।
১০. ভীষণ দরকার। প্রতিটি মানুষের। নারী পুরুষ নির্বিশেষে।
মধুরিমা চক্রবর্তী আর কেয়া ভট্টাচার্য
প্রথমে মধুরিমার সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পালা। কেয়াদি, সব প্রশ্নে সহমত। আলাদা করে উত্তর দিলেন না। তবে বিয়ে নিজে উপার্জনক্ষম হয়েই করা ভালো, মনে করেন।
১. উভকামিতা অসমর্থন করি না। ন্যাচারাল ব্যাপার। ন্যাচারাল ভাবে মেনে নেওয়াই যায়। তবে নিজের ক্ষেত্রে কখনও হয়নি।
২. বয়সটা কোনো সমস্যা নয়। যদি আসে, সাগ্রহে গ্রহণ করা উচিত। আমি নিজে বয়সে বেশি পুরুষ পছন্দ করি। ম্যাচিয়োরড হলে দায়িত্ববান হয়।
৩. গোপন কিছু নেই, খোলাপাতার মতো আমি। কিছু ভালোবাসার জায়গা আছে, সেগুলো বলতে চাই না। অনেকগুলো ব্যাপার জড়িয়ে থাকে, আমি যে ভাবে বড়ো হয়েছি—ম্যাটেরিয়াল চাহিদা কিছু নেই। ইমম্যাটেরিয়াল চাহিদা, ভীষণভাবে আছে।
৪. পরজন্মে বিশ্বাসী নই। না, পুরুষ হতেও চাই না। আই লাইক, লাভ উওম্যানহুড।
৫. বিয়ের বয়স? আমি যে বয়সে বিয়ে করেছি। পঁচিশ। পঁচিশ থেকে তিরিশ।
৬. সেক্স এডুকেশন অবশ্যই প্রয়োজন। সবচেয়ে প্রয়োজন বাবা-মার সন্তানকে দেওয়া। আমরা যেমন ভাবে দিই। বয়ঃসন্ধির সঙ্গে সঙ্গে পিতামাতার অবশ্যই রোল থাকবে।
৭. স্বমেহন—একদম পছন্দ করি না।
৮. নির্মাণ পর্ব কিনা, একদম তাই। আমার ভেতর, আমার মতো বা আমার বরের মতো কেউ বড়ো হচ্ছে—এই ভাবনাটাই দারুণ।
নিজের মতো জীব তৈরির দারুণ একটা আনন্দ আছে। নাথিং ইজ বেটার দ্যান টু গিভ বার্থ আ চাইল্ড... বিবাহিত জীবনের পাঁচ বছরের পর আর কিছু থাকে না। এক্সপ্লোরেশন শেষ। স্বামী স্ত্রীর। বাচ্চাই থাকে, যাকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত আবিষ্ট হওয়া যায়।
৯. ‘ভীষণভাবে সমর্থন যোগ্য’ সমকামিতা খুবই স্বাভাবিক। কোনো অপরাধ নয়।
১০. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পুরোটাই দরকার।
বিদিশা চৌধুরি
১৩.০৭.২০১৫ বৃহস্পতিবার। বিকেল চারটা
বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরম। মিষ্টি, ভেজ চপ, মেটের চপ আর বিদিশার জন্য লেগ স্পেশাল। কারণ কী ওর লেগে লেগেছে। বিশ্বভারতীতে সাইকেলে লাইব্রেরি যাবার সময় পেছন থেকে মোটর সাইকেলের চুম্বন। কোমরে লেগেছে। পায়ের তলায় গভীর ক্ষত। জুতো ছিল বলে পা-টা বাদ যায়নি।
পা প্রায় শুকিয়ে এসেছে। লম্বা বিনুনির ঝকঝকে বিদিশার সঙ্গে আলাপ ওর বাবার সামনেই।
১. মানুষ সব সময়ই উভকামী। আমার যেমন মেয়ে দেখতে ভালো লাগে। তার মানে আমি সমকামী নই। উভকামিতা স্বীকার করি—অস্বীকারের প্রয়োজন নেই।
২. ছোটো না বড়ো—Doesn’t matter... ‘মানুষ সামাজিক প্রাণী’ এই নির্মাণ থেকে অনেকে Taboos তৈরি করা হয়... এটা ব্যক্তি বিশেষে Depend করে...
৩. গোপন ইচ্ছা কাউকে Share করি না... একশো কোটি ইচ্ছে আছে।
৪. পরজন্মে বিশ্বাস করি না। সেটা তো ১টা দুর্দান্ত ইচ্ছে পুরুষ হব।
সেইরকম পুরুষ যে নারীপদ দলিত। ব্যাকবোনহীন ট্যাবু পুরুষ হব না...
৫. বিয়ের কোনো বয়সই নেই। বিয়েটাকে ট্যাবু বলে মনে করি না।
১৮-এর নিচে বিয়ে তবে হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর বিদিশা বলে, বস্তিতে ১৮-এর নিচে বিয়ে হয়। ১৮-এর আগে শরীর তৈরি হয় না—Womb carry করা শরীর—তাই বিধি নিষেধ।
মুস্কিল হল রাষ্ট্র বিধান দেয়। Security দেয় না। কোনো কবচ দেয় না, যা তোমাকে রক্ষা করতে পারে। গোটাটা ভীষণ চাপিয়ে দেওয়া।
৬. Sex-Education-Necessary. আর Class IX-ই ঠিকঠাক সময়। এবং এটা যারা হ্যান্ডেল করবেন—Co-Ed স্কুলের Class room-এ ‘তোমরা তো বুঝতেই পারছো কী বলতে চাইছি’—এইরকম বলবে না। সোজাসুজি বলবে।
৭. Masturbation-It’s a need, Natural ছেলেদের ক্ষেত্রে তো খুব স্বাভাবিক।
বিদিশা বলে, এটা নিয়ে খুব Hiping-এর প্রয়োজন নেই যেমন নেই Santitary Napkin নিয়ে আন্দোলন।
মেয়েদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নয় ? আর শারীরিক অন্যান্য ক্রিয়ার মতো এটাও যে একটা ক্রিয়া—এই জানান তো অনেককে পাপবোধ থেকে মুক্ত করতে পারে।
শরীর নিয়ে আমাদের ছুঁৎমার্গবৃত্তির ফলে বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেমেয়েরা তীব্র পাপবোধে ভোগে এবং মানসিক অবসাদের শিকার হয়। এটা খুব স্বাভাবিক। অনেকেই করে—এই জানানটুকু কী তাদের সাহায্য করতে পারে না?
হ্যাঁ সেটা পারে। তবে এটা গ্রাসরুটের আর মধ্যবিত্ত মানুষের কাছ থেকে আশা করা যাবে না। তারা সমাজের সামনে এসব অস্বীকার করবে। কিন্তু ভেতরে করবে।
৮. মা হওয়া একটা অনুভূতি—সেটা কেউ নিতে চায় কিংবা নিতে চায় না—Democratic State-এ এরকমই হওয়া উচিত।
Glorfication of motherhood—সম্পত্তির আইনকে বলবৎ করার জন্য। এটা এক ধরনের চাপিয়ে দেওয়া। বিয়ে রক্তের ভেতরে ঢুকে যাওয়া একটা Taboo থেকে আসে বিয়ে।
যে জন্য একভাবে এই Systemকে আমি ঘৃণা করি।
৯. এলিজিবিটি আন্দোলন (লেসবিয়ান গে বাইসেকসুয়াল ট্রান্সজেন্ডার) কে ১০০% সমর্থন করি
৩৯৯ ধারা আর থার্ড জেন্ডার-কে স্বীকৃতি, আইনি স্বীকৃতির প্রয়োজন ছিল।
তৃষ্ণা বসাক
১. হ্যাঁ, মানুষ উভকামী। মনস্তাত্ত্বিক ভাবেও।
২. ছোটো বড়ো সমস্যা নয়, বোঝাপড়াই শেষ কথা।
৩. সব ইচ্ছেই তো সোচ্চারে বলে যাচ্ছি লেখায়, বাড়ি বাইরের সংলাপে।
৪. আমি সব ব্যাপারেই সংশয়বাদী। পরজন্ম আইডিয়াটাও দুরন্ত। ছেলে বা মেয়ে যাই হই না কেন, চাইব পৃথিবীটা একটু বোকা বোকা বৈষম্য মুক্ত হোক। আর সবুজ থাকুক, শিশুদের বাস উপযোগী হোক।
৫. বিয়ের বয়স একেক জনের কাছে একেকরকম। ২০, ৫০ বা ৯০...। তবে বাল্য বিবাহ নৈব-নৈব-চ।
৬. সেক্স এডুকেশন খুব জরুরি তবে ব্লান্টলি নয়। অর্থাৎ শৈশব সারল্য বা রহস্যটুকু রেখে সুরক্ষাটা বুঝিয়ে বলা।
৭. ব্যক্তিগতভাবে এই এক্সপিরিয়েন্স নেই। যারা করে নিশ্চয় আনন্দ পাওয়ার জন্যই করে।
৮. নির্মাণ তো বটেই। তবে মা হতে পারলে জগৎটা অনেক বড়ো হয়ে যায়। তবে তা বায়োলজিক্যাল হতে হবে —তার কোনো মানে নেই।
৯. যে কোনো বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন যতক্ষণ নিরীহ মানুষের ক্ষতি না করে চলে ততক্ষণ তা সাপোর্ট করি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।