নান্দীমুখ

অবিন সেন

তিরের ফলার মতো ভারী ভারী বৃষ্টির ফোঁটা নিবিড় অন্ধকারকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়ে চরাচরের বুকে আছড়ে পড়ছে। মাঝে মাঝে বিদ্যুতের অসি আকাশকে ফালা ফালা করে দিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে অদৃশ্য পাহাড় ধসে পড়ার মতো বজ্রপাতের বিপুল শব্দ। এমন দুর্যোগে শ্বাপদও নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে বের হতে ভয় পায়। তা সত্ত্বেও প্রাকৃতিক তাণ্ডব উপেক্ষা করে দুইটি মানুষ আপাদমস্তক কালো বস্ত্রে ঢেকে রাজপ্রাসাদ থেকে বের হলেন। অন্ধকারে পথ ভালো দেখা যায় না। তবু এই পথ তাঁদের চেনা। গাছপালা গুল্মের ঝোপ এড়িয়ে যেদিকে সাধারণ সৈন্যদের বসবাসের ছোটো ছোটো কুঁড়ে, সেই দিকে তাঁরা এগিয়ে গেলেন। সেখানে সাধারণ সৈন্যদের বাসস্থানের একটি ক্ষুদ্র কক্ষে দুই ভাই আলোচনায় বসলেন।

তাঁদের মধ্যে যিনি বয়সে বড়ো, তিনি বজ্রপাতের বিপুল শব্দে কেঁপে উঠে ভাবলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বাংলার আকাশেও যেন দুর্ভাগ্য নেমে এসেছে।

গৌড়ের পাঠান শাসক দাউদ মোগল সম্রাট আকবরের সেনানী খানজাহান হুসেন কুলি খাঁর হাতে পরাজিত ও নিহত হয়েছেন। প্রায় আড়াইশো বৎসরের অধিক সময়ব্যাপী শাসনকারী পাঠান শাসনের অবসানে বাংলার বুকে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা।

দাউদের বন্ধু ও প্রিয় অমাত্য দুই ভাই শ্রীহরি আর জানকীবল্লভ যখন তাঁদের প্রিয় বন্ধুর পতনের সংবাদ পেলেন, তখন তাঁরা দারুণ ভীত হলেন। খবর পেলেন প্রতিহিংসাপরায়ণ মোগল সৈন্যরা পতনশীল বঙ্গীয় সুলতানের অমাত্য যাকে সামনে পাচ্ছে তাকেই হত্যা করছে। ফলে গৌড়ে থাকা আর নিরাপদ মনে হল না তাঁদের। কিন্তু এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে পলায়ন করাটাও সহজ নয়। কারণ তাঁদের দুই ভাইকে এই রাজ্যে চেনে না এমন মানুষের সংখ্যা বিরল।

তবে এমন দুর্দিন যে ঘনিয়ে আসছে তা তাঁরা আগেই উপলব্ধি করেছিলেন। এই তো মাত্র কয়েক বৎসর আগের কথা। দাউদ তখন সবে কৈশোর কাল উত্তীর্ণ করে যৌবনের দিকে পা বাড়িয়েছেন। তখনও গৌড়ের মসনদে সুলেমান। কিন্তু তিনি বৃদ্ধ। তাঁর মানবলীলা শেষ হলে জ্যেষ্ঠ পুত্র কুমার বৈজিয়দ রাজসিংহাসনে আরোহণ করেন। কিন্তু নিজের ভাইদের প্রতি তাঁর মনোভাব তেমন ভালো ছিল না। ছোটো ভাই দাউদ নামমাত্র রাজদক্ষিণা পেয়ে সাধারণ জীবন কাটাতে লাগলেন। সঙ্গী পিতার প্রিয় মন্ত্রী ভবানন্দের দুই পুত্র শ্রীহরি আর জানকীবল্লভ। দুই ভাই বয়সে নবীন হলে কী হবে, বিষয়বুদ্ধি আর কূটনীতিতে তাঁরা ছিলেন প্রখর। আস্তে আস্তে দুই ভাই হয়ে উঠলেন রাজকুমার দাউদের চালিকাশক্তি। অন্যদিকে বৈজিয়দ কুশলী শাসক ছিলেন না। নিজের পরিবারের ভিতরেই তাঁর বিপক্ষে বিরুদ্ধতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। একদিন ভগ্নীপতি হুসোর সঙ্গে কলহের সময়ে হুসো তাঁকে অতর্কিতে আক্রমণ করে বসে। হুসোর ছুরিকাঘাতে তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হয় বৈজিয়দের। হুসো কারও কোনও পরোয়া না করে নিজেই গৌড়ের সিংহাসনে চড়ে বসলেন। কিন্তু হুসো ভীষণ খল আর নিষ্ঠুর চরিত্রের মানুষ ছিলেন। সপ্তাহ অধিকের বেশি তিনি রাজসুখ ভোগ করতে পারলেন না। নিজেরই এক আত্মীয় আমির লোদি তাঁকে হত্যা করলে রাজ্যে আবার অন্ধকার সময় নেমে এল।

শ্রীহরি আর জানকীবল্লভ যেন এই সময়েরই অপেক্ষায় ছিলেন। ভিতরে ভিতরে রাজ্যের সেনাপতি ও অন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দলে টেনে নেবার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। সেই সঙ্গে ভালো মানুষ দাউদের সুখ্যাতি ও গুণকীর্তন করে বেড়াচ্ছিলেন। এই কাজে তাঁরা খুব শীঘ্রই সফল হলেন। কোনও রক্তপাত, কোনও হানাহানি ছাড়াই রাজ্যে উচ্চস্থানীয় মানুষদের সমর্থনে দাউদ সিংহাসনে বসলেন। বলা ভালো, সবাই মিলে দাউদকে সিংহাসনে বসিয়ে দিলেন। দাউদ মসনদে বসেই কৃতজ্ঞতার মূল্যস্বরূপ শ্রীহরিকে বিক্রমাদিত্য আর জানকীবল্লভকে বসন্ত রায় উপাধিতে ভূষিত করে উচ্চ রাজপদের দায়িত্বে বসিয়ে দিলেন। সেই সঙ্গে গঙ্গার মোহানার পূর্বভাগ ও ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিমভাগের বিস্তৃত অঞ্চলের ভূমি দুই ভাইকে দান করলেন।

দাউদ সুশাসক ছিলেন। সেই সঙ্গে শাসন-সংক্রান্ত দায়িত্ব এবং রাজস্বের হিসাবপত্রের ভার এই দুই ভাইয়ের কুশলী হাতে ছিল। ফলে অল্পদিনেই আবার বাংলার শাসনব্যবস্থায় সুদিন ফিরে আসে। কোষাগার অর্থে সম্পদে ফুলফেঁপে উঠতে লাগল। কিন্তু সেই সংবাদ চাপা থাকল না। আগ্রার বাদশাহের কানে সংবাদ পৌঁছাল, বাংলা তাদের নজর এড়িয়ে সম্পদে ফুলেফেঁপে উঠছে।

ফলে গৌড়ের বুকে এই সুদিন বেশিদিন স্থায়ী হল না। বাংলার মাটিতে মোগল সম্রাট আকবরের আগ্রাসন নেমে এল। বাংলায় বেশ কয়েকজন ভূস্বামী বিক্ষিপ্তভাবে আকবরের বশ্যতা মেনে নিলেন। প্রথম দিকে বিক্রমাদিত্যের পরামর্শে দাউদও আকবরকে একটা সম্মানজনক শর্তে রাজস্ব দিতে স্বীকার করে নিলেন।

কিন্তু স্বাধীনচেতা দাউদ তা মনে মনে ভালো করে মেনে নিতে পারছিলেন না। বিক্রমাদিত্য আর বসন্ত রায় তা বুঝতে পারছিলেন। ততদিনে বিক্রমাদিত্যের একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে। অসম্ভব সুলক্ষণ দেখে পুত্রের নাম রেখেছেন প্রতাপাদিত্য। পুত্র বড়ো হচ্ছে। কিন্তু বাংলার আকাশে আবার কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে দেখে তিনি প্রমাদ গুনলেন। তাঁদের মতো রাজকার্যে অভিজ্ঞ অমাত্য বুঝতে পারলেন, একবার এই যুদ্ধের অনল যদি প্রজ্বলিত হয়, তবে সে আগুন আর সহজে নির্বাপিত হবে না। যতক্ষণ না এক পক্ষ পরাজিত হয়ে শেষ হয়ে যাবে ততদিন এই আগুন আর নির্বাপিত হবে না। তাঁরা দুই ভাই মনে মনে ভবিষ্যতের একটা পরিকল্পনা করে রাখলেন।

বিক্রমাদিত্য একদিন দাউদকে গিয়ে বললেন, ‘রাজা, তুমি তো আমাদের জমিদারির অধিকার দিয়েছ। কিন্তু সেই দেশে আমাদের সামান্য কয়েকজন জ্ঞাতি-গুষ্টি ছাড়া আর কেউ নেই। সেই স্থানে প্রজাপালনও হচ্ছে না। সেখান থেকে রাজ্যের খাজনাও তেমন আদায় হচ্ছে না।’

সুলতান দাউদ ভাবলেন কিছুক্ষণ। তারপরে বললেন, ‘তুমি ঠিকই বলেছ মিত্র। তা তুমি কী করতে চাও?’

- দেখো রাজা, আমার পুত্রও বড়ো হচ্ছে। কিন্তু সে এখনও পর্যন্ত তার বাপ-ঠাকুরদার জন্মভূমি দেখল না। আমরা বরং কিছু দিন সেখান থেকে ঘুরে আসি। ঘরবাড়ি তৈরি করে জমিদারি পত্তন করে দিয়ে আসি। ওইদিকে আমাদের রাজ্যের সীমানারও তো জরিপ করা হয়নি। সে কাজও অচিরে সমাধান করা দরকার। তাতে করে জমিদারি কায়েম হবে, আবার জমির সীমানাও নির্ধারণ হবে।

দাউদের কাছে এই প্রস্তাব ভালো বলেই মনে হল। তিনি এককথায় রাজি হয়ে গেলেন।

অর্জিত ধনসম্পদ ও পুত্র-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি বিশাল নৌকায় একদিন অধিকারপ্রাপ্ত ভূমির উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন তাঁরা। যেমন একদিন চন্দনা নদীতীরস্থ চন্দনা গ্রাম থেকে তাঁদের পূর্বপুরুষ ভাগ্য অন্বেষণে গৌড়ের উদ্দেশ্যে গমন করেছিলেন, তেমনই আবার ধনসম্পদ বোঝাই নৌকা নিয়ে তাঁরা গঙ্গার মোহানার দিকে ভেসে এলেন। সেই অঞ্চল ছিল খালবিল পরিপূর্ণ, জঙ্গলাকীর্ণ আর বিপদসংকুল। ডাঙায় বাঘ ভল্লুক আর জলে কুমির আর হাঙরের অবাধ বিচরণ। সেই জঙ্গল পরিষ্কার করে সেখানে তাঁদের বসতি স্থাপিত হল নতুন করে। নদীনালার উপরে সাঁকো নির্মাণ করে প্রশস্ত পথ তৈরি হল। এমনি করে দৈর্ঘ্যে প্রস্থে পাঁচ ছয় ক্রোশ ভূমি বসবাসের উপযুক্ত হয়ে উঠল। সেই জায়গার নাম হল যশোর। বিক্রমাদিত্য সেখানে বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ করে নিজের জমিদারি প্রতিষ্ঠা করলেন। সেই স্থানে খুল্লতাত শিবানন্দের উপরে দায়িত্বভার প্রদান করে দুই ভাই আবার গৌড়ে ফিরে গেলেন।

বেশিদিন দাউদ মোগলদের অধীনতা মেনে নিলেন না। কারণ তা আর সম্ভবও ছিল না। মোগল সেনানী মুনিম খাঁ বিপুল বিক্রমে পাটনা আক্রমণ করলেন। পাটনা তখন গৌড়েশ্বরের অধীনস্থ ছিল। সেই সময়ে দাউদ পাটনাতে অবস্থান করছিলেন। পাটনার কাছে হাজিপুরের দুর্গের পতনের পরে দাউদ আর পাটনায় থাকা সঠিক বিবেচনা করলেন না। তিনি আবার গৌড়ের দিকে ফিরে এলেন। কিন্তু মোগল সৈন্যরা একটার পরে একটা গ্রাম দখল করে তাঁর পিছু নিয়েছে। যখন কোচবিহারের পতন হল, তখন দাউদ আর গৌড়ে থাকা নিরাপদ মনে করলেন না। তিনি এবার ওড়িশার দিকে যাত্রা করলেন। যাবার আগে প্রিয় বন্ধু আর অমাত্য বিক্রমাদিত্যকে ডেকে বললেন, ‘দেখো বন্ধু, গৌড়ের পতন যদি সত্যি ঠেকানো না যায় তবে গৌড়ের রাজকোষের সম্পদ যেন মোগলদের হাতে না পড়ে। তোমরা বরং সেই সমস্ত সম্পদ যশোরে পাঠিয়ে দাও। আমি ফিরে এলে সে সব সম্পদ না হয় আবার গৌড়ে ফিরিয়ে আনা যাবে।’

বিক্রমাদিত্যের প্রতি তাঁর এতটাই ভরসা আর বিশ্বাস ছিল।

কিন্তু সে যাত্রায় মোগলদের আর গৌড় অধিকার করা হল না। বাংলার ভয়ংকর কালাজ্বরে হঠাৎ মোগল সেনাপতি মুনিম খাঁ মারা গেলেন। দাউদ এই সুযোগে আবার বিপুল বিক্রমে মোগলদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়লেন।

সম্রাট আকবর এবার খানজাহান কুলি খাঁকে বাংলায় পাঠালেন দাউদকে শায়েস্তা করার জন্য। আকমহলে ঘোরতর যুদ্ধে দাউদ পরাজিত ও নিহত হলেন।

বিক্রমাদিত্য ভাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘বসন্ত, রাতের অন্ধকারে যশোর চলে যাওয়াই বোধহয় ভালো।’

ঘরটা ছোটো। মাটির নীচে পরিখা খনন করে সেটা বানানো। উপরে আগাছা গুল্মে ঢাকা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় না সেখানে কোনও ঘর আছে। সেই ঘরে একটি মাত্র কুপি জ্বলছে। সেই মৃদু আলোকে ভালো করে কেউ কারও মুখ দেখতে পাচ্ছে না। তাঁরা কথাও বলছেন ফিসফিস করে।

বসন্ত রায় বললেন, ‘তা কী সম্ভব হবে! যেতে হলে আমাদের ছিপ-নৌকা নিয়ে রাতের অন্ধকারে যেতে হবে। এখন বর্ষার সময়। গঙ্গা ফুলে ফেঁপে আছে। ফলে জলপথ বিপদসংকুল। তার উপরে ডাঙায় মোগলদের সেনা। কোনও ভাবে ধরা পড়ে গেলে আর রক্ষা নেই। ধড়ের উপরে আর শির আস্ত থাকবে না।’

‘তা তুমি ঠিকই বলেছ। তবে মোগল সেনাদের গৌড়ে পৌঁছাতে এখনও বিলম্ব আছে। আর আমরা যদি এখন মোগলদের থেকে পালিয়েও যাই, একদিন না একদিন তারা আমাদের জমিদারিও দখল করে নেবে। তারা এখন সারা বাংলায় তাদের অধিকার কায়েম করতে চাইছে।’

তিনি থামলে, ভাই বসন্ত বললেন, ‘তা তুমি কী বলতে চাইছ?’

‘আমরা বরং গৌড়ের যাবতীয় ধনসম্পদ গোপনে যশোরে পাঠিয়ে দিই। মোগলরা এখনও বাংলার নদীনালায় তেমন অভ্যস্ত নয়। একবার যদি আমাদের নৌকা পদ্মায় পৌঁছে যেতে পারে তা হলে মোগলরা আর তার নাগাল পাবে না। কারণ মোগল সেনারা স্থলপথে গৌড় আক্রমণ করেছে। এখানে তাদের বড়ো রণতরী নেই। আমরা এখানে ছদ্মবেশে থেকে যাব। সবকিছু লক্ষ্য করব। যদি আমাদের নৌকা ধরাও পড়ে তবে ধনসম্পদ হাতছাড়া হয়ে যাবে ঠিকই কিন্তু আমরা তো প্রাণে বেঁচে যাব! আর যদি সম্পদ এখানেই থাকে তবে তো তা এমনিতেই মোগলদের হাতে পড়বে।’

কথাটা বসন্ত রায়ের মনে ধরল।

যেমন ভাবা তেমনি কাজ। দুই ভাই সেই রাত্রেই সমস্ত ধনসম্পদ চালের পেটিকার ভিতরে ভরে ফেললেন। তারপরে সেই পেটিকার মুখে আবার চালের আস্তরণ দিয়ে ভালো করে আচ্ছাদিত করে দিলেন। সারা রাত্রি ধরে সেই কাজ চলতে থাকল। পরদিন প্রভাতে একটি বিশাল ‘বালাম নৌকা’ চালের পেটিকা বোঝাই হয়ে নদীতে ভেসে পড়ল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই নৌকার দায়িত্বে থাকলেন বিক্রমাদিত্যের পিতা ভবানন্দ।

তারপরে দুই ভাই মুণ্ডিত মস্তক হয়ে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর ভেক ধরে অরণ্যের ভিতরে দুটি ভিন্ন বৌদ্ধ সংঘে আশ্রয় নিলেন। বৌদ্ধ সন্ন্যাসী হয়ে দুই ভাই আলাদা আলাদা পথে ভিক্ষাবৃত্তি আশ্রয় করে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। কেউ জানল না তাঁদের আসল পরিচয়।

অধ্যায় ১ / ২১
সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%