অবিন সেন
কী গো সারাদিন কোথায় কোথায় ঘুরে বেড়াও? দিনের মধ্যে একবারও দেখা পাওয়া যায় না। মুখ চোখের, সারা গায়ের কী অবস্থা করেছ? কী ভাবে হল এইসব?
‘দাঁড়াও, দাঁড়াও এত প্রশ্নের উত্তর এক সঙ্গে দেব কী করে?’
‘তবে এক এক করেই দাও!’
ঠোঁটের এক অদ্ভুত ভঙ্গি করে ছদ্মরাগ দেখিয়ে বলল চন্দ্রলেখা।
‘না খুড়িমা, অকারণে রোদে রোদে ঘুরে বেড়াব কেন! জানো না চার দেওয়ালের ভিতরে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে!’
খুড়িমার কোলের কাছে মাথা রেখে শয্যার উপরে শুয়ে ছিল প্রতাপ। ঊর্ধ্বাঙ্গ নগ্ন। বড়ো বড়ো কুঞ্চিত কেশ কাঁধের কাছে ছড়িয়ে আছে। মুখ কচি দূর্বার মতো শ্মশ্রু মণ্ডিত। মাথার চুলে যেন কতকাল তৈল পরিচর্যা হয়নি। একটা বন্য মাটির গন্ধ উঠে আসছে সেখান থেকে। শ্মশ্রুও রক্তিম আভা ধারণ করেছে।
খুড়িমা হলেও প্রতাপের সঙ্গে চন্দ্রলেখার সম্পর্ক অনেকটা বন্ধুর মতো। বয়সের ব্যবধান সত্ত্বেও দুটি মন যেন দুটি মনকে নিবিড়ভাবে কাছে টেনে নিয়েছে। কোনও বংশমর্যাদাহীন বলে চন্দ্রলেখা যেন এই জমিদার বাড়ির বিশাল জ্ঞাতিগোষ্ঠীর ভিতরে তার প্রাপ্য মর্যাদা পায় না। যদিও তার স্বামী তাকে আকণ্ঠ স্নেহ করেন। কিন্তু সেই মানুষটি কতক্ষণই বা অন্তঃপুরে থাকেন! সারা দিন তাঁর কাজ আর কাজ। চন্দ্রলেখার তাই বড়ো একা একা সময় কাটে। প্রতাপ তার কাছে থাকলে সে যেন নিজেকে মেলে ধরার অবকাশ পায়।
প্রতাপ কিশোর হয়ে ওঠার পরে খুড়িমার সান্নিধ্য তার শরীরে এক অভূতপূর্ব আকর্ষণের জন্ম দেয়। খুড়িমার স্পর্শ, খুড়িমার শরীরের সুবাস পাবার জন্য তার মন উন্মুখ হয়ে থাকত। প্রতাপ বুঝতে পারত না এ কী এমন জাদু! কিন্তু না বুঝলেও সারাদিন নদীতে অরণ্যে ঘুরে বেড়ালেও একবার ঠিক সে খুড়িমার কাছে ফিরে এসে সময় কাটিয়ে যেত। খুড়িমার প্রতি এই আকর্ষণে কী একটা কষ্টের বোধে সে মাঝে মাঝে মেদুর হয়ে থাকত। কিন্তু বুঝতে পারত না এই কষ্টের ভিতরে এত গভীর আনন্দ কোথা থেকে আসে!
এই বোঝা না বোঝার ব্যথাজাত কষ্টের আবহে দুটি হৃদয় যেন দুটি কবুতর হয়ে গিয়েছিল। প্রতাপের সকল দাবি, সকল আবদার ছিল খুড়িমার কাছে।
তা মুখে গায়ে এই ভাবে কীটের দংশন হল কী করে?
মৌমাছির দংশনের ক্ষতে শর্করা ও মধুর এক মিশ্রণের প্রলেপ দিতে দিতে চন্দ্রলেখা জানতে চাইল।
প্রতাপ উত্তরের বদলে তার ভুবনভোলানো হাসিটা হাসল।
চন্দ্রলেখা বলল, ‘এই হাসিতেই তুমি সবাইকে ভোলাও। তা কোথায় গিয়ে নিজের শরীরে এমন ক্ষত করে নিয়ে এলে বলবে না?’
‘কী বলব খুড়িমা! ঘোড়া নিয়ে অন্ধের মতো দৌড়ে চলে গেলাম। নিজেই জানি না। আচ্ছা খুড়িমা, পিতা কেন আমার উপরে এমন করে বলো তো!’
তার মুখ দিয়ে এখন ক্রোধ নয় বরং একটা অভিমান বেরিয়ে আসে।
চন্দ্রলেখা কী বলবে? কিছুই তার বলার নেই। প্রতাপ নিজেই সব জানে। সে জানে ‘পিতৃদ্রোহ’-র একটা ধারণা তার পিতার মাথায় বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছে। সে বুঝি আর যাবার নয়। কিন্তু পিতা কি তার এই দামাল পুত্রটিকে ভালোবাসেন না?
চন্দ্রলেখা জানে, বিক্রমাদিত্যের বুকের ভিতরে প্রতাপের জন্য গভীর একটা বাৎসল্যরস ফল্গুধারার মতো বয়ে চলে। কিন্তু তবুও এক ভ্রান্ত সংশয়ের আবর্জনায় সেই স্রোত বদ্ধ হয়ে গিয়েছে।
চন্দ্রলেখার মাথার ভিতরে এমন সব চিন্তা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে। সে সাধারণ গৃহস্থ ঘরের মেয়ে। সামান্য শাস্ত্র, সামান্য ব্যাকরণ সে পড়েছে তার পিতার কাছে। জমিদার, বড়ো মানুষদের আদব-আচার, চিন্তাভাবনার সঙ্গে তার কোনও পরিচয় ছিল না। সে বুঝতে পারে না ক্ষমতার গোপন অলিন্দে অন্তহীন লিপ্সার কথা। তাই সে অবাক হয়ে যায়, পুত্রের প্রতি পিতার এই ধারণা-ব্যবহার দেখে। সামান্য কী এক স্বপ্ন দেখলেন তিনি! কোষ্ঠী গণনায় কী এমন ধরা পড়ল যে বাৎসল্যকে পদদলিত করে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে নিষ্ঠুরতা? এই কি শুধু অলীক কুসংস্কারের কারণে? নাকি এর পিছনে লুকিয়ে আছে ক্ষমতালিপ্সার উদগ্র অভীপ্সা! চন্দ্রলেখা তা বুঝতে পারে না।
আজকাল মাঝে মাঝে প্রতাপকেও তার অচেনা লাগে। চন্দ্রলেখা জানে স্নেহ সর্বদাই নিম্নগামী, তবু প্রতাপের জন্য এক বুক স্নেহ সে নিজের মধ্যে ভরে রেখেছে।
প্রতাপের চুলগুলিতে মৃদু হাতের স্পর্শ দিতে দিতে চন্দ্রলেখা বলল,
‘তোমার পিতা তোমাকে সত্যি ভালোবাসেন। জানো তো অধিক ভালোবাসা মিষ্টান্নের মতো। তাতে নজরের কালো কীট এসে বাসা বোনে। তাই তাকে তিক্ততার আড়ালে ঢেকে রাখতে হয়।’
প্রতাপ সহসা তীব্র গলায় বলে উঠল, ‘আমি বিশ্বাস করি না!’
তার এই এক স্বভাব। দপ করে সে আগুনের মতো জেগে ওঠে। এই আগুনই তার একান্ত শত্রু। সে শয্যার উপরে উঠে বসে।
প্রতাপের এই দপ করে জ্বলে ওঠাকেই বড়ো ভয় করে চন্দ্রলেখা। তবু সে মুখে হাসি রেখে বলে, ‘তুমি বিশ্বাস না করলে বা কী! আমি আর তোমার তাত যে তোমাকে ভালোবাসি সেটা তো বিশ্বাস করো।’
আবার সহসাই প্রতাপের রাগ জল হয়ে যায়। তার মুখে আবার সেই হাসিটা ফিরে আসে। নির্মল শান্তিতে বলে, ‘কী যে বলো! তোমরা না থাকলে তো মরেই যেতাম!’
‘বালাই ষাট! তা শোনো একটা ভালো সংবাদ দিই। তোমার তাতকে বলেছেন জ্যেষ্ঠভ্রাতা, তোমার জন্য সুন্দর একটি কন্যার সন্ধান করতে। তোমার এবার বিবাহ দেবেন।’
প্রতাপ খর চোখে তাকাল তার খুড়িমার মুখের দিকে। তার যেন সন্দেহ হয়! খুড়িমা তার সঙ্গে পরিহাস করছে না তো!
চন্দ্রলেখা চোখের এক মজাদার ভঙ্গি করে হাসল।
বিক্রমাদিত্য দ্বিপ্রহরে ভোজনের সময়ে ভ্রাতা বসন্ত রায়কে বলছিলেন, ‘প্রতাপের এই মনের গতি আমার ভালো লাগছে না! দিন দিন সে যেন বড়ো বেশি নিষ্ঠুর হয়ে যাচ্ছে। তার নিষ্ঠুরতার কথা এবার আমাদের প্রজাদের ভিতরেও ছড়িয়ে পড়ছে। গৌড়ের সুবাদারের কানে এই সংবাদ পৌঁছালে বিরূপ প্রভাব পড়বে।’
বসন্ত রায় নিশ্চুপে অগ্রজের কথাগুলি শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। কিছুক্ষণ যেন ভাবলেন। তারপরে বললেন, ‘আমার জানা নেই সত্যি এমন কিছু ঘটছে কি না! তবে তুমি যখন বলছ তখন নিশ্চয়ই অবিশ্বাস করা যায় না। তা তুমি কী করতে চাইছ দাদা?’
বিক্রমাদিত্য যেন মুখের ভিতরে অল্প হাসলেন।
‘যদি একটা ভালো পাত্রী দেখে প্রতাপের বিবাহ দিই এখন, তা হলে হয়তো তার মনের গতি কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।’
কথাটা কিছুটা পরিহাসের ছলেই হয়তো তিনি বলেছিলেন। কিন্তু বসন্ত রায় হেসে উঠলেন। মুখের ভিতরে গ্রাস বেধে গিয়ে বিষম খেলেন। তারপরে নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, ‘তুমি খুব ভালো ভেবেছ দাদা। আমি বরং সেই চেষ্টাই দেখি। উপযুক্ত বিদুষী পাত্রী বধূ হয়ে এলে তার মনের গতি নিশ্চয়ই পরিবর্তন হবে।’
আড়ালে দাঁড়িয়ে চন্দ্রলেখা সব শুনেছে।
তার ঠোঁট উপচে আবার হাসি খেলে গেল। কিন্তু মুখে কিছু না বলে হাসতে লাগল।
প্রতাপ সন্দেহের চোখে বলল, ‘হাসছ যে!’
‘হাসছি না! এটা সত্যি। আমরা তো তোমার জন্য সুন্দর পাত্রী দেখতে শুরু করে দেব আগামীকাল থেকেই। তোমার কেমন পাত্রী পছন্দ বলো তো?’
প্রতাপ যেন একটু লজ্জা পায়। লজ্জা যদিও তার স্বভাববিরুদ্ধ। লাজুক একটা হাসি তার মুখে খেলে বেড়ায়।
মুখের ভিতরে লজ্জা প্রকাশের একটা অদ্ভুত শব্দ করে সে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
পিছন থেকে চন্দ্রলেখা উচ্চগলায় বলে, ‘চলে যাচ্ছ যে! বলে গেলে না কিন্তু! তার পরে পাত্রী পছন্দ না হলে আমাদের দোষ দিও না কিন্তু।’
প্রতাপ সেই কথা যেন শুনেও শুনল না।
সে তখন হনহন করে তার নিজস্ব একটা আস্তানার দিকে পা বাড়াল। মূল বড়ো বাড়ি ছাড়িয়ে বাগানের ওপারে একটা বাহিরবাড়ি আছে। মাটির, কিন্তু অনেকটা ছড়ানো। ঠিক দোতলা বলা যায় না, বরং এক ও অর্ধ-তল বলা যেতে পারে। মাথায় খড়ের ছাউনি। উপরে পাইক থাকে কয়েকজন। প্রতাপের বাছাই করা পাহারাদার তারা। চারপাশ গাছের জঙ্গলে নিভৃত। একা একা সময়টা প্রতাপ এখানে অতিবাহিত করে। এটা একাধারে তার একটা নিজস্ব অস্ত্রাগার, সেই সঙ্গে বিশ্রামের জায়গাও। এখানে ধ্যানের ভঙ্গিতে বসে বসে সে নিজের মনঃসংযোগ বৃদ্ধি করে। এই সময়ে সে একেবারে অন্য মানুষ। নিজের মনকে সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সে এতটাই নিজের অন্তরের ভিতরে মগ্ন হয়ে পড়ে যে বাইরের শত ডাক, শত প্ররোচনাতেও তার মনঃসংযোগ বিঘ্ন ঘটে না। আবার বন্ধুদের সঙ্গে সে এখানে মাঝে মাঝে হুল্লোড়ও করে। এই বয়সেই সে সুরায় আসক্ত। সারা রাত্রি ধরে তাদের সুরার ফোয়ারা উড়ে যায়। প্রতাপাদিত্য দ্রুত হাঁটতে হাঁটতে এসে নিজের ঘরের ভিতরে প্রবেশ করল। অন্ধকারে সে বেশ হাঁটতে পারে। কিন্তু মন তার আজ বড়ো বিক্ষিপ্ত হয়ে গেছে। একই দিনে এমনি পর পর এতগুলো নাটকীয় ঘটনা ঘটে গেল। সেই সমস্ত ঘটনা যেন ক্রমশ জট পাকিয়ে যাচ্ছে তার মনে। সে একবার ধ্যানে বসবার চেষ্টা করল। কিন্তু কিছুতেই সমগ্র মনকে সে একত্রিত করতে পারে না! বার বার তার মনের পটে একটি মুখ ভেসে ওঠে। সেই বিকালে কোকিল ডেকে উঠছে চিত্রপটে। সূর্যের শেষ বেলার আলো আকাশে বাতাসে যেন প্রতিফলিত হয়ে বিচ্ছুরিত হয়ে পড়ছে। আর সেই ফুলের রেণু মেখে আছে নদীর জলের ছোঁয়ায় কিশোরীর উত্তুঙ্গ শরীরের বিভঙ্গে। দুই গালের মোহময় টোলের হাসি যেন বিচ্ছুরিত আলোকেও লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। প্রতাপ চোখ মুদিত করলেই তার মনের পটে ভেসে উঠছে সেই সব ছবি। সেই উদ্ভিন্ন স্তনের আকর্ষণ- যা কিনা সম্পূর্ণ বিকশিত হতে গিয়েও কোথাও থমকে দাঁড়িয়ে আছে। অত্যাশ্চর্য হয়ে উঠছে রক্তিম জলে কালো চোখের দুর্বোধ্যতা। প্রতাপের বুকের ভিতরটা যেন বটের পাতার মতো তির-তির করে কেঁপে উঠছে। সে নিজেই অবাক হয়ে যায়! কেন এমন হচ্ছে। তার মন এমন অহেতুক দুর্বল হয়নি কখনও। তবে এখন কেন এমন হচ্ছে? শুধুমাত্র এক নারীর মুখ বার বার তার চোখে ভেসে উঠছে কেন? শুধু মাত্র খুড়িমা অন্য নারীর প্রসঙ্গ তোলার কারণে কি? সেই কারণেই কি এই অত্যাশ্চর্য নারীকে পাবার পিপাসা বহুগুণ অনল হয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে তার ভিতরে!
এতদিন খুড়িমা ছাড়া অন্য নারীকে সে গুরুত্ব দেয়নি তেমন তার জীবনে। তা বলে তার জীবনে নারীশরীর নতুন নয়। তেরো-চোদ্দ বৎসর বয়সের পরেই সে খেলেছে নারীর শরীর নিয়ে। সে কেবল খেলাই। খেলার অধিক তার কিছুই মনে হয়নি।
কিন্তু আজ ওই একটা মুখ তাকে কিছুতেই শান্তি দিচ্ছে না। তার মনে হয় সারা গায়ে যেন একরাশ পতঙ্গ খেলে বেড়াচ্ছে। এমনি করে তো সারা রাত্রি অতিবাহিত করতে পারবে না! সে স্থির হয়ে বসতে পারল না। উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে অন্ধকার উদ্যানে নামল। অন্ধকার আকাশে দুই একটা তারা ফুটে আছে। আধ ভাঙা একটা চাঁদ গাছের ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে আছে। তার মৃদু আলো যেন দু-একবার কোকিলের ডাকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যাচ্ছে।
সে পদচারণা করতে করতে আকাশ-পাতাল ভাবছিল। সহসা দূরাগত একটা মৃদু মঞ্জীরের শব্দ।
কে আসছে এখন এইখানে?
সে একপাশে একটি গুল্মের আড়ালে সরে দাঁড়ায়।
ও! ভিতরে বাটী থেকে এক পরিচারিকা থালিকায় ভোজ্য দ্রব্য সাজিয়ে নিয়ে এসেছে।
অন্ধকারে ভালো দেখা যায় না! মেয়েটি নতুন কি? ও তাই তো! সঙ্গে এক কঞ্চুকীও আছে। কঞ্চুকীর হাতে একটি তৈল লণ্ঠন। ঘরের সম্মুখে এসে প্রতাপকে দেখতে না পেয়ে তারা ইতস্তত করছিল। প্রতাপ ছায়ার আড়াল থেকে বেরিয়ে তাদের সামনে দাঁড়াল।
কঞ্চুকী বলল, ‘হুজুর, আপনার জন্য খাবার পাঠিয়ে দিয়েছেন ছোটোমা।’
প্রতাপ লন্ঠনের আধো আলোয় দেখল, মেয়েটি বেশ নধরকান্তি। বয়সও বেশি নয়।
‘এই, তুই কি নতুন কাজে লেগেছিস? আগে তো দেখিনি?’
কঞ্চুকী উত্তর দিল, ‘হ্যাঁ হুজুর। চাঁপা সদ্যই কাজে ঢুকেছে।’
‘তোকে কে পাঠালে? খুড়িমা?’
চাঁপা ঘাড় কাত করল।
তারা খাদ্যসামগ্রী রেখে চলে গেলে প্রতাপের বুকের ভিতরে আবার অনল জ্বলে উঠল। কী যে দাউ দাউ তার জ্বালা!
খুড়িমা কি ইচ্ছা করে আজই চাঁপাকে খাবার দিতে পাঠাল?
প্রতাপের বুকের ভিতর থেকে কে যেন আবার হুংকার দিয়ে ডাক ছেড়ে উঠল। গলা তুলে সে এক বরকন্দাজকে ডেকে বলল, ‘এই যা তো শঙ্কর আর সূর্যকে ডেকে নিয়ে আয়।’
তার পরে মনে মনে বলল, ‘আজই এর একটা বিহিত করতে হবে। আমি কাকে পরোয়া করি!’
তারপরেই যেন চিৎকার করে বলল, ‘হ্যাঁ। আমি..আমিই রাজা এই যশোরের।’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন