অমিত দেবনাথ
“সমস্ত কথা খুলে বলুন, কোনও কিছু বাদ দেবেন না,” বলল হেমলক জোনস, “আপনার কাছে যেটা নগণ্য মনে হচ্ছে, সেটা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, হয়ত সেখান থেকেই এই রহস্যের চাবিকাঠি বেরিয়ে আসবে।”
“ঠিক আছে,” বললেন মাঝবয়সি ভদ্রলোক, যিনি একজন ব্যাংক কর্মচারী। “একটা চিঠির ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই। গত সপ্তাহের সোমবার এই চিঠিটা আমার স্ত্রী পেয়েছে। আমার স্ত্রী আমার থেকে বয়সে এই একটু ছোট – মানে কুড়ি বছরের ছোট। তা, ব্রেকফাস্ট টেবিলে রাখা ছিল চিঠিটা, তার খাওয়ার প্লেটের পাশে। আমি চিঠিটা দেখেই খামের ওপরের হাতের লেখাটা চিনতে পেরেছিলাম। লেখাটা একটা ছোকরার। আমি শুনেছি আমার বিয়ের সময় আমার স্ত্রীর সঙ্গে তার একটু ভালবাসাবাসি ছিল। চিঠিটা একঝলক দেখেই তার মুখটা লাল হয়ে ওঠে আর ঝটপট করে এটা লুকিয়ে ফেলে। আমি তখন তাকে কিছুই বলিনি, শুধু ভেবে রেখেছিলাম ফাঁক পেলেই দেখব ব্যাপারটা কী।
“পরদিন যখন সে দোকানে গেছে কেনাকাটা করতে, আমি সারা বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজলাম, কিন্তু চিঠিটা পেলাম না। কয়েকদিন বাদে – বুঝলেন - আমি গোয়েন্দা লাগালাম, যারা এসব খোঁজাখুঁজির কাজ ভালই পারে। কিন্তু তারাও কিছু পেল না। চিঠিটা যে সে সঙ্গে নিয়ে ঘুরছে না, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। চিঠিটা সে নষ্ট করে ফেলেছে, এরকম ভাবাই যেত, কিন্তু আমি জানি যে মেয়েরা কখনই এসব চিঠি-ফিঠি নষ্ট করে না।”
“ঠিক, ঠিক,” বলল হেমলক জোনস। তারপর ঠিক তেরো সেকেন্ড ধরে কিছু একটা ভাবার পর বলল, “আচ্ছা, আপনার স্ত্রী কী ধরণের মহিলা? সাধারণ মহিলারা যেমন হয়, নাকি বেশ চালাক চতুর?”
“আমি বুঝলাম না এর সঙ্গে এই কেসের সম্পর্ক কী,” বললেন ব্যাংকের ভদ্রলোক।
“আপনি যদি বুঝতেনই, তাহলে আমার সাহায্য নিতে আসতেন না,” হেসে বলল হেমলক জোনস, “এবার আমার প্রশ্নের উত্তর দিন।”
“তা যদি বলেন, তাহলে বলব,” বললেন ভদ্রলোক, “ও খুব বুদ্ধিমতী।”
“তাহলে তো হয়েই গেল,” এমনভাবে বলল হেমলক জোনস, যেন এ কেস এখানেই শেষ। “ও চিঠিটা আমি আপনাকে এক্ষুনি বার করে দিচ্ছি।”
“মানে?” ভদ্রলোক উঠে দাঁড়িয়ে প্রায় চিৎকার করে উঠলেন। খুবই অবাক হয়েছেন তিনি, বোঝাই যাচ্ছে।
“আজ্ঞে হ্যাঁ,” বলল জোনস, “যদি আমার ভুল না হয়, আর আমার কখনও ভুল হয় না। এখন বলুন তো, গত সোমবার নাগাদ বা ওই দিন থেকে আপনার স্ত্রী কি আপনাকে কোনও চিঠি পোস্ট করতে দিয়েছিল?
“অ্যাঁ – মানে – হ্যাঁ, তা একটা দিয়েছিল তো,” বললেন ভদ্রলোক।
“সেই চিঠিটা এখনও আপনার পকেটে আছে, তাই না?”
“অ্যাঁ? আরে, তাই তো! কী আশ্চর্য!” বললেন ব্যাংকের ভদ্রলোক। “ওর মাকে – মানে আমার শাশুড়িকে লিখেছে চিঠিটা। কিন্তু এর সঙ্গে ওর সম্পর্ক কী?”
“হা হা!” হেসে উঠল হেমলক জোনস। “খামটা খুলে দেখুন, ওর মধ্যেই সেই ছোকরার চিঠিখানা আছে।”
“আছে! আছে!” খুলে দেখার পর সে কী উল্লাস ভদ্রলোকের! “কিন্তু আপনি জানলেন কী করে?”
“একেবারে সোজা। দিনের আলোর মতই পরিষ্কার ব্যাপার,” বলল হেমলক জোনস। “আপনার স্ত্রী চিঠিটা লুকোতে চাইছিলেন, কিন্তু উনি খুবই বুদ্ধিমতী মহিলা, উনি জানতেন যে বাড়িতে এই চিঠি লুকিয়ে রাখা যাবে না। উনি বুঝতে পেরেছিলেন, যদি এটা একটা খামে পুরে তাঁর মায়ের ঠিকানা লিখে আপনাকে পোস্ট করতে দেওয়া হয়, তাহলে এটা আপনার কোটের পকেটেই থেকে যাবে, ধোপাবাড়ি যাওয়ার আগে পর্যন্ত। কোনও কিছু লুকোনোর পক্ষে এর থেকে ভাল জায়গা আর নেই, এবং আপনি যদি আমার কাছে না আসতেন, তাহলে বুঝতেই পারছেন, তাঁর ধারণাই সঠিক হত।”
------------
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন