শামরক জোনসের অভিযান

অমিত দেবনাথ

আমি যে নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত গোয়েন্দা শামরক জোনসের বন্ধু তালিকায় থাকতে পেরেছি, এ আমার পরম সৌভাগ্য। তাকে এ শহরের গোয়েন্দা বিভাগের একেবারে ভেতরের লোক বলা যায়। টাইপ-রাইটারে দারুণ দক্ষ, এবং তার ডিউটি হল, যখনই কোনও খুনখারাপির ঘটনা ঘটে, তখনই টেলিফোনের সামনে বসে পড়া এবং যত রাজ্যের বাতিকগ্রস্ত মানুষের খুন করার স্বীকারোক্তি মন দিয়ে শোনা।

কিন্তু কখনো কখনো এমন দিনও আসে, যখন এই সব পাগলাটে টেলিফোন কম আসে এবং তিন চারটের বেশি খবরের কাগজে ক্রাইমের খবর থাকে না, সেই সব দিনগুলোতে জোনস আমাকে নিয়ে শহরের রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে এবং আমি তার অসামান্য পর্যবেক্ষণ ও অবরোহমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেখে মুগ্ধ হই।

একদিন আমি হেডকোয়ার্টারে গিয়ে দেখি আমার এই বন্ধুটি চেয়ারে বসে তার কড়ে আঙুলে শক্ত করে বাঁধা একটা সুতোর দিকে তাকিয়ে কী যেন ভাবছে।

“সুপ্রভাত, হোয়াটসাপ,” আমার দিকে না তাকিয়েই বলল সে, “বাড়িতে শেষ অবধি বিজলি বাতি লাগিয়েছ দেখে খুশি হলাম।”

চমকে গেলাম। বললাম, “জানলে কীভাবে? এ কথা তো কাউকে বলিনি, এমনকি বাড়ির ওয়্যারিংটা আজ সকালে শেষ হল।”

“আসলে তুমি ঘরে ঢুকতেই চুরুটের গন্ধ পেলাম,” অমায়িক সুরে বলল জোনস, “এটা দামি চুরুট আর আমি এও জানি, এই সময়ে নিউ ইয়র্ক শহরে জনা তিনেকের বেশি লোক একইসঙ্গে এত দামি চুরুট খাওয়া এবং গ্যাসের বিল চোকানো – দুটো একসঙ্গে চালাতে পারে না। সহজ ব্যাপার। কিন্তু আমি নিজেরই একটা সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত আছি।”

“আঙুলে সুতো বেঁধেছ কেন?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

“আরে সেটাই তো সমস্যা,” বলল জোনস, “সকালে আমার বউ আঙুলে এটা বেঁধে দিয়েছিল কিছু একটা মনে রাখার জন্য। জিনিসটা বাড়িতে পাঠাতে হবে। কিন্তু আমি তো মনেই করতে পারছি না জিনিসটা কি। একটু বোসো, হোয়াটসাপ।”

গোয়েন্দা এগিয়ে গিয়ে দেয়ালে ঝোলানো একটা টেলিফোনের রিসিভার তুলে প্রায় মিনিট দশেক

ধরে কী যেন শুনল। তারপর ফিরে এসে চেয়ারে বসতেই আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কী শুনছিলে? স্বীকারোক্তি?”

জোনস মুচকি হেসে বলল, “একরকম তাই বলতে পারো। হোয়াটসাপ, আমার আর ড্রাগে নেশা হচ্ছে না, বুঝলে। মরফিনের মাত্রা দিনকে দিন এমন বাড়িয়ে দিয়েছিলাম যে ওতে আর কিস্যু হচ্ছিল না। যে টেলিফোনটা এতক্ষণ আমি ধরেছিলাম, সেটার সঙ্গে ওয়ালডর্ফের একটা ঘরের সরাসরি যোগ আছে, যেখানে একজন লেখকের লেখার পাঠ চলছে। আচ্ছা, এবার সুতোর সমস্যাটা দেখা যাক।”

মিনিট পাঁচেক নিঃশব্দে কী সব যেন ভেবে চলল জোনস, তারপর যখন আমার দিকে তাকিয়ে ঘাড় নাড়ল, দেখলাম তার মুখে একটা হাসি। একটা হর্ষধ্বনি বেরিয়ে এল আমার মুখ দিয়ে।

“ভাবা যায় না! বেরিয়ে গেছে তো?”

“সোজা ব্যাপার,” আঙুলটা তুলে ধরে বলল জোনস, “সুতোর গিঁটটা দেখেছ? যাতে আমি ভুলে না যাই, তার জন্য দেওয়া। তার মানে এই গিঁটটা ফরগেট-মি-নট। আবার ফরগেট-মি-নট একধরণের ফুল। ফ্লাওয়ার। আবার ময়দা মানেও ফ্লাওয়ার। তার মানে বাড়ি ফেরার সময় এক থলি ময়দা কিনে ফিরতে হবে।”

“অসাধারণ!” শ্রদ্ধা ঝরে পড়ল আমার কথায়।

“চল, একটু ঘুরে আসা যাক,” বলল জোনস। “এখন হাতে সেরকম জরুরি কেস বলতে একটাই আছে – একশো চার বছর বয়সি ম্যাককার্টি বুড়ো বেশি পরিমানে কদলি ভক্ষণ করে স্বর্গে গেছেন। প্রমাণ-ট্রমাণ যা পাওয়া গেছে, তাতে বোঝাই যাচ্ছে এ মাফিয়াদের কাজ। পুলিশ সেকেন্ড অ্যাভিনিউর ২ নং কাটজেনজ্যামার গামব্রিনাস ক্লাব ঘিরে ফেলেছে, খুনিকে গ্রেফতার করা কয়েক ঘন্টার মামলা। ওরা গোয়েন্দা বিভাগের সাহায্য চায়ওনি।”

রাস্তায় বেরিয়ে পড়লাম আমরা, কর্নার থেকে গাড়ি ধরার জন্য। ব্লকের অর্ধেক রাস্তা গিয়েই দেখা হয়ে গেল রেইনগেল্ডারের সঙ্গে। সিটি হলের বেশ হোমরাচোমরা পদে রয়েছে সে এখন।

“সুপ্রভাত, রেইনগেল্ডার,” দাঁড়িয়ে পড়ল জোনস, “ব্রেকফাস্টটা জবরদস্ত হয়েছে দেখছি।”

আমি তো অ্যাদ্দিন ধরে জোনসের সঙ্গে রয়েছি, কাজেই ওর অবরোহমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে পরিচিত। সেই মত আমিও জোনসের দৃষ্টি অনুসরণ করলাম এবং ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে গেল। রেইনগেল্ডারের জামায় বুকের কাছটায় একটা লম্বা হলদেটে ছোপ, সেই রকমই আর একটা ছোট ছাপ ওর থুতনিতে। ডিমের কুসুম।

“ওই, আবার শুরু হয়ে গেল গোয়েন্দা মার্কা কায়দা দেখানো,” সারা শরীর কাঁপিয়ে হেসে উঠল রেইনগেল্ডার, “চুরুট আর পানীয় বাজি রাখছি, আমি সকালে কী খেয়েছি বলতে পারবে না।”

“ঠিক আছে,” বলল জোনস, “সসেজ, পামপারনিকেল আর কফি।”

বাজি হারল রেইনগেল্ডার, খেসারতও দিল। যখন আমরা আবার চলা শুরু করলাম, আমি বললাম, “তুমি বোধহয় ওর জামায় আর থুতনিতে ডিমের দাগ দেখেছিলে, তাই না?”

“দেখেছি বইকি,” বলল জোনস, “আর সেখান থেকেই আমি অবরোহমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ শুরু করলাম। রেইনগেল্ডার খুব হিসেবি আর সঞ্চয়ী মানুষ। গতকাল বাজারে ডিমের দাম ডজন প্রতি আঠাশ সেন্ট কমে গেছিল। আজ আবার দাম হয়েছে বেয়াল্লিশ। রেইনগেল্ডার গতকাল খেয়েছে ডিম, আজকে আবার ফিরে গেছে তার গৎবাঁধা মেনুতে। ছোটখাটো ব্যাপারগুলো খেয়াল করলেই দেখবে বড় জিনিস নজরে আসছে। সহজ পাটিগণিত, হোয়াটসাপ, ছোটবেলায় সবাই করেছি।”

স্ট্রিট কারে উঠে দেখি সব সিট বোঝাই – বেশির ভাগই মহিলাদের দখলে। জোনস আর আমি সামনের দিকে দাঁড়ালাম। গাড়ির মাঝখানের দিকের একটা সিটে বসেছিল ছোট আর ধূসর গোঁফের এক বয়স্ক ভদ্রলোক, পোশাকআশাক দেখে মনেই হচ্ছে পাক্কা নিউ ইয়র্কের মানুষ। সেদিকের কর্নারটা দিয়েই গাড়িতে উঠল কয়েকজন মহিলা, তাদের মধ্যে জনা চারেক আবার এ দিকেই চলে এসে লোকটার সামনে দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকাতে লাগল, ভাবটা এমন যে এ লোকটা জায়গা ছাড়ছে না কেন। লোকটা কিন্তু নির্বিকারভাবে বসে রইল নিজের সিটেই। আমরা দৃশ্যটা দেখছিলাম। আমি বললাম জোনসকে, “আমরা, নিউ ইয়র্কারেরা দেখছি সভ্যতা ভব্যতা সৌজন্য সব হারিয়ে ফেলেছি।”

“হয়তো তাই,” কৌতুকের সুরে বলল জোনস, “কিন্তু যে লোকটার জন্য তুমি এই কথাটা বললে, সে কিন্তু ওল্ড ভার্জিনিয়ার লোক এবং অত্যন্ত ভদ্র। দিন কয়েকের জন্য এখানে এসেছে দুই মেয়ে আর বউকে নিয়ে, আজ রাত্তিরেই ফিরে যাবে।”

আমি অবাক হলাম। “তুমি ওঁকে চেনো নাকি?”

জোনস হাসল। “গাড়িতে ওঠার আগে পর্যন্ত লোকটাকে দেখিনি।”

“আশ্চর্য!” আমার গলা দিয়ে আওয়াজটা একটু জোরেই এল

বেরিয়ে, “তুমি যদি লোকটাকে না দেখেই এত কথা বলতে পার, তাহলে তুমি নির্ঘাত কালা জাদু জান।”

“খুঁটিয়ে দেখার অভ্যেস, আর কিছুই না,” বলল জোনস, “লোকটা যদি আমাদের আগে নামে, তাহলে তোমায় হাতেনাতে আমার নিখুঁত ডিডাকশনটা দেখাতে পারব।”

তিনটে ব্লক পরেই সিট ছেড়ে উঠে পড়ল লোকটা, গাড়ি থেকে নামবে বলে। গেটের কাছে জোনস ধরল লোকটাকে।

“মাপ করবেন স্যার, আপনি ভার্জিনিয়ার নরফোকের কর্নেল হান্টার না?”

উত্তরটা এল অত্যন্ত মার্জিত গলায়। “না না, আমার নাম এলিসন – মেজর উইনফিল্ড আর এলিসন, বাড়ি ভার্জিনিয়ারই ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টিতে। নরফোকের অনেক লোককেই আমি অবশ্য চিনি – গুডরিচ, টলিভার, ক্র্যাবট্রি – কিন্তু আপনার বন্ধু কর্নেল হান্টারের সঙ্গে আলাপ করার সৌভাগ্য কখনো হয়নি। আপনাদের শহরে এই সপ্তাহটা বউ আর তিন মেয়েকে নিয়ে ভালই কাটালাম, আজ রাত্তিরে আমি ফিরে যাচ্ছি ভার্জিনিয়ায়। আমি দিন দশেকের মধ্যেই নরফোক যাব, আপনি যদি আপনার নামটা বলেন, তাহলে আমি কর্নেল হান্টারকে খুঁজে বার করে আপনার কথা বলতে পারি।”

“ধন্যবাদ,” বলল জোনস, “সম্ভব হলে ওঁকে বলবেন যে বেনসন শুভেচ্ছা জানিয়েছে।”

আমি এক ঝলক তাকালাম মহান নিউ ইয়র্কের গোয়েন্দার দিকে। দেখলাম তার মুখে তীব্র বিরক্তির ছাপ। যে কোনও ব্যাপারে একটুও ব্যর্থ হলেই শামরক জোনসের পিত্তি জ্বলে যায়।

“আপনার তিন মেয়ে বললেন, তাই না?” ভার্জিনিয়ার ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করল সে।

“হ্যাঁ মশাই, তিন মেয়ে। সবাই ভাল। ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির মেয়েরা সবাই ভালই হয়,” বললেন ভদ্রলোক।

শামরক জোনসের হাত মুঠো হল।

“এক মিনিট স্যার -” ভীষণ ভদ্র গলায় বলল জোনস, যদিও আমি বলার মধ্যে একটা উদ্বেগ লক্ষ করলাম, “এর মধ্যে একজন দত্তক নেওয়া তো?”

“ঠিক ধরেছেন,” ভদ্রলোক তখন নেমে পড়েছেন স্ট্রিট কার থেকে। সেখান থেকেই বললেন তিনি, “কিন্তু কীভাবে জানলেন জানি না।”

“আমিও না,” আমি বলে উঠলাম। গাড়ি তখন আবার চলতে শুরু করেছে। প্রশান্তি আবার ফিরে এসেছে জোনসের মুখে, হারা খেলাটা জিতেছে বলে। গাড়ি থেকে নামার পর সে আমাকে নিয়ে একটা কফিখানায় ঢুকল। তার আগে অবশ্য কবুল করিয়ে নিয়েছিলাম এই আশ্চর্য ম্যাজিকটা সে কীভাবে দেখাল, সেটা আমাকে বলতেই হবে বলে। বসার পর সে শুরু করল, “প্রথমেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম ভদ্রলোক নিউ ইয়র্কের নয়, কারণ সামনে অতগুলো মহিলা দাঁড়িয়ে আছে দেখে সে যথেষ্ট অস্বস্তি বোধ করছিল, কিন্তু তাও সিট ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়নি। ওর হাবভাব দেখেই মনে হল ও পশ্চিমের লোক নয়, বরং দক্ষিণের লোক।

“তারপর আমি ভাবতে লাগলাম, কী কারণে লোকটা সিট ছাড়ল না, যদিও সে চাইছেই সিটটা ছেড়ে দিতে। খেয়াল করলাম লোকটার একটা চোখের কোনায় একটা লাল দাগ, যেন পেনসিলের না কাটা দিকটা দিয়ে কেউ চাপ দিয়েছে। আর তার দু পায়েরই পেটেন্ট-লেদার জুতোয় অনেক গভীর ছোপ ছোপ লেগে রয়েছে – ছোপগুলো ডিম্বাকৃতি কিছুকে চৌকো করে একপাশে কাটলে যে রকম হয়, সে রকম।

“এখন, নিউ ইয়র্কের একটি মাত্র জেলাই আছে, যেখানে লোকজন এধরনের ধাক্কাধাক্কি খাবেই আর তা হল টুয়েন্টি থার্ড স্ট্রিটের ফুটপাথ আর দক্ষিণ সিক্সথ অ্যাভিনিউর কিছুটা। আমি তার জুতোয় অজস্র ফ্রেঞ্চ হিলের দাগ আর মুখে অগুন্তি ছাতার গুঁতো – যে ধরণের ছাতাগুলো মহিলারাই নেয়, আর ও জায়গাটা কেনাকাটারই জায়গা – দেখেই বুঝলাম গুঁতোগুঁতিটা ভাল রকমই হয়েছে। আর লোকটাকে দেখে যেরকম বুদ্ধিশুদ্ধিওলা মনে হল, তাতে মনে হয় না সে স্বেচ্ছায় সেখানে গেছে - সে যেতে বাধ্য হয়েছে। আর এক্ষেত্রে তার বাড়ির মহিলারা ছাড়া আর কেউ তাকে ও জায়গায় নিয়ে যেতে পারবে না। কাজেই, লোকটা যখন গাড়িতে উঠেছিল, তখনো তার গায়ের ঝাল মেটেনি, কাজেই দক্ষিণী সৌজন্য থাকা সত্ত্বেও সে যে মহিলাদের জায়গা ছেড়ে দেবে না, তাতে আর আশ্চর্য কি!”

“এ না হয় আমি বুঝলাম,” আমি বললাম, কিন্তু তুমি মেয়েদের ব্যাপারটা বুঝলে কী করে, বিশেষত দুই মেয়ে? সে কি শুধু তার বউকে নিয়ে কেনাকাটা করতে যেতে পারে না?”

“মেয়েরা ছিল,” শান্ত গলায় বলল জোনস, “যদি তার সঙ্গে শুধু বউই থাকত, আর সে বউ যদি তার কাছাকাছি বয়সি হত, তবে লোকটা স্রেফ ভুজুং ভাজুং দিয়ে বউকে একাই পাঠাত। আর কমবয়সী বউ হলে তো সে নিজেই বলত আমি একাই যাব। সুতরাং বুঝতেই পারছ।”

“বেশ, এও বুঝলাম,” আমি বললাম, “কিন্তু দুই মেয়ের ব্যাপারটা? আর কী করে আন্দাজ করলে একজন দত্তক নেওয়া, যেখানে ভদ্রলোক নিজেই বলল তার তিন মেয়ে?”

“উঁহু, আন্দাজ বোলো না,” তার গলায় গর্বের সুর, “আমার ডিকশনারিতে সঠিক এবং যুক্তিসম্মত চিন্তা ভাবনার প্রক্রিয়াই আছে – আন্দাজের কোনও স্থান নেই। মেজর ইলিসনের বোতামে জেরানিয়াম পাতার সঙ্গে কারনেশন আর গোলাপকুঁড়ি আটকানো আছে। কোনও মহিলাই ফুলের গোছায় একইসঙ্গে কারনেশন আর গোলাপকুঁড়ি লাগাবে না। হোয়াটসাপ, চোখ বন্ধ করে তোমার কল্পনার যুক্তিগুলোকে একটা সুযোগ দাও।”

“তাহলে,” আমি চেঁচিয়ে উঠলাম, “যখন লোকটা বলল তার তিন মেয়ে –”

“আমি দেখলাম,” বলল জোনস, “ফুলের গোছায় মাত্র দুটো ফুল, তিনটে নয়, তখনই আমি বুঝে গেলাম একজন –”

“দত্তক কন্যা!” আমি বললাম, “দারুণ, কিন্তু তুমি কী করে বুঝলে যে ভদ্রলোক আজ রাত্তিরেই ফিরছে?”

“লোকটার বুকপকেটটা উঁচু হয়ে ফুলে ছিল,” বলল গোয়েন্দাপ্রবর, “ট্রেনে ভাল মদ পাওয়া যায় না, আর নিউ ইয়র্ক থেকে ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি লম্বা রাস্তা।”

“সাবাস! সত্যি মহারাজা, তোমারে সেলাম!” আমি বললাম, “শুধু আমাকে আর একটা জিনিস বোঝাও, লোকটা ভার্জিনিয়া থেকে আসছে বুঝলে কী করে?”

“হ্যাঁ, এটা অবশ্য ধরা খুবই মুশকিল ছিল,” বলল শামরক জোনস, “তবে কোনও পাকা পর্যবেক্ষকই গাড়ির মধ্যের ওই অতি সামান্য মিন্টের গন্ধ শুঁকতে ভুল করবে না।”

------------

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%