অমিত দেবনাথ
বিভিন্ন সময়ে আমি আমার বন্ধু মিঃ বারডক রোসের আশ্চর্য পদ্ধতিতে সমাধান করা যে সমস্ত ঘটনাগুলো লিখে রেখেছিলাম, সেগুলোর ওপর চোখ বোলাতে বোলাতে যেখানে এসে আটকে গেলাম, সেই ঘটনাটাকে আমি লিপিবদ্ধ করেছি “মিঃ বাক্সটন-স্মাইথের অন্তর্ধান” – এই নামে। খুবই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মিঃ বাক্সটন-স্মাইথ ছিলেন স্কুল মাস্টার – না, ব্যাপারটা প্রথম থেকে বলা দরকার।
তখনও আমার বিয়ে হয়নি। আমাদের সেই গ্রসার স্কোয়ারের বাসায় চমৎকার কাটছিল দিনগুলো। সকালের খাওয়া হয়ে গেছে। আমরা ধূমপান করছিলাম জানলার দিকে তাকিয়ে।
“লোকটাকে লক্ষ কর, ওয়াটসিং,” হঠাৎ বলে উঠল আমার বন্ধু।
“কোথায়? কোন লোকটাকে?” আমি বললাম, “আমি তো প্রচুর লোক দেখতে পাচ্ছি। ওই তো, ওই বয়স্ক ভদ্রলোক, মেরিনের সার্জেন্ট ছিল, ছিয়াশি সালে অবসর নিয়েছে – এক ঝলক দেখে যা বুঝলাম - নাকি ওই স্টকব্রোকারের কথা বলছ, যে – আমার মনে হচ্ছে – ঠিক করতে পারছে না কোথায় টাকা ঢালবে – ইরিতে, না দক্ষিণ আফ্রিকায় – ও আবার কাল – কিছু মনে কোরো না – সারা রাত্তির কালো কফি খেয়ে জেগেই কাটিয়েছে, ভেবেছে কোনটা সবচেয়ে ভালো হয়। আবার ধর ওই লোকটা –”
রোস থামিয়ে দিল আমায়। আগেই খেয়াল করেছিলাম, ওর পদ্ধতি অনুসরণ করেই লোক চেনার ব্যাপারটা ও মোটেই পছন্দ করে না। গত সপ্তাহেই আরও পরিষ্কার হয়েছিল এটা, যখন ফিজির মহারাজা ওর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন একটা সমস্যার ব্যাপারে, আর আমি - ও কিছু বলার আগেই আরাম কেদারায় বসে সমস্যাটার সমাধান করে দিয়েছিলাম, ফলে ও একটা মোটা টাকা হাতছাড়া করেছিল।
“ওয়াটসিং,” ঠান্ডা গলায় বলল রোস।
“রোস?”
“দুজনের বাসায় একজন গোয়েন্দাই যথেষ্ট, দুজন হলে বেশি হয়ে যায়।” আমি মার্জনা চাইলাম। হাজার হোক, অবরোহমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই ক্ষমতায় ওর দাবিই আগে।
“যে লোকটার কথা আমি বলছি,” সে বলল, “ফ্রককোট পরা ওই লোকটা স্কুল মাস্টার।”
বছরখানেক আগে হলেও আমি চেঁচিয়ে উঠতাম, বলতাম, “ভায়া রোস, তুমি কী করে -?” কিন্তু এখন আমি শুধু ওর সঙ্গে একমত হই।
“তুমি যে লোকটার কথা বলছ, ও লোকটা ফিফথ গ্রেডে পড়ায়, যা মনে হচ্ছে।”
“সিক্সথ,” তীক্ষ্ণ গলায় বলল রোস।
“বেশ তো, সেটা এখনই বোঝা যাবে। ওর হাঁটাচলা দেখেই বুঝতে পারছি, ও এখানেই আসছে। আমার যদি ভুল না হয়, ওই তার দরজায় ঠকঠক আওয়াজ।”
আমার অনুমান অভ্রান্ত প্রমাণ করে একটু পরেই আমাদের বাড়িওয়ালি একজন লম্বা সুদর্শন ফ্রককোট পরা ভদ্রলোককে নিয়ে ঢুকলেন, চাঁছাছোলা গলায় সংক্ষেপে জানালেন, “মিঃ থিওপিলাস রাইট।”
“বসুন মিঃ রাইট,” রোস বলল অমায়িক সুরে। “বাস্কেট চেয়ারটাই আপনার বিশেষ পছন্দ, বুঝতেই পারছি। তা আপনার স্কুল ঠিকঠাক চলছে তো?”
“বিলক্ষণ – কিন্তু কী আশ্চর্য, আপনি কী করে –”
“এ তো সোজা ব্যাপার মশাই। ওয়াটসিং, আমি কী করে বুঝ-
লাম মিঃ রাইট স্কুল মাস্টার?”
“আরে বাবা,” আমি হাসতে হাসতে বললাম, “যখনই দেখি কোনও লোক –”
“হ্যাঁ হ্যাঁ,” রোস তৎক্ষণাৎ থামিয়ে দিল আমাকে, “বোঝাই যাচ্ছে ব্যাপারটা। তাহলে মিঃ রাইট, আপনি সিক্সথ গ্রেড মাস্টার, তাই তো?”
“না, মিঃ রোস, আমি ফিফথ।”
হঠাৎই রোস আমাকে জিজ্ঞেস করে বসল আমি মুচকি হাসলাম কেন। আমি বললাম, আমি কী যেন ভাবছিলাম, তাই হাসছিলাম।
“ব্যাপারটা হল, মিঃ রোস, আমি আপনার পরামর্শ নিতে এসেছি ওই সিক্সথ গ্রেডের একজন মাস্টারের ব্যাপারেই। আমার স্কুল হল সেন্ট অ্যাসটেরিস্ক-এ।”
“ওয়াটসিং,” একটুও নড়াচড়া না করে বলল রোস (তার চোখ বন্ধ, আঙুলগুলো পরস্পর টোকা দিচ্ছে), “আমার জাবেদা খাতায় সেন্ট অ্যাসটেরিস্ক-এর ব্যাপারে দেখ তো!”
আমি বললাম যে রোস যখন না উঠে শুধু হাত বাড়িয়েই তার খাতাটা পেতে পারে, যেখানে আমাকে ওটা পেতে গেলে টেবিলটাকে পাক মেরে যেতে হয়, সে নিজেই নিক না। সে তাই করল।
সেন্ট অ্যাসটেরিস্ক সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেল অন্যান্য কাগজপত্রের মধ্যে, যেখানে মিঃ জোসেফ চেম্বারলেইন যে কখনই মাশরুম খান না, এই খবরের সঙ্গে রয়েছে “ডেলি টেলিগ্রাফ” কাগজের থেকে কাটা একটা চিঠি, যার বিষয়টা হল “চুলের কাঁটা কি স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর?”
“হুম!” বলল রোস, “এই স্কুলেই ১৮৮৪ সালে এক সিক্সথ গ্রেডের মাস্টার হারিয়ে গেছিল, তাই না?”
“হ্যাঁ স্যার, আমিও এখন ওই রকম একটা ব্যাপারেই এসেছি। আমাদের এখনকার সিক্সথ গ্রেড মাস্টার, মিঃ বাক্সটন-স্মাইথও উধাও হয়ে গেছেন।”
“বয়স কত?”
“এই চব্বিশ-টব্বিশ। সদ্য অক্সফোর্ড থেকে বেরিয়েছিলেন।
“সিক্সথ গ্রেডের পক্ষে বয়সটা কমই বলতে হবে।”
“ঠিকই বলেছেন, তবে পড়াশোনায় চমৎকার।”
“আচ্ছা। চুলের রঙ কী?”
“বাদামি।”
“বেশ বেশ। যা ভেবেছিলাম। ঠিক আছে, ঘটনাটা একটু বলুন।”
“বলার বিশেষ কিছু নেই,” বললেন ভদ্রলোক। “গত মঙ্গলবার মিঃ বাক্সটন-স্মাইথ বেলা দুটোয় তাঁর ক্লাসে ঢুকেছিলেন, আর বেরিয়ে আসেননি।”
“ছেলেরা কী বলছে?”
“কিছুই না, শুধু বলছে তিনি কোথায় ওরা জানে না। আমি বলছি আপনাকে, ওদের হাবভাব কিন্তু খুবই সন্দেহজনক লাগছে।”
রোসকে দেখেই বুঝলাম কেসটায় ওর আগ্রহ জন্মেছে।
“বলে যান,” বলল সে।
“হেডমাস্টার খবরটা শুনে প্রচন্ড ভেঙে পড়েছেন। অজ্ঞানই হয়ে গেছিলেন, এখন স্কুল লাইব্রেরির সোফায় শুয়ে আছেন, ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন। স্কুলের জুনিয়র মাস্টাররা তাঁকে চামচে করে ফেনাভাত খাইয়ে দিচ্ছে। সিনিয়র মাস্টারদের মধ্যে যেহেতু আমিই টিকে আছি, তাই একজন বলল আপনার সঙ্গে দেখা করতে, যদি কেসটা নেন।”
“বেশ তো, সাহায্য করতে পারলে ভালোই লাগবে। ওয়াটসিং, কয়েকদিন প্র্যাকটিস বন্ধ করতে অসুবিধে হবে?”
“কী বন্ধ করতে? – ও হ্যাঁ, প্র্যাকটিস। আমার প্র্যাকটিস। মনে পড়েছে এইবার। না না রোস, তোমার সঙ্গলাভ আমার কাছে অনেক বেশি জরুরি। ওসব প্র্যাকটিস-ফ্র্যাকটিস পরে হলেও চলবে। কোথায় যাচ্ছি আমরা, সেন্ট অ্যাসটেরিস্ক-এ?”
“নিশ্চয়ই। সেন্ট অ্যাসটেরিস্ক-এ। ভালো কথা, মিঃ রাইট, আপনার স্কুলের প্রথম অন্তর্ধান রহস্যের সমাধান হয়েছে কি?”
“ইয়ে – না,” বেশ অনিচ্ছার সঙ্গে কথাটা বললেন মিঃ রাইট, “মানে পুরোপুরি না। ওই মাস্টারের নাম ছিল ওয়াদারস্পুন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ওঁর ক্লাসের ছেলেরাই ওঁকে খুন করে বডি লুকিয়ে ফেলেছে। ওঁর একটা অভ্যেস ছিল প্রত্যেক শনিবার রাত্রে শেক্সপিয়র থেকে আবৃত্তি করা, উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। যাই হোক, মাসখানেক বাদে কয়েকজন মজুর মাটি খুঁড়তে গিয়ে একটা চূর্ণ বিচূর্ণ কঙ্কাল উদ্ধার করে। বুঝতে পারছেন তো ব্যাপারটা?”
“পাক্কা। এখানে সেরকম কোনও ব্যাপার হয়নি তো?”
“না না। মিঃ বাক্সটন-স্মাইথ একেবারেই নিরীহ মানুষ ছিলেন।”
“বেশ। শুনুন মিঃ রাইট, এটা খুবই সাধারণ একটা কেস। এ ধরণের কেসের ক্ষেত্রে আমি সবসময়েই দরজা জানলা বন্ধ করে এক পাউন্ড কড়া তামাক সেবন করে থাকি। ওয়াটসিং সাধারণত ওর বন্ধুর কাছে যায় পাখি নিয়ে আলোচনা করতে। আপনি ওর সঙ্গে যাবেন? ঠিক আছে, বিদায়। কাল বেলা একটায় সেন্ট অ্যাসটেরিস্ক-এ যাচ্ছি।”
“এই কেসটায় বেশ কয়েকটা ইন্টারেস্টিং পয়েন্ট আছে, ওয়াটসিং,” বলল রোস, যখন আমরা ক্লাসরুম থেকে বেরোলাম, “কিছু দেখলে? কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারলে?”
আমি বললাম যে আমি কখনই সিদ্ধান্ত নিই না। আমি খেয়াল করে দেখেছি, এর ফল মারাত্মক হয়। থিওরি খাড়া করার জন্য অনেক সময় ভুল করে আসল সত্যিটাকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, সত্যি দিয়ে থিওরি তৈরি করার বদলে। এটা ঠিক নয়।
“যা বলেছ,” বলল সে। “তবে ওয়াটসিং, একবার আমিই যেন তোমাকে ঠিক এরকম একটা কথা বলেছিলাম। মনে পড়ছে?”
“বলেছিলে নাকি? হতে পারে। আমার তো মনে পড়ছে না,” আমি বললাম।
“দেখ,” সে খানিকক্ষণ থেমে বলল, “একটা জিনিস পরিষ্কার। মিঃ থিওপিলাস রাইট বাক্সটন-স্মাইথকে সরিয়েছেন। প্রশ্নটা হল, কী ভাবে?”
“বল কী রোস?”
“ভায়া ওয়াটসিং, খুবই সোজা ব্যাপার। কীসের জন্য, তাই তো? উচ্চাকাঙ্ক্ষা। ওকে সরালে জায়গাটা ফাঁকা হবে, সেই সুযোগটা নেওয়া। কীভাবে জানতে পারলাম? অজস্র সুত্র। প্রথমে ধর –”
“এক মিনিট, রোস। আজ সকালে আমি সিক্সথ গ্রেডের একটা ছেলেকে দেখতে গেছিলাম, মনে আছে?”
“হ্যাঁ।”
“ছেলেটা বদহজমে ভুগছিল। ও এমন কিছু খেয়ে ফেলেছিল, যেটা ওর সহ্য হয়নি। এখন, সিক্সথ গ্রেডের ছেলেরা নিশ্চয়ই মিষ্টি, কাঁচা আপেল, বান বা ওই ধরণের কিছু খাবে না। আমার কাছে একটা সুযোগ এসে গেল। ওকে খুব ভাল ভাবে পরীক্ষা করতে করতেই আমি আসল কথাটা বার করে নিলাম – তার সঙ্গে অনুশোচনা আর বদহজমও যোগ হয়েছিল নিশ্চয়ই। ছেলেটা প্রয়াত বাক্সটন-স্মাইথের বেশ খানিকটা অংশ কাঁচা কাঁচাই খেয়ে ফেলেছিল। না, না,” রোসের চোখে অবাক বিস্ময় লক্ষ্য করেই আমি বললাম, “আগে শোন। আমি বানিয়ে বলছি না। ওর লিখিত স্বীকারোক্তি আমার পকেটে আছে। ও আমাকে পুরো ঘটনাটা বলেছে। বাক্সটন-স্মাইথ খুবই নিরীহ একজন মানুষ হলেও ওর একটা বড়ো দোষ ছিল। ও ছাত্রদের রচনা লিখতে দিত। এখন, রচনা অনেক ভাবেই লিখতে দেওয়া যায়। তার নানারকম ধরন আছে। রচনার ব্যাপারে বাক্সটন-স্মাইথ ছিল বিভীষিকা। সে যাই করতো, সেগুলো করতো ছটা ছটা করে, যেন সিরিজ অনুযায়ী চলছে। তার মৃত্যুর ব্যাপারে আসল ঘটনা এরকমঃ পড়াতে গিয়ে প্রথম দিন সে “ডেভিড”-এর ওপর রচনা লিখতে দিল। ছেলেরা মহানন্দে লিখল রচনাটা, কারণ তখনও পর্যন্ত ওরা জানত না মাস্টার কি জিনিস, এবং মাস্টারও ভাবল, ওরা যখন সবাই দিব্যি লিখছে, তখন সিরিজের পরেরগুলোও দেওয়া যায়। পরের রচনাটা হল ডেভিডের চরিত্র। এতে সবাই যে খুব খুশি হল, তা নয়, তবে সবাই যা হোক লিখল এবং তখনও পর্যন্ত তাদের মনে অন্যরকম কিছু জাগেনি। তৃতীয় সপ্তাহের রচনার বিষয় হল “ডেভিডের চরিত্র এবং প্রজাদের ওপর তার প্রভাব”। ছাত্ররা প্রবল রেগে গেল। প্রভাব পড়ল ক্লাসে, নানারকম টিটকিরি শোনা গেল ছাত্রদের মধ্যে থেকে। অন্য কেউ হলে তক্ষুনি সমঝে যেত ব্যাপারটা। কিন্তু বাক্সটন-স্মাইথ হয় ভীষণ চালাক, নয়তো ভীষণ গোঁয়ার। আর নিশ্চয়ই খুব কৌতূহলীও ছিল – না হলে এ ব্যাপারটার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। চতুর্থ সপ্তাহের সোমবার – নিছক কৌতুহল অথবা নিছক বাহাদুরির বশে, যাই হোক না কেন – সে ঘোষণা করল এ সপ্তাহের রচনার বিষয় হল – “ডেভিডের চরিত্র এবং নিজের চরিত্রের ওপরে তার প্রভাব”। এই জায়গাটাতেই আমি যার সঙ্গে কথা বললাম, সে ঠিকঠাক বলেনি। সে শুধু বলেছিল, এটা শুনে গোটা ক্লাসই নাকি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে মেরে টুকরো টুকরো করে খেয়ে ফেলেছিল। তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে, যখন আমরা ক্লাসরুমটা পরীক্ষা করছিলাম, তখন আমি তোমাকে একটা জামার বোতাম আর মাস্টারের ডেস্কের পাশের মেঝেতে রক্তের দাগ দেখিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি বললে ও দাগটা লাল কালির, আর বোতামটা তুমিই ফেলেছ। ব্যাপারটা হল, ওগুলো সবই বাক্সটন-স্মাইথের। স্থানীয় করোনার ওখানেই বসেছিলেন ওকিং যাওয়ার আগে, আর যা রায় দিয়েছিলেন, তাকে আমি আত্মহত্যার সপক্ষেই বলব। তিনি বলেছিলেন যে বাক্সটন-স্মাইথের মত কাজ করার অর্থ আত্মহত্যা করা। তিনি আরও বলেছিলেন ওই ক্লাসের ছেলেরা খুবই ন্যায়নিষ্ঠ এবং প্রশংসনীয় কাজই করেছে। তুমি যদি অন্য কোনও সিদ্ধান্ত করে থাকো, তাহলে আমি দুঃখিত, কিন্তু এই হল আসল ঘটনা।”
বাসায় ফিরে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত রোস একটি কথাও বলেনি। তারপর সে আমার ঘরের দরজা দিয়ে মুখ বাড়াল।
“ওয়াটসিং,” সে বলল, “তোমার বিয়ের পর বোধহয় তোমাকে আর খুব বেশি দেখা যাবে না, তাই না?”
“এখন যত ঘন ঘন দেখছো, এতটা হবে না নিশ্চয়ই, রোস,” আমি বললাম।
সে খানিকক্ষণ থম মেরে রইল। তারপর তার ধারালো মুখে একটা হালকা হাসি ফুটে উঠল।
“তুমি বিয়ে করতে যাচ্ছো জেনে সুখী হলাম, ওয়াটসিং,” বিরস বদনে বলল রোস।
------------
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন