পেগ্রাম রহস্য

অমিত দেবনাথ

সম্প্রতি কাগজওয়ালাগুলো যা নিয়ে হইচই শুরু করেছে, সেই “পেগ্রাম মিস্ট্রি” নিয়ে আমার পরম বন্ধু শার্লো কোম্বস কী ভাবছে, জানার জন্য মনটা বড় উসখুস করছিল। তার বাসায় গিয়ে দেখি মহারাজা বেহালা বাজাচ্ছেন পরম আনন্দে, মুখে একটা স্বর্গীয় অনুভূতি। অবশ্য যখনই তার মুখে এমন ঐশ্বরিক ছাপ ফুটে ওঠে, তখনই বোঝা যায় যে সে কোনও ব্যাপার নিয়ে খুবই বিরক্ত। দীর্ঘদিন ধরে ওর সঙ্গে থেকে থেকে এসব আমি জেনে গেছি। অবশ্য এর কারণও আছে। আজ সকালের একটা কাগজেই স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাজকর্ম আর দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে খুব প্রশংসাসূচক একটা প্রবন্ধ বেরিয়েছে। আর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড সম্বন্ধে কোম্বসের ধারণা এতই “উঁচুমানের” যে আজ অবধি অবসর সময়েও সে কোনওদিন সেখানে পা রাখেনি; কোনও স্কচম্যান রপ্তানি ছাড়া যে আর কোনও কাজ করতে পারে, এমন কোনও ধারণাও সে পোষণ করে না।

যাই হোক, যেহেতু তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর, তাই বরাবরের মতো সে আমায় হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানালো, বেহালাটা একপাশে সরিয়ে রেখে।

“চলে এলাম, বুঝলে,” আমি বললাম, “পেগ্রামের ব্যাপারটা নিয়ে তুমি কী ভাবছ, শোনা দরকার।”

“কোন ব্যাপার? কিছু শুনিনি তো,” ঠাণ্ডা গলায় এমনভাবে বলল কোম্বস, যেন গোটা লন্ডনের কেউই এই ব্যাপারে কিছুই জানে না। কোম্বস এমন অদ্ভুত না! কিছু কিছু ব্যাপারে আশ্চর্যরকম উদাসীন থাকবে, আবার কিছু কিছু ব্যাপারে এমন আগ্রহ দেখাবে যে সেটাও কম আশ্চর্যের নয়। যেমন আমি দেখেছি তার সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা করে কোনও লাভ নেই, কারণ কে গ্ল্যাডস্টোন আর কে সালিসবেরি – সে তার কিছুই জানে না। এগুলো অবশ্য এক ধরনের আশীর্বাদই বলা যায়, কারণ আজেবাজে ব্যাপারে সময় নষ্ট করে লাভ হয় না।

“শোনইনি? কি আশ্চর্য! এমন কি স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের গ্রেগরি পর্যন্ত এটা নিয়ে নাকানিচোবানি খাচ্ছে!”

“জানি জানি,” বলল কোম্বস, “ওই গ্রেগরির কতগুলো ধরাবাঁধা গত আছে তো, তার বাইরে যেতে না পারলে নাকানিচোবানি তো খাবেই। গ্রেগরির বুদ্ধিশুদ্ধি এখনও পাকেনি, বুঝলে।”

এই হল শার্লো কোম্বসের চরিত্রের আরেকটা দিক। অদ্ভুত মানুষ! পেশাদারি দিক দিয়ে কোনও দ্বেষ, হিংসা – কিচ্ছু নেই, শুধু অন্যের কাজের পদ্ধতিগত ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দেওয়া, ব্যস। এমন মানুষকে শ্রদ্ধা না করে পারা যায় না।

পাইপে তামাক ঠেসে, আরামকেদারায় গা এলিয়ে দিয়ে, ম্যান্টলের ওপর পা দুটো মেলে দিল কোম্বস, দুহাতের পেছনে মাথাটা হেলান দিয়ে।

“কী ব্যাপার, শুনি তো,” বলল কোম্বস শান্ত গলায়।

“ব্যারি কিপসন হলেন একজন শেয়ারের দালাল,” আমি শুরু করলাম। “বয়স্ক মানুষ। থাকেন পেগ্রামে। তাঁর অভ্যেস হল –”

“ভেতরে আসুন,” বলে উঠল কোম্বস, যদিও একটুও নড়াচড়া করল না, তবে এমন আচমকা কথাটা বলল যে আমি চমকে উঠলাম। দরজায় কোনও টোকা দেওয়ার আওয়াজ পেলাম না যদিও।

“মাপ কোরো ভায়া,” হেসে ফেলল আমার বন্ধু, “আমি একটু আগে বলে ফেলেছি। আসলে তোমার কথা শুনতে শুনতে এমন ডুবে গেছিলাম যে ভাবার আগেই বলে ফেলেছি, যেটা কোনও গোয়েন্দারই করা উচিত নয়। আসলে কী জান, একটু পরেই এক ভদ্রলোক এই ব্যাপারেই আমাকে বলতে আসবেন, কাজেই এ-ব্যাপারে তোমার বক্তব্যই আরও জোরদার হবে।”

“ও, তোমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে? জানতাম না। আমি উঠি তাহলে।” আমি উঠে পড়লাম।

“বোসো, বোসো, আমার কারোর সঙ্গেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেই। আমি এটা বলার আগে জানতামও না যে লোকটা আসছে।”

আমি হাঁ করে তাকিয়ে রইলাম। আমি তার অনন্যসাধারণ কার্যকলাপ সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল, তবু মনে হয় এ লোকটা আমার কাছে চিরবিস্ময়। কোম্বস অবশ্য ধোঁয়া ছাড়ছে নির্বিকারভাবে, যদিও বোঝা যাচ্ছে, সে আমার ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়াটা বেশ উপভোগ করছে।

“অবাক হচ্ছো দেখছি। এ এতই সোজা ব্যাপার যে কথা বললে সময় নষ্ট হয়। আমার জায়গাটা দেখেছো তো, উলটোদিকে আয়না আছে একখানা, আর এই আয়না দিয়ে আমি রাস্তার সব কিছুই দেখতে পাচ্ছি। দেখলাম একটা লোক থেমে গিয়ে আমারই একটা কার্ড দেখল, তারপর রাস্তা পেরিয়ে তাকাল। আমার কার্ড লাল রঙে ছাপা, জানই তো, কাজেই চেনাটা কোনও ব্যাপার নয়। আর তুমি যখন বললে সারা লন্ডনের লোকজনই নাকি এই নিয়ে কথা বলছে, তাহলে এই লোকটাও নিশ্চয়ই এই নিয়েই কথা বলবে বলে আমার কাছেই আসতে চাইছে। বুঝতেই পারছ, একদম – ভেতরে আসুন!”

এবার সত্যিই দরজায় একটা করাঘাত শুনলাম।

ভেতরে ঢুকল একটা লোক। শার্লো কোম্বস একফোঁটা নড়ল না পর্যন্ত।

“আমি ডিটেকটিভ মিঃ শার্লো কোম্বসের সঙ্গে দেখা করতে চাই,” বলল আগন্তুক, ধুম্রপায়ীর নজরের মধ্যে এসে।

“এই যে, ইনিই মিঃ কোম্বস,” অবশেষে বললাম আমি, কারণ বন্ধুবর আগন্তুকের দিকে দৃকপাত

না করে ধোঁয়া টেনেই যাচ্ছিল, মনে হচ্ছিল ঘুমিয়েই পড়েছে।

“আমার পরিচয়টা আগে দিয়ে নিই,” আগন্তুক একটা কার্ড বার করল।

“দরকার নেই। আপনি সাংবাদিক,” বলল কোম্বস।

“ও, আচ্ছা,” বলল লোকটা খানিকটা অবাক হয়েই, “আপনি কি আমাকে –”

“জীবনে দেখিনি বা শুনিনি।”

“তাহলে –”

“সহজ ব্যাপার। আপনি বিকেলের কাগজে লেখেন। আপনার এক বন্ধুর বইয়ের সমালোচনা করে একটা লেখা লিখেছেন। ব্যাপারটা তার খুব খারাপ লেগেছে, আপনিও খুব সহানুভুতি দেখাচ্ছেন। আমি না বললে সে জানতেই পারবে না কে তার পেছন থেকে ছুরি মারল।”

“কী সর্বনাশ!” সাংবাদিক মহোদয় বসে পড়লেন একটা চেয়ারে, রুমাল দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে লাগলেন। তাঁর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।

“সর্বনাশের আর কী আছে মশাই, এসব তো হয়েই থাকে,” বলল কোম্বস।

ধাক্কাটা খানিকটা সামলে উঠে বললেন সাংবাদিক ভদ্রলোক, “আপনি যাকে কোনও দিন দেখেনওনি, তার সম্পর্কে এত নিখুঁতভাবে বললেন কী করে, দয়া করে বলবেন, যদি কিছু মনে না করেন?”

“এসব ব্যাপারে সাধারণত আমি কথা বলি না,” বলল কোম্বস গম্ভীর চালে, “কিন্তু তাও বলছি, কারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বাড়াতে

পারলে আপনার পেশার সুবিধেই হবে, আর তাতে হয়তো আপনার কাগজের একটু উন্নতিও ঘটাতে পারবেন। আপনার প্রথম আর দ্বিতীয় আঙুলে কালি বোঝাই, বোঝাই যাচ্ছে আপনি প্রচুর লেখেন। বেশি লেখে কারা? কেরানি, হিসেবরক্ষক আর সাংবাদিকরা। আপনার পকেটে একটা সান্ধ্য কাগজ। পকেটে যে কেউ সান্ধ্য কাগজ রাখতে পারে, কিন্তু আপনারটা স্পেশাল, কারণ রাস্তায় সান্ধ্য কাগজ আসতে এখনও আধঘন্টাটাক বাকি। আপনি অফিস থেকে বেরোনোর আগে ওটা পেয়েছেন, তাহলে নির্ঘাত আপনি ওই কাগজেরই কর্মী। নীল পেনসিলে একটা বইয়ের জায়গা দাগানো আছে। একজন সাংবাদিক কাগজে নিজের লেখা ছাড়া আর কিছুই পড়ে না। তার মানে যেটা আপনি দাগিয়েছেন, সেটা আপনি নিজেই লিখেছেন এবং এটা যে লেখকের বই, তার কাছেই পাঠানো হতে চলেছে। আপনাদের কাগজের একটা অদ্ভুত নীতি আছে, আপনাদের নিজেদের লোক না লিখলে অন্য সব বইয়ের গুষ্টির তুষ্টি করে ছাড়েন। তাহলে ইনি আপনার কোনও বন্ধুই হবেন ধরে নিচ্ছি। সাধারণ পর্যবেক্ষণের এ খুব সাধারণ উদাহরণ।”

“সত্যি, মিঃ কোম্বস, আপনি এই বিশ্বের সবচেয়ে আশ্চর্য মানুষ। আপনি গ্রেগরির সমান,

ভগবানের দিব্যি।”

আমার বন্ধুর ভুরু কুঁচকে গেল। পাইপটা পাশে রেখে সে হাতে তুলে নিল তার ছ-ঘড়া পিস্তলটা।

“তার মানে আপনি আমাকে অপমান করছেন?”

“আরে না না না না না – বি-বিশ্বাস করুন। আমি-আমি-আমি বলতে চাইছি আপনার কালকে থেকেই স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের হেড হওয়া উচিত – মাইরি বলছি!”

“তাহলে ঈশ্বরের নাম নিন,” ধীরে ধীরে ডান হাতটা তুলতে

তুলতে কর্কশ গলায় বলল কোম্বস।

“না! না! গুলি করবে না!” আমি চেঁচিয়ে উঠলাম,

“কার্পেটটাকে নষ্ট করবে নাকি? আর তা ছাড়া কোম্বস, তোমার তো বোঝা উচিত, ভদ্রলোক খারাপ কিছু বলেননি। উনি এটা তোমাকে প্রশংসা হিসেবেই বলেছেন।”

“তুমি হয়তো ঠিকই বললে,” পাইপের পাশেই পিস্তলটা ছুঁড়ে মেরে মন্তব্য করল ডিটেকটিভ। সাংবাদিকের মুখে ফুটে উঠল স্বস্তির ছাপ। তারপর ঘুরে তাকিয়ে বরাবরের মতো মধুর হেসে বলল কোম্বস, “আমার সঙ্গে দেখা করতে চান বলছিলেন না তখন? তা, দেখা যখন হয়েই গেছে, তখন বলুন, মিঃ উইলবার স্ক্রিবিংস, আপনার জন্য আমি কি করতে পারি?”

সাংবাদিক স্তম্ভিত হয়ে গেলেন।

“আপনি আমার নাম জানলেন কী করে?” বললেন তিনি। বলার সময় কন্ঠাটা বারকতক ওঠানামা করল দেখলাম।

কোম্বস অধৈর্য হয়ে হাত নাড়ল। “দূর মশাই, নাম নিয়ে সন্দেহ থাকলে টুপি খুলে দেখুন।”

এই প্রথম আমি খেয়াল করলাম, যে টুপিটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে লোকটা, তার ভেতরের দিকে নামটা লেখা আছে।

“পেগ্রাম রহস্যের ব্যাপারে আপনি নিশ্চয়ই শুনেছেন –”

“উঁহু উঁহু,” বলে উঠল ডিটেকটিভ, “আপনাকে অনুরোধ করছি, এটাকে রহস্য বলবেন না। এতে কোনও রহস্যই নেই। জীবনে যদি রহস্য থাকত, তাহলে জীবন অনেক সোজা হয়ে যেত। কোনওটাই নতুন নয়। সব আগে হয়ে গেছে। হ্যাঁ, এবার বলুন এই পেগ্রামের ব্যাপারটা।”

“হ্যাঁ, এই পেগ্রাম রহ – মানে ঘটনাটা নিয়ে সবার মাথা ঘুরে গেছে। আমাদের এই ইভনিং ব্লেড খবরের কাগজ চাইছে আপনি এ ব্যাপারটা দেখুন, যাতে ফলাফলটা আমরা ছাপতে

পারি। পয়সাকড়ি নিয়ে চিন্তা করবেন না। রাজি আছেন কি?”

“দেখছি। আগে বলুন ঘটনাটা।”

“আমি ভেবেছিলাম সবাই এ ব্যাপারটার খুঁটিনাটিগুলো পর্যন্ত জেনে গেছে। যাই হোক, মিঃ ব্যারি

কিপসন পেগ্রামে থাকেন। টার্মিনাস আর তাঁর স্টেশনের মধ্যে তিনি যাতায়াত করেন ফার্স্ট ক্লাসে। এ জন্য তিনি বরাবর সিজন টিকিট কাটেন। তিনি পেগ্রাম ফেরার সময় প্রতিদিন বিকেল ৫.৩০-এর ট্রেনটা ধরেন। বরাবরকার নিয়ম। সপ্তাহ কয়েক আগে মিঃ কিপসনের ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়, কাজেই কয়েকদিন তিনি আসেননি। যেদিন প্রথম শহরে এলেন, সেদিন যথারীতি তিনি বিকেল ৫.৩০-এর ট্রেনটাই ধরেন, কিন্তু সেদিন তাঁর সঙ্গে তিনশো পাউন্ডের নোট ছিল। এরপর তাঁকে আর কেউ জীবন্ত দেখেনি। তাঁকে শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায় স্কচ এক্সপ্রেসের একটা ফার্স্ট ক্লাস কামরায়, ব্রিউস্টার-এ। ব্যাপার হল, ওই ট্রেনটা আবার লন্ডন আর ব্রিউস্টারের মধ্যে কোথাও দাঁড়ায় না। তাঁর মাথা বুলেট বিদ্ধ ছিল, সমস্ত টাকাপয়সাও উধাও। কেসটা, বোঝাই যাচ্ছে খুন আর ডাকাতির।”

“এর মধ্যে রহস্যটা কোথায় জিজ্ঞেস করতে পারি কি?”

“রহস্য বলতে, অনেকগুলো জিনিস বোঝা যাচ্ছে না। প্রথমত, তিনি স্কচ এক্সপ্রেসে এলেন কোত্থেকে, যে ট্রেনটা ছটায় ছাড়ে আর পেগ্রামে দাঁড়ায় না? দ্বিতীয়ত, টার্মিনাসের টিকিট চেকার, যদি তাঁর সিজন টিকিট দেখত, তাহলে কিন্তু তাঁকে ট্রেনে উঠতেই দিত না। আর এটাও জানা গেছে যে স্কচ এক্সপ্রেসের ২১ তারিখের সমস্ত টিকিটই বিক্রি হয়ে গেছিল। তৃতীয়ত, খুনি পালাল কীভাবে? চতুর্থত, যেখানে লাশ পাওয়া গেছে, তার দুপাশের কামরার যাত্রীরা কোনও কিছুই শোনেনি – না ধ্বস্তাধস্তির আওয়াজ, না গুলির আওয়াজ। এটা কীভাবে হয়?”

“আপনি নিশ্চিত যে ২১ তারিখের স্কচ এক্সপ্রেস লন্ডন আর ব্রিউস্টারের মধ্যে থামেনি?”

“আপনি বললেন বলে মনে পড়ল, থেমেছিল। পেগ্রামের ঠিক আগেই সিগনাল না পেয়ে। কয়েক সেকেন্ডের জন্যই অবশ্য, তারপর আবার ছেড়ে দিয়েছিল। এটা ওখানে প্রায়ই হয়, পেগ্রামের পরে একটা ব্র্যাঞ্চ লাইন বেরিয়েছে কিনা।”

নিঃশব্দে পাইপ টানতে টানতে শার্লো কোম্বস কিছু একটা ভাবছিল।

“আপনি চাইছেন এর সমাধানটা কালকের কাগজে ছাপতে?”

“না স্যার, তাই কখনোও পারি? আমাদের সম্পাদকের মত, আপনি যদি মাসখানেকের মধ্যেও কোনও তত্ত্ব খাড়া করতে পারেন, তাই যথেষ্ট হবে।”

“শুনুন মশাই, আমি তত্ত্ব নিয়ে কাজ করি না, তথ্য নিয়ে করি। আপনি যদি কাল সকাল আটটায় একবার এখানে কষ্ট করে পায়ের ধুলো দেন, তবে আমি আপনাকে সমস্ত কিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বলে দিতে পারব, প্রথম সংস্করণে ছাপতে অসুবিধে হবে না। এই পেগ্রাম কেসটার মতো সহজ ব্যাপার নিয়ে বেশি সময় নষ্ট করার কোনও মানেই হয় না। আপনি তাহলে এখন আসুন। গুড আফটারনুন।”

মিঃ স্ক্রিবিংস এতই অবাক হয়ে গেলেন যে পাল্টা শুভেচ্ছা জানাতেও ভুলে গেলেন। এক্কেবারে

বাক্যহারা হয়ে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন, এবং আমি দেখলাম, যখন তিনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন, তখনও টুপিটা তাঁর হাতে ধরা।

শার্লো কোম্বস আবার তার পুরোন জায়গায় ফিরে গেল, মাথার পেছনে হাত দুটো দিয়ে। ঘন ঘন পাইপ থেকে ধূম উদ্গীরন করছিল সে, তারপর দেখলাম সেটার মাত্রাটা কমে এল। বুঝলাম, সে কোনও সিদ্ধান্তে আসতে চলেছে, কাজেই কথা না বলে চুপ করেই রইলাম।

অবশেষে মুখ খুলল সে। চমৎকার মখমলের মতো গলায় বলল, “কোনও জিনিসের পেছনে ছোটা আমার পছন্দ না, তবে আজ রাত্তিরের স্কচ এক্সপ্রেসটা আমি ধরছি।”

“বল কী?” ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আমি চেঁচিয়ে উঠলাম, “স্কচ এক্সপ্রেস? সময় কোথায়? এখনই তো সাড়ে পাঁচটা বাজে!”

“অনেক সময় আছে হোয়াটসন – অনেক সময়,” তার জায়গা থেকে একফোঁটা না নড়ে মন্তব্য করল সে, “এই স্লিপার আর ড্রেসিং গাউন ছেড়ে কোট আর বুট পরতে আমার লাগবে দেড় মিনিট, টুপি পড়তে তিন সেকেন্ড, রাস্তায় যেতে লাগবে পঁচিশ সেকেন্ড, বেয়াল্লিশ সেকেন্ড দাঁড়াতে হবে হ্যানসমের জন্য, আর সাত মিনিট লাগবে টার্মিনাসে যেতে। তখনও ট্রেন ছাড়বে না। তুমি সঙ্গে গেলে খুশি হব।”

কোম্বসের সঙ্গে যে যেতে পারব, এতেই আমার আনন্দ। ওর পাশে থেকে ওর কাজ দেখা, এ এক পরম পাওয়া। বিশাল লোহার ছাদওয়ালা টার্মিনাসে পৌঁছে দেখি ওর মুখে একটা বিরক্তির ছাপ।

“পনেরো সেকেন্ড আগে চলে এলাম দেখছি,” বড় ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে বলল কোম্বস, “হিসেবে গন্ডগোল করাটা আমি একদম পছন্দ করি না।”

স্কচ এক্সপ্রেস লম্বা পাড়ি দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল। ডিটেকটিভ একজন গার্ডের কাঁধে একটা টোকা মারল।

“ওই পেগ্রাম রহস্য না কী একটা হয়েছে, সে ব্যাপারে আপনি কিছু জানেন নাকি?”

“জানি বইকি স্যার। এই ট্রেনেই তো হয়েছে ঘটনাটা।”

“তাই নাকি? কোন কামরায় হয়েছে? সেটা এখনও আছে?”

“আছে স্যার, আছে,” গলা নামিয়ে বলল গার্ড, “কিন্তু আমরা

এটা পাঁচকান করি না। বুঝতেই তো পারছেন, লোকজন তাহলে আর ওটাতে উঠতে চাইবে না।”

“বটেই তো, বটেই তো। তা তুমি বাপু জানো নাকি, যে কামরায় লাশ পাওয়া গেছিল, সেখানে আজকে কেউ আছে কিনা?”

“আছে বইকি স্যার। এক ভদ্রমহিলা আর এক ভদ্রলোক।

আমি নিজে গিয়ে তাঁদের তুলে দিয়েছি।”

“তাহলে এক কাজ কর,” একটা আধ সভরিন গার্ডের হাতে গুঁজে দিয়ে বলল কোম্বস, “তুমি এমনিই হাঁটতে হাঁটতে ওই কামরার জানলার ধারে গিয়ে খুব সাধারণভাবে ওদের বল যে এই কামরাতেই খুনটা হয়েছিল।”

“হ্যাঁ স্যার।”

আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম গার্ডকে। যে মুহূর্তে সে খবরটা ফাঁস করল, সেই মুহূর্তেই সেখান থেকে একটা চাপা গলার আর্তনাদ শুনলাম। পরক্ষণেই দেখলাম কামরা থেকে ছুটে বেরিয়ে এল এক মহিলা, পেছন পেছন লালমুখো একটা লোক, গার্ডের দিকে তাকিয়ে গজগজ করতে করতে। আমরা সেই ফাঁকা কামরায় ঢোকার পর কোম্বস বলল, “যাক, ব্রিউস্টার অবধি আর কেউ আসবে না।”

“কোনও চিন্তা নেই স্যার, আমি আছি,” বলল গার্ড, দরজা বন্ধ করতে করতে।

গার্ড চলে যাওয়ার পর আমি কোম্বসকে জিজ্ঞেস করলাম এখান থেকে সে কী পাওয়ার আশা করছে।

“কিছুই না,” তার সংক্ষিপ্ত জবাব।

“যাচ্চলে! তাহলে তুমি এখানে এলে কেন?”

“আমি যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি, সেটা সঠিক কিনা দেখার জন্য।”

“সিদ্ধান্তটা কি জানতে পারি?”

“পারো,” বলল গোয়েন্দাপ্রবর। “তোমাকে কয়েকটা জিনিস খেয়াল করতে বলব। এক নম্বর, এই ট্রেনটা দুটো প্ল্যাটফর্মের মাঝখানে দাঁড়ায়, কাজেই যে কোনও দিক দিয়েই ওঠা যায়। এই স্টেশন দিয়ে বহুদিন ধরে যারা যাতায়াত করছে, তারা এটা খুব ভাল করেই জানে। এতেই বোঝা যাচ্ছে মিঃ কিপসন ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে কীভাবে এটা ধরেছিলেন।”

“কিন্তু এদিককার দরজা তো বন্ধ থাকে,” আমি প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করলাম।

“সে তো ঠিকই। কিন্তু প্রত্যেক সিজন টিকিটধারীর কাছেই একটা করে চাবি থাকে। তার মানে, টিকিট না থাকলেও কেউ গার্ডের নজর এড়িয়ে এখানে উঠে পড়তে পারে। এখন তোমাকে ওই ইনফ্লুয়েঞ্জা সম্বন্ধে কিছু বলি শোন। রোগীর গায়ের তাপমাত্রা যখন স্বাভাবিকের থেকে বেশি হয়ে যায়, তখন তার জ্বর হয়। আবার যখন অসুখ সেরে যায়, তখন তার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়েও তিন-চতুর্থাংশ কমে যায়। তুমি ডাক্তার, অতএব আমার ধারণা, তুমি এসব তথ্য জানো।”

আমাকে ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানাতে হল।

“এখন এই যে গায়ের তাপমাত্রা কমে গেল, এর ফলে রোগীর মনে আত্মহত্যার চিন্তা ঢোকে। আর এইসব সময়েই রোগীকে চোখে চোখে রাখতে হয়। এই কাজটা সাধারণত বন্ধুবান্ধবরাই করে। কিন্তু মিঃ ব্যারি কিপসনের বন্ধুবান্ধব তার দিকে মোটেই খেয়াল করেনি। ২১ তারিখটা মনে আছে? মনে নেই? বেশ, আমি মনে করিয়ে দিচ্ছি। সেদিনটা এক্কেবারে দমধরা ছিল। চারদিকে কুয়াশা, রাস্তায় কাদা। মনে পড়ছে? বেশ। সে ঠিক করল আত্মহত্যা করবে। এমনভাবে করবে, যাতে তার পরিচয় গোপন থাকে। মুশকিল হল, লোকটা তার সিজন টিকিটের কথা ভুলে গেছিল। আমার অভিজ্ঞতা বলছে, যখনই কোনও লোক কোনও অপরাধ করতে যায়, সে কিছু না কিছু ভুলে যাবেই।”

“কিন্তু তার টাকাগুলো যে হাপিশ হয়ে গেল, তার কী হবে?”

“টাকাপয়সার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্কই নেই। লোকটা যদি গভীর জলের মাছ হয়, আর তার সঙ্গে জেনে থাকে যে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের লোকগুলো সব মাথামোটা, তাহলে সে এই টাকাগুলো তার কোনও শত্রুকে পাচার করতে চাইবে। আর তা না হলে তার কোনও বন্ধুকেও দিতে পারে। যে লোকটা নিজেকে শেষ করতে চাইছে, তার কাছে রাতের স্কচ এক্সপ্রেস ট্রেনের চেয়ে ভাল আর কিছুই হতে পারে না, আর এই ট্রেন যখন লন্ডনের উত্তরের দিক দিয়ে যায়, তখন বাইরের দৃশ্য দেখে মনে হতেই পারে, এমন চাঁদের আলো, মরে যাই সেও ভালো।”

“ও। তাহলে অস্ত্রটা?”

“এই একটা জিনিসেরই হিসেব মেলাতে পারছি না। একটু ভাবতে হবে।”

মিঃ শার্লো কোম্বস ডানদিকের জানলাটা নামিয়ে এর ওপরের দিকটা ভাল করে পরীক্ষা করতে লাগল একটা আতস কাচ দিয়ে। তারপর একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কাচটা আবার তুলে দিল।

“যা ভেবেছিলাম,” মন্তব্য করল কোম্বস, যত না আমাকে, তার চেয়ে বেশি নিজের মনে।

“জানলার ফ্রেমের ওপর দিকে সামান্য টোল খেয়েছে। কোনও ঘাবড়ে যাওয়া আত্মহত্যাকারীর হাত থেকে ভয়ের চোটে পিস্তল ছিটকে গেলেই এটা সম্ভব। সে জানলা দিয়ে এটাকে ছুঁড়ে ফেলতে গেছিল, কিন্তু পারেনি। এটা ওখানে ধাক্কা খেয়ে মেঝেতে পড়তেও পারত। সেটাও হয়নি। তার মানে এটা ছিটকে লাইন থেকে দশ ফুট ছ ইঞ্চি ঘাসের মধ্যে গিয়ে পড়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই, ঠিক কোন জায়গায় কান্ডটা হয়েছিল, আর লন্ডন থেকে এত দূরে ঠিক কোথায় পিস্তলটা পাওয়া যেতে পারে। তবে এটা এতই সোজা যে আর ব্যাখ্যা করারও দরকার নেই।”

“সাবাস শার্লো, সাবাস!” আমি চেঁচিয়ে উঠলাম, “তবে তোমার কাছে সোজা মনে হলেও আমি তো কিছুই বুঝতে পারলাম না।”

আমাদের ট্রেন এখন ছুটছে লন্ডনের উত্তরের অংশ দিয়ে। গোয়েন্দাপ্রবর চোখ বন্ধ করে হেলান দিয়ে আছে, বোঝাই যাচ্ছে এত চিন্তা ভাবনা বেশ চাপ ফেলছে তার মনে। তারপর সে বলল, “এগুলো একেবারেই প্রাথমিক ব্যাপার, হোয়াটসন, তবে কোনও বন্ধু শুনতে চাইলে তো বলতে হয়ই। কীভাবে কোনও কিছু ধরতে হয়, তার অ-আ-ক-খ-টা জেনে নিলে স্বস্তি পেতাম, তবে এটা ভেবো না যে তোমায় কিছু বলব না। কিপসন যখন ঠিক করেই ফেলেছে যে আত্মহত্যা করবে, তখন সে স্বাভাবিকভাবেই এটা করবে ব্রিউস্টার আসার ঠিক আগেই, কারণ না হলে সেখানে আবার টিকিট পরীক্ষা হতে পারে। পেগ্রামের কাছে সিগনাল না পেয়ে যখন ট্রেনটা দাঁড়িয়ে পড়ছে, তখন সে ভুল করে ভেবেছে এটা ব্রিউস্টারে দাঁড়াচ্ছে। গুলির শব্দ যে শোনা যায়নি, গাড়ির এয়ার-ব্রেক আর নিজস্ব শব্দই তার কারণ। সম্ভবত গাড়ির হুইসিলও একই সময়ে বেজে উঠেছিল। ট্রেনটা যেহেতু খুবই দ্রুতগতির, তাই এটা সিগনালের খুব কাছে গিয়ে দাঁড়াবে, এটাই সম্ভব। এয়ার-ব্রেক একটা ট্রেনের নিজের দৈর্ঘ্যের দ্বিগুণকেও থামাতে পারে। এ ক্ষেত্রে সেটা তিনগুণই ধর। ঠিক আছে? এবার সিগনাল পোস্টের থেকে লন্ডনের দিকে ট্রেনের তিনগুণ দৈর্ঘ্য ধর, তার থেকে অর্ধেক বাদ দাও, যেহেতু এই কামরাটা ট্রেনের ঠিক

মাঝখানে, তুমি পিস্তলটা পেয়ে যাবে।”

“অসাধারণ!” আমি বলে উঠলাম।

“সাধারণ ব্যাপার,” বলল কোম্বস।

সেই মুহূর্তে গাড়ির হুইসিল বেজে উঠল, আর বুঝতে পারলাম এয়ার-ব্রেক কাজ শুরু করেছে।

“পেগ্রাম সিগনাল এসে গেছে,” বলে উঠল কোম্বস, মনে হল যেন বেশ উৎসাহ পেয়ে গেছে। “কী কপাল! আমাদের এখানে নেমে পড়তে হবে, হোয়াটসন, ব্যাপারটা দেখা দরকার।”

ট্রেন থামতেই আমরা ডানদিক দিয়ে নেমে পড়লাম। লাল সিগনালের নীচে দাঁড়িয়ে অধৈর্যভাবে দেখলাম সেটা সবুজ হয়ে গেল। ট্রেনটা যখন ছেড়ে গতি নিচ্ছে, কোম্বস কামরাগুলো গুনে টুকে নিচ্ছিল খাতায়। এখন চারদিক অন্ধকার হয়ে এসেছে, পশ্চিমের আকাশে একফালি চাঁদের ভূতুড়ে আলোয় ধাতব রেলগুলো চকচক করছিল। ট্রেনের পেছনের আলো একটা বাঁক ঘুরে মিলিয়ে গেল, সিগনালটাও রক্তবর্ণ ধারণ করল আবার। এরকম একটা নির্জন জায়গায় দাঁড়িয়ে গা-টা ছমছম করছিল আমার, কিন্তু কোম্বস নির্বিকার। সে সিগনাল পোস্টের পেছন দিক করে লাইন ধরে হাঁটা শুরু করল গুনতে গুনতে। আমিও তার পাশে পাশেই নিঃশব্দে হাঁটতে লাগলাম। এক জায়গায় থেমে, সে পকেট থেকে একটা মাপার ফিতে বার করল। সেখান থেকে পাক খুলে আবছা আলোর মধ্যেও ঠিক ঠিক দশ ফুট ছয় ইঞ্চি ফিতের মাপই বার করে আনল। একটা মাথা আমাকে দিয়ে, আরেকটা মাথা সে ধরে রাখল লাইনের ওপর, তারপর আমাকে বলল অন্য ধারে গিয়ে দাঁড়াতে। আমি ফিতেটা নিয়ে সোজা সেই দূরত্বে গিয়ে স্যাঁতসেঁতে ঘাসের ওপর ফেলেই চেঁচিয়ে উঠলাম। “জয় ভগবান! এটা কি?”

“এটাই সেই পিস্তল,” শান্ত গলায় বলল কোম্বস।

সত্যিই তাই!

পরদিনের ইভনিং ব্লেড কাগজে শার্লো কোম্বসের এই অত্যাশ্চর্য অনুসন্ধানের খবর বিস্তারিতভাবে ছাপা হওয়ার পর গোটা লন্ডন জুড়ে যা উন্মাদনার সৃষ্টি হয়েছিল যে বলার নয়। আমার কাহিনিঃ এখানেই শেষ করতে পারলে খুশি হতাম। কিন্তু তা তো হওয়ার নয়। কোম্বস সেই পিস্তলটা খুবই অবজ্ঞার সঙ্গে জমা দেয় স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে। ওখানকার সবজান্তা অফিসাররা আবার তার থেকে (ঈর্ষা করে, অবশ্যই) বিক্রেতার নামটা বার করে ফেলে। তারপর তারা নিজেরাই অনুসন্ধান চালিয়ে দেখে যে মিঃ কিপসন কস্মিনকালেও এর মালিক ছিলেন না। এটা এমন একজনের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল, যাকে পুলিশ অনেকদিন ধরেই খুঁজছে। তাকে তার সঙ্গী সমেত গ্রেফতার করা হয়। জানা যায় যে মিঃ কিপসনের মতো সাদাসিধে মৃদুভাষী ভদ্রলোক, যিনি সাধারণত ওই কামরাতে একাই ফিরতেন, বাড়ির পথের এক নির্জন গলিতে খুন হন। তাঁর টাকাপয়সা লুটপাট করার পর ক্রিমিনালদের মনে লাশ গুম করার চিন্তা ঢোকে, যেটা সবসময়েই অপরাধ করার পর অপরাধীরা ভেবে থাকে। তারা ঠিক করে লাশ লাইনে ফেলবে, কারণ একটু পরেই স্কচ এক্সপ্রেস আসার কথা, তাহলে লাশ ট্রেনের তলায় পড়ে দু টুকরো হয়ে যাবে। কিন্তু তারা বডি লাইনের কাছাকাছি আনতে না আনতেই ট্রেন এসে যায় এবং সিগনাল না পেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। গার্ড অন্যধার দিয়ে নেমে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলছিল। তক্ষুনি খুনিদের মাথায় ঢোকে কোনও ফার্স্ট ক্লাস কামরায় লাশ ঢুকিয়ে দেওয়ার কথা। তারা কিপসনের চাবি দিয়েই দরজা খুলে ভেতরে ঢোকে। লাশটা মেঝেতে রাখার সময়েই সম্ভবত পিস্তলটা পড়ে গিয়ে গুলি ছুটে যায়।

মহারানির বিচারে অপরাধীদের ফাঁসি হয়। দুঃখের কথা, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড আমার বন্ধু বিখ্যাত ডিটেকটিভ শার্লো কোম্বসকে স্রেফ অপমান করার জন্যই সেই ফাঁসি দেখার জন্য একখানা পাস পাঠিয়ে দিয়েছিল।

------------

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%