অমিত দেবনাথ
এক সন্ধ্যায় শার্লক হোমসের সঙ্গে
স্যার আর্থার কোনান ডয়েল রচিত শার্লক হোমসের প্রথম ছোটগল্প “আ স্ক্যান্ডাল ইন বোহেমিয়া” (A Scandal in Bohemia) প্রথম প্রকাশিত হয় “দি স্ট্র্যান্ড ম্যাগাজিন” (The Strand magazine)-এ, জুলাই, ১৮৯১ সালে। ঠিক তার চার মাস পরেই প্রকাশিত হয় “মাই ইভনিং উইথ শার্লক হোমস” (My Evening with Sherlock Holmes); “দি স্পিকারঃ আ রিভিউ অব পলিটিক্স, লেটার্স, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টস” (The Speaker: A Review of Politics, Letters, Science and the Arts) ম্যাগাজিনে, ২৮ নভেম্বর, ১৮৯১ সালে। এটি লিখেছিলেন প্রখ্যাত স্কটিশ উপন্যাসিক এবং নাট্যকার স্যার জেমস ম্যাথিউ ব্যারি (Sir James Matthew Barrie)(১৮৬০-১৯৩৭), যিনি বিখ্যাত “পিটার প্যান” (Peter Pan) চরিত্রের স্রষ্টা; যদিও পত্রিকায় লেখকের নাম ছিল না। এই গল্পটিকেই শার্লক হোমসের প্রথম প্যারোডি হিসেবে ধরা হয়।
৬ জানুয়ারি, ১৮৯২ সালে স্যার আর্থার কোনান ডয়েল তাঁর মায়ের কাছে এক চিঠিতে লেখেনঃ “...এক ডিনার পার্টিতে গিয়ে জে. এম. ব্যারি, জেরোম কে. জেরোম, ব্যারি পেইন – এদের সঙ্গে দেখা হল। সেখানে আরও অনেকেই ছিল। ...ওখানেই শুনলাম শার্লক হোমসের প্যারোডিটা লিখেছে জে. এম. ব্যারি...”প্রসঙ্গত বলা যায়, স্যার আর্থার কোনান ডয়েল এবং স্যার জেমস ম্যাথিউ ব্যারি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই পরস্পরের বন্ধু ছিলেন এবং তাঁরা দুজনেই সেই সময়কালে, যাকে ভিক্টোরিয়ান এবং এডোয়ার্ডিয়ান যুগ বলা হয় - লেখক হিসেবে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন।
পেগ্রাম রসহ্য
রবার্ট বার (Robert Barr) (১৮৪৯-১৯১২); স্কটল্যান্ড। ঔপন্যাসিক, ছোট-গল্প লেখক এবং সাংবাদিক। তাঁর লেখা “দি ট্রায়াম্ফস অব ইউজিন ভালমন্ট” (The Triumphs of Eug`ene Valmont)(১৯০৬) বিখ্যাত গোয়েন্দা গল্প-সংকলন, যার মধ্যে রয়েছে সর্বকালের অন্যতম সেরা রহস্য-গল্প “দি অ্যাবসেন্ট-মাইন্ডেড কোটেরি” (The Absent-Minded Coterie)। সাহিত্য-ক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম সেরা অবদান “দি আইডলার” (The Idler) (১৮৯২-১৯১১)ম্যাগাজিনটি প্রতিষ্ঠা করা, যার অন্যতম সম্পাদক ছিলেন জেরোম কে. জেরোম (Jerome K. Jerome) এবং যে পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন মার্ক টোয়েন, রাডিয়ার্ড কিপলিং, আর্থার কোনান ডয়েল, ই. ডবলু. হরনাং, এইচ. জি. ওয়েলস এবং বার স্বয়ং। এই পত্রিকায় ছবি আঁকতেন সেকালের স্বনামধন্য সব শিল্পী।
একজন সুদক্ষ প্যারোডিস্ট হিসেবে বার দুবার শার্লক হোমসকে “শিকার” করেছেন, যদিও তাতে তাঁর সঙ্গে কোনান ডয়েলের বন্ধুত্বে বিন্দুমাত্র ভাঁটা পড়েনি। “ডিটেকটিভ স্টোরিজ গন রং: দি অ্যাডভেঞ্চার্স অব শার্লো কোম্বস” (Detective Stories Gone Wrong: The Adventures of Sherlaw Kombs) প্রথম প্রকাশিত হয় “দি আইডলার” ম্যাগাজিনে, ১৮৯২ সালে। রবার্ট বার গল্পটি লিখেছিলেন “লিউক শার্প” (Luke Sharp) ছদ্মনামে। ১৮৯৪ সালে এই গল্পটি “দি গ্রেট পেগ্রাম মিস্ট্রি” (The Great Pegram Mystery) নামে রবার্ট বার রচিত “দি ফেস অ্যান্ড দ্য মাস্ক” (The Face and the Mask) নামক গ্রন্থে সংকলিত হয় এবং তখনই লেখকের প্রকৃত নাম জানা যায়। এই গল্পে গোয়েন্দার নাম শার্লো কোম্বস এবং সহকারীর নাম হোয়াটসন (Whatson)।
গোঁফ চুরি
“দি অ্যাডভেঞ্চার্স অব শাইলক ওমসঃ দ্য সাইন অব গোর” (The Adventures of Shylock Oames: The Sign of Gore) প্যারোডিটি প্রথম প্রকাশিত হয় “দি লাডগেট উইকলি” (The Ludgate Weekly) পত্রিকায়, ১৮৯২ সালে। লেখক এফ. ডব্লিউ. ফ্রিম্যান (F. W. Freeman)। এখানে গোয়েন্দার নাম “শাইলক ওমস” (Shylock Oames) এবং সহকারীর নাম “উইলকিন্স” (Wilkins)।
রক্ত সমীক্ষা
“আ স্টাডি ইন রেড” (A Study in Red) প্রকাশিত হয় “ফান” (Fun) ম্যাগাজিনে, ১৮৯২ সালে। এ. ডোনান কয়েল (A. Donan Coyle) ছদ্মনামে প্যাসটিশটি লিখেছিলেন এ. ডিউয়ার উইলক (A. Dewar Willock)।
বিড়ম্বিত মধুচন্দ্রিমা
“অ্যাডভেঞ্চার অব শেরউড হোকসঃ অ্যান ইন্টারাপটেড হানিমুন” (Adventures of Sherwood Hoakes: An Interrupted Honeymoon) প্যারোডিটি প্রথম প্রকাশিত হয় “দি লাডগেট উইকলি” (The Ludgate Weekly) পত্রিকায়, ১৮৯২ সালে। লেখক চার্লস সি. রথওয়েল (Charles C. Rothwell), লিখেছিলেন “এ. কোন অ্যান্ড অয়েল” (A. Cone and Oil) ছদ্মনামে। এখানে গোয়েন্দার নাম শেরউড হোকস (Sherwood Hoakes), সহকারীর নাম “চেসমোর” (Chasemore)। প্রসঙ্গত, ইংরেজি “Hoax” শব্দটির অর্থ “ধাপ্পাবাজি”। কোনান ডয়েলের শার্লক হোমস থাকতেন বেকার স্ট্রিটে, আর শেরউড হোকসের বাড়ি “বুচার অ্যাভিনিউ”-তে। “বুচার” (Butcher) শব্দের অর্থ “কসাই”!
হলুদ আরশোলা
লেখক চার্লস সি. রথওয়েল (Charles C. Rothwell) রচিত শার্লক হোমসের দ্বিতীয় প্যারোডি - “অ্যাডভেঞ্চার অব শেরউড হোকসঃ দ্য ইয়েলো ককরোচ” (Adventures of Sherwood Hoakes: The Yellow Cockroach) প্রথম প্রকাশিত হয় “দি লাডগেট উইকলি” (The Ludgate Weekly) পত্রিকায়, ১৮৯২ সালে। রথওয়েল এটি লিখেছিলেন “এ. কোন অ্যান্ড অয়েল” (A. Cone and Oil) ছদ্মনামে।
ফাঁদে পড়লেন বিশপ
ইংরেজ লেখক রাডল্ফ চেম্বারস লেম্যান (Rudolf Chambers Lehmann) (১৮৫৬-১৯২৯)-কে একটিমাত্র পরিচয়ে বোঝা সম্ভব নয়। তিনি ছিলেন একজন সুদক্ষ নৌচালক, টানা বারো বছর(১৮৭৭-১৮৮৮) অংশ নিয়েছিলেন হেনলি রয়্যাল রেগাট্টা (Henley Royal Regatta) নামক বার্ষিক নৌচালন প্রতিযোগিতায়, যেটি অনুষ্ঠিত হত টেমস নদীর ওপরে এবং এই অভিজ্ঞতা থেকেই পরে তিনি লেখেন “দি কমপ্লিট ওরসম্যান”(The Complete Oarsman) (১৯০৮), যেটি বহু বছর ধরে নৌচালনার ওপর লেখা প্রামাণ্য পুস্তক বলে গৃহীত হত। ১৮৯১-১৯০৩ সালের মধ্যে তিনি অক্সফোর্ড, কেম্ব্রিজ, ট্রিনিটি(ডাবলিন) এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির নৌ-প্রশিক্ষক ছিলেন। তিনি ছিলেন আইনজ্ঞ, বাকিংহামশায়ার-এর হাই শেরিফ এবং লিবারাল পার্টির হয়ে ১৯০৬-১৯১০ পর্যন্ত পার্লামেন্টের সাংসদ। কিন্তু আজকের দিনে তাঁকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করা হয় তাঁর সাহিত্যকীর্তির জন্য।
১৮৮৯ সালে কেম্ব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় তিনি ছিলেন “গ্রান্টা”(Granta) পত্রিকার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং সহ-সম্পাদক, যে পত্রিকাটি আজ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়ে চলেছে। সেই বছরই বিখ্যাত “পাঞ্চ”(Punch) পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম লেখা। ১৯১৯ সাল পর্যন্ত তিনি এখানকার নিয়মিত লেখক ছিলেন। এই পত্রিকাতেই তাঁর লেখা শার্লক হোমসকে নিয়ে প্রথম প্যারোডি সিরিজ - “দি অ্যাডভেঞ্চার অব পিকলক হোলস”(The Adventure of Picklock Holes) প্রকাশিত হয় ১৮৯৩-১৮৯৪ সালে, যেখানে ছিল আটটি গল্প। এর পর ১৯০৩-১৯০৪ সালে তিনি পিকলক হোলসকে নিয়ে লেখেন আরও আটটি গল্প – পিকলক-এর প্রত্যাবর্তন হিসেবে – যে সিরিজের নাম ছিল “পিকি ব্যাক”(Picky Back)। ১৯১৮ সালে তিনি লেখেন এই সিরিজের শেষ গল্প – “হিজ ফাইনাল অ্যারো” (His Final Arrow)। এই গল্পগুলোতে পিকলকের সহকারীর নাম “পটসন”(Potson)।
পাঞ্চ ম্যাগাজিনে পিকলক হোলসের প্রথম সিরিজ প্রকাশের সময় লেখকের নাম ছিল “কানিন টয়েল”(Cunnin Toil), যেটির উচ্চারণ “কোনান ডয়েল”(Conan Doyle)-এর প্রায় কাছাকাছি। ১৯০১ সালে “দি অ্যাডভেঞ্চার অব পিকলক হোলস” গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময়ই প্রথম লেখকের নাম জানা যায় – আর. সি. লেম্যান! “দি বিশপ”স ক্রাইম” (The Bishop”s Crime); “দি অ্যাডভেঞ্চার অব পিকলক লস” সিরিজের প্রথম গল্প; প্রথম প্রকাশঃ “পাঞ্চ” (Punch); ১৮৯৩।
আমব্রোসা চুরির মামলা
“দি আমব্রোসা বার্গলারি” (The Umbrosa Burglary); “দি অ্যাডভেঞ্চার অব পিকলক হোলস” সিরিজের ষষ্ঠ গল্প; প্রথম প্রকাশঃ “পাঞ্চ” (Punch); ১৮৯৩ ।
শার্লক হোমসের মৃত্যুরহস্য
স্যার জেমস এম. ব্যারি, ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন খর্বকায় এবং অত্যন্ত অন্তর্মুখী স্বভাবের মানুষ। বিপরীতদিকে, কোনান ডয়েল ছিলেন একজন স্পোর্টসম্যান – স্কি করতে ভালবাসতেন এবং বক্সিং ও ক্রিকেটে ছিলেন খুবই দক্ষ। ব্যারি এবং কোনান ডয়েল, তাঁদের অন্যান্য বন্ধু – যেমন পি.জি.উডহাউজ, জেরোম কে. জেরোম প্রমুখ মিলে একটি ক্রিকেট ক্লাব তৈরি করেছিলেন, যার নাম ছিল আলাহাকব্যারিস (Allahakbarries)। এই ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে একমাত্র কোনান ডয়েলই ঠিকঠাক ক্রিকেট খেলতে পারতেন। কোনান ডয়েলের সঙ্গে এই রকম বন্ধুত্বের কারণেই ব্যারি শার্লক হোমসকে নিয়ে তিনটি প্যারডি লিখেছিলেন, যার মধ্যে দুটি ছিল অজ্ঞাতনামা।
“দি লেট শার্লক হোমস” (The Late Sherlock Holmes) প্রথম প্রকাশিত হয় “দি সেন্ট জেমস”স গেজেট” (The St. James Gazette) নামক সান্ধ্য দৈনিকে এবং অজ্ঞাতনামে, ১৮৯৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর। পরে এটি ব্যারির “মাই ইভনিং উইথ শার্লক হোমস” (My Evening with Sherlock Holmes) গল্প-সংকলনে সংকলিত হয়। প্রসঙ্গত, কোনান ডয়েল রচিত “দি ফাইনাল প্রবলেম” (The Final Problem) গল্পে হোমস এবং প্রফেসর মরিয়ার্টির মধ্যে চরম সংঘর্ষে মৃত্যু হয় দুজনেরই। এই গল্পটি প্রকাশিত হয় “দি স্ট্র্যান্ড ম্যাগাজিন”-এ, ১৮৯৩ সালের ডিসেম্বর সংখ্যায়।
“৪০০”র চিহ্ন
রয় লারকম ম্যাককারডেল (Roy Larcom McCardell)(১৮৭০-১৯৪০); আমেরিকা। সাংবাদিক, লেখক, রস-সাহিত্যিক এবং চিত্রনাট্য-লেখক। লেখালেখির শুরু বারো বছর বয়সেই। আমেরিকার প্রথম সফল ব্যঙ্গ-পত্রিকা “পাক” (Puck)-এ যোগদান করেছিলেন কর্মচারী হিসেবে। বহু সংবাদপত্র এবং ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে “নিউ ইয়র্ক মর্নিং টেলিগ্রাফ”(New York Morning Telegraph) এবং “মেট্রোপলিটন ম্যাগাজিন” (Metropolitan Magazine)।
১৮৯০ সালে তিনি “নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ড”(New York World) সংবাদপত্রের কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি রবিবার একটি করে রঙিন কমিক ক্রোড়পত্র বার করার প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাব অচিরেই গৃহীত হয় “দি ইয়েলো কিড”(The Yellow Kid) কমিকের মাধ্যমে। এই কমিক স্ট্রিপের অনুসরণেই হলুদ সাংবাদিকতার (Yellow Journalism) সূচনা হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এই কমিক স্ট্রিপের জন্যই “নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ড”-এর বিক্রি ১,৪০,০০০ থেকে বেড়ে ৮,০০,০০০ হয়েছিল ছ মাসের মধ্যেই।
ম্যাককারডেলই প্রথম বেতনভোগী কর্মচারী হিসেবে কোনও চলচ্চিত্র স্টুডিয়োতে যোগ দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীকালে এক হাজারের ওপর চিত্রনাট্য লিখেছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে “আ ফুল দেয়ার ওয়াজ” (A Fool There Was)।
“দি সাইন অব দ্য “৪০০”: বিইং আ কন্ট্রিবিউশন অব দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব শার্লক হোমস” (The Sign of the “400”: Being a Contribution of the Adventures of Sherlock Holmes) প্রথম প্রকাশিত হয় “পাক” ম্যাগাজিনে, ২৪ অক্টোবর, ১৮৯৪ সালে, যেটি শার্লক হোমসের ওপর কোনও আমেরিকানের লেখা প্রথম প্যাসটিশ; যদিও দীর্ঘদিন ধরে মনে করা হত এটি লিখেছেন আরেক দিকপাল হিউমারিস্ট এবং “পাক” ম্যাগাজিনের সম্পাদক রিচার্ড কেনডাল মানকিটট্রিক(Richard Kendall Munkittrick)। প্রসঙ্গত, কোনান ডয়েল রচিত “দি সাইন অব দ্য ফোর” উপন্যাসটি “লিপিনকট”স মান্থলি ম্যাগাজিন”-এ প্রকাশিত হয় ১৮৯০ সালে।
টেবিল-পায়ার অভিযান
“দি অ্যাডভেঞ্চার অব দ্য টেবল ফুট” (The Adventure of the Table Foot) প্যারোডিটি প্রকাশিত হয় “দি বোহেমিয়ান ম্যাগাজিন” (The Bohemian Magazine)-এ, ১৮৯৪ সালে। লেখক ছিলেন অ্যালান র্যামসে (Allan Ramsay), লিখেছিলেন “জিরো” (Zero) ছদ্মনামে। এখানে গোয়েন্দার নাম থিনলক বোনস (Thinlock Bones), সহকারী হোয়াটসোনেম (Whatsoname)।
বৃদ্ধ হলেন শার্লক হোম্স্
“দি ওল্ড এজ অব হোমস” (The Old Age of Holmes) শার্লক হোমসের একটি আমেরিকান প্যাসটিশ। চার্লস ডব্লিউ. হুক (Charles W. Hooke); লিখেছিলেন হাওয়ার্ড ফিল্ডিং (Howard Fielding) ছদ্মনামে। আমেরিকার বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রথম প্রকাশ ২ ডিসেম্বর, ১৮৯৪।
আমেরিকায় শার্লক হোম্স্
“সল্ভ্ড বাই শার্লক হোমস” (Solved by Sherlock Holmes) প্রথম প্রকাশিত হয় ওয়াশিংটন ডি.সি. থেকে প্রকাশিত “দি ইভনিং স্টার” (The Evening Star) সংবাদপত্রে, ১৮৯৫ সালে। লেখকের নাম জানা যায়নি।
চোরাই চুরুট বাক্স
ফ্র্যান্সিস ব্রেট হার্ট (Francis Brett Harte) (১৮৩৬-১৯০২); আমেরিকা। ক্যালিফোর্নিয়ায় যখন সোনার খোঁজ চলছিল (California Gold Rush)(১৮৪৮-১৮৫৫), সেই সময় হার্ট পশ্চিম আমেরিকার এক নিখুঁত চিত্র ফুটিয়ে তুলেছিলেন ১৮৬৯ সালে লেখা “দি আউটকাস্টস অব দ্য পোকার ফ্ল্যাট” (The Outcasts of the Poker Flat) গল্পে, যেটির ওপর ভিত্তি করে অনেক চলচ্চিত্র এবং অপেরা তৈরি হয়েছে। “দি লাক অব রোরিং ক্যাম্প” (The Luck of Roaring Camp)(১৮৬৮) গল্পটি তাঁকে দেশজোড়া খ্যাতির সঙ্গে সঙ্গে প্রভূত সম্পদেরও অধিকারী করে তোলে, যদিও এই সাফল্য বেশিদিন স্থায়ী হয়নি, কারণ তারপরেও তিনি নিয়মিত লিখলেও সেই লেখা আমেরিকাতে আর সাড়া ফেলতে পারেনি। ১৮৮৫ সালে হার্ট ইংল্যান্ডে চলে আসেন। একই ধাঁচের যে গল্পগুলো আমেরিকায় একঘেয়ে হয়ে গেছিল, সেগুলো ইংল্যান্ডে যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়। তিনি আর আমেরিকায় ফিরে যাননি, মৃত্যু হয় লন্ডনে।
আত্মজীবনীতে আর্থার কোনান ডয়েল স্বীকার করেছিলেন, তাঁর প্রথম দিকের বেশ কিছু ছোট গল্পে – যেমন “দি মিস্ট্রি অব সাসাসা ভ্যালি” (The Mystery of Sasasa Valley)(১৮৭৯) এবং “দি আমেরিকান”স টেল” (The American”s Tale ) (১৮৮০) – ব্রেট হার্টের প্রভাব পড়েছে। এবং আশ্চর্যজনকভাবে, “দি অ্যাডভেঞ্চার অব দ্য নোবল ব্যাচেলর” (The Adventure of the Noble Bachelor)(১৮৯২) গল্পটিতে হার্টের লেখা কবিতা “হার লেটার” (Her Letter) –এর চমকপ্রদ ছাপ রয়েছে।
“দি স্টোলেন সিগার-কেস” (The Stolen Cigar-Case) প্যারোডিটি প্রথম প্রকাশিত হয় “পিয়ারসন”স ম্যাগাজিন “(Pearson”s Magazine)-এ, ১৯০০ সালের ডিসেম্বর সংখ্যায়। ব্রেট হার্ট এটি লিখেছিলেন “এ. কো--ন ড--ল (A. CO--N D--LE) ছদ্মনামে। এখানে গোয়েন্দার নাম হেমলক জোনস (Hemlock Jones), সহকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
বহু হোমস বিশেষজ্ঞ, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন এলারি কুইন (Ellery Queen), এই গল্পটিকে সর্বশ্রেষ্ঠ শার্লক হোমস প্যারোডি বলে উল্লেখ করেছেন।
হারানো চিঠি
আমেরিকার বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং জনপ্রিয় রসসাহিত্যিক ওপি রিড(Opie Read)(১৮৫২-১৯৩৯) রচিত “দি মিসিং লেটার”(The Missing Letter) নামের এই শার্লক হোমস প্যারোডিটি প্রথম প্রকাশিত হয় অস্ট্রেলিয়ার “দি রিভারিনা রেকর্ডার” (The Riverina Recorder) সংবাদপত্রে, ৩১ অক্টোবর, ১৯০০ সালে। এখানে ডিটেকটিভের নাম হেমলক জোনস (Hemlock Jones), সহকারী অনুপস্থিত।
গৃহকর্তা শার্লক হোম্স্
“শার্লক হোমস অন দ্য ডোমেস্টিক হার্থ” (Sherlock Holmes on the Domestic Hearth) প্রথম প্রকাশিত হয় ব্রিটিশ ম্যাগাজিন “দি টাটলার” (The Tatler)-এ, ১৯০১ সালে। লেখকের নাম জানা যায়নি। শার্লক হোমস এখানে স্ত্রী পুত্র নিয়ে জমিয়ে সংসার করছেন!
ব্যাক্সটন-স্মাইথের অন্তর্ধান রহস্য
স্যার পেলহ্যাম গ্রেনভিল উডহাউজ (Sir Pelham Grenville Wodehouse) (১৮৮১-১৯৭৫)। জন্ম ইংল্যান্ডে, ১৯৫৫ সালে আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেন। বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা এবং জনপ্রিয় রস সাহিত্যিক। প্রথম জীবনে ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন। পরে চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি লেখার জগতে চলে আসেন। লিখেছেন উপন্যাস, ছোট গল্প, কবিতা, নাটক এবং চিত্রনাট্য।
আজীবন কোনান ডয়েলের ভক্ত ছিলেন। ১৯০৩-১৯১২ সালের মধ্যে তিনি কোনান ডয়েলের সঙ্গে ক্রিকেট ম্যাচ খেলতেন “অথর”স টিম”-এর হয়ে, যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আরেক দিকপাল লেখক জে. এম. ব্যারি। উডহাউজ শার্লক হোমসকে নিয়ে বেশ কিছু গল্প ও কবিতা লিখেছেন। “দি স্ট্রেঞ্জ ডিস্যাপিয়ারেন্স অব মিঃ বাক্সটন-স্মাইথ” (The Strange Disappearance of Mr. Buxton-Smythe) প্যারোডিটি প্রথম প্রকাশিত হয় “পাবলিক স্কুল ম্যাগাজিন” (Public School Magazine)-এ, ১৯০১ সালে। এখানে গোয়েন্দা বারডক রোস (Burdock Rose) এবং তার সহকারীর নাম ডাঃ ওয়াটসিং (Dr. Wotsing)। এই প্যারোডিটির মেজাজ একেবারেই অন্যরকম।
দি অ্যাডভেঞ্চার অব দি স্প্লিট ইনফিনিটিভ
স্যার পেলহ্যাম গ্রেনভিল উডহাউজ-এর “দি অ্যাডভেঞ্চার অব দ্য স্প্লিট ইনফিনিটিভ” প্যারোডিটি প্রথম প্রকাশিত হয় “পাবলিক স্কুল ম্যাগাজিন” (Public School Magazine)-এ, ১৯০২ সালে।
শার্লক হোম্স, ফিরে এলেন?
অ্যালান আলেকজান্ডার মিল্ন (Alan Alexander Milne) (১৮৮২-১৯৫৬); ইংল্যান্ড। কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার, সাংবাদিক এবং যোদ্ধা। ব্রিটিশ সেনাবাহিনির হয়ে দুটি বিশ্বযুদ্ধেই অংশ নিয়েছিলেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অঙ্ক নিয়ে পড়াশোনা করে ডিগ্রি পান ১৯০৩ সালে। পরে সাংবাদিকতা শুরু করেন এবং পাঞ্চ (Punch) ম্যাগাজিনের সহকারী সম্পাদক হন (১৯০৬-১৯১৪)। তাঁর সৃষ্ট দুটি চরিত্র ক্রিস্টোফার রবিন (Christopher Robin) এবং টেডি বিয়ার উইনি দ্য পু (Winnie-the-Pooh) বিশ্ব শিশুসাহিত্যের অন্যতম সেরা সম্পদ, যেগুলো তিনি লিখেছিলেন তাঁর ছেলের জন্য। রহস্য কাহিনির লেখক না হলেও তিনি “দি রেড হাউস মিস্ট্রি” (The Red House Mystery)(১৯২২) নামক একটি গোয়েন্দা উপন্যাস লিখেছিলেন, যেটি বহু সমালোচকের মতে বিশ্বের তিনটি সেরা রহস্য উপন্যাসের একটি।
তাঁর আত্মজীবনী “ইট’স টু লেট নাউ: দ্য অটোবায়োগ্রাফি অব আ রাইটার” (It”s Too Late Now: the
Autobiography of a Writer)-তে “দি রেপ অব দ্য শার্লকঃ বিইং দ্য ওনলি ট্রু ভার্সন অব হোমস”স অ্যাডভেঞ্চারস” (The Rape of the Sherlock: Being the Only True Version of Holmes”s Adventures)(১৯৩৯) লেখাটিকে মিল্ন তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এই লেখাটি প্রথম জমা দিয়েছিলেন “পাঞ্চ” ম্যাগাজিনে, কিন্তু সেখানে লেখাটি মনোনীত হয়নি। পরে তিনি এটি লন্ডনের “ভ্যানিটি ফেয়ার” (Vanity Fair) ম্যাগাজিনে পাঠান এবং সেখানে এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে। মিল্ন তাঁর চোখে শার্লক হোমসকে কিভাবে দেখেছিলেন, সেটি দেখার জন্যই এই গল্পটি এই সংকলনে রাখা হল, যদিও এটি তাঁর একেবারেই প্রথম দিকের লেখা।
শার্লক হোম্স্ চমৎকার
“সাম শার্লক হোমস ডোপ” (Some Sherlock Holmes Dope) একটি আমেরিকান প্যাসটিশ। লেখক অজ্ঞাত। প্রথম প্রকাশ – দি মিলওয়াকি সেন্টিনেল (The Milwaukee Sentinel), দি সল্ট লেক হেরাল্ড (The Salt Lake Herald) এবং “আলবুকার্ক উইকলি সিটিজেন” (Albuquerque Weekly Citizen), ১৯০৪।
শামরক জোনসের অভিযান
আমেরিকান লেখক উইলিয়াম সিডনি পোর্টার (William Sydney Porter) – ও. হেনরি (O. Henry) নামেই বেশি পরিচিত – যিনি সারাজীবনে একটিও উপন্যাস লেখেননি, কিন্তু বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়েছেন ছোট-গল্পের জন্য, যার মূল চরিত্র ছিল বিশেষত নিউ ইয়র্ক শহরের সাধারণ মানুষ এবং যেগুলো বেশির ভাগই শেষ হয়েছে চমকপ্রদভাবে। প্রথম জীবনে বহু ধরণের পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কাকার ওষুধের দোকানের কর্মচারী, টেক্সাসের র্যাঞ্চ কর্মী, টেক্সাসেরই জেনারেল ল্যান্ড অফিসের ড্রাফটসম্যান এবং শেষে অস্টিনের ফার্স্ট ন্যাশনাল ব্যাংক (First National Bank)-এ টেলারের চাকরি, ১৮৯১ সালে। ব্যাংকের চাকরির সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ১৮৯৪ সালে “দি রোলিং স্টোন” (The Rolling Stone) নামে একটি ব্যঙ্গ-পত্রিকা চালু করেন, কিন্তু সেটি সাফল্য পায়নি। ১৮৯৬ সালে তিনি ব্যাংকের টাকা তছরুপের দায়ে অভিযুক্ত হন এবং তাঁর চাকরি যায়, কিন্তু তখন তিনি কোনও সাজা পাননি। এই সময় “হাডসন পোস্ট” (Hudson Post)-এ তিনি সাংবাদিক, কলামনিস্ট এবং কার্টুনিস্ট হিসেবে যোগ দেন। ১৮৯৮ সালে তাঁর কারাদন্ড হয়। জেলে থাকার সময় তিনি সময় কাটানোর জন্য এক সহৃদয় কারারক্ষীর নাম ছদ্মনাম হিসেবে গ্রহণ করে ছোট-গল্প লেখা শুরু করেন, যেগুলো বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে এবং তিন বছর তিন মাস পরে যখন জেল থেকে বেরোন, তখন তিনি উইলিয়াম সিডনি পোর্টার থেকে বদলে গেছেন ও. হেনরি-তে। শার্লক হোমসকে নিয়ে হেনরি তিনটি গল্প লিখেছেন, যদিও তাঁর গোয়েন্দার নাম “শামরক জোনস” (Shamrock Jolnes) এবং সহকারী “হোয়াটসাপ” (Whatsup)। “দি অ্যাডভেঞ্চার অব শামরক জোনস” (The Adventure of Shamrock Jolnes) প্রথম প্রকাশিত হয় “নিউ ইয়র্ক সানডে ওয়ার্ল্ড -এ ১৯০৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, যেখানে তিনি ১৯০৩-১৯০৬ সাল পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে একটি করে গল্প লিখতেন।
দুই গোয়েন্দা
শার্লক হোমসকে নিয়ে ও হেনরি যে তিনটি গল্প লিখেছেন, তার মধ্যে “দি স্লুথস” (The Sleuths) প্রথম প্রকাশিত হয় “নিউ ইয়র্ক সানডে ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন” (New York Sunday World Magazine)-এ ১৯০৪ সালের ২৩ অক্টোবর।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন