সপ্তদশ অধ্যায়

শ্রীজাত

যুদ্ধে যেও না তুমি আর

প্রিয়, যুদ্ধে যেও না তুমি আর

আপেলগাছের সারি জেগে আছে একা ওই

পাতা ফেলে চলেছে চিনার

যুদ্ধে যেও না তুমি আর

প্রিয়, যুদ্ধে যেও না তুমি আর

আমারও রুমাল ছিল স্মরণের গন্ধে

চোখে ছিল বারুদের ঘ্রাণ

কীভাবে তফাত করি ভাল আর মন্দে

কবরের পাশেই বাগান

রুটির ঝুড়িতে আজও খিদে ছুটে আসে তাই

হক চাই গমের দানার

যুদ্ধে যেও না তুমি আর

তবু, যুদ্ধে যেও না তুমি আর

একা-একা থাকা এই কাঠের বারান্দায়

শীতঘুম আমার বালিশ

বাতাস পালিয়ে আসে খবরের ধান্দায়

পাখি দেয় বিষাদের শিস

জানি যে হবে না দেখা, আশায়-আশায় তবু

কাছে পেতে চাই বারেবার

যুদ্ধে যেও না তুমি আর

প্রিয়, যুদ্ধে যেও না তুমি আর

পরদিন দুপুরে অরণ্যের পথে পাতা মাড়িয়ে হাঁটতে-হাঁটতে এই গানখানা শুনতে পাচ্ছিল ভিনদেশি। ভারী মিষ্টি আর অল্প চেনা একটা গলা, দূর থেকে কুয়াশা কেটে-কেটে ভেসে এসে পৌঁছচ্ছে তার কানে। এদিন অবশ্য সে আর আপন খেয়ালে বেড়াচ্ছে না, বরং তার ধরাবাঁধা কাজ রয়েছে একটা, তার দিকেই পায়ে-পায়ে এগোচ্ছে সে। তেজী আর কালো ঘোড়া তার সঙ্গেই হাঁটছে, কাছাকাছি দূরত্বের মধ্যে যাওয়ার হলে ভিনদেশি ঘোড়া চড়ে না মোটেই। তাতে একটু চারপাশটা দেখা হয়, আর বেচারি ঘোড়াও আরাম পায় একটু।

আজ ভিনদেশিকে দুপুর গড়ানোর আগে পৌঁছতেই হত অরণ্যের শেষপ্রান্তে, রাজকন্যার কাছে, কাঠের ছোট্ট কুঠিতে। কথা দেওয়া আছে, আজ তার স্মৃতি বিনিময় করে দিতে হবে। সন্ধের আগেই কাজটা শেষ করতে চায় ভিনদেশি, তাতে ফের অরণ্য পেরিয়ে নিজের অস্থায়ী ডেরায় ফিরতে সুবিধে হবে, যেটা সে পেতেছে বাজার অঞ্চলের পিছন দিকটায়। যদিও চারপাশের যা অবস্থা, অপরিচিতের ডেরা দেখতে পেলে রাজপেয়াদারা যে কী করবে, তার ঠিক নেই কোনও।

কাঠের বাড়ির কাছাকাছি গিয়ে সে থমকে গেল কিছুটা। ভিনদেশি দেখতে পেল, কাঠের বারান্দায়, খালি পায়ে পায়চারি করতে-করতে রাজকন্যা গাইছে এই গান। তার কণ্ঠস্বরে, তার চাহনিতে, তার ধীর পায়চারিতে আর এই গানের সুরে সব মিলিয়ে এমন একখানা বিষণ্ণতা পাক খেয়ে বেড়াচ্ছে, যা এই অরণ্যের কুয়াশাকেও হার মানাতে পারে সহজেই। এরকম দৃশ্যের সামনে উড়ন্ত পাতাও বাতাসে স্থির হয়ে যেতে পারে, ভিনদেশি তো মানুষ মাত্র। সে দাঁড়িয়ে গেল কাঠের কুঠি থেকে একটু দূরে, যতক্ষণ না শেষ হয় রাজকন্যার এই উদাসী গান গাওয়া। মনের দুঃখে আছে বেচারি, ভাবল ভিনদেশি। নেহাত বিপ্লবীকে ভালবেসে ফেলেছে বড্ড, আর তার চাইতেও ভালবেসে ফেলেছে এই জেহাদকে। তাই তার না আছে বাঁচার টান, না আছে মরবার জো। এই দুয়ের মাঝেখানেই যেন পায়চারি করছে রাজকন্যা।

ভেবে মনটা একটু মিইয়েই গেল ভিনদেশিরও। বহুদিন সে এমন দুঃখী মানুষের সঙ্গে মেশেনি কাছ থেকে। রাজকন্যার সঙ্গেও তার একদিনেরই তো আলাপ। কিন্তু তাইতেই তাকে কেমন যেন বন্ধু মনে হয়েছে। মাটির উপর পা মেলে দাঁড়ানো শক্ত মানুষ মনে হয়েছে, আবার তুলোর উপর ঘুম পাড়িয়ে রাখা নরম পুতুলও মনে হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই রাজকীয় মনে হয়নি। সত্যি বলতে কী, আগের রাতটুকু খোলা আকাশের নীচে শুয়ে-শুয়ে ভেবেওছে ভিনদেশি, এমন মানুষ বেশ বিরল, যেমনটা কিনা এ-রাজ্যের রাজকন্যা। সেই মানুষটাই এতখানি দুঃখ মনে বয়ে বেড়াচ্ছে, এটা ভেবে খারাপ তো লাগছিলই, আজ রাজকন্যার এই আলুথালু গান-গেয়ে-ওঠা চেহারা দেখে আরওই খারাপ হয়ে গেল ভিনদেশির মন।

“তোমার দুই সহচরী আজ কোথায় গেল? তাদের যে দেখছি না?” কাঠের কুঠির সামনে মোতায়েন প্রহরীদের তল্লাশি পার হয়ে, পাশের একখানা চিনার গাছের গুঁড়িতে ঘোড়া বেঁধে কেঠো সিঁড়ি দিয়ে উঠতে-উঠতে রাজকন্যার উদ্দেশে প্রশ্নটা করল ভিনদেশি।

তাকে উঠে আসতে দেখে শুকনো আর নিরুপায় একটা হাসি ফুটল রাজকন্যার মুখে, তারপর সে জবাব দিল, “কত করে বললাম তাদের, আজ তুমি আসছ, আপ্যায়নের জন্য একটু থেকে যেতে। তা ওদের দু’জনের নাকি কী একটা খুব জরুরি কাজ আছে, তাই এই একটু আগে উড়ে গেল। দুটোই উড়নচণ্ডী, ওদের আটকায় সাধ্য কার।”

ভিনদেশি বলল, “আপ্যায়নের কিছুই নেই। আমি তো এসেছি তোমার কাজ করতে। তুমি নিশ্চিত তো, তুমি স্মৃতি বিনিময় করতেই চাও? ভাল করে ভেবে বলো রাজকন্যা।”

রাজকন্যা ঘরের দিকে যেতে-যেতে বলল, “আমি নিশ্চিত ভিনদেশি, আমি চাই। পূর্ণিমার আর দু’রাত। পরশু ভোরের আলো ফুটলেই বিপ্লবীকে মেরে ফেলা হবে। তারপর আমার এ-জীবনের কোনও দাম থাকবে কি না, তা আমি এখনও জানি না। কিন্তু এটুকু জানি, তার পরও যদি থাকি বেঁচে, তা হলে মৃত্যু অবধি বিপ্লবীর এই পরিণতির স্মৃতির ভার আমাকে বয়ে বেড়াতেই হবে। বইব। বেঁচে থাকলে সেটাই হবে আমার দায়। কিন্তু তার বেশি আর কিছু মনে রাখতে চাই না যে। ছোটবেলার ওই বন্ধুটির স্মৃতি আজও আমার মন খুব ভারী করে দেয়। আমি যাদেরই ভালবেসেছি, তারাই যে কেন ছেড়ে চলে যায়, জানি না। কিন্তু আমারও সময় এসেছে, পিছুটান ছাড়ানোর।”

একখানা কথা জিজ্ঞেস করা উচিত কি না ভাবতে-ভাবতে, করেই ফেলল ভিনদেশি। সে বলল, “পূর্ণিমার সকালে কি তা হলে ফাঁসি হবে বিপ্লবীর?”

অন্য কেউ হলে এ-প্রশ্নে আরও মুষড়ে পড়ত। কিন্তু ভিনদেশি জানে, এর ওজন বইবার মতো শক্ত মন আছে রাজকন্যার। উত্তরে রাজকন্যা বলল, “নাহ, ফাঁসি হলে তো হত একরকম। ফাঁসির নিয়ম নেই। কিন্তু তার মৃত্যু হবে ভারী ভয়াবহ, আর যন্ত্রণাদায়ক। রাজদ্রোহীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বা ধাতব অস্ত্রের আঘাতে মারা যাবে না কখনও, এটাই নিয়ম। কেবল এই রাজ্যে নয়, আশপাশের বাকি রাজ্যগুলোতেও তাই। বহু যুগ আগে পাশের রাজ্যের কোনও একটিতে নাকি এক রাজদ্রোহীকে ফাঁসি দিয়ে এবং অন্য এক রাজদ্রোহীকে বল্লমে গেঁথে মেরে ফেলা হয়েছিল। তারপর টানা এক বছরের বন্যা আসে, বহু মানুষ ভেসে যায়, ফসল নষ্ট হয় অনেক। সেই থেকে এই সাত রাজ্যের অলিখিত নিয়ম, রাজদ্রোহী যদি হয় কেউ, তার মৃত্যু হবে পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত হতে-হতে। অতএব, সেদিন সকালে বিপ্লবীর সারা শরীর ভরে উঠবে ক্ষতে আর রক্তে, যতক্ষণ না তার প্রাণ যায়। অরণ্যের মাঝখানে যে-নদী বয়ে যায়, তার সাদা বালির চরেই হবে এসব। ওখানে নদীর পাড় বরাবর অনেক পাথর আছে, যা এই অরণ্য বা উপত্যকার অন্য কোথাও এত পরিমাণে নেই। যতদূর জানি, ওখানেই পাথর ছুড়ে মেরে ফেলা হবে বিপ্লবীকে।”

ভিনদেশি আর রাজকন্যা ততক্ষণে তাদের বাইরের ঘরে এসে দাঁড়িয়েছে। ঘষা কাচের চৌকো জানলায় সাধারণ খেসের পর্দা, কাঠের মেঝেয় ধুলোর উপর ইতস্তত পায়ের ছাপ, দেয়ালে মাকড়সার শান্ত আনাগোনা। অথচ রাজকন্যাকে এখানেও বেমানান লাগছে না একটুও, ভাবল ভিনদেশি। কথার পিঠে কথা এনে সে বলল, “তুমি মরবে না। সবাইকে একসঙ্গে মরে যেতে নেই। তা হলে কাজ থমকে যায়। আমি ভিনদেশি মানুষ, আজ এখানে আছি, কালই অন্য কোথাও পাড়ি দেবো। তাই তোমাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলা আমাকে মানায় না। কেবল জেনো, ভালবাসলে দুঃখ বহন করার দায়িত্ব তৈরি হয়। আর তৈরি হয় একা থাকার সাহস। এ দুটোই তোমার চোখে দেখতে পাওয়া যায় রাজকন্যা। বিপ্লবী চলে যাবে হয়তো। তার কাজ তোমার মধ্যে দিয়ে বেঁচে থাকুক, এটাই চাইব।”

রাজকন্যা এ-কথার কোনও জবাব না দিয়ে একখানা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, ঘরের মধ্যে শুকনো পাতা থাকলে যার আঘাতে উড়ে যেত নিশ্চিত।

“একবার মুছে ফেললে কিন্তু সেই স্মৃতি আর কোনওদিন ফিরে আসবে না। পরে এ নিয়ে আক্ষেপ করবে না তো?” রাজকন্যাকে ঘরের মাঝখানে রাখা একখানা দোলনকেদারায় বসাতে-বসাতে প্রশ্নটা করল ভিনদেশি। কাজের সময় অন্য মানুষটি সামনে বসে থাকলে সুবিধে হয়। তাতে তার পিছনে দাঁড়িয়ে মাথার দু’পাশে আঙুল বোলাতে কোনও অস্বাচ্ছন্দ্য নেই।

রাজকন্যা বলল, “উঁহু, আক্ষেপ করার মতো অনেক বিষয় আছে আমার কাছে। এ নিয়ে আক্ষেপ হবে না। তুমি শুরু করো। মনে আছে তো, এর বদলে আমি কোন স্মৃতি চেয়েছিলাম?”

ভিনদেশি বলল, “সমুদ্র তো?”

রাজকন্যা বলল, “সমুদ্র।”

ভিনদেশি রাজকন্যার শুকনো এলোমেলো চুলগুলোর পাশ কাটিয়ে তার কপালের দু’পাশে নিজের দু’হাতের তর্জনী আর মধ্যমা আলতো করে বসিয়ে বলল, “এবার তুমি একটু ঘুমোও রাজকন্যা। ঘুমোও...সব ভুলে ঘুমোও এবার...সব কিছু ভুলে...আস্তে-আস্তে ঘুমের গভীরে চলে যাও তুমি...অনেক, অনেক গভীরে...যাও... যাও...”

শুনতে-শুনতেই ভিনদেশির গলা আবছা হয়ে এল রাজকন্যার কানে। আর সে খুব ধীরে তলিয়ে যেতে লাগল এক আচ্ছন্ন তন্দ্রার গভীরে, এক নরম খাদের নীচে...

কাঠের কুঠিতে যখন চলছে এমনটা, তখন নগরীর পথে অল্প সন্ধে নেমে এসেছে, স্থানীয় বাজার থেকে দু’খানা হাঁস নিয়ে বাড়ির দিকে শ্লথ পায়ে ফিরছেন বৃদ্ধ বিদূষক। বাড়িখানা তাঁর প্রাসাদ থেকে বেশি দূরে না হলেও, অনেকখানি অলিগলি পেরিয়ে এক পথের একেবারে প্রান্তে, যেখানে চারপাশে আর কারও বাস নেই। স্ত্রী গত হয়েছেন বেশ কয়েক বছর, একাই সে-বাড়িতে থাকেন বিদূষক। অবশ্য বাড়িতে আর থাকেন কতখানিই বা। নতুন রাজামশাই তো তাঁকে ছাড়া চোখে অন্ধকার দ্যাখেন। নেহাত আজ বাদে কাল বিপ্লবীর মৃত্যু, তার প্রস্তুতিতে চারদিকে রইরই, আবার কোনও গণ্ডগোল না পাকে সে জন্য সেনাপতির সঙ্গে বৈঠক করছেন রাজামশাই, তাই আজ একটু বিকেল বিকেল ছাড়া পেয়েছেন বিদূষক।

ভারী ইচ্ছে হচ্ছিল, রাতের বেলা একটু ঝাল-ঝাল হাঁসের মাংস রেঁধে খাবেন, তাই বাজার হয়ে ফিরলেন। খরিদ করার প্রশ্নই ওঠে না, দোকানির সামনে গিয়ে গম্ভীর হয়ে দাঁড়ালেই হল, সে মিনমিন করা কাঁপা হাতে দোকানের সবচাইতে পুষ্ট হাঁসদু’টিকে তুলে দেয় বিদূষকের হাতে। হাঁসের মাংস তিনি ভারী ভালবাসেন। বিদূষক পিছু ফিরলেই অবশ্য তাঁর নাম করে যা নয় তাই গাল পাড়ে দোকানি, সে তিনি নিজেও জানেন। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। ক্ষমতার অপব্যবহারও করব, আবার গালিগালাজও খাব না, এমন কি হয় দুনিয়ায়? তাই ও তিনি গায়ে মাখেন না।

বাড়ির সামনে আছে তাঁর একফালি বাগান, সেখানে কিছু শাকসবজি হয়। মাঝেমধ্যে খুরপি দিয়ে তিনি নিজেই মাটি খোঁড়েন, জল দেন রোজ। এই যেমন এখন কিছু কুমড়ো আর লঙ্কা হয়ে রয়েছে, ওদিকে আখরোট আর খোবানিও লাগিয়েছিলেন, সেসবে ফল ধরল বলে। মনটা আজ একটু চনমনেই আছে বৃদ্ধ বিদূষকের। বাড়িতে মশলাপাতির কৌটোগুলোর ভারী মনখারাপ, তাদের গায়ে অনেকদিন হাত পড়ে না বলে। আজ এই হাঁসেদের পালক ছাড়িয়ে, ভাল করে কেটেকুটে আচ্ছামতো মশলা দিয়ে কষা করে রাঁধতে হবে। তবেই জমবে।

ভাবতে-ভাবতে দু’মুঠোয় দু’খানা মৃত হাঁসের গলা জাপটে ধরে বাড়ির বাগানের কেঠো আর নড়বড়ে ফটকটা ঠেলে ঢুকতে যাবেন বিদূষক, এমন সময় একখানা দৃশ্য দেখে প্রথমে হাঁ হয়ে গেলেন, তারপর নিজের অজান্তেই তাঁর অশক্ত মুঠো আলগা হয়ে মরা হাঁস দু’খানা থপ করে পড়ে গেল রাস্তায়।

তিনি দু’একবার চোখ কচলেও দেখলেন যে সন্ধের প্রায়ান্ধকারে বুড়ো-চোখে ভুল দেখছেন কিনা। কিন্তু নাহ! স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, তাঁরই বাগানের মধ্যে, গাছপালার ভিড়ের মধ্যে, দু’দিকে দাঁড়িয়ে আছে দুই অপরূপা তরুণী। যেমন তাদের যৌবনের জৌলুস, তেমন তাদের রূপের ছটা, আর সেইরকম তাদের শরীরের নোনতামিঠে আদল। সবচাইতে আশ্চর্য এবং আকর্ষণীয় ব্যাপার হল, দু’জনের কারও গায়েই পোশাকের লেশমাত্র নেই। শরীরের সমস্ত গোপন প্রত্যঙ্গ কী দুঃসাহসী আর নির্লজ্জের মতো প্রকাশ্যে বিছিয়ে, মেলে ধ’রে দাঁড়িয়ে আছে এই দুই অপরিচিতা। তাঁর নিজের বাগানে দুই নগ্ন যুবতীকে অল্প হাসিমুখে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কথা হারিয়ে ফেললেন বৃদ্ধ বিদূষক। কেবল তাঁর চোখদুটো চকচক করে উঠল একবার, আর একবার জিভ দিয়ে শুকনো ঠোঁট চেটে নিলেন তিনি। তবে বিদূষক নিজে কথা ফিরে পাওয়ার আগে, সেই দুই নগ্নিকাই একসঙ্গে তাঁকে জিজ্ঞেস করল, “আজ রাতে কি শুধু হাঁসের মাংস খেতেই ইচ্ছে করছে, হুম?”

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%