শ্রীজাত
এই দু’খানা ঘটনাই ঘটে গিয়েছিল সেই সকালের আগের দু’দিনে, যে-সকালে রাজার ভাষণ থমকে দিয়ে গাইতে-গাইতে মিনারের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল বিপ্লবীর দল। আর বিপ্লবীর পাশে, হাতের মুঠোয় তার হাত শক্ত করে আঁকড়ে, রাজার দিকে চোখ তুলে চেয়েছিল রাজকন্যা... টানটান, প্রত্যয়ী, নির্ভীক।
রাজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর মন্ত্রিসভা, সভাসদ, সেনাপতি, সকলেই বুঝতে পারছিলেন ব্যাপারটা ভাল হচ্ছে না। কিন্তু রাজাদেশ ছাড়া এদের বাধাও দেওয়া যায় না। সম্ভবত উপত্যকার কিনারে একবার এবং এই চত্বরে ঢোকার সময়ে আরও একবার রাজপেয়াদারা এদের বাধা দেওয়ার চেষ্টাও করে। কিন্তু একেবারে সামনের সারিতে খোদ রাজকন্যাকে দেখতে পেয়ে বল্লম আর মাথা নামিয়ে পিছু হঠে যেতে হয় সকলকেই। নইলে এই মিছিল মিনার অবধি পৌঁছনোর কথাই নয়। এতক্ষণে এদের পিটিয়ে ছাতু করে কয়েদে পুরে দেওয়ার কথা।
রাজা ভাষণ থামালেন বটে, কিন্তু তাঁর ঠোটের হাসিটি বজায় থাকল। এ-হাসির অর্থ বোঝা ভারী কঠিন। রাজা ছাড়া মিনারে দাঁড়ানো হোমরাচোমরাদের মধ্যে মাত্র আরেকজনের মুখে বাঁকা হাসি। তিনি বিদূষক। কথা শুরু করলেন রাজা নিজেই। রাজকন্যাকে তিনি এর মধ্যে টানতে চাইলেন না সরাসরি, ভাবটা এমন যেন, ছোট মেয়ে, ভুল করে বিপথে গিয়েছে, বোঝালে আবার ফিরে আসবে। তিনি কথা বলতে শুরু করলেন বিপ্লবীর সঙ্গে। প্রাসাদ চত্বরের ওই কুয়াশামোড়া সকাল গমগম করে উঠল এই দু’জনের কথায়। বাকিরা শ্রোতা।
রাজা: তুমিই সেই বিপ্লবী, যার কথা শোনা যায় ইদানীং? আর এই তোমার দলবল?
বিপ্লবী: আমার কথা আপনার কান পর্যন্ত পৌঁছেছে দেখে আশ্চর্য হচ্ছি। আর হ্যাঁ, এরা আমাদের দলের একটা ছোট্ট অংশ। আমাদের দল সারা রাজ্য জুড়ে কাজ করছে। এবং সংখ্যায় বাড়ছে। রোজ।
রাজা: তোমরা কি কেবল গান গাইতে এসেছ, নাকি আরও কিছু বলার আছে?
বিপ্লবী: গানের মধ্য দিয়েই অনেক কিছু আমরা বলি। কিন্তু বহু মানুষের মনে গান ঢোকে না। তাদের মাথায় কথা ঢোকাতে হয়। তাই আসা।
রাজা: আজকের দিনটাকে বেছে নেওয়ার কোনও আলাদা কারণ?
বিপ্লবী: খুব সহজ। আজ এখানে রাজ্যের সকলে জমায়েত হয়েছেন। মানে, যারা এখনও বহিরাগত শিবিরের বাইরে আছেন। তাই আজ এখানে আসার কারণ সকলের সামনে সত্যিটাকে তুলে ধরা।
রাজা: বহিরাগত শিবির? সেটা আবার কী?
বিপ্লবী: এ-প্রশ্ন আপনার কাছ থেকে আসাই স্বাভাবিক। দু’দিন দু’রাত সেখানে গিয়ে থাকলে আপনি বুঝতে পারতেন, বহিরাগত শিবির ঠিক কী জিনিস। প্রাসাদে থেকে ওটা বানানো যায় বটে, কিন্তু বোঝা যায় না।
রাজা: কেন এতজন মানুষকে তুমি বিভ্রান্ত করছ? এরকম কিছুই হয়নি।
বিপ্লবী: মানুষকে কি আপনি জড়বস্তু বলে মনে করেন মহামান্য রাজা? নাকি তারা এমনই অন্ধ যে চোখের সামনে সব কিছু ঘটে চলতে দেখেও চুপ থাকবে? হ্যাঁ, থাকবে হয়তো কয়েকজন, যাদের প্রাণের ভয় আছে। কিন্তু অনেকেই থাকবে না। যেমন আমরা থাকিনি, তেমন। এ-রাজ্যে একটা পাঁচ বছরের মেয়েও জানে যে বহিরাগত শিবিরে ধরে-ধরে লোক পাঠানো হচ্ছে। একজন আশি বছরের বৃদ্ধও জানেন যে সেখানে মানুষের উপর কী অত্যাচার চালানো হচ্ছে এবং কতজন ইতিমধ্যেই প্রাণ দিয়েছেন। আপনার রাজ্য, আপনি যা করবেন বলে স্থির করেছেন, সেটাই করছেন। কিন্তু মানুষ তার কিছুই জানবে না, এই ভ্রান্তি নিয়ে থাকবেন না।
রাজা: এত বড় দোষারোপ করছ যে, কোনও প্রমাণ আছে তোমার কাছে?
বিপ্লবী: এই যে, এই কাগজ। এখানে মোট পনেরো হাজার তিরাশি জনের নাম আছে, যারা গত ছ’মাসে বাড়ি থেকে উচ্ছন্ন হয়েছেন। যাঁদের গত ছ’মাসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেই শিবিরে। যাঁদের আমরা নিরুদ্দেশ বলে মেনে নিতে শিখে যাচ্ছি। কিন্তু আমি তো সেটা হতে দেব না মহামান্য রাজামশাই। এখানে যারা দাঁড়িয়ে, সক্কলে জানে পাহাড়ের কিনারে ওই বিশাল পাথরের পাঁচিলের আড়ালে কী চলছে। কিন্তু কেউ মুখ খুলবে না। কেন? কেননা খুললেই তাদের কাছে যদি তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া হয়? যদি তাদের ঘরদোর পুড়িয়ে দেওয়া হয়? যদি তাদের নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে? সেই ভয়ে। কিন্তু আমার সেই ভয় নেই। আমাদের কারও সেই ভয় নেই।
রাজা: ভয় যে নেই তোমাদের, তা তো দেখাই যাচ্ছে। শিক্ষাও নেই। নইলে এভাবে কথা বলতে পারতে না।
বিপ্লবী: শিক্ষা সেটাই, যা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শেখায়, অনাচারের বিরুদ্ধে কথা বলতে শেখায়। যারা সবকিছু দেখেশুনেও মুখে আঙুল দিয়ে বসে থাকেন, তাঁদের সংগ্রহে যতই পুথিপত্র থাক না কেন, তাঁরা প্রত্যেকে অশিক্ষিত।
রাজা: তোমার সঙ্গে এসব তর্কে ব্যয় করার মতো সময় আমার হাতে নেই। আমার সভা চলছে এবং সেই সভায় ফিরে যেতে হবে। কী বলার আছে, দ্রুত বলো।
বিপ্লবী: বলতেই তো আসা। আপনার এই সভা আমরা হতে দেব না।
রাজা: তুমি জানো হে ছেলে, তুমি কী বলছ?
বিপ্লবী: স্পষ্ট ভাবে জানি। কিন্তু খুবই দুর্ভাগ্যের যে, আপনি জানেন না, আপনি কী করছেন।
রাজা: তুমি আমার এবং আমার সেনাপতির ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছ। রাজকন্যাকে পাশে পেয়েছ বলে ভেবো না যে, তোমাকে ভারী খাতির করা হবে।
বিপ্লবী: সে-কথা ভাবার মতো মূর্খ আমি নই। আমাদের দুটো দাবি আছে।
রাজা: শুনি?
বিপ্লবী: এক, বহিরাগত শিবির তুলে দিতে হবে। এ-রাজ্যে কেউ বহিরাগত নয়। আবার দেখতে গেলে, সকলেই কখনও না কখনও, কোনও না কোনও প্রজন্মে কোথাও না কোথাও থেকে এসেছে। কিন্তু আজ তারা এই রাজ্যের বাসিন্দা। তাদের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করলে চলবে না। আমরা সেটা মেনে নেব না। আমাদের দাবি, ওই শিবির বন্ধ করে সকলকে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হোক, এবং মানুষের কাছে তার নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইবার এই নির্লজ্জ কাজ এখনই বন্ধ হোক।
রাজা: কে বহিরাগত আর কে নয়, সেটা কে ঠিক করবে? তুমি?
বিপ্লবী: আজ্ঞে না। কখনওই না। সেটা কেউ ঠিক করবে না। এমনকী আপনিও নন। কেননা আপনার উর্ধ্বতন ষষ্ঠ পুরুষ বহুদূরের এক রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়ে এখানে এসেছিলেন। সেইভাবে দেখতে গেলে সকলের আগে আপনাকেই বহিরাগত বলে দেগে দেওয়া উচিত।
রাজা: মুখ সামলে কথা বলো হে ছোকরা! তুমি সমস্ত সীমা পার করে যাচ্ছ!
বিপ্লবী: সীমাও যদি আপনিই ঠিক করে দেন, তা হলে হয়তো যাচ্ছি। কিন্তু সাধারণ নাগরিকদের চোখ দিয়ে দেখলে, আপনিও প্রত্যেক দিন সীমা লঙ্ঘন করছেন। আশেপাশের রাজ্যে আমরা যাতায়াত করি। যারা আগের রাজার আমলে আমাদের বন্ধুরাজ্য ছিল, তারা এখন সপাটে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। তাদের রাস্তার ফকিররা পর্যন্ত এই কুয়াশানগরীর নাম শুনলে দূরে পালায়। তারা সকলেই জানে, এর ভিতরে কী কী ঘটে চলেছে।
রাজা: বেশ তো। তা হলে তোমরা সকলে মিলে পাশের রাজ্যেই বাস করো। এ-রাজ্যে তোমাদের থাকার প্রয়োজন নেই কোনও। সেরকম ব্যবস্থা করব কি?
বিপ্লবী: ব্যবস্থা করলেই আমরা চলে যাব, এরকমটা ভাবছেন কেন?
রাজা: বড্ড বেশি স্পর্ধা দেখছি তোমার?
বিপ্লবী: ভুল করছেন। সত্যি বলতে স্পর্ধা লাগে না। অত্যাচার করতেই ওটার দরকার হয়।
রাজা: পাশের রাজ্যের এত গুণ গাইছ যে বড়, তুমি সেখানকার চর?
বিপ্লবী: হাসালেন রাজামশাই। এমনটা কিন্তু আগে ছিল না। আমরা পাশের যে-কোনও রাজ্যের ভালকে ভাল বলতে পারতাম। তাদের সংগীত, তাদের লেখাপড়া, তাদের পশুপালন, তাদের কারিগরি, তাদের বাণিজ্য, এসব নিয়ে আমরা খোলাখুলি কথা বলতাম, শিখতাম। তারাও আমাদের থেকে কত কী শিখত। এ কেমন সময় আপনি আনলেন রাজামশাই, যেখানে পাশের রাজ্যের প্রশংসা করলেই হয় আমি রাজদ্রোহী নয় আমি গুপ্তচর? যেখানে নিজের রাজ্যের কোনও কিছু নিয়ে প্রশ্ন তুললেই আমাকে পাশের রাজ্যে চলে যেতে বলা হবে? এ কেমন সময় আপনি তৈরি করলেন, যেখানে রাজ্য আর রাজভক্তি মিলেমিশে এক হয়ে গেল? যেখানে রাজ্য মানে আপনি আর আপনি মানেই রাজ্য? মাঝখানে আর রইল না কিছু? এ কেমন সময়?
রাজা: এসব তুমি কোত্থেকে শিখেছ হে? এসব আশ্চর্য মিথ্যে ভুয়ো অভিযোগ আর এই উদ্ধত কথা বলা? তোমাদের দল বুঝি এসবই করে?
বিপ্লবী: সময়ের কথা বলতে গেলে শিখতে হয় না কিছু। আমাকে অবশ্য শিখিয়েছিলেন আমার বাবা এবং মা। আমার বাবাকে হয়তো আপনার মনে থাকবে।
রাজা: তাই? কেন মনে থাকবে?
বিপ্লবী: কেননা সম্ভবত তিনিই এ-রাজ্যে প্রথম মানুষ, যিনি আপনার আদেশ অমান্য করেছিলেন। তিনি ছিলেন কারিগর। ধাতুর শ্রেষ্ঠ কারিগর। কিন্তু আপনার কথামতো যুদ্ধের অস্ত্র বানানোয় সম্মত না হওয়ায় আপনারই সেনার হাতে তাঁকে প্রাণ দিতে হয়।
রাজা: তুমি এত ধরনের গল্প বানিয়ে আজ এখানে এসেছ যে, এ-রাজ্যের গল্পের ভাণ্ডার পূর্ণ হয়ে উঠছে। এমন কিছুই কোনওদিন ঘটেনি।
বিপ্লবী: আমি জানতাম আপনি এটাই বলবেন। সত্যিকে দিনের সাদা আলোয় অস্বীকার করাই তো এখন রীতি। যেমন আপনি বলছেন বহিরাগত শিবির হয়নি। যেমন আপনি বলছেন এই শেষ ছ’মাসে কোনও মানুষ মরেনি অত্যাচারে, অনাচারে। যেমন আপনি আমাদেরও মেরে ফেলবেন হয়তো আজকের পর, এবং বলবেন কিছুই ঘটেনি। কিন্তু মনে রাখবেন। আমরা বাড়ছি। বাড়তে থাকব। এবং প্রশ্ন করতে থাকব। যতক্ষণ না আপনি জবাব দেবেন।
রাজা: বেশ। শুনলাম তোমার কথা। এবার কি আমি সভার কাজে ফিরে যেতে পারি? সকলের সময়ের দাম আছে।
বিপ্লবী: অবশ্যই আছে। তবে সময়ের চেয়েও বেশি দাম প্রাণের রাজামশাই। প্রাণই যদি না থাকে, সময় নিয়ে করবটা কী? আমাদের আরেকখানা দাবি, এ-দেশ যুদ্ধে যাবে না। এই রাজ্য চিরকাল শান্তির কথা বলে এসেছে, মিলেমিশে থাকার কথা বলে এসেছে। যতদিন না আপনি এসে এর মসনদে বসেছেন। কিন্তু যুদ্ধ আমরা হতে দেব না। কোনও মূল্যেই না।
রাজা: আমি তো বুঝতে পারছি না এ-রাজ্যের রাজা কে?
বিপ্লবী: রাজা আপনিই মহামান্য। সে নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু রাজার চেয়েও যে মানুষ বড়, এটা আপনি ভুলে গিয়েছেন। আপনি মানেই দেশ, আপনার বিরোধী মানেই দেশবিরোধী, সমীকরণগুলো এতটাও সহজ নয় যে। আমি আমার রাজ্যকে প্রাণের চেয়েও ভালবাসি এবং আমি আপনার বিরোধী।
রাজা: তোমাকে অনেকক্ষণ কথা বলতে দিয়েছি। এবং অনেকদিন কথা বলতে দিয়েছি। অনেক আগেই থামিয়ে দিতে পারতাম, কিন্তু আমি চাইছিলাম তুমি নিজে এসে কথাগুলো বলো। বন্ধুগণ, বিপ্লবী নামের এই ছদ্মবেশী যুবক সম্পূর্ণভাবে দেশদ্রোহী এবং অন্য রাজ্যের চর। একে আজ এখনই বন্দি করার হুকুম দিচ্ছি আমি। এর বিচার শীঘ্রই হবে। সঙ্গে এর সঙ্গীদেরও আপাতত আটক রাখা হবে, এই আমার নির্দেশ!
এই কথাটা উচ্চারণ করামাত্র সেনাপতি আঙুল তুলে নির্দেশ দিলেন বিপ্লবীদের জমায়েত ভেঙে দিতে। চলতে লাগল ধরপাকড়, সাধারণ মানুষের ভিড় ভয়েই হালকা হয়ে গেল, একইসঙ্গে রাজবিরোধী পঙ্ক্তির উচ্চারণে কেঁপে উঠল গোটা উপত্যকা। রাজা, সেনাপতি, বিদূষক আর বাকিরা দাঁড়িয়ে থাকলেন মিনারে। ধরপাকড় শেষ হল যখন, তখন পেয়াদাদের হাতের মধ্যে ধরা পড়েও বিপ্লবী ফুঁসছে, ঝটকায় ছাড়িয়ে নিতে চাইছে নিজের দেহ, কিন্তু পারছে না।
কেবল তার পাশে দাঁড়ানো রাজকন্যার গায়ে কেউ হাত দেয়নি এবং এতক্ষণ ধরে রাজকন্যা একটি কথাও বলেনি। এবারও বলল না। বরং বন্দি হওয়া বিপ্লবীর কাছে শান্ত পায়ে এগিয়ে গেল সে। তারপর, সমস্ত বাসিন্দাদের সামনে, পেয়াদাদের সামনে, দলবলের ছেলেমেয়েদের সামনে, রাজা আর তার সভাসদদের সামনে, বিপ্লবীর দু’গাল নিজের দু’হাতের পাতার মধ্যে সাজিয়ে ধরে নিজের দু’ঠোঁট গভীরভাবে ডুবিয়ে দিল বিপ্লবী’র দু’ঠোঁটে। বিপ্লবী নিজেও এই চুম্বন প্রত্যাশা করেনি। কিন্তু মুহূর্তেই সে ডুবে যেতে থাকল রাজকন্যার দেওয়া প্রথম চুম্বনে, তার সুগন্ধী আর তপ্ত প্রশ্বাসের আসা-যাওয়ায়, হারিয়ে যেতে থাকল রাজকন্যার ঠোঁটের পশমের আড়ালে কোথাও। দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকল এই গভীর চুম্বন। পেয়াদারা অনেক ধরনের ঝামেলা সামলেছে। কিন্তু খোদ রাজকন্যাকে চুম্বনরত অবস্থায় দেখে তারাও মাথা নামিয়ে নিল। আর মিনারে দাঁড়িয়ে, নিজের শরীরকে বিন্দুমাত্র না বাঁকিয়ে এই দৃশ্য দেখে রাগে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যেতে লাগলেন রাজামশাই।
এই সেই চুম্বন, যার পর রাজকন্যা হয় গৃহবন্দি, আর বিপ্লবীকে নিয়ে যাওয়া হয় কয়েদে। এই সেই চুম্বন, যার পর রাজকন্যার মুখের সমস্ত স্বাদ চলে যায় এবং সে বন্ধ করে দেয় খাওয়াদাওয়া। এই সেই চুম্বন, যার ক’দিন পর মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয় বিপ্লবী। আর এই সেই চুম্বন, যার পর থেকে শুরু হয় এই উপাখ্যান।
তবে যাদের কথা বলা হল, তারা ছাড়াও, আরও একজন ছিল এই দৃশ্যের সাক্ষী। একজন সাদা টুপি আর তাপ্পি দেওয়া আলখাল্লা পরা মানুষ। যাকে এই নগরীর কেউ চেনে না এখনও।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন