একাদশ অধ্যায়

শ্রীজাত

দেখতে-দেখতে তারপর কেটে গিয়েছিল এক মাসের সময়কাল। ভাল সময় খুব দ্রুত চলে যায়। খারাপ সময় এগোয় ধীর স্থিরভাবে। যেন সে শেষই হতে চায় না। রাজকন্যা আর বিপ্লবী যেদিন নদীর পাড়ে, সাদা বালির চরের পাশে, চিনার গাছের নীচে বসে সূর্য ডুবে যাওয়া দেখেছিল, তার পরের এক মাসে এ-রাজ্যের দিকে-দিকে আগুন লেগেছে। আর সে শুধু কথায় বলে বোঝানোর জন্য আগুন নয়, সত্যিকারের আগুন। কীভাবে যেন রাজামশাইয়ের লোকজন মন্ত্রীসান্ত্রী পেয়াদাপাইকরা সব চিহ্নিত করেছে বহিরাগতদের ঘর। যদিও তারা কয়েক প্রজন্ম ধরে থাকছে এই কুয়াশানগরীতেই, কিন্তু কোনও না কোনও আদিকালে তাদের কেউ না কেউ এসেছিল বাইরে থেকে, এইরকমটা মনে করে সেসব ঘরে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়েছে রাতবিরেতে। লোকজন ঘুমন্ত অবস্থায় আগুন দেখতে পেয়ে বাইরে আসামাত্র তাদের ধরেবেঁধে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে সেই উঁচু প্রাচীরের ওপারে। ওইটাই তাদের বসবাসের জায়গা এখন। সেখানে, গত এক মাসে হাজারে-হাজারে মানুষ জমা করা হয়েছে। তাদের খেতে দেওয়া হচ্ছে না ভালমতো, পরনের জামাকাপড় দেওয়া হচ্ছে না, কথা বলার অধিকারও দেওয়া হচ্ছে না। কেবল কাতারে-কাতারে মানুষের মুখ জমা হচ্ছে সেই বিশাল উঁচু পাঁচিলের ওপারে। বোঝাই যাচ্ছে, অনেক দিন ধরে ধৈর্য ধরে ছিলেন নতুন এই রাজামশাই। কিন্তু তাঁরও তো বয়স হচ্ছে। এখনই যদি ক্ষমতা না ফলান, তা হলে পরে আর সুযোগ না-ও আসতে পারে। তা ছাড়া দিন কবে বদল হয়, এ কেউ বলতেই পারে না। আর সে-কথা তিনিও হাড়ে-হাড়ে জানেন।

এই তো গেল একরকম। আরেকদিকে বিপ্লবী আর তার গোপন দল পথে নেমে এসেছে। প্রথমে ভাবা হয়েছিল, আরও কিছুদিন পর প্রকাশ্যে কথা বলবে তারা, কিন্তু পরিস্থিতি যেরকম হয়ে উঠছিল, তাতে তাদেরও বেরিয়ে পড়তেই হল জেহাদ ঘোষণা করতে। চারপাশে তরুণ ছেলেমেয়েরা নিশান হাতে মিছিল করছে, চিৎকার করে নিজেদের কথা বলছে কখনও, আবার কখনও চুপচাপ চেরাগ হাতে হেঁটে যাচ্ছে রাজপথ ধরে। তাদের কপালে রং লেপা, তাদের হাতে ফেট্টি বাঁধা, তাদের চোখে রোষ, তাদের বুকে ভীষণ সাহস। তারা সংখ্যায় বাড়ছে।

আগে কেবল বিপ্লবীর দলের কয়েকজনই ছিল। কিন্তু যেই না রাজ্যের সবদিকে রাজার এই অত্যাচার ছড়িয়ে পড়ল, ওমনি সব প্রান্ত থেকেই নতুন-নতুন ছেলেমেয়েদের দল যোগ দিল জেহাদে। তারা কেউ কখনও বিপ্লবীকে চোখে দেখেনি, কেবল বাতাসে ভেসে আসা গল্পগাথায় তার সাহসিকতার কথা শুনেছে। তাতেই তারা সকলে বিপ্লবীকে নিজেদের নায়ক ভেবে নিয়ে পথে নামল। বহু জায়গায় অবশ্য রাজপেয়াদারা আটকেছে তাদের, হাতাহাতি হয়েছে রাজপেয়াদাদের সঙ্গে ছেলেমেয়েদের, কত-কত জায়গায় শান্তিমিছিলের মধ্যে ঢুকে এসে রাজপেয়াদারা মেরে ছেলেমেয়েদের সাহসী মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে আর রক্তে ভিজে উঠেছে রাজপথ। সব মিলিয়ে, শান্ত, নির্বিরোধী, নিরিবিলি কুয়াশানগরী এখন জ্বলছে। কোথাও অত্যাচারে, কোথাও প্রতিরোধে।

অনাচারের এই সমস্ত খবরই বাতাসে ভেসে-ভেসে পৌঁছচ্ছে বিপ্লবীর কানে, নিজেও সে চোখে দেখছে কিছু-কিছু, এদিকে রাজকন্যাও জানতে পারছে সব, খবর পাচ্ছে দলের অন্য ছেলেমেয়েরাও। তাদের রক্ত ফুটছে গনগন আঁচে। সন্ধের পর সন্ধে নদীর ধারে, অরণ্যের মধ্যে গোপন আস্তানায় তারা দানা বাঁধছে, আর দিন গুনছে রাজামশাইয়ের সামনে বিস্ফোরক হয়ে ফেটে পড়বার। দিন একটাই, যেদিন মিনার থেকে যুদ্ধের কথা ঘোষণা করবেন নতুন রাজা। তার জন্যও শুরু হয়ে গিয়েছে সাজ-সাজ রব। দিকে-দিকে রাজনিশানে ছেয়ে ফেলা হয়েছে, পথে-পথে প্রহরা বেড়েছে সৈন্যের, মোড়ে-মোড়ে মঞ্চ তৈরি হচ্ছে, সেখান থেকে রাজানুগ্রহে ভরপুর শিল্পীরা মাঝেমধ্যে রাজার গুণ গেয়ে গান বাঁধছেন। এইসব হচ্ছে চারপাশে। কিন্তু এই এক চান্দ্রমাসে যে এত কিছু ঘটে গেল গোটা রাজ্য জুড়ে, রাজামশাই সে নিয়ে একবারও মুখ খুললেন না। এমন একখানা ভাব, যেন কিছুই কোথাও হয়নি। বা হয়ে থাকলে, তাঁর রাজত্বে তো এমনটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একটা বিষয় তিনি পেরেছেন, তাঁর হাসিমুখখানা মনে করলেই সাধারণ মানুষের মনে একটা হাড় হিম করা ভীতি তৈরি হচ্ছে। তাঁর মুখখানা ভাবলেই তারা এও ভাবছে, তাদের পূর্বপুরুষ এ-রাজ্যে কবে এসেছে। তারা কি এখানকারই বাসিন্দা আদৌ? নাকি কালই রাজপেয়াদা এসে টুঁটি টিপে ধরে বিশাল সেই পাঁচিলের ওপারে ফেলে দেবে? সেই পাঁচিলের ওদিকে নাকি অনাহারে মারা যাচ্ছে অনেকে, অনেকে দুঃখে কষ্টে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছে কোনওভাবে। সেখানেও চলছে মৃত্যু। কেবল তাদের কথা বাইরে বলা হচ্ছে না মোটেই। খবর আনছে বাতাস। বাতাসকে রাজামশাই বিশ্বাস করেন না তাই।

এই একমাসে রাজামশাইয়ের সঙ্গে রাজকন্যার একবারও দেখা হয়নি। সে প্রাপ্তবয়স্ক হতে চলেছে শিগগির, যদিও সেই কৈশোর থেকেই তার নিজের মতামতে সে দাঁড়িয়ে থাকে খাড়া পায়ে, কেউ তাকে টলাতে পারে না। এই একমাসে সে একবারও নগরীর মূল প্রাসাদে রাত কাটাতে যায়নি। অরণ্যের মধ্যেকার মাঝারি প্রাসাদেই কেটেছে তার দিন আর রাত। ইতিমধ্যে সে আরও বেশি করে জড়িয়ে পড়েছে বিপ্লবীর সঙ্গে, তার আদর্শ আর লড়াইয়ের সঙ্গে। বোধহয় সে-কথা বুঝেই রাজামশাই এর মধ্যে তিনদিন তলব পাঠিয়েছিলেন তার সঙ্গে দেখা করার জন্য, কিন্তু রাজকন্যা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দেখা সে করবে না। নাহ, কোনও মাথাব্যথা, জ্বরজারি, বা পেট কনকনের অজুহাত নয়, স্রেফ অনিচ্ছে। এইটাই সে জানিয়ে দিয়েছে স্পষ্ট করে। আর তার সেই সাফ নাকচ যখন পৌঁছেছে নগরীর প্রাসাদে, রাজামশাই তাঁর গোঁফে তা দিতে দিতে সামান্য হেসেছেন। যে-হাসির অর্থ তিনি নিজেই জানেন কেবল।

শেষমেশ এল সেই মহাসমারোহের দিন। কুয়াশা সেদিনও ঘিরে আছে অরণ্যকে, নগরীকে, উপত্যকাকে। ঝাপসা হয়ে যাওয়া হাওয়ায় মাথা দোলাচ্ছে বাধ্য রাজনিশানেরা। সোনালি ঝালর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে উঁচু মিনার, যার উপর এসে দাঁড়াবেন মহামান্য রাজা। থিকথিক করছে বটে লোকজন প্রাসাদচত্বরে, কিন্তু আগের মতো জমাট জমায়েত আর নেই। হবেই বা কী করে। বহু চেনামুখ তো এখন সেই বিশাল প্রাচীরের আড়ালে দিন গুনছে। যারা এখনও বাইরে আছে কোনওমতে, তারাই গুটিসুটি হয়ে জড়ো হয়েছে। তাদের মুখে আশ্চর্য এক ভয়। তারা মোটামুটি জানে রাজামশাই আজ কী বলবেন, কিন্তু তারা একেবারেই জানে না যে রাজামশাই আজ কী বলতে পারেন। এ এক আজব ধাঁধা।

চারপাশ ঘিরে দেওয়া হছে পেয়াদা আর পাইক দিয়ে, তাদের হাতে সদ্য ধার দেওয়া বল্লম, রোদ পড়লে যাকে তীক্ষ্ণ দেখাতেই পারত, কিন্তু এই এত ভারী কুয়াশায় তাদেরও কেমন যেন মনমরা দেখাচ্ছে। উজ্জ্বল আর আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে কেবল রাজাকে, যিনি দু’দিকে আশ্বাসের দু’হাত তুলে মিনারের চূড়ায় এসে দাঁড়ালেন হাসিমুখে। মানুষজন জয়ধ্বনি দিল বটে বারতিনেক, কিন্তু সে-ধ্বনিও এত ম্রিয়মাণ যে, একরকম কুয়াশাই বলা যায়। রাজা একবার সেনাপতির দিকে তাকালেন, আরেকবার বিদূষকের দিকে। তারপর শুরু করলেন ভাষণ।

“রাজ্যবাসীকে স্বাগত এই প্রাসাদ চত্বরে। আমি জানি, যেদিন থেকে এই সভার ঘোষণা করা হয়েছে, সেদিন থেকে আপনারা সকলে উন্মুখ হয়ে আছেন এ-কথা জানার জন্য যে, এই সভায় আমি ঠিক কী বলব। আমার কানে এসেছে, এ নিয়ে অনেকরকম গুজব ছড়ানো হচ্ছে, আর সেটাই স্বাভাবিক। একটা রাজ্য যখন উন্নতির শিখরের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে, তখন সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তার অভ্যন্তরীণ শত্রুরা। এখানেও তাই হয়েছে। যেভাবে রাজ্যের উন্নয়ন হচ্ছে, যেভাবে চারপাশে শান্তির বাতাবরণ কায়েম রাখা হয়েছে, তাতে অনেকের স্বার্থে আঘাত লাগছে। সেই কারণে তারা নানারকম গুজব ছড়াচ্ছে। আপনাদের সকলকে আগে আশ্বস্ত করি, ভয়ের কিচ্ছু নেই। এমন একখানা কথা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, যাঁরা এ-রাজ্যে বহিরাগত, তাদের নাকি এখান থেকে বাইরে চলে যেতে বলা হচ্ছে। নাহ, কক্ষনও না। তাঁরাও আমার এই রাজ্যেরই অংশ। তাঁরাও এখানেই থাকবেন। এও বলা হচ্ছে, পর্বতের ঢালে যে নতুন প্রস্তরপ্রাচীর নির্মিত হয়েছে, তার আড়ালে নাকি বহিরাগতদের চিহ্নিত করে নিয়ে গিয়ে রাখা হচ্ছে। এ-কথা সর্বৈব মিথ্যে। এমন কোনও কাজ আমি করার কথা ভাবতেও পারি না, যাতে এ-রাজ্যের একজন বাসিন্দারও কোনও ক্ষতি হয়। সুতরাং, আপনারা ভয় পাবেন না, নিশ্চিন্তে থাকবেন। দিকে-দিকে অশান্তির যে-খবর আসছে, তার বেশিরভাগটাই গুজব। অস্থিরতা তৈরি করে দিয়ে ফায়দা লোটার ফিকির। ওসবে আপনারা কান দেবেন না। তবে হ্যাঁ, একটা কথা ঠিক, যুদ্ধে আমরা যাব। এবং সেজন্য আমাদের বিরাট সেনাবাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। আজ থেকে বহু বছর আগে, পার্শ্ববর্তী এক রাজার ষড়যন্ত্রে প্রাণ দিতে হয়েছিল এ-রাজ্যের মহামান্য রাজা ও রানিকে। সেই শোক, সেই আক্রোশ আমরা ভুলিনি। আমার কাছে স্পষ্ট খবর আছে, পাশের রাজ্যের রাজারা একজোট হয়ে আমাদের উপর হামলা চালানোর কথা ভাবছে। আমরা যদি সেই হামলা পর্যন্ত অপেক্ষা করি, তা হলে নিশ্চিত আমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব। আমাদের উচিত, অনতিবিলম্বে আক্রমণ চালিয়ে পাশের রাজ্যগুলিকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং...”

এই অবধি যখন রাজা বলেছেন, তখন দূরে কী একটা শোরগোল মতো শোনা গেল। রাজার কানেও সেটা এল এবং তিনি বেশ ইতস্তত করে সেনাপতির দিকে তাকালেন। কেউ কিছু বুঝতে পারছে না। এদিকে সামনে ভিড় করে থাকা বাসিন্দারা পিছন ফিরে তাকাতে শুরু করেছে। তাদের নিজেদের মধ্যেও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আরেকটু ক্ষণ যেতে বোঝা গেল, কোলাহল নয়, সেটা একখানা গান। অনেকে গলা মিলিয়ে গাইতে-গাইতে এগিয়ে আসছে প্রাসাদ-চত্বরের দিকে। পেয়াদারা সব বল্লম হাতে দাঁড়িয়ে আছে ঠিকই, কিন্তু তাদের কাছে নির্দেশ ছিল, বাসিন্দাদের সামনে কোনও অশান্তি বা বিরোধ রাজা চান না। অতএব কেউ যদি কিছু বলে ওঠে, বা কেউ যদি প্রশ্ন করে, তাকে যেন কিছু করা না হয়। তবে হ্যাঁ, কেউ বাড়াবাড়ি করতে এলে তাকে শায়েস্তা করে দেওয়ার হুকুমও দেওয়া ছিল। কিন্তু এ তো গান। গানের ক্ষেত্রে কী করতে হবে, পেয়াদাদের বলা হয়নি। তাই তারা বল্লম হাতে গানের কথাগুলো বুঝতে চেষ্টা করল। কুয়াশা কেটে গেলে শোনা গেলে, ছেলেমেয়েরা গাইছে...

শেষ দেখে চল রাজা

তোর শেষের পথের বাঁক

জ্বলছে হাজার মশাল দেখিস পুড়েই হবি খাক

ও তুই পুড়েই হবি খাক

তুই শেষ দেখে চল রাজা

আমরা যারা পথের মানুষ, পথেই যাদের ঘর

তাদের কোথায় পাঠাবি আর, করবি কাকে পর

ও তুই করবি কাকে পর

দুষ্টু লোকের মিষ্টি কথা এবারে পালটাক

হ্যাঁ হ্যাঁ এবারে পালটাক

তুই শেষ দেখে চল রাজা

ঢাল তলোয়ার থাক পড়ে আজ সবাই বাঁশি তোল

সবার মুখে উঠুক ফুটে সাম্য রাখার বোল

দারুণ সাম্য রাখার বোল

আমরা কোথাও যাচ্ছি না আর যে যেখানেই যাক

হ্যাঁ হ্যাঁ যে যেখানেই যাক

শেষ দেখে চল রাজা

তোর শেষের পথের বাঁক

জ্বলছে হাজার মশাল দেখিস পুড়েই হবি খাক

ও তুই পুড়েই হবি খাক

তুই শেষ দেখে চল রাজা

গান যখন শেষ হল, তখন ভিড় দু’দিকে সরে গিয়ে জায়গা করে দিয়েছে বিপ্লবী আর তার দলবলকে। বিপ্লবীর পাশে স্বয়ং রাজকন্যাকে দেখে অনেকে চমকে উঠে মাথা নুইয়েছে। আর এই করতে-করতে বিপ্লবী, রাজকন্যা, আর শয়ে-শয়ে তরুণ ছেলেমেয়ে এসে দাঁড়িয়েছে চত্বরের ঠিক সামনে, মিনারের নীচে। অত উঁচু থেকেও প্রায় অষ্টাদশী মেয়েটিকে চিনতে ভুল হল না রাজামশাইয়ের। আর সে-মেয়ে যার মুঠো আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, সে-ই যে কুখ্যাত বিপ্লবী, সে-কথাও লহমায় আঁচ করতে পারলেন রাজামশাই।

বিপ্লবী আর রাজকন্যা সটান রাজামশাইয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। আবহাওয়া গ্রীষ্মের নয়, তবুও রাজামশাই একটু ঘাম বোধ করলেন। পাশের পেয়ালায় রাখা স্ফটিকস্বচ্ছ্ব জলে চুমুক লাগালেন দু’বার। কারও কানের দুল খুলে মাটিতে পড়লেও শোনা যাবে, এমন নিস্তব্ধতা চারপাশে। কেবল বাতাস বয়ে যাওয়ার শব্দ ছাড়া আর কিচ্ছুটি নেই কোথাও। সেনাপতি একবার মাথা ঝুঁকিয়ে রাজার কানে-কানে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন, রাজামশাই তাঁর ডান হাত মৃদু তুলে বারণ করলেন। তাঁর ইচ্ছে করছে এদের গোটা দলটাকে দুরমুশ করে দিতে এখুনি, আর রাজকন্যাকে... কিন্তু এই ভাষণের পরপর জনতার সামনে সে-কাজ তো করা যায় না। তাই তিনি হেসে স্বাগত জানালেন বিপ্লবীর দলকে। তারপর শুরু হল রাজামশাই আর বিপ্লবীর সংলাপ, যা কুয়াশানগরীর বাসিন্দারা বহুদিন মনে রেখেছিল।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%