দ্বিতীয় অধ্যায়

শ্রীজাত

রাজা আর রানি ফিরছিলেন বেশ কিছুটা দূরের এক রাজ্য থেকে, নিজেদের রাজ্যে। সময়টা ছিল বসন্তকাল, তাই অরণ্যের বাইরের আবহাওয়া ছিল ভারী মনোরম। শীত চলে গিয়ে শুকনো গাছেদের ডালে-ডালে ফিরিয়ে দিচ্ছে কচি পাতা, পাহাড়ের গায়ে-গায়ে মাথা তুলে দাঁড়ানো চিনার গাছেদের গুচ্ছে নতুন-নতুন পাখি ডাকছে, কুয়াশা কেটে গিয়ে উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়ছে জন্মদিনের উপহারের মতো রোদ্দুর।

তিন শৃঙ্গের এই পর্বতমালাকে ঘিরে মোট সাতখানা রাজ্য, সাতজন তার রাজা। কারও রাজত্ব উপত্যকার নীচের দিক থেকে মাঝখান পর্যন্ত, কারও রাজত্ব একটু দূরের দিকে, বহতা নদীর পাড় ঘেঁষে, আবার কারও রাজ্য, এই রাজার মতো, অরণ্য আর উপত্যকা মিশিয়ে। সাত রাজার মধ্যে ভারী মিলমিশ, কয়েক পুরুষ ধরে তাঁরা এই পার্বত্য উপত্যকা শাসন করছেন ভাগাভাগি করে, কিন্তু কারও সঙ্গে কারও কখনও ঝগড়া বা তর্ক-বিতর্কও হয়নি, যুদ্ধ তো বহু দূরের কথা।

হ্যাঁ, সৈন্য সব রাজাকেই রাখতে হয়, বিশেষত অজানা অচেনা শত্রুদের জন্য। কিন্তু এই খাড়াই পর্বতমালা ডিঙিয়ে আজ অবধি কেউ যুদ্ধ করতে আসেনি তাঁদের সঙ্গে। তাই এই সাত রাজার সেনার অনেকেই গানবাজনা করে, ছবি এঁকে, নাটক করে সময় কাটায়। অনুশীলন হয় ঠিকই, কিন্তু যুদ্ধে যেতে হয় না। সত্যি বলতে কী, যুদ্ধ হলে যে ঠিক কী হতে পারে, তা এদের কল্পনাতেও নেই। অস্ত্রগুলোয় জং ধরে যায় পড়ে-পড়ে, সেসবে নতুন করে শান দেওয়ার জন্যে কামার আছে, সে সারা বছর ধরে অস্ত্রে শান দেয়। যদিও সেই আগের জৌলুস খুব একটা ফেরে না তাতে। কিন্তু ফিরিয়ে এনেই বা হবেটা কী? সেসব অস্ত্র তো কোনও কাজে লাগে না। আবার তুলে রাখা হয় তাকে।

সেইদিন রাজা আর রানির নেমন্তন্ন ছিল বেশ দূরের এক রাজ্যে, যেখানে পাহাড়ের গা ঘেঁষে নদী বেঁকে যাচ্ছে, সেইখানে। তাঁদের নিজেদের রাজত্ব, মানে অরণ্য আর উপত্যকা থেকে বেশ খানিকটা উতরাই নেমে তবে এই রাজার রাজত্ব। একেবারে অন্যরকম মুলুক। সমতল প্রায়। রোদের তাপ এখানে বেশি, হাওয়ার তেজ কম। মানুষজনের চেহারা অন্যরকম, তাঁদের কথা বলার সুরও আলাদা। কিন্তু সকলেই খুব শান্তিপ্রিয়।

রাজা আর রানি এসেছেন তাঁদের ঘোড়ায় টানা গাড়ি করে। সঙ্গে আছে এক দল লস্কর পেয়াদা। তারা যে-যার ঘোড়ায় চেপে রাজার গাড়ির পিছন-পিছন এসেছে। সঙ্গে এনেছে নিজেদের রাজ্যের একরাশ উপঢৌকন, যার মধ্যে আছে আপেল, মশলা, রেশম, আরও কত কী। এ-রাজ্যের রাজা আর রানি তাঁদের অনেকদিনের বন্ধু, তাই খাতিরও হল এলাহি। সে কী খাওয়াদাওয়ার আয়োজন! কেবল রাজা রানির জন্যেই নয়, তাঁদের সঙ্গে আসা মানুষজনদের জন্যে খাবার আর উপহারের ব্যবস্থা দেখেই চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। খেয়েদেয়ে, নদীর ধারে ঘুরে বেড়িয়ে, গল্প করে, বিকেল যখন পড়ে আসছে, তখন রওনা।

এবার অনেকখানি পথ চড়াইয়ে উঠতে হবে, সময় লাগবে বেশি। তা ছাড়া অন্ধকার হয়ে আসছে। নদীর ধার ছেড়ে যত উপরে ওঠা হবে, ততই পাহাড় হবে রুক্ষ, খাড়াই, কুয়াশাচ্ছন্ন, পিছল আর অন্ধকার। রাজা তাই নির্দেশ দিলেন, কোনও তাড়াহুড়ো যেন না করা হয়। পৌঁছতে সময় লাগলে লাগুক, কিন্তু সাবধানে যাওয়াটা জরুরি। সেইমতো, ধীর গতিতে পাহাড়ের বাঁক ঘুরে ঘুরে, রোদ্দুরের বিকেল পেরিয়ে আস্তে-আস্তে ছায়া অঞ্চলের মধ্যে ঢুকে পড়ল রাজা রানির ঘোড়ার গাড়ি আর তাঁদের লোকলস্কর।

দিন নিভে এসেছে এখানে। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে, তার বরফঢাকা মাথা থেকে চুঁইয়ে নেমে আসছে হিম আর শীতল দীর্ঘ ছায়ারা। তার উপর সকলেরই পেয়েছে একটু আধটু ঘুম। ভোরে উঠে এতখানি পথ আসার ধকল যেমন আছে, তেমনি দুপুরে প্রচুর খাওয়াদাওয়ার আয়েসও আছে। দুয়ে মিলে সকলেরই প্রায় চোখ বুজে আসছে মাঝেমধ্যেই। রানিও অল্প ক্লান্তিতে মাথা রেখেছেন রাজার কাঁধে। কেবল রাজা এদিক ওদিক তাকাতে-তাকাতে চলেছেন, আর অল্প দু’এক কথা বলছেন গাড়োয়ানের সঙ্গে, যাতে সে ঘুমিয়ে না পড়ে।

এমন সময় ঘটল ঘটনাটা। রাজা বা তাঁর গাড়োয়ান প্রথমটায় ঠিক ঠাহর করতে পারেননি, কী ঘটছে। তাঁরা কেবল হুড়মুড় করা কিছু আওয়াজ শুনতে পেলেন, যা তাঁদের পিছনদিকে হচ্ছে। কী ব্যাপার? তাঁর লোকলস্কর কোনও ঝামেলায় পড়ল নাকি? এই সাতরাজ্যে এতই সুখ শান্তি যে, কোনওদিন চুরি ডাকাতি হয়েছে বলেও শোনা যায়নি। রাজা গাড়োয়ানকে হুকুম করলেন গাড়ি দাঁড় করিয়ে নেমে দেখতে।

নেমেই সে চেঁচিয়ে উঠল জোরে। ওই নিস্তব্ধ উপত্যকায় তার কণ্ঠস্বর তিনবার ফিরে এল প্রতিধ্বনি হয়ে। যেখান দিয়ে তারা চলেছে এখন, তার একপাশে খাড়াই পাহাড় আর অন্য পাশে গভীর খাদ। সে-খাদের শেষ দেখা যায় না ভাল করে, এতই অতল। সেই খাড়াই পাহাড়ের মাথা থেকে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসছে বড় বড় সব পাথরের চাঁই। এতই আকস্মিক আর দ্রুত ঘটছে ব্যাপারটা যে, বোঝার আগেই রাজার লোকলস্করের মধ্যে সাতজন ঘোড়াসহ তলিয়ে গিয়েছে ওই খাদে, পাথরের ধাক্কায়। বাকিরা বোঝামাত্র ঘোড়া থেকে লাফ দিয়ে পড়েছে রাস্তায়।

রানির ঘুম ভাঙল, তিনি আর রাজা নামলেন গাড়ি থেকে। বর্ষায় এরকম মাঝেমধ্যে ঘটে থাকে বটে, কিন্তু এ তো শুকনো বসন্তকাল! এ-সময়ে তো ধস নামার কথা নয়! রাজা মুখ তুলে তাকাতেই দেখলেন, বিশালাকার একটি পাথর গুমগুম করতে করতে নেমে আসছে পাহাড়ের গা বেয়ে, ঠিক তাঁদের দিকে। রানিকে তিনি দু’হাতে ঠেলতে গেলেন দূরে, রানি তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন আরও শক্ত করে। মুহূর্তের মধ্যে, ঘোড়ার গাড়িসহ রাজা আর রানি তলিয়ে গেলেন খাদের অতলে। গাড়োয়ান কোনওরকমে লাফ দিয়ে বাঁচল, কিন্তু জখম হল অনেকখানি।

এদিকে, সন্ধে যখন আরও একটু গভীর, রাজার অরণ্যপ্রাসাদের বৈঠকঘরে প্রবেশ করল দু’জন সান্ত্রী। এখানে এখনও ঠান্ডা কাটেনি, কাঠকয়লা জড়ো করে কাঠের ঘরের এক কোণে তাই অল্প আগুন জ্বালানো হয়েছে। জানলা দিয়ে, বাইরে টলটল করতে থাকা হ্রদের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর মুখে বসে আছেন মন্ত্রীমশাই।

“বলো, কী সংবাদ এনেছ?” গম্ভীর আর স্থির কণ্ঠে মন্ত্রীমশাই জিজ্ঞেস করলেন। তাকালেন না সান্ত্রীদের দিকে।

“যেমন বলেছিলেন, তেমন,” একজন সান্ত্রী জবাব দিল।

এবার জানলা থেকে মন্ত্রীমশাইয়ের চোখ ফিরল তাদের দিকে। সান্ত্রীদের মুখে হাসি আর লোভ একসঙ্গে দেখতে পেলেন তিনি। এমনিতে মন্ত্রীমশাইকে তারা রাজা বা রানির চেয়ে বেশিই ভয় পেয়ে থাকে, কেননা রাজ্যের নানা সিদ্ধান্ত তিনিই নিয়ে থাকেন এবং তা কঠোরভাবে বলবৎ করতেও কসুর করেন না। যদিও রাজার সঙ্গে এ নিয়ে তাঁর মতবিরোধ লেগেই থাকত। মন্ত্রিসভার অনেকেই জানেন, এই মহামন্ত্রীর শাসন পদ্ধতি বা অনেক পরিকল্পনাই রাজা একা হাতে ভেস্তে দিয়েছেন। অবশ্য, আর সেটা পারবেন না তিনি।

সান্ত্রীদের দিকে ফিরে তাকানোয়, অন্ধকার করে রাখা ঘরে মন্ত্রীমশাইয়ের মুখের একপাশটায় ঝলসে উঠল আগুনের আঁচ, অন্যপাশটা রইল অন্ধকার। যেদিকটায় আঁচ পড়েছে, সেদিকের চোখটা একবার জ্বলে উঠতে দেখল সামনে দাঁড়ানো দুই সান্ত্রী। তাদের দু’জোড়া চোখও তখন অন্ধকারে চকচক করছে, লোভে। তেমন-তেমন বখশিস পেলে তারা পরিবার নিয়ে বেড়াতেও যেতে পারে, ভেবে রেখেছে এমনটাই।

“সব শেষ?” এই প্রশ্নে মন্ত্রীমশাইয়ের গলাটা অচেনা আর ঠান্ডা লাগল, এই আগুনের সঙ্গে যার কোনও মিল নেই।

“সব শেষ। রাজা, আর রানি, দু’জনেই খাদে। জনাসাতেক লস্করও মরেছে। বাকিরা এদিক ওদিক পালিয়ে বেঁচেছে,” হাত কচলাতে-কচলাতে বলল একজন সান্ত্রী। বলেই কনুই দিয়ে অপর সান্ত্রীকে ঠেলা দিল সে।

“আজ্ঞে মন্ত্রীমশাই, বলছিলাম যে...” অপর সান্ত্রী এই অবধি বলার পর হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিয়ে মন্ত্রীমশাই ফের প্রশ্ন করলেন, “কেউ কিছু দ্যাখেনি তো?”

“আজ্ঞে না মন্ত্রীমশাই। জনমনিষ্যি টের পায়নি। কেবল পাহাড়ের টঙে, শুকনো গাছের মাথায় বসে একখানা শকুন দেখছিল সবটা। এখন তাকে যদি সাক্ষী হিসেবে ধরেন তো...” বলে, বেশ একটা মজা করা হয়েছে, এমন ভেবে খ্যাকখ্যাক করে হেসে উঠল এই সান্ত্রী। অপরজনও যোগ দিল তাতে। মন্ত্রী হাসলেন না।

“শকুন ওখানে কী করছিল?”

দু’জন সান্ত্রীকে চমকে দিয়ে প্রশ্ন করলেন তিনি। একজন খানিকক্ষণ মাথা চুলকে বলল, “আজ্ঞে, সে-কথা তো জিজ্ঞেস করিনি। মানে, মনে হয়, আগাম ভোজের খবর পেয়ে দেখতে এসেছিল আর কী। এতক্ষণে হয়তো ভাই-বেরাদরদের ডেকে এনে খাদে নেমে গিয়েছে। রাজা-রানির লাশ তো সহজে জোটে না এ পোড়া দেশে... হেঁ হেঁ...” বলে আবার হাত কচলালো দু’জনেই।

“তা যা বলেছ!” বলে মৃদু একখানা হাসি দিলেন মন্ত্রীমশাই। এতক্ষণে সান্ত্রীদের গা একটু গরম হল। পাহাড়ের মাথায় চেপে শাবল দিয়ে অত বড় বড় পাথর চাড়িয়ে নীচে ফেলতে দু’জনেরই কালঘাম ছুটে গিয়েছে। তাতেও যদি মন্ত্রীমশাই খুশি না হন, ঠান্ডা লাগে বই কী।

মন্ত্রীমশাই এগিয়ে গেলেন দেরাজের দিকে, চোখ আরও চকচক করে উঠল সান্ত্রীদের। তারপর এগিয়ে এসে দু’খানা মখমলের থলে গুঁজে দিলেন দু’জনের হাতে। লজ্জার মাথা খেয়ে তারা ওখানেই থলি খুলে দেখল, তাতে কমপক্ষে কুড়িখানা করে মোহর আছে। এতখানি তারা আশাও করেনি। বিদায়ের আজ্ঞা নেবে ভাবছিল দু’জনেই, এমন সময়ে মন্ত্রীমশাই অন্ধকার থেকে দু’পেয়ালা সুরা তুলে এনে তাঁদের হাতে ধরিয়ে দিলেন, নিজেও নিলেন এক পেয়ালা। এরপর চোখের ইশারায় তাঁদের বললেন চুমুক দিতে।

“কী যে বলেন মন্ত্রীমশাই, শেষে কিনা আপনার সামনে...” বলল একজন সান্ত্রী।

মন্ত্রীমশাই তার কাঁধে হাত রেখে বললেন, “আরে নাও-নাও, একদিন তো হতেই পারে...”

রাজবাড়ির সুরায় দুই সান্ত্রীরই অনেকদিনের লোভ। তাড়াতাড়ি শেষ করলে আরেক পাত্র জুটতে পারে, এই লোভে দু’জনেই চোঁ-চোঁ করে চুমুক দিল। সুরা শেষ, পাত্র নামিয়ে রাখতে যাবে তারা, এমন সময়ে টলে পড়ল দু’জনেই, কাঠের মেঝেতে শব্দ করে। কিছু একটা বলতে চাইল, কিন্তু শব্দের বদলে মুখ থেকে বেরিয়ে এল এক ঝলক রক্ত। আর বেরিয়ে এল মোহরের দুই কালো মখমলের থলে, নিথর মুঠো খুলে।

মন্ত্রী সেদিকে তাকালেন একবার, তারপর জানলার বাইরে তাকিয়ে নিজের পানীয়ে চুমুক দিয়ে বললেন, “শকুন ছাড়া আমি কাউকে বিশ্বাস করি না।”

জানলার বাইরে তখন রাত নেমে আসছে। যেমন এই অরণ্যে নামে, বহু শতাব্দ বা হয়তো তারও বেশি সময় ধরে। একবার মুচকি হাসলেন মন্ত্রী। কত-কত বছর ধরে এই সন্ধেটার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। অথচ আজ এমন মসৃণ ও নিঃশব্দে সেই সন্ধে নেমে এল, যেন কিছুই হয়নি। খবরটা এখনই কাউকে দেওয়া যাবে না। যেখানে ঘটনাটা ঘটেছে, সেখান থেকে পায়ে হেঁটে ফিরতে লোকলস্করদের ভোর হয়ে যাবে। ঘোড়ারা নিশ্চয়ই এদিক ওদিক ছুট দিয়েছে, সুতরাং পায়ে হেঁটে ফেরা ছাড়া পথ নেই। ততক্ষণ খবরটা চাপা থাকবে। তারাই ফিরুক, ফিরে তাঁকে জানাক কী হয়েছে, তারপর তিনি রাজ্যবাসীকে জানাবেন, উপত্যকার প্রাসাদের সামনের বড় চত্বরে জমায়েত করে।

রাজা আর রানির এক মেয়ে। তার বয়স এখন মোটে তিন। সে ক্ষমতা পেতে পারে ঠিকই, কিন্তু যুবতী হওয়ার আগে নয়। যদিও সে খুব বিচক্ষণ, এই বয়সেই অনেক বুদ্ধি তার। তবে রাজ্যচালনার ভার পেতে-পেতে আরও বছর পনেরো তো বটেই। সে অনেক পরের কথা। আপাতত এই মধ্যবয়সের গোড়ায় মহামন্ত্রীর হাতেই চলে আসছে গোটা রাজ্যের শাসনভার, এইটা ভেবেই তিনি খুশি। কী কী করবেন, সেসব তিনি ভেবে রেখেছেন অনেক আগে থাকতেই। রাজা কোনওদিন তাঁর একখানা পরিকল্পনাকেও সফল হতে দেননি। এই একটি ছাড়া। তাঁকে হত্যার। বাদবাকি সমস্ত পরিকল্পনা তিনি এবার একের পর এক সাজিয়ে নেবেন।

জানলা দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ঢুকে আসছে ঘরে, কাঠের মেঝেয় শুকিয়ে যাচ্ছে দুই সান্ত্রীর শেষ রক্ত। মহামন্ত্রী একবার দোতলায় উঠলেন। ওখানে এ-প্রাসাদের রসুইঘর। সন্তর্পণে দুটো পেঁয়াজ সংগ্রহ করে তবে গাড়ি চেপে রওনা দিতে হবে উপত্যকায়। তিনি নিজে আমিষ ছোঁন না, বাড়িতে পেঁয়াজের চল নেই তাই। কিন্তু কাল যখন রাজা রানির মৃত্যুসংবাদ ঘোষণা করবেন গোটা রাজ্যের বাসিন্দাদের সামনে, তখন চোখে একটুও জল না থাকলে খারাপ দেখাবে খুব।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%