শ্রীজাত
একেবারে একা-একা কোনও ভাল কাজ যদি বা করা যায়, একেবারে একা-একা কোনও খারাপ কাজ মোটেই করা যায় না। এটা সকলেই জানে, যেমন জানতেন এখনকার রাজা, আগেকার মন্ত্রীমশাই। তাই একজনকে এই সমস্ত কিছু করার জন্য সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। বিদূষক।
আগের রাজা আর রানি ভারী পছন্দ করতেন হাসিঠাট্টার পরিবেশ। রাজ্যে নানা মেলা আর উৎসব লেগেই থাকত। গানবাজনা, জাদুর খেলা, দূর থেকে আসা ভবঘুরেদের দলের নানা পরিবেশন সেখানকার আকর্ষণ হয়ে উঠত। কিন্তু সে তো মাঝেমধ্যে করা যায়। সারা বছর তো এসব চলতে পারে না, তাই বিদূষকের কাজ ছিল সারা বছর নানা দেশের হাসি-মজার গল্প শুনিয়ে রাজা, রানি আর সভাসদদের টাটকা রাখা। বৃদ্ধ মানুষ, পাকা চুল নেমে এসেছে কাঁধ অবধি, শীর্ণকায় দেহ তাঁর, কিছুটা ঝুঁকে, শিরা বের হয়ে আসা হাতে লাঠি আঁকড়ে তাঁকে পথ চলতে হয়। কিন্তু নজরটি তাঁর সাফ, আর তীক্ষ্ণ, অতি তীক্ষ্ণ তাঁর চাহনি। কারও দিকে যখন তাকান, মনে হয় তাঁর পাঁজর ভেদ করে দৃষ্টি চলে যাচ্ছে বুঝি।
এহেন বিদূষক যখন হাসি-মজার গল্প শোনাতেন সকলকে, তখন বাকিরা হেসে কুটিপাটি হলেও, বিদূষক থাকতেন এক্কেবারে গম্ভীর, যেন কিছুই হয়নি। হাসি যত বাড়ত, বিদূষক আরও গম্ভীর হয়ে উঠতেন। কথায় বলে, এই গোটা অরণ্য উপত্যকায় বিদূষককে কেউ একদিনও হাসতে দেখেননি। এমনকী, না, যিনি তাঁকে সব ষড়যন্ত্রের সঙ্গী হিসেবে পেয়ে গেলেন, সেই মন্ত্রীমশাইও আজ অবধি একবারের জন্যেও হাসি দেখেননি বিদূষকের ঠোঁটে। যেন তাঁর শুকনো ঠোঁটদুটো তৈরিই হয়েছে গম্ভীরভাবে হাসির কথা বলার জন্য। অবশ্য অন্য কথাও যে তিনি বলতে পারেন, এবং সেইটাই তাঁর আসল রূপ, এ-কথা মন্ত্রীমশাই জেনেছিলেন এক বর্ষার ঝমঝম রাতে, অরণ্যের মধ্যেকার বৈঠকমহলের প্রাসাদে, বাকিরা চলে গেলে।
রাজার কাছে চূড়ান্ত অপমানিত হয়ে মন্ত্রী দাঁড়িয়ে আছেন জানলার ধারে, সকলেই একে একে ছেড়ে যাচ্ছেন প্রাসাদ, এই বৃষ্টিতে অরণ্য পার করে উপত্যকায় ফিরতে নেহাত কম সময় লাগবে না। এমন সময়ে মহামন্ত্রীর কানের কাছে খুব মিহি স্বরে কে যেন বলে উঠল, “অপমানিত আর মৃতের মধ্যে খুব বেশি ফারাক নেই। বিশেষত, যদি সেই অপমান দিনের পর দিন চলতে থাকে।”
মন্ত্রীর মেজাজ এমনিতেই বিগড়ে ছিল, একটু আগেই বৈঠকে তিনি রাজ্যের সম্পদ বাড়ানোর জন্য পার্শ্ববর্তী রাজ্যে হামলা চালানোর কথা বলেছিলেন এবং রাজা সভাসমক্ষেই তাঁকে চূড়ান্ত অসম্মান করে বলে গিয়েছেন যে, যুদ্ধ নাকি তাঁদের কারও সংস্কৃতি নয় এবং যা সম্পদ আছে, তাই দিয়ে এখনও বহুদিন সুষ্ঠুভাবে রাজ্য চলবে, যদি না তার অপব্যবহার হয়। কিন্তু অপব্যবহার যে হচ্ছে, সেটা রাজা টের পেয়েছেন এবং সে নিয়ে তদন্তও করবেন। এ-কথা বলার পর মন্ত্রীর ভিতরটা রাগে লাল হয়ে যেতে থাকছিল, যদিও তিনি মুখে নরম হাসি নিয়ে বলেছিলেন যে, রাজ্যের কোনও সম্পদ যাতে খারাপ ভাবে ব্যয় না হয়, নিজের প্রাণ দিয়ে হলেও তা তিনি দেখবেন।
মন্ত্রীমশাইয়ের অনেক কিছু চাই। তিনি বিয়ে করেননি, বাড়িতে অভিভাবক বলতেও কেউ নেই, কিন্তু চাই তাঁর অনেক কিছুই। তাঁর চাই ধনসম্পদ, চাই ক্ষমতা, চাই এই পৃথিবীটাকে কিনে নেওয়ার মুরোদ। যা তাঁর নেই। সেই কারণেই, নানা খাতে যে মুদ্রা ব্যয় বরাদ্দ হয়, সেখান থেকে নানা খামতি শুরু হয়। বছরের শেষে খরচের হিসেব আর মেলে না। যেখানে যে-পরিমাণ অর্থ পৌঁছনোর কথা, পৌঁছয় না। সেসবের অনেকটাই পৌঁছয় মন্ত্রীমশাইয়ের নিজস্ব সিন্দুকে। তিনি ভাবেন, রাজা আপনভোলা মানুষ, তাঁর খেয়ালে এতসব আসবে না। কিন্তু সেদিনের বৈঠকে মন্ত্রীর টনক নড়ে যায়। রাজা ঠিকই খেয়াল করছেন অর্থ বরাদ্দের এই অসঙ্গতি। শুধু যে খেয়াল করছেন তা-ই নয়, তাঁর সন্দেহের নজর ইতিমধ্যেই মন্ত্রীমশাইয়ের দিকে পড়েও গিয়েছে। এমনিতে শান্তশিষ্ট মানুষ হলে কী হবে, রাজা ন্যায়ের বাইরে কোনও কিছু বরদাস্ত করতে পারেন না। আর সহ্য করতে পারেন না হিংসা।
সে অবশ্য এই চারপাশের সাত রাজ্যের রাজাদের কারও মধ্যেই কোনও হিংসা নেই। তাই যুদ্ধও নেই। কিন্তু এবারের বৈঠকে মন্ত্রীমশাই এ-কথাটাই বোঝাতে চেষ্টা করেছিলেন যে, রাজ্যের উন্নতি যদি চাইতে হয়, তা হলে তার সম্পদরাশিকে বহুগুণ বাড়াতে হবে। আর এক প্রজন্মে কেবল কৃষি, পশুপালন, রেশমের কাজ, মশলার চাষ দিয়ে তা অসম্ভব। তার জন্য চাই যুদ্ধ। পাশের রাজ্যগুলিতে শাসন কায়েম করে তাদের সম্পদ আহরণ করা। কিন্তু এ-কথা শোনামাত্রই রাজা রেগে আগুন হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, “আমাদের যা ধনসম্পদ আছে, তা দিয়ে আরও বহু প্রজন্মের জীবন ভালই কেটে যাওয়ার কথা। বিলাস তো এ-রাজ্যের মানুষের রক্তে নেই। আছে শান্তি। সেই শান্তি বিঘ্নিত করে আপনি যুদ্ধের কথা বলছেন মহামন্ত্রী?”
রাজার গলায় গরম টের পেয়ে নিজের সুর একটু নরম করে মন্ত্রী বললেন, “যুদ্ধ কি আজই হবে? তা কেন? যুদ্ধের প্রস্তুতিও তো লাগবে। এত বড় একটা সৈন্যদল রয়েছে আমাদের হাতে, এত উন্নত অস্ত্রভাণ্ডার, সেসব কি কোনওদিন কাজে লাগবে না মহামান্য রাজামশাই? আমরা ক্ষত্রিয়ের জাত, বীরত্ব আমাদের রক্তে। সেই জাত কি দিনের পর দিন কৃষিকাজ আর পশুপালন করে বেঁচে থাকতে পারে?”
রাজামশাই তাতেও বোঝার পাত্র নন। তিনি বললেন, “থাকতে যে পারে, সে তো দেখাই যাচ্ছে। আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে, পাশের রাজ্যদের সঙ্গে আমাদের কতদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক। এত বছরের ঐতিহ্যকে নষ্ট করে আমরা হঠাৎ যুদ্ধ ঘোষণা করতেই বা যাব কেন? কোনও যুক্তি আছে আপনার কাছে?”
গলায় আরও একটু জোর এনে মন্ত্রীমশাই উত্তর দিলেন, “আছে বই কী মহামান্য। কিন্তু সব কথা তো এই পূর্ণ বৈঠকে বলা সম্ভব নয়। কেবল এটুকু বলি, সুদূর ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমাদের ধনরাশি বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। আর একটা কথা। আপনি খেয়াল করেছেন কি না জানি না, পার্শ্ববর্তী সাতটি রাজ্যের নানা বাসিন্দা এক প্রজন্ম দুই প্রজন্ম ধরে আমাদের রাজ্যে এসে বাস করছেন, আমাদের নাগরিকদের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন। আমাদের জনসংখ্যা বাড়াচ্ছেন, আমাদের সম্পদ ভোগ করছেন, আমাদের মধ্যে আমাদেরই মতো হয়ে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যেই দেরি হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এখনও যদি রোখা না যায়, তা হলে বিনা যুদ্ধে দেশটা ওদেরই হাতে চলে যাবে।”
রাজা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন, তারপর বললেন, “ওরা? তা এই ওরা ঠিক কারা মহামন্ত্রী?”
“এইমাত্র যা বললাম মহামান্য রাজামশাই। ওরা বহিরাগত। একমাত্র যুদ্ধ ঘোষণা করলেই ওদের আসল রূপ বেরিয়ে আসবে, তখন ওদের চিহ্নিত করা সহজ হবে।”
“কেন? তখন কেন? আপনি তো জানেন কারা-কারা বাইরে থেকে এসে এখানে দিনের পর দিন আছে। তা হলে তাদের চিহ্নিত করতে যুদ্ধের মতো একটা বড় ব্যাপার লাগবে কেন মহামন্ত্রী?”
রাজার গলার স্বরে একটা কড়া কৌতুক টের পাচ্ছিলেন মন্ত্রীমশাই, সেটাকে হজম করে নিয়েই উত্তর দিলেন, “কেননা, দুঃখের বিষয়, ওরা এখন আমাদের মধ্যে মিশে গিয়েছে। এভাবে ওদের খুঁজে বের করা আরও দুষ্কর।”
“হুম। বুঝলাম। তা ধরুন খুঁজে পাওয়াও গেল যে কারা-কারা বহিরাগত। তাদের জন্য তখন কী ব্যবস্থা হবে?”
এবার বুকে একটু জোর পেলেন মন্ত্রীমশাই। রাজা তবে কান দিচ্ছেন তাঁর পরিকল্পনায়, “সহজ কাজ মহামান্য রাজামশাই। তাদের এ-রাজ্যের বাসিন্দা হিসেবে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বলা হবে। করতে পারলে তাঁরা স্বচ্ছন্দে থেকে যেতে পারেন এখানে।”
“ধরুন যদি কেউ না করতে পারে, তখন?”
“তখন তাকে চলে যেতে বলা হবে, যেখান থেকে সে এসেছে। এও তো সহজ!”
“তাই? খুব সহজ? হয়তো তাঁর ঠাকুরদার বাবা এসেছিলেন এ-রাজ্যে, দেড় শতক আগে। হয়তো তাঁর দিদিমার মা এসেছিলেন এক শতক আগে। তারপর তাঁরা এ-রাজ্যে থেকেছেন, এ-রাজ্যের আচার আচরণ সহবত সংস্কৃতি পালন করেছেন, রাজ্যের জন্য নিজের শ্রম দিয়েছেন, রাজ্যের সম্পদ ও সম্মান বৃদ্ধি করেছেন। সেই এক বা দেড় বা দুই দশকে এ-রাজ্য তাদের পরিবার থেকে যা যা পেয়েছে, চলে যাওয়ার আগে সেইসব যদি তাঁরা ফেরত চান হাত পেতে, ফিরিয়ে দিতে পারবেন তো, মহামন্ত্রী?”
সভাসদেরা চুপ। রাজা চুপ করে একদৃষ্টে তাকিয়ে মহামন্ত্রীর মুখের দিকে। ঘেমে ওঠা একখানা মুখ, যা লজ্জায় ও রাগে লাল হয়ে আছে। সেই মুখেই কোনওরকমে একখানা হাসি ফুটিয়ে মন্ত্রীমশাই বললেন, “আপনার সঙ্গে কথায় আমি পারব না মহামান্য রাজামশাই। তর্ক করতে যাওয়াও আমাকে শোভা পায় না। আমি কেবল এইটুকু বলেই আমার বক্তব্য শেষ করব, আমাদের সম্পদ অচিরেই ধ্বংস হবে এইসব বহিরাগতদের জন্য। তখন অনুতাপের জন্যও বড় দেরি হয়ে যাবে। আমাদের হাতে তখন আর কোনও উপায় থাকবে না। যুদ্ধই আমাদের একমাত্র উপায়। খুব বিনীত ভাবেই আমার এ-মত আপনাকে জানিয়ে আজ আমার বক্তব্য শেষ করলাম।”
রাজা উঠে দাঁড়ালেন। নিয়ম মতো সকলেই উঠে দাঁড়ালেন, মন্ত্রীমশাই দাঁড়িয়েই ছিলেন। রাজা সকলকে দু’হাতের আশ্বস্ত ইশারায় বসতে বললেন, তাঁর মুখে ভারী মৃদু একখানা হাসি। তিনি বৈঠকঘরের কাঠের মেঝেয় জুতোর শব্দ তুলে পায়চারি করতে করতে বললেন, “খুব ছোটবেলায়, আমার ঠাকুমার কাছে একখানা গল্প শুনেছিলাম। আজ, আপনাদের সকলের সামনে তা হলে ভাগ করে নিই সেটা। আমার যখন সাত বছর বয়স, ঠাকুমা আমার জন্য ভারী চমৎকার আর অন্যরকমের একখানা পশমের পোশাক বুনেছিলেন। তার নকশা যেমন আনকোরা, তেমনই তার ধরন এক্কেবারে অচেনা। আমাদের রাজ্যে এমন পোশাক দেখাই যায় না। আমি হাতে পেয়ে ভারী অবাক হয়ে ঠাকুমার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, এ কোথাকার পোশাক? তখন ঠাকুমা বলেছিলেন, এক ভিনরাজ্যের কথা। সেখানকারই নকশা ছিল সেই পোশাকে। আমার ঠাকুরদার ঠাকুরদা ছিলেন বহুদূরের সেই ভিনরাজ্যের সেনাপতি। এই পর্বতমালা পেরিয়ে হাজার ক্রোশ পথ পার করে সেই রাজ্য। সেখানে সারা বছর তুষার, সেখানে মানুষের ভাষা, মানুষের খাদ্য, তার চাল চলন, পোশাক, সমস্ত কিছু আমাদের এই রাজ্যের চেয়ে একেবারে আলাদা। আমার ঠাকুরদার ঠাকুরদা ছিলেন সেই রাজ্যের বাসিন্দা, সেখানকার রাজার সেনাপতি। একবার অতর্কিতে বাইরের শত্রুরা ভয়াবহ আক্রমণ চালাতে তিনি যা-কিছু সঞ্চিত ধনরাশি নিয়ে, নিজের পরিবারকে নিয়ে পালাতে পালাতে পালাতে পালাতে এই অরণ্যে এসে পৌঁছন। এখানে তখন জনমানবের বাস নেই। সামনের উপত্যকাও ধু ধু করছে। কেবল গাছপালা আর পশুপাখি ছাড়া কিচ্ছু নেই। সেই সেনাপতি, মানে আমার ঠাকুরদার ঠাকুরদার সঙ্গে তাঁর অনেক অনেক অনুগামীরাও একই পথে পালিয়ে এসেছিলেন এখানে। যতদূর জানি, একই সঙ্গে এসেছিলেন আপনার পূর্বজও, মহামন্ত্রী। তিনি ছিলেন কোষাগারের রক্ষক। তাঁরা এসে, বসতি তৈরি করেছিলেন আস্তে-আস্তে। যথেষ্ট ধনসম্পদ তাঁরা সঙ্গে করে এনেছিলেন, তাই লুঠতরাজ চালাতে হয়নি। সেনাপতিই রাজা হন স্বভাবত। কিন্তু তিনি আইন করেন, যুদ্ধ কখনও হবে না। আর এ-রাজ্য হবে সবার। তিনি নিজে যেহেতু বিপদে পড়ে পালিয়ে এসেছিলেন, তাই কোনও বিতাড়িত শরণার্থীকে কখনও বিমুখ করা হবে না, এই ছিল তাঁর আইন। কেননা তিনি নিজে ছিলেন একজন বহিরাগত। সেই বহিরাগতর রক্তই আমার শরীরে বইছে, যে এখন আপনাদের রাজা। তা, আমাকে কোথায় চলে যেতে হুকুম করবেন, মহামান্য মন্ত্রী? আর আপনি নিজেই বা যাবেন কোথায়? কাল যদি পাল্টা প্রশ্ন ওঠে আমাদেরই নাগরিকত্ব নিয়ে, তখন প্রমাণ করতে পারবেন তো?”
একটা পাখি ডেকে উঠল বৈঠকঘরের জানলার বাইরের গাছটা থেকে। আগে এ-ডাকটা কখনও শোনা যায়নি। বহিরাগত পাখি হবে কোনও।
সকলে উঠে পড়লেন, এ-কথার পর যে মহামন্ত্রীর মুখ থেকে কথা সরবে না, তা বুঝে নিতে অসুবিধে হয় না কারওই। রাজা বেরিয়ে গেলেন, পিছুপিছু বাকিরাও। থেকে গেলেন শুধু একজন। খোঁড়াতে খোঁড়াতে, লাঠি হাতে ক্রুদ্ধ মহামন্ত্রীর কানের কাছে এসে তিনি বললেন, “অপমানিত আর মৃতের মধ্যে খুব বেশি ফারাক নেই। বিশেষত, যদি সেই অপমান দিনের পর দিন চলতে থাকে।”
মহামন্ত্রী চুপ করে শুনছেন। এখন মুখ থেকে কথা বেরোতে একটু সময়ই লাগবে তাঁর। বিদূষক বলে চললেন, “আমরা সকলেই বাইরে থেকে এসেছি, এই গ্রহে। সেই অর্থে সকলেই বহিরাগত। আর সকলকেই বাইরে আবার চলে যেতে হবে, গ্রহ ছেড়ে। সময় এলেই।”
আবার সেই অচেনা পাখির ডাক। বিদূষক থামলেন কিছুক্ষণ, তারপর নিজের শীর্ণ ডান হাতের পাতাটা ক্ষুব্ধ মহামন্ত্রীর কাঁধে রেখে বললেন, “রাজামশাইয়ের সময় এসে গিয়েছে।”
কথাটা বলেই একটা অস্বস্তিকর চাপা আর খোনা হাসি হেসে উঠলেন বিদূষক। এমন হাসিও আগে কখনও শোনেননি মন্ত্রীমশাই। হাসিটাও, তার মানে, বহিরাগত।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন