আশ্চর্য গেলাস

জেকব গ্রিম, ভিলহেল্‌ম্‌ গ্রিম

একটি লোকের পর পর এত ছেলে জন্মাতে লাগল যে তার যত বন্ধুবান্ধব ছিল সবাই একটি একটি করে তার ছেলেদের ধর্মবাবা হবার পর বন্ধু ফুরিয়ে গেল। যখন তার আরও একটি ছেলে জন্মালো সে ভেবেই পেল না এবার কাকে ধরবে!

একদিন রাত্রে চিন্তান্বিত হয়ে যখন সে ঘুমিয়ে পড়ল সে এক আশ্চর্য স্বপ্ন দেখল। স্বপ্ন দেখল কে যেন তাকে বলছে— কাল সকালে বেরিয়ে প্রথমেই যাকে দেখবে তাকেই তোমার ছেলের ধর্মবাবা হতে বলবে। ঘুম ভেঙে উঠে সে ঠিক করল স্বপ্নে যে আদেশ পেয়েছে তা-ই করবে। তাড়াতাড়ি পোশাক পরে সে বেরিয়ে গেল। দরজা পেরতেই একজন অচেনা লোকের সঙ্গে তার দেখা। সে বলল— আপনি আমার ছেলের ধর্মবাবা হবেন?

অচেনা লোকটি সে প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তার হাতে একটা গেলাস দিয়ে বললে— এটি একটি অতি আশ্চর্য গেলাস। এতে যে জলই ভরবে, সেই জলের গুণে রুগীর রোগ ভালো হয়ে যাবে। কিছু না, শুধু দেখো যমরাজ কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন— রুগীর মাথার কাছে না পায়ের কাছে? যদি দেখ যম মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আছেন তাহলে জল খাইয়ে দিও, রুগী দেখতে দেখতে ভালো হয়ে উঠবে। যদি দেখ যম পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে আছেন তাহলে বুঝবে যে রুগী মরবেই—জল খাইয়েও কিছু হবে না।

অচেনা লোকটি তারপর তার ছেলের ধর্মবাবা হতে রাজি হল।

এদিকে লোকটি সেই আশ্চর্য গেলাসের গুণে প্রচুর নাম প্রচুর টাকা করে ফেলল। গেলাসের জলের আশ্চর্য রোগ সারাবার ক্ষমতা, তা ছাড়া গেলাস হাতে থাকলে আগে থেকেই সে বলে দিতে পারত রুগী বাঁচবে না মরবে। চারিদিকে তার খ্যাতি ছড়াতে ছড়াতে শেষে রাজার কানে উঠল। রাজা তাকে ডেকে পাঠালেন। রাজার এক ছেলের খুব অসুখ। এই আশ্চর্য ডাক্তার রাজপুত্রের ঘরে ঢুকেই দেখলেন যম মাথার কাছে দাঁড়িয়ে। তখন তাকে গেলাসের জল খাইয়ে সারিয়ে তুলতে আর কতক্ষণ? এরপর রাজা আবার তাকে ডেকে পাঠালেন। সেবারেও ওই একই ব্যাপারে। কিন্তু তিন বারের বার যখন ডাক্তার এলেন, তিনি দেখলেন এবার যমরাজ ছেলের পায়ের কাছে বসে রয়েছেন। তিনি বুঝলেন এ ছেলে আর বাঁচবে না। রাজাকে তাই বলে তিনি চলে গেলেন। ছেলে মারা গেল।

এর কিছুদিন পরে ডাক্তারের কৌতূহল হল দেখতে কোথায় তাঁর ছেলের ধর্মবাবা যিনি তাঁকে এমন আশ্চর্য গুণ-ওয়ালা গেলাস দিয়েছেন তিনি থাকেন, কেমনই বা আছেন তিনি। কিন্তু তাঁর বাড়িতে পৌঁছে ডাক্তার চমকে উঠলেন। বাড়ির সিঁড়ির প্রথম ধাপে একটা ঝাঁটা আর একটা ন্যাতা পরস্পর ঝগড়া করছে আর ভীষণ মারামারি করছে।

ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন— বাড়ির কর্তা কোথায়?

ঝাঁটা বলল— এক ধাপ উপরে।

ডাক্তার দ্বিতীয় ধাপে উঠে দেখলেন, এক গাদা কাটা আঙুল পড়ে রয়েছে।

তিনি আবার জিজ্ঞেস কলেন— কর্তা কোথায়?

একটা কাটা আঙুল বললে— এক ধাপ উপরে।

তৃতীয় ধাপে দেখা গেল স্তূপাকার মানুষের কাটা মাথা। তারা ডাক্তারকে আর এক ধাপ উপরে দেখিয়ে দিল।

চতুর্থ ধাপে একটা গরম কড়াইয়ে একটি মাছ চিড়বিড় করে নিজেই নিজেকে ভাজছে।

মাছ বলল— আর এক ধাপ উপরে যান।

পঞ্চম ধাপে পৌঁছে ডাক্তার দেখলেন ঘরে যাবার একটা দরজা রয়েছে। দরজার গায়ে চাবির ফুটো; তার মধ্যে চোখ দিয়ে দেখতে পেলেন ধর্মবাবা বসে আছেন। কিন্তু কি আশ্চর্য, তাঁর মাথায় যে প্রকাণ্ড দুই শিং! ডাক্তার ঘরে ঢুকতেই শিং-ওয়ালা ধর্মবাবা তাড়াতাড়ি ছুটে গিয়ে বিছানায় ঢুকেই নিজের উপর চাদর চাপা দিয়ে দিল।

ডাক্তার তখন বললেন— এরকম অতি অদ্ভুত বাড়ি আমি তো কখনও দেখিনি মশাই— এর মানে কি? বাড়িতে ঢোকবার সিঁড়িতে কত রকমের বিচিত্র ভয়াবহ জিনিস। সবাই বলে, এক ধাপ করে উপরে যাও। তারপর যখন এই ঘরের দরজার সামনে এসে পৌঁছলুম, চাবির ফুটো দিয়ে উঁকি মেরে দেখি মাথায় এক জোড়া শিং নিয়ে আপনি বসে আছেন!

এখন, শিং থাকে কার? মাথায় শিং থাকে স্বয়ং শয়তানের!

যেই না ঐ কথা বলা অমনি ধৰ্মবাবা বজ্রের মতো গলায় ধমকে উঠলেন— কখ্‌খনো না! মিথ্যে কথা!

সেই শুনে ডাক্তার ভয়ে ছুটে পালাতে গেলেন। কিন্তু তারপর যে কি হল কেউ জানে না। কারণ সেই ডাক্তারকে আর কেউ কোনোদিন দেখেনি।

সকল অধ্যায়
১.
ভূমিকা
২.
তুষারিণী আর সাত বামনের গল্প
৩.
লাল-ঢাকা খুকি
৪.
বারো ভাইয়ের গল্প
৫.
চরকা-কাটা তিন বুড়ি
৬.
হাঁস-চরানি মেয়ে
৭.
মুচি আর দুই পরী
৮.
সোনার পাহাড়ের রাজা
৯.
খুনীর সঙ্গে বিয়ে
১০.
বুড়ো-আংলা টম
১১.
ব্যাঙ ও রাজকন্যা
১২.
ধড়ফড়ি মাছ
১৩.
বুনো গোলাপের বেড়াল
১৪.
রুম্‌পেল্‌-স্টিল্‌ট্‌-স্খেন্‌
১৫.
পাঁশমনি
১৬.
কাঁপুনি শেখার গল্প
১৭.
সুলতান কুকুরের গল্প
১৮.
নেকড়ের বড়াই
১৯.
শেয়াল আর বেড়ালের গল্প
২০.
ফুর্তিভায়ার অ্যাড্‌ভেঞ্চার
২১.
এক-চোখো, দু-চোখো আর তিন-চোখো
২২.
বুড়ো ঘোড়া
২৩.
নেকড়ে আর শেয়ালের গল্প
২৪.
বনের বাড়ি
২৫.
জীবন-বারি
২৬.
জুনিপার গাছ
২৭.
বুড়ো আর তার নাতি
২৮.
দুই পথিকের গল্প
২৯.
চোর-চূড়ামণি
৩০.
ফ্রিয়েম মাস্টার
৩১.
একটি পেরেক
৩২.
নাচুনি রাজকন্যা
৩৩.
দোয়েল আর ভাল্লুক
৩৪.
নেকড়ে বাঘ আর সাতটি ছাগলছানা
৩৫.
রোলাণ্ডের গল্প
৩৬.
নুটুরানী
৩৭.
আশ্চর্য সালাদ
৩৮.
হানস্‌ল্‌ ও গ্রেট্‌ল্‌
৩৯.
গোলাপ-খুকি
৪০.
লোহার হান্স্‌
৪১.
ব্রেমেন শহরের বাজিয়ের দল
৪২.
খড়, কয়লা আর শিমের বিচি
৪৩.
পাখিয়া
৪৪.
কার্ল কাটৎস-এর ঘুম
৪৫.
সাত-সাবাড়ে দর্জির গল্প
৪৬.
রাখাল ছেলে
৪৭.
হাঁদুরামের সোনার হাঁস
৪৮.
বারোটি শিকারীর গল্প
৪৯.
দাঁড়কাক
৫০.
সাদা সাপ
৫১.
হাতকাটা মেয়ে
৫২.
তিন রকমের ভাষা
৫৩.
ইচ্ছা-পূরণ
৫৪.
ভালুচাম
৫৫.
সিংহ রাজপুত্র
৫৬.
চাষীর চালাক মেয়ে
৫৭.
চাষী আর শয়তান
৫৮.
চতুরা গ্রেট্‌ল্‌
৫৯.
কে কত বোকা
৬০.
চাকিওলার চাকর আর তার বেড়াল
৬১.
কাঁচের কাফিন
৬২.
খরগোস আর সজারুর গল্প
৬৩.
পাতালরাজের মাথায় তিন সোনার চুল
৬৪.
ভাই-বোন
৬৫.
হুতুম-থুমো
৬৬.
ইঁদুর, পাখি আর সসেজ
৬৭.
বেড়াল আর ইঁদুরের সংসার
৬৮.
সাতটি দাঁড়কাক
৬৯.
ফ্রেডেরিক ও ক্যাথেরিন
৭০.
তিন টুকরো সাপ
৭১.
হাড়ের গান
৭২.
চতুরা এল্‌সি‌
৭৩.
সর্বনেশে অতিথি
৭৪.
আশ্চর্য গেলাস
৭৫.
শেয়াল আর হাঁসের দল
৭৬.
ডাক্তার সবজান্তা
৭৭.
ধনী কৃষকের গল্প
৭৮.
তিনটি কঠিন কাজ
৭৯.
কাঠুরের মেয়ে
৮০.
আশ্চর্য এক বাজনদার
৮১.
স্বর্গে ঢুকে দর্জি কি করেছিল
৮২.
ট্রুডে গিন্নী
৮৩.
যমরাজের ধর্মছেলে
৮৪.
ছোট চাষী
৮৫.
নেকড়ে-বৌ আর শেয়ালের গল্প
৮৬.
শবাচ্ছাদনী
৮৭.
সূর্যের আলোয় সব কিছু প্রকাশ হবে
৮৮.
সুন্দর কনে আর কালো কনে
৮৯.
গাধা
৯০.
অকৃতজ্ঞ পুত্র
৯১.
আকাশ-ঝরা টাকা
৯২.
চুরি-করা আধলা
৯৩.
কোন কন্যা সব চেয়ে ভালো
৯৪.
শ্লাউরাফ্‌ফেন দেশের গল্প
৯৫.
ডিট্‌মার্শের আশ্চর্য গল্প
৯৬.
বিচক্ষণ চাকর
৯৭.
স্বর্গের দ্বারে কৃষক
৯৮.
জীবনের দৈর্ঘ্য
৯৯.
মৃত্যু-দূত
১০০.
ঈভের নানান ছেলেমেয়ে
১০১.
কবরের মধ্যে গরীব ছেলেটি
১০২.
অলস বৌ
১০৩.
কুকুর আর চড়াইয়ের গল্প
১০৪.
কুঁড়ে হরি
১০৫.
য়োরিণ্ডা আর য়োরিঙ্গেল
১০৬.
বুড়ো বাপের তিন ছেলে
১০৭.
বিশ্বাসী জন্‌
১০৮.
গোলাপ কুমারী

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%