ভূতুড়ে বাড়ি

উপমন্যু রায়

হানাবাড়ি নামটার মধ্যেই কেমন যেন একটা গা-ছমছমে ব্যাপার আছে। আছে রহস্যের গন্ধ। হানাবাড়ি বা ভূতুড়ে বাড়ি বলতে আমরা সাধারণত পুরোনো ও পরিত্যক্ত স্থান বা বাড়িকেই বুঝি। এই স্থান বা বাড়ি দেখলেই একটা আলাদা অনুভূতি হয়। হয়তো তার প্রাচীনতা এর অন্যতম কারণ।

তবে একটা বিষয় পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই দেখা যায়। এইসব বাড়ি বা স্থান বেশিরভাগ সময়েই এড়িয়ে চলেন অধিকাংশ মানুষ।

এমন স্থান বা বাড়িই নাকি নানা বিদেহী আত্মা বা অজানা শক্তির অবাধ বিচরণক্ষেত্র। কখনো মধ্য দুপুরে বা অধিকাংশ সময়েই রাতের দিকে এইসব স্থান বা বাড়ির রহস্য নাকি ঘুম ভেঙে জেগে ওঠে। আর সেসবের অস্তিত্বও নাকি অনেকেই টের পান!

বলা হয়ে থাকে, ওই সব বিদেহী আত্মা বা শক্তি হল আসলে সেখানকার কোনো এক সময়ের বাসিন্দা। কোনো ভয়ংকর বা দুঃখজনক ঘটনার কারণে সেবা তারা হয় সেখানে খুন হয়েছে, অথবা কোনো দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মারা গিয়েছে কিংবা আত্মহত্যা করেছে।

হানাবাড়ি সম্পর্কে মোটামুটি প্রথম অভিজ্ঞতার খবরটি জানা যায় প্লিনি দ্য ইয়ঙ্গারের (৬১—সি১১৩) চিঠি থেকে।

এই প্লিনি ছিলেন প্রাচীন রোমের আইনজীবী, লেখক এবং হাকিম। তাঁর কাকা, যাঁকে প্লিনি দ্য এলডার বলা হয়, শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত হতে তাঁকে যথাসাধ্য সাহায্য করেছিলেন। কাকা এবং ভাইপো, দু-জনেই ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সাক্ষী হয়েছিলেন।

প্লিনি দ্য ইয়ঙ্গার তাঁর গুণগ্রাহী, বন্ধু-স্বজনকে শ-খানেক চিঠি লিখেছিলেন। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে চিঠিগুলির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আজ অনেক। এর মধ্যে তাঁর অনুগামী লুসিয়াস সুরাকে লেখা চিঠিতে তিনি এথেন্সের হানাবাড়ির কথা উল্লেখ করেন।

আর, এথেন্সের সেই হানাবাড়িই আজ ইতিহাসে পরিণত হয়েছে। অন্তত যাঁরা ভূতুড়ে বাড়ি নিয়ে চর্চা করেন, তাঁদের কাছে এই বাড়ির তাৎপর্য নি:সন্দেহে অনেকখানি। তাঁরা হানাবাড়ি নিয়ে বিভিন্ন আলাপ-আলোচনায় উদাহরণ হিসেবে এথেন্সের সেই হানাবাড়ির কথাই বলে থাকেন।

এই হানাবাড়ি বা ভূতুড়ে বাড়ির কথা বলতে গেলে অবধারিতভাবেই উঠে আসবে অ্যাথেনোডোরাসের কথা। তিনি ছিলেন এক গ্রিক দার্শনিক। তাঁর জন্ম তুরসাসের কাছে কানানায়। এই তুরসাসই এখনকার তুরস্ক।

অ্যাথেনোডোরাসের বাবা ছিলেন স্যানডন। পোসিডোনিয়াসের ছাত্র ছিলেন অ্যাথেনোডোরাস। আর তাঁর ছাত্র ছিলেন অ্যাপোলোনিয়ার অক্টাভিয়ান। এই অক্টাভিয়ানই ভবিষ্যতের বিখ্যাত সিজার অগাস্টাস।

দার্শনিক অ্যাথেনোডোরাস এথেন্স শহরে না-আসা পর্যন্ত এই বাড়িতে কেউ বাস করতেন না। অথচ বাড়িটি ফাঁকা ফেলে রাখতে চাইছিলেন না বাড়ির মালিক। বাড়িটিতে যাতে মানুষ বাস করেন, সেইজন্য তাঁর তরফে কম উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মালিকের তরফে যাঁরা থাকার জন্য ভাড়াবাড়ি খুঁজতেন, তাঁদের যথেষ্ট কম ভাড়ার প্রলোভনও দেখানো হয়েছিল।

কিন্তু কী আশ্চর্য, তবুও কেউ ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতে চাইতেন না। কারণ আর কিছুই নয়, ভয়। আসলে কেউ সেই বাড়িতে থাকার কথা ভাবতেই পারতেন না। রাতের দিকে সেই বাড়ির প্রকৃতি নাকি বদলে যায়। সেই বাড়িতে নাকি ভয়ংকর একটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে চলে রাতের অন্ধকারে—একথা লোকমুখে তখন প্রচারিত হয়ে গিয়েছিল।

যাঁরা জানেন, তাঁরা বলতেন, সেই বাড়িতে নাকি এক বৃদ্ধের প্রেত বাস করতেন। যাঁরা আগে ভুল করে বা সাহস দেখিয়ে সেই বাড়িতে বাস করতে গিয়েছেন, তাঁদের সকলেই সেই প্রেতকে নাকি দেখেছেন। তারপর তাঁরা সকলেই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না-করে সেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন।

সব শুনেছিলেন অ্যাথেনোডোরাসও। কিন্তু উপায় নেই। এথেন্সে থাকার জন্য তাঁর একটি বাড়ি দরকার ছিল। তাই ওই বাড়ি সম্পর্কে যেসব ঘটনার কথা প্রচলিত ছিল, সেসবের কিছুকেই তিনি গুরুত্ব দিলেন না। থাকতে চলে এলেন সেই বাড়িতে।

অ্যাথেনোডোরাস ওই বাড়িতে বাস করতে শুরু করার প্রথম রাতেই ঘটল সেই ঘটনা। সেই রাতেই তিনি সম্মুখীন হলেন সেই রহস্যময় বৃদ্ধের।

তখন রাত বেশ গভীর। দর্শনের একটি বই লেখার কাজে ব্যস্ত ছিলেন অ্যাথেনোডোরাস। তখনই তিনি দেখেন সেই রহস্যময় বৃদ্ধকে।

কিন্তু সেই বৃদ্ধকে দেখে অ্যাথেনোডোরাস রীতিমতো অবাক হলেন। তাঁকে তিনি দেখলেন অদ্ভুত অবস্থায়। বৃদ্ধ সম্পূর্ণ চেনবঁাধা অবস্থায় রয়েছেন। কেউ যেন তাঁকে ওই চেন দিয়ে বেঁধে রেখে গিয়েছে।

ভাবলেন, এ-ই কি সেই বৃদ্ধ? তাঁর মনে প্রশ্ন জাগল, তাহলে এই বৃদ্ধই কি সেই প্রেত? যদি তা-ই হয়, তাহলে বৃদ্ধ কেন চেনবঁাধা অবস্থায় সেখানে পড়ে রয়েছেন? তিনি কেন নিজেকে সেই চেনবঁাধা অবস্থা থেকে মুক্ত করছেন না? তাহলে কি চেন খোলার ক্ষমতা তাঁর নেই? তাহলে?

অ্যাথেনোডোরাসের ভাবনা সেখানেই থেমে রইল না। তাঁর মনে হল, যাঁর চেন খোলার ক্ষমতাই নেই, তাঁকে কেন মানুষ ভয় পায়? তিনি তো মানুষের কোনো ক্ষতি করতে পারবেন না! —সত্যিই তো, যিনি নিজের চেন খুলতে পারেন না, তিনি মানুষের ক্ষতি করবেন কী করে?

অতএব অ্যাথেনোডোরাস ভীত হলেন না। তিনি ওই বৃদ্ধকে সরাসরি ইশারা করলেন। মানে, কাছে ডাকলেন।

কিন্তু, বৃদ্ধ নীরব রইলেন।

অবাক হলেন তিনি। এ কেমন বৃদ্ধ প্রেত! যাঁকে দেখা যায়, যিনি অ্যাথেনোডোরাসের ইশারা বুঝতে পারেন অথচ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারেন না? আবার, চলেও যান না!

এই খেলা চলল কিছুক্ষণ। অ্যাথেনোডোরাসও হেরে যাওয়ার পাত্র নন! চালিয়ে গেলেন ইশারা। বলার চেষ্টা করলেন, কাছে আসুন, একটু কথা বলি। আপনার যদি কিছু বলার থাকে তো আমাকে খুলে বলুন।

কিন্তু বৃদ্ধ তাঁর কাছে যেমন আসেন না, আবার চলেও যান না। তবে অ্যাথেনোডোরাসের ইশারা দেখে যেতে থাকেন।

তাঁর দৃষ্টি বেশ অদ্ভুত লাগে অ্যাথেনোডোরাসের। কেমন যেন স্থির! যেন কোনো মৃত মানুষের দৃষ্টি! অদ্ভুত ঠাণ্ডা হাওয়া যেন বরফের মতো জমে রয়েছে সেই দৃষ্টিতে!

এভাবেই কেটে গেল বেশ কিছুটা সময়। তারপর একসময় বৃদ্ধ চলতে শুরু করলেন। দুঃখিত, তিনি বৃদ্ধ নন, বৃদ্ধের আত্মা বা প্রেত।

অ্যাথেনোডোরাস তাঁকে অনুসরণ করলেন। বাড়ির নির্দিষ্ট একটি জায়গায় এসে দাঁড়ালেন সেই বৃদ্ধ। দাঁড়িয়ে পড়লেন অ্যাথেনোডোরাসও। বৃদ্ধ স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন অ্যাথেনোডোরাসের দিকে।

তারপর ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যেতে লাগলেন। রীতিমতো অবাক হয়ে তাঁর সেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া দেখলেন অ্যাথেনোডোরাস।

বৃদ্ধের আত্মা চলে যাওয়ার পর বৃদ্ধ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলেন সেখানে গেলেন অ্যাথেনোডোরাস। ভালো করে সেই জায়গাটা দেখলেন। কিন্তু সেখানে কিছুই নেই! তবে সেই স্থানটি সতর্কভাবে চিহ্নিত করে রাখলেন।

পরদিন সকালে অ্যাথেনোডোরাস শহরের হাকিমকে অনুরোধ করেন সেই স্থানটি দেখার জন্য। হাকিম আসেন। স্থানটি দেখেনও।

স্থানটি শুধু দেখাই নয়, দেখার পর কিছুক্ষণ ভাবেনও। বুঝতে পারেন, ওই মাটির তলাতেই রয়েছে যাবতীয় রহস্য। আর অপেক্ষা করলেন না তিনি। নির্দেশ দিলেন মাটি খোঁড়ার।

হাকিমের নির্দেশে মাটি খোঁড়া হয়। মাটি খুঁড়ে চেনবঁাধা অবস্থায় সেই বৃদ্ধের একটি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়!

তখন অ্যাথেনোডোরাস ধর্মীয় নিয়ম মেনে বৃদ্ধের সেই কঙ্কালটি কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন।

আশ্চর্যের বিষয় হল, চেনবঁাধা সেই বৃদ্ধকে আর সেই বাড়িতে দেখা যায়নি। অ্যাথেনোডোরাস যেমন দেখেননি, পরবর্তীকালে অন্য কেউই বৃদ্ধটিকে আর দেখতে পাননি।

অতিপ্রাকৃত ঘটনার গবেষকরা এই আত্মা বা শক্তিরই অনুসন্ধান করে থাকেন সেইসব জায়গা বা বাড়িতে।

আমাদের কলকাতায়ও এমন বহু পুরোনো বাড়ি আছে, যেখানে অনেকেই অনেকসময় এমনই কিছু দেখেছেন বলে দাবি করে থাকেন।

যদিও রাজনীতির সৌজন্যে, কিছু প্রোমোটারের দাক্ষিণ্যে সেইসব পুরোনো বাড়ি আজ দখল হয়ে যাচ্ছে। আর, সেখানে গজিয়ে যাচ্ছে দেশলাই বাক্সের মতো সব আকাশছোঁয়া ফ্ল্যাটবাড়ি। আমরা বুঝতেও পারছি না, এভাবেই কলকাতা থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে সমস্ত রহস্য, রোমাঞ্চ আর ইতিহাস।

থাক সেসব কথা। হ্যাঁ, যেকথা বলছিলাম—

ধরা যাক দমদমে নাগেরবাজারে যশোহর রোডের একটি গলির ভিতরে থাকা সেই বাড়িটির কথা। দেখেই বোঝা যায় বেশ পুরোনো বাড়ি সেটি।

গভীর রাতে ওই বাড়িতে নাকি মাঝে মাঝে এক সুপুরুষ সাহেব ও তাঁর সঙ্গীদের দেখা যায়। কখনো কখনো তাঁরা একসঙ্গে মদ্যপানও করেন। কখনো কী জানি কী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁরা গম্ভীর আলোচনায় ব্যস্ত থাকেন। আবার কখনো গভীরভাবে কিছু যেন ভাবেন ওই সুপুরুষ সাহেব।

ওই সাহেবই কি ক্লাইভ?

কারণ, ওই বাড়িতেই একসময় থাকতেন রবার্ট ক্লাইভ। সেই রবার্ট ক্লাইভ! ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজনৈতিক অধিপতি।

বাড়িটি আসলে ছিল ওলন্দাজদের তুলোর গুদাম। পরে ওই বাড়িটির মালিকানা আসে নবাব আলিবর্দি খাঁয়ের কাছে।

১৭৫৭ সালে মিরজাফরদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ্দৌলাকে পরাজিত করার পর অন্যান্য অনেক সম্পত্তির সঙ্গে এই বাড়িটিও দখল করে নেয় ব্রিটিশরা।

তারপর বাড়িটিতে তখন থেকেই বসবাস করতে শুরু করেন ক্লাইভ। তখন ওই অঞ্চল ছিল নির্জন আর ঘন গাছপালায় ঘেরা। কোথাও কোথাও গভীর জঙ্গলে ভরা। সেই থেকে বাড়িটি ‘ক্লাইভ হাউস’ নামে পরিচিত।

ইতিহাস বলছে, ব্রিটেনে ফিরে যাওয়ার পর ক্লাইভ আত্মহত্যা করেন।

অনেকে বলেন, বাড়িটি খুব পছন্দের ছিল ক্লাইভের। তাই মৃত্যুর পরেও কলকাতার ওই বাড়িটির মায়া নাকি ত্যাগ করতে পারেননি তিনি। সেই কারণে ইংল্যাণ্ডে আত্মহত্যা করলেও এই বাড়ির টানেই সাত সাগর আর তেরো নদী পেরিয়ে এখানে বার বার ফিরে আসে তাঁর আত্মা।

কেউ কেউ দাবি করেন, এখনও নাকি প্রায় রাতেই তাঁকে দেখা যায় বাড়ির একটি ঘরে বসে মদ্যপান করতে। মাঝে মাঝে দেখা যায় বাড়ির ভিতরে তাঁকে গম্ভীরভাবে পায়চারি করতে। এমনকী, বাড়ির কোনো এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছু ভাবতেও নাকি তাঁকে দেখা যায়। কী জানি কী এত ভাবেন তখন!

আরও একটি ঘটনার কথা বলা যাক—

আমেরিকার ইলিয়নসের ডিকেটারের লিঙ্কন থিয়েটারেও এমন অশরীরী উপস্থিতির কথা অনেকেই বিশ্বাস করেন। এই থিয়েটারটি আসলে ছিল একটি হোটেল। নাম ছিল প্রিস্ট হোটেল। হোটেলটি তৈরি হয়েছিল ১৮৬০ সালে।

তারপর কয়েক দশকে বেশ কয়েক বার হোটেলটির নাম বদল হয়। কিন্তু সেটি হোটেল হিসেবেই থেকে যায়। আসলে হোটেলটি মালিককে কম লাভ দিত না। তাই কোনো মালিকই হোটেলের নাম বদলালেও ব্যাবসা বদলাননি।

কিন্তু সমস্ত ধারণাই বদলে যায় ১৯১৫ সালে। ওই বছর আগুন লেগে হোটেলটির এক-তলা সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘটনায় কমপক্ষে দু-জনের মৃত্যু হয়। এর পরের বছর এখানেই তৈরি হয় ‘দ্য লিঙ্কন থিয়েটার’।

এই থিয়েটারে আসা অনেকেই বিভিন্ন সময় এখানকার অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

বেশি রাতের দিকে এই থিয়েটারে নাকি অনেকের চলাফেরার শব্দ শোনা যায়। অনেকসময় কারও কারও আর্তচিৎকারও কানে আসে। মনে হয় যেন কেউ আগুনে পুড়ে মারা যাচ্ছে। বঁাচবার জন্য চিৎকার করে সাহায্য চাইছে!

আবার, এই হোটেলেই নাকি কাদের যেন ফিসফিস আলাপচারিতা শোনা যায়। অনেকে নাকি কাউকে ঝগড়া করতেও শুনেছেন। শুধু তাই নয়, সরাসরি না দেখলেও তাদের ছায়ামূর্তি দেখেছেন।

অনেকেই এই থিয়েটারে এমন সব রহস্যময় ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন বলে দাবি করেছেন, যা তাঁদের শিড়দাঁড়া দিয়ে হিমস্রোত বইয়ে দিয়েছে!

যদিও বিজ্ঞান-গবেষকরা এমন ধারণার সমর্থক নন। তাঁদের বক্তব্য, এমন বাড়ির রহস্যের কারণ তার প্রাচীনতা।

তাই এই ধরনের বাড়ির মধ্যে নানা কারণে শব্দ সৃষ্টি হতেই পারে। পরিত্যক্ত বা পুরোনো বাড়ি বলেই তা নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে।

আর, এমন বাড়িতে বিভিন্ন অস্বাভাবিক ঘটনা বা দৃশ্য দেখার মূল কারণ হতে পারে জেগে স্বপ্ন দেখা বা অতি-কল্পনা। আবার পরিবেশে বিষাক্ত পদার্থের প্রভাবেও নানা বিষয় বা বস্তু চোখের সামনে অনেকে দেখে থাকতে পারেন, যাকে আমরা হ্যালুসিনেশন বা অলীক কিছুর অস্তিত্ব বলে থাকি। তাই ওই দাবিগুলি তাঁরা দ্বিধাহীনভাবে উড়িয়ে দিয়ে থাকেন।

তবে বিষয়টি নিয়ে ২০০৫ সালে পৃথিবীজুড়ে সমীক্ষা চালিয়েছিল গ্যালপ নিউজ সার্ভিস। চমকে দিয়েছিল তাদের রিপোর্ট।

প্রসঙ্গত বলে রাখি, সমাজের বিভিন্ন বিষয়, যেমন—খাদ্য, কর্মসংস্থান, সুরক্ষা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানের দক্ষতা নিয়ে এই সংবাদ সংস্থাটি বিভিন্ন সময়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষা চালিয়ে থাকে।

গত দশ বছরে আরব বসন্ত, সিরিয়ার অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দার ওপরও তারা সমীক্ষা চালিয়েছে। তাদের সমীক্ষাকে উন্নত দেশগুলির সমাজ-বিশেষজ্ঞরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে ওই সংস্থাটির সমীক্ষাতেই ২০০৫ সালে উঠে এসেছে চমকে ওঠার মতো তথ্য। দেখা গিয়েছে, সারা পৃথিবীতে শতকরা সাঁইত্রিশ জন নাগরিকই হানাবাড়ি এবং তারমধ্যে পরাবাস্তব অস্তিত্ব সম্পর্কে বিশ্বাসী। এই বিশ্বাসীদের মধ্যে রয়েছে ২৮ শতাংশ কানাডীয় এবং ৪০ শতাংশ ব্রিটিশও। এই বিষয়ে ভালোই বিশ্বাস রয়েছে জার্মান, ডাচ, পোর্তুগিজ, স্পেনীয়, ইটালীয়, গ্রিক, ডেনিস, সুইডিশ ও বেলজিয়ানদের।

এবার আসা যাক মার্কিন নাগরিকদের কথায়।

আমাদের দেশে যেমন ভূতচতুর্দশী পালিত হয়, তেমনই আমেরিকা-সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে খ্রিস্টানদের মধ্যে হ্যালোইন ডে পালনের রীতি রয়েছে। বিভিন্ন দেশে হ্যালোইন ডে পালিত হয়ে থাকে ৩১ অক্টোবর। পাশ্চাত্যে এই দিনটি বার্ষিক ছুটির দিন হিসেবে স্বীকৃত।

সাধারণত এই দিনটিতে মৃত সেন্ট বা সাধু, শহিদ এবং বিশ্বস্ত সমস্ত বিদেহী আত্মাদের স্মরণ করা হয়। অনেকের মতে, হ্যালোইন বা অল হ্যালোজ ইভ হল খ্রিস্ট ধর্মের একটি বার্ষিক উৎসব।

তাঁরা মনে করেন, প্রাথমিকভাবে এই উৎসব কেলটিক ফসল কাটার উৎসব দ্বারা প্রভাবিত। আবার অন্য অনেকের মতে, এই উৎসবের স্বতন্ত্র উৎপত্তি সামহেন থেকে, যার মধ্যে সরাসরি খ্রিস্ট ধর্মের প্রভাব বর্তমান।

বিভিন্ন দেশের খ্রিস্টানরা ট্রিক-অর-ট্রিট, ভূতের পর্যটন, বনফায়ার বা আগুনের উৎসব, আজব পোশাকের পার্টি, আধিভৌতিক স্থানে ভ্রমণ, ভৌতিক সিনেমা দেখার মাধ্যমে এই উৎসব পালন করে থাকেন।

উনিশ শতকে আইরিশ ও স্কটিশ অভিবাসীরা এই উৎসব-ঐতিহ্য উত্তর আমেরিকাতে নিয়ে আসেন। ওই শতকের শেষ দিকে অন্য পশ্চিমি দেশগুলিতেও হ্যালোইন উৎসব উদযাপন শুরু হয়। এশিয়ায় জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যাণ্ডেও এই উৎসব পালিত হয়ে থাকে।

২০০০ সালের ২৫ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত এই বিষয়টি নিয়ে আমেরিকায় গ্যালপ পোল হয়েছিল।

এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল টেলিফোন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে। যাতে যাঁরা সমীক্ষায় অংশ নেবেন তাঁদের যেন কোনো অসুবিধে না-হয়।

এ ছাড়া টেলিফোনের দুই দিকে কে রয়েছেন, সেকথা দু-জনের কেউই জানতে পারবেন না। জাতীয় স্তরে মোট এক হাজার চার জনের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কথা বলা হয়েছিল। যাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল, তাঁদের সকলেরই বয়স ছিল আঠারো বছর বা তার বেশি।

হ্যালোইন উৎসব নিয়ে এক বারই এই পোল হয়নি। হয়েছে অনেক বার (প্রথম বার হয়েছিল ১৯৭৮ সালে)। তাতে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায়। দেখা গিয়েছে, ১৯৭৮ সালে আমেরিকার যত মানুষ ভূত বা ডাইনি তথ্যে বিশ্বাস করতেন, তাঁদের সংখ্যা পরবর্তী সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে ৩১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক বলেছেন, তাঁরা ভূত বিশ্বাস করেন। আবার ডাইনিদের সম্পর্কে বিশ্বাস রয়েছে ২২ শতাংশের। ১৯৭৮ সালে মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ বলেছিলেন, তাঁরা ভূতে বিশ্বাস করেন। ডাইনিদের প্রতিও বিশ্বাস ছিল ১১ শতাংশের।

এখন প্রশ্ন হল, মহিলা ও পুরুষের মধ্যে কারা ডাইনিদের বিশ্বাস করেন, আর কারাই-বা শুধু ভূতে বিশ্বাস করেন?

ওই সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, আমাদের এই পৃথিবীতে ডাইনি রয়েছে এমন বিশ্বাস মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের বেশি রয়েছে। যেখানে ২০ শতাংশ মহিলা বিশ্বাস করেন পৃথিবীতে ডাইনিশক্তি রয়েছে, সেখানে ওই বিশ্বাস রয়েছে ২৪ শতাংশ পুরুষের।

অন্যদিকে, ভূত বিশ্বাস নিয়ে দেখা যাচ্ছে পুরোপুরি বিপরীত চিত্র। ভূত বিশ্বাসীদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় মহিলার সংখ্যা বেশি। যেখানে ২৭ শতাংশ পুরুষের বিশ্বাস ভূত বলে কোনো অপশক্তি জগতে রয়েছে, তখন ওই বিশ্বাস রয়েছে ৩৪ শতাংশ মহিলার।

সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, মানুষের বয়স ভেদেও ভূতের ওপর বিশ্বাস বদলে গিয়েছে। আঠারো থেকে উনত্রিশ বছর বয়স যাঁদের, তাঁদের মধ্যে ৪৪ শতাংশই বিশ্বাস করেন ভূতের অস্তিত্বে। আবার যাঁদের বয়স ত্রিশ থেকে উনপঞ্চাশ বছরের মধ্যে, তাঁদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ ভূত বিশ্বাস করেন। কিন্তু পঞ্চাশ থেকে চৌষট্টি বছর বয়স যাঁদের, তাঁদের মধ্যে ভূতে বিশ্বাস রয়েছে তুলনায় অনেকটাই কম। যেমন, তাঁদের ১৯ শতাংশের ভূতে বিশ্বাস রয়েছে। আর যাঁদের বয়স চৌষট্টি-র বেশি, তাঁদের মধ্যে ভূত-জাতীয় অশরীরী অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন মাত্র ১৩ শতাংশ।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ভূত বা ভৌতিক স্থান প্রভৃতি বিষয়ে বিশ্বাস রয়েছে এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিকেরই।

পৃথিবীতে সবচাইতে উন্নত দেশটিতে ভৌতিক বিষয়ে এত মানুষের বিশ্বাস কেন, তারই উত্তর আজ খুঁজে চলেছেন সমাজতাত্ত্বিকেরা।

বিজ্ঞান যে ব্যাখ্যাই দিক, মার্কিন নাগরিকরা বিশ্বাস করেন আমাদের জগতের বাইরেও সমান্তরাল আরও একটি জগৎ রয়েছে এই পৃথিবীতে। সেই রহস্যময় জগতের বাসিন্দারাই আমাদের মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত করে দেয়।

এ ব্যাপারে উল্লেখ করা যেতে পারে ল্যাঙ্কাশায়ারের সমেশবেরি হলের কথা। হলটি খুবই পুরোনো। মূল বাড়িটি মধ্যযুগের। চোদ্দো শতকের কোনো এক সময়ে নাকি বাড়িটি নির্মিত হয়েছিল।

আশ্চর্যের বিষয় হল, এতদিন পরে এখনও লেডি ডরোথি সাউথওয়ার্থ এবং অন্যান্যদের অশরীরী উপস্থিতি নাকি ওই হলে রয়েছে।

তথ্য বলছে, নিজের প্রেমিক খুন হওয়ার পর থেকে লেডি ডরোথি সাউথওয়ার্থ ওই বাড়িতে বুকভরা বিষাদ নিয়ে পাগলের মতো ঘুরে বেড়াতেন।

আসলে ওই প্রেমিককে মেনে নিতে পারেনি ডরোথির পরিবার। তাই তাঁকে খুন করে গোপনেই কবর দিয়ে দেয় তারা।

সমেশবেরি হলটিতে দু-বার অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন ইয়ভেত্তে ফিয়েল্ডিম নামে এক মহিলা তদন্তকারী এবং তাঁর দল। আর সেই ‘প্যারানর্মাল শো’ সম্প্রচারিত হয়েছিল টিভিতে। নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মোস্ট হন্টেড’।

২০০৫ সালে প্রথম বারেই পাঁচটি পর্বে তা সম্প্রচারিত হয়।

আর, দ্বিতীয় বার ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে সম্প্রচারিত হয় তাঁদের দ্বিতীয় বারের অনুসন্ধানের ঘটনা। এই দ্বিতীয় বারের অনুসন্ধান-কাহিনির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মোস্ট হন্টেড লাইভ’।

এই অনুষ্ঠানটি ফের টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়। দেখানো হয় ঘোস্ট হন্টার্স ইন্টারন্যাশনালের একটি এপিসোডে। দশম এপিসোডে এই অনুসন্ধান-কাহিনি সম্প্রচারিত হয়। নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ক্যাসল অফ দ্য ড্যামড’।

২০০৪ এবং ২০০৯ সালে দু-বার এ বিষয়ে উৎসাহীরা অনুসন্ধান চালিয়ে তাঁদের উপস্থিতি আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন। হলে লাগানো ক্যামেরায় সেই অশরীরী উপস্থিতি ধরা পড়েছিল। কেবল তা-ই নয়, ঘোস্ট হন্টার্স ইন্টারন্যাশনালের একটি এপিসোডে এক বার সেই প্রমাণ দেখানোও হয়।

ক্যামেরা প্রথম এই অশরীরী উপস্থিতি ধরতে পারলেও মানুষ কিন্তু সেই প্রমাণের সাক্ষী হয়েছে তার আগেই অনেক বার। এমন দাবি করেছেন অনেকেই।

সাহিত্যেও বিশেষ জায়গা করে নিতে পেরেছে ভূতুড়ে বাড়ি।

আরব্য রজনী-তেও এমন বাড়ির উল্লেখ পাওয়া যায়। ‘কায়রোর আলি এবং বাগদাদের হানাবাড়ি’ গল্পেও এমন ভৌতিক রহস্যের কাহিনি বলা হয়েছে। এ ছাড়া হেনরি জেমস থেকে স্টিফেন কিং পর্যন্ত বহু আধুনিক লেখক তাঁদের অনেক লেখায় ভৌতিক বাড়ির কথা বলেছেন।

গথিক বা ভয়ের উপন্যাসেও ভৌতিক বিষয়বস্তু বিভিন্ন সময়ে প্লট বা উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পাঠকও সেই সব উপন্যাস পড়ে রোমাঞ্চিত হয়েছে। আর এখন তো গথিক সাহিত্যে, যেমন ড্রাকুলা, প্যারানর্মাল বিষয় ভিত্তিক উপন্যাসে ভৌতিক দুর্গ এবং অট্টালিকা প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও বইগুলি বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে।

ভূতুড়ে বাড়িকে বিষয় করে আন্তর্জাতিক সাহিত্যে যে-সমস্ত বইপত্র লেখা হয়েছে, তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ১৭৬৪ সালে ওয়ালপোলের লেখা দ্য ক্যাসল অফ অটর‌্যান্টো, ১৭৯০ সালে অ্যান র‌্যাডক্লিফের লেখা দুই খন্ডের আ সিসিলিয়ান রোম্যান্স, ১৭৯৪ সালে অ্যান র‌্যাডক্লিফেরই লেখা ‘দ্য মিস্ট্রিস অফ উডোলপো, ১৮৪৫ সালে এডগার অ্যালান পোর লেখা দ্য ফল অফ দ্য হাউস অফ উশার, ১৮৫১ সালে নাথানিয়েল হাউথ্রোনের লেখা দ্য হাউস অফ দ্য সেভেন গ্যাবলস, ১৮৯৮ সালে হেনরি জেমসের লেখা দ্য টার্ন অফ দ্য স্ক্রিউ, উইলিয়াম হোপ হজসনের ১৯০৮ সালে লেখা দ্য হাউস অন দ্য বর্ডারল্যাণ্ড। বইগুলি পাঠক মহলে যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছে।

এই বইগুলিতে ভূতুড়ে বাড়ির ওপর আলো ফেলেছিলেন লেখকরা। তবে শুধু এই কয়েকটি বইয়েই ভৌতিক জায়গা বা বাড়ির কথা বলা হয়নি, আরও অনেক বইয়েই লেখকরা রহস্যজনক ওই সব বাড়ি বা জায়গার কথা বিস্তারিতভাবে বলেছেন। ১৯২৪ সালে এইচ পি লাভক্র্যাফটের লেখা দ্য র‌্যাটস ইন দ্য ওয়ালস, শার্লে জ্যাকসনের ১৯৫৯ সালে দ্য হন্টিং অফ হিল হাউস, রিচার্ড ম্যাথসনের ১৯৭১ সালে লেখা হেল হাউস।

এ ছাড়াও হানাবাড়ি নিয়ে লেখা হয়েছে আরও অনেক বই। যেমন, জন বেলায়ারসের ১৯৭৩ সালে লেখা দ্য হাউস উইথ এ ক্লক ইন ইটস ওয়ালস, স্টিফেন কিং-এর ১৯৭৫ সালে লেখা সালেমস লট ও ১৯৭৭ সালে লেখা দ্য সাইনিং, ১৯৭৭ সালেই জে অ্যানসনের লেখা দ্য অমিতিভিল হরর, সুসান হিলের ১৯৮৩ সালে লেখা দ্য উওম্যান ইন ব্ল্যাক, পপি ব্রাইটের ১৯৯৩ সালে লেখা ড্রয়িং ব্লাড, কেইটলিন আর কিয়েরনানের ১৯৯৮ সালে লেখা সিল্ক।

ভূতুড়ে বাড়ি নিয়ে মানুষের যেমন আগ্রহ, তেমনই এমন কাহিনির ছায়ায় লেখা বইগুলির প্রতি পাঠকেরও আগ্রহ একেবারেই কমেনি। আর তারই প্রমাণ আন্তর্জাতিক স্তরে এই বইগুলির বিক্রির মধ্যে পাওয়া গিয়েছে।

২০০০ সালে মার্ক জেড ড্যানিয়েলেউস্কির লেখা হাউস অফ লিভস, ২০০১ সালে রিডলে পিয়ারসনের লেখা দ্য ডায়েরি অফ এলেন রিমবাউয়ের: মাই লাইফ অ্যাট রোজ রেড, ২০০২ সালে স্টিফেন কিং-এর লেখা রোজ রেড, সারাহ ওয়াটার্সের ২০০৯ সালে লেখা দ্য লিটল স্ট্রেঞ্জার, ২০০৯ সালেই কেইটলিন আর কিয়েরনানের লেখা দ্য রেড ট্রি প্রভৃতি বইগুলিও রহস্য এবং ভৌতিক বাড়ি ও ভাবনার প্রতি মানুষের আগ্রহের প্রমাণ দেয়।

এখনও এমন বাড়িকে আধার করে অনেক রোমাঞ্চকর কাহিনি বা উপন্যাস লেখা হয়ে চলেছে। যতদিন সাহিত্য রচিত হবে, ততদিন এমন কাহিনি যে লেখা হতে থাকবে, তা বিনা দ্বিধায় বলে দেওয়া যায়। লেখাগুলি তথ্যনির্ভর হলেও তার অনেকটাই যে কল্পনা, সেকথা বলাই বাহুল্য। তবে সমস্তটাই যে কল্পনা, তা জোর দিয়ে বলা যাবে কি?

বোধ হয় নয়। কারণ কল্পনার আড়ালে যেমন অনেক সত্যও লুকিয়ে থাকে, তেমনই এই ধরনের কাহিনি রচনার পিছনে সত্যও যে কিছু থাকে না সেকথা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।

সম্ভবত এখানেই পাঠকদের মনের পাশাপাশি বিশ্বাস-অবিশ্বাসের গোলক ধাঁধার প্রতিযোগিতায়ও জিতে গিয়েছেন হানাবাড়ি নিয়ে কাহিনি স্রষ্টারা।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%