নেহা কর্মকার
“আরে এত চিন্তা করিস না! আমরা ঠিক সময়মতো পৌঁছে যাব।” তীর্থর কথাগুলো শুনে জানলা থেকে মুখ ঘোরায় নীল। তার চোখেমুখে তীব্র বিষণ্ণতার ছাপ। “আর চিন্তা! যা ভয় পাই ঠিক তাই হয়। একে তো দু’ঘণ্টা লেট তার ওপর একবার এই স্টেশনে দাঁড়াচ্ছে তো আবার ওই স্টেশনে। ধুর! দুপুর ১২টার মধ্যে বাউডিহির স্টেশনে নেমে যাওয়ার কথা। সেখানে দুপুর ২টো বেজে গেল, এখনও স্টেশনের মুখ দেখতে পেলাম না। তার ওপর বাউডিহি গ্রাম পেরোতে হবে। গ্রামটা তো আর নেহাৎ ছোটো নয়। এখন নাকি বিকেল হওয়ার সাথে সাথেই সব রিকশা ভ্যানওয়ালারা উধাও হয়ে যায়। তোর কথা শুনে আসাটাই ভুল হয়েছে”, খানিক ধমকের সুরেই শেষের কথাগুলো বলে ওঠে নীল তীর্থকে উদ্দেশ করে। তীর্থ এবারে তীব্র প্রতিবাদ করে বলে, “আরে ট্রেন লেট করেছে এটাও আমার দোষ?”
“নাহ দোষ কারোর না! দোষ আমার কপালের!” বিরক্তি ফুটে ওঠে নীলের মুখে।
তীর্থ নীলের কথায় এবারে বোকার মতো হে হে করে হেসে ফেলে।
নীল বিরক্তি ভরে বলে উঠল, “তুই ব্যাপারটা খুব লাইটলি নিচ্ছিস। অন্য সময় হলে ঠিক ছিল। কিন্তু এলাকার যা অবস্থা!”
“আরে চিন্তা করিস না। সেরকম দেরি হলে তোর ওই বীরেনদা না কে আছে, ওর বাড়িতে আজকের রাতটা থেকে যাওয়া যাবে’খন”, তীর্থ বলে উঠল।
নীলের কপালের ভাঁজ আরও সংকুচিত হয়। তীর্থের মতলব বুঝতে আর দেরি হয় না নীলের।
তীর্থ মনে মনে এটাই চাইছিল, যে করে হোক আজকের রাতটা বাউডিহিতে কাটাতে। “কী করে যে ওকে আটকাই।” নীলের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়।
ওইদিকে তীর্থ বেশ মহা আনন্দেই ট্রেন যাত্রা উপভোগ করছিল। তার মনোবাঞ্ছা যে এত সহজে পূর্ণ হয়ে যাবে তা হয়তো সে নিজেও আন্দাজ করেনি। “যাক আজই মনে হচ্ছে সমস্ত ভণ্ডামি শেষ হবে!” মনে মনে বলে ওঠে তীর্থ। তার মুখে একটা হালকা হাসির রেখা ফুটে উঠেই মিলিয়ে যায়।
**********
ট্রেন থেকে নেমেই আড়মোড়া ভাঙে তীর্থ। এই প্রথমবার কোনো গ্রামে এল তীর্থ। তাই গ্রাম্য পরিবেশ ওর কাছে একেবারেই নতুন। প্রাণ ভরে একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে নেয় তীর্থ। তীর্থ মনের আনন্দে বলে উঠল, “ভাই তোর গ্রামের ওয়েদার তো বেশ। তাই বলি কেন ছুটি পেলেই খালি গ্রামে যাব গ্রামে যাব করিস। আহঃ মনটা পুরো জুড়িয়ে গেল এখানে এসে। ভাই আমি তো...”
একটার পর একটা কথা বলে যাচ্ছে তীর্থ। কিন্তু তার কথা কিছুই কানে ঢুকছে না নীলের। তার কপালে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।
“আরে কী রে? কী এত ভাবছিস? আমরা কি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকব? এগাব না নাকি?
“ভাই শোন দেখ পুরো অন্ধকার হয়ে এসছে। এখন বেরানো না ঠিক হবে না। আমরা বরং রাতটা এই স্টেশনে কাটিয়ে দিই, সকালে রওনা দেব”, চিন্তিত স্বরে নীল বলল।
“তুই কি পাগল হলি? রাতটা স্টেশনে কাটাব মানে? এখন বিকেল ৫টা! এতক্ষণ আমি স্টেশনে থাকতে পারব না ব্যস!” তীর্থও নাছোড়বান্দা।
“উফ কেন এত জেদ করছিস? আমাদের ভালোর জন্যই বলছি রাতটা স্টেশনে কাটিয়ে দিই। তাকিয়ে দেখ একটা ভ্যান বা মানুষ কিছু দেখতে পাচ্ছিস? তা ছাড়া আমি খাবারও নিয়ে এসেছি। কোনো অসুবিধা হবে না এখানে রাতটা কাটাতে।”
“আমি স্টেশনে থাকতে পারব না ব্যস! ভ্যান নেই তো কী? হেঁটে যাব!”
“তীর্থ জেদ করিস না। এটা তোর কলকাতা নয়, যে তুই যা চাইবি তাই হবে। তোর মতলব আমি খুব ভালো মতো জানি। এইসব করতে যাস না। তোর কিছু হয়ে গেলে আমি আন্টিকে কী জবাব দেব?”
“আরে তুই এত ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছিস কেন? আমি তো শুধু বলছি যে…”
“নীল দাদাবাবু না?”
তীর্থর কথা পুরো শেষ হয় না তার আগেই আর একটা নতুন গলা শুনে পিছন ফিরে তাকায় নীল আর তীর্থ।
“আরে বীরেনদা!” বলেই ছুটে যায় নীল। জড়িয়ে ধরে বীরেনকে।
“আরে আরে দাদাবাবু করছ কী?”
“উফ বীরেনদা তোমায় কতবার বলেছি আমায় দাদাবাবু বলবে না! আমি কত ছোটো তোমার থেকে।”
“কী করব বলো, সেই ছোটো থেকে দাদাবাবু বলে অভ্যেস। এত তাড়াতাড়ি কি অভ্যেস বদলাতে পারব। তা তুমি তো এবারে অনেকদিন পরে এলে!”
“হ্যাঁ সেমিস্টার চলছিল। শেষ হতেই একেবারে তল্পিতল্পা গুছিয়ে চলে এলাম!”
কথার মাঝেই এবারে পাশে দাঁড়ানো তীর্থের দিকে চোখ যায় বীরেনের। নীল বীরেনের দৃষ্টি অনুসরণ করে বলে, “আমার বন্ধু তীর্থ। এবারে ওকেও নিয়ে এলাম!”
নীল তীর্থের পরিচয় দিতেই তীর্থ এসে বীরেনকে প্রণাম করে। বীরেন ব্যস্ত হয়ে বলে, “আরেহ করছ কী? আবার প্রণাম কীসের? ওঠো ওঠো! তা তোমাদের দুজনেই কি একই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করো বুঝি?”
প্রণাম সেরে নিয়ে তীর্থ বীরেনের প্রশ্নের উত্তরে বলে, “হ্যাঁ আমাদের দুজনের একই ইউনিভার্সিটি আর একই সাবজেক্ট!”
“বাহ বাহ! তা তোমাদের ট্রেন তো লেট করেছে অনেক। তোমাদের এখন আর বেরাতে হবে না। তোমরা বরং আজকের রাতটা আমার ঘরেই কাটিয়ে দাও একটু কষ্ট করে”, বীরেনের কথা শুনে তীর্থর মুখটা পুরো হাঁড়ির মতো হয়ে যায়।
“দেখো তুমি শহরের ছেলে তাই এইসব মানো না, কিন্তু গ্রামের অবস্থা খুব খারাপ এখন। একের পর এক নৃশংস মৃত্যু হচ্ছে। তাই সূর্য ডোবার পর আর কেউ বাইরে থাকার সাহস করছে না এখানে!” কথাগুলো যতটা সম্ভব বুঝিয়ে বলারই চেষ্টা করে বীরেন কিন্তু তার কথায় যে জল গলেনি তা সে ভালোই বুঝতে পারে। এমনকি ও মনে মনে এটাও জানে যে ওইটুকু একটা ঘরে তিনজনের থাকা চলে না। তাই কোনো উপায় না দেখে বীরেন ওদেরকে নিজের বাড়ি নিয়ে যাওয়াই ঠিক মনে করে। সেই কথা বলতেই তীর্থের মুখ প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে কিন্তু নীলের মুখে নেমে আসে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ। বীরেন অবস্থা বুঝতে পেরে নীলকে আশ্বস্ত করে এবং ওদেরকে ৫ মিনিটের জন্য দাঁড়াতে বলে চলে যায়। আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই বীরেন কাঁধে একটা ব্যাগ আর হাতে লাল কাপড়ে মোড়া কিছু একটা নিয়ে হাজির হয় নীল আর তীর্থর সামনে। দুজনেই বেশ অবাক হয় ওই কাপড়ে মোড়া বস্তুটাকে দেখে। তীর্থ জিজ্ঞেসই করতে যাচ্ছিল কিন্তু তাকে থামিয়ে বীরেন বলল, “এখন আর কোনো কথা নয়। জোড়ে পা চালাতে হবে। যা কথা বলার সব বাড়ি গিয়ে হবে। এখন চলো!” এই বলে বীরেন ওই লাল কাপড়ে মোড়া জিনিসটাকে একবার মাথায় ঠেকিয়ে কীসব যেন বিড়বিড় করল তারপর স্টেশন থেকে নেমে বাড়ির পথ ধরল। নীল এবং তীর্থ দুজনেই চুপচাপ তাকে অনুসরণ করতে লাগল।
**********
বাড়ির পথে যেতে যেতেই বীরেন নীলকে বলল, “নীল দাদাবাবু তুমি না তোমার বন্ধুকে এখন এখানে না আনলেই পারতে। গ্রামের অবস্থা খুব খারাপ!”
“সে কি আর আমি বুঝতে পারছি না বীরেনদা? মায়ের কাছে সব শুনেছি”, বীরেনের কথার প্রত্যুত্তরে বলে ওঠে নীল, “কিন্তু ওর বড্ড জেদ। কত বারণ করলাম কিন্তু আমার কথা শুনলই না। তাই তো ওকে নিয়ে আসতে বাধ্য হলাম!” নীলের কথা শুনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বীরেন। “মা পইপই করে বলে দিয়েছিল এলে যেন সকালের আলো থাকতে থাকতেই আসি। কিন্তু ট্রেনটা এত লেট করবে ভাবতে পারিনি!” নীল বলে ওঠে আবার, “আচ্ছা এই অন্ধকারে বেরানোটা কি ঠিক হল বীরেনদা?”
“তুমি চিন্তা করো না দাদাবাবু! আমার কাছে এটা আছে, এটা থাকতে কেউ আমাদের ধারে কাছে আসতে পারবে না!” নীলকে আশ্বস্ত করে বীরেন। নীলের ভ্রূকুটি দেখে বীরেন বলে, “এটা ঠাকুরমশাইয়ের শেষ চিহ্ন। তিনি আমায় এটা দিয়ে গিয়েছিলেন। হয়তো তিনি বুঝেছিলেন যে গ্রামে এরকম কোনো বিপদ আসতে পারে তাই আমাদের আত্মরক্ষার জন্যই এটা উনি আমাদের দিয়ে গিয়েছিলেন!”
“দিয়ে গিয়েছিলেন মানে উনি এখন কোথায়?” পিছন দিয়ে এতক্ষণ ধরে সব কথা শুনছিল তীর্থ, এবারে সে বীরেনকে জিজ্ঞেস করল।
বীরেন আবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “তিনি জাগতিক সমস্ত মায়া থেকে মুক্তি পেয়েছেন!”
বীরেনের এই কথায় এবারে নীল, তীর্থ দুজনেই অবাক হয়ে গেল। বীরেন আবার বলল, “তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। ওঁর মৃত্যুর পর দিয়েই তো এই নৃংশস হত্যালীলা শুরু হয়েছে গ্রামে। বড্ড ভালো মানুষ ছিলেন উনি। ওঁর মতো অত শুদ্ধ, পবিত্র মানুষ আমি খুব কমই দেখেছি!”
নীল অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “তাহলে উনি হঠাৎ আত্মহত্যা করলেন কেন?”
“গ্রামের মানুষের অপমান উনি সহ্য করতে পারেননি। তার ওপর তার স্ত্রী-র বিশ্বাসঘাতকতা তাকে চরম আঘাত দেয়। এই আঘাত সহ্য করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আসলে খুব নরম মনের মানুষ ছিলেন উনি!” এই বলেই থামলেন বীরেন।
“গ্রামের মানুষ ওঁকে অপমান কেন করেছিল? উনি কি কোনো খারাপ কাজের সাথে...”, তীর্থের কৌতূহল বৃদ্ধি পায় কিন্তু তার কথা মাঝে থামিয়েই বীরেন একটু জোড়ের সাথেই বলে ওঠেন, “ওঁর সম্পর্কে বাজে কথা মুখেও এনো না। উনি ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদপ্রাপ্ত ছিলেন। ওঁর মধ্যে এক আশ্চর্য দিব্য জ্যোতি ছিল। যদি উনি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে হয়তো অনেক অসহায় মানুষই একটা সুনিবিড় আশ্রয় পেত তার ছায়ায়। কারণ তিনি কাউকেই ফেরাতেন না। কী জানি হয়তো তার মৃত্যুর কারণেই এই গ্রামের ওপর কোনো অভিশাপ নেমে এল কিনা?” বীরেনের কথা শেষ হতেই তীর্থ আবার কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু বীরেন তার আগেই বলল, “এখন আর কোনো কথা নয়। আমরা জঙ্গলের কাছে চলে এসেছি। এখান থেকে তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে আমাদের বেরাতে হবে!” এই বলেই বীরেন তার গতি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিল। তার দেখাদেখি নীলও। কিন্তু ব্যতিক্রম শুধু তীর্থ। তার গতি কখন যে রূদ্ধ হয়েছে তা বীরেন বা নীল কেউ খেয়ালই করেনি। তীর্থ ততক্ষণে থেমে গেছে একটা অদ্ভুত সুরের আওয়াজে। কী অদ্ভুত ওরা কি কেউ শুনতে পাচ্ছে না? তীর্থের কানে তো স্পষ্ট ভেসে আসছে সুরটা। কী সুন্দর সুর! কী মায়াবি! কী যেন আছে সুরটার মধ্যে। তার মাথায় ঝিম ধরছে। আচ্ছন্ন করে দিচ্ছে যেন তাকে। সে কিছুতেই চোখ খুলতে পারছে না। ওই অবস্থাতেই সে ধপ করে নীচে পড়ে গেল। কিছুক্ষণ সব নিশ্চুপ তারপর হঠাৎই একটা তীব্র চাপ অনুভব করল তীর্থ নিজের বুকের ওপর। কষ্ট করে চোখটা খোলার চেষ্টা করল সে কিন্তু চোখ খুলেও একরাশ কুয়াশা মাখা অন্ধকার ছাড়া কিছুই স্পষ্ট দেখতে পেল না। কী আশ্চর্য এই গরমে কুয়াশা এল কোথা থেকে! আর ওটা ও… ওটা কী? কালো একটা অবয়ব। তার মাথার কাছে জ্বলজ্বল করছে চারটে ভাটার মতো জ্বলতে থাকা চোখ। তীর্থের হাত পা কেমন যেন আড়ষ্ট হয়ে যায়। কিছুতেই সে তার হাত পা নাড়াতে পারছে না, এমনকি গলা দিয়ে স্বরটুকু পর্যন্ত বেরোচ্ছে না। ঠিক এই সময়ে পরিচিত দুজনের গলার আওয়াজ শুনে তীর্থের ধড়ে যেন প্রাণ ফিরে আসে। নীল আর বীরেনদার গলার আওয়াজ। অস্পষ্ট চোখে সে নীল আর বীরেনদাকে তার দিকেই হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসতে দেখতে পায়।
তীর্থ আর চোখ খুলে রাখতে পারে না। তার মনে হয় সে যেন ধীরে ধীরে কোনো নাম না জানা অন্ধকারের দেশে হারিয়ে যাচ্ছে।
শরীরের মধ্যে তীব্র ঝাকুনি অনুভব করতে পেরে তীর্থের জ্ঞান ফিরে আসে এবং তার মুখের ওপর বীরেন আর নীলের চিন্তিত মুখ নিয়ে ঝুঁকে থাকতে দেখে ধড়ফড় করে উঠে বসে সে। তীর্থ উঠে বসতেই নীল প্রথমে তাকে একটা জলের বোতল এগিয়ে দেয়। তীর্থ বেশ কিছুটা জল ঢকঢক করে খেয়ে নেয়, তারপরে একটা লম্বা শ্বাস নেয়।
“এই তোর কী হয়েছিল বল তো? আমরা কতটা এগিয়ে গিয়েছিলাম, তারপরে কী মনে হতে পিছন ঘুরে দেখি তুই নেই। আমার তো মাথায় হাত। হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসলাম দুজনে, এসে দেখি তুই নীচে চিৎ হয়ে শুয়ে আছিস আর গোঙাচ্ছিস! তোর তো কোনো জ্ঞানই ছিল না, কী হয়েছিল তোর?”
নীলের প্রশ্নের কোনো সদুত্তর খুঁজে পায় না তীর্থ। কারণ সে নিজেও জানে না বা বলা ভালো বুঝতেই পারেনি যে তার সাথে কী ঘটে গেছে। ওই মায়াবি সুর কোথা থেকে ভেসে আসছিল আর ওই কালো অবয়বটাওবা কীসের ছিল! কিছুই পরিষ্কার হয় না তার কাছে। শুধু একটা জিনিস তীর্থের খুব ভালো মতো মনে আছে। সেই চারটে জ্বলজ্বলে চোখ ভাটার মতো জ্বলছিল সেইগুলো, সেই দৃশ্য মনে পড়তেই তীর্থের শরীরে একটা শিহরণ খেলে যায়।
“এখানে আর বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক হবে না। তাড়াতাড়ি পা চালাও। আর সবাই একসাথে থাকো। আলাদা হয়ো না। রাস্তায় যদি কিছু দেখতে পাও বা শুনতে পাও তাহলেও দাঁড়িও না। নাও চলো ওঠো এবার। বাড়ি গিয়ে বিশ্রাম নেবে!” একটানা কথাগুলো বলে যায় বীরেন। তারপর দুজনে মিলে তীর্থকে উঠিয়ে যত দ্রুত সম্ভব হাঁটা লাগায় বাড়ির দিকে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন